১৬ বছর বয়স | পর্ব – ৯

আমি অবাক হয়ে ওনার দিকে তাকালাম আর মনে মনে বললাম, “ও..ওনার পালা মানে? উনি কি সত্যিই আমাকে কামড় দিবেন? এখন কি করব আমি। মিলা জলদি কিছু ভাব।” তারপর ভয়ে ভয়ে বললাম,
“দেখুন আমি… ”
উনি আমার কথায় কোনো উওর দিলেন না। উনি আমার দিকে রাগী চোখে তাকিয়ে আমার আরো কাছে আসতেই আমি চোখ খিচে বন্ধ করে নিলাম। আর নিজের ঠোঁট কামড়ে ধরলাম। শাওনের নিঃশ্বাস আমার ঘাড়ে পরতেই আমি কেপে উঠলাম।
আস্তে করে উনি আমার কানে কানে বললেন, “আমি মানুষ বলে কামড় দিলাম না। কারন এটা বনমানুষ দের কাজ।”
বলেই উনি মুখ সরিয়ে এনে আমার দিকে তাকালেন। আমি কথাটা শোনার সাথে সাথে চোখ পাকিয়ে ওনার দিকে তাকালাম।
– কি! আমি বনমানুষ?
শাওন গম্ভীর মুখে কোনো উওর না দিয়ে আমার কাছ সরে যেতে গিয়েই বাধা পেল। শাওন ওর কোমড়ের দিকে ভ্রুকুচকে তাকালো। আমিও চমকে উঠে তাকালাম। ওনার কোমড়ের কাছের শার্ট আমার হাতের মুঠোয় ধরা।
আমি চোখ বড়সড় করে শাওনের মুখের দিকে তাকালাম। উনিও আমার দিকে তাকালেন। ভয়ে কখন ধরেছি মনেও নেই। ফট করে ছেড়ে দিয়ে কাবাডের দিকে তাকিয়ে রইলাম। উনি ওনার সব দরকারি জিনিস নিয়ে চলে গেলেন।
উনি বের হওয়ার সাথে সাথে আমি মন ভরে শ্বাস নিতে লাগলাম। বাবা বাচলাম। আমি ত মনে করেছিলাম সত্যিই কামড়ে দিবে। তারপর শয়তানি হাসি দিয়ে বললাম, “আমার ডান হাতের এই অবস্থা করে পার পাবেন ভেবেছেন? হুহ। আমি মিলাও কম যাই না।”
শাওন গাড়িতে উঠে ড্রাইভিং স্টার্ট করতে যাবার মুহুর্তে হাতের দিকে তাকালো। একটা বিরক্তির নিঃশ্বাস ফেলে গাড়ির বক্সের মধ্যে ব্যান্ডেজ খুজতে লাগল। কিন্তু নেই। হাতের উল্ট পিঠে ভালই দাগ হয়েছে। যে কেউ বুঝে যাবে। তবে সব যে কেউ এর সাথে সুমনা একজন। অকারণে এই নিয়ে মেলা প্যাচাবে। দেখা যাবে প্যাচে পাচালি ই কিনা হয়ে যায়। এদিকে এত লেট আজ হয়েছে যা জীবনে হয়নি। সব সময় রাইট টাইমের আগে অফিস যায় শাওন। যাকে ইংলিশে বলে পানচুয়াল বয়। তাই শাওন আর মাথা না ঘামিয়ে রওনা হলো।
“তুই আজ এত লেট?” সুমনা হা করে তাকিয়ে বলল।
শাওন নিজের চেয়ারে বসতে বসতে বলল, হু।
কি করছিলি তুই? মিটিং ত শেষ হয়ে গেল। ভ্রুকুচকে তাকিয়ে আছে সুমনা।
শাওন কিছু বলতে যাবে এমন সময় দরজা ঠেলে সুইটি ঢুকল।
দরজার কাছেই দাঁড়িয়ে সুইটি গম্ভীর গলায় বলে উঠল,”তুমি কি ফোন, মেসেজ কোনো কিছুরই উত্তর দেবেনা!!”
