নন্দিনী নীলা
নন্দিনী নীলা

প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬

এক চিলতে রোদ | বাসের ঘুমে বিড়ম্বনা

সমাপ্ত

এক চিলতে রোদ | সিজন ২ | পর্ব - ১৭

১ ভিউ
০ মন্তব্য
১ মিনিট

জোরে ধাক্কা খেয়ে সামনে ঝুঁকে পরলাম। ফল স্বরূপ সামনে সিটে ধপাস করে বারি খেলাম কপালে। সাথে সাথে আমার ঘুম ছুটে গেলো। আমি কপাল ঠলতে ঠলতে চোখ মেলে তাকালাম। ভালো জোরে আঘাত পেয়েছি। কপাল কুঁচকে সামনে তাকালাম। আমি গাড়িতেই আছি। ইহানের সাথে রাগ করে কখন ঘুমিয়ে পরেছিলাম খেয়াল নেই। পাশ থেকে হো হো করে হাসির আওয়াজ আসতেই পাশে তাকিয়ে দেখি ইহান দাঁত কেলিয়ে হাসছে। আমি চোখ মুখ কঠিন করে তাকালাম। খচ্চর ছেলে একটা। আমি এভাবে ব্যথা পেলাম আর উনি হা হা করে হাসছে। মজা নিচ্ছে। দাঁত কিড়মিড় করে বললাম,

‘ হাসছেন কেন?’

আমার কথা শুনে ইহান হাসির গতি বাড়িয়ে দিলো। তার এমন অসভ্যের মত হাসি দেখে আমার সারা শরীর জ্বলে উঠলো। আশ পাশের সিটের কয়েকজন উঁকি মেরে আমাদের দিকে তাকিয়ে রইল বোকার মতো।

‘ অন্যের আঘাতে দেখে সবসময় নিজের মুখে শয়তানের মতো হাসি ফুটিয়ে রাখে শয়তান একটা।’ বিরবির করে বললাম।

ইহান হাসি থামিয়ে ভ্রু কুঁচকে বললো, ‘ কি বললে বিরবির করে?’

‘ কিছু না।’ বলেই ভেংচি কেটে ঘাড় বাঁকিয়ে নিলাম। ঘুমের ঘোর এখনো কাটেনি।আমি আমার কাঁধের ব্যাগ থেকে বোতল বের করে চোখে মুখে পানি দিলাম জানালা দিয়ে। টিস্যু দিয়ে মুখ মুছে নিলাম। হাঁটুর উপর বোতল ছিলো ব্যাগে ঢোকাতে যাব তার আগেই টান দিয়ে ইহান সেটা নিয়ে নিলো। আমি কিছু বলার আগেই বোতলে মুখ লাগিয়ে পানি খেতে লাগলো। আমি চোখ বড় করে তাকিয়ে আছি। আমিও একটু আগে মুখ লাগিয়ে খেয়েছি এখন ইহান। কি অবস্থা! রাগ লাগলো আমার আমি আবার কিভাবে পানি খাবো উনি মুখ কেনো লাগালো। রেগে হাত বাড়িয়ে বোতল নিয়ে নিলাম। আর গমগম গলায় বলে উঠলাম,

‘ আপনি কোন সাহসে আমার বোতলে মুখ লাগালেন! এটা কেমন ধরনের ভদ্রতা। এখন আমি কি ভাবে খাব এই পানি?’

‘ কেনো আমার মুখে কি আবর্জনা আছে নাকি যে মুখ লাগালে খাওয়া যাবে না? আমি মুখ না লাগিয়ে খেতে পারি না। না হলে আমার কোন ইন্টারেস্ট ছিলো না তোমার বোতলে মুখ লাগানোর।’

‘ একদম ভাব নিয়ে কথা বলবেন না। আপনার ইচ্ছা ছিলো না মানে কি আমি কি আপনাকে জোর করে দিয়েছি। আমার বোতল আমার কাছে পারমিশন না নিয়েই খেয়ে ফেললাম। আর এতোই যেহেতু মুখ লাগিয়ে খান তাহলে নিজে পানি নিয়ে আসতে পারে না। আমার টা নিলেন কেন?’

