{
    "_links": {
        "html": "https://golpohub.com/episodes/akash-e-tarar-mela-s1-ep15",
        "json": "https://golpohub.com/episodes/akash-e-tarar-mela-s1-ep15?format=json",
        "markdown": "https://golpohub.com/episodes/akash-e-tarar-mela-s1-ep15?format=md",
        "rss": "https://golpohub.com/episodes/akash-e-tarar-mela-s1-ep15?format=rss",
        "atom": "https://golpohub.com/episodes/akash-e-tarar-mela-s1-ep15?format=atom"
    },
    "seo": {
        "canonical_url": "https://golpohub.com/episodes/akash-e-tarar-mela-s1-ep15",
        "title": "আকাশে তারার মেলা পর্ব ১৫ - মধ্যরাতের রাস্তায় উন্মত্ত প্রতিরোধ | Akash E Tarar Mela Part 15",
        "description": "পড়ুন আকাশে তারার মেলা পর্ব ১৫। আদ্রকে অন্য মেয়ের কুপ্রস্তাব দেখে তুলির চরম আক্রমণ ও মধ্যরাতের রোমাঞ্চ!",
        "keywords": "আকাশে তারার মেলা পর্ব ১৫, আকাশে তারার মেলা ১৫, ১৫তম পর্ব, akash e tarar mela porbo 15, akash e tarar mela part 15, akashe tarar mela episode 15, akash e tarar mela part 15 link, তুলি, আদ্র, নীল শাড়ি, ঝগড়া",
        "image_url": "https://cdn.golpohub.com/covers/episodes/chapter-chapter-3029-6e7623.webp",
        "schema": {
            "@context": "https://schema.org",
            "@graph": [
                {
                    "@type": "Chapter",
                    "name": "মধ্যরাতের রাস্তায় উন্মত্ত প্রতিরোধ",
                    "position": 15,
                    "description": "পড়াশোনার অবহেলায় স্কেলের মার খেয়ে কাঁদা তুলিকে পরম মমতায় আপন করে নেয় আদ্র ও তার পরিবার। তবে রিমির বিয়ের হলুদে নীল শাড়িতে সজ্জিত তুলিকে মাঝরাস্তায় এক অচেনা নারীর কুরুচিপূর্ণ প্রস্তাবের মুখোমুখি হতে হয়। তুলির গায়ের রক্ত মাথায় উঠে গেলে সে যে চড় বসায়, সেই উন্মত্ত তুলিকে বুকে জড়িয়ে আদ্র কোন প্রতিশ্রুতির আশ্বাস দিল?",
                    "url": "https://golpohub.com/episodes/akash-e-tarar-mela-s1-ep15",
                    "inLanguage": "bn",
                    "timeRequired": "PT14M",
                    "datePublished": "2026-09-24T13:38:07+00:00",
                    "dateModified": "2026-09-24T13:41:46+00:00",
                    "wordCount": 2229,
                    "image": "https://cdn.golpohub.com/covers/episodes/chapter-chapter-3029-6e7623.webp",
                    "isPartOf": {
                        "@type": [
                            "BookSeries",
                            "CreativeWorkSeries"
                        ],
                        "name": "আকাশে তারার মেলা",
                        "url": "https://golpohub.com/series/akash-e-tarar-mela"
                    },
                    "author": {
                        "@type": "Person",
