নন্দিনী নীলা
নন্দিনী নীলা

প্রকাশিত: রবিবার, ৯ নভেম্বর ২০২৫

বৃষ্টি হয়ে নামবো | শার্ট ধোয়ার শাস্তি

সমাপ্ত

বৃষ্টি হয়ে নামবো | সিজন ১ | পর্ব - ১১

৫ ভিউ
০ মন্তব্য
১ মিনিট

হাতে আদনান ভাইয়ের শার্ট নিয়ে দাঁড়িয়ে আছি।ভাইয়া রুমে থেকে চলে গেছে।আর নিজের দুইটা শার্ট দিয়ে গেছে ধুয়ার জন্য। এটা আমার শাস্তি আমি কটমট করে তখন থেকেই এইভাবে দাঁড়িয়ে আছি। জীবনে আমি জামাকাপড় ধুইনি আর আজকে আমার চির-শত্রুর জামা ধুতে হবে।

না ধুলে ও তো আমার কপালে শনি আছে।

ভাইয়া বলে গেছে যদি কথা না শুনি তাহলে আজকের করা বোকামির কথা আব্বু আম্মু কে বলে দেবে। আর আব্বু জানে তার মেয়ে কলেজে গিয়ে ক্লাস ফাঁকি দিয়ে প্রেমের সপ্ন বুনেছিল তাহলে আর রক্ষে নাই‌।

আমি রাগে ফুসফুস করতে করতে বাথটাবে গেলাম।

একঘন্টা ভড়ে কি করে কি যে ধুইলাম ঠিক নাই‌। শার্ট আর কি ধুইলাম নিজেই ভিজে একাকার।

বারান্দায় গিয়ে শার্ট মেলে রুমে এসে চিৎ হয়ে পরে যেতে নিলাম আমি ভয়ে চিৎকার করে উঠলাম। পরার কারন ও আছে তা হলো ভেজা শরীরে বাথরুমে থেকে এসেছি শরীর থেকে পানি পরেছে রুমে সেই পানিতে পিছিল খেয়েছি পরলে আমার কোমর যাবে।

আল্লাহর রহমতে পরা থেকে বাঁচলাম কোথা থেকে আদনান ভাই আসলো আর আমাকে পরা হাত থেকে বাচালো।

ভয়ে আমি চোখ বন্ধ করে আছি‌। ভাই আমার দিকে হা করে তাকিয়ে আছে। তার মুখে রাগ স্পস্ট।

ভাইয়া আমাকে ধরে রেখেই গম্ভীর গলায় বলল,,,

“ইডিয়েট একটা। কি করেছিস নিজের দুইটা শার্ট ধুতে কেউ গোসল করে ফেলে।”

ভাইয়ার ককর্শ গলায় বলা কথা শুনে পিটপিট করে তাকায় আমি।

আমি তাকাতেই ভাইয়া আমাকে ছেড়ে দেয় আর নিজের শার্ট ঝাকাতে ঝাকাতে বলে,,”ওফ দিলি তো আমাকে ভিজিয়ে।”

আমি রাগ নিয়ে বললাম,,”একদম আমাকে ধমকাবে না তোমার জন্য আমি এই সন্ধায় ভিজে গেলাম। উফ শীত করছে এমন কাজ কেউ দেয় হাত ব্যাথা হয়ে গেছে।”

হাত দেখতে দেখতে বললাম।

ভাইয়া আমার কথা শুনে তীক্ষ্ণ চোখে আমার হাতের দিকে তাকালো। আমার হাত সত্যি ব্যাথা করছে সাথে লাল হয়ে আছে। ভাইয়া শক্ত মুখ করে তাকিয়ে বলল,,

“এতো বড় হয়েছিস সামান্য জামা কাপড় ধুতে গিয়ে এই অবস্থা করিস নিজের। তোর মতো অর্কমা আমি একটাও দেখি নাই।”

আমি কঠিন মুখ করে তাকিয়ে বললাম,,” একদম আমাকে অর্কমা বলবে না।”

ভাইয়া আমার কথা শুনলো কিন্তু কিছুই বললো না নিজের ড্রয়ার খুলে একটা মলম আনলো হাতে দিতে তখন কোথা থেকে মামনি আমাকে ডাকতে ডাকতে আর এসে এমন ভেজা দেখে হতদম্ব হয়ে গেল।

অবাক হয়ে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলো,,

“একি দোলা তুই ভেজা কেন?”

