সালমা চৌধুরী
সালমা চৌধুরী

প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ জুলাই ২০২৫

আমৃত্যু ভালোবাসি তোকে | নতুন ষড়যন্ত্রের জাল

সমাপ্ত

আমৃত্যু ভালোবাসি তোকে | সিজন ১ | পর্ব - ৪৪

১১৬ ভিউ
০ মন্তব্য
১ মিনিট

মেঘ ঠোঁট উল্টে বলল, “ইসসস, এত জোরে কেউ গাট্টা দেয়? মাথাটা ব্যথা হয়ে গেছে। ” আবির কোমল কন্ঠে বলে, ” তুই ভালোবাসার ভাগ চাইছিস। কম করে কিভাবে দেয় বল!” “গাট্টামারা ভালোবাসা আমি চাই নি৷ ” আবির হঠাৎ ই মেঘের দিকে কেমন করে চাইল, উদ্বিগ্ন কন্ঠে শুধালো, “তো কেমন ভালোবাসা চাইছিস?” মেঘ দরদ মাখা কন্ঠে বলল, ” আপনাদের মতো আমিও ফুপ্পির সাথে দেখা করতে চাই, গল্প করতে চাই, ফুপ্পির যত্ন পেতে চাই। ” “ওহ আচ্ছা। আমি ভাবলাম অন্য কিছু। ” মেঘ ভ্রু কুঁচকে প্রশ্ন করল, “অন্য কিছু মানে?”

“কিছু না৷ এখন ফুপ্পির বাসায় তোকে নিয়ে যাওয়া যাবে না৷ তোকে নিয়ে আমি বা তানভির যে কেউ বের হলেই হাজার টা প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। তারথেকে কিছুদিন শান্ত থাক৷ আমি দেখছি কি করা যায়৷” মেঘ আস্তে করে শুধালো, “জান্নাত আপুকে আসতে বলছিলেন কেন?” “দরকার আছে৷ আচ্ছা বল তো, জান্নাতের সঙ্গে আম্মুর কথা হয়ছিল? আম্মুর রিয়েকশন কি?” “কথা হয় নি আবার! বড় আম্মু পাশের সোফায় বসে খুব সুন্দর মতনে আপুর সঙ্গে কথা বলছেন। বড় আম্মু তো অনেকদিন যাবৎ জান্নাত আপুকে আপনার বউ বানাতে চাচ্ছেন । আপনারা কেন বলছেন না যে আপুর বিয়ে হয়ে গেছে?”

“এটা বলে দিলে তো মজাটায় শেষ।” “মানে” “জানতে পারবি খুব শীঘ্রই। আর হ্যাঁ মুখ ফস্কে জান্নাতের বিয়ের কথা বলে দিস না যেন।” “আমি এত বেক্কল না৷ ” আবির হেসে বলল, “I know that you are the smartest girl in the world. মেঘ ফিক করে হেসে ফেলল। আবির ভাইয়ের মুখে নিজের প্রশংসা শুনে ভীষণ লজ্জা পেয়েছে। লজ্জায় মাথা নিচু করে নিজের রুমে চলে গেছে।

সময় ধাবমান। জানুয়ারি পেরিয়ে ফেব্রুয়ারিতে পা দিয়েছে। তীব্র ঠান্ডা অনেকটা কমে এসেছে। মেঘদের ক্লাস শেষ হয়েছে সবেমাত্র পাঁচ মিনিট হলো। বন্যা আর মেঘ গল্প করতে করতে দুজনে হাত ধরে হাঁটছে। তামিম দৌড়ে এসে বন্যার পিছনে দাঁড়িয়ে বন্যাকে ডাকে, “এই বন্যা ” বন্যা শুনেও না শুনার মতো হাঁটতে থাকে৷ তামিম এবার বন্যা আর মেঘের সামনে এসে দাঁড়ায়। বন্যা, মেঘ দুজনেই থমকে দাঁড়ালো। মেঘ তামিমের মুখের পানে তাকালেও বন্যা তাকায় নি, মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে। তামিম অভিযোগের স্বরে বলল,

“বন্যা, তুই আমার সাথে ঠিকমতো কথা বলিস না কেন?” “কারণ টা কি তোর অজানা?” “এতদিন হয়ে গেছে এখনও ঐ বিষয় নিয়ে পরে আছিস। চলতে চলতে কারো প্রতি ইমোশন আসতেই পারে, তোর প্রতিও আসছিল তাই আমি তোকে আমার মনের কথা বলছিলাম। তুইও তোর মতামত জানিয়েছিস এবং আমি তা মেনে নিয়েছি। তুই না করছিস এরপর কি আমি তোকে কোনো প্রশ্ন করছি বা জোরাজোরি করছি? তুই রিজেক্ট করছিস বলে এই না যে আমি মরে যাব। কিন্তু তার প্রভাব বন্ধুত্বের উপর কেন পড়বে বলতো! তারপরও আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত। প্লিজ বন্ধুত্বের সম্পর্কের সুবাদে হলেও আমায় ক্ষমা করে দে।”

বন্যা কিছুটা ভারী কন্ঠে বলল, “আচ্ছা” এরমধ্যে মিনহাজ ও এগিয়ে আসল। তিনজনকে উদ্দেশ্য করে বলল, “কিরে, তোরা এখনও এখানে ” তামিম প্রশ্ন করে, “তুই কোথায় গেছিলি?” “নেতারা আসছে। ওনাদের সামনে মাস্টার্স পরীক্ষা। ভার্সিটি থেকে বেড়িয়ে যাওয়ার সুবাদে ওনারা একটা পোগ্রাম করবে শুনলাম। ভার্সিটির পাশাপাশি ঢাকার সুনামধন্য কলেজের স্যাররা, বড় বড় অবস্থানে থাকা ব্যক্তি বর্গরাও সেই পোগ্রামে আমন্ত্রিত থাকবে৷” বন্যা বলল,

“ভালো কিন্তু তুই ঐখানে কি করতে গেছিলি?” “এমনিতেই। নেতাদের সাথে দেখা করতে গেছিলাম। ওনাদের সাথে পরিচয় থাকা ভালো। রাজনৈতিক পাওয়ার থাকবে, যেকোনো সমস্যায় সাহায্য পাওয়া যাবে। তাছাড়া সাধারণ সম্পাদক আমার রুমমেট। মেঘ বলছিল না, ওর আবির ভাই নাকি আমাদের আধমরা করে বাড়ি পাঠাবে। আর কিছুদিন ওয়েট কর দেখবি আমার কত পাওয়ার হয় !” বন্যা মেঘের দিকে চেয়ে হাসতে হাসতে বলল, “দেখছিস মেঘ, তোর আবির ভাইয়ের ভয়ে নেতাদের পিছু নিচ্ছে।” পুনরায় মিনহাজকে উদ্দেশ্য করে বলল,

” নিজের নাই দুই আনা ক্ষমতা আবার ভাব দেখায় ষোল আনার। সেদিন যেভাবে বলছিলি ভাই ব্রাদার্সের পাওয়ার দেখাবি, তখন তো ভাবছিলাম তোদের এলাকার ভাইদের কথা বলছিস। ” মেঘ মৃদু হেসে বলল, “এজন্যই বলি আমার আবির ভাই সবার সেরা। তোদের মতো ৮-১০ জনকে পে*টানো আমার আবির ভাইয়ের কাছে জাস্ট ৫ মিনিটের ব্যাপার। ওনার কাউকে প্রয়োজন নেই, একায় ১৯৯ জনের সমান। ” তামিম উদ্বিগ্ন কন্ঠে বলল,

“১৯৯ জনের সমান কিভাবে হয়? হলে ১০০ জনের সমান হবে।” ” আমার আবির ভাই একটু ব্যতিক্রম তাই ১৯৯ জনের সমান।” “এটা কেমন লজিক? ” “এটা আমার লজিক তোরা বুঝবি না। ” মিনহাজ তপ্ত স্বরে বলল, “শুন, কথায় কথায় আমার আবির ভাই, আমার আবির ভাই করিস না। কানে খুব লাগে” “তোর কানে লাগে এটা তোর কানের সমস্যা। তাড়াতাড়ি ডাক্তার দেখা গিয়ে। আমি আমার আবির ভাই ই বলবো। আমার আবির ভাই, আমার আবির ভাই, আমার আবির ভাই। ”

মিনহাজের মেজাজ খারাপ হচ্ছে। তবুও শান্ত থাকার চেষ্টা করছে। মিনহাজ রাগে অন্যদিকে তাকিয়েছে। অকস্মাৎ মেঘদের দিকে চেয়ে বলল, “এই সাইড দে, ভাই রা আসতেছে। ” বন্যা, মেঘ, তামিম সাইড হয়ে দাঁড়িয়ে। প্রায় ১৫-২০ জন ছেলে হেঁটে আসছে। রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা জুনিয়রদের সালাম দেখেই তাদের অবস্থান বুঝা যাচ্ছে। মেঘদের কাছে আসতেই মিনহাজ সুন্দর করে সালাম দিল, সামনের দিকের গম্ভীর চেহারার একজন চোখ দিয়ে একটু ইশারা করল৷ সালাম গ্রহণ করেছে এটায় বুঝালো। ওনারা পাশ কেটে যেতেই মেঘ বলল,

