আগামীর আগমন

লেখক: নাঈমা হোসেন রোদসী 1 মিনিট পড়া 8 শব্দ
সিজন ১ • পর্ব ২৬ আগামীর আগমন অঙ্গারের নেশা

আজ আনন্দরা দলবদ্ধ হয়ে যেনো ধরা দিয়েছে। কী সুন্দর অনুভূতি! পৃথিবীর সবচেয়ে সুখকর ঘটনা বুঝি এটিই?

নাহলে সুফিয়ানের চোখের কোণে জল জমবে কেনো?

ক্লান্ত পরিশ্রান্ত দেহের ভিতর ভর করলো সজীবতা।

ক্লান্ত হয়ে ফিরে যে এত বড় সুসংবাদ পাবে ভাবতেই পারেনি সে৷ হাতে এখনো চিরকুট মুঠো করে দাঁড়িয়ে আছে। ঠোঁট কাঁপছে, চোখের জল গড়িয়ে পড়বে খানিক বাদে। সুফিয়ান কাঁপন ধরানো পায়ে এগিয়ে গেলো বারান্দায়। প্রানেশার গায়ে কমলা রঙের সুতি শাড়ি। রেলিংএ হেলান দিয়ে বাহিরে তাকিয়ে কী যেনো দেখছে। সুফিয়ান নিঃশব্দে প্রানেশাকে পেছনে থেকে জড়িয়ে ধরলো। প্রানেশা তেমন কোনো প্রতিক্রিয়া দেখালো না। সুফিয়ান কাঁধে থুঁতনি রেখে কাঁপা গলায় জিজ্ঞেস করলো –

✦ AI বাছাই এই গল্পের মতো আরেকটি গল্প
#পারিবারিক #রোমান্টিক
তোমাকে
লেখক: মুন্নি আক্তার প্রিয়া

চোখের সামনে এমন তীব্র ক্ষোভ আর অন্ধ অধিকার খাটানোর দৃশ্য যেমন নাড়িয়ে দেয়, তেমনই এক সম্পর্কের গল্প মুন্নি আক্তার প্রিয়া-এর 'তোমাকে'।

পড়া শুরু করুন → 1টি সিজন • 40 মোট পর্ব

‘এটা কী সত্যি? ‘

প্রানেশা নির্লিপ্ত ভাবে বললো –

‘হু’

সুফিয়ান প্রানেশাকে নিজের দিকে ফেরালো। প্রানেশার উদাস হয়ে থাকা মুখটার দিকে তাকিয়ে বললো-

‘কিছু নিয়ে মন খারাপ প্রাণ? ‘

প্রানেশা হুট করে রেগে উঠলো। চাপা ক্ষোভ প্রকাশ করে বললো –

✦ AI বাছাই এই গল্পের মতো আরেকটি গল্প
#পারিবারিক #ড্রামা
ত্রিধারে তরঙ্গলীলা
লেখক: জান্নাতুল নাঈমা

চরিত্রগুলোর মধ্যকার এই না-বলা টানাপোড়েন আর জটিল অনুভূতির সাথে মিলিয়ে পড়তে পারেন জান্নাতুল নাঈমা-এর 'ত্রিধারে তরঙ্গলীলা'।

পড়া শুরু করুন → 1টি সিজন • 91 মোট পর্ব

‘ডাক্তার হতে কে বলেছিলো আপনাকে?’

সুফিয়ান বিস্মিত ভঙ্গিতে বললো-

‘এ্যা!’

‘এ্যা কী? কয়টায় আসার কথা ছিলো আজ? ‘

সুফিয়ান এবার অভিমানের কারণ বুঝলো। শুক্রবার থাকা সত্বেও হসপিটালের কাজে ব্যস্ত ছিলো আজ। প্রানেশা সকালে বলেছিলো একটু তাড়াতাড়ি আসতে। সুফিয়ান বলেছিলো ‘চেষ্টা করবো’। কারণ দ্রুত আসবো, এটা ডাক্তারী পেশায় যুক্ত হওয়ার পর আর বলা যায় না। দ্রুত আসার চেষ্টা করলেও পারেনি সুফিয়ান, কারণ প্যাশেন্ট বেশি ছিলো। সুফিয়ান অসহায় মুখ করে বললো –

‘সরি প্রাণ ‘

✦ AI বাছাই এই গল্পের মতো আরেকটি গল্প
#ডার্ক রোম্যান্স #ড্রামা
ইট পাটকেল
লেখক: সানজিদা বিনতে সফি