আমি কাঁদো কাঁদো মুখ করে তাকিয়ে বললাম,,,

“তোমার এই গরিলা ছেলে আমার কি অবস্থা করেছে দেখো।”

আমি অভিযোগ সুরে বললাম।

আমার কথা শুনে মামনি রেগে তাকালো ভাইয়ার দিকে। ভাইয়া আমার দিকে তাকিয়ে বলল,,

“বলবো তোর কৃতি কাহিনী।”

ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে বললাম।ভাইয়ার কথা শুনে একটা ঢোক গিলে মামনির দিকে তাকালাম।

“মামনি চল তো।”

বলেই মামনির হাত ধরে টেনে বেরিয়ে আসতে নিলাম।

“কিরে টানছিস কেন? আর আদনান কি বলবে বলল?”

বলেই সন্দেহ চোখে তাকালো আদনান ভাইয়ের দিকে।আমি জোর করে ধরে বললাম।

“ক‌ই কিছু না এমনি খালি আমাকে বকা খাওয়াতৈ চাওয়ার ধান্ধা বুঝো না।”

“সত্যি তো।”

“তুমি আমাকে বিশ্বাস করো না মামনি।”

“আরে করি তো খুব করি।”

“তাহলে চলো।”

“আরে চলে যাব কেন আদনান তোর এই অবস্থা করলো কেন? কি করেছে তোর সাথে বল। ভিজলি কি করে?”

“আমি ওই….

কি বলবো বুঝতে পারছি না। আদনান ভাই সোফায় পায়ের উপর পা তোলে মজা নিচ্ছে।

মামনি বললো,,

“কি করে বল? আদনান তোকে আবার কাজ করিয়েছে? কি করেছে বল আজকে ওর একদিন তো আমার একদিন।”

কি মছিবতে পরলাম রে বাবা। এখন ভাইয়ার কাছে আমাকে ফাঁসানোর প্রমান না থাকলে আমার থেকে খুশি আর কে হতো। মামনি ভাইয়া কে আচ্ছা মতো বকে দিত আর শাস্তি ও। আমি পৈশাচিক আনন্দ পেতাম তা দেখে কিন্তু তা হচ্ছে না। হবে ও না এখন বলে দিলে আমার কথাও বলে দেবে আর আমি ফেসে যাব।

“নানানা মামনি ভাইয়াকে কিছু বলো না।”

মামনি আমার কথা শুনে হা করে তাকিয়ে আছে।

আমি ঢোক গিলে তাকিয়ে আছি। ভাইয়া শয়তানি হাসি মুখে নিয়ে তাকিয়ে আছে।

আমি মামনি কে টেনে রুমে থেকে নিয়ে এলাম।

বাইরে এসেই দেখা হলো তিথির সাথে ডয়িং রুমে বসে আছে। মুখটা ছোট করে।

আমি যেতেই মাথা উঁচু করে তাকালো আমার দিকে। চোখে রাগ নিয়ে তাকিয়ে আছে আমি ভ্রু কুঁচকে তাকালো।

আমি ভেংচি কেটে চলে এলাম।

বাসায় আসতেই হাজার কথা আমি ভেজা কেন? কারো কথার উত্তর না দিয়ে রুমে এসে রাগে গজগজ করতে লাগলাম। ড্রেস চেঞ্জ করে এসে রাহেলা (আমাদের কাজের লোক তার বাসা আমার আম্মু দের বাসায় পাশে ছিলো গরিব। তাই আম্মু তাকে আমাদের বাসায় এনেছে তাকে আমি নানু বলি) নানুকে আমি চা দিতে বললাম।

তারপর চা নিয়ে বেলকনিতে বসলাম। এখন হালকা শীত পরছে শীত এসে পরলো। আজকে এইসময় গোসল করার জন্য শীত ভালোই লাগছে।

এদিকে আদনান ভাই নিজের রুমে বসে ল্যাপটপে কাজ করছিল তখন হঠাৎ আমার বারান্দায় চোখ আসে আর আমাকে খেয়াল করে।

আদনান দোলাকে দেখে স্তব্ধ হয়ে যায়। দোলাকে খুব আবেদন ময়ী লাগছে ভেজা চুল পেছনে খোলা ।দোলা বারান্দায় লাইট দেয় নি অন্ধকারের মাঝে ও বাসায় বাসায় থেকে হালকা আলো এসে ওর মুখে লাগে এ যাতে ওকে অপ্সরার লাগছে।

