নন্দিনী নীলা
নন্দিনী নীলা

প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬

এক চিলতে রোদ | হাসপাতালে ভূতের আতঙ্ক

সমাপ্ত

এক চিলতে রোদ | সিজন ২ | পর্ব - ১০

০ ভিউ
০ মন্তব্য
১ মিনিট

ক্লান্ত লাগছে অনেক তাই বাসায় চলে এসেছি। জ্ঞান ফিরতেই কাঁচের জানালা দিয়ে উঁকি মেরে দেখেছি আপুটাকে। জ্ঞান ফিরেছে দের ঘন্টা পর। একজনের উপরে দেখ করতে দিবে না। ইমা আপুর মা দেখা করতে গিয়েছেন। তখন আমি চলে এসেছি। আশার আগে একটু কথা ইহান এর সাথে হয়েছে।
বাসায় আসতেই আম্মু জিজ্ঞেস করল কি অবস্থা এখন। আমি জ্ঞান ফিরেছে বললাম। আব্বু ও জিজ্ঞেস করলো। আমি ফোন ঘেঁটে ইহানের নাম্বার খোঁজে বের করলাম। তারপর ভাবলাম একবার কল করে জিজ্ঞেস করে নিবো খবর? যেই ভাবা সেই কাজ।
সেদিন কল দিয়েছিল মিসকল লিস্টে আছে। খোঁজে নাম্বার পেয়ে গেলাম আর কল করলাম। প্রথমবার রিসিভ করলো না দ্বিতীয় বার করলো।

‘হ্যালো আসসালামু আলাইকুম!’

‘ ওয়ালাইকুম আসসালাম।’

‘ আমাকে চিনতে পেরেছেন?’

‘হুম ঊষা থ্যাংক ইউ সো মাচ। কালকে তুমি না থাকলে কি যে হত।’

‘আমি না থাকলেও কেউ নাই কেউ আপুকে ঠিক হসপিটালে নিয়ে যেতো। তাই চিন্তা করবেন না। আপু এখন কেমন আছে?’

‘আগের থেকে বেটার। ডক্টর বলেছে বিপদমুক্ত এখন।’

‘ও আচ্ছা। তখন তো দেখা করতে পারলাম না। আর জ্ঞান ফিরেছে শুনে সন্ধ্যা হয়ে আসছিল তাই চলে এসেছি।হসপিটালে থাকবে আপু?’

‘কয়দিন থাকতে হবে!’

‘ওহ।’

‘হুম। আমাকে দোকানে যেতে হবে রাখছি।’

‘ আপনি কি এখনো হাসপাতালে?’

‘ হুম!’

‘আপনি কী হাসপাতালে থাকবেন?’

‘ না মা থাকবে আমি একটু পর চলে যাব।’

‘ ওহ আচ্ছা রাখছি।’

ফোন রেখে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললাম। খুব টেনশন হচ্ছিল। ফোন রেখে দিলাম। এখনো চোখ বন্ধ করলে আমার সেই রক্তাক্ত দৃশ্যটা মনে পড়ে আর শরীরে কাঁটা দিয়ে ওঠে। রক্ত দেখলে আমার ভয় লাগে। আর আজকে তো আপুটা রক্তাক্ত অবস্থায় আমার পাশে ছিলো। আমি যে কিভাবে নিজেকে কন্ট্রোলে করেছিলাম আল্লাহ জানে। খুব ভয় পেয়েছিলাম। আপুটা সুস্থ আছে শুনে এখন ভালো লাগছে। কিন্তু আমি বোধহয় আজকে একা রুমে ঘুমাতে পারবো না। কেমন জানি লাগছে। আমি আম্মুকে ডেকে নিলাম। আজ আম্মুর সাথে ঘুমাবো। তাই হলো আম্মু আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে লাগলো। আর আমি আম্মুকে জরিয়ে ধরে চোখ বন্ধ করলাম।

হালকা পাতলা জ্বর দেখা দিলো ভয় থেকে।পরদিন বাসা থেকে বের হতে দিলো না। কিন্তু আমি বিকেলে একবার ইমা আপুকে দেখতে যাওয়ার বায়না করলাম।

‘আম্মু প্লিজ যেতে দাও না। এখন আমার শরীর একদম ঠান্ডা দেখো তুমি।’

‘তুই তো হসপিটাল সহ্য করিস না। ভয় পাচ্ছ তাও কেন যেতে চাইছিস আবার অসুখ বাধাবি নাকি।’

‘আম্মু বিলিভ মি আমার কিছু হবে না। কালকে তো ছিলাম দেখো আমি বেশি ভয় পাইনি। আমার আসলেই এক্সিডেন্টের কথা মনে পড়ে ওই ভয় থেকে রাতে জ্বর এসেছিল। কিন্তু এখন আমি একদম ঠিক আছি।’

‘তোকে নিয়ে পারি না চারটা বেজে গেছে সন্ধ্যা হয়ে যাবে তো!’

