{
    "_links": {
        "html": "https://golpohub.com/episodes/akash-e-tarar-mela-s1-ep25",
        "json": "https://golpohub.com/episodes/akash-e-tarar-mela-s1-ep25?format=json",
        "markdown": "https://golpohub.com/episodes/akash-e-tarar-mela-s1-ep25?format=md",
        "rss": "https://golpohub.com/episodes/akash-e-tarar-mela-s1-ep25?format=rss",
        "atom": "https://golpohub.com/episodes/akash-e-tarar-mela-s1-ep25?format=atom"
    },
    "seo": {
        "canonical_url": "https://golpohub.com/episodes/akash-e-tarar-mela-s1-ep25",
        "title": "আকাশে তারার মেলা পর্ব ২৫ - চার মাসের নরক ও জ্যান্ত লাশের আর্তনাদ | Akash E Tarar Mela Part 25",
        "description": "পড়ুন আকাশে তারার মেলা পর্ব ২৫। চার মাস ধরে নিখোঁজ তুলিকে খুঁজে উন্মাদ আদ্রর অসুস্থতা ও আর্তনাদ!",
        "keywords": "আকাশে তারার মেলা পর্ব ২৫, আকাশে তারার মেলা ২৫, ২৫তম পর্ব, akash e tarar mela porbo 25, akash e tarar mela part 25, akashe tarar mela episode 25, akash e tarar mela part 25 link, আদ্র, তুলি, বিচ্ছেদ, নিবিড়",
        "image_url": "https://cdn.golpohub.com/covers/episodes/chapter-chapter-3039-6957fa.webp",
        "schema": {
            "@context": "https://schema.org",
            "@graph": [
                {
                    "@type": "Chapter",
                    "name": "চার মাসের নরক ও জ্যান্ত লাশের আর্তনাদ",
                    "position": 25,
                    "description": "চারটি দীর্ঘ মাস ঢাকার অলিগলি আর দেশের আনাচে-কানাচে নিজের হারানো বউকে খুঁজে উন্মাদপ্রায় রূপ নিয়েছে ডাক্তার আদ্র। ডাক্তারি ছেড়ে দিয়ে রাতের অন্ধকারে বাবার পা জড়িয়ে কেঁদে ওঠা আদ্রর রক্তবমি ও হৃদরোগের জটিলতা দেখে পরিবার স্তব্ধ হয়ে যায়। কিন্তু তুলি কি আদৌ জীবিত আছে, নাকি সে স্বেচ্ছায় দূরে গিয়ে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করছে?",
                    "url": "https://golpohub.com/episodes/akash-e-tarar-mela-s1-ep25",
                    "inLanguage": "bn",
                    "timeRequired": "PT12M",
                    "datePublished": "2026-09-24T13:38:07+00:00",
                    "dateModified": "2026-09-24T13:41:46+00:00",
                    "wordCount": 1892,
                    "image": "https://cdn.golpohub.com/covers/episodes/chapter-chapter-3039-6957fa.webp",
                    "isPartOf": {
                        "@type": [
                            "BookSeries",
                            "CreativeWorkSeries"
                        ],