                        "name": "আসরিফা সুলতানা জেবা",
                        "url": "https://golpohub.com/authors/asrifa-sultana-zeba"
                    }
                },
                {
                    "@type": "BreadcrumbList",
                    "itemListElement": [
                        {
                            "@type": "ListItem",
                            "position": 1,
                            "name": "Golpo Hub",
                            "item": "https://golpohub.com"
                        },
                        {
                            "@type": "ListItem",
                            "position": 2,
                            "name": "সিরিজসমূহ",
                            "item": "https://golpohub.com/series"
                        },
                        {
                            "@type": "ListItem",
                            "position": 3,
                            "name": "আকাশে তারার মেলা",
                            "item": "https://golpohub.com/series/akash-e-tarar-mela"
                        },
                        {
                            "@type": "ListItem",
                            "position": 4,
                            "name": "মধ্যরাতের রাস্তায় উন্মত্ত প্রতিরোধ",
                            "item": "https://golpohub.com/episodes/akash-e-tarar-mela-s1-ep15"
                        }
                    ]
                }
            ]
        }
    },
    "filters": [],
    "data": {
        "id": 3029,
        "ep_number": 15,
        "title": "মধ্যরাতের রাস্তায় উন্মত্ত প্রতিরোধ",
        "slug": "akash-e-tarar-mela-s1-ep15",
        "url": "https://golpohub.com/episodes/akash-e-tarar-mela-s1-ep15",
        "reading_time": 14,
        "thumbnail_url": "https://cdn.golpohub.com/covers/episodes/chapter-chapter-3029-6e7623.webp",
        "yt_video_id": null,
        "yt_video_url": null,
        "timestamps": {
            "published_at": "2026-09-24T13:38:07+00:00",
            "updated_at": "2026-09-24T13:41:46+00:00"
        },
        "meta": {
            "word_count": 2229,
            "seo_title": "আকাশে তারার মেলা পর্ব ১৫ - মধ্যরাতের রাস্তায় উন্মত্ত প্রতিরোধ | Akash E Tarar Mela Part 15",
            "seo_description": "পড়ুন আকাশে তারার মেলা পর্ব ১৫। আদ্রকে অন্য মেয়ের কুপ্রস্তাব দেখে তুলির চরম আক্রমণ ও মধ্যরাতের রোমাঞ্চ!",
            "keywords": "আকাশে তারার মেলা পর্ব ১৫, আকাশে তারার মেলা ১৫, ১৫তম পর্ব, akash e tarar mela porbo 15, akash e tarar mela part 15, akashe tarar mela episode 15, akash e tarar mela part 15 link, তুলি, আদ্র, নীল শাড়ি, ঝগড়া",