শাওন তীক্ষ্ণ চোখে তাকালো আর টেবিলে রাখা ডান হাত দিয়ে দরজা দেখিয়ে বলল, বাহিরে যাও আর নক করে পারমিশন নিয়ে ঢুকো। সুমনা সুইটির দিকে তাকিয়ে ছিল। শাওনের এই কথা শুনে আড়চোখে শাওনের দিকে তাকাল।
সুইটি স্তম্ভিত হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। এই রুমেই আগে কত বার এসেছে সে। পারমিশন ত অনেক দুরের কথা নকও করত না।
এই পরিস্থিতি দেখে সুমনা কিছু বলার জন্য খুজতে লাগল। যেটা বললে পরিবেশ টা শান্তিপূর্ণ হবে। অর্থাৎ সুইটিকে বিদায় করতে পারবে। বেশি সময় লাগল না সুমনার অবশেষে বলার জিনিস পেয়েও গেল।
“তুমি আমাকে এভাবে বলতে…. ”
সুমনা সুইটিকে থামিয়ে দিয়ে বলল, “শাওন তোর হাতে এটা কামড়ের দাগ না?”
“অহ শীট টেবিলে হাত রাখাই ভুল হয়েছে।” শাওন মনে মনে বলে সুমনার দিকে তাকালো। সুমনা ভ্রুকুচকে মুখ বাকিয়ে তাকিয়ে বলল, “ওমা টুরু লাভ বাইট? ভেরি নাইচ। ভালই চলছে তাহলে ম্যারেজ লাইফ।” শাওন রেগে তাকাল সুমনার দিকে।
সুইটি গম্ভীর মুখে তাকিয়ে আছে শাওনের হাতের দিকে।
সুমনা এবার সুইটির দিকে তাকিয়ে হাসিমুখে বলল, “তোমার কিছু কাজ ছিল? নাহলে আমি একটু শাওনের সাথে পারসোনাল কথা বলতে চাই।”
সুইটিও মুখে একটা হাসি টেনে বলল, “হ্যা ছিল।”
সুমনা বুঝল সুইটি ঘাড়ত্যাড়ামি করছে। তাই সুমনা দুই হাত বুকে গুজে কড়া চোখে তাকিয়ে বলল, “একটা বিবাহিত ছেলের সাথে কিছু ট্রাই না করাই বেটার। কার্টিসি! you know!”
শাওন এতসময় চুপ ছিল। এখন সুইটির দিকে তাকিয়ে বলে উঠল, “আমি আগেও বলেছি workplace এ পারসোনাল কথা আমার পছন্দ না।”
সুইটি রেগে একবার সুমনার দিকে তাকিয়ে তারপর বেরিয়ে গেল। শাওন সুইটির যাওয়ার দিকে তাকালো। সুইটি বের হবার সাথে সাথে সুমনা খপ করে শাওনের ডান হাত ধরে দেখে মাথা নাড়িয়ে বলল, “হুম, সামথিং সামথিং!”
শাওন হাত ছাড়িয়ে নিয়ে বলতে লাগল, “এরকম…”
“….কিছুই না, তাইত?” বাকিটা সুমনা বলল।
তারপর চেয়ারে বসে বড়বড় চোখ করে সুমনা বলতে লাগল, “ফুলসজ্জায় হাতে লিপস্টিক লেগে কিন্তু তুই বললি এমন কিছুই না, তোর বাসায় গিয়ে স্ব চোক্ষে ওই অবস্থা দেখলাম। তাও তুই বললি কিছুই না। এখন হাতে কামড়ের দাগ আর তুই বলছিস কিছুইইইইইইই না। কয় দিন পর দেখব মেয়েটা প্রেগন্যান্ট বাট তুই বলছিস এগুলা কিছুইই না।”
শাওন সুমনার দিকে রেগে তাকিয়ে আছে। সুমনা চাহনি দেখেই বুঝল এইবারের কথাগুলা শাওনের কাছে বেশি বেশি লেগেছে। তবে এখনে বেশি বেশি লাগার ত কিছুই নেই।
