প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬
এক চিলতে রোদ | নূপুর ফেরত ও অদ্ভুত শর্ত
সমাপ্তএক চিলতে রোদ | সিজন ২ | পর্ব - ১৫
রিকশায় ইহানের সাথে বসে আছি। রাগে আমার শরীর কাঁপছে। ঘাড় ঘুরিয়ে ইহানের দিকে তাকালাম ইহানের কোন হেলদোল নাই। ডোন্ট কেয়ার ভাব নিয়ে ফোন টিপে যাচ্ছে। আমি চোখ সরিয়ে নিলাম। আমার এখন কি করা উচিত! মন চাচ্ছে এখান থেকে ধাক্কা মেরে ফেলে দেয় এই বদমাইশ টাকে। পেটে পেটে এই ছিল। কিছু আগে ওনার সাথে দেখা এসেছিলাম।
‘ এইযে মিস্টার আমার জিনিস আমাকে ফেরত দিন।’
‘ তোমার তো এই জিনিসটার কথা মনে ছিল না। আমি না বললে বোধহয় মনে পড়তো না। এক সপ্তাহ তো তোমাকে জিনিসটা খুঁজতে দেখি নি। মানুষ কিছু হারালে তো 2 সেকেন্ড পর থেকেই পাগল হয়ে যায় খোঁজে। আর তুমি এই সপ্তাহে কিছুই করনি। ভেরি ইন্টারেস্টিং।এইটা যে তোমার কাছে খুব একটা মূল্যবান না আমি বুঝে গেছি। তাই আমি ভেবে নিয়েছি তোমার দ্বারা আমার কাজ হবে না।’
‘দেখুন আজেবাজে কথা বাদ দিয়ে আমার জিনিস ফেরত দিন। এটা আমার কাছে মূল্যবান নাকি না সেটা আমি বুঝে নেব এখন এই জিনিসটা আমার দরকার।’
‘তোমার কাছে এটা এতোটা ও মূল্যবান না তাই আমি ভাবছি এটা তোমাকে দেবো না তাইতো আমি জিনিসটা নিয়ে বের হয়নি।’
‘ কিহহহ চিৎকার করে উঠলাম। পাগল নাকি আপনি।আমার জিনিস আমি নিতে চাইবো না এটা কেমন কথা।আর যদি নিতে নয় চাই এটা যদি আমার কাছে এতটাই ফেলনা হয় তাহলে আমি আপনার সাথে দেখা করতে আসলাম কেন?’
‘আমি তোমাকে যা বলিস তাতে কি তুমি রাজি আছো? রাজি না হলে ও আমার সমস্যা নাই। তোমার জিনিস তোমাকে দেবো না আর আমার কাজের লোক আমি পেয়ে গেছি। তাই তোমাকে আমার এখন লাগবে না। আমি এটা জানানোর জন্যই এসেছি।’
রাগে আমি সামনের কফির কাপটা ধাক্কা দিয়ে ফ্লোরে ফেলে দিয়ে বললাম, ‘আপনি কিন্তু এখন বেশি বেশি করছেন। আমি কালকে ওসবে রিয়েক্ট করেছিলাম। কিন্তু আমি আপনার শর্তে রাজি আছি সেটা বলার জন্য এসেছি। আর নূপুর নিতে এসেছি। আর এখন বলছেন সেটা আপনি আমায় দিবেন না। আর অন্য লোক পেয়ে গেছেন কাজের জন্য। এটা কিন্তু আমার সাথে অন্যায় করছেন! একই আমার জিনিস ফিরিয়ে দিতে আপনার কোন শর্ত দেওয়া উচিত হয়নি। তার উপর এখন বলছেন দিবেন না। আগে বলতেন তাহলে তো আর আমি আম্মুকে বলতাম না যে আমি নূপুর তুলিকে দিয়েছে আর তাঁরা তারি নিয়ে আসবো। এখন এটা আমি না নিলে আম্মু আমাকে কতো কথা শুনবে জানেন? একেতে টা হারিয়ে ফেলেছি তারপর আবার আমমুকে আমি মিথ্যে বলেছি।’
রেস্টুরেন্টে এর সবাই তাকিয়ে আছে আমার দিকে। আমি উত্তেজিত হয়ে এতগুলো কথা বললাম তখন খেয়াল করে নিয়ে এসব। এখন সবাইকে নিজের দিকে হা করে তাকিয়ে থাকতে দেখে লজ্জা পেলাম খুব। একজন এসে তো ইহান কে বলে বসলো,
‘ ভাই আপনার গার্লফ্রেন্ড তো খুব রাগী। দুজনের ঝগড়া হয়েছে তাই না? আমার গার্লফ্রেন্ড ও খুব রাগী। রাগ উঠলে এমন জিনিস ছুড়াছুরি করে আমাকে মারে অব্দি। আপনার গার্লফ্রেন্ড তো শুধু জিনিসের উপর রাগ দেখালো। আপনাকে মারল না আমার গার্লফ্রেন্ডের থেকে তাও ভালো আছে.