‘কিছু হবে না এখান থেকে বেশি দূর না তোমাকে বললাম তো। সন্ধ্যার আগেই চলে আসবো।’

‘ ড্রাইভারও নাই তোর আব্বু গাড়ি নিয়ে বেরিয়েছি তুই জানিস। ড্রাইভার থাকলে আমি নিশ্চিন্ত হতে পারতাম।’

‘ প্লিজ।’

‘ আচ্ছা যা। রাজি না হওয়া পর্যন্ত তুই কানের কাছে ঘ্যানঘ্যান করতেই থাকবি। তার থেকে যা তাড়াতাড়ি ফিরে আসবি।’

‘ওকে থ্যাংক ইউ আম্মু।’

আম্মু রাজী হতেই ড্রেস চেঞ্জ করে নীল থ্রি-পিস বের করে পড়ে নিলাম ঝটপট। তারপর বেরিয়ে পড়লাম। রিকশা নিয়ে যেতে দশ মিনিট লাগবে। হসপিটালে ঢুকে সোজা ইমা আপুর কেবিনে চলে গেলাম। আশেপাশে কাউকে দেখলাম না। দরজা ঠেলে ভিতরে ঢুকে আমার চোখ ছানাবড়া হয়ে গেলো। আমি বড় বড় চোখ করে তাকিয়ে আছি। বেডের উপর ইমা বসে আছে আর তার সামনে সেম টু সেম ইমা আপুর কার্বন কঁপি দাঁড়িয়ে তার সাথে কিছু কথা বলছে। আপু ও তার দুর্বল গলায় একটা দুইটা কথা বলছে। আমি রসগোল্লার মত বড় বড় চোখ করে হা হয়ে তাকিয়ে আছি। দুইটা ইমা আপু। এটা কি করে সম্ভব? আমি কি চোখে ভুল দেখছি নাকি সত্যি? নাকি ভূত? ইমা আপুর মতো আরেকটা ভূত কি দাঁড়িয়ে আছে নাকি। এটা সিউর আমি নিশ্চিত। হসপিটালের বেডে যে শুয়ে আছে সে ইমা আপু। কারণ তিনি অসুস্থ। আর সুস্থ স্বাভাবিক ইমা ভূত।

তখন পেছন থেকে একটা পুরুষালী গলার আওয়াজ পেয়ে পেছনে তাকালাম। দেখি ইহান আমার দিকে ব্রু কুঁচকে তাকিয়ে আছে।

‘আরে ঊষা! তুমি কখন এলে?’

আমি ঢোক গিলে বললাম,,”এইমাত্র।’

‘ও আপুর সাথে দেখা করতে এসেছ?’

‘ হুম।’

‘ভেতরে না গিয়ে এখানে দাঁড়িয়ে আছো কেন?’

‘ভেতরের আমি যাব না। আমি ভূত দেখেছি।’

‘ হোয়াট?’

‘ ভেতরে দুই টা ইমা আপু একটা ভূত আপুর সাথে কি যেন কথা বলছে। আমি ভেতরে যাবো না। আমি চলে যাই। আমি ফোন করে জেনে নেবো আপুর খবর।’

‘ঊষা, আর ইউ ম্যাড! কি সব আবোল তাবোল বকছো! ভূত আসবে কোথা থেকে! তাও আবার এই দিনের বেলা। আর ভূত বলতে কিছু নাই ওকে। আজেবাজে বকা অফ করো।’

‘ আপনি আমার কথা বিশ্বাস করছেন না কেন? দাঁড়ান আমি আপনাকে দেখাচ্ছি!

