নন্দিনী নীলা
নন্দিনী নীলা

প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬

এক চিলতে রোদ | রক্তাক্ত হাত ও বিয়ের প্রস্তাব

সমাপ্ত

এক চিলতে রোদ | সিজন ২ | পর্ব - ৩৭

০ ভিউ
০ মন্তব্য
১ মিনিট

ইহান আমার চোখের সামনে নিজের হাতে অনবরত ঘুসি মেরে হাত রক্তাক্ত করে ফেলল। মুখের দিকে তাকানো যাচ্ছে না। লাল হয়ে আছে অসম্ভব। আমি ভয়ে এক কোনে জড়োসরো হয়ে দাঁড়িয়ে আছি। বাসায় না এসে পার্কে এসেছে ইহান আমি ভেবেছি বেড়াতে কিন্তু না এসেই এরকম করে যাচ্ছে।আমি ভয়ে কিছু বলতে ও পারছি না। ইহান সেই একটা কথাই বলেছিল আর কথাও বলেনি। এমন রাগ ই বা কেন করছে। নিজেকে আঘাত‌ই বা করছে কেন? আমি আজকেই এই ইহানকে চিনতে পারছি না। এতোটা ভয়ংকর লাগছে তাকে। তার রক্তাক্ত হাতের দিকে তাকালে মাইল বুক কেঁপে উঠছে। ইহানকে আটকানোর সাহস ও দেখাতে পারছি না‌ আমি সেকেন্ড এ ভীতুর খাঁতায় নাম লিখিয়ে ফেলেছি। ইহান নিজেই নিজেকে শান্ত করে ফোন এগিয়ে নিয়ে এলো আমার কাছে। আর সেখানে একটা রেকর্ড শুনালো। যেখানে আমি আম্মুর কন্ঠ শুনতে পেলাম সাথে একটা পুরুষ ও আরেকটা মহিলার আওয়াজ। তাঁদের কথা বার্তা স্পষ্ট হলো তারা কি নিয়ে কথা বলছে‌। তারা বিয়ে নিয়ে আলোচনা করছে। আর বিয়েটা আমাকে নিয়ে। আর ওই অপরিচিত মহিলাটির ছেলেকে নিয়ে। তার ছেলের জন্য আমার কথা বলছে। আম্মু রাজি না হলেও না করছে না। হেসে হেসে ভদ্রতা স্বরুপ কথা বলছে। হঠাৎ মহিলাটা ছেলেটাকে নাম ধরে ডাকলো সাথে সাথে শুভ্র নামটা কানে এসে বাড়ি খেলো। আমি যেন আসমান থেকে ধপ করে জমিনের পরলাম। ইহান আগুন চোখে ঘাসের দিকে তাকিয়ে আছে। আমি ঢোক গিলে ইহানের দিকে তাকিয়ে আছি। এই শুভ্র আমাকে এই ভাবে ফাঁসালো। এবার আমার ও রাগ হচ্ছে। মা ছেলের পেটে এই ছিল। এজন্য সেইদিন মহিলাটা আমার দিকে তাকিয়ে ছিল ওমন করে।

‘আমি এসবে কিছু জানিনা বিশ্বাস করুন‌।’ ভয়ার্ত গলায় বললাম।

ইহান ফোনটা একটা আছাড় মেরে ভেঙে ফেলল।

‘ ওই ছেলের থেকে দূরে থাকতে বলেছিলাম। কিন্তু তুমি আমার কথা শুনো নি। আরো হেসে হেসে কথা বলেছ। এই সব কিছুর জন্য তুমি দায়ী ‌”

‘ আরে এমন করে বলছেন কেন? আমি কখনোই উনার সাথে কথা বলিনি। ওইদিন শুধু আপনার উপর একটু রাগ করে মজা করছিলাম। এছাড়া…