ছেলেটার কথা শুনে আমি আর ইহান দুজনেই অবাক হয়ে নিজেদের দিকে তাকালাম। আমি ছেলেটাকে পাগল বলছি মনে মনে। অসভ্য ছেলে কি যা তা বলছে। আমি নাকি ওনার গার্লফ্রেন্ড পাগল নাকি। যতসব ফালতু কথা।
আমি গলা উঁচিয়ে বললাম, ‘আপনি কী বলছেন এসব! আপনি জানেন আমাদের সম্পর্কে? কি যা তা বলছেন এসব কিছু..
ইহান ফট করেই আমার হাত ধরে টেনে রেস্টুরেন্টে এর বাইরে নিয়ে এলো। আমি হাত ছাড়িয়ে বললাম, ‘কি হলো এমন করে টেনে আনলেন কেন?’
‘ আর ইউ ম্যাড? কি করছিলে তুমি সবাই কেমন করে তাকিয়ে ছিলো দেখেছো?’
‘ আপনি আমার জিনিস দিবেন কিনা বলেন নাহলে আমি আরো সিনক্রিয়েট করব।’
‘ ওকে বাবা দেবো। আরে তোমার জিনিস আমি নিয়ে কি করবো বলতো। আমি কি মেয়ে যে তোমার জিনিস পরে ঘুরে বেড়াবো। আমি জাস্ট মজা করেছিলাম। কিন্তু এসব করার জন্য এখন তুমি নূপুর পাবে না আমার কাজটা করার পরই পাবে।’
‘ অসম্ভব আমি কিছু করবো না।’
‘ তাহলে বাসায় চলে যাও গুড বাই।
বলেই ইহান চলে যায়। আমি কি করবো বুঝতে পারছিলাম না। একটু পর ইহান রিকশা নিয়ে আসে। আর আমার পাশে থামায় আমি ইহানের দিকে তাকায়। তারপর কিছু না বলেই উঠে বসে। তারপর থেকেই এইভাবে বসে আছি।
বাসার সামনে আসতেই নেমে যায়। ইহান একবার ও আমার দিকে তাকালো না আর না কথা বললো। রিকশা চলে যাবে তখন আমি চেঁচিয়ে উঠলাম,
‘ দাঁড়ান।’
রিকশা ছেড়ে দিয়েছিলো। আমি দৌড়ে গেলাম। ইহান এবার আমার দিকে তাকালো ভ্রু কুঁচকে।
আমি বললাম, ‘ কালকে আমার নূপুর নিয়ে আসবেন।’
‘ কেন?’
‘ আমি রাজি। কিন্তু বাবাকে রাজি করাবো কিভাবে বুঝতে পারছি না।’
‘ সেটা তোমার মাথা ব্যাথা আমার না।’
‘ এতো ত্যারা কথা বলেন কেন? রাজি তো হয়েছি। আব্বু কেও রাজী করাবো নি। কিন্তু নূপুর কালকেই চাই।’
‘ ট্রিপে থেকে এসে পাবে সব।’
‘ না আমার কালকেই চাই। আমি রাজি তাও কেন দেবেন না?’