চরিত্রগুলোর মধ্যকার এই না-বলা টানাপোড়েন আর জটিল অনুভূতির সাথে মিলিয়ে পড়তে পারেন সানজিদা বিনতে সফি-এর 'ইট পাটকেল'।

পড়া শুরু করুন → 1টি সিজন • 47 মোট পর্ব

প্রানেশার অভিমানের কারণ আছে বটে। সে যে সন্ধ্যা থেকে সুফিয়ানের অপেক্ষা করছিলো৷ শাড়ি পড়ে এই গরমে অতিষ্ঠ হয়ে উঠছিলো। সুফিয়ানের উপর খুব অভিমান হলো তার। এই স্পেশাল একটা দিনেও কী কেউ দেরি করে!

প্রানেশার বিস্তর ভাবনার থেকে বিচ্ছেদ ঘটিয়ে সুফিয়ান প্রানেশাকে কোলে তুলে নিলো৷ প্রানেশা হকচকিয়ে হয়ে তাকিয়ে দেখলো সুফিয়ানের মুখের উজ্জ্বল প্রাণবন্ত হাসি। প্রানেশাকে কোলে তুলে চারপাক ঘুরলো সুফিয়ান। বিছানায় বসে সুফিয়ান প্রানেশাকে নরম হাতে জড়িয়ে ধরলো। প্রানেশা অবাক হয়ে হেসে নিজেও বাহুতে জড়িয়ে নিলো৷ সুফিয়ানের শরীর কম্পমান। মৃদু মৃদু কেঁপে উঠছে৷ প্রানেশা বললো-

‘আপনি কী কাঁদছেন? ‘

সুফিয়ান ধাতস্থ হয়ে প্রানেশার কোলে মাথা রাখলো৷ উদরের আঁচল সরিয়ে মুখ গুঁজে রাখলো। প্রানেশা আলতো হাতে সুফিয়ানের মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে থাকলো৷ সুফিয়ান মাথা হালকা উঁচু করে বললো –

‘আমার এখনও বিশ্বাস হচ্ছে না প্রাণ! ‘

পরক্ষণেই প্রানেশার হাত নিজের হৃদপিণ্ডের জায়গাটায় রেখে বললো –

‘আজকে তুমি যা চাও তাই পাবে, বলো প্রাণ কী দিতে পারি আমি ‘

প্রানেশা খানিক নড়েচড়ে বসলো। যেনো খুব বড় কিছু চাইবে সে। সুফিয়ানের দিকে তাকিয়ে বললো-

‘সত্যি? যা চাইবো তাই দেবেন!’

‘একদমই তাই’

প্রানেশা সুফিয়ানের হাতটা মুঠোয় নিয়ে বললো-

‘তবে, এই পারিবারিক দ্বন্দ্ব মিটিয়ে নিন ‘

সুফিয়ানকে শান্ত দেখে আরেকটু সাহস জমিয়ে বললো-

‘ আপনি নিশ্চয়ই চাইবেন না, আপনার সন্তানও আপনার আর রেয়ানের মতোন একা একা বড় হোক। আপনার মা বাবা দুজনেই বেঁচে ছিলেন কিন্তু দ্বন্দ্ব, ধোঁকা এইসব কিছু সবার জীবনে অনেক বড় প্রভাব ফেলেছে। আপনি ঠিক থাকতে পারলেও, রেয়ান পারেনি। ইভানানের প্রতিশোধের স্পৃহায় রেয়ানের একাকিত্বকেই ব্যবহার করেছে হাতিয়ার হিসেবে। ‘

কিছুটা থেমে বললো-

‘নিজেকেও তো কম কষ্ট দিচ্ছেন না! বাবার চোখেও আমি অনুতপ্ততা দেখেছি। আগে সে হয়তো একটা ভুল করেছে, টাকার লোভে আপনাদের ঠকিয়েছে। কিন্তু কম শাস্তি তো পায়নি৷ ওই সংসারে সন্তান ছিলো না, আপনাদের কাছে আসতে চেয়েও পারেনি। সেও কিন্তু তার ভাগের শাস্তি পেয়েই গেছেন। এখন যেহেতু সে অনুতপ্ত, আপনার উচিত এক কদম বাড়ানো। বাকিটা তার উপর ছেড়ে দিন ‘

সুফিয়ান মনোযোগ দিয়ে সম্পূর্ণ কথা শুনে বললো-

‘আমি চেষ্টা করবো, প্রাণ’