            "characters_involved": [
                "তুলি",
                "আদ্র",
                "রাদিফ সাহেব",
                "সায়েরা বেগম",
                "রিমি"
            ]
        },
        "content": "বাহিরে তুমুল বেগে বর্ষণ হচ্ছে। বারান্দা দিয়ে সুড়সুড় করে হিমশীতল বাতাস এসে ঢুকছে রুমে। পুরো রুম জুড়ে ঠান্ডা হাওয়া বিরাজ করছে। হঠাৎ করেই বৃষ্টির আগমনে কিঞ্চিত শীতল স্রোত অনুভব করলেও ফুপিয়ে ফুপিয়ে কেঁদে যাচ্ছে তুলি। আদ্র তার সামনে বসে আছে স্কেল নিয়ে। হাত গুলো লাল হয়ে আছে বেচারির। এই নিয়ে পাঁচ বার স্কেলের বারি খেয়েছে। অপরাধ একটাই বায়োলজি বেঁটে খাওয়ালেও এই মেয়ের মস্তিষ্কে ঢুকবে না। কার্ডিয়াক চক্রের অংশ টা আদ্র অনেকবার বুঝিয়েছে কিন্তু তুলি পড়ায় মনোযোগ না দিয়ে গালে হাত রেখে ব্যস্ত ছিল আদ্র কে অবলোকন করতে। দু দিন পরেই ক্লাস টেস্ট কিন্তু এই মেয়ের পড়ালেখা নিয়ে কোনো মাথা ব্যাথা নেই। কোনোভাবেই আদ্র এটা মেনে নিতে পারছে না। প্রথম বার আদ্র ভালোভাবে বুঝিয়ে পড়ায় মনোযোগ দিতে বললেও বার বার সেইম কাজটাই করেছে তুলি। তুলির এহেন কান্ডে প্রচন্ড রেগে গেল আদ্র। আদ্রর রাগ মানেই তো মহা বিপদের সংকেত। অবশেষে তাই হলো যা হওয়ার। স্কেলের বারি খেয়ে এখন আহ্লাদী ভঙ্গিতে কাঁদতে ব্যস্ত তুলি। যদি একটু মায়া হয় আদ্রর আর তাকে রেহাই দেয় এই বায়োলজি নামক পেইন থেকে তাই কান্নার বেগ আরো বাড়িয়ে দিল। চোখ কটমট করে টেবিলে স্কেল দিয়ে জোরে একটা বাড়ি দিল আদ্র। কেঁপে উঠল তুলি। চেয়ার থেকে উঠে দৌড় মারার প্রস্তুতি নিল। এই লোক সাংঘাতিক। বনের হিংস্র বাঘ ও বোধহয় ওনার চেয়ে অনেক ভালো কথাটা ভেবেই পা বাড়াতে নিলেই হাতটা টেনে ধরল আদ্র। রাগী কন্ঠে বলে উঠল,,\n\n–“পালানোর চেষ্টা করবে না তুলা। পড়া টা কমপ্লিট করো জলদি। দেখো রাত দশটা বেজে গেছে। পড়াটা শেষ করো।”\n\nছলছল চোখে আদ্রর দিকে চাইল তুলি। সাথে সাথেই দু চোখ বন্ধ করে নিল আদ্র। চোখ বুঁজেই টিস্যু এগিয়ে দিয়ে গম্ভীর স্বরে বলল,,\n\n–” চোখ মুছে পড়ায় মনোযোগ দাও। আমি চোখ মেলে যদি তোমার চোখে এক ফোঁটা ও পানি দেখি এবার আর স্কেল দিয়ে মারব না সোজা ছাঁদ থেকে ফেলে দিব।”\n\nআদ্রের হুমকি শুনে চোখ মুছে মিনমিন করে পড়তে লাগল। আঁড়চোখে আদ্রর দিকে চাইতেই চোখ আঁটকে গেল আদ্রর নীলাভ চোখে। ঠোঁটের কোণে প্রস্ফুটিত হাসি। মিইয়ে কন্ঠে জিজ্ঞেস করল,,\n\n–“আমায় দেখতে থাকলে পড়বে কখন তুলা?”\n\n–“আপনি এতো সুন্দর হলে আমার চোখের কি দোষ বলেন তো ডাক্তার সাহেব! মন তো সারাক্ষণ আপনাকেই দেখতে চায়।”\n\nতুলির সোজাসাপ্টা জবাবে চমকে উঠল আদ্র। তুলির আবেগময় কথা তার মনে সবসময় অস্বাভাবিক ঝর তুলে। এখনও হচ্ছে। ইচ্ছে করছে তুলি কে বুকের মাঝে চেপে ধরতে। কপালে ভালোবাসার পরশ একে দিয়ে আগলে রাখতে। নিজের হাতের মুঠোয় হাত টা আঁকড়ে ধরে বলতে,,\n\n–“এতো আবেগী কথা বলবে না তুলা। সাতাশ বছরের যুবক টার জন্য কি তোমার একটুও মায় হয় না? সতেরো বছরের এক কিশোরী কন্যা তুমি অথচ আমাকে ভিতর থেকে নাড়িয়ে দেওয়া আমার জীবনে ধেয়ে আসা এক প্রকাণ্ড ঝড় তুমি।”