প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬
এক চিলতে রোদ | হাত ধরা ও মিথ্যে নাটক
সমাপ্তএক চিলতে রোদ | সিজন ২ | পর্ব - ১৯
‘ কাল তুমি ওইভাবে পালিয়ে গেছিলে কেন?’ রাগী গলায় বলল ইহান।
আমি ঢোক গিলে বললাম, ‘ আপনি আমাকে ওখানে কেন নিয়ে গেছিলেন?’
‘ সব ভুলে গেছো। এইভাবে যদি আমার থেকে দূরে থাক তাহলে ফারিয়া বুঝবে কি করে আমার সাথে তোমার সম্পর্ক আছে। এতো টুকু কমন সেন্স ও নাই দেখছি তোমার।’
‘আপনার তো দেখছি সেন্সের অভাব নাই তাই না। খবিশ লোক একটা। আমার নূপুর দেন অনেক নাটক হয়েছে আর না।’
‘ তুমি আমার কোন হেল্প ই করোনি। উল্টা সব গন্ডগোল পাকিয়ে দিছো। এখন তুমি নূপুর চাচ্ছ। এটা আমি এই ঝুলন্ত ব্রিজে থেকে ফেলে দেবো।’
বলেই ইহান পকেট থেকে নূপুর বের করে আনলো। আমি চোখ বড়বড় করে হাতের দিকে তাকিয়ে আছি।
কি ডেঞ্জারাস ছেলে! মন চাচ্ছে উনাকে ধাক্কা মেরে নিচে ফেলে দেই। কিন্তু উনার সাথে তো আমার জিনিসটা চলে যাবে। তাই নিজের রাগকে কন্ট্রোল করলাম।
‘ আচ্ছা প্লিজ ফেলবেন না। আমি আর তর্ক করবো না এবার আপনার কথা মতোই চলবো।’
‘ সিউর তো আবার পাল্টি খাবে না তো?’
‘ ন না একদম না।’
‘ ওকে শেষবার বিশ্বাস করলাম যাও।’
ফারিয়াকে আসতে দেখা গেলো। ইহান তারাতাড়ি নূপুর পকেটে পুরে আমার দিকে এগিয়ে এলো। আর মুখ নিচু করে বললো,’ হেসে হেসে কথা বলো। আর আমার হাত ধরো।’
আমি দাঁত কিড়মিড় করে এক পা এগিয়ে এলাম। আর কথা না বলে দাত কেলাতে লাগলাম। নিজেকে কেমন জোকার লাগছে আমার। ইহান ও হাসছে। ফারিয়া কাছে আসতেই আমার হাত টেনে মুঠোয় বন্দি করে নিলো।
কিছু বলতেও পারছি না সহ্য ও করতে পারছি না। সবকিছু দাঁতে দাঁত চেপে সহ্য করে মুখে কৃত্রিম হাসি ঝুলিয়ে রেখেছি। ফারিয়া এসেই আমার দিকে কটমট চোখে তাকিয়ে ইহানের দিকে তাকালো।
‘ ইহান আমার তোর সাথে ইমপর্টেন্ট কথা আছে।’
‘ হুম বল।’
ফারিয়া বললো,’ এখানে না। তোর সাথে পার্সোনালি বলতে চাই। আমার সাথে আয়।’
বলেই ফারিয়া ইহানের ডান হাত ধরলো। আমি চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছি।
ইহান বিরক্ত হয়ে বলল, ‘ যা বলার এখানেই বল।’
‘ আমি যারতার সামনে বলবো না। শুধু তোকে বলবো আয় আমার সাথে।’
বলেই ইহান কে টানতে লাগলো আর ধপাস করে পরে গেলো। পায়ে ফারিয়ার উঁচু হিল ছিলো। আমি ফারিয়ার কান্ড দেখে ফিক করে হেসে উঠলাম। আমার হাসির শব্দ এ ফারিয়া অগ্নি দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকালো। ইহান আমার হাত ছাড়িয়ে ফারিয়াকে টেনে তুললো। ফারিয়া ক্রোধ নিয়ে আমার দিকে এগিয়ে এসে বললো,
‘ You smile so much when you see me.’