‘ তোমার সামান্য মজার জন্য কি হতে দেখতে পাচ্ছ! বুঝতে পারছো কিছু আমি তোমার ভালোর জন্য একটা কথা বলেছি আর তুমি তাতে রেগে আমাকে এরিয়ে চললে এটা কি ঠিক করেছো তুমি। আনসার মি।’

ইহান আমার কাঁধ ঝাঁকিয়ে চেঁচিয়ে উঠলো। আমি কিছু বলতে চাইলেও বলতে পারলাম না। ভয়ে আমার মুখের সমস্ত ভুলি অফ হয়ে গেছে। ইহান রেগে গেল আমার এমন নিরব চাহনী দেখে ও আমাকে ছেড়ে গাছের গোড়ায় জোরে লাথি মেরে চিৎকার করে বলল,

‘ ওই শালা কে আমি দেখে নেব‌। ও সব জানার পর ও আমার সাথে গেম খেলতে এসেছে ওর বিয়ের ভূত যদি না নামিয়েছি তো আমার নাম ইহান না‌।’

.
বাসার সামনে নামিয়ে দিয়ে ইহান চলে গেছে। আমি গুটিগুটি পায়ে হেঁটে লিফটে উঠলাম। আজকেও শুভ্র কে দেখলাম। শুভ্র দাত কেলিয়ে তাকিয়ে আছে আমার দিকে। আমার ইহান কথা মনে পরলো কি রাগ টাই না করছিল। সব এই ছেলেটার জন্য আমি তেরে তার কাছে গেলাম,

‘ আপনার সাহস কি কে হলো আমাদের বাসায় বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে যাওয়ায়।’

‘ কেন এখানে সাহসের কি আছে‌?’

‘ আপনি জানেন আমি ইহান ভাইকে ভালোবাসি তাও এমন কেন করলেন আপনার মতলবটা কা বলুন তো।’

‘ তোমার ওই ইহান আমাকে খুব বাজে ভাবে অপমান করেছিল জাস্ট তোমার সাথে সেইদিন কথা বলেছিলাম বলে। এটা ঠিক আই লাইক ইউ‌। তাই বলে উনি আমাকে থ্রেট দিতে পারেন না। একা অন্যায় আমার সাথে অপরাধ করেছে আমার গায়ে হাত তুলে। এবার আমি তোমাকেই ওর কাছ থেকে আলাদা করে দেব‌। দেখি ও কি করছ আটকায়।’

‘ ছিহহ আপনি এতো খারাপ। আপনাকে আমি এতোটা খারাপ ভাবিনি।’

‘ তোমার ভাবনায় তো আর সব হবে না তাই না। তোমার মাকে পটাতে না পারলেও বাবাকে পটিয়ে ফেলেছি। ইউ কামিং মাই লাইফে‌ ‘

‘ আপনাকে আমি জীবনে বিয়ে করবো না বলে রাখছি। আপনার মতো জঘন্য মানুষ আর একটাও দেখি আমি।’

রাগে আমার শরীর কাঁপছে। এত নির্লজ্জ বেহায়া কেউ হতে পারে?!!

.
বাসায় এসেই আম্মুকে জিজ্ঞেস করলাম এসব কি? আম্মু বললো।

‘ আমি কি জানি বাড়িওয়ালা মহিলাটা হঠাৎ এসেই এসব বলবে আমি জানতাম নাকি‌। কিন্তু তুই জানলি কি করে।’

আমি থতমত খেয়ে গেলাম। তারপর আমতা আমতা করে বললাম, ‘ উনার সাথে আমার দেখা হয়েছিল বাইরে।’

‘ ওহ। তুই এসব এ পাত্তা দিস না। আমি তোকে এতো তাড়াতাড়ি বিয়ে দেব না। তোর আব্বু আসুক উনার সাথে কথা বলে নিব।’

‘ আচ্ছা।’

আমি মনে মনে চিন্তিত হয়ে আছি। আব্বু কে কি রাজি করিয়েছে শুভ্র কি বললো কিছু তো বুঝতে পারলাম না। আমি ইহানকে কল করলাম।