\n\nতুলি কে পড়া টা ভালোভাবে বুঝিয়ে দিয়ে উঠে দাঁড়াল আদ্র। পা বাড়িয়ে দরজা পর্যন্ত গিয়ে ফিরে আসল আবারও। তুলি জিজ্ঞাসাসূচক দৃষ্টি নিক্ষেপ করতেই হাত টা টেনে লাল হয়ে যাওয়া হাতের ভাজে ঠোঁটের স্পর্শ বুলাল গভীরভাবে। তুলির হাতটা নিজের বুকের বা পাশে চেপে ধরল খুব যত্ন করে। ঈষৎ কেপে উঠল তুলি। শরীরের রন্ধে রন্ধে বয়ে গেল শিহরণ। আদ্রর হাতে নিবদ্ধ হাত টাও কাঁপতে লাগল প্রচন্ড। হাতটা আরেকটু শক্ত করে চেপে ধরে কোমল স্বরে বলে উঠল আদ্র,,\n\n–” তোমার চোখের পানি ঠিক এখানটায় এসে আঘাত করেছে। এখনও মৃদু ব্যাথা হচ্ছে। একটু আধটু শাসন না করলে তুমি পড়ায় মন দিতে পারতে না তাই বুকে পাথর চেপে নিজের অস্তিত্বে একটুখানি ব্যাথা দিয়েছি। এখন মনে হচ্ছে তোমাকে শাসন ও করতে পারব না আমি। দিন দিন ভীষণ দুর্বল হয়ে পড়ছে আমার হার্ট টা। হৃদস্পন্দন ও স্বাভাবিকভাবে হয় না।”\n\nহাতটা ছেড়ে দিয়ে তুলির কপালে চুমু একে দিল আদ্র। স্তব্ধ হয়ে বসে আছে তুলি। তার হার্ট টাও যে দুর্বল হয়ে পড়েছে। আদ্রর কথাগুলো কানে ঝংকার তুলে প্রতিধ্বনিত হতে লাগল বার বার। অক্ষি যুগল আটকে আছে আদ্রর যাওয়ার পানে চেয়ে। হাত টা এখনও কাঁপছে। আদ্র চলে যেতেই উঠে দাঁড়াল । আমরিনের রুমে যাওয়ার জন্য ঘুরে দাঁড়াতেই তুলির চোখ গেল দরজায়। রাদিফ সাহেব দাড়িয়ে আছেন।তুলির মুখে হাসি ফুটে উঠল। আলতো হেসে বলল,\n\n–“ভিতরে আসুন খালু।”\n\nরাদিফ সাহেব এসে চেয়ারে বসলেন। তুলি বিছানায় বসে নম্র স্বরে বলল,,\n\n–“কিছু বলবেন খালু?”\n\nহালকা হাসলেন তিনি। তুলির মাথায় হাত রেখে জিজ্ঞেস করলেন,,\n\n–“তুই কি আমার সাথে রাগ করেছিস মা?”\n\n–“না খালু। রাগ করব কেন? আপনার সাথে আমার কোনো রাগ নেই। আমি জানি আপনি যা করেছেন সবার ভালোর কথা ভেবেই করেছেন।”\n\n–“আমি আমার ছেলের ভালো টা বুঝতে পারি নি মা। সবসময় আমার সব ডিসিশন চাপিয়ে দিয়েছি ওর উপর। এতো একরোখা, রাগী মানুষ হয়েও আমার কথাগুলো অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছে সর্বদা। কোনোদিনও আমার কোনো কথার অবাধ্য হয় নি। তোর বেলায় হয়েছে। তোকে পাওয়ার জন্য আমার সামনে মাথা নত করে চোখের জল ফেলেছে। কিন্তু আমি ওর এই একটা আবদার মেনে নিতে পারি নি। আমার জন্য অনেক কষ্ট পেয়েছে। আমি যে মেয়ের ভালো চেয়েছি এমনটা নয়। আমি আমার ছেলের ভালো চাইতে গিয়ে ওকে দিনের পর দিন কষ্ট দিয়ে ফেলেছি। তুই তো আদ্রর থেকে বয়সে অনেক ছোট। আমার মনে হতো আদ্রর মনে তোর জন্য জেগে উঠা ভালোবাসা টা ভুল। নিজের ছেলের জন্য তো আমি তোর সাথে অন্যায় করতে পারি না। তোর ও ভালো লাগা আছে। তোর মনেও বয়সের সাথে কারো না কারো জন্য ভালোবাসা জাগতে পারে সেটা ভেবে পিছিয়ে পড়ি আমি। সামিরার সাথে বিয়ে ঠিক করি। আমি ভেবেছিলাম সামিরা কে বিয়ে করলে আদ্র ঠিক হয়ে যাবে। ভুলে যাবে তোকে। কিন্তু আমি ভুল ছিলাম। তুই আমাকে ভুল প্রমাণ করে দিলি। আমি কখনও ভাবতেও পারি নি তুই আদ্র কে ভালোবাসবি। আমি অনেক খুশি হয়েছি। কিন্তু আমি ভালো বাবা হয়েও উঠতে পারি নি তুলি। নিজের ছেলের মনের কথা বুঝেও কঠোর হয়ে ছিলাম।