নন্দিনী নীলা
নন্দিনী নীলা

প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬

এক চিলতে রোদ | গাড়ির সিট ও জুতোয় দাগ

সমাপ্ত

এক চিলতে রোদ | সিজন ২ | পর্ব - ১৩

০ ভিউ
০ মন্তব্য
১ মিনিট

বরের গায়ে হলুদ দেওয়া শেষ করে খাওয়া-দাওয়া শেষ করে আবার গাড়িতে উঠে বসলাম। এইবার ইমা আপু আমার সাথে বসে নাই। তার গাড়ি ফুল এজন্য আমাকে অন্য কারে উঠতে হলো। কিন্তু এখানে এসে রিমাকে পেয়ে স্বস্তি পেলাম। দুজন দুই জানালায় বসে আছি মাঝখানে আরো দুজন বসা যাবে। তুলি পেছনের সিটে বসেছে। ওকে ডাকলাম কিন্তু আসলো না। কারণ ওর ও জানালা লাগবে। এবার রিমার মামাতো ভাই রাতুল এসে গাড়ি বসলো। ও একাই দুইজনের জায়গা দখল করে বসেছে।এতো মোটা এই ছেলেটা আমি চোরা চোখে ওকে একবার দেখে আল্লাহ আল্লাহ করছি।আর যেন কেউ না আসে তাহলে আমি চেপ্টা হয়ে যাব চিপায় পরে। রাতুল কে দেখে আমার ই অস্থির লাগছে। সব গাড়ি ছেড়ে দিয়েছে এবার আমাদের টা ছারবে কিন্তু সামনে থেকে অতুল ভাই ইহান ইহান করে ডাকছে। ইহান এগিয়ে এলো,

‘ ইহান পেছনের সিটে উঠে পর একটা সিট খালি আছে।’

‘থ্যাংক গড অবশেষে সিট পেলাম। মহিলা মেয়ে গুলোকে সিট দিতে দিতে আমিই গাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়েছি। ভাব একবার।’

‘ হুম দেখছি। উঠে পর। ‘

ইহান আমার পাশে এসে দরজা খুলল। আমি অসহায় মুখে তাকিয়ে আছি। একবার রাতুল এর দিকে তাকিয়ে ঢোক গিললাম।

ইহান আমার দিকে তাকিয়ে বলল, ‘ ভেতরে যাও। ‘

আমি আঁতকে ওঠে বললাম, ‘ আমি জানলার পাশে বসবো। আপনি ভেতরে যান প্লিজ।’

ইহান গম্ভীর মুখ করেই বললো, ‘ নেমে দাঁড়াও।’

আমি নেমে পরলাম। ইহান ভেতরে গিয়ে বসলো আমি একটুখানি জায়গার দিকে তাকিয়ে আছি আজকে যে আমার কি অবস্থা হবে? কাঁদো কাঁদো মুখ করে উঠে বসলাম।

‘মুখ যতই মলিন করো না কেন? তোমাকে জন্য আমি এখন গাড়ি থেকে নামতে পারবো না সরি!’

ইহানের কথা চমকে তাকালাম।
‘ আমি আপনাকে কি বলেছে আমার জন্য গাড়ি থেকে নেমে যান!’ নাক ফুলিয়ে।

‘ বললে ও নামবো না সেটাই বলেছি।’

‘ আপনি একটা ফালতু লোক।’

আমি জানালার দিকে ঘুরে গেলাম।
এতো চিপা হয়েছে যে আমি বাম ঘুরলে ডান দিকে আর ঘুরতে পারিনা। দাঁত চেপে সহ্য করছি কখন গাড়ি থামবে আর এই ঝন্ত্রণা থেকে নামতে পারবো।
ইহান এই চিপার মধ্যে ও আমার থেকে দূরত্ব রেখে বসেছে আমি তাই একটু স্বস্তি পাচ্ছি। আমিও গাড়ির দরজার সাথে লেপ্টে আছি। রিমা চেঁচিয়ে উঠলো।

‘ আমি এতো চিপায় বসতে পারুম না গাড়ি থামা। আমি নাইমা যাই। নাইলে এই রাতুল নামবো। আল্লাহ আমি শেষ।’