                        "name": "আকাশে তারার মেলা",
                        "url": "https://golpohub.com/series/akash-e-tarar-mela"
                    },
                    "author": {
                        "@type": "Person",
                        "name": "আসরিফা সুলতানা জেবা",
                        "url": "https://golpohub.com/authors/asrifa-sultana-zeba"
                    }
                },
                {
                    "@type": "BreadcrumbList",
                    "itemListElement": [
                        {
                            "@type": "ListItem",
                            "position": 1,
                            "name": "Golpo Hub",
                            "item": "https://golpohub.com"
                        },
                        {
                            "@type": "ListItem",
                            "position": 2,
                            "name": "সিরিজসমূহ",
                            "item": "https://golpohub.com/series"
                        },
                        {
                            "@type": "ListItem",
                            "position": 3,
                            "name": "আকাশে তারার মেলা",
                            "item": "https://golpohub.com/series/akash-e-tarar-mela"
                        },
                        {
                            "@type": "ListItem",
                            "position": 4,
                            "name": "চার মাসের নরক ও জ্যান্ত লাশের আর্তনাদ",
                            "item": "https://golpohub.com/episodes/akash-e-tarar-mela-s1-ep25"
                        }
                    ]
                }
            ]
        }
    },
    "filters": [],
    "data": {
        "id": 3039,
        "ep_number": 25,
        "title": "চার মাসের নরক ও জ্যান্ত লাশের আর্তনাদ",
        "slug": "akash-e-tarar-mela-s1-ep25",
        "url": "https://golpohub.com/episodes/akash-e-tarar-mela-s1-ep25",
        "reading_time": 12,
        "thumbnail_url": "https://cdn.golpohub.com/covers/episodes/chapter-chapter-3039-6957fa.webp",
        "yt_video_id": null,
        "yt_video_url": null,
        "timestamps": {
            "published_at": "2026-09-24T13:38:07+00:00",
            "updated_at": "2026-09-24T13:41:46+00:00"
        },
        "meta": {
            "word_count": 1892,