“কিরে তোর ভাই তো সালামের উত্তর টাও দিল না।” মিনহাজ বিরক্তিভরা কন্ঠে বলল, “ওনার কি এত মানুষের সালামের উত্তর দেয়ার সময় আছে নাকি৷” ২ মিনিট পরেই কিছুটা দূর থেকে হৈ হুল্লোড়ের শব্দ ভেসে আসছে। মেঘরা পিছন ফিরে তাকাতেই দেখে ছেলেগুলো কাকে ঘিরে কথাবার্তা বলতেছে। কাকে ঘিরে আছে তা দেখা যাচ্ছে না। কৌতুহল বশতই মেঘ, বন্যা, মিনহাজ, তামিম সবাই সেদিকে তাকিয়ে আছে। কয়েকজন একটু সরতেই বাইকটা সাইড করে হেলমেট খুলল। মেঘ উত্তেজিত কন্ঠে চেঁচিয়ে উঠলো,

“আবির ভাই। ” বাইকটা দেখেই পরিচিত লাগছিল। কিন্তু সিউর ছিল না। হেলমেট খুলতেই মেঘের চোখ কপালে উঠে গেছে। বিস্ময় চোখে তাকিয়ে আছে। বুকের ভেতর হৃদপিণ্ডটা পিটপিট করছে। মেঘ ভার্সিটিতে ভর্তির পর থেকে আবির মেঘকে নিতে বা দিতে আসলে মেইনগেইটের কাছেই নামিয়ে দেয়। কখনও ভিতরে আসে না। আজ ই প্রথম আবির ভিতরে আসছে। মেঘের সাথে সাথে মিনহাজ, তামিম, বন্যাও বেশ অবাক হয়েছে আবির বাইক থেকে নামতেই সভাপতি, সহ সভাপতি, যুগ্ম সম্পাদক, আহ্বায়ক, সাধারণ সম্পাদক একে একে সবাই আবিরকে জরিয়ে ধরছে। আবিরও স্নেহের সহিত সবাইকে জড়িয়ে ধরছে। মেঘ, বন্যা সহ বাকিরাও কিছুটা এগিয়ে গেল। কি হচ্ছে কিছুই বুঝতে পারছে না। মেঘ বার বার চোখ কচলে তাকাচ্ছে। আবির ভাইয়ের ভার্সিটিতে কেউ পরিচিত আছে, এটা মেঘ জানতোই না। তাও আবার রাজনৈতিক ছেলেপেলের সাথে ৷ রাগী, গুরুগম্ভীর স্বভাবের ছেলেটা হাসিমুখে বলল,

“Thanks Vaiya, তুমি আমাদের কথা মেনে এত ব্যস্ততার মধ্যেও আসছো এটায় অনেক। আমরা তো ভাবছিলাম তুমি হয়তো আসবেই না।” ” তোরা যে এত বছর পরও আমায় স্মরণ করেছিস সেই অনেক বড় ব্যাপার। ” “তোমাকে কি ভুলা সম্ভব? কলেজের হিরো ছিলা তুমি৷ স্যারদের চোখের মনি সেই সাথে পুরো কলেজের মেয়েদের ক্রাশ বয়। ”

শেষ লাইনটা কানে যেতেই মেঘ সাপের মতো ফোঁস করে ওঠলো ৷ সূক্ষ্ম দৃষ্টিতে তাকায় আবিরের দিকে। আবির ভাইয়ের আশেপাশে ২-১ টা মেয়ের নামই সহ্য করতে পারে না৷ সেই আবির ভাই নাকি কলেজের সব মেয়ের ক্রাশ ছিল। আল্লাহ জানেন কত মেয়ে প্রেমের প্রপোজাল দিয়েছেন আর কত মেয়ের সাথে প্রেম করে বেড়িয়েছেন। মেঘ নিজের কপাল চাপড়ে বিড়বিড় করে বলল,

” মেঘরে তুই শেষ, হাজারো মেয়ের ক্রাশ ওনি, সেখানে তুই কে? তোর দিকে কোনো ছেলে ফিরেও তাকায় না, ক্রাশ তো বহুদূরের বিষয়। তুই আবার আবির ভাইকে চাস। ছিঃ লজ্জা লাগে না ? আবির ভাই যে বোন হওয়ার সুবাদে তোর সাথে দু-একটা কথা বলে সেই তোর কপাল।” বন্যা মেঘের দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করল, ” কি বিড়বিড় করছিস? ” মেঘের চোয়াল অকস্মাৎ ঝুলে পরল। মনের ঘর মেঘাচ্ছন্ন হয়ে গেছে ৷ শক্ত কন্ঠে বলল, “কিছু না” আবির ছেলেটার হাতে চাপড় মেরে বলে,

” বাজে কথা বাদ দে। হঠাৎ আমায় স্মরণ করার কারণ কি?” আরেকজন বলে উঠলো, ” তুমি আমাদের স্পেশাল গেস্ট তাই স্মরণ করেছি। অবশ্য তোমায় মালা দিয়ে বরণ করা উচিত ছিল। আচ্ছা সমস্যা নেই, পোগ্রামের দিন অবশ্যই মালা দিব।” আবির উদ্বিগ্ন কন্ঠে বলল,

“এই থাম থাম, আমায় বরণ করবি মানে? আমি কে?” “তুমি আমাদের শ্রদ্ধেয় বড় ভাই। যার জন্য আমরা আজ এই অবস্থানে। ” “আমার জন্য না । বরং তোরা নিজের অবস্থান নিজেরা তৈরি করেছিস৷ ” ” যখন পথভ্রষ্ট হয়ে গেছিলাম তখন রাস্তা তো তুমিই দেখিয়ে দিয়েছিলে।” “আচ্ছা বুঝলাম৷ কিন্তু পোগ্রাম টা কিসের?” “ভার্সিটিতে লাস্ট একটা পোগ্রাম করতে চাচ্ছি।” “প্রোগ্রাম করবি কর। আমার কি কাজ? আমি তো ভার্সিটির কেউ না, পড়িও নি এখানে”

“পড়ো নি তাতে কি? বাহিরে পড়তে না গেলে তুমি এই ভার্সিটির ই স্টুডেন্ট থাকতা৷ এখন কথা হলো, ভার্সিটির পাশাপাশি, আমরা আমাদের কলেজের স্যার- ম্যামদের ইনভাইট করতে চাচ্ছি। আর ইনভাইট তুমি করবা। তাছাড়া তোমাদের মতো সাকসেসফুল কিছু ব্যক্তিবর্গদের ও ইনভাইট করা হবে। তোমরা তোমাদের সুদর্শন চেহারা দেখিয়ে জুনিয়রদের সঠিক পথ দেখাবা। ”

“প্রথমত আমি কোনো সাকসেসফুল ব্যক্তি না। দ্বিতীয়ত আমি এই ভার্সিটির স্টুডেন্ট না। তৃতীয়ত তোদের প্রোগ্রামে আমি স্যারদের ইনভাইট করার কে?” “প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় বুঝি না। তুমি আমার ভাই এটায় একমাত্র কথা। ভাই তো নাকি?” “হ্যাঁ ভাই। তো?”

“তুমি তো আমাদের অবস্থা দেখেই গেছিলা। স্যাররা একপ্রকার বের করে দিচ্ছিল কলেজ থেকে। সেদিন তুমি স্যারদের রিকুয়েষ্ট না করলে আমাদের যে কি অবস্থা হতো আল্লাহ ভালো জানেন। তুমি চলে যাওয়ার পর আমরা যতদিন কলেজে ছিলাম, এমন একটা দিন যায় নি যে স্যাররা আমাদের সামনে আসলে তোমার নাম নেয় নি। তুমি না বললে আমাদের বের করে দিত, আরও কত কথা। সেসব এখন অতীত। তোমার কথামতো পড়াশোনা করে আমাদের ১২ টা বন্ধুর মধ্যে ৯ জন ই DU তে ভর্তি হয়েছি। বাকিরাও ভালো অবস্থানে আছে। তোমার সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছি কিন্তু তুমি নেটওয়ার্কের বাহিরে ছিলা।

কিছুদিন আগে হঠাৎ একদিন তোমাকে একটা মেয়ের সঙ্গে দেখলাম। ডাকার সুযোগ ছিল না। অনেক খোঁজ নিয়ে জানতে পারছি তুমি তানভিরের ভাই। তারপর তানভিরের থেকে ফেসবুক আইডি নিলাম। আমার বা আমাদের জীবনের গল্পে তুমি অন্যরকম ভূমিকা পালন করেছো যার ঋণ কোনোদিন দিয়ে শেষ করতে পারব না। তাই তোমার পোগ্রামে আসতেই হবে।” “বাবা গো! তোরা যেভাবে আমার প্রশংসা করছিস, আমার বাপেও আজ পর্যন্ত এত প্রশংসা করে নি।” “তুমি যে কি চিজ, তোমার বাপে হয়তো বুঝেই নাই ” আবির মৃদু হাসলো। আরেকজন বলে উঠল,

” ভাইয়া জানো, একই শহরে থেকেও গত পাঁচ বছর যাবৎ কোনোদিন কলেজে পা দেয় নি। স্যারদের দেখে মুখ লুকিয়ে চলছি৷ এখন তো ভার্সিটি লাইফ শেষ। দুদিন পর কে কোথায় থাকবো তা জানা নেই। তাই পোগ্রাম টা করতে চাচ্ছিলাম। ভার্সিটির স্যারদের সঙ্গে কথা বলেছি। ওনাদের আপত্তি নেই৷ এখন তুমি আমাদের সাথে যাবে, আমাদের পক্ষ থেকে কলেজের স্যারদের একটু বলবা। আমরা বললে যদি না আসে, তুমি বললে নিশ্চয়ই রাজি হবেন। ” আবির রুষ্ট স্বরে বলল,