রাগে চিৎকার করে উঠলো। আমি সাথে সাথে হাসি থামিয়ে ফেললাম। ইহান এগিয়ে এসে ফারিয়াকে বললো,
‘ চল শুনি কি বলবি!’
‘ এই মেয়ে আমাকে ইনসাইড করলো তুই কিছু বললি না!’
‘ কি বলবো। তুই এমন ভাবে পরে গেছিস। আমার ই তো হাসি পেয়ে গেছে।’
‘ এই মেয়েকে পেয়ে তুই ফ্রেন্ড ভুলে গেলি ছিঃ।’
বলেই ফারিয়া চলে গেলো।
আমি ইহানের দিকে তাকিয়ে বললাম,’ ফারিয়া আপু আপনাকে অনেক ভালোবাসে। শুধু শুধু তার সাথে আপনি এমন করেন। তাকে একসেপ্ট করে নিলেই তো হয়।’
‘ও যে পরিমাণ পাগল। আমি ওকে এক্সেপ্ট করলে দুই দিনে আমাকে পাগল করে ফেলবে। আর ওকে আমি বন্ধু ছাড়া কিছুই ভাবি না আমার পক্ষে অন্য কিছু ভাবা সম্ভব না।’
‘ আপনার এই ঝামেলায় আমাকে না টানলে কি হতো না। উনি আমাকে কতো শত অভিশাপ দিচ্ছে আল্লাহ জানে। এই নূপুর হারিয়ে গেলে আমি সব চেয়ে খুশি হতাম। প্যারা একটা।’
বলেই চলে এলাম।
বিকেলে সূর্যস্ত দেখে রিসোর্টে ফিরলাম সবাই।কালকের দিনটায় আছে। রাতে ঢাকা ব্যাক করবে।
আম্মুকে কল দিলাম রুমে এসে। আজ সকালেও কথা বলতে পারিনি এখানে বেশি নের্টওয়ার্ক ও নাই। ফোন হাতে নিয়ে দেখেছি আম্মুর কয়েকটা কল কিন্তু আমি রিসিভ করতে পারিনি। সকালের কল সারাদিন আমি আজ ফোন হাতেই নেই। কয়েকবার কল দিলাম রিসিভ হলো না। আমার মনটা খারাপ হয়ে গেলো। কোন রকম ফ্রেশ হয়ে এসে ফোন হাতে বেরিয়ে এলাম। বারবার করে কল দিতাছে রিসিভ হলো না। মুখটা মলিন করেই দাঁড়িয়ে রইলাম। তখন ইহান আর ফারিয়াকে দেখলাম কি নিয়ে যেনো দুজন কথা কাটাকাটি করছে আমি শুনার ইচ্ছে টাকে দমাতে না পেরে এগিয়ে গেলাম।
‘ ইহান আই রিয়েলি লাভ ইউ। তুই ওই মেয়েটাকে ভালোবাসতে পারিস না। আমি জানি সব নাটক ওই মেয়ে তোর গার্লফ্রেন্ড হতেই পারেনা। তোদের নাটক আমি ধরে ফেলেছি। আমাকে একদম বোকা বানানোর চেষ্টা করবি না বলে দিচ্ছি।’
‘ তোকে আমি বোকা কেন বানাবো। সব সত্যি এটা ঠিক ঊষা আমাকে তেমন ভালো বাসে না কিন্তু আমি ওকে ভালোবাসি। এটা মিথ্যা না। আর আজ ওকে আমি প্রপোজ ও করবো তোর চোখের সামনেই। তারপর প্রেম করবো। তোকে আমি আগেই বলেছি আমি তোকে বন্ধুর বেশি ভাবতে পারি না তাই এমন আবদার আমাকে করবি না প্লিজ।’
আমি আরো কিছু শুনতে কান খাড়া করে দাঁড়িয়ে আছি। কিন্তু আর কোন শব্দ আসছে না দেখে মাথা তুলে দেখি দু’জনে ঝগড়া বাদ দিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। আমি থতমত খেয়ে গেলাম। সোজা হয়ে দাঁড়ালাম।
ফারিয়া ছুটে এসে আমার বাহু চেপে ধরে বললো, ‘ এই মেয়ে তুমি এখানে কি করছ বলো। লুকিয়ে লুকিয়ে আমাদের কথা শুনছিলে তাই না। শয়তান মেয়ে।’
‘ না তো, আমি আপনাদের কথা শুনতে যাব কেন? আমি তো ফোন করছিলাম। নের্টওয়ার্ক নাই তাই এদিকে এসেছি। আর আপনি আমাকে শয়তান বললেন কেন?’