বলেই ওয়াশরুমে ঢুকে পড়লো সে। প্রানেশাও লম্বা শ্বাস ফেলে উঠে দাঁড়িয়ে গেলো। এবার কিছুটা হলেও চিন্তামুক্ত। সুফিয়ান যেহেতু বলেছে চেষ্টা করবে তাহলে কিছুটা হলেও করবে৷ ওয়াশরুমে চলে যাওয়ার কারণও প্রানেশা জানে। জীবনের কিছু মুহূর্তে সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র আমাদের নিতে হয়। তখন একাকী থাকাটা খুব প্রয়োজন।

গ্রীষ্মের টগবগে গরমকাল৷ আম,কাঁঠালের পদার্পণ ঘটেছে এরইমধ্যে। ডাইনিং টেবিলে রাতের খাবার সাজাচ্ছিলেন মিসেস অদিতি। রাহাত সাহেব চেয়ার টেনে বসলেন। পায়েশ নানা রকম পিঠে দিয়ে ভরপুর টেবিল ৷ গ্রীষ্মের গরমে পিঠের আয়োজন অনেকটাই বেমানান। কিন্তু, প্রানেশার নাকি এসবই খাওয়ার স্বাদ জেগেছে। প্রেগ্ন্যাসিতে মেয়েরা টক ঝাল নাকি বেশি খায়। কিন্তু প্রানেশার শুরু থেকেই মিষ্টির প্রতি দারুণ আকর্ষণ। নিজের মা যখন আচার, টক ঝাল খাবার পাঠাতে চেয়েছিলো তখনও সে মিষ্টি পাঠাতে বলেছে। কয়েক দিন বাপের বাড়ি থেকেও এলো সে৷ সুফিয়ানও বউয়ের পিছনে পিছনে সেখানে থেকেছে। কী আর করবে, একরাত নিজের বাড়িতে কাটিয়ে নিজের বেহাল দশা করে ফেলেছিলো সে৷ প্রানেশার থেকে দূরে থাকা তার পক্ষে অন্তত সম্ভব বলে মনে হয়না।

প্রানেশার আট মাস চলছে৷ আগের পাতলা ফড়িংয়ের মতো শরীরটা হালকা মুটিয়েছে৷ পেট অনেকটাই উঁচু হয়েছে। সুফিয়ানের কড়া নিরাপত্তা, মিসেস অদিতির আদর, রাহাত সাহেবের স্নেহে ভালোই দিন কাটছে প্রানেশার।

সুফিয়ান তখন হসপিটালের একটা অপারেশনে ব্যস্ত ছিলো৷ প্রানেশা সবেমাত্র ঘুম থেকে উঠে হাতমুখ ধুয়ে মুখ মুচ্ছিলো৷ মোবাইলের টুংটাং আওয়াজে মুচকি হেসে উঠলো প্রানেশা। সুফিয়ান দশ মিনিট পরপরই কল করতে থাকে। হয়তো এখন মেসেজ পাঠিয়েছে ভেবেই মোবাইলটা হাতে নিলো। মেসেজ অপশন অন করতেই মাথা ঘুরে গেলো। প্রানেশার চোখ বেয়ে নোনা জল গড়িয়ে টুপ করে পড়লো পায়ের আঙুলে। সুফিয়ানের সঙ্গে চার পাঁচটা মেয়ের বিছানায় ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ছবি। প্রানেশার দুর্বল শরীর আর নিতে না পেরে ওখানেই জ্ঞান হারিয়ে পরে রইলো৷ দূর্ঘটনার হাত থেকে আর রেহাই পাওয়া গেলো না অবশেষে। প্রানেশার মাথাটা ড্রেসিং টেবিলের উপর বাড়ি খেয়ে রক্তের ফোঁটায় রঞ্জিত হয়ে গেলো ফ্লোর।

অধ্যায় 26 সমাপ্ত

আপনি এই অধ্যায়টি পড়া শেষ করেছেন। পরবর্তী পর্বে যান অথবা আপনার প্রতিক্রিয়া জানান!

✦ এই উত্তেজনার পর সামনে কী ঘটতে চলেছে? পরের পর্বটি এখনই পড়ে ফেলুন!

