নন্দিনী নীলা
নন্দিনী নীলা

প্রকাশিত: রবিবার, ৯ নভেম্বর ২০২৫

বৃষ্টি হয়ে নামবো | ফুচকার যন্ত্রণা

সমাপ্ত

বৃষ্টি হয়ে নামবো | সিজন ১ | পর্ব - ১৬

৪ ভিউ
০ মন্তব্য
১ মিনিট

কলেজে থেকে বাসায় এসে নিজের রুমে থ মেরে বসে আদনান ভাইয়ের বারান্দায় তাকিয়ে আছি। আমার মাথায় একটা কথায় ঘুরপাক খাচ্ছে শুধু। ইলমাদের কথা গুলো আচ্ছা সত্যি কি আদনান ভাই আমাকে ভালোবাসে।

ভ্রু কুঁচকে গালে হাত দিয়ে হা করে তাকিয়ে আছি আদনান ভাইয়ের রুমের দিকে আর আকাশ পাতাল ভেবে যাচ্ছি।

ভাইয়া আমাকে ভালোবাসলে আমার সাথে খারাপ ব্যবহার করে কেন?

আর এতো ধমকায়‌ই বা কেন? ভালোবাসার কথা জানায় না কেন?

কিন্তু ওদের কথাও তো ঠিক ভাইয়া আমার কোন ছেলেদের সাথে মেলামেশা পছন্দ করে না। আমি তার কথা না শুনলে আমাকে সেটা নিয়ে বকে‌। আবার আমার কিছু হলেই ভাইয়া পাগলামো করে সেটা ভালোবাসা থেকে জানি আমি তো সেটা শুধু বোন হিসেবে ভেবেছি। কিন্তু শুধু কি বোনের হিসেবে নাকি আমাকে ভালোবাসে।

ইশ কি করে জানবো? কলেজ ড্রেস ও খুলি নাই ওইভাবেই বসে ছিলাম উঠে বারান্দায় এসে ভাইয়ার রুমে উঁকি দিতে লাগলাম। তখনই ভাইয়া রুমে থেকে বারান্দায় এলো আমি এইভাবে ভাইয়াকে আশা করেনি। সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে পরলাম।

ভাইয়া আমার দিকে ভ্রুকুটি করে তাকিয়ে বলল,,”তুই এইভাবে এখানে দাঁড়িয়ে আছিস কেন?”

আমি হাঁ করে তাকিয়ে আছি ভাইয়ার দিকে আর ভাবছি ভাইয়া আমাকে সত্যি ভালোবাসে কিনা।

“দোলা,,,

ভাইয়া ডাকে চমকিত হয়ে ধ্যান ভাঙলাম।

“কি হয়েছে?”

“তুই কলেজ ড্রেস পরে এখানে দাঁড়িয়ে কি করছিস?”

ভাইয়ার কথা শুনে নিজের দিকে তাকিয়ে আবার ভাইয়ার দিকে দিকে তাকালাম।

“কি হলো তুই ইদানিং আমার প্রশ্নের উত্তর দিতে এতো কেন লেট করিস? যেন সব সময় কি উত্তর দিবি বানাতে থাকিস?”

বানাতে থাকি কথাটা ভাইয়ার মুখে শুনে আমি স্তম্ভিত হয়ে গেলাম। ভাইয়া জানালো কি করে আমি কথা বানায়।

আমি না নেড়ে না বললাম।

“ক‌ই না তো আমি বানাব কেন?”

“তাহলে কথা না বলে কি ভাবছিস?”

আমি কিছু ভাবছি না তো।”

ভাইয়া সন্দেহ চোখে তাকিয়ে আছে আমার দিকে।

“ফ্রেশ না হয়ে এখানে এসে আমার রুমে উঁকি দিচ্ছিলি কেন?”