বলেই চিল্লাচিল্লি করতে লাগলো। অজ্ঞতা রাতুল নেমে পেছনে বসলো আর রিমার ফুপাতো বোন মিনা আসলো। চিকন করে মেয়েটা এখন শান্তি। সবাই নড়েচড়ে বসলাম। আমি ইহানের দিকে তাকিয়ে দেখি ফোন টিপছে।
তার এসবে কোন হেলদোল নাই। আমি সিটে হেলান দিয়ে একবার বাইরে তো একবার সামনে তাকাচ্ছি। ওইভাবে কখন ঘুমিয়ে গেছি খেয়াল নেই। ঘুম ভাঙলো রিমার চিৎকার এ। চোখ মেলে দেখি গাড়িতে আমি একাই বসে আছি। সবাই নেমে গেছে। রিমা কপাল কুঁচকে তাকিয়ে আছে রাগী চোখে। আমি বললাম,

‘ সবাই কোথায়?’

‘সবাই চলে গেছে।’

‘ ক‌ই গেছে? এটা কোন জায়গা?’

‘ ওরে আল্লাহ তারাতাড়ি নাম। আমরা চলে আসছি এটা আমাদের বাড়ি ভালো করে দেখ।’

আমি জানালা দিয়ে তাকিয়ে ফট করেই নেমে গেলাম। হামি দিতে দিতে হাঁটছি কখন ঘুমালাম কিছুই মনে নাই। ভেতরে আসতেই তুলি দুই হাত ভর্তি হলুদ নিয়ে গেছে আমার মুখে লাগিয়ে দিলো। আমি ঘুম ঘুম ঝুঁকে ওকে থামাতেও পারলাম না। রিমঝিম আপুকে হলুদ দিয়ে সবাই নিজেদের কেই লাগিয়ে ভূত করে দিচ্ছে। আমি যোগ হলাম সবার সাথে। লাফালাফি নাচানাচি করতে করতে একটা বেজে গেলো। রুমে এসে ড্রেস চেঞ্জ করেই থপ করে বিছানায় শুয়ে পরলাম।
পরদিন আর কাউকে পার্লারে নিয়ে যেতে হলো না। পার্লারে লোক বাসায় আসবে। আপু দশটায় দরজা বন্ধ করে বসলো আর খুললো একটার পর। এদিকে বর এলো তিনটায় আমরা ফিতা ফুল আর বিভিন্ন রঙের শরবত নিয়ে গেটে দাঁড়ালাম। ইহানকে আজ একবার ও দেখি নাই‌‌। পঞ্চাশ হাজার টাকার ত্রিশ হাজার এ গেট থেকে সরতে হলো‌। গেট থেকে ফুলের থালা হাতে পেছনে সরতে গিয়ে কার সাথে জানি একটা ধাক্কা খেলাম। বিরক্ত হয়ে পেছনে তাকিয়ে দেখি ইহান।এদিকে আমার হাতের থালা ধাক্কা খেয়ে পরে গেলো আমি প্লেটের দিকে তাকিয়ে জ্বিভে কামড় দিলাম। তারাতাড়ি তুলে নিয়ে মুখে হাসি আনার চেষ্টা করে ইহানকে সরি একটা ভো দৌড়ে চলে এলাম। আসলে আমি আরেকটা আকাম করছি। তা হলো আমার এই হিল জুতো দিয়ে ইহানের কালো শো জুতায় পা লাগিয়ে ব্যাথা ও সাথে জুতো সাদা করে ফেলেছি। তা দেখে ভয়ে আমি দৌড় দিয়েছি।

এদিকে ইহান কটমট চোখে ঊষার চলে যাওয়া দেখলো।

আমি একদম রিমঝিম আপুর রুমে এসে থেমেছি। হাঁপাতে লাগলাম এসে। রিমঝিম আপু জিজ্ঞেস করলো কি হয়েছে? এমন করছি কেন আমি কিছু বললাম না। আপুর পাশে বসে র‌ইলাম। তখন তুলি এসে খাওয়ার জন্য নিয়ে গেলো আমাকে। খেতে বসে ও শান্তি নাই। ভিডিও ম্যান আমাদের এইখানেই দাঁড়িয়ে ভিডিও করছে। তাই খেতে ও পারছি না একটু পর পর দাঁত কেলিয়ে হাসছি। খাওয়া শেষে গাউনের এক কোনা ধরে হাত ধুয়ে এলাম। এবার ইহানকে দেখলাম। বরের সাথে স্টেজে আছে অনেকের সাথে। সেখানে বররা খাচ্ছে আর তার তদারকি করছে কয়েকজন। ইহান ও এটা ও জিজ্ঞেস করছে। লাল পাঞ্জাবি তে ইহানকে খুব সুন্দর লাগছে‌। আমি তাকিয়ে র‌ইলাম।