\n\nকথাগুলো বলতে বলতে কেঁদে দিলেন আদ্রর বাবা। গম্ভীর মানুষ গুলোকে সহজে কাঁদতে দেখা যায় না। কোনো চাপা কষ্টের কারণেই তাদের চোখে থেকে ঝরে পড়ে জল। মলিন চোখে তাকিয়ে রইল তুলি। বাবার বয়সী এই লোক টা কে কাঁদতে দেখে খুব কষ্ট হচ্ছে তার। কন্ঠে জড়তা নিয়ে বলল,,\n\n–” নিজেকে সামলান খালু। আদ্র ভাইয়া আপনাকে খুব ভালোবাসে। একবার কাছে টেনে নিন দেখবেন আপনার ছেলের জমে থাকা সব কষ্ট, অভিমান উদাও হয়ে গেছে। আপনি তো আমার ও আদ্রর ভালোই চেয়েছিলেন। এখন শুধু দোয়া করবেন আমাদের জন্য। সব ঠিক হয়ে যাবে।”\n\n–“তুই ঠিক তোর মায়ের মতো। তোর মা ও ঠিক এমন করেই শান্তনা দিত। যেদিন তোর খালার বিয়ের তারিখ নির্ধারণ হয়ে গিয়েছিল আমি প্রায় পাগল হয়ে গিয়েছিলাম। তোর মা ভরসা দিয়েছিল আমায় যে তোর খালার বিয়ে টা হতেই দিবে না। বয়সে ছোট থাকলেও তোর মতই বেশ সাহসী ছিল। তোর খালা কে আমার সাথে পালাতে সাহায্য করেছে। ”\n\n–“আম্মু বলেছিল। তারপর বড় নানা ভাই অনেক বকেছিল আম্মু কে। আর নানু তো অনেক মেরেছিল আম্মু কে। টানা সাত দিন গায়ে জ্বর ছিল আম্মুর। এসব শুনে সবাই তো হেসে কুটিকুটি। ”\n\n–” আমি অনেক খুশি। মন থেকে খুশি যে রানুর মেয়ে আমার ছেলের বউ হবে। প্রথমে চিন্তা থাকলেও এখন সব চিন্তা দূর হয়ে গেছে। আমার ছেলে টা তোর জন্য জীবন দিতেও পিছুপা হবে না। ওকে কখনও কষ্ট দিস না মা। তোরা সুখে থাকলে আমি খুব শান্তি পাব।”\n\n–” আপনার ছেলের ধারে কাছে ও কখনও কষ্ট, দুঃখ কে ঘেষতে দিব না খালু। দোয়া করবেন আমি যেন বেস্ট পুত্রবধূ হতে পারি।”\n\nতুলির কথায় হেসে দিলেন রাদিফ সাহেব। তুলিও হাসতে লাগল তাল মিলিয়ে। আমাদের ভাবনা একটা গম্ভীর প্রকৃতির মানুষ হয়তো নিষ্ঠুর হয়। কিন্তু কখনও কখনও আড়ালে নরম প্রকৃতির একটা রূপ ও লুকিয়ে থাকে।\n__________\nনীল একটা শাড়ি হাতে নিয়েই আয়নায় নিজেকে ঘুরে ঘুরে দেখছে তুলি। আজ রিমি ও সাগরের গায়ে হলুদ। সময় তো প্রবাহমান। কারো জন্যই থেমে থাকে না। দেখতে দেখতে কতোগুলো দিন কেটে গেল। শাড়ি টা আজ বিকালে এনে দিয়েছে আদ্র। শাড়ির আঁচল টা মাথায় দিয়ে লাজুক হাসল তুলি। সায়েরা বেগম দ্রুত পা চালিয়ে ছুটে এল তুলির রুমে। ঢুকতে ঢুকতে বললেন,,\n\n–“বাহ! বেশ সুন্দর লাগছে তো আমার বউ মা কে। তা আঁচল মাথায় দিয়ে রাখলে চলবে? পড়তেও তো হবে। আদ্র তো চলে আসবে এখনই।”\n\nলজ্জায় চুপসে গেল তুলি। শাড়ি টা সায়েরা বেগমের হাতে ধরিয়ে দিয়ে বলল,,\n\n–“পরিয়ে দাও খালা মণি। আমরিন যাবে না?”\n\n–“ওর শরীর টা একটু খারাপ। কাল যাবে বিয়েতে।”\n\nশাড়ি টা পড়াতে পড়াতে জবাব দিলেন সায়েরা বেগম। খুব সুন্দর করে শাড়িটা পড়িয়ে দিয়ে তুলির দিকে মুগ্ধ নয়নে তাকালেন।\n\n–” তোকে একদম বউ বউ লাগছে তুলি। আমার তো এখনই ইচ্ছে করছে তোকে ধরে বেধে আমার ছেলেটার বউ বানিয়ে দিতে। শাড়ি তে তোর বয়স টাই ধরা যায় না।”\n\n–” আমার লজ্জা করছে খালা মণি।”