“সবই করে দিব প্রয়েজনে পোগ্রামেও আসবো কিন্তু গেস্ট হিসেবে নয়। সাধারণ মানুষ আর তোদের ভাই হিসেবে। যদি কোনোপ্রকার মালা দিয়ে বরণ, আমায় নিয়ে ৫০০ শব্দের ভাষণ শুরু করিস। তাহলে একেকটাকে স্টেজে ফেলে পেটা*বো বলে রাখবাম।” “তাই বলে আমাদের জীবনের গল্পের নায়কের প্রশংসা করব না?” “না করবি না। আমি শুধু তোদের পথ দেখিয়েছি। বাকি সব তোরা করেছিস। তোদের সাকসেস তোদের এতে আমার কোনো হাত নেই। তোরা যে আমার কথা মনে রেখেছিস এতেই শুকরিয়া। এমনও মানুষ আছে যাদের জন্য জীবন দিয়ে দিলেও তারা সেসব ভুলে যায়। দোয়া করি জীবনে সাকসেসফুল হ।”

“দেখো তো! তোমায় রাস্তায় দাঁড় করিয়েই জীবন ইতিহাস শুরু করে দিয়েছি৷ চলো ভেতরে চলো।” “ভেতরে আর যাব না। কথা তো হলোই। আমার নাম্বার রাখ। কবে কলেজে যাবি জানাইস। অফিসে কাজ ফেলে আসছি ” “একদিন কাজ একটু কম করলে কিছু হবে না। কতবছর পর তোমাকে পেয়েছি। আড্ডা না দিয়ে ছাড়ছি না। চলো চলো।”

আবির ঘুরতেই মেঘদের দেখতে পায়। কিছুটা দূরেই দাঁড়িয়ে ছিল ওরা। আবির পেছন ফিরে থাকায় আগে দেখতে পায় নি। মেঘ আশ্চর্য নয়নে তাকিয়ে আছে। ওদের সব কথোপকথন ই মেঘ মনোযোগ সহকারে শুনেছে। বুঝতে বাকি নেই ওদের পড়াশোনাতে আবির ভাইয়ের অবদান অনেকখানি। তবে সেই ছেলেগুলোর কি হয়েছিল তা শুনার বেশ আগ্রহ জাগছে মেঘের মনে। আবির কিছুটা এগিয়ে এসে মেঘের মুখোমুখি দাঁড়ালো। ছোট করে শুধালো, “ক্লাস শেষ?”

আবিরের কন্ঠে মেঘ হকচকিয়ে তাকাল, মনোযোগ ছিল অন্য কোথাও। উপর নিচ মাথা নেড়ে বলল, “শেষ৷ কিন্তু আপনি এখানে কেন?” মেঘ সব কথা শুনেও না শোনার মতো প্রশ্ন টা করেছে। আবির চোখের ইশারায় ছেলেগুলোকে দেখিয়ে বলল, “ওদের সঙ্গে দেখা করতে আসছিলাম।” ছেলেগুলো এগিয়ে গেছে, আবিরকে না পেয়ে পেছন ফিরে তাকাতেই মেঘকে দেখল। দু কদম এগিয়ে এসে বলল, “ওনাকেই দেখেছিলাম তোমার সাথে। ওনি কে ভাইয়া? তোমার..” আবির তার আগেই বলল,

“আমার কাজিন। তোরা যা আমি আসছি। ” ছেলেগুলো এগিয়ে যাচ্ছে। আবির মেঘকে উদ্দেশ্য করে গলায় তেজ এনে বলল, “আড্ডা দেয়া শেষ হলে বাসায় যা। গাড়ি অপেক্ষা করছে।” মিনহাজ আর তামিমকে দেখেও না দেখার মতো করে চলে যাচ্ছে। মেঘ পিছন থেকে ডেকে বলল, ” আমি আপনার সঙ্গে যাব। ”

অনেকদিন হলো আবিরের বাইকে ওঠে না। রাগারাগি, মান অভিমানে ঠিকমতো কথায় বলে নি বাইকে উঠা তো দূরের বিষয়। আজ মেঘের খুব ইচ্ছে করছে আবির ভাইয়ের সাথে বাইকে ঘুরবে। তাছাড়া ফুপ্পির জন্যও মনটা ছটফট করতেছে। সে প্ল্যান করেছে ফুপ্পিকে দেখে একেবারে বাসায় ফিরবে। আবির দু আঙুলে ইশারা দিতেই মেঘ আবিরের কাছে এগিয়ে গেল। আবির প্রখর তপ্ত স্বরে বলল, “আমি না আসলে কি করতি?”

মিনহাজ আর তামিমের প্রতি ক্রোধ চেপে রাখতে পারছে না । ওদের দিকে তাকালেই অঘটন ঘটতে পারে তাই তাকাচ্ছে না। মেঘ স্বাভাবিক কন্ঠে উত্তর দিল, “আপনি না আসলে গাড়িতে যেতাম। আপনি এসেছেন তাই বাইকে যাব।” “আমি তোকে নিতে আসি নি। অন্য কাজে আসছি ” মেঘ জেদ দেখিয়ে বলল, “আমি এতকিছু জানি না। আপনি আমায় নিয়ে যাবেন এটায় শেষ কথা। ”

মেঘের জেদের কাছে আবিরের সুপ্ত ক্রোধ হার মানতে বাধ্য হয়েছে। আবির ক্ষীণ হাসলো। মেঘ জেদ দেখিয়ে কথা বললে, ওর নাক ফোলে যায়, গাল দুটা লাল টকটকে হয়ে যায়। দুধে আলতা চেহারায় রক্ত বর্ণের ছাপ ভেসে ওঠে, গলার দুপাশের দুটা রগ ফুলে ওঠে । মেঘকে এভাবে দেখলে আবিরের উদ্বেলিত হৃদয়ের কম্পন তীব্র হয়ে ওঠে। কল্পনার জগতে পাড়ি দিতে ইচ্ছে করে। রক্তাভ দুগালে ভালোবাসার পরশ এঁকে দিতে ইচ্ছে করে। কিন্তু বরাবরের মতোই সে অসহায়। নিজের অনুভূতি লুকাতে হয় প্রতিবার। দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলল,

“কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে হবে।” “ব্যাপার না। অপেক্ষা করবো, বিড়বিড় করে বলল, সারাজীবন” আবির দু কদম এগিয়ে পিছন ফিরে আবার তাকালো। কিন্তু কিছু বললো না। এখানে তামিম, মিনহাজ আছে যাদের সহ্য হয় না। আবার মেঘকে নিয়ে ভেতরে যাবে সেখানেও প্রায় ২০-৩০ টা ছেলে আছে। কে কোন নজরে মেঘকে দেখবে এই চিন্তায় মেঘকে কিছু বলল না।

আবির চলে যেতেই বন্যা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ছেড়ে মিনহাজ আর তামিমের দিকে তাকালো। মিনহাজ আর তামিম দুজনেই স্তব্ধ হয়ে আছে। চোখের সামনে এতক্ষণ যা ঘটলো তার কিছুই বিশ্বাসযোগ্য না। নিজের চোখ, নিজের কান কোনোকিছুকেই বিশ্বাস করতে পারছে না। কোথায় ভেবেছিল ভার্সিটির নেতাদের ক্ষমতা দেখিয়ে মেঘদের সামনে একটু ভাব নিয়ে চলবে। উল্টো বড়সড় একটা বাঁশ খেলো। খেলো তো খেলো একদম মেঘদের সামনে। মেয়েরা মুখে প্রকাশ করুক বা না করুক, বেশিরভাগ মেয়েরায় দাপটি ছেলেদের পছন্দ করে। কেউ কিছু বললে ছেলেটা যেন মুখ লুকিয়ে সেখান থেকে প্রস্থান না নেয়। মেয়েটার সম্মান বাঁচাতে ছেলেটা যেন প্রতিবাদ করতে পারে। প্রতিনিয়ত আবিরের এত প্রশংসা শুনে মিনহাজ ও ভেবেছিল রাজনীতি করবে, নেতাদের পরিচিতি লাভ করে মেঘের মন জয় করে নিবে। কিন্তু আবির ক্ষণে ক্ষণে তার সব প্ল্যান ভেস্তে দিচ্ছে।

বন্যা ওদের অসহায় মুখের পানে চেয়ে থেকে হঠাৎ ই হাসি শুরু করেছে। হাসতে হাসতে মেঘের উপর হেলে পড়ছে। বন্যার স্বতঃস্ফূর্ত হাসি দেখে মেঘও হাসলো। বন্যা কেন হাসছে এটা কারোর ই অজানা নয়। ২ মিনিট, ৫ মিনিট, ১০ মিনিট হয়ে গেছে বন্যা হেসেই যাচ্ছে। হাসতে হাসতে পেটে ব্যথা হয়ে গেছে তবুও বন্যার হাসি থামছে না।। মিনহাজ সহ্য করতে না পেরে রাগান্বিত কন্ঠে বলল,

“হইছে বইন থাম। এর বেশি হাসলে ম*ইরা যাইবি। ” বন্যা হাসতে হাসতে বলল, “তোর শ্রদ্ধেয় রাজনৈতিক বড় ভাইদের আমার সালাম দিস। সালামের পরে বলিস, তুই যে আবির ভাইয়াকে মা*রার হুমকি দিয়েছিস। আবির ভাইয়ার প্রতি তাদের যেই ভালোবাসা দেখলাম, আশা করি তারাই তোকে যোগ্য সম্মানী দিয়ে দিবে। ” মিনহাজ রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে বলল,

