> **বিকল্প ফরম্যাটসমূহ:** [এইচটিএমএল](https://golpohub.com/episodes/amar-asokti-je-tumi-s1-ep43) | [জেসন](https://golpohub.com/episodes/amar-asokti-je-tumi-s1-ep43?format=json) | [আরএসএস ফিড](https://golpohub.com/episodes/amar-asokti-je-tumi-s1-ep43?format=rss) | [অ্যাটম ফিড](https://golpohub.com/episodes/amar-asokti-je-tumi-s1-ep43?format=atom)

# অভিশপ্ত উপহারের বীভৎস বার্তা

![অভিশপ্ত উপহারের বীভৎস বার্তা](https://cdn.golpohub.com/covers/episodes/chapter-chapter-2460-3a34a6.webp)

---
*[আসফিয়া ইসলাম জান্নাত](https://golpohub.com/authors/asfiya-islam-jannat)-এর [আমার আসক্তি যে তুমি](https://golpohub.com/series/amar-asokti-je-tumi) সিরিজ থেকে*\n*আনুমানিক পড়ার সময়: 9 মিনিট*
- **মোট শব্দ:** 1,420
- **প্রকাশিত:** Sep 14, 2026
---

— রিয়ান! . আমি এইবার পিছে ঘুরে দাড়াই। রিয়ানাকে আমার সামনে দেখতে পেয়ে কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে যাই আমি। আমি এইবার সুক্ষ্ম চোখে রিয়ানাকে পর্যবেক্ষন করতে থাকি। রিয়ানার চোখ দুটোতে এখনো রাজ্যের ঘুম ভর করে আছে। হাল্কা হেলছেও সে। মাঝে মধ্যে হাইও তুলছে। কপালটা হাল্কা সংকুচিত করা কিন্তু চেহারায় তেমন কোন প্রতিক্রিয়া নেই। এর থেকে রিয়ান কিছুটা নিশ্চিত হয়ে যায় হয়তো বা রিয়ানা কিছু শুনে নেই। এই ধারণাটি আরও বেশি পরিপক্ব হয়ে গেল যখন রিয়ানা বলে উঠে, . — আপনি এত রাতে এইখানে কি করছেন? ঘুম ঘুম চোখে। . রিয়ান এইবার স্বস্তির নিশ্বাস নিয়ে নিজেকে কিছুটা স্বাভাবিক করে ঠোঁটের কিনারাটা প্রসারিত করে বলে, . — ঘুম হঠাৎ ভেঙে গেল তাই এইখানে একটু বাতাস খেতে এসেছিল। তুমি কি করছো এইখানে? . — ঘুমের ঘোরেই আপনার পাশে হাত চলে যায়। সে জায়গাটা ফাঁকা পেয়ে ঘুমটা ভেঙে যায়। পাশে আপনাকে না পেয়ে খুঁজতে থাকি। বারান্দায় কাউরো কথা বলার শব্দ পেয়ে এইখানে আসি আর আপনাকে পাই। আপনি কি কাউরো সাথে কথা বলছিলেন? . — না তো! হাল্কা গুনগুন করছিলাম আরকি হয়তো ওইটাই শুনেছ। . — অহহ আচ্ছা। তো আপনি কি এখন ঘুমাবেন নাকি আরও পরে। হাই তুলতে তুলতে। . — না না এখনই ঘুমাবো। চল! . — হুহ। . অতঃপর রিয়ান রিয়ানাকে নিজের বুকের মধ্যে জড়িয়ে শুয়ে পড়ে। আর মনে মনে বলে, . — আজ একটুর জন্য বেঁচে গিয়েছি। পরের বার থেকে আমায় আরও সাবধান হতে হবে। তা না হলে রিয়ানা যদি এইসব সম্পর্কে কিছু জানে তাহলে কেলেঙ্কারি লেগে যাবে। বেশ চিন্তিত হয়ে। . . ? . ঘড়িতে ৮ টা বেজে ২৭ মিনিট হচ্ছে, চারদিকে সূর্যের তীক্ষ্ণ রশ্মি ছড়িয়ে পড়েছে। পাখিরাও