✦ ✦ AI বাছাই: গল্পের এই রোমাঞ্চকর মুহূর্তটি বন্ধুদের সাথেও এক ক্লিকে শেয়ার করতে পারেন।
💬

✦ গল্পের অনুভূতি ও আপনার মতামত

গল্পের এই মোড়ে চরিত্রটির নেওয়া সিদ্ধান্তের ব্যাপারে আপনার কী মনে হয়? নিচে আপনার ভাবনা শেয়ার করতে পারেন।

এক ট্যাপে মতামত:

মন্তব্যসমূহ

0

আলোচনায় যোগ দিন

মতামত জানাতে এবং পাঠকদের সাথে আলোচনায় অংশ নিতে লগইন করুন।

এখনও কোনো মন্তব্য নেই।

প্রথম মন্তব্যটি করে আলোচনা শুরু করুন!

পরবর্তী পাঠের সুপারিশ

পরবর্তী পাঠ

এই পর্ব শেষ করার পর পড়তে পারেন এমন কিছু রোমাঞ্চকর গল্প।

★ ওয়েব ধারাবাহিক • ধারাবাহিক লাভার নাকি ভিলেন গল্পহাব মৌলিক
সম্পূর্ণ সিরিজ

লাভার নাকি ভিলেন

আকাশের ভালোবাসা আর হিংস্রতার মাঝে মেঘলার জীবন বাঁধা। সবার সামনে অপমান আর আড়ালে আগলে রাখার এই অদ্ভুত খেলায় মেঘলা বিভ্রান্ত। পরিবারের ষড়যন্ত্র আর একের পর এক ভুল বোঝাবুঝি তাদের সম্পর্ককে আরও জটিল করে তোলে। আকাশের এই দ্বৈত আচরণের পেছনে কি শুধুই ভালোবাসা, নাকি অন্য কোনো গভীর রহস্য?

স্নিগ্ধা হোসাইন মোনা 0টি সিজন
★ ওয়েব ধারাবাহিক • ধারাবাহিক তোমাকে গল্পহাব মৌলিক
সম্পূর্ণ সিরিজ

তোমাকে

একটা ছেঁড়া ফুল নিয়ে শুরু হওয়া বিবাদ পরী আর তুর্যর জীবনকে এমনভাবে জড়িয়ে ফেলবে, যা ছিল কল্পনারও বাইরে। একের পর এক ভুল বোঝাবুঝি আর পারিবারিক ষড়যন্ত্রের মাঝে তাদের সাপে-নেউলে সম্পর্ক কি কখনো ভালোবাসার ছোঁয়া পাবে, নাকি সবকিছুর আড়ালে লুকিয়ে আছে অন্য কোনো গল্প?

মুন্নি আক্তার প্রিয়া 0টি সিজন
★ ওয়েব ধারাবাহিক • ধারাবাহিক ত্রিধারে তরঙ্গলীলা গল্পহাব মৌলিক
সম্পূর্ণ সিরিজ

ত্রিধারে তরঙ্গলীলা

অভিভাবকদের অতীত ভুলের জেরে হওয়া একটি বিয়ে তিক্ত বিচ্ছেদে শেষ হয়। বহু বছর পর, অনুশোচনা আর নতুন করে জন্মানো ভালোবাসায় জর্জরিত সুহাস তার হারানো স্ত্রী আর অদেখা সন্তানের খোঁজে পাড়ি দেয় সুইজারল্যান্ডের জেনেভায়। কিন্তু সেখানে গিয়ে এক অচেনা শিশুর মুখে 'পাপা' ডাক শুনে তার পৃথিবী ওলটপালট হয়ে যায়। এই ডাক কি শুধুই কাকতালীয়, নাকি তার পাওয়া না পাওয়ার সমস্ত হিসেব বদলে দেবে?

জান্নাতুল নাঈমা 0টি সিজন
★ ওয়েব ধারাবাহিক • ধারাবাহিক প্রেমালিঙ্গণ গল্পহাব মৌলিক
সম্পূর্ণ সিরিজ

প্রেমালিঙ্গণ

তন্দ্রার কাছে তার ভাইয়া স্বাক্ষর একজন যত্নশীল অভিভাবক, কিন্তু শাসনের বেড়াজালে বাঁধা। তবে স্বাক্ষরের তীব্র অধিকারবোধ, গোপন উপহার আর গভীর রাতের মায়াবী মুহূর্তগুলো দুজনের সম্পর্ককে এক নতুন পথের দিকে ঠেলে দেয়। যখন পরিবারের ঠিক করা অন্য ছেলের সাথে তন্দ্রার বিয়ের কথা ওঠে, তখন সে কি পারবে স্বাক্ষরের নীরব ভালোবাসার ভাষা পড়তে? নাকি এই অব্যক্ত প্রেম পরিণতির আগেই হারিয়ে যাবে?

ঊর্মি আক্তার ঊষা (তরঙ্গিণী) 0টি সিজন