বলে ঊষা ইহানের ডান হাতের বাহু শক্ত করে ধরে টেনে দরজা থেকে উঁকি দিয়ে বলল,

‘ ওই দেখুন দাঁড়িয়ে আছে ভূতটা। একদম ইমা আপুর মতো দেখতে।’ তোতলানো কন্ঠে বলল ঊষা। ভয়ে ওর শরীর থরথর করে কাঁপছে।

ইহান ঊষার কথা ও ওর অবস্থা দেখে হো হো করে হেসে দিলো। ইহানের হাসির শব্দ শুনে ইমা ইলা দুজনে দরজার দিকে তাকালো চমকে।
ঊষা ভীতু মুখ করে একবার ভেতরে ইমা-ইলার দিকে তো একবার ইহানের দিকে তাকাচ্ছে।

‘কি হয়েছে আপনি পাগল ছাগলের মত হাসছেন কেন? আমি এখানে হাসির কি বললাম? এটা সিরিয়াস কথার মাঝে কেউ হাসে অদ্ভুত!’ রাগে দাঁত কিড়মিড় করতে লাগলাম।

ইহান আমার হাত টেনে ইমা আপু ও ভূতের সামনে এনে দাড় করালো। আমি ভয়ে ইহানের হাতের শার্ট খামছে ধরলাম।

‘ ঊষা সি ইজ মাই সিস্টার ইলা।আর ইমা কে তো চিনোই। যাকে তুমি কালকে হসপিটালে ভর্তি করেছো।আর তোমার বাবা যাকে রক্ত দিয়েছিল। এরা দুজন টুইন। কোন ভুত-প্রেত না এত ভয় পাওয়ার কিছু নাই।’

বলেই আবার হেসে উঠলো। আমি লজ্জায় মাথা নিচু করে আছি। ইহানের হাত ধরেছিলাম দেখে আমি আরো লজ্জা পেয়ে দূরে সরে দাঁড়ালাম।ইলা মেয়েটা কপাল কুঁচকে আমাকে পর্যবেক্ষণ করতে করতে বিদায় নিয়ে চলে গেলো। আমি তার যাওয়ার দিকে আড় চোখে তাকালাম।এরা টুইন। আমার টুইন বেবি খুব পছন্দ কিন্তু এরা তো বড়।একদম সেম টু সেম একটুও অমিল নাই। এদের তো আমি কখনোই চিনতে পারবোনা। দুজনকে গুলিয়ে ফেলতাম।

ইমা আপু তখন আমাকে ডেকে তার পাশে বসতে বলল আমি গুটি গুটি পায়ে তার পাশে গিয়ে বসলাম।ইমা আপুর সাথে অনেকক্ষণ গল্প করলাম কি অমায়িক ব্যবহার। আর কি মিষ্টি হাসি। অসুস্থতার মাঝেও তিনি হেসেছে। আমাকে তো ছোটবোন বানিয়ে ফেলেছে। এত সুন্দর ব্যবহার আমিও তার গল্প করতে করতে সন্ধ্যা বানিয়ে ফেললাম। জানালা দিয়ে তাকিয়ে দেখতে পেলাম বাইরে অন্ধকার হয়ে আসছে। তা দেখে আমি লাফিয়ে উঠলাম বসা থেকে।রুমে আমি আর ইমা আপু গল্প করছিলাম এতক্ষণ। কখন দুই ঘণ্টা পেরিয়ে গেছে বুঝতেই পারিনাই।

‘আপু আজ আসি সন্ধ্যা হয়ে গেছে। আমাকে খুব বকা দিবে আম্মু। আম্মু সন্ধ্যার আগে ফিরতে বলেছিল। এখন আমি কিভাবে যাব। বাইরে তো অন্ধকার হয়ে আসছে। আযান কখন দিল আমিতো কিছুই শুনতে পেলাম না।’

‘আমি বুঝতে পারিনা! কিন্তু তুমি চিন্তা করো না দাড়াও আমি ইহান কে কল করছি।ও তোমাকে পৌছে দেবে।’

‘ তার দরকার নাই। আমি দেখি। একাই যেতে পারবো।’

‘না না তুমি একা গেলে আমার খুব চিন্তা লাগবে। তুমি বসো আমি ইহানকে কল করছি।’

আমার কথা শুনল না জোর করেই ইহান কে কল করে ডেকে আনলো। তারপর তার সাথেই যাওয়ার জন্য বললো।

আপনার মতামত শেয়ার করুন!

গল্পটি কেমন লাগলো? আপনার চিন্তা, অনুভূতি বা প্রশ্ন নিচে জানান। লেখক আপনার মতামতের অপেক্ষায় আছেন!