এইবার তাল মিলিয়ে সকালের আহবান জানিয়ে শুরু করে দিয়েছে তাদের শুভসকালের ডাক। ব্যস্ত শহরটি ধীরে ধীরে জীবন্ত হতে শুরু করেছে। হাল্কা বাতাসে বারান্দার নীল পর্দাগুলো হাল্কা দোল খাচ্ছে। এক মুঠো রোদ এসে উঁকি দিচ্ছে রুমে। এই নিত্যদিনের সকালটি কেন যেন আজ আমার কাছে বেশ ভিন্ন মনে হচ্ছে। হয়তো রিয়ানের সাথে আমার এই প্রথম সকাল বলে। আমি আয়নার সামনে দাড়িয়ে চুলগুলো মুচছি। পড়নে আমার গাড় নীল রঙের একটি জামদানী শাড়ি। আয়নার মধ্য দিয়ে একবার রিয়ানের দিকে তাকাই আমি। সে চ্যাপ্টা হয়ে শুয়ে আছে। চুলগুলো কপালে এসে ঘাপটি মেরে বসে আছে। দেখতে একদম বাচ্চাদের মত লাগছে। ঘুমাচ্ছেও বাচ্চাদের মতই। সেই ফরজের নামাজ পড়ে যেই ঘুম দিল আর তার উঠার নাম গন্ধ নেই। আমি এইবার তার দিক থেকে চোখ সরিয়ে নিয়ে চুল গুলো ভালো ভাবে মুছে তোয়েলাটা বারান্দায় মেলে আসি। তারপর রুমে এসে দুই মুঠ গাড় নীল রঙের রেশমি চুড়ি দিয়ে নিজের হাত দুটো সাজিয়ে ফেলি। এর উপরে দীদার দেওয়া চুড়িটা পড়ে নেই। গলায় চিকন একটা সোনার চেইন পড়ে নেই। অনামিকা আঙুলে এংগেইজমেন্ট রিংটি পড়ে ফেলি। তারপর চুলগুলো আঁচড়ে নিতে থাকি। তখনই কেউ এসে আমার কোমড় জড়িয়ে ধরে আর আমার কাধে থুতনি রাখে। আমি চট জলদি আয়নায় তাকাই। তাকিয়ে দেখি রিয়ান। আমি রিয়ানের দিকে তাকিয়ে মিষ্টি হাসি দিয়ে বলি, . — গুড মর্নিং মি. খারুস। . রিয়ান আমার কাঁধে আলতো করে ঠোঁট ছুঁয়ে দিয়ে বলে, . — গুড মর্নিং রিয়ুপাখি। . — তো জনাবের ঘুম এতক্ষণে ভাঙল! তা আরেকটু ঘুমাতেন। এত তারাতারি উঠলেন কেন? . — যার এত সুন্দর বউ থাকে সে কি আর এতক্ষণ পর্যন্ত ঘুমিয়ে থাকতে পারে বল? ইনোসেন্ট ফেস করে। . — পাম দেওয়া হচ্ছে তাই না। তা মি সকাল সকাল পাম দেওয়ার মানে কি? বলুন বলুন! . — কিছু না। বলে আমার চুলে মুখ গুজে। . — সকাল সকাল এইসব কি শুরু করেছেন। ছাড়ুন আমায় বলছি। . রিয়ান এইবার আমার চুল থেকে মুখ সরিয়ে বলে, — তাহলে কি তুমি রাতে এইসব করার পারমিশন দিচ্ছো? দুষ্টু হাসি দিয়ে। . — রিয়ানন!! লজ্জায় একদম লাল হয়ে। . রিয়ান এইবার আমায় ছেড়ে দিয়ে আমার সামনে এসে দাড়িয়ে আমার গাল দুটো টেনে বলে, — ইশশ আমার লজ্জাবতী রে! ঠিকই বলেছে কবি, “লজ্জা নারীর ভূষণ।” আজ তা দেখেও নিলাম। তা পারমিশন আছে তো? . আমি এইবার রিয়ানের বুকে কিল ঘুষি দিয়ে বলি, — আপনি না অনেক বাজে। . রিয়ান আমার হাত দুটো ধরে বলে, — হাম তো তুমহারে পেয়ার ম্যায় পেহেলেসে হি ঘায়েল হ্যায়, আব ওর কিতনা ঘায়েল কারনা চাহতি হো হামে? . আমি এইবার লজ্জায় রিয়ানের বুকে মুখ লুকাই। রিয়ান এইবার আমায় তার