এক বৃষ্টিস্নাত সন্ধ্যা | পর্ব – ১৭

শ্যামাপাখি জানো,
আমি দিন দিন কত দুষ্টু হয়ে যাচ্ছি।তোমার দেওয়া ছবি আমি কতশত বার জুম করে দেখেছি।তোমার ওই গাড়ো লিপিস্টিক এর দিকে তাকিয়ে নেশাক্ত হয়ে গেছিলাম। এই পিচ্চি শুনছো তোমাকে শাড়িতে নীল রঙে রাঙানো নীলাভ সৌন্দর্যের অধিকারী লাগছে।আচ্ছা তুমি কি চাও বলোতো তোমার এই মিষ্টি হাসি তে আমাকে খুন করতে।আমার অজান্তে আমার মন চুরি করে নিয়ে গেলে আমি বুঝতেও পারলাম না।হঠাত বৈশাখের লন্ড ভন্ড ঝড়ের মতো মনের ভেতরে প্রবেশ করলে একজন হার্ট এর ফিউচার ডাক্তার এর হার্ট নিজের আয়ত্ত্বে করে নিলে।হঠাত হোয়াটস এপ্স এ এলাম কি ভেবে। এই দিন টায় আমার জীবনের কাল হয়ে গেলো।এর আগে বহুবার মন হারিয়েছি তোমাতে কিন্তু এইবারের মতো এমন ভয়ংকর রূপ ধারণ করে নি কখনো।এই বদ রাগি ছেলেটার জন্য তার শ্যামাপাখি সেজেছিলো এটা আমার সৌভাগ্য।দুদিন যাবত তুমি অন লাইনে আসছো না। ভেবেছি ভীষণ অভিমান করে হয়তো ফোন অফ রেখেছো।কিন্তু এভাবে জ্বর বাঁধাবে ভাবতে পারিনি।হঠাত ভীষণ কাঁন্না পাচ্ছে তোমায় ভেবে। তোমার অসুস্থতা আমাকে এক বিন্দু ঢাকায় দাঁড়াতে দেয় নি।সারারাত রাস্তায় দাঁড়িয়ে ছিলাম বাস এলেই উঠে পড়েছি।এই তোমাকে বার বার তুই থেকে তুমি বলা হয়ে যায়।আচ্ছা বলোতো কেনো বার বার এমন হচ্ছে।আমার তুই বলাটা তুমি কিভাবে তুমিতে পরিণত করলে বলোতো।
~~~~বিহান~~~~
এত কষ্ট দিয়ে এখন আবার হোয়াটস এপ এ ঢং করা হয়েছে।আর জীবনেও কথা বলবো না ওই হৃদয়হীন এর সাথে।যাওয়ার সময় নিজের ইচ্ছাতে গিয়েছে আমি তো আর আসতে বলিনি।আসুক তাতে আমার কি যায় আসে ঢং যত্তসব।
–রিয়াকে নিয়ে ছাদে বেত লাফাচ্ছি। গোলাপি স্কার্ট আর সাদা টি-শার্ট পরে বেত লাফিয়েই যাচ্ছি।বেত লাফাতে লাফাতে হাঁপিয়ে গিয়েছি।
–রিয়া আমার দিকে পূর্ণ দৃষ্টি নিয়ে তাকিয়ে থেকে বলে,আচ্ছা দিয়া এত ডাক্তার দেখানো হলো সুস্থ হলি না।বিহান ভাই এসে জলপট্টি দিতেই সুস্থ হয়ে গেলি।বিহান ভাই এর কাহিনী কিরে দিয়া।আমার তো মাঝে মধ্য সন্দেহ হয় বিহান ভাই বাই এনি চান্স মনে মনে তোকে লাইক করে নাতো।বেত লাফানো স্টপ করে দিয়ে খানিক সময় হাঁপিয়ে একটু স্বাভাবিক অবস্হায় এসে বললাম রিয়া বুঝিস না উনি এতটাই বদমেজাজী আর খারাপ মানুষ জ্বর রিতীমত ভয় পেয়েছে।না হলে জ্বরকে উনার রাগের আগুনে পুড়িয়ে ভষ্ম করে দিতেন।এইজন্য জ্বর বেচারা ভয়ে পালিয়েছে।