\n\nহেসে উঠলেন সায়েরা বেগম। তাড়া দিয়ে চুল টা বেঁধে দিলেন সুন্দর করে। খোপায় গেঁথে দিলেন একটা সাদা গোলাপ। সম্পূর্ণ রেডি হয়ে তুলি নিচে নেমে এল হাতে মোবাইল টা নিয়ে। সোফায় বসে অপেক্ষার প্রহর গুণতে লাগল আদ্রর জন্য। বিকেলে এসে আদ্র আবারো হসপিটালে চলে গেছে। ফোনে মেসেজের আওয়াজ আসতেই উঠে দাঁড়াল তুলি। হাঁটতে হাঁটতে মেসেজ টা ওপেন করতেই মুখে ফুটে উঠল হাসির ছাপ। তুলি জানত মেসেজ টা আদ্রই পাঠিয়েছে। ” ঝটপট গাড়ির কাছে চলে এসো তুলা”। মেসেজ টা পড়ে পায়ের গতি আরও বাড়িয়ে দিল তুলি। গাড়ির কাছে আসতেই দরজাটা খুলে দিল আদ্র। ভিতরে বসে আদ্রর দিকে চোখ ফিরিয়ে চাইতেই থমকে গেল তুলি। নীল পাঞ্জাবি পড়েছে আদ্র। ফর্সা চেহারা তে নজরকাড়া হাসি। হয়তো হসপিটাল থেকেই রেডি হয়ে এসেছে। তুলির চোখ জুড়িয়ে যাচ্ছে বার বার। শত চেষ্টা করেও চোখ সরাতে পারছে না সে। আদ্র এক দৃষ্টিতে সামনের দিকে তাকিয়ে আছে। গাড়ি স্টার্ট দিতেই ধ্যান ভাঙল তুলির। ধীর স্বরে বলে উঠল,,,\n\n–“আপনি আমার দিকে তাকাচ্ছেন না কেন আদ্র?”\n\n—” তোমার দিকে তাকালে যে ভয়ংকর কিছু ঘটে যাবে তুলা।”\n\nদৃষ্টি সামনে রেখেই ঘোর লাগা কন্ঠে কথাটা বলল আদ্র। তুলি রোবটের ন্যায় চক্ষু স্থাপন করে রইল আদ্রের দিকে। আদ্রর কথার মানে বুঝার চেষ্টায় লেগে পড়েছে তার মস্তিষ্ক। সারা রাস্তাই আদ্রর দিকে কাটিয়ে পাড় করে দিল মেয়েটা। তবুও খুঁজে পেল না আদ্রের সেই কথার মানে। গাড়ি থেকে বের হতেই আদ্র মুচকি হেসে জিজ্ঞেস করল,,,\n\n–“চোখ ব্যাথা করছে নাতো?”\n\nতুলি যেন এখনও কোনো ঘোরের মাঝে ডুবে আছে। আনমনেই মাথা নেড়ে না বুঝাল। আলতো হেসে তুলির এক হাত টেনে কমিউনিটি সেন্টারে প্রবেশ করল আদ্র। মেয়েটা বড্ড অবুঝ। রিমি তুলি কে দেখতে পেয়েই জড়িয়ে ধরল।\n\n–“কেমন আছো তুলি?”\n\n–“আলহামদুলিল্লাহ আপু। শুভ কামনা তোমার নতুন জীবনের জন্য। ”\n\n–” তোমাকে ও অগ্রিম শুভ কামনা তোমার ও আদ্রের বিয়ের জন্য। ”\n\nপায়েল, অন্তু,সাগর, নিবিড় ও শুভ কামনা জানাল। আফসোসের সুরে অন্তু আদ্রের দিকে তাকিয়ে বলল,,\n\n–” ইশশ! কত কষ্টদায়ক যে অপেক্ষা করা। পিচ্চি মেয়েদের প্রেমে পড়লে এই এক জ্বালা। অপেক্ষা করতে থাকো। করতে করতে বুড়ো হয়ে যাও।”\n\nঅন্তুর কথা শুনে লজ্জায় মাথা নত করে ফেলল তুলি।আদ্র তুলি কে এক হাতে জড়িয়ে নিয়ে অন্তুর উদ্দেশ্যে বলল,,\n\n–” মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ও আমি অপেক্ষা করতে রাজি।”\n\nসবাই হই হুল্লোড় করে বলে উঠল,,–” ইহাই তো টুরু লাভ।”\n\nআদ্র মুগ্ধ হাসি উপহার দিয়ে বলল,,–“দেখবি আমাদের প্রণয় কাহিনী একদিন তোরা তোদের নাতি-নাতনীদের শুনাবি।”\n\nএক রাশ হাসি হাসল সবাই। মেতে উঠল অনুষ্ঠানে। তুলির এসব অনুষ্ঠানে ভীষণ অস্বস্তি লাগে। ক্লান্তি ও ঘিরে ধরে। শুধুমাত্র রিমির জন্যই আসা। বারোটা বেজে গেছে। সবাই কে বিদায় জানিয়ে বেরিয়ে এল সেন্টার থেকে। গাড়িতে বসেই তুলির খালি কোমরে আঁকড়ে ধরে নিজের একদম কাছে টেনে নিয়ে আসল আদ্র। আচানক হামলায় প্রচন্ড জোরে কেঁপে উঠল তুলির হৃদপিণ্ড। আদ্রর চোখে চোখ রাখতেই নিজেকে সামলানো বেগতিক হয়ে পড়ল তুলির। চোখ দুটো তে মুগ্ধতার ছাপ। ঠোঁটে লেগে আছে অমায়িক হাসি। দমবন্ধ হয়ে আসছে তুলির। এই হাসি তুলির মনে মাদকতার মতো কাজ করে। আদ্র নিজের গাল টা এগিয়ে তুলির গালে স্লাইড করল আলতো করে। তুলির কানের পাতায় ঠোঁট ছুঁয়ে দিল। শাড়িতে খামচে ধরল তুলি নিজের দু হাত। কানের কাছে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে আদ্রর স্লো ভয়েস।