এক বৃষ্টিস্নাত সন্ধ্যা | পর্ব – ৪৫

নিস্তব্ধতা চারদিকে,কোথাও কেউ নেই যতদূর চোখ যায় শুধু সাদা সাদা কাশফুল দেখা যাচ্ছে।ওর কি প্রেমিক প্রেমিকাদের ভালবাসার সাক্ষী হওয়ার জন্য জন্ম নিয়েছে।না জানি কত প্রিয় দের প্রিয় তম মুহুর্তের সাক্ষী ওরা। চাঁদের সোনালি আলোতে জোসনা বিলাস প্রিয় মানুষ টার সাথে করার মতো সৌভাগ্য সবার থাকে না।আমি বোধ হয় সত্যি খুব লাকি না হলে উনাকে পেতাম না।বিহান ভাই কে বললাম আচ্ছা আমি তো আপনাকে কিছুই দিলাম না।আজ না আমাদের এনিভার্সারী আমার তো কিছু একটা গিফট দেওয়া উচিত।বিহান ভাই বললেন,হুম সিওর দাও আমাকে গিফট। আমি মুখ কাজুবাজু করে বললাম এই মুহুর্তে দেওয়ার মতো কিছুই নেই কাল কিছু কিনে দিবো।উনি জেদ ধরলেন উহু এক্ষনি দিতে হবে আমাকে কিভাবে দিবে আমি জানিনা।মন খারাপ করে বললাম কি দিবো বিহান ভাই কিছুই তো নেই এখানে।বিহান ভাই হেসে দিয়ে বললেন চাইলেই অনেক কিছুই দিতে পারো।তোমার প্রিয় চাঁদ কে সাক্ষী রেখে স্বামি কে একটু আদর তো করতে পারো তাইনা।গিফট কি সব সময় টাকা দিয়ে কিনে দিলেই হয়।উনার কথার মানে খুব ভালোই বুঝলাম আমি।বিহান ভাই কে বললাম একটু নিচু হন। বিহান ভাই খানিক টা নিচু হয়ে আমার মুখের কাছাকাছি আসলেন।ইস কি লজ্জা।উনার সাথে এসব ভাবতেও লজ্জা করে।এক হাত দিয়ে উনার চোখ বন্ধ করে ধরে উনার গালে একটা চুমু দিয়ে দৌড় দিলাম।বিহান ভাই আমাকে ছুটতে দেখে বললেন শ্যামাপাখি এইভাবে দৌড়ালে তোমাকে মনে হচ্ছে কাশবনে নেমে আসা সদ্য কোনো সাদা পরী।এমনিতেই মন প্রাণ শ্যামাপাখিতে আসক্ত। শ্যামাপাখির সাথে কাঠানো সেই সুন্দর রাত টা ধরে রাখার ক্ষমতা আমার নেই তবে ক্যামেরা বন্ধী করতে পারি কিছু মুহুর্ত। যে মুহুর্ত আমাকে বার বার মনে করাবে চঞ্চল এক পাখি তার কিছির মিচির হাসির শব্দে অকৃষ্ট করেছিলো আমাকে।ছুটতে ছুটতে কখন যেনো ধরা পড়ে গেলাম উনার হাতে।বিহান ভাই আমার হাত ধরে গান করছেন এই প্রথমবার উনাকে এইভাবে গান করতে দেখলাম।
Give me your love
Give me your love
Never let you go
Give me your love
Give me your love
Never let you go, go
We get lost, we can get high
You got me gone, I feel alive
Anywhere, anyway I will love you
(You, you, you, you, I will love you)
We rule the world, just you and I
Don’t let me down, we walk the line
When everything’s gone wrong