‘ আমার খুব চিন্তা হচ্ছে শুভ্র আব্বুকে কি রাজি করিয়েছে বলল।’

‘ তুমি আবার ওর সাথে কথা বলেছো?’ রাগান্বিত স্বরে।

‘ না আসলে ওই জিজ্ঞেস করিছি।’

‘ তোমাকে সামনে পেলে থাপ্পড় দিয়ে দিতাম একটা ইডিয়েট। কথা কে বলতে বলেছে।’

‘ আমার খুব রাগ হয়ছিল তাই সামনে পেয়ে নিজেকে কন্ট্রোল করতে পারি নি।’

‘ যা করার আমি করবো। তোমাকে কিছু করতে হবে না।’

‘ ওকে।’

রাতে খাবার টেবিলে আব্বুর কাছে কথা তুললো আম্মু। আমি চুপচাপ খাচ্ছিলাম। আব্বু সব শুনে বলল,

‘ ছেলেটা তো ভালোই‌। আমার সাথে কথা হয়েছে কয়েকবার। আর ছেলের বাবা ও কথা বলেছে।’

‘ তুমি কি এই সমন্ধে তাহলে রাজি? এই বয়সেই মেয়েকে বিয়ে দিবে?’

‘ আমি কি তাই বলেছি নাকি। ছেলেটা ভালো জব করে। টাকা পয়সাও ভালোই আছে। ফ্যামিলির ব্যাকগ্ৰাউন্ড ও ভালো।’

‘ তো তোমার কি সিদ্ধান্ত?’

‘ আমি বলেছি। এই মুহূর্তে আমি আমার মেয়েকে বিয়ে দেব না।’

‘ ওহ ভালো করেছো না করে দিয়ে। যাক বাবা উনি এসে আমার সাথে এমন করছিল যেন আমার মেয়ে আমার অনুমতি ছাড়াই বিয়ে দিবেন ভাব একবার।’

‘ আমি না করিনি।’

‘ মানে তুমি তো না করেছো। এখন বিয়ে দিবেনা মানে তো নাই ই। আর উনার ছেলের বিয়ের বয়স হয়েছে। তার ছেলেকে কি আমার মেয়ের বিয়ের বয়স হ‌ওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করবেন নাকি। ক্লিয়ার করে বলো তো।’

‘ উনি এটাই বলেছে‌। ঊষার জন্য অপেক্ষা করবেন উনারা।’

‘ কি বলছো এসব তুমি। মুখের উপর না করতে পারো নি।’

‘ না কেন করবো। ছেলে ভালো তারা অপেক্ষা করতে চাইলে আমি না কেন করবো।’

‘ তুমি তাই এইভাবে বাজিয়ে রাখবে কেন। আর ভালো ছেলে নাই নাকি দুনিয়াতে।’

‘ আমি কি তাই বলেছি নাকি। উনাদের কথা দেয়নি কিন্তু উনারা বসে থাকলে থাক। পরে আমাদের ইচ্ছা হলে বিয়ে দেব না হলে নাই। ‘

‘ তবুও তুমি কাজটা ঠিক করো নি।’

‘ তুমি এতো হায়পায় হচ্ছ কেন সেটাই আমি বুঝতে পারছি না।’

আম্মু আর কিছু বললো না। আমিও আর খেতে পারলাম না। হাত ধুয়ে চলে এলাম। ইহানকে কল করলাম রিসিভ করলো না।

আমি এসব জানানোর জন্য পাগল পায় একবার ধরে ইহান ধমক দিয়ে ফোন অফ করে রাখল। আমি যেন কল কাটার আগে ওইখানে শুভ্র এর আওয়াজ পেলাম।

আপনার মতামত শেয়ার করুন!

গল্পটি কেমন লাগলো? আপনার চিন্তা, অনুভূতি বা প্রশ্ন নিচে জানান। লেখক আপনার মতামতের অপেক্ষায় আছেন!