নীল চাদর গায়ে জড়িয়ে ধরে কাপে চুমুক দিচ্ছে আর আশেপাশে তাকাচ্ছে।

দূরে থেকে নেশাতুর দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে আদনান।

এই মুখটা দেখলে সমস্ত চিন্তাভাবনা ওলটপালট হয়ে যায়।ওর কি আছে এই মেয়েটার মাঝে ওকে এতো কেন ঘায়েল করে।

কিছুক্ষণ আগে আদনান গিয়ে কড়া গলায় শাসিয়ে এসেছে তিথিকে।তিথি খুব ভার বেরেছে।মেয়েটা এতোদিনেও একটু ও চেঞ্জ হয় নি।

ওর সাথে ফ্রেন্ডশীপে যাওয়ার পর থেকেই ও আদনান থেকে ডিস্টাব করে।

এই নিয়ে আদনান ওর সাথে কথা কাটাকাটি করে ফ্রেন্ডশীপ নষ্ট করে দিতে চেয়েছিল কিন্তু আবার তিথি কান্না আর ক্ষমার জন্য মেনে নিয়েছে।

আজ আবার এতো দিন পর এসেও আমাকে জ্বালাতন করছে।একে বাসায় আনাটাই ভুল হয়েছে।দোলা যা বলেছে সব ঠিক আমি জানি‌।

দোলাকে শাস্তি দিয়েছি জাস্ট ফাহাদের জন্য। আর তারপর তিথি কেউ শাসিয়েছি। কালকেই ওটাকে বিদায় করতে হবে।

আদনান দোলার দিকে তাকিয়ে ছিলো তখন তিথি রুমে আসে আর দেখে আদনান সা করে জানালার বাইরে তাকিয়ে আছে।

কৌতুহল নিয়ে তিথিও তাকায় আর দেখে দোলাকে।

আদনান এখন ও নিজের মুখে বলেনি ও দোলাকে ভালোবাসে তাই তিথি আদনান এর সামনে এসে বলে।

“আদনান তোর সাথে একটু কথা ছিলো।”

আদনান তিথির আওয়াজ পেয়ে চমকে উঠে।আর ভ্রু কুঁচকে তাকায় তিথির দিকে।

“কি কথা?”

“তুই কি দোলাকে ভালোবাসিস।”

আদনান ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে আছে তিথির দিকে।

“হঠাৎ এই প্রশ্ন?”

“বল না।”

“জেনে কি করবি?”

“একটা কথায় বলতাম। তুই আমাকে একবার না বার বার রিজেক্ট করেছিস। কিন্তু কেন এই দোলার জন্য কি ? ”

“হ্যা।”

হ্যা শুনে তিথি গজে উঠলো ভেতরে ভেতরে কিন্তু বাইরে প্রকাশ করলো না।

তীব্র রাগ নিয়ে একবার দোলার দিকে তাকালো।

তারপর আদনানের দিকে তাকিয়ে বলল,, ” ওর মধ্যে কি আছে তা আমার নেই। ওর থেকে সব দিক দিয়েই আমি ফাস্ট। তাহলে আমাকে রেখে ওকে কেন তুই বেছে নিলি।”

রেগে বলল।

আদনান স্বাভাবিক ভাবেই বলল,,” ভালোবাসা রুপ ,গুন, দিয়ে হয়না‌। ভালোবাসা আসে মন থেকে। আর আমি ছোট থেকে শুধু একজনকে ভালোবাসি সে হলো আমার দোলারানী। আমার নেশা। যেসব ফিলিংস দোলার জন্য আসে তা আর কোন মেয়েকে দেখে আসেনি। সৈ যত‌ই সুন্দর হোক না কেন এই মনে শুধু একজনের বসবাস। আর তুই এমন পাগলামী করে আমাকে ফ্রেন্ডশীপ নষ্ট করলি বেশি কিছু না।তোকে আমি ফ্রেন্ডের বাইরে কখনো কিছু ভাবিনাই‌।”

তিথি ছলছল চোখে তাকিয়ে আছে।ও মন প্রান দিয়ে আদনান কে ভালোবাসে।

ভার্সিটিতে থেকে প্রথম দেখেই আদনানের প্রতি দূর্বলতা প্রকাশ করেছে বারবার বুঝিয়েছে কিন্তু আদনান বুঝেনি।

আপনার মতামত শেয়ার করুন!

গল্পটি কেমন লাগলো? আপনার চিন্তা, অনুভূতি বা প্রশ্ন নিচে জানান। লেখক আপনার মতামতের অপেক্ষায় আছেন!