            "seo_title": "আকাশে তারার মেলা পর্ব ২৫ - চার মাসের নরক ও জ্যান্ত লাশের আর্তনাদ | Akash E Tarar Mela Part 25",
            "seo_description": "পড়ুন আকাশে তারার মেলা পর্ব ২৫। চার মাস ধরে নিখোঁজ তুলিকে খুঁজে উন্মাদ আদ্রর অসুস্থতা ও আর্তনাদ!",
            "keywords": "আকাশে তারার মেলা পর্ব ২৫, আকাশে তারার মেলা ২৫, ২৫তম পর্ব, akash e tarar mela porbo 25, akash e tarar mela part 25, akashe tarar mela episode 25, akash e tarar mela part 25 link, আদ্র, তুলি, বিচ্ছেদ, নিবিড়",
            "characters_involved": [
                "আদ্র",
                "রাদিফ সাহেব",
                "নিবিড়",
                "আমরিন",
                "সায়েরা বেগম"
            ]
        },
        "content": "মাঝ রাতে ঢিলা একটা টি শার্ট পড়ে খালি পায়ে হুড়মুড়িয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেল আদ্র। ছেলে কে এভাবে বেড়িয়ে যেতে দেখে বুক টা কেঁপে উঠল রাদিফ সাহেবের। চোখে টলটল করতে লাগল জল। চশমা টা খুলে চোখের পানি মুছে মেয়ের রুমের সামনে এসে দাঁড়ালেন তিনি। দরজায় কড়া নাড়ার শব্দ পেয়ে ঘুম ছুটে গেল আমরিনের। কিছুক্ষণ আগেই চোখ লেগেছিল। আজকাল এ বাড়ির কারো চোখেই ঘুম সহজে ধরা দেয় না। এই বুঝি আবারও ঘটে গেল কোনো অঘটন। গলায় ওড়না টা জড়িয়ে দ্রুত গতিতে ছুটে এসে দরজা টা খুলে দিল। দরজা খুলতেই বাবার অসহায় মুখ টা দেখে কেঁপে উঠল অন্তর আত্মা টা। রাদিফ সাহেব ভেজা কন্ঠে বলে উঠলেন,\n\n–” আমি নিরুপায় রে মা। এতো রাতে তোদের জাগাতে খারাপ লাগলেও বাধ্য হলাম। আমার ছেলেটা আবারও বেড়িয়ে গেছে। নিবিড় কে বলবি একটু আমার সাথে ওর পিছু যাওয়ার জন্য? আমার একার পক্ষে যে ওকে আটকানো সম্ভব না।”\n\nনিবিড় ঘুম ঘুম চোখে বড় বড় পা ফেলে বেরিয়ে এল। চিন্তিত মুখে বলল–” তাড়াতাড়ি চলুন বাবা। দেরি করলে ওকে খুঁজে পেতে কষ্ট হবে।”\n\n–” হুম চলো।”\n\nরাদিফ সাহেব ও নিবিড় তাড়াতাড়ি করে হাতে টর্চ নিয়ে চলে গেলেন। আমরিন সেদিকে চেয়ে থেকে ডুকরে কেঁদে উঠল। বিড়বিড় করে বলল–” কেন তুলি? কেন এমন করলি তুই? কেন আমার ভাই কে জ্যান্ত লাশ বানিয়ে হারিয়ে গেলি? এতো ভালোবাসার এমন প্রতিদান দিতে পারলি তুই? কে জানত তোর ছোট্ট চঞ্চল মনের আড়ালে এতো নিষ্ঠুরতা লুকিয়ে ছিল!”\n\nনিবিড় ও রাদিফ সাহেব দৌড়াতে দৌড়াতে কিছু দূর আসতেই আদ্র কে দেখতে পেল। হাফিয়ে উঠেছেন তিনি। এ বয়সে ছেলের এতো কষ্ট তিনি কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না। প্রতিনিয়ত নিজের ছেলেকে চক্ষুদ্বয়ের সামনে ধুকে ধুকে মরতে দেখার মত কষ্ট ওনার মন টা কে বিষিয়ে দিচ্ছে। সুখের সময়গুলো বোধ হয় তার জীবন থেকে হারিয়ে গেছে। আদ্র অনবরত ফোন করে যাচ্ছে কাউকে। চোখে মুখে রাগের ছাপ। নিবিড় গিয়ে পাশে দাঁড়াতেই বিরক্তিতে ভ্রু কুঁচকাল। তীক্ষ্ণ মেজাজ নিয়ে বলে উঠল,\n\n” মাঝ রাতেও শান্তি দিবি না তোরা? আবার চলে এলি? পাগল পেয়েছিস আমাকে? সবসময় পিছু কেন নিচ্ছিস? আমার শান্তি চাই। শান্তি!”