“আমি হুম*কি দিলাম কখন?” “তোর ভাই ব্রাদার্সের পাওয়ার দেখাবি বলছিলি, মনে নেই? এত মন ভুলা তুই?” “আচ্ছা বাদ দে।” “এখন বাদ দিচ্ছি। কিন্তু ভবিষ্যতে এসব আকাশচুম্বী কথাবার্তা বললে তোর শ্রদ্ধেয় ভাইদের বলে দিব।” “আচ্ছা ঠিক আছে। ”

মেঘ এতক্ষণ যাবৎ ই নিশ্চুপ দাঁড়িয়ে। ইদানীং নিজের সাহস দেখে মাঝে মাঝে নিজেই অবাক হয়ে যায়। আবির ভাইয়ের মুখের উপর জেদ দেখালো, যদি আবির ভাই ভার্সিটির সবার সামনে থা*প্পড় মা*রতো, তবে কি হতো! ভাবতেই ভয়ে কেঁপে উঠছে। সবার সামনে থা*প্পড় খেলে মুখ দেখানোর অবস্থা থাকত না। আবির কিছুক্ষণের মধ্যেই বেড়িয়ে আসছে মেঘ বাসায় চলে গেলে হয়তো বেশিক্ষণ আড্ডা দিত কিন্তু মেঘকে বাহিরে রেখে গেছে তাই মাথায় চিন্তা কাজ করছে৷ এজন্য তাড়াতাড়ি চলে আসছে। মেঘকে ডাকতেই মেঘ এগিয়ে গিয়ে বলল,

“আংকেল কি চলে গেছেন?” “হ্যাঁ৷ তুই না বললি বাইকে যাবি! তাই তো আংকেলকে চলে যেতে বলছি । কেন?” “আপনার তো অফিস আছে। আমায় নিয়ে গেলে সময় নষ্ট হবে তাই বলছিলাম আমি গাড়িতে চলে যেতাম।” “এটা আগে মনে হয় নি? তোর ভাইয়ের মতো রাগ উঠলে তোরও মাথা ঠিক থাকে না। তখন কিছু বুঝার অবস্থাতেও থাকিস না। ব্যাপার না, চল। ” “আমি রিক্সা দিয়ে বাসায় চলে যায়?” “মেজাজ খারাপ করিস না। চল বলছি।”

মেঘ ভয়ে ভয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। ফুপ্পির বাসায় নিয়ে যাবে না আগেই বলছে এখন আবার ফুপ্পির কথা বললে নিশ্চিত মা-ইর খাবে। আবির একটা রিক্সা ঠিক করে বন্যাকে যাওয়ার জন্য ইশারা করল। তারপর মেঘকে নিয়ে চলে গেছে। বাইক চলছে কিন্তু মেঘ স্ট্যাচুর মত বসে আছে। কোনো কথা বলছে না। আবির স্ট্রিট ফুড দেখে কয়েকবার জিজ্ঞেস করেছে খাবে কি না। মেঘ শুধু না করেই যাচ্ছে। অবশেষে একটা ফুচকার দোকান দেখে বাইক থামালো। আবির শীতল কন্ঠে বলল,

“মাথাটা বোধহয় এখনও ঠান্ডা হয় নি। ফুচকা খেলে নিশ্চয় মাথাটা ঠান্ডা হবে।” মেঘ মাথা নিচু করে বলল, “আমি ফুচকা খাব না।” “আমি মনে হয় ভুল শুনলাম” মেঘ ঠান্ডা অথচ শক্ত কন্ঠে বলল, “আপনি ঠিকই শুনেছেন। আমি ফুচকা খাব না।” আবির হেসে বলল তাকা আমার দিকে, মেঘ ধীর গতিতে চোখ তুললো। তাকালো আবিরের চোখের দিকে,আবির তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে চেয়ে মোলায়েম কন্ঠে শুধালো,

“ম্যাম,আপনি সত্যি সত্যি ফুচকা খাবেন না?” আবিরের হাবভাব দেখে মেঘ না চাইতেও হেসে ফেলল। সে আবিরের ভয়ে ফুচকা খাবে না বলছিল, কিন্তু আবির ই তাকে বার বার উস্কাচ্ছে। মেঘ আবিরের মুখের পানে চেয়ে মনে মনে ভাবছে, ” আপনার মধ্যে কি এমন স্পেশাল গুণ আছে যা ক্ষনিকের ব্যবধানে রাগকে ভয়ে আবার ভয়কে জয়ে পরিণত করতে সক্ষম।”

আবির ভ্রু নাচাতেই মেঘ মৃদু হাসলো। ফুচকা অর্ডার দিয়ে বসে আছে। আবির মেঘকে দেখছে আবার আশেপাশে তাকাচ্ছে। আবির হঠাৎ ই মুচকি হেসে বলল, “তোকে আজ অনেক বেশি কিউট লাগছে” মেঘ চোখ গোলগোল করে তাকালো। গলায় শ্বাস আঁটকে গেছে। ঠিক শুনছে নাকি ভুল! আবির ভাই মেঘকে কিউট বলেছে। ভাবা যায়! মেঘ লজ্জায় আড়ষ্ট হয়ে যাচ্ছে তবুও স্বাভাবিক থাকার খুব চেষ্টা করছে। আবির পুনরায় বলল, “নীল রঙটা তোকে খুব মানাচ্ছে৷ আগে বোধহয় কখনো নীল রঙের জামাতে দেখি নি।”

মেঘ এবার আরও বেশি লজ্জা পেয়েছে। চোখ দ্বিগুণ নামিয়ে নিয়েছে। আবির স্থির দৃষ্টিতে মেঘকে দেখছে৷ পলক ও ফেলছে না। তা বুঝতে পেরে মেঘ আরও তাকাতে পারছে না। গাল আর নাকের ডগা আবারও লাল হয়ে গেছে। মনে হচ্ছে লাল রঙের ব্লাশ লাগিয়েছে। মেঘ ঘনঘন নিঃশ্বাস ফেলছে, সামান্য কিউট বলাতে যে কেউ এত লজ্জা পেতে পারে, এটা মেঘকে না দেখলে বুঝায় যেত না। মেঘ বার বার নিজেকে স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছে কিন্তু চোখ তুলতেই পারছে না। ওষ্ঠদ্বয় কাঁপছে তিরতির করে। মেঘের অবস্থা বুঝতে পেরে আবির দৃষ্টি স্বাভাবিক করে পুনরায় বলল,

“ফুপ্পিকে দেখতে যাবি?” মেঘ এবার আশ্চর্য নয়নে তাকালো। তার মনের কথা আবির ভাই কিভাবে বুঝলো। মেঘের লজ্জায় রাঙা মুখ দেখে আবির ঢোক গিলল। চোখ বন্ধ করে দীর্ঘশ্বাস ছাড়লো। মনে মনে বলল, ” উফফফফ, আমার শান্ত মনটাকে উল্টেপাল্টে দিতে তোর লজ্জায় লালিত মুখটায় যথেষ্ট। তোকে এভাবে দেখলে বউ বউ ফিল পাই। কবে তোকে আমার করে পাবো? অপেক্ষার প্রহর যে ফুরায় না। ” মেঘ উত্তেজিত কন্ঠে বলল,

“আপনি কিভাবে বুঝলেন আমি ফুপ্পির সাথে দেখা করতে চাই?” “তুই ই তো বলছিলি।” “আমি সেই কবে বলছিলাম।তা কি এখনও মনে আছে?” “তুই কবে কি বলিস সবই আমার মাথায় থাকে। শুধু সুযোগের অপেক্ষায় থাকি।” “সবার কথায় আপনার মাথায় থাকে?” “সবার কথা মানে?” “যে যা বলে সবকিছু মনে থাকে?” “না, প্রয়োজনের বাহিরে সবকিছুই ভুলে যায়” মেঘ হুট করে বলে উঠল, “আপনার গার্লফ্রেন্ড কয়টা?”