কিছুটা ঝাঁঝ নিয়ে বললাম।
‘ কি মিথ্যা কথা? লুকিয়ে আমাদের কথা শুনছিলে আমি জানিনা বুঝেছ তাই না।’
‘ বুঝেছেন ভালো কথা হাত ছাড়ুন আমার। বলেই হাত ছাড়াতে লাগলাম। ফারিয়া আমার কথা শুনে রেগে গিয়ে চিৎকার করে উঠলো। আমি ভয়ে আতকে উঠলাম। কি পাগল মেয়ে রে বাবা। ইহান জোর করে আমাকে ছাড়ালো।
তারপর ফারিয়াকে ধমক দিয়ে আমাকে নিয়ে চলে এলো।
‘ ওখানে গেছিলা কেন?”
‘ বললাম ই তো ফোন করতে পারছি না তাই। কিন্তু আপনি উনাকে ওসব কি বললেন?’ ইহানের দিকে তাকিয়ে বললাম।
‘ কি বলেছি?’
‘ আপনি আমাকে ভালোবাসেন?’
আমার কথা শুনে ইহান হো হো করে হেসে উঠলো। আমি কপাল কুঁচকে তাকিয়ে বললাম, ‘ হাসির কি হলো। আপনি এসব বলেছেন কেন?’
‘ আরে আমি এসব বলেছি যাতে ফারিয়া আমার কথা বিশ্বাস করে তাই।’
‘ আরো অনেক কিছু বলেছেন আমি শুনেছি।’
‘ সব মিথ্যে বলেছি। আমার মনে হচ্ছে তুমি আমাদের কথা শুনতেই গেছিলাম।
আমি হতচকিয়ে গেলাম। আমতা আমতা করে বললাম,
‘ না তা না। আমি আম্মুকে কল করছিলাম। রুমে নেটওয়ার্ক কম তাই এই দিকে এসেছি সত্যি এই দেখুন আমার ফোন কতো বার কল করেছি। কিন্তু আম্মু আব্বু কেউই রিসিভ করছে না আমার দুঃচিন্তা হচ্ছে।’
ইহান ফোন দেখে বিশ্বাস করলো।
‘ চিন্তা করো না তারা হয়তো বিজি আছেন। ফোনের কাছে নাই পরে ফ্রী হলে কল করবে। ‘
‘ সারা দিন আজ কথা হয়নি।এখন কিসের ব্যস্ততা। যে দুজনেই একসাথে বিজি হয়ে গেলো!”
ইহান কি বলবে বুঝতে পারলো না।আমি মুখ কালো করে চলে এলাম। রাতের খাবার ও ঠিক মতো খেতে পারলাম না। এগারোটার দিকে আব্বুর নাম্বার থেকে কল দিলো। আর যা বললো তাতে পায়ের নিচ থেকে আমার মাটি সরে গেলো। আমি একটা চিৎকার দিয়ে উঠলাম। আমার চিৎকার এ রুমের সবাই ছুটে এলো আমার কাছে।