\n\nকেঁপে উঠল নিবিড়ের হৃদয় টা। ল্যাম্পপোস্টের আলোয় আদ্রর বিরক্তমাখা চেহারা টা দেখে আজ ভীষণ কষ্ট অনুভব হচ্ছে তার। একটা মানুষ কতটা অসুখী হলে একটু শান্তির জন্য আকুল আবেদন করে তা আজ ভালোই বুঝতে পারছে নিবিড়। মেডিকেল কলেজের দুর্দান্ত মেধাবী, সুদর্শন ছেলেটার বর্তমান পরিস্থিতি দেখলে কে বলবে সে একজন বেস্ট হার্ট সার্জন, একজন সুখী মানুষ ছিল। যেই ছেলে নিজের হার্ট কেই সুস্থ রাখতে পারে নি সে আর অন্যের চিকিৎসা কিভাবে করবে। তাই তো ছেড়ে দিয়েছে ডাক্তারি পেশা।নিবিড়ের তো চোখ গুলো দেখলেই ভয় হয়। নির্ঘুম কাটানো নীল বর্ণের চোখ দুটো এখন সর্বদাই লাল রঙে ছেয়ে থাকে। কারণ নীলাভ চোখে মুগ্ধ হওয়া মেয়েটা আজ আর মুগ্ধ হওয়ার জন্য ছুটে আসে না। নিবিড় উত্তপ্ত একটা শ্বাস ছেড়ে বলল,,\n\n” বাসায় চল আদ্র। রাত দু’টো বাজে। এতো রাতে তুই তুলি ভাবী কে খুঁজে পাবি না।”\n\n“খুঁজলে অবশ্যই পাবো। তোরাই তো আমার তুলা কে আমায় খুঁজতে বাধা দিচ্ছিস। আমি আমার তুলা কে ঠিকি খুজে বের করব।”\n\nনিবিড়ের চোখের কোণে জমে থাকা জল টা গড়িয়ে পড়ল। শার্টের হাতা দিয়ে মুছে ধরা গলায় বলে উঠল-\n\n” আর কত খুঁজবি আদ্র? চার মাস ধরেই তো পাগলের মতো খুঁজে বেড়াচ্ছিস। কখনও কুমিল্লা যাচ্ছিস আবার ঢাকা ফিরে আসছিস তো কখনও ঢাকার অলি গলিতে হেঁটে বেড়াচ্ছিস। কত’শ লোক লাগিয়ে রেখেছিস ভাবী কে খোঁজার জন্য তবুও কেন এতো অস্থির হয়ে পড়ছিস? রাত-বিরেতে কেন খোঁজার জন্য পাগলামি করছিস? ফিরে চল ভাই। একবার তাকিয়ে দেখ তোর বৃদ্ধ বাবার দিকে। লোকটা তোর জন্য ছুটে এসেছে। তোর কষ্ট আমাদের ঘুমোতে দেয় না। আমাদের বুক টা ফেটে যায় আদ্র। আমরা সবাই মিলে তো খুজছি। যেই মানুষ টা ইচ্ছে করে হারিয়ে যায় পৃথিবীতে তাকে খুঁজে বের করা খুবই কঠিন আদ্র। খুবই কঠিন।”\n\nনিবিড়ের দিকে এক পলক চেয়ে রাদিফ সাহেবের ছলছল চোখে দৃষ্টি রাখল আদ্র। আচমকাই ওনার পা জড়িয়ে বসে পড়ল রাস্তায়। চমকে উঠলেন রাদিফ সাহেব। নিমিষেই হার্টের ব্যাথা টা বেড়ে গেল। আদ্র কন্ঠে আকুলতা নিয়ে বলে উঠল-\n\n” বাবা জীবনে একবার আপনার সামনে কেঁদেছিলাম তুলি কে পাওয়ার জন্য। আজ আপনার পা জড়িয়ে আমার খুব কাঁদতে ইচ্ছে করছে। বায়না করতে ইচ্ছে করছে একটু সুখ একটু শান্তি এনে দিবেন বাবা? আমি একটু স্বস্তির নিশ্বাস নিতে চাই। আমার দম টা বন্ধ হয়ে আসে। প্রতিটা মুহুর্তে বুকের বা পাশ টায় অসহনীয় পীড়ন হয়। আমি ঘুমোতে পারি না। তুলি কে পেলে সব ঠিক হয়ে যাবে। আমি,,। আমি সুস্থ হয়ে যাব। আমার কিছু চাই না শুধু একটুখানি স্বস্তি চাই। আমার তুলি কে চাই।”