বিয়ে পরানো শেষ হলো সন্ধ্যায় পর। এবার বর ব‌উকে একসাথে বসানো হলো।আর ফটো তুলার ধুম পরলো এবার আমি একাই বাইরে এসে বসে র‌ইলাম। গরম লাগছে এতো মানুষের মধ্যে বসে থাকতে ভালো লাগে না। একটা ছেলেকে দেখলাম আমার পাশে এসে বসলো চেয়ার টেনে। আমি ভ্রু কুঁচকে তাকালাম। ছেলেটা বর পক্ষের।
এসেই নাম কি জিজ্ঞেস করলো। আর নিজের নাম ধাম একাই বললো। কয়েকটা কথা শুনেই বুঝতে অসুবিধা হলো না কেন এমন করছে। ভাব জমানোর চেষ্টা করছে। ফোন নাম্বার চেয়ে থামলো ওই শাহিন ছেলেটা। ছেলেটার নাম শাহিন। আমিও সুন্দর নাম্বার দিয়ে দিলাম। কিন্তু এটা আমার নাম্বার না আমার তৈরি করা বানানো নাম্বার। যাইহোক ছেলেটা আমার নাম্বার পেয়ে খুশী বাক বাকুম হলো।
আমি চেয়ার ছেড়ে উঠে বাসার ভেতরে ঢুকতে গিয়ে দেখি ইহান গেটের সামনে দাঁড়িয়ে রাগী চোখে তাকিয়ে আছে আমার দিকে। আমি তাকে দেখেই তখনকার পারা দেওয়ার কথা মনে পড়ে গেল। আমি ভয় পেয়ে গেলাম। মারবে নাকি কিন্তু কিছু হলো না আমি কাচুমাচু মুখ করে তারাতাড়ি ভেতরে ঢুকে গেলাম। ইহান রাগে গজগজ করছে ওইখানে দাঁড়িয়েই।
বিদায়ের সময় আরেক দফা কান্নার রোল পরলো।
পরদিন ওই বাসা যাওয়ার পর শাহিনের সাথে দেখা হলো। ছেলেটা আমাদের খাবারের তদারকি করছে। আমার কাছে এসে এটা ওটা দিচ্ছে লাগবে কিনা জিজ্ঞেস করছে আমার বিরক্ত লাগছে কিন্তু কিছু বলতে পারছি না। হেসে না করছি। অসহ্য। আর তুলি তো সুযোগ পেয়ে খাটিয়ে মারছে এটা ওটা চেয়ে আবার হেসে একাকার। আমার কানে ফিসফিস করে বললো,

‘ দাঁড়া পোলাটারে শিক্ষা দেয়। তোরে পছন্দ করছে মনে হয়। এখন ই সুযোগ খাটানোর।’

একবার লবণ, একবার টমেটো, শশা, লেবু, হার খোশ, বলে ছেলেটাকে নাচাচ্ছে। আমি হাসতে হাসতে শেষ।

খাবার শেষে শাহিন আমাকে বললো , ‘ তোমার নাম্বার অফ কেন এতো বার কল করলাম ঢুকলো না।’

আমি হকচকিয়ে গেলাম।

‘ ওই আসলে চার্জ ছিলো না তাই বন্ধ হয়ে গেছে। বিয়ে বাড়ি বুঝতেই তো পারছেন। আর আপনি আমাকে এতো কল করেছেন কেন?’

আমার কথা শুনে শাহিন থতমত খেয়ে গেলো।

আপনার মতামত শেয়ার করুন!

গল্পটি কেমন লাগলো? আপনার চিন্তা, অনুভূতি বা প্রশ্ন নিচে জানান। লেখক আপনার মতামতের অপেক্ষায় আছেন!