আমি সোফায় বসে পিছনে মাথা হেলিয়ে চুল গুলো ঝুলিয়ে শুকাচ্ছি। এসি অফ করে ফ্যান ছেড়ে দিয়েছি। এসি আমার এমনিও ভাল্লাগেনা। ফ্যানের বাতাস ই ভাল। মন টা অনেক ভাল লাগছে আজ। কারন আজ পুরো ল্যাগেজের কাপড় চোপড় গোছানোর জন্য সব বের করেছিলাম। তখন একটা পার্স পেয়েছি একদম নিচের দিকেই। সেটা খুলতেই চোখে পরেছিল কত গুলো ১০০০ টাকার নোট। বাহ শাশুড়ীটার মগজে ঘিলু আছে। টাকার যে দরকার হতে পারে তা তার মাথায় ছিল তাইলে। আমি খুশিতে চোখ বন্ধ করে রইলাম। শাওন দরজা খুলে ঢুকলো। আমি মাথা না উঠিয়ে শুধু ঘাড় একবার ওর দিকে তাকিয়ে আবার উপরের দিকে তাকালাম। উনি যেহুতু এসেছে এখন তাহলে সাড়ে সাত বা আটটা বাজে। শাওন আমার দিকে একবার তাকিয়ে নিজের রুমে চলে গেল। আমি উঠে বসে হাত দিয়ে চুল গুলো ধরে দেখলাম। হ্যা শুকিয়েছে।
পনেরো বিশ মিনিট পরে শাওনের রুমে উকি দিলাম কারন চুলের খোপা করার কাঠি টা ড্রেসিং টেবিলে রাখা। উকি দিতেই দেখলাম শাওন সুন্দর একটা ব্লু শার্ট উপরে কালো কোট ও টাই, সাথে কালো প্যান্ট আর হাতে ঘড়ি পরে রেডি হয়েছে। আমি হা করে তাকিয়ে বুঝতে চেষ্টা করলাম যে এখন উনি কোথায় যাবে। সরে এসে ঘড়ির দিকে তাকালাম। আটটা বাজবে বাজবে। ব্যাপার টা কি! এদিক ওদিক তাকিয়ে চিন্তা করতেই হঠাৎ মনে এলো সুইটি মেয়েটা বলেছিল রাতে দেখা করো। অহ আচ্ছা এই ব্যাপার! মুখ কুচকে মনে মনে বললাম,”তাহলে আজ আমিও যাচ্ছি আপনার পিছু পিছু। হুহ। এগুলো করেন আর আমাকে বলেন নির্লজ্জ! হাতেনাতেই ধরব আজ। কারন যতই ঘুড়ি ওরান রাতে লাটাই ত আমারি হাতে!” আমি শয়তানি হাসি দিলাম।
শাওন দরজা দিয়ে বের হতেই আমি ছুটে গিয়ে টাকার পার্সটা বের করে ১টা ১০০০ টাকার নোট নিলাম। এক ঝলক আয়নার সামনে দাড়িয়ে দেখলাম যে আমার পরনের লাল শাড়িটা মন্দ না। যাক শাশুড়ী টা সব ভাল জিনিস ই দিয়েছে। আমি ড্রেসিং টেবিলে রাখা চুলের কাঠিটা নিয়ে বের হলাম আর সিড়ি দিয়ে দ্রুত নামতে লাগলাম। রিসিপশনের কাছে এসে দেখি উনি গাড়ি নিয়ে গেটের মধ্যে দিয়ে বের হলেন মাত্র। আমি ছুটে গিয়ে বের হলাম আর একটা সিএনজি দাড় করালাম। ঝটপট উঠে বললাম, দাদা সামনের গাড়িটা জলদি ফলো করেন। উনি সিএনজি চালাতে চালাতে বলল,”আপা আপনে যাবেন ডা কই?”
“ভাই জলদি চলেন প্লিজ ৫০০ টাকা দিব”
৫০০ শুনে লোক টা ফট করে জোরে চালাতে লাগল।
“আপা ওই কালো গাড়ি?”