\n\nস্যান্ডেল পড়া পায়ে তরল কিছুর স্পর্শ অনুভব করতেই রাদিফ সাহেব হু হু করে কেঁদে দিলেন। নিজেকে শক্ত রাখতে পারলেন না তিনি। পারলেন না ছেলের চোখের জল দেখে আজ কঠোর থাকতে। একটা সময় ছেলের চোখের জল দেখেও কঠোর থেকেছিলেন। আজ শত চেষ্টা করেও, চেয়েও ছেলের জন্য মেয়েটা কে এনে দিতে পারছেন না তিনি। তিনি হাঁটু মুড়ে বসতেই নিবিড় এগিয়ে এল। আদ্রর কোনো হেলদোল নেই। একদম নির্জীব হয়ে আছে। আঁতকে উঠল নিবিড়। রাদিফ সাহেবের বাহুতে হাত রেখে বলে উঠল-\n\n“বাবা এক্ষুনি আদ্র কে হসপিটালে নিতে হবে৷ ওকে স্বাভাবিক লাগছে না। আমি আমরিন কে ফোন দিচ্ছি গাড়ি নিয়ে আসার জন্য। ”\n\nরাদিফ সাহেব আদ্রর বাহু ঝাঁকাল। চোখ মুখ খিঁচে মূর্তির ন্যায় বসে আছে আদ্র। আতঙ্ক ছড়িয়ে গেল রাদিফ সাহেবের মনের ভিতর। ছেলেকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে লাগলেন তিনি।\n_____\n\nহাসপাতালের করিডোরে বসে আছে সবাই। সায়েরা বেগম কাঁদতে কাঁদতে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। সাগরের হাত টা ধরে নিঃশব্দে চোখের জল ফেলছে রিমি। মাঝ রাতে ও ঘুম নেই কারো চোখে। আদ্রর জন্য ছুটে এসেছে সবাই।পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা পায়েল শাশুড়ির শত বাঁধার পরও ছুটে এসেছে অন্তু কে নিয়ে প্রাণের বন্ধুর জন্য। অন্তর হাত টা ধরে বুকে মাথা রেখে নীরবে কাঁদছে সে। কেন তুলি চলে গেল?কোথায় হারিয়ে গেল আদ্র কে এতো ভালোবেসে? থাকলে হয়তো আজ পরিস্থিতি টা অন্যরকম হতো। আমরিন দীর্ঘ একটা নিশ্বাস ছেড়ে চোখ বুঁজে ফেলল। স্মৃতির পাতায় ভেসে উঠল প্রকান্ড ঝড় উঠা সেই দিনটার কথা।\n।\n।\nআমরিন কে দৌড়ে বেরিয়ে আসতে দেখে উঠে দাঁড়াল আদ্র। শাড়ি বেজিয়ে পড়ে যেতে নিলে সামলে নিল নিবিড়। আমরিন হাপাঁতে হাপাঁতে আদ্রর হাতে একটা কাগজ দিল। সবাই আতঙ্কিত চোখে চেয়ে আমরিনের দিকে। আদ্র কাগজ টা মেলে পড়তে শুরু করল।\n\n❝ ক্ষমা করে দিবেন আদ্র। আমার পক্ষে আপনাকে বিয়ে করাটা কোনোভাবেই সম্ভব না তাই পালিয়ে যেতে বাধ্য হলাম। নতুন একটা জীবন শুরু করার অনুরোধ রইল নতুন কাউকে নিয়ে। ❞\n\nলিখাগুলো পড়ে স্তব্ধ হয়ে গেল আদ্র। নিমিষেই মনে হল তার পায়ের তলা থেকে মাটি সরে যাচ্ছে। পুরো দুনিয়াটা হঠাৎ করে এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে। হৃদয়ে শীতল স্রোতের বদলে রক্তক্ষরণ হচ্ছে। কাগজ টা হাতের মুঠোয় নিয়ে পাগলের মত তুলির রুমে ছুটে আসল। ওয়াশরুম, বেলকনি পুরো বাড়ির আনাচে কানাচে খুজেও তুলির কোনো অস্তিত্ব পেল না। হাঁটু গেড়ে গগনবিদারী চিৎকার করে উঠল আদ্র। কয়েক মিনিটের ব্যবধানে ধূলিসাৎ হয়ে গেল এতো বছরের জমানো সব স্বপ্ন। তুলি পালিয়ে গেছে এটা কোনোক্রমেই কেউ বিশ্বাস করতে পারছে না। ভাই কে চিৎকার করতে দেখে কেঁদে দিল ইনশিতা, আমরিন। রিমি তো আজ আনন্দের অশ্রু দেখতে চেয়েছিল তবে আদ্রর চোখে কেন বিষাদের জল। হাসি-খুশি বিয়ে বাড়ি টা নীরবতায় ছেয়ে গেল। আহান-ঝুমু ও স্তম্ভিত। আচমকা আদ্র উঠে এসে সামিরার গালে সজোরে থাপ্পড় বসিয়ে দিল। মাটিতে ছিটকে পড়ল সামিরা। ব্যাথায় কুঁকড়ে উঠল সে। রনক,ইনশিতা সহ সবাই প্রচন্ড ভয় পেয়ে গেল। দৌড়ে গিয়ে ইনশিতা সামিরা কে তুলতেই আদ্র ইনশিতা কে সরিয়ে সামিরা কে টেনে সবার সামনে ছুড়ে ফেলল। রনক এগিয়ে আসতেই রক্তিম দৃষ্টি নিক্ষেপ করল। দমে গেল রনক। আতঙ্কিত স্বরে প্রশ্ন করল,\n\n“সামিরা কি করেছে ভাই?”