–দিয়া তোহা আপু কোন সাহসে বিহান ভাই এর জন্য পাগল হয়েছে বল তো।উনার কি প্রাণের ভয় নেই।বিহান ভাই ডিরেক্ট রিজেক্ট করে দিবেন জেনেও কোন আশায় প্রপোজ করবে বল তো।
–আরে রাখ তোর তোহা আপু।আলিপ যে শাড়ির টাকা দিয়েছে এটা আমাকে জানাস নি কেনো?তোরা জানিস না আলিপ একটু অন্য নজরে দেখে আমাকে।ব্যাপার টা আমার মোটেও ভাল লাগে না।
–আরে তোহা আপু আমাদের টাকা মেরে দিয়ে আলিপ ভাই কে দিয়ে পে করাইছে।
–তোহা আপুকে বলবো আমার নগদ সাতশ টাকা যেনো ফেরত দেয়।আমার ও টাকা গেলো আবার নাম ক্রেডিট নিলো অন্য কেউ।জানিস সাতশ টাকা গোছাতে কত সময় লেগেছে আমার।আমার কাছে সাতশ টাকা মানে বিশাল ব্যাপার এই বয়সে।
–আরে দিয়া আমার ও তো কষ্ট করে ম্যানেজ করতে হইছে টাকা।তোহা আপু এই টাকা গুলো মেরে দিলো।ছেড়ে দেওয়া যবে না। চল তোহা আপুর কাছে।
–এমন সময় আলিপ ভাইয়া ছাদে প্রবেশ করলো।মেঘ না চাইতে জল উনাকেই খুজছিলাম।আমরা কিছু বলার আগেই আলিপ ভাইয়া গড় গড় করে বলতে শুরু করলো আচ্ছা দিয়া সামান্য একটা শাড়ি কি আমি তোমাকে গিফট করতে পারিনা।তুমি বিহান ভাই এর কাছে টাকা দিয়েছো ক্যানো?বিহান ভাই খালাম্মার সামনে গিয়ে টাকা টা ফেরত দিয়েছে।শুধু ফেরতে দিয়েছে সেটা নয় খালাম্মার হাতে টাকা টা দিয়ে বলেছে আন্টি আলিপ কে দিয়ে দিবেন।আসলে দিয়া অন লাইনে টাকা পে করতে পারে না তাই আলিপ করে দিয়েছিলো। আচ্ছা দিয়া এইভাবে বিহান ভাই কে দিয়ে টাকা টা ফেরতে দেওয়ানোর কি খুব প্রয়োজন ছিলো।
–আলিপ ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে বললাম,,আপনি বেকার মানুষ আপনি শাড়ি দিতে যাবেন কেনো শুনি?তাছাড়া আপনি দিলেই বা নিবো ক্যানো?এভাবে কারো থেকে কিছু নেওয়াটা ঠিক না আলিপ ভাইয়া।
–দিয়া বাইরের মানুষ আর আমাকে এক নজরে দেখছো তুমি।আমি কি অন্য কেউ আমি কি দিতে পারি না।
–না আলিপ ভাইয়া প্লিজ।চাকরি বাকরি করেন তখন না হয় একদিন কিছু একটা নিবো সমস্যা নেই।
–আলিপ ভাইয়া যাওয়ার পরে আম্মু আমার হাত চেপে ধরে ঘরের মধ্য নিয়ে দাঁত খিচে বকা দিচ্ছেন।বুঝলাম না আম্মুর হঠাত এই রূপ বদল এর কারণ কি?আম্মু বলে উঠলো,দুধের দাঁত পড়ি নি তোর প্রেম শুরু হয়েছে।আজ তোর বাবা আসুক বলবো ছেলে দেখে বিদেই করতে।আমার বাড়িতে থেকে বাইরে লেখাপড়ার নামে প্রেম করে বেড়াবি সেটা তো হবে না।আমি কিন্তু মানুষের মায়ের মতো না দিয়া।আম্মুর দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে থেকে বললাম আম্মু আমি কার সাথে প্রেম করলাম। আন্দাজে বকাবকি করছো কেনো আম্মু।