কাছ থেকে সরিয়ে দিয়ে আমার চোখ দুটো বন্ধ করে দেয় আর বলে, . — আই হ্যাভ সামথিং ফোর ইউ সো ডোন্ট ওপেন ইউর আইস। . এই বলে রিয়ান আমার চোখ ছেড়ে একটু দূরে সরে যায়। মনের ভিতরে কেমন যেন উত্তেজনা কাজ করছিল। সাথে কৌতূহলও। যার ফলে চোখ বন্ধ করে রাখার মত ছোট একটি কাজ যেন অসহ্যনীয় লাগছিল। তাই আমি আমার কৌতূহলটি দূর করতে হাল্কাভাবে চোখ খুলার চেষ্টা করি ঠিক তখনই রিয়ান বলে উঠে, . — নো চিটিং রিয়ুপাখি! কড়া গলায়। . রিয়ানের কণ্ঠ কানে আসতেই আমি চট জলদি চোখ বন্ধ করে ফেলি। রিয়ানের এমন কড়া গলায় আমি বেশ ভয় পেয়ে যাই। কয়েকবার বুকে থু থু দিয়ে নেই। কিছুক্ষণের মধ্যেই রিয়ান এসে আমার সামনে দাড়ায়। তারপর বলে, . — এইবার চোখ খুলো। . আমি এইবার দ্রুত চোখ খুলে ফেলি। চোখ খুলতেই রিয়ান আমার সামনে একটা ছোট বক্স সামনে তুলে ধরে। বক্সের মধ্যে একটু ছোট প্লাটিনামের নাকফুল। নাকফুলটি ফুলের আকৃতির। আমি এইবার অবাক চোখে রিয়ানের দিকে তাকাই, . — শুনেছিলাম বিয়ের প্রথম রাতে নাকি বউকে কিছু উপহার দিতে হয়। তাই এইটা তোমার জন্য এনেছিলাম। কিন্তু কালকে এইটা দিতে মনেছিল না তাই এখন দিচ্ছি৷ পছন্দ হয়েছে? . — অনেক বেশি। মিষ্টি একটি হাসি উপহার দিয়ে। . — আমি পড়িয়ে দেই? . — জিজ্ঞেস করতে হয় নাকি? দেন! . রিয়ান এইবার আমার নাকে সেই নাকফুলটি নাকে গেথে দেয়। অতঃপর আমি বাকিটা পড়ে নেই। আয়নায় তাকিয়ে দেখি নাকফুলটি বেশ মানিয়েছে আমায়। আমি রিয়ানের দিকে তাকিয়ে বলি, . — কেমন লাগছে? . — সামথিং ইজ মিসিং! . — কি? . রিয়ান পিছন থেকে আমার আচলটা টেনে নিয়ে এসে আমার মাথা ঘুমটা দিয়ে বলে, — নাও পার্ফেক্ট। তোমাকে এখন একদম বউ বউ লাগছে। . আমি কিছু না বলে রিয়ানের দিকে তাকিয়ে এইবার মিষ্টি একটি হাসি উপহার দেই। তখনই দরজায় ডাক পড়ে। দোলন ভাবি ডাকছে। আমি মাথায় ঘুমটা ভালোভাবে টেনে দরজা খুলতে চলে যায় আর রিয়ান তোয়েলা নিয়ে ওয়াশরুমে চলে যায়। . . ? . সোফার রুমে বসে আছি। আশে পাশের বিল্ডিং এর সকল আন্টিরা এসেছে আমাকে দেখতে। তারা সকলেই আমার প্রশংসা করে চলেছে। দেখার পর্ব শেষে অনেকেই হাতে কিছু বকশিস স্বরুপ ধরিয়ে দিচ্ছে। কয়েকজন আন্টিরা পাশে বসেই দীদা ও ছোট ফুপুর সাথে কথা বলছে। বড় খালা আর ছোট খালা মিলে দুপুরের রান্নার প্রস্তুতি নিচ্ছে। দোলন ভাবিও রাইশাকে খাওয়াতে ব্যস্ত। আর বাদ বাকি ছেলেরা এখনো ঘুমাচ্ছে। নিলা, রিনা আর মাইশা মিলে রুমে বসে গল্প করছে। কিছুক্ষণ আগেই রিয়ান নাস্তা করেই হসপিটালের কিছু কাজে বেরিয়ে যায়। আমি সেই আগের ন্যায় সকলের মাঝে চুপচাপ বসে থাকি। দীদার সেই দিকে খেয়াল হয়ে নিলা