\n\nআদ্রর ঠোঁটে তাচ্ছিল্যের হাসি। সামিরার দিকে তাকিয়ে চিৎকার বলে উঠল-\n\n” তুই কি ভেবেছিস তুলি কে সরিয়ে দিলে আমি তোকে বিয়ে করে নিব? কান খুলে শুনে রাখ। তুলি আমার বউ। কাবিন নামায় স্বাক্ষর করে অনেক আগেই ওকে আমি নিজের অর্ধাঙ্গিনী বানিয়ে নিয়েছি। তোর সব চেষ্টা বৃথা। নাকি ম্যারিড ছেলে কে ও বিয়ে করতে চাস তুই? ”\n\nআদ্রর কথা শুনে সবাই অবাকের শীর্ষ পর্যায়ে পৌঁছে গেল। সবার মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়ল এটা জেনে আদ্র আগেই বিয়ে করে নিয়েছে। রাদিফ সাহেব একটুও চমকালেন না। তিনি বিষয়টা জানতেন। সামিরা ভয়ার্ত চোখে চেয়ে থেকে কাঁপা কাঁপা গলায় বলল,\n\n” আমি তুলি কে কিছু করি নি আদ্র।”\n\nরাগটা দ্বিগুণে পরিণত হল। হাটু গেঁড়ে হাতের ছুরি টা দিয়ে সামিরার হাতে আঁচড় কাটতেই চিৎকার করে কেঁদে উঠল সামিরা। রনক এগিয়ে এসে বোন কে আগলে নিল। কপাট রাগ দেখিয়ে বলল,\n\n“পাগল হয়ে গিয়েছেন আপনি আদ্র ভাই? কি করছেন এসব?”\n\n” হে,, হয়ে গিয়েছি আমি পাগল। তোর বোন কে বল আমার বউ কে বের করে দিতে নয়তো আজ ওর লাশ ফেলব এখানে। তুই জানিস তোর বোন কাল আমার শরবতে অ্যালকোহল মিশিয়ে আমার সাথে অবৈধ ভাবে মিলিত হওয়ার ফন্দি এঁটেছিল? আমাকে ও তুলি কে আলাদা করতে চেয়েছিল? কিন্তু সফল হয় নি। আমার তুলি ঠিক সামলে নিয়েছে। ও কখনও আমায় ছেড়ে যেতে পারে না। আমি ওর অস্তিত্বে মিশে আছি। আমাকে ছাড়া ও বাঁচবে না। তোর বোন কে বল আমার তুলি কে ফিরিয়ে দিতে।”\n\nবিষিয়ে উঠল রনকের মন টা। সেই সাথে বিমূর্ত রূপ নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে সবাই। রনক সামিরার দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করল,\n\n“আদ্র ভাই যা বলছে সব সত্যি? ”\n\n” হুম তবে আমি তুলি কে কিডন্যাপ করি নাই ভাইয়া। তুলি কোথায় আমি কিছুই জানি না।”\n\nসাথে সাথেই সামিরার গালে থাপ্পড় বসিয়ে দিল রনক। একটা মেরে ক্ষান্ত হয় নি সে। পর পর আরো দু’টো থাপ্পড় বসিয়ে আদ্রর হাত ধরে বলল,\n\n” আমাকে ক্ষমা করে দিন ভাই। সামিরা হয়ত সত্যি বলছে। তুলি ভাবী কোথায় ও হয়ত জানে না।”\n\nসামিরা নত মস্তকে কাঁদতে কাঁদতে বলে উঠল-\n\n” কাল আমার উদ্দেশ্য খারাপ ছিল কিন্তু আমি সত্যি বলছি আমি তুলি কে কিছু করি নি। তুমি যা শাস্তি দিবে মাথা পেতে নিব। কিন্তু তুলি কে এনে দেয়া আমার পক্ষে সম্ভব না। ও কোথায় আমার জানা নেই। ”\n\nকথা না বাড়িয়ে আদ্র বেড়িয়ে পড়ল তুলির খোঁজে। আহান,রনক,অন্তু, সাগর,নিবিড় সবাই মিলেও খোঁজে পেল না তুলি কে। আদ্র সোর্স ব্যবহার করে ও তুলির কোনো হদিস পেল না। তুলি বিহীন ধুধুর মরুভূমি পৃথিবী টা আদ্রর কাছে।