‘ সামান্য পানির জন্য এখন তুমি আমার সাথে ঝগড়া করবে? ছিঃ মেয়েরা এতো কৃপণ হয় জানা ছিলো না। যাও তোমাকে আমি ডাবল ওয়াটার কিনে দেবো।’

‘ দরকার নাই। অসহ্য কর একটা লোক।’ বিরক্তিকর মুখে বলে উঠলাম। ইহান কিছু বলবে সামনে থেকে কে যেনো ডেকে উঠলো চলে গেলো ইহান আমি উঁচু হয়ে দেখলাম তার ফ্রেন্ডের কাছে গিয়েছে আর কি যেনো বলে হাসাহাসি করছে।
রিসোর্টে গিয়ে পৌঁছালাম। ইহান আর আসেনি সিটে আমি শান্তিতে একা বসে ছিলাম। রিসোর্টের নাম মেঘপুঞ্জি রিসোর্ট। দল বেঁধে সবাই ভেতরে ঢুকলাম। আমি খোঁজে খোঁজে তুলির হাত জাপ্টে ধরলাম। একেক রুমে পাঁচ ছয়জন করে থাকতে দিয়েছে। এক বেডে আমি আর তুলি নিলাম। বাকি গুলোতে ও আছে। এসেই বাথরুমে থেকে হালকা ফ্রেশ হয়ে এসে বিছানায় গা এলিয়ে দিলাম।

তুলি এসে আমার উপর পরলো আমি ওকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিলাম উপর থেকে।

‘ আমার উপরে পরছিস কেন?’

তুলি এগিয়ে এসে আমার দিকে তাকিয়ে বললো, ‘ ইহান ভাই কি করলে রে তোকে নিয়ে গিয়ে?’

আমি ভ্রু- কুটি করে বললাম, ‘ হোয়াট কি করবে কি সব বলছিস?’

‘ তোরা একসাথে বসেছিলি তাই না?’ ঠোঁট টিপে হেসে।

‘ হুম। তো কি হয়েছে?’

‘ কিছুনা। ভাই আমাকে তখন কি বলেছে জানিস?’

আমি জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকালাম, ‘কি বলেছে?’

তুলি বললো, ‘ তুলি থ্যাঙ্ক ইউ। আমার ঊষার সাথে কিছু প্রাইভেট দরকার তাই ওকে ওই গাড়িতে নিলাম। মিথ্যে কথাতে সায় দেওয়ার ধন্যবাদ। তুই তখন মুক্তা আপুর সাথে চলে গেছিলি আমাকে তখন ভাইয়া এই কথা বলেছে। জিজ্ঞেস করেছি কি এসব তখন।’

‘ ওওও এতে কি সমস্যা? তুই এমন করে তাকিয়ে হাসছিস কেন তাহলে?’

‘ কি জানি আমার না খালি হাসি পাচ্ছে দোস্ত রাগ করিস না।’

‘ সব পাগল ছাগল আমার কাছে কেন আল্লাহ মাবুদ।’

বলেই পাশ ফিরে ঘুমিয়ে গেলাম। কাঁচা ঘুমে ষাঁড়ের মত চেঁচিয়ে টেনে তুললো তুলি। রাগে দুঃখে এখন আমার নিজের চুল টানতে ইচ্ছে করছে। সারা রাস্তা ঘুমাতে পারিনি। এতোটা জার্নি করে খুব ক্লান্ত আমি ঘুমাতে চাই কিন্তু না এই তুলির বাচ্চা আবার আমাকে টেনে তুললো কেন?

‘ সমস্যা কি তোর বলতো? এমন করছিস কেন? আমাকে কি একটু শান্তি তে ঘুমাতেও দিবি না। পার রাস্তা তো একা একা আড়ামসে ঘুমিয়ে এসেছিস আর আমি ওই হনুমান টার সাথে কতো কষ্ট এসেছি জানিস?’