“হ্যা হ্যা ওইটাই।” উত্তেজিত হয়ে বললাম।
আর একটু হলেই শাওনের গাড়ি হারিয়ে ফেলতাম ভাগ্যিস লাল সিগনাল দিয়ে দিল ট্রাফিক ব্যাটারা।
সিগনাল সবুজ হতেই আমি বললাম, জলদি করেন। জোড়ে চালান।
“আপা এভাবে কি বললেই চালানো যায়?” লোকটা একটু আপত্তিকর ভঙ্গীতে স্বাভাবিক ভাবে সিএনজি চালাতে চালাতে বলল বলল।
আমি তাই চট করে কত গুলো মিথ্যা বলে দিলাম।
আমি কাদো কাদো সুরে বললাম, “ভাই ওই গাড়িতে যে আছে না, সে আমার হাসবেন্ড বুঝলেন। যাচ্ছে অন্য মেয়ের সাথে দেখা করতে। ডেলি মদ খেয়ে এসে আমাকে অত্যাচার করে। রাতে রাতে বাসা থেকে গুম হয়ে যায়। তাই আজ আমি নিরুপায় হয়ে ফলো করছি।”
মিথ্যা কান্না করে চোখ মুছার ভান করে আরো বললাম, “ওনাকে আজ তাই হাতে নাতে ধরতে চাচ্ছি কিন্তু তা আর হবেনা মনে হয়।”
বলেই কান্না জুড়ে দিতেই ওই লোক জোরে চালাতে শুরু করল।
আর করুন সুরে বলল, “বোন কোনো চিন্তা না আজ তুমি ওকে হাতে নাতেই ধরো। এসব ছেলেদের বাশ দিয়ে পিটানো লাগে! সুন্দর বউ দিয়ে এদের হয়না।”
ওনার কথা শুনে আমি ফিক করে হেসে দিতে গিয়ে শাড়ির আঁচলে মুখ ঢাকলাম। যাক প্লান সাকসেসফুল।
ওনার গাড়ি একটা বড় ফাইভ স্টার হোটেলে ঢুকল। কয়তলা হোটেল সেটা গোনার সময় নেই আমার। গাড়ি পার্ক করে শাওন ভিতরে চলে গেল। আমি একটু লেট তাও বেশিনা। আমি ওই লোকের হাতে ৫০০ ধরিয়ে বাকি ৫০০ ফেরত নিয়েই হোটেলের ভিতরে ছুট লাগালাম।
নিচ তলায় রিসিপশন। অত বেশি লোকজনও নেই। আমি রিসিপশনের মহিলাকে জিজ্ঞেস করলাম, “একটা কালো কোট পরা ছেলেকে দেখেছেন?”
– yes ma’am মাত্র উপরে উঠে গেলেন। কিন্তু আপনি…
ওই মেয়ের আর কোনো কথায় কান না দিয়ে আমি ২য় তলায় উঠতে লাগলাম। হয়ত শাওন ২য় তলাতেই উঠেছে! ২য় তলায় উঠে মনে হলোনা এটাতে কোনো রেস্টুরেন্ট আছে। তাই আরো উপরে উঠে ৩য় তলায় গেলাম।
এই ৩য় তলা টা আবছা অন্ধকার বাম দিক থেকে ডিসকো টাইপ শব্দ কানে ভেসে আসছে। আর ডান দিকে আছে থাকার রুম গুলো।
আমি আস্তে করে বাম দিকে গেলাম। সেই ক্ষনেই শাওন কারো সাথে ফোনে কথা বলতে বলতে উপর থেকে নেমে নিচে চলে গেল। দুইজনের কেউ কাউকে দেখতে পেলাম না।
আমি বা দিকে এগিয়ে গেলাম। এসে যা দেখলাম তা দেখে হা করে থেকে গেলাম। কতগুলো মেয়ে কিসব জামাকাপড় পড়ে নাচছে। কি জঘন্য জায়গা। এখানে এসে শাওন কি করে বেড়াতে পারে আমার আর বুঝার বাকি রইল না। হাতে নাতে ধরার কথা ভুলে গিয়ে বাসায় যেতে ইচ্ছা করছে৷ গা ঘিনঘিন করতেছে এখানে থাকতে। আমি বের হয়ে নামতে যাব হঠাৎ দেখি একটা মাতাল মেয়েকে ধরে ধরে ৩-৪ টা ছেলে বের হচ্ছে ওই ক্লাব টা থেকে। আমি হকচকিয়ে গেলাম। ছেলেগুলোকে ত সুবিধার মনে হচ্ছে না। মেয়েটাও কি যেন আস্তে আস্তে বলছে আর হাত ছাড়ানোর চেষ্টা করছে। বুঝলাম যে জোর জবরদস্তি চলছে। আমি ভ্রুকুচকে মনে মনে বললাম, এতই যখন ঝামেলার জায়গা তখন এই মেয়ে এমন ওয়েস্টার্ন পরে এখানে কেন এসেছে!
প্রথমে মনে করলাম যাক মরুক ওই মেয়ে কিন্তু পরক্ষণেই আমার উদারতা উথলে উঠল। কি করব বুঝতে পারছি না।
এদিক ওদিক তাকিয়ে কিছুই দেখতে পেলাম না। তাই নিজের পায়ের স্লিপার টা খুলে একটা ছেলের মাথায় মারলাম। ছেলেটা জোরে “আহ” বলে উঠল। জোরেই লেগেছে মনে হলো। ছেলেটা ঘুরে তাকিয়ে বলল, কে রে!