‘ পরে পাল্টি খাবে না তার কি গ্যারান্টি?’
‘ আপনি আমাকে সন্দেহ করছেন? আমি ওমন না ওকে। আমি কথা দিলে তা রাখি’
‘ ওকে আমাকে ছুঁয়ে প্রমিজ করো?’
বলেই ইহান হাত বাড়িয়ে দিলো।
রাগে দুঃখে হাত ছুঁয়ে বললাম। প্রমিজ।
তারপর গটগট করে বাসায় চলে এলাম। পরদিন ইহান কলেজে এলো তখন আমরা ক্লাসে ছিলাম। আমাদের ইংরেজি ক্লাস হচ্ছিলো। তখন ইহান ও ওর সাথে আরো দুজন ছেলে ও হেডমাস্টার এলো।আমরা সবাই দাঁড়িয়ে গেলাম।
হেডমাস্টার যা বললো শুনে চমকে উঠলাম। আমাদের শিক্ষাসফরে নিবে। যারা যেতে চায় এই সপ্তাহে নাম দিতে হবে। তুলি তো লাফিয়ে উঠলো ক্লাস শেষ হতেই,
‘আমি তো যাবোইইই। ঊষা ইহান ভাইয়ের কতো বুদ্ধি দেখছিস? তোকে টেনশনে রেখে এখন যাওয়ার জন্য বাড়িতে রাজি করানোর সঠিক চাল দিলো। আমার তো মন খারাপ হয়েছিলো তুই একা যাবি আমি যেতে পারবো না।আমি বেড়াতে কতো পছন্দ করি জানিস তো। এমন একটা সারপ্রাইজ ভাবা যায়।’
আমি হাঁ করে বসে আছি। ইহানের উপর আমার রাগ আকাশ সমান ছিলো। তার উপর মাথার উপর টেনশন বাবাকে কিভাবে রাজি করবো সাজেক যেতে। এখন তো রাজি করানো সহজ হবে স্কুলে থেকে যাচ্ছি জানলে খুব একটা রিয়েক্ট করবেনা।বাঁচা গেলো।
কিছু একটা মনে পরতেই আমি দৌড়ে ক্লাস থেকে বেরিয়ে এলাম। তারাতাড়ি সিঁড়ি বেয়ে নামছি। সারা স্কুল ইহানকে খুঁজলাম পেলাম না।উপরে এসে গেটের দিকে তাকিয়ে দেখলাম ইহানরা চলে যাচ্ছে। আমি রাগী চোখে তাকিয়ে রইলাম। বাসায় এসে কল করেও কাজ হলো না।ইহান মেসেজ এ বলেছে ট্রিপে থেকে আসার আগে দেবে না। রাগে দুঃখে কান্না পাচ্ছে এখন আমার। গন্ডার একটা। আব্বুকে খুব সহজেই রাজি করতে পারলাম। স্কুল থেকে যাবে তাই ঝামেলা হয় নি। সামনে সপ্তাহে যেতে হবে তার আগে তুলি আমাকে নিয়ে মার্কেটে এলো। কিছু কেনাকাটা করবে আসবো না তাও জোর করে ধরে এনেছে আমাকে।
আজকে ও অনেক সময় নিয়ে শপিং করলো তুলি। আজকে কেনাকাটা ভালোই করলো সব কিছুই ঘুরতে যাওয়ার জন্য। আমাদের তিনদিনের ট্রিপ।
আমাকে তুলি কিনবো কিনা জিজ্ঞেস করলো আমি না বলে দিলাম। আম্মুর সাথে আমি কয়েকদিন আগেও শপিং করেছি। আমার একা করতে ভালো লাগে না।
কেটে গেলো পাঁচ দিন। আজ সেই যাওয়ার দিন তুলি সাতসকালে চলে এসেছে বাড়িতে। দুজনে একসাথে বের হলাম বাসায় থেকে।