মেঘের এমন প্রশ্নে আবির হকচকিয়ে উঠলো। থতমত খেয়ে বলল, “মানে?” “গার্লফ্রেন্ড চিনেন না? মেয়ে বন্ধু বা প্রেমিকা। ” “তা বুঝলাম। কিন্তু হঠাৎ এমন প্রশ্ন কেন?” “শুনলাম কলেজের সব মেয়ের ক্রাশ ছিলেন। তাই আর কি” আবির নিঃশব্দে হাসলো। মেঘের মনে হিংসা কাজ করছে এটা আবির বেশ বুঝতে পারছে। আবির জ্বিভ দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে বলল,

“আছে হাজার খানেক” মেঘ চেঁচিয়ে উঠল, “What!” আবির দু’হাতে ইশারা দিয়ে বলল, “Cool” “ফাজলামো করেন আমার সাথে? সত্যি করে বলুন কয়জন? ” “না বলা যাবে না। তুই সবাইকে বলে দিবি।” “সত্যি বলব না।বলুন” “গার্লফ্রেন্ড নেই তবে একটা গোলাপি কালার বউ আছে। ” মেঘ ফোঁস করে শ্বাস ছাড়লো। ভ্রু কুঁচকে রাগান্বিত কন্ঠে বলল,

” থাকেন আপনার গোলাপি কালার বউ নিয়ে। দরকার হলে লাল, নীল, হলুদ বউ নিয়ে থাকুন। ” মেঘ উঠতে নিলে আবির মেঘের হাত চেপে ধরে বসালো। তপ্ত স্বরে বলল, “আমার লাল, নীলের প্রয়োজন নেই। গোলাপিটায় যথেষ্ট।” “ফাইজলামি বন্ধ করুন। মেজাজ খারাপ হচ্ছে” “কি আমার মেজাজ গো, তাও আবার একটু পর পর খারাপ হয়। আচ্ছা ঠিক আছে বন্ধ করলাম। তুই ও আমায় এমন প্রশ্ন আর করবি না। ” “করলাম না এমন প্রশ্ন। ”

ফুচকা খেয়ে শেষ করে আবিরের সঙ্গে ফুপ্পির বাসায় আসছে। ফুপ্পি মেঘকে দেখে ভীষণ খুশি হয়েছেন। সেই সঙ্গে বাসার সকলেই খুশি হয়েছে। আবির মেঘকে দূরে সরিয়ে রাখে বলে আবিরকে সবাই সবসময় বকা দেয়। ফুপ্পি তো বকেন, উল্টাপাল্টা কথা বললে মাঝে মাঝে গাট্টাও দেন৷ মেঘ ফুপ্পিকে জড়িয়ে ধরে কান্না শুরু করে দিয়ছেে। মেঘের কান্না দেখে ফুপ্পিও কাদঁছেন। মেয়ে মানুষের মায়া একটু বেশিই থাকে। ফুপ্পির কথা মেঘ যেদিন শুনেছে তার পর থেকে প্রতিরাতেই ফু্প্পির কথা মনে করে মন খারাপ করে, কখনও কখনও কান্নাও করে। মাঝে মাঝে ভাবে আব্বু, বড় আব্বু রাতে কিভাবে ঘুমান! ওনাদের কি বোনের কথা মনে হয় না? মেঘদের কান্না দেখে আবির ভারী কন্ঠে বলল,

” তোমাদের চোখের পানিতেই দুদিন পর পর রাস্তাঘাটে পানি জমে যায়। এভাবে কান্নাকাটি করো বলেই মেঘকে নিয়ে আসি না। আজকেও যদি কাঁদো তাহলে আর কখনোই নিয়ে আসব না।” দুজনের কান্নায় কমে এসেছে। আইরিন মজার ছলে বলল, “ওদের কান্নায় যদি রাস্তায় পানি ওঠে, তোমার কান্নার কারণে নিশ্চয় বাংলাদেশে বন্যা হয়” আবির গম্ভীর কন্ঠে বলল, “হ্যাঁ। সামনের বন্যায় তোকে ভাসাইয়া দিব নে।” “ইহহ। আমি সাঁতার পারি।”

“তাহলে তো আরও ভালো। সাঁতার কেটে শ্বশুর বাড়িতে যাবি আবার বাপের বাড়িতে আসবি।” “কিসের শ্বশুর বাড়ি, কার শ্বশুর বাড়ি?” আবির ফুপ্পিকে উদ্দেশ্য করে বলল, “ফুপ্পি তোমার মেয়ের জন্য ছেলে দেখা শুরু করছি।এই বর্ষার আগেই বিয়ে দিয়ে দিব।” আইরিন আর্তনাদ করে উঠে, “নাহ, কিসের বিয়ে? নিজের বিয়ের খবর নাই আমার পিছনে লাগছো! তুমি আগে বিয়ে করো। ” আবির ঠাট্টার স্বরে বলল,

“আমি খবর পাইছি তুই জান্নাতকে খুব জ্বালাস। আমার বউকে জ্বালাবি না তার কি গ্যারেন্টি আছে? এজন্য তোকে বিয়ে দিয়ে তারপর ই বিয়ে করব।” আইরিন জান্নাতকে জিজ্ঞেস করল, “ভাবি সত্যি করে বলো, আমি তোমাকে জ্বালায়?” জান্নাত এপাশ ওপাশ মাথা নেড়ে, হেসে উত্তর দিল, “কখনোই না।” আইরিন মেঘকে শুধালো, “মেঘ আপু আমি কি তোমাকে জ্বালায়? ”

আবির মাথা নিচু করে জ্বিভে কামড় দিয়ে বসে আছে। মনে মনে বলছে, “এই মেয়েটা নিশ্চিত ফাঁসাবে।” মেঘ স্বাভাবিক ভাবেই উত্তর দিল, “কই না তো। তুমি তো অনেক লক্ষ্মী মেয়ে” এবার আইরিন আবিরের দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে চেয়ে বলল, “দেখছো আমি কাউকেই জ্বালায় না।” পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে আবির বলল, “সেসব পরে দেখা যাবে। ফুপ্পি খুব খুদা লাগছে। দুপুরে খায় নি৷ খেতে দাও ” জান্নাত বলল,

“আপনারা ফ্রেশ হোন। আমি এখনি খাবার দিচ্ছি।” ১-২ ঘন্টা গল্প করে মেঘকে নিয়ে বাসায় ফিরছে । রাস্তায় যেতে যেতে মেঘ হঠাৎ ই আবিরকে ডাকল, ” আবির ভাই” “হুমমমমম ” “আমাদের ভার্সিটির ছেলেগুলো কি আপনার কলেজের? ” “হ্যাঁ। এক ব্যাচ জুনিয়র ছিল ” “ওরা আপনার এত প্রশংসা করছিল কেন। আপনি কি করছিলেন?” “তুই কি সব শুনে ফেলছিস?” “জ্বি”

“কলেজে থাকাকালীন একটু ঝামেলা হয়ছিল তখন স্যারদের কে রিকুয়েষ্ট করছিলাম। এই আর কি।” “কি ঝামেলা সেটায় তো জানতে চাচ্ছি!” “জানতেই হবে?” “জ্বি”

“ওরা কলেজে ভর্তির পর কিছুদিন নিয়মকানুন মেনে চলছে, রেজাল্ট ও ভালো করছিল কিন্তু ৬ মাস পর থেকে কোথাকার কোন ছেলেদের সঙ্গে মিশে নে*শা করে একেকটা ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে চলে গেছিলো। পড়াশোনার অবস্থা নেই, নিয়ম মানে না, স্যারদের সাথে উগ্র আচরণ,পরীক্ষায় রেজাল্ট খারাপ করছে। সব মিলিয়ে স্যাররা সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সবকটার বাবা মাকে এনে অপমান করে কলেজ থেকে বহিষ্কার করে দিবে। আমি কয়েকজনের মাধ্যমে জানতে পারছি, ২-৩ জন বাদে সবগুলোর পারিবারিক অবস্থা খুব খারাপ। বাবা- মা অনেক কষ্ট করে টাকা ইনকাম করে ঢাকা শহরে ছেলেকে পড়তে পাঠাইছে। আর এগুলো সঙ্গ দোষে নিজের জীবন ধ্বংস করছে। জানার পর নিজেরই কষ্ট লাগতেছিল। তারপর ওদের সঙ্গে কিছুদিন বসেছি। ওদের সবার গল্প শুনেছি, বুঝিয়েছি। তখন আমার ক্ষুদ্র মাথায় যা মনে হয়েছিল তাই করেছি আর কি । যখন দেখলাম ওরা আমার কথা একটু একটু মানতে শুরু করেছে তখন স্যারদের রিকুয়েষ্ট করলাম যেন পরবর্তী পরীক্ষা পর্যন্ত ওদের সময় দেয়। স্যারদের খুব আদরের স্টুডেন্ট ছিলাম বলে হয়তো স্যাররা মেনে নিয়েছেন৷ ৩য় সেমিস্টারে মোটামুটি ভালো রেজাল্ট করেছে। তারপর আমিও চলে গেছি ওদেরও খবর নেয়া হয় নি। ”

“বাহ!” “কি?” “আপনি খুব ভালো” “ধন্যবাদ ম্যাম।” আবির মেঘকে বাসার সামনে নামিয়ে দিয়ে আবারও অফিসে চলে গেছে। আজ ৭ ফেব্রুয়ারি। ভার্সিটিতে যেতেই নজর পরে অনেকেই গোলাপ হাতে ঘুরছে৷ কেউ কেউ বন্ধুদের দিচ্ছে, কেউ আবার বান্ধবীকে দিচ্ছে। মেঘ, বন্যা এসব ডে কখনো পালন করে না। মনেও থাকে না কবে কি ডে। হঠাৎ মিনহাজ একটা গোলাপ এনে মেঘকে দিয়ে বলল, “Happy Rose Day” বন্যার দিকে তাকিয়ে বলল,

“একটায় ফুল পাইছি রে৷ না হয় তোকেও দিতাম। এখন তোর বেবিকেই দেই। ” মেঘ আশেপাশে তাকালো। হঠাৎ ই মাথায় ভূত চেপেছে। গম্ভীর কন্ঠে বলল, “আমি তোর থেকে গোলাপ নিব না, শুধু আবির ভাইয়ের থেকে নিব। বন্যাকে দিয়ে দে” মিনহাজ না চাইতেও বন্যাকে দিল, কিন্তু বন্যাও নেয় নি। বরং উল্টো বলল,”তোদের থেকে ফুল নিতেও ভয় করে৷ কার মনে কি চলে তোরাই জানস”