\n\n–” বলেছিলাম না ভয়ংকর কিছু ঘটে যাবে?”\n\nদু চোখ বুঁজে আদ্রর বুকে মাথা এলিয়ে দিল তুলি। নিশ্চুপ থাকা ছাড়া আর কোনো পথ দেখছে না সে। হৃদপিণ্ডের দ্রুত গতিতে উঠানামা ক্ষণে ক্ষণে কাঁপিয়ে তুলছে তাকে। এক হাতে তুলি কে জড়িয়ে গাড়ি স্টার্ট দিল আদ্র। সমস্যা বাঁধল মাঝ পথে এসে। গাড়ি বন্ধ হয়ে যেতেই ঘুম ঘুম চোখে মাথা তুলে তাকাল তুলি।\n\n–“কি হয়েছে আদ্র?”\n\n–” গাড়ির চাকা হয়তো পাঞ্চার হয়ে গেছে। এক্সট্রা চাকা ও তো নেই গাড়িতে।”\n\n–” এখন আমরা বাড়িতে কিভাবে যাব আদ্র?”\n\nআঁতকে উঠে কথাটা উচ্চারণ করল তুলি।\n\n–” দেখি গাড়ি পায় কিনা!”\n\nরাস্তার কিনারায় আদ্রর বাহুতে হাত জরিয়ে মাথা ঠেকিয়ে দাঁড়িয়ে রইল তুলি। কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার পরও কোনো গাড়ি না পেয়ে বাড়ির ড্রাইভার কে কল করার জন্য মোবাইল টা বের করতেই একটা মেয়ে এসে বলে উঠল,,,\n\n–” ওও স্যার পাশের মাইয়া ডার থাইক্কা আমি বহুত সুন্দর। আপনে আমারে লইয়া যান। কম টেকা দিলেও হইব। আপনি যা হ্যান্ডসাম,,\n\nকথাটা তুলির কর্ণপাত হতেই চড়চড় করে রক্ত উঠে গেল মাথায়। কষিয়ে থাপ্পড় মেরে দিল মেয়েটার গালে। হতভম্ব হয়ে গেল আদ্র। কলে ব্যস্ত থাকায় ভালোভাবে খেয়াল করে নি সে। তুলির রাগী মুখ দেখে বিস্ময়ে থ মেরে গেল। থাপ্পড় মেরে ক্ষান্ত হয় নি তুলি। তেড়ে গেল মেয়েটার দিকে। গলা চিপে ধরতেই পিছন থেকে কোমর ধরে টেনে আনল আদ্র। তুলি লাগাতার চিল্লিয়ে বলতে লাগল,,\n\n–” অসভ্য মাইয়া। তোরে আজ মেরে ফেলমু আমি। আমার আদ্রর দিকে তাকাইলি কেন? আমার আদ্র কে বাজে অফার করস? তোর চোখ খুলে ফেলমু আজ। হাত ভেঙে ফেলমু। জিহ্বা কেটে হাতে ধরিয়ে দিমু।”\n\nকথাগুলো বলে হাত -পা ছুড়তে লাগলে অনবরত। হাতের কনুই গিয়ে বিধছে আদ্রর বুকে। ব্যাথা পেলেও দাঁত চেপে সহ্য করে নিচ্ছে। বড় বড় শ্বাস ফেলে মেয়ে টা ভয়ে দৌড় লাগাল কোনোদিকে না তাকিয়ে। তুলির ছুটাছুটি থামানোর কোনো উপায় না পেয়ে ঘুরিয়ে নিজের সাথে শক্ত করে চেপে ধরল আদ্র। আদ্রর বুকে মাথা রেখে ডুকরে কেঁদে উঠল তুলি\n। বুকটা ধুক করে উঠল আদ্রর। অস্থিরতা ফুটে উঠল চোখে মুখে । তুলির মুখটা দু’হাতে আগলে নিয়ে বলল,,,\n\n–“কাঁদছো কেন?”\n\n–” আমি কখনও আপনাকে অন্য কারো হতে দিব না আদ্র। আপনি আমার থাকবেন সবসময়। থাকবেন তো?”\n\n–” থাকবো। এখন কান্না অফ করো। বলেছি না তোমার চোখের পানি আমার হৃদয়ে রক্ত হয়ে ঝড়ে?”\n\n–” হু।আরেকটা ভয়াবহ কান্ড ঘটে গেছে আদ্র। “( মলিন স্বরে)\n\n—” কি?”(ভ্রু কুঁচকে)\n\n–“শাড়ির কুঁচি গুলো বোধহয় খুলে পড়ে যাবে।”\n\nকরুন সুরে কথাটা বলল তুলি। আদ্রর ভীষণ হাসি পেল তুলির কথা শুনে। ঠোঁট দুটো প্রসারিত করে বলল,,,\n\n–” কুঁচি গুলো ধরে রাখতে পারবে তো?”\n\n–“হুম।কিন্তু! ”\n\n–“ব্যাস! তাহলে আরকি। চলেন তুলা রাণী।”\n\nতুলি কে কোলে তুলে নিল আদ্র। এক হাতে আদ্রর পাঞ্জাবি খামচে ধরে অন্য হাতে কুঁচি গুলো চেপে ধরে রাখল তুলি। এক নজরে তাকিয়ে রইল আদ্রর হাসোজ্জল মুগ্ধময় চেহারার দিকে। প্রশান্তির বাতাস ছেয়ে গেল মনে। তুলির ছোট্ট মনের একটাই প্রত্যাশা চিরকাল এই প্রশান্তির বসবাস থাকুক তার অন্তর জুড়ে।",