‘ আরে ধুর আমার সাথে চিল্লাচিল্লি করছিস কেন? তারাতাড়ি উঠ। খাবি না খেতে ডেকে গেছে সবাই চলে ও গেছে। আমি আর তুই আছি খালি উঠ চল’

‘ আমি খাব না এখন আমার ঘুম পাচ্ছে।’

‘ দেখ ঊষা এখন এমন করিস না। পরে কিন্তু খিদে লাগলেও না খেয়ে থাকতে হবে। সারা রাত অবশ্যই না খেয়ে থাকতে পারবি না। তাই দয়া করে ঝামেলা না করে চল ডিনার করে আসি।’

‘ ধ্যাত।’

বিরক্তিকর মুখে উঠে চোখে মুখে পানি দিয়ে চুল আঁচড়ে ওরনা গলায় পেঁচিয়ে বেরিয়ে এলাম। সবাই খেতে বসে গেছে আমাদের ই দেরি হয়ে গেলো। ম্যাম কে সরি বলে খাবার খেতে বসে গেলাম। ভালোই খিদে পেয়েছিলো পেট পুরে খেয়ে উঠে দাঁড়ালাম। সবাই আগেই শুরু করেছিল তাই আগেই চলে গেছে আমরা কয়েকজন আছি রেস্টুরেন্টে। আম্মুকে কল ও করিনি রিংটোন বাজতেই কানে ধরে কথা বলতে বলতে বেরিয়ে এলাম। ইহান ও তার বন্ধুদের আমি দেখতে পেলাম তখন দল বেঁধে এগিয়ে আসছে আমাকে ক্রস করে চলে গেলো। আমি কথা বলতে বলতে ইহানের দিকে তাকিয়ে ছিলাম। ওরা চলে যেতেই চোখ সরিয়ে নিলাম। ফোন কেটে দিতেই হাতে টান পরলো ইহান আমার হাত টেনে ধরছে।

‘ আরে কি করছেন ছাড়ুন আমার হাত।’ হাত ছাড়ানোর প্রাণপণ চেষ্টা করতে লাগলাম। সবাই মিলে যাচ্ছে কোথায় আর আমাকেই বা কোথায় নিয়ে যাচ্ছে আল্লাহ এ কোন পাগলের পাল্লায় পরলাম। নিশ্চিত উনার মাথায় সমস্যা আছে।
বাগানে এসে বাকিরা গোল হয়ে বসেছে আমাকে ও তাদের সাথে নিয়ে গিয়ে বসালো ইহান নিজেও বসে পরলো।

আমি রেগেমেগে উঠে দাঁড়াতে যাব। ইহান আবার টান মেরে ঘাসের উপর বসিয়ে দিল।

ইহান আমার দিকে ঝুঁকে ফিসফিসিয়ে বললো,
‘ উঠছো কেন বসো!’

‘ না আমি এখানে বসবো কেন? ছাড়ুন দেখি আমার হাত। এমন অসভ্যের মতো আমাকে টেনে আনলেন কেন আপনি?’ ইহানের মতো আমিও ফিসফিস করে বললাম।

ইহান কিছু বলতে যাব তার আগেই ফারিয়ার ককর্শ আওয়াজ কানে এলো।‌দুজনে তার দিকে তাকালাম,

‘ এই তোরা দুজন কি গুজুর ফুজুর করছিস? আর এমন চিপকে বলেছিস কেন দুজন? ইহান ওই মেয়ে এখানে কি করছে?’

‘ আমি নিয়ে এসেছে কেন কোন প্রবলেম?’

‘ হুম প্রবলেম তো আছে। ওই মেয়ে আমাদের ফ্রেন্ডস আড্ডাতে কেন এসেছে বল?’

‘ বললাম ই তো আমি এনেছি।’

‘ তুই ওকে কেন আনবি?’

‘ তো কে আনবে?’

‘ আমি তোর কোন কথা বুঝতে পারছি না। ও খানে কেন?’

‘ আমাদের সাথে আড্ডা দিবে তাই। আর‌ আমি যেখানে থাকবে ঊষা তো সেখানেই থাকবে!’

‘ মানেএএএ

আমি কাচুমাচু মুখ করে তাকিয়ে আছি দুজনের দিকে।ওরা কথায় বিভোর এই সুযোগে আমি উঠে এক দৌড়ে ভেতরে চলে এলাম।

আপনার মতামত শেয়ার করুন!

গল্পটি কেমন লাগলো? আপনার চিন্তা, অনুভূতি বা প্রশ্ন নিচে জানান। লেখক আপনার মতামতের অপেক্ষায় আছেন!