মেঘ আজ তাড়াতাড়ি করে বাসায় চলে আসছে। ছাদ থেকে একটা লাল টকটকে গোলাপ এনে, সাথে একটা চিরকুট লিখে আবিরের রুমে রেখে আসছে। আবির সন্ধ্যার দিকে বাসায় ফিরে দেখল টেবিলের উপর গোলাপ আর চিরকুট রাখা। এগিয়ে গেল টেবিলের কাছে। চিরকুট হাতে নিতেই দেখল, চিরকুটে লেখা,

“আপনি মানুষটা রক্তিম গোলাপের মতন, যার কাঁটার আঘাতে শতশত বার ক্ষতবিক্ষত হয়েও, তার মুগ্ধতার পিছনেই ছুটছি।” Happy Rose Day Abir Vai আবির ফুলটা হাতে নিয়ে আলতোভাবে ঠোঁট ছোঁয়ালো। মুচকি হেসে বলল, ” আমার জীবনেও তুই রক্তিম গোলাপের মতন, যাকে দেখলেই হৃদয়ে তোলপাড় চলে, প্রেমানুভূতি জেগে উঠে বার বার। খুব ইচ্ছে করে, গোলাপের প্রতিটা পাপড়ির ভাঁজে তোর আমার প্রণয়ের নিশান এঁকে দেয়। ফুলের রানী গোলাপের মতো তোকেও আবিরের মহারানী বানিয়ে রাখি৷”

পর্ব - ৪৪(২)

আবির গোলাপ আর চিরকুট টেবিলের উপর রেখে ফ্রেশ হয়ে নিচে নামলো। এই সুযোগে মেঘ চুপিচুপি আবিরের রুমে আসছে। চিরকুট আর ফুল যেভাবে রেখেছিল সেভাবেই আছে দেখে মেঘের প্রফুল্ল মন সহসা খারাপ হয়ে গেছে। ঠোঁট ফুলিয়ে শ্বাস ছাড়লো। আবির ভাই এখনও দেখে নি ভেবেই মেঘের আনন্দিত বদন বদলে গেছে। মাথা নিচু করে মনে মনে বিড়বিড় করতে করতে রুম থেকে বেড়িয়ে বেলকনিতে হাঁটছে। আচমকা ভারী কিছুর সাথে কপাল ঠেকে। বডি স্প্রের তীব্র ঘ্রাণ নাকে লাগতেই আবেশে চোখ বন্ধ হয়ে আসে৷ সামনে দাঁড়ানো ব্যক্তিটা যে মেঘের একান্ত ব্যক্তিগত প্রিয় পুরুষ তা বুঝতে বাকি রইলো না৷ মেঘের ইচ্ছে করছে এই প্রশস্ত বুকে মাথা রেখে সারাজীবন কাটিয়ে দিতে কিন্তু তা সম্ভব না। অনিচ্ছা স্বত্তেও মাথা তুলে দু কদম পিছিয়ে গেল। মেঘের দৃষ্টি তখনও আবিরের পায়ের দিকে।

আবির সূক্ষ্ম নেত্রে চেয়ে রইলো। মেঘের চুল খোলা, এলোমেলো হয়ে আছে চুল । মশার কামড়ে কপালের দু তিন জায়গায় দাগ হয়ে গেছে। উজ্জ্বল বর্ণের কপালে দাগগুলো লাল টকটকে দেখা যাচ্ছে। আবির খানিক ভেবে হাত দিল মেঘের সুদীর্ঘ চুলের মাঝবরাবর৷ চুলের আগ শুকিয়ে গেলেও মাঝামাঝি আর গুঁড়ার দিকের চুলগুলো এখনও ভেজা । আবিরের কুঁচকানো ভ্রু যুগল একসঙ্গে লেগে গেছে, দাঁত খিঁচে গম্ভীর কন্ঠে বলে,

”এই অনিয়ম কি সারাজীবন ই করবি? কথা শুনবি না আমার?”

মেঘ শশব্যস্ত চোখে তাকালো আবিরের দিকে। আবিরের ভারী কন্ঠস্বর শুনে মেঘের মুখটা আরও চুপসে গেছে। চাউনিতে শীতলতা। মন জুড়ে তার অন্য চিন্তা ঘুরপাক খাচ্ছিল৷ আবির ভাই চিরকুট দেখে কিভাবে রিয়েক্ট করবেন তাই ভাবছিল। আবিরের হাত তখনও মেঘের চুলে, দ্বিতীয় বার কন্ঠ দ্বিগুণ ভারি করে বলল,

“কি বললাম আমি?”

আগের কোনো কথায় মেঘের কর্ণকুহরে পৌছায় নি এটা আবিরকে কিভাবে বলবে, নিরুপায় হয়ে মেঘ উল্টো প্রশ্ন করল,

“আমি কি করেছি?”

“অসময়ে শাওয়ার নিছিস কেন? দুদিন পর পর যে মাথা ব্যথায় ভুগিস মনে থাকে না? তোকে সকাল সকাল শাওয়ার নিতে বলছিলাম। কথা মানিস না কেন?”

একদমে কথাগুলো বলল আবির। চোখে সাফ রুষ্টতা। মেঘের অনিয়ম সহ্য করতে পারে না সে। মেঘ মনে মনে উত্তর সাজাচ্ছে। কি বললে এ যাত্রায় উদ্ধার হতে পারবে সেসব ভাবছে। মেঘ উদ্বেগপূর্ণ কন্ঠে বলল,

” ভার্সিটি থেকে এসে ঘুমিয়ে পরেছিলাম তাই একটু দেরি হয়ে গেছে। ”

“কাল থেকে শাওয়ার নিয়ে তারপর ভার্সিটিতে যাবি৷ মনে থাকবে?”

মেঘ ঘাড় কাত করে সম্মতি জানানো। ধমক খায় নি ভেবেই মনে মনে আনন্দিত হলো। আবির মেঘের চুল থেকে হাত সরিয়ে নিল৷ কপাল গুজিয়ে আবির পুনরায় আওড়ালো,

“এভাবে ভালোবাসার নিশান নিয়ে ঘুরতে লজ্জা লাগে না?”

মেঘ থতমত খেয়ে বলল,

“মানে? কার ভালোবাসা? কিসের নিশান?”

আবির নিজের ফোনের সেলফি ক্যামেরা অন করে মেঘের সামনে ধরলো। কপালের মাঝবরাবর মশার কামড়ের তিনটা দাগ, নাকের ডগায় একটা, থুঁতনির পাশ একটা, ২-১ টা গলাতেও আছে। মেঘ কি বলবে উত্তর খোঁজে পেল না। আবির কন্ঠ খাদে নামিয়ে বলল,

” বুঝলাম মশাকে ভালোবাসিস তাই বলে তাদের নিশান নিয়ে ঘুরতে হবে?”

মেঘ আহাম্মকের মতো চেয়ে আছে। আবিরের মুখের ভঙ্গি দেখে মেঘ ওষ্ঠ উল্টালো। আবির পাশ কাটিয়ে যেতে নিলে মেঘ তড়িঘড়ি করে বলল,

“আমি মশাকে ভালোবাসি না। ”

“তা তো নিশান দেখেই বুঝা যাচ্ছে। ” আবিরের ঝটপট উত্তর।

মেঘ আবিরের পেছনে দাঁড়িয়ে বিড়বিড় করে বলল,

“আমি মশাকে না আপনাকে ভালোবাসি। আপনি কি বুঝেন না?”

আবির মুচকি হাসলো। কথাটা ঠিকই তার কান পর্যন্ত পৌছেছে। সহসা হাসি থামিয়ে ঘাড় হালকা ঘুরিয়ে মেঘের দিকে আড় চোখে তাকিয়ে বলল,

“মশারী টানিয়ে ঘুমাইস”

দীর্ঘ কদম ফেলে আবির বেলকনিতে হাঁটছে আর মনে মনে বলছে,

” যে অঙ্গে আবিরের ভালোবাসার নিশান থাকার কথা, সে অঙ্গে অন্য কোনো নিশান আবির সহ্য করবে না। সেটা যদি সামান্য মশারও হয় তবুও না।”

রুমে ঢুকতে ঢুকতে বিড়বিড় করে বলে,

” Mahdiba is mine.”

বলেই ফোঁস করে নিঃশ্বাস ছাড়লো। নিঃশ্বাসের তীব্রতায় বুঝা যাচ্ছে মশার প্রতি তার কতটা হিংসা কাজ করছে। রুমে ঢুকে দরজা বন্ধ করে ঘন্টাখানেক মেঘের চিরকুট আর গোলাপ হাতে বসে রইলো। কল্পনায় কতটা পথ হেঁটে আসছে কে জানে! তারপর একটা ডায়েরির ভাঁজে গোলাপ আর চিরকুট রেখে শুয়ে পরেছে।

ভ্যালেন্টাইন সপ্তাহ চলছে৷ প্রতিদিনই কোনো না কোনো স্পেশাল ডে। আবির প্রতিদিন অফিস থেকে ফিরেই টেবিলে একটা চিরকুট দেখতে পায়। প্রপোজ ডে, চকলেট ডে, টেডি ডে একেকটা ডে তে একেকটা স্পেশাল চিরকুট সাথে চকলেট, টেডি কিছু না কিছু থাকে। কিন্তু আবিরের কোনো প্রতিক্রিয়া মেঘের চোখে পরে না। আবির অফিসে চলে গেলেই মেঘ ছুটে যায় আবিরের রুমে। খোঁজে নিজের দেয়া চিরকুটগুলো কিন্তু কিছুই খোঁজে পায় না। আবিরের রুমের প্রত্যেকটা জিনিসে তালা দেয়া৷ টেবিলের উপর রাখা বই, খাতা সব চেক করেছে কিন্তু কিচ্ছু পায় নি। মেঘ বিড়বিড় করে বলে,

” হি*টলা*র ব্যাটা, জিনিসগুলো যেমন তালা দিয়ে রাখছে, নিজের কলিজাটাকেও তালা মেরে রাখছে। যতই তালা দিয়ে রাখুন না কেন, আমি তালা ভেঙে হলেও আপনার হৃদয়ে জায়গা করে নিবই।”

আজ প্রমিস ডে৷ আবির অফিসের কাজে সকাল সকাল বেড়িয়ে গেছে। মেঘও ভার্সিটিতে এসেছে। মন টা তেমন ভালো না। আশেপাশে সবাই সবাইকে এটা সেটা প্রমিস করছে, মেঘ তাকিয়ে তাকিয়ে সেই দৃশ্য দেখছে। আবির ভাইয়ের থেকে চকলেট, টেডি ই যেখানে পায় নি, সেখানে প্রমিস ডে তে কোনো প্রমিস আশা করা বোকামি ছাড়া কিছুই না। এর মধ্যে বন্যা আসছে। মেঘের মন খারাপ দেখে উদ্বিগ্ন কন্ঠে শুধালো,

“কি হয়ছে বেবি? মন খারাপ কেন?”