        "series": {
            "id": 82,
            "title": "আকাশে তারার মেলা",
            "slug": "akash-e-tarar-mela",
            "url": "https://golpohub.com/series/akash-e-tarar-mela",
            "thumbnail_url": "https://cdn.golpohub.com/covers/series-akase-tarar-mela-82-8ed3f1.webp",
            "progress_status": "ongoing"
        },
        "author": {
            "id": 62,
            "name": "আসরিফা সুলতানা জেবা",
            "slug": "asrifa-sultana-zeba",
            "url": "https://golpohub.com/authors/asrifa-sultana-zeba",
            "avatar_url": "https://cdn.golpohub.com/avatars/author-asrifa-sultana-jeba-62-2114fe.webp",
            "bio": "আসরিফা সুলতানা জেবা সমসাময়িক বাংলা অনলাইন সাহিত্যের একজন আবেগপ্রবণ ও পাঠকপ্রিয় কথাশিল্পী। তাঁর লেখনীতে যৌথ পরিবারের বন্ধন, সম্পর্কের গভীরতা, তীব্র আবেগ, মনস্তাত্ত্বিক টানাপোড়েন এবং বিয়োগান্ত প্রেমের আকুলতা অত্যন্ত জীবন্তভাবে ফুটে ওঠে। চরিত্রের অন্তর্বেদনা ও আত্মত্যাগের মর্মস্পর্শী উপস্থাপনায় তিনি পাঠকহৃদয়ে স্থায়ী আসন করে নিয়েছেন।",
            "series_count": 0,
            "meta": {
                "bio": "আসরিফা সুলতানা জেবা সমসাময়িক বাংলা অনলাইন সাহিত্যের একজন আবেগপ্রবণ ও পাঠকপ্রিয় কথাশিল্পী। তাঁর লেখনীতে যৌথ পরিবারের বন্ধন, সম্পর্কের গভীরতা, তীব্র আবেগ, মনস্তাত্ত্বিক টানাপোড়েন এবং বিয়োগান্ত প্রেমের আকুলতা অত্যন্ত জীবন্তভাবে ফুটে ওঠে। চরিত্রের অন্তর্বেদনা ও আত্মত্যাগের মর্মস্পর্শী উপস্থাপনায় তিনি পাঠকহৃদয়ে স্থায়ী আসন করে নিয়েছেন।",
                "pen_name": "আসরিফা সুলতানা জেবা",
                "aliases": [
                    "Asrifa Sultana Zeba",
                    "জেবা",
                    "আসরিফা জেবা"
                ]
            },
            "timestamps": {
                "created_at": null,
                "updated_at": null
            }
        },
        "navigation": {
            "previous_episode": {
                "id": 3028,
                "ep_number": 14,
                "title": "পারিবারিক চক্রান্তের জাল ও আংটি বদল",
                "slug": "akash-e-tarar-mela-s1-ep14",
                "url": "https://golpohub.com/episodes/akash-e-tarar-mela-s1-ep14",
                "thumbnail_url": "https://golpohub.com/assets/images/og.jpg"
            },
            "next_episode": {
                "id": 3030,
                "ep_number": 16,
                "title": "মদবিহ্বল ছাদ ও সুইমিংপুলের পতন",
                "slug": "akash-e-tarar-mela-s1-ep16",
                "url": "https://golpohub.com/episodes/akash-e-tarar-mela-s1-ep16",
                "thumbnail_url": "https://golpohub.com/assets/images/og.jpg"
            }
        }
    }
}