I take a shot for you (You, you, you, you, you, you)
Give me your love
বিহান ভাই এর গান শুনে আমি উনার দিকে তাকিয়ে হাসছি।আমার মুখে এমন হাসি দেখে বিহান ভাই গাল ভরে হাসলেন।উনাকে এইভাবে এর আগে কখনো হাসতে দেখি নি।বিহান ভাই হেসেই যাচ্ছেন, উনার হাসি দেখে আমি সত্যি অবাক উনি এত হাসতে জানেন।
মেহু আপু একা একা কাশবন দিয়ে ছুটে বেড়াচ্ছে।জোসনার ছবি তুলছে। আমাদের সবার সব থেকে সাপোর্টিং মানুষ টা মেহু আপু।ভাইয়ার সাথে মেহু আপুর বিয়ে টা যেভাবেই হোক দিতেই হবে।
বিভোর ভাই আর রিয়া দুজনে হাত ধরে গল্প করেই যাচ্ছে।আমি বিহান ভাই কে ভয় পাই ওইদিকে রিয়াকে ভয় পায় বিভোর ভাই।
বিভোর ভাই রিয়া কে বলছেন, আমি জানি আগামিবার চান্স পাবে তুমি না পেলেও প্রাইভেটে ভর্তি হয়ে যাবে।একদিন অনেক বড় ডাক্তার হবে।সেইদিন নিয়মিত বিভিন্ন বাহানায় তোমার কাছে পেশেন্ট হয়ে যাবো।গিয়ে বলবো প্রেসক্রিপশন এ লিখে দিন ম্যাডাম ডাক্তারের মুখের হাসি দেখলে সুস্থ হয়ে যায় আমি।
“রিয়া বললো শুধু এটুকুই।”
“হুম এটুকুই জাস্ট এই হাসিতেই আমার সব অসুখ ভালো হয়ে যাবে।”
“আমি ভাবলাম অন্য কিছু।”
“অন্যকিছুটা কি রিয়া।”
“উম্মম্মম্মমাহ বলেই বিভোর গালে রিয়া একটু চুমু দিয়ে বললো ভেবেছিলাম এটা হলে অসুখ সারবে।”
“বিভোর ভাই ভাষাহীন হয়ে গেলেন।বিভোর ভাই ভাবতেই পারেন নি রিয়া এমন টা করবে।বিভোর ভাই গোল গোল চোখ করে রিয়ার দিকে তাকিয়ে বললো রিয়া আমার হার্টে লেগেছে। কেউ মনে হয় তীর মেরেছে।ভূমিকম্পন হচ্ছে।”
“রিয়া হেসে দিয়ে বললো একটা চুমুতেই এই অবস্থা না জানি আরো গভীরে গেলে কি হবে।আপনাকে বিয়ে টিয়ে করে লাভ নেই।আপনাকে দিয়ে কিচ্ছু হবে না।কথায় কথায় যদি হার্টে সমস্যা হয় সারাবছর বিহান ভাই এর পেশেন্ট হয়ে থাকতে হবে।”
“বিভোর ভাই রিয়ার হাত টেনে ধরে নিজের কাছাকাছি নিয়ে এলেন।রিয়ার উষ্ণ নিঃশ্বাস বিভোর ভাই এর চোখে মুখে পড়ছে।বিভোর ভাই এক হাত দিয়ে রিয়ার কোমর জড়িয়ে ধরে আরেক হাতের আঙুল দিয়ে চোখে মুখে স্লাইড করতে করতে বললেন আমাকে এমন মনে হয়। আমি কত বেশী রোমান্টিক দেখতে চাও।আমার থেকে বেশী রোমান্স কেউ পারবে না বুঝলে রিয়া রাণী।সমস্যা তোমার সামনে আসলে আমি বোকা হয়ে যায়।শুধু তোমাকেই দেখি অন্য কোনদিকে হুঁশ থাকে না।”
“রিয়ার সব লজ্জা যেনো নাকের ডগায় গিয়ে ভীড় জমিয়েছে।রিয়া বললো থাক হয়েছে আর দেখতে চাই না বুঝেছি আপনি একজন রোমান্টিক পুরুষ। এবার ছাড়ুন।”