“কিছু হয় নি। এমনি ভালো লাগছে না। ”

“এমনি তো না। অবশ্যই কারণ আছে। আবির ভাইয়া কিছু বলছেন? অথবা তানভির ভাই?”

” নাহ। ”

“মিনহাজ, তামিমরা কিছু বলছে?”

“নাহ। ”

“তাহলে হয়ছে টা কি?”

“আজকে কি ডে জানিস?

বন্যা স্বাভাবিক কন্ঠে বলল,

“এসব ডে দিয়ে আমার কি কাজ? আমি জেনে কি করবো? তুই বল”

“আজ প্রমিস ডে। দেখ চারপাশে সবাই সবাইকে প্রমিস করছে। আমায় কেউ প্রমিস করে না৷ ”

“ওরে আমার বেবি টা। তোমার প্রমিস লাগবে আগে বলবা না? ”

বন্যা নিজের ওড়না থেকে একটা সুতা ছিঁড়ে মেঘের কনিষ্ঠা আঙ্গুলে পেঁচিয়ে মোলায়েম কন্ঠে বলা শুরু করল,

” আজকের স্পেশাল দিনে আমি বন্যা তোকে প্রমিস করছি আমাদের বন্ধুত্বের সম্পর্ক সারাজীবন অটুট থাকবে৷ জীবনে যতই ঝড় আসুক না কেন, সেই ঝড়ের কবলে দুজন পৃথিবীর দুই মেরুতে চলে যায় না কেন। তারপরও আমাদের বন্ধু একই রকম থাকবে। তোর যেকোন বিপদে আমায় পাশে পাবি। আজেবাজে অজুহাত দেখিয়ে আমি কোনোদিন দূরে সরে যাব না, প্রমিস। Happy Promise Day Baby”

মেঘ সঙ্গে সঙ্গে বন্যাকে জড়িয়ে ধরেছে। বন্যা ছোট থেকেই খুব ম্যাচিউর একটা মেয়ে। মেঘ আর বন্যার মধ্যে মেঘ ঠিক যতটা দুষ্টু আর উগ্র বন্যা ঠিক ততটায় শান্ত। দুষ্টামির জন্য মেঘ স্যার ম্যামদের কাছে অনেক বকা খেয়েছে । বন্যা যথাসম্ভব মেঘকে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করেছে। মেঘের রাগ বেশি হওয়ায়, সামান্য ব্রেঞ্চে বসা নিয়েও স্কুল লাইফে বান্ধবীদের সাথে ঝগড়া লেগে যেতো। সেখানেও বন্যায় ঝ*গড়া মিমাংসা করে দিতো। মেঘকে বুঝিয়ে রাগ কন্ট্রোল করতো। বয়স বাড়ার সাথে সাথে মেঘের চঞ্চলতাও কমে এসেছে। বাড়িতে মীম আর আদির সাথে টুকটাক দুষ্টামি করলেও বাহিরে এখন খুব ভদ্র থাকার চেষ্টা করে। মেঘ যে পরিস্থিতিতেই থাকুক না কেন, বন্যাকে সে চোখ বন্ধ করে ভরসা করতে পারে। বন্যাও মেঘকে বোনের মতোই যত্নে রাখে। এত বছরের বন্ধুত্বেও বন্যা এত সুন্দর করে কখনো প্রমিস করে নি। মেঘও বন্যাকে জড়িয়ে ধরে বলল,

“আমিও তোকে প্রমিস করছি, আমি যতদিব বেঁচে থাকবো ততদিন তোর বেস্ট ফ্রেন্ড হয়েই থাকবো। তোর সাথে কত দুষ্টামি করছি, ঝগড়া করছি, রাগ দেখায়ছি ইনফ্যাক্ট এখনও কত রাগ দেখায় তুই কি সুন্দর সব মেনে নেস৷ তোর মতো বান্ধবী পাওয়া সত্যি ই ভাগ্যের বিষয়। আমি খুব ভাগ্য করে তোকে আমার জীবনে পেয়েছি। তোকে কখনোই হারাতে চাই না আমি। খুব ভালোবাসি তোকে ”

বন্যাও আহ্লাদী কন্ঠে বলল,

“আমিও খুব ভালোবাসি।”

মিনহাজ আর তামিম দুজনেই একসঙ্গে বলে উঠলো,

” আহাগো, দুই বান্ধবীর কত প্রেম । ”

মেঘ হাসিমুখে নিজের কনিষ্ঠা আঙ্গুল ওদের সামনে ধরে উত্তেজিত কন্ঠে বলল,

“দেখ আমার বেস্টু আমায় প্রমিস করেছে। ”

মিনহাজ মাথা চুলকে বলল,

“ও হো আজ তো প্রমিস ডে। মনেই ছিল না। প্রমিস করতে হবে তো!”

মেঘ উঠে যেতে যেতে বলল,

“আমার বেস্টু আমায় প্রমিস করে ফেলছে৷ এখন আমার আবির ভাইয়ের প্রমিস প্রয়োজন। আবির ভাই যদি একবার বলে “কখনো ছেড়ে যাবে না ” তাহলেই আমার জন্য যথেষ্ট। তোদের প্রমিস দিয়ে কি ঘোড়ার ঘাস কাটবো?”

“এভাবে অপমান করলি? দেখবি তোর আবির ভাই তোকে প্রমিস করবে না। এটা আমার অভিশাপ ”

মেঘ হাতের কলম ছুঁড়ে মারে৷ কলমটা ঠিক মিনহাজের কপালে লাগে৷ মিনহাজ ব্যথায় উফ করে ওঠে। মেঘ রাগান্বিত কন্ঠে বলে,

“শকুনের দোয়ায় গরু মরে না। আর যদি মরে, তাহলে তোকেও মরতে হবে।”

মেঘ ক্লাস শেষ করে বাসায় আসছে। মনটা ভীষণ অস্থির৷ আবির ভাইয়ের প্রতিক্রিয়া বুঝতে পারে না বলে আজ কোনো চিরকুট লিখে নি। চিন্তা করেছে সরাসরি আবিরকে বলবে।মেঘ বেলকনিতে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছিল। সন্ধ্যার খানিক বাদেই আবির বাসায় ফিরেছে।

আবির রুমে ঢুকেই টেবিলের দিকে তাকায়। আজ কোনো চিরকুট নেই দেখে আনমনে কপাল গুটালো। ড্রেস চেইঞ্জ করে শাওয়ার নিতে চলে গেছে। প্রায় ৩০ মিনিট পর মেঘ আবিরের রুমে আসলো। আবির তখন ড্রেসিং টেবিলের সামনে দাঁড়িয়ে ভেজা চুল ঝাড়ছিল। আগের ড্রেসিং টেবিল ভাঙার পর সেটা পাল্টিয়ে নতুন একটা আনিয়েছে। আগের টার থেকেও এটা অনেক বেশি সুন্দর। আবির রুমে না থাকলে মেঘ প্রায় প্রায় এসে ড্রেসিং টেবিলের সামনে সাজুগুজু করে, ছবি তুলে। আবিরের চুলের পানি ছিটকে গিয়ে মেঘের গায়ে পরে৷ মেঘ সেখানেই থমকে দাঁড়ায়। ঘাড় ঘুরিয়ে আবিরকে দেখলো। আয়নায় তাকিয়ে কিছু একটা ভাবছিল আবির হঠাৎ মেঘের উপস্থিতি বুঝতে পেরে কিছুটা নড়ে ওঠে৷ ঠান্ডা কন্ঠে শুধালো,

” কিছু বলবি?”

“আপনি কিছু বলবেন?”

“নাহ”

“কিচ্ছু বলার নেই?”

“নাহ”

“আজকে কি ডে বলুন তো”

“Monday মানে সোমবার কেন?”

‘এই ডে এর কথা বলিনি”

আবির আড়চোখে চেয়ে শুধালো,

” তাহলে কোন ডে?”

মেঘ সূক্ষ্ম নেত্রে তাকালো। তপ্ত স্বরে বলল,

“আপনার টেবিলের উপর রাখা চিরকুট গুলো দেখেন নি?”