ভাইয়ার কথায় চমকে উঠলাম।

এদিক ওদিক তাকাতে লাগলাম। ভাইয়া‌ দেখলো কিভাবে আমি ভাইয়ার রুমে উঁকি দিচ্ছিলাম।

“আবার ভাবনায় চলে গেলি ইডিয়েট।”

আমি গাল ফুলিয়ে দাঁড়িয়ে আছি এখন। কিছু হলেই ভাইয়া আমাকে ইডিয়েট বলে।

“আবার গাল ফুলালি কেন?যা ফ্রেশ হ আর এক সেকেন্ড ও জানি এখানে এইভাবে দাঁড়িয়ে না থাকতে দেখি।এতোটা কেয়ার লেস কেউ কিভাবে হয়।”

আমি ভাইয়ার দিকে কটমট করে তাকিয়ে গটগট করে চলে এলাম রুমে।

তারপর ওয়াশরুমে গোসল করতে চলে এলাম।

আর ভাবতে লাগলাম ধুর এই গরিলা আমাকে একটু ও ভালোবাসে না আমি জানি। ভালোবাসা বলে এইভাবে বকতোই না।

গোসল শেষ করে একটা লম্বা ঘুম দিলাম। উঠে খেলাম।

পরদিন সকালে কলেজে এসেই জানতে পারলাম আজ আমার প্রান প্রিয় ইলমার জন্মদিন। তাই সবাই মিলে চলে এলাম মার্কেট এ আমার কাছে বেশি টাকা ছিল না আসলে আজ ইলমার জন্মদিন আগে থেকেই মনে থাকলে টাকা বেশি নিয়ে আসতাম। কিন্তু এখন তো আর সম্ভব না তাই মে কয়টাকা ছিল তাই দিয়ে ইলমার জন্য কানের দুল কিনলাম। ইলমা কানের দুল খুব পছন্দ করে। পাইজ লাগল,, দুইশ আশি টাকা। সবাই কম বেশি কিছু কিনলাম আরো পঞ্চাশ টাকা দিতে হলো সবাই মিলে কেক ও কিনে আনলাম।

আমার হাতে কেক দিয়ে সবাই হাঁটছে আমি বলছি আমি নিতে পারবো না যদি পরে যায় কিন্তু ওরা সেদিকে লক্ষ্য করছে না।আর বিপত্তি ঘটল তখন।

মার্কেট থেকে সবাই সব কিছু নিয়ে আগেই চলে গেল আমি একা কেক নিয়ে সাবধান এ আস্তে আস্তে আসছি কিন্তু একটা অসভ্য ছেলের জন্য আমার সাবধানে চলাটাও বৃথা হলো‌।

ছেলেটার সাথে ধাক্কা লেগে পুরো কেক উলটা হয়ে পরে ঢাকনা খুলে গেল আর সব ফ্লোরে ছরিয়ে কি বিচ্ছিরি অবস্থা মাই গড।

সেই কেক কিছুটা সামনের লোকটার শরীরে ছিটকে গেল। আমি বিস্মিত হয়ে তাকিয়ে আছি আমার কেকের দিকে। তারপর চোখ সরিয়ে ওই খাটাশ লোকটার দিকে রেগে তাকালাম কিন্তু রাগ র‌ইলো না রাগ হাসিতে পরিনত হল।

আমি লোকটার দিকে তাকিয়ে হা হা করে হেসে উঠলাম।

লোকটা বিরক্তিকর চোখ দিয়ে আমাকে দেখছে।আমি তো হেসেই যাচ্ছি হাসবো না আবার আরে লোকটার মুখে লেগেছে কেক আর বিশেষ করে উনার হাতে উনি নিজের হাত দিয়ে যখন মুখ থেকে মুছতে যায় তখন আরো বরে এটা দেখে আমি পেট ধরে হাসছি। লোকটাকে জোকার থেকে কম লাগছে না।

“এই মেয়ে তুমি এইভাবে পাগলের মত হাসছো কেন হোয়াই?”

রেগে বলল লোকটা।

আমি তাও হাসান থামাতে পারছি না।আমার ফ্রেন্ড সার্কেল আমাকে না পেয়ে পেছনে তাকিয়ে এসব দেখে ছুটে আসে।

আমি অনেক কষ্টে নিজের হাসি থামালাম তারপর মুখটা গম্ভীর সিরিয়ার মুখ করলাম।

নেহা বলল,,,”এটা কি করলি দোলা ইশ কেকটা নষ্ট হয়ে গেল। এখন কাজ হবে?”