“ছাড়তে পারি আগে বলো ডাক্তার হলে কি আমায় ভুলে যাবে রিয়া।”
রিয়া বিভোর ভাই কে বললো ডাক্তারি পড়বো না। আমাকে বিয়ে করুন আজ ই।
বিয়ে করবো বিহান কে বলবো তোমার আম্মুকে বলতে।
বিহান ভাই কি দিয়া কে ভুলে গিয়েছে আগে সেটা বলুন।বিহান ভাই এর জীবনে দিয়া ছাড়া কিছুই নেই।আমার ও সেইম আপনি ছাড়া কেউ নেই জীবনে।আমার একটাই পরিচয় হবে সেটা হলো মিসেস বিভোর।
বিভোর ভাই খানিক টা স্বস্তি পেলেন রিয়ার কথা শুনে।
———————————————————
ইদানিং লেখাপড়াতে ভীষণ মনোযোগ দিয়েছি রিয়া আর আমি সব সময় বই নিয়েই পড়ে আছি।এবার মনে একটা কনফিডেন্স আছে হয়তো ভালো কিছু হবে।মন ভালো তো দুনিয়ার সব ভালো।বিহান ভাই আমাকে টেনশন মুক্ত করে দিয়ে গেছেন।নিশ্চিন্তে বই পড়ছি।বিহান ভাই এখন সারাক্ষণ কল দেন আমাকে তবে সেটা প্রেম করার জন্য নয় সেটা হলো বই পড়ার জন্য।আচ্ছা উনি কি মাঝে মাঝে ভুলে যান যে আমি উনার বউ।বলতে তো পারে হ্যালো সোনা ক্যামন আছো তা না কাল রাতে যেগুলো বলেছিলাম ওগুলোর পড়া দে।এখন উনার কল একটা আতঙ্কের নাম হয়ে গিয়েছে।উনার মাঝে ইদানিং বর টরের তেমন একটা ভাব নেই।এখন উনি জল্লাদ টিচার আমার।
দুপুর গড়াতেই মেহু আপু এসছে আমাদের বাসায়।আমার রুমে এসে সুয়ে পড়ে বললো দিয়া কয়েকদিন ডিপ্রেশন এ ছিলাম তুই আর বিহান ভাই রিলেশন এ ভাবা যায়।আসলেই কি রিলেশন নাকি তোর মন ভালো করতে এগুলা করলেন।তুই আমার একটা মাত্র ননদ হবি কোথায় তোর বরের সাথে একটু আড্ডা দিবো মজা টজা করবো তা না তুই জাহান্নামের চৌরাস্তা কে জুটিয়েছিস।উনার যে রাগ বাবাহ ভাবলেই ভয়ে পরাণ চমকে যায় আমার।বিহান ভাই সব দিকে ভালো তবুও ভয় লাগে খুব।মেহু আপুকে বললাম আমার ও ভয় লাগে আপু।বাট ছোট বেলার ক্রাশ তাই ভুলতে পারি না।আচ্ছা মেহু আপু বিয়ের পর কি উনি চেঞ্জ হবেন না।মেহু আপু বললো উনি চেঞ্জ হবে ভাবা যায়।যাক বাবা শুভ টা অনেক ভালো রাগ টাগ নেই বেঁচে গেছি।একটা কষ্টের নিঃশাস নিয়ে বললাম হুম আপু আমার কপাল টাই খারাপ।
ফোনে মেসেজের সাউন্ড দেখে ফোন চেক করে দেখি বিহান ভাই মেসেজ করেছেন আমি পথে বাসায় আসতেছি তুই দ্রুত রেডি হয়ে আমাদের বাসায় আয়।আমি যেনো বাসায় গিয়ে তোর মুখ দেখি।
ফোন টা রেখে মনে মনে বললাম আমাকে ডেকে নিয়ে দুনিয়ায় অশান্তি ছাড়া তো শান্তি দিবেন না।না জানি কি কি ভেবে এসছেন।

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।