ডাক দেয় আর আমায় নিয়ে যেতে বলে। অতঃপর নিলা এসে আমায় রুমে নিয়ে যায়। নিলার পিছু পিছু রিনা আর মাইশাও রুমে আসে। তারপর নিলা আর মাইশা দুইজনে মিলে আমার সাথে গল্প করা শুরু করে। মাঝে মধ্যে রিনাও কথা বলতে থাকে। এর মধ্যে মাইশা বলে, . — ভাবি চল না তোমার বিয়ের গিফট গুলো খুলে দেখি কে কি গিফট দিয়েছে। আমার না গিফট এর রেপিং খুলতে অনেক বেশি ভালো লাগে। . তখনই রিনা ধমকের সুরে বলে, — এইসব কি মাইশা! ভাবিকে দেওয়া গিফট গুলো তুই কেন খুলে দেখবি? এইটা বাজে স্বভাব তুই জানিস না? . আমি এইবার রিনাকে বলি, — রিনা তুমি ভুলে যাচ্ছো মাইশা তো এখন সবে মাত্র কিশোরী। তাই ওর মধ্যে কৌতূহলতা আমাদের থেকে বেশি কাজ করবে এইটাই স্বাভাবিক। ওকে এইভাবে বকাটা একদমই ঠিক নয়। . রিনা বিষয়টা বুঝতে পেরে বলে, — আচ্ছা ভাবি। . — মাইশা যাও গিফট গুলো নিয়ে আসো আমরা সবাই একসাথে মিলেই গিফট গুলো খুলবো কেমন! . মাইশা এইবার উত্তেজিত হয়ে বলে, — ইয়েএ! ইউ আর দ্যা বেস্ট ভাবি ইন দ্যা ওয়াল্ড। লাভ ইউ! . এই বলে দৌড় দেয় গিফট গুলো আনতে। সাথে নিলাকেও নিয়ে যায়। অতঃপর গিফট গুলো এনে চারজনে মিলে খুলতে শুরু করি। আমি আসলে একটা গিফট হাতে নিয়েই নেড়ে চেড়ে দেখছি আর বাদ বাকি গুলো নিলা আর মাইশা খুলছে। রিনা শুধু বসে বসে দেখছে। আমি গিফটটা খুলছিলামই তখনই নজর যায় পাশে পরে থাকা ছোট গিফটির দিকে। তার রেপিং পেপারটি সবগুলো থেকে বেশ ভিন্ন। রেপিং পেপারের গায়ে কঙ্কালের প্রিন্ট বসানো। যার জন্য সহজে নজর কেড়ে নিতে সক্ষম হয় এইটি। আমি সেটি হাতে নিয়ে দেখি উপর একটা চিঠি ভাজ করে দেওয়া। আমি সেটি খুলে পড়তে শুরু করি। তাতে লিখা, . ” প্রতিটা মেয়ের স্বপ্ন বধু সাজা। আর সেই সাজেই যখন তাকে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হয় তখন সে হয় সবচেয়ে দুর্ভাগা। জীবনের সবচেয়ে সুন্দর মূহুর্ত যখন জীবনের শেষ মূহুর্তে পরিনত হয় ঠিক তখনই বুঝা যায় জীবনের মর্ম। ” . কথাটি পড়ার সাথে সাথে আমার বিয়ের দিন হওয়া ঘটনাটির কথা মনে পড়ে যায়। মনে পড়ার সাথে সাথেই আমার শরীরটা কাটা দিয়ে উঠে। এইবার আমার এই রেপিং পেপারে নিচে থাকা জিনিসটির প্রতি কৌতূহল কয়েকগুণ বেড়ে যায়। আমি এইবার দ্রুত হাতে রেপিং পেপারটা খুলতে শুরু করি। এরপর আমি যা দেখি তাতে আমি ভয়ে চিৎকার করে উঠি, . — আয়ায়ায়ায়া!!!

---

[<< পূর্ববর্তী অধ্যায়](https://golpohub.com/episodes/amar-asokti-je-tumi-s1-ep42) | [সিরিজ সূচি](https://golpohub.com/series/amar-asokti-je-tumi) | [পরবর্তী অধ্যায় >>](https://golpohub.com/episodes/amar-asokti-je-tumi-s1-ep44)