পৃথিবীর সব রং যেন বিবর্ণ হয়ে গেছে। পরিণত হয়েছে ধূসর কিংবা সাদাকালো তে। মেঘে ছেয়ে গেছে তারার মেলায় মুখরিত হয়ে থাকা আকাশ টা। ঘুম হারাম করে প্রতি টা দিন,প্রতিটি মুহুর্ত শান্তির খুঁজে ছুটে বেড়াচ্ছে সে। যেখানে প্রিয় মানুষ টা হারিয়ে গেলে ছেলেরা সন্ন্যাসীর রূপ ধারণ করে, মাদকাসক্ত হয়ে পড়ে সেখানে আদ্র পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করে মোনাজাতে তার তুলা কেই চেয়ে যাচ্ছে। সবার ভালোবাসার ধরন আলাদা। কেউ কেউ হারিয়ে অতি শোকে পাথর হয়ে যায়। আবার কেউ কেউ পাহাড়সম যন্ত্রণা নিয়েও ফিরে পাওয়ার জন্য চেষ্টা করে যায়। আদ্রর দুর্বলতা আদ্র কে গ্রাস করেই নিল। তুলি শুধু নিজে যায় নি নিয়ে গেছে আদ্রর বেঁচে থাকার অবলম্বন টুকু।\n_______\n\nডাক্তার বেরিয়ে আসতেই নিবিড় এগিয়ে গেল। ডাক্তার ইশতিয়াক চিন্তিত মুখে বললেন,\n\n” কতবার বলেছি ড. আদ্র আহনাফ যেন কোনো স্ট্রেস না নেয়। ওনি আমার কথা একদমই শুনছেন না। ওনি একজন হার্ট সার্জন ওনার হার্ট সম্পর্কে বেটার ধারণা আছে তবুও কেন ওনি এমন করছে বুঝতে পারছি না। ওনি নিজেও জানেন এমন চলতে থাকলে এক সময় কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হয়ে মারা যেতে পারেন। ”\n\nকথাটা বলেই সূক্ষ্ম একটা নিশ্বাস ছাড়লেন ড.ইশতিয়াক। সায়েরা বেগম সবটুকু শুনতে পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়লেন। ওনার খুব অভিমান জমেছে তুলির প্রতি। এতো করে বলেও কিভাবে পারল মেয়েটা তার ছেলে কে ছেড়ে যেতে! নিবিড় করুন স্বরে বলল,\n\n“আমরা ভিতরে যেতে পারি?”\n\n“হুম আসুন।”\n\nসায়েরা বেগমও রাদিফ সাহেব কে নিয়ে আমরিন ও নিবিড় কেবিনে গেল। সবাই কে দেখে মৃদু হাসল আদ্র। সায়েরা বেগমের চোখের পানি মুছে দিয়ে বলল,\n\n” সামান্য একটু বুকের বা পাশ টা ব্যাথা করছিল। তোমার পুত্রবধূ ফিরে আসলে ঠিক এটার উপশম হয়ে যাবে।”\n\nআদ্রর হাত টা ধরে হাউমাউ করে কেঁদে দিলেন সায়েরা বেগম। ড.ইশতিয়াক কিছুটা সাহস জুগিয়ে বলে উঠলেন,\n\n” আমার মনে হয় কি ওনি বেঁচে নেই। নয়তো এতো খোঁজার পরও কি আপনারা পেতেন না?”\n\nধপ করে আগুন জ্বলে উঠল আদ্রর মস্তিষ্কে। চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যেতে লাগল হৃদপিণ্ড। চোখে রাগের ছাপ স্পষ্ট। আঁতকে উঠল নিবিড় ও আমরিন। আদ্র দাঁতে দাঁত চেপে আওয়াজ করে বলে উঠল-\n\n” আমার বউ বেঁচে আছে। অভিমান করেছে হয়ত আমার উপর তাই লুকিয়ে থাকছে। আমি জানি আমি ওকে খুঁজে বের করে যখন অভিমান ভাঙাব তখন খুশিতে আত্মহারা হয়ে উঠবে। আমার বুকে মাথা এলিয়ে বলবে –আমি তো আপনার অপেক্ষায় ছিলাম ডাক্তার সাহেব।",
        "series": {
            "id": 82,
            "title": "আকাশে তারার মেলা",
            "slug": "akash-e-tarar-mela",
            "url": "https://golpohub.com/series/akash-e-tarar-mela",