সবাই এক‌ই কথা বলতে লাগল।

আমি ওই লোকটাকে বললাম,,

“এই যে আপনি কি করলেন আমাদের কেকটা নষ্ট করে ফেললেন কেন? দেখে চলতে পারেন না চোখ কি পকেটে নিয়ে ঘুরেন?”.

রেগে বললাম। লোকটা ও রেগে বলল,,,

“আমার জন্য মানে কি আমি কি করেছি? দোষ তো আপনার আপনার জন্য আমার ড্রেসের কি হলো দেখুন তো।”

আমি রেগে উঠলাম সাথে আমার ফ্রেন্ড গুলো ও।

“কি বললেন দোষ আমার? নিজের দোষ এখন “আমাদের ঘাড় এ চাপাতে চাইছেন এটা আমরা একদম মেনে নেব না‌।”

“দোষ আপনার আপনি আমার সাথে ধাক্কা খেয়েছেন আমি না।”

“অসম্ভব আমি না আপনি আমি খুব দেখে শুনে যাচ্ছিলাম।”

“নো ম্যাডাম আপনার দোষ।”

“বললাম না আপনার।”

এবার আমার ফ্রেন্ড রাও বলতে লাগলো।

“আপনার দোষ আপনি এখন আমাদের কেক কিনে দিবেন আপনার জন্য আমাদের কেক নষ্ট হয়েছে।”

“ইম্পসিবল।”

“কিনে আপনাকে দিতেই হবে।”

এই নিয়ে ঝগড়া শুরু হয়ে গেল।

অবশেষে লোকটা হার মানলো।

আর কেক কিনে দিল কি করবে বেচারা এতো গুলো মেয়ের সাথে পারলে তো।

দোস্ত দোষটা কার বল তো।

ফারজানার কথায় আমি বললাম,,”,ওই লোকটার আমি খুবই সাবধানে যাচ্ছিলাম। আর একটা কথা সব চেয়ে দোষ তোদের বেশি?”

ওরা অবাক হয়ে বলল,,”আমাদের মানে?”

“তোদের মানে তোদের। তোরা আমাকে কেন দিলি ওটা নিতে।”

কথা বলতে বলতে কলেজে চলে এলাম।ক্লাসে না গিয়ে শিমুল গাছের তলে গেলাম ইলমা আসতেই ওর চোখ বেঁধে ওকে নিয়ে আসলো সবাই আমি ওইগুলো সাজিয়ে দিয়েছিলাম তখন।

চোখ খুলতেই চমকালো ইলমা খুশিতে সবাইকে জরিয়ে ধরলো।

কেঁদে ও দিল। কেক কেটে সবাই হ‌‌ইহুলা করলাম সবাই ক্লাস বাদ দিয়ে আমাদের এখানে এসে পরেছে সবাই একটু একটু কেক ও দিলাম।

ক্লাস শেষ এ ইলমা আমাদের ফুসকার ট্রিট দিল আমি পরপর তিন প্রিলেট ফুসকা একা খেলাম। খাওয়ার পর মনে পরলো আমার এতো খাওয়া ঠিক হয়নাই। কারন ফুসকা বেশি খেলে আমার পেট ব্যাথা হয়। কোন মতে বাসায় চলে এলাম। কাউকে বলার সাহস করলাম না বকে শেষ করবে।

রাতে আর থাকতে পারলাম না আম্মুকে বলে দিলাম। আম্মু শুনে চিন্তায় পরে গেল কারণ আজ আব্বু বাসায় নাই। কাজে ঢাকার বাইরে গেছে। আমি পেট ধরে কান্না করছি ফুঁপিয়ে। মামনি চলে এলো বাসায় কিন্তু আন্কেল আর ভাইয়া বাসায় নাই তাদের আজ আর্জেন্ট মিটিং আছে আসতে লেট হবে আম্মু আমাকে ধরে কাঁদছে আর বকে যাচ্ছে।

আপনার মতামত শেয়ার করুন!

গল্পটি কেমন লাগলো? আপনার চিন্তা, অনুভূতি বা প্রশ্ন নিচে জানান। লেখক আপনার মতামতের অপেক্ষায় আছেন!