আবির ঠাট্টার স্বরে বলল,

“চিরকুট তুই রাখছিলি নাকি?”

মেঘ লাজুক হেসে চিবুক নামিয়ে বলল,

“জ্বি।”

আবির টেবিল থেকে ফোন নিয়ে কিছু চেক করতে করতে বলল,

“কি ছিল চিরকুটে?”

মেঘ অসহায়ের মতো চেয়ে শীতল কন্ঠে প্রশ্ন করল,

“আপনি চিরকুট গুলো দেখেন নি?”

“কি জানি৷ খেয়াল করি নি। ”

মেঘের তৎক্ষনাৎ মিনহাজের অভিশাপের কথা মনে পড়ে গেছে। সেই সঙ্গে আবিরের কথাটা আগুনে ঘি ঢালার মতো কাজ করেছে। মেঘের মেজাজ খারাপ হলো।রাগান্বিত কন্ঠে বলল,

“আমার চিরকুট গুলো আমায় দিন। আপনার সাথে আর কোনো কথা নেই। ”

আবির শশব্যস্ত হয়ে ফোন থেকে চোখ সরিয়ে মেঘের দিকে তাকালো। মৃদু হেসে জানাল,

” তোর চিরকুট কোথায় উড়ে গেছে কে জানে!”

রাগে মেঘের চোখ জ্বলছে। মিনহাজের দেয়া অভিশাপ টা বারবার মনে পড়ছে আর তেলে বেগুনে জ্বলে উঠছে। রাগের মাথায় হুট করে বলে উঠল,

“আপনি আমার জীবনে কেন আসছেন?”

প্রতিত্তোরে আবির বলল,

“আমি তোর জীবনে আসি নি বরং তুই আমার জীবনে আসছিস।”

মেঘ কপাল কুঁচকে প্রশ্ন করে,

“কিভাবে?”

আবির মেঘের দিকে স্থির দৃষ্টিতে তাকায়। খানিক চুপ থেকে ঠান্ডা কন্ঠে শুধায়,

“তোর জন্ম আগে হয়ছে নাকি আমার?”

“আপনার”

“তো কে কার জীবনে আসছে?”

মেঘ চিবুক নামিয়ে বিড়বিড় করে বলল,

“জানি না’

আবির প্রখর তপ্ত স্বরে প্রশ্ন করে,

“রুমে কেন আসছিলি?”

মেঘের পুনরায় মিনহাজের অভিশাপের কথা মনে পরে যায়৷ মেঘ রাগ অভিমান সাইডে রেখে কোমল কন্ঠে বলল,

” আজকে প্রমিস ডে তাই উইশ করতে আসছিলাম”

“এসব ডে টে আমি পালন করি না৷”

“কেন?”

“আমার মতে গোলাপ দেয়া, চকলেট দেয়া, টেডি দেয়ার জন্য স্পেশাল কোনো দিনের প্রয়োজন নেই৷ ইচ্ছে থাকলে প্রতিদিনই এসব ডে পালন করা সম্ভব।”

“তাই বলে সামান্য উইশ টাও করতে পারবেন না?”

” আমার উইশ করলে তা চিরকুট পর্যন্ত সীমাবদ্ধ রাখতে পারব না। কাজে কর্মে দেখিয়ে দিব।”

আবিরেট কথা মেঘ বুঝার চেষ্টায় করছে না। বরং মিনহাজের কথা মনে করে বার বার বলছে,

“আজকে অন্তত উইশ করুন। আর বলব না, প্লিজ”

” আজ করলে, কাল কি সমস্যা? এসব বাদ দিয়ে অন্য কিছু বলার থাকলে বল”

মেঘ মন খারাপ করে রুম থেকে বেড়িয়ে যেতে যেতে বলল,

“মিনহাজ, তোর অভিশাপ ফলে গেছে”

আবির গম্ভীর কন্ঠে ডাকল,

“শুন”

মেঘ থমকে দাঁড়ালো । আবির ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে রইলো। হঠাৎ শীতল কন্ঠে বলল,

“কি প্রমিস চাস?”

মেঘ সহসা চোখ গোলগোল করে তাকালো। আবির পুনরায় বলল,

“কি হলো বল?”

মেঘ ভেবেচিন্তে শান্ত কন্ঠে বলল,

” আপনি প্রমিস করুন, আমাকে আর কখনো ধমক দিয়ে কথা বলবেন না”

মেঘের খুব ইচ্ছে ছিল আবিরকে বলতে, যেন কখনো ছেড়ে না যায়। কিন্তু থা*প্পড়ের ভয়ে বলতে পারে নি।

আবির ভারী কন্ঠে বলল,

” তুই ভুল করলেও শাসন করতে পারবো না?”

“পারবেন। তবে হুটহাট ধমক দিয়ে কথা বলবেন না, প্লিজ। আমার ভয় লাগে ”

আবির ঠোঁট বেঁকিয়ে হাসলো। ঠোঁটে হাসি রেখেই বলল,

” আমি প্রমিস করছি, আজকের পর অকারণে তোকে কখনো ধমক দিব না। হয়েছে?”

“হুমমমমমমমমমম. Thank you ”

মেঘের মায়াবী কন্ঠে হুমমমমমম শুনে আবির আশ্চর্য নয়নে চেয়ে আছে। মেঘের চোখে মুখে উজ্জ্বলতা ফুটে উঠছে। আবির ভাই প্রমিস ডে তে মেঘকে প্রমিস করেছে ভাবতেই হৃদয়ে তোলপাড় শুরু হয়ে যাচ্ছে। মিনহাজের অভিশাপ বিফলে গেছে ভেবেই মুখে হাসি ফুটে উঠেছে। খুশিতে গদগদ হয়ে রুম থেকে বেড়িয়ে গেছে।১২ তারিখ কিস ডে ছিল। আবিরের জ্বর থাকাকালীন গালে কিস করার ঘটনা মনে পড়তেই মেঘ লজ্জায় দু হাতে মুখ লুকালো। সেই লজ্জায় চিরকুট ও লিখে নি। আবির বাসায় ফেরার পর থেকে আবিরের সামনেও পড়ে নি। প্রমিস ডে পর্যন্ত ঠিক ছিল কিন্তু কিস ডে, হাগ ডে এগুলো পালন করা মেঘের পক্ষে অসম্ভব বিষয় । তাই মুখ লুকিয়ে চলছে।

আজ ১৩ ফেব্রুয়ারি। ফাল্গুনের প্রথম দিন। অন্যান্য দিনের মতো আজও আবির, তানভির যে যার কাজে বেড়িয়েছে। মীম আর আদিও স্কুলে গেছে। দুপুরের দিকে মেঘ,মীম, আদি তিনজনই বাসায় ফিরেছে। তার ঘন্টাখানেক পরই আবির বাসায় আসছে৷ আবিরের হাতে দুটা শপিং ব্যাগ। অসময়ে আবিরকে বাসায় ফিরতে দেখে মালিহা খান প্রশ্ন করলেন,

“কিরে তুই এ সময় বাসায় যে ?”

“আজ পহেলা ফাল্গুন। ভাবলাম মীম, আদি আর মেঘকে নিয়ে বের হবো। তানভিরও আসছে। ”

“আজ যেমন ভাই-বোনদের কথা মনে করছিস। এমনভাবে কাজের ফাঁকে মাঝে মাঝে ওদের সময় দিতে পারিস না? তোর আব্বু প্রায়ই বলে, তানভির ছাড়া তুই কারো সাথে ঠিকমতো কথা বলিস না।এটা তোর আব্বুর ভালো লাগে না। ”

“আচ্ছা, চেষ্টা করব।”

আবির দুটা শপিং ব্যাগ হাতে নিয়ে মেঘের রুমের সামনে আসলো। হালকা কাশি দিয়ে দরজা ধাক্কা দিতেই মেঘ থতমত খেয়ে ওঠে৷ একটু আগেই ফেসবুকে হাগ ডে র ভিডিও দেখছিল, তা দেখেই আবির ভাইকে নিয়ে অলীক কল্পনায় পাড়ি জমিয়েছিল৷ অকস্মাৎ আবির রুমে ঢুকায় মেঘ আঁতকে উঠে । ওড়না ঠিক করতে করতে তাড়াতাড়ি ওঠে বসে। আবির একটা শপিং ব্যাগ মেঘের দিকে এগিয়ে দিয়ে বলল,

“এটাতে তোর জন্য শাড়ি আছে। কাকিয়াকে বলিস শাড়িটা পড়িয়ে দিবে।”

দ্বিতীয় শপিং টা বিছানার উপর রেখে বলল,

“এটাতে মীমের জন্য শাড়ি আর একটা ড্রেস আছে। ওর যেটা ভালো লাগে সেটায় পড়তে বলিস। ”

মেঘ ঠোঁট উল্টে বলল,

“আমার ড্রেস কোথায়?”

“তুই শাড়িই পড়বি তাই ড্রেস আনি নি। একটু তাড়াতাড়ি রেডি হওয়ার চেষ্টা করিস৷ ”

আবির দরজা পর্যন্ত গিয়ে আবারও থামলো। ঘাড় ঘুরিয়ে শীতল চোখে তাকিয়ে কোমল কন্ঠে বলল,

“আজ হিজাব পড়তে হবে না।”

আপনার মতামত শেয়ার করুন!

গল্পটি কেমন লাগলো? আপনার চিন্তা, অনুভূতি বা প্রশ্ন নিচে জানান। লেখক আপনার মতামতের অপেক্ষায় আছেন!