            "thumbnail_url": "https://cdn.golpohub.com/covers/series-akase-tarar-mela-82-8ed3f1.webp",
            "progress_status": "ongoing"
        },
        "author": {
            "id": 62,
            "name": "আসরিফা সুলতানা জেবা",
            "slug": "asrifa-sultana-zeba",
            "url": "https://golpohub.com/authors/asrifa-sultana-zeba",
            "avatar_url": "https://cdn.golpohub.com/avatars/author-asrifa-sultana-jeba-62-2114fe.webp",
            "bio": "আসরিফা সুলতানা জেবা সমসাময়িক বাংলা অনলাইন সাহিত্যের একজন আবেগপ্রবণ ও পাঠকপ্রিয় কথাশিল্পী। তাঁর লেখনীতে যৌথ পরিবারের বন্ধন, সম্পর্কের গভীরতা, তীব্র আবেগ, মনস্তাত্ত্বিক টানাপোড়েন এবং বিয়োগান্ত প্রেমের আকুলতা অত্যন্ত জীবন্তভাবে ফুটে ওঠে। চরিত্রের অন্তর্বেদনা ও আত্মত্যাগের মর্মস্পর্শী উপস্থাপনায় তিনি পাঠকহৃদয়ে স্থায়ী আসন করে নিয়েছেন।",
            "series_count": 0,
            "meta": {
                "bio": "আসরিফা সুলতানা জেবা সমসাময়িক বাংলা অনলাইন সাহিত্যের একজন আবেগপ্রবণ ও পাঠকপ্রিয় কথাশিল্পী। তাঁর লেখনীতে যৌথ পরিবারের বন্ধন, সম্পর্কের গভীরতা, তীব্র আবেগ, মনস্তাত্ত্বিক টানাপোড়েন এবং বিয়োগান্ত প্রেমের আকুলতা অত্যন্ত জীবন্তভাবে ফুটে ওঠে। চরিত্রের অন্তর্বেদনা ও আত্মত্যাগের মর্মস্পর্শী উপস্থাপনায় তিনি পাঠকহৃদয়ে স্থায়ী আসন করে নিয়েছেন।",
                "pen_name": "আসরিফা সুলতানা জেবা",
                "aliases": [
                    "Asrifa Sultana Zeba",
                    "জেবা",
                    "আসরিফা জেবা"
                ]
            },
            "timestamps": {
                "created_at": null,
                "updated_at": null
            }
        },
        "navigation": {
            "previous_episode": {
                "id": 3038,
                "ep_number": 24,
                "title": "লাল বেনারসির হাহাকার ও শূন্য বাসর",
                "slug": "akash-e-tarar-mela-s1-ep24",
                "url": "https://golpohub.com/episodes/akash-e-tarar-mela-s1-ep24",
                "thumbnail_url": "https://golpohub.com/assets/images/og.jpg"
            },
            "next_episode": {
                "id": 3040,
                "ep_number": 26,
                "title": "চট্টগ্রামের কুটির ও আইসিইউর অন্ধকার",
                "slug": "akash-e-tarar-mela-s1-ep26",
                "url": "https://golpohub.com/episodes/akash-e-tarar-mela-s1-ep26",
                "thumbnail_url": "https://golpohub.com/assets/images/og.jpg"
            }
        }
    }
}