আর এক ছেলে বলে উঠল, ওরে, লাল পরী রে।
আমি রাগে হাত মুঠ করে বললাম, “নিচে গিয়ে আমি সবাইকে বলছি এখনি যে এই কাজ চলছে।”
সাথে সাথে হাসতে হাসতে আমার স্লিপার টা তুলে ছেলেটা বলল, “ওমা টুরু থ্রেট?!”
শুনে সবাই হাসতে লাগল। এরা যে নির্লজ্জ তা আর বুঝতে বাকি নেই আমার।
“যাও ছেড়ে দিলাম” বলেই অই ছেলেটা মেয়েটাকে ধাক্কা দিয়ে ছেড়ে দিল। মেয়েটা ফ্লোরে পরে গেল। আমি মেয়েটার কাছে গিয়ে মেয়েটাকে তোলার জন্য নিচু হতেই ওই ছেলেটা আমার ডান হাত ঘপ করে ধরে আমাকে দাড় করালো।
আমি চমকে গিয়ে হাত ছাড়ানোর চেষ্টায় বললাম, হাত ছাড়ুন আমার।
“ছাড়ার জন্য ত ধরি নি! আমার তো তোমাকে অনেক ভাল লেগে গেছে।” ছেলেটা বলতে বলতে হেসে দিল। অন্য ছেলেগুলোও হাসতে লাগল।
আমি ভয়ে শেষ। তাই হাত ছাড়ানোর চেষ্টায় ব্যস্ত হয়ে গেলাম। তখনই আমাকে জোর করে ছেলেটা টানতে টানতে নিয়ে ডান দিকের রুম গুলোর দিকে নিয়ে গিয়ে সোজা অনেকটা দূরে একটা বড় রুমে নিয়ে ধাক্কা দিল। আমি নিচে পরে গেলাম। এটা বড় একটা অডিটোরিয়ামের মত রুম। রুমে আবছা আলো। ভয়ে গা ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে আমার। আমি ফট করে উঠে দাড়িয়ে দরজার কাছে যেতে চাইলাম কিন্তু পিছনে থেকে অন্য আর একটা ছেলে আমার শাড়ির আঁচল টেনে ধরল। আমি জলদি আমার ডান হাত দিয়ে ঘাড়ের কাছের আঁচল চেপে ধরে ঘুরে জোরে বলে উঠলাম, ছাড়ুন আমাকে। আমাকে যেতে দিন।
ভয়ে পুরো শরীর ঘামে ভিজে যাচ্ছে। এতই ভয় পেয়েছি যে চোখ থেকে পানিও পরছে না। চোখের কোনেই জল রয়ে গেছে। বুঝতে পারছি যে আজ খুব খারাপ কিছু হতে চলেছে। ছেলেটা হাসতে হাসতে আমার দিকে এগিয়ে আসতে আসতে বলল, এত জলদি কিসের! এখনো ত মেইন শো বাকি!
আমি ভয়ে শিউরে উঠলাম। ছলছল চোখে জোরেই বললাম,”না”। ছেলেটা আর এক পা এগিয়ে আসতেই পিছন থেকে এক চেনা আওয়াজ কানে এলো।
-একটা মেয়ে “না” বলা মানে তাকে জোর করা উচিত না।
এই চেনা আওয়াজে যেন আমি আমার প্রান ফিরে পেলাম। এখন চোখ থেকে ঝরঝর করে পানি পরতে লাগল আর আমি আস্তে করে বলে উঠলাম, “শাওন!”
ছেলেটা আমার আঁচল ছেড়ে দিয়ে রেগে শাওনের দিকে তাকিয়ে বলল, কে বে তুই? তুই জানিস আমি কে!
শাওন দরজার কাছে হেলান দিয়ে বুকে দুই হাত গুজে দাড়িয়ে ছিল। মুচকি হেসে বলল, জানি। তুই হলি পিওর বাস্টার্ড।
ছেলেটা হাত মুঠ করে গর্জে বলে উঠল, ভাল চাস ত মুখ বন্ধ করে এখান থেকে যা।
শাওন দরজার কাছ থেকে হেটে আসতে আসতে একটা তীক্ষ্ণ চাহনির সাথে মৃদু হেসে বলল, “এত জলদি কিসের! শো ত মাত্র শুরু!”

চলবে…

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।