আম্মু এবার বলে উঠলো আলিপ কি জন্য এসছিলো শুনি।আমি কি বুঝি না কিছু।আমি তোর কাকিকে সোজা বলে দিবো তার ভাগনে যেনো আমার বাড়িতে পা না রাখে।আচ্ছা তোর কাকি বা কেমন বাড়িতে বিয়ের উপযুক্ত মেয়ে থাকতে প্রাপ্ত বয়স্ক এক ছেলে বাড়িতে রেখেছে।কোনো কমনসেন্স নেই তার।আমার ভাতিজা দের দেখেছিস এসে রাত থাকতে।তাদের ইনভাইট করেও আনানো যায় না। তাছাড়া আমার ভাগনে রা তোকে বোনের মতো দেখে।আর বিহান থাকতে তো আমার কোনো চিন্তায় নেই।আম্মুর কথা শুনে রিতীমত অবাক আমি।আম্মুকে বললাম প্লিজ আম্মু আস্তে বলো যা বলার মেজ কাকি শুনলে কি ভাববে বলো তো।একটা অশান্তি হবে। তাছাড়া আলিপ সহ আমরা ভাই বোনের মতো করেই থাকি।তুমি যা ভাবছো সেগুলা গুলা ভুল আম্মু।আম্মুর এবারের কথা শুনে আকাশ থেকে পড়লাম আমি।আম্মু বললো শোন দিয়া বিহান আমাকে সব বলেছে আলিপ এর কি উদ্দেশ্য সব বলেছে।
–আম্মু চলে গেলে রাগ ফুঁশছি আমি।এই অসভ্য বিহান আম্মুকে দিয়ে বেশী কথা শুনিয়ে ছাড়লো।আয়রা কে নিয়ে মামাদের বাড়িতে গেলাম।আমি উঠানে দাঁড়িয়ে আয়রার হাতে সাতশ টাকা দিয়ে বললাম বিহান ভাই কে দিয়ে আয়।কিছুক্ষণ পরে আয়রা সাতশোর সাথে আরো এক হাজার টাকা এক্সট্রা নিয়ে এলো।বুঝলাম আয়রাকে দিয়ে হবে না তাই নিজেই গেলাম।ল্যাপটপ এ কি কাজ করছেন সেটা জানিনা পিসি রাখা টেবিলে বসে আছেন উনি।
–আমি বললাম,কি ব্যাপার টাকা ফেরত পাঠিয়েছি সাথে এক হাজার বেশী দিয়েছেন কেনো?
–বিহান ভাই কোনো কথা না বলে ল্যাপটপ এ মনোযোগ দিয়ে রইলেন।আমার সাথে কোনো কথা না বলে আরেক হাজার টাকা ধরিয়ে দিলেন।এবার আমি রাগান্বিত হয়ে উনার ল্যাপটপ এর সাটার অফ করে দিয়ে বললাম কি সমস্যা কি আপনার।
‘উনি ভ্রু কুচকে তাকিয়ে বললেন কি সমস্যা ‘
‘টাকা দিচ্ছেন ক্যানো?’
‘তুই না ধার চাইছিস।আয়রা বললো।’
“আমার খেয়ে কাজ নেই তাইনা আমি কি ফকির নাকি ধার চাইবো ”
“ভুলে গেছিলাম বড়লোক ম্যাম”
“আলিপ ভাই এর ব্যাপারে আম্মুকে মিথ্যা বলেছেন ক্যানো?”
“এখন কি ক্ষেপিদের মতো আমাকে মারবি নাকি।”
“আপনি বলেছেন ক্যানো?”
“শ্বশুরের মেয়ে তার জামাই এর শাড়ি রেখে অন্যর শাড়ি পরবে সেটা দেওয়া যায় না।”
“এই আয়রা কে নিয়ে আর পারা যায় না।টাকা ধার চাইলাম কখন আমি।বিহান ভাই এর সামনেই বললাম আজ আয়রার খবর আছে বলেই বেরোতে গেলাম।”
“বিহান ভাই হাত ধরে একটানে কাছে নিয়ে গিয়ে বললেন খবর তো আজ তোর হবে পিচ্চি।”

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।