{
    "_links": {
        "html": "https://golpohub.com/episodes/ami-padmaja-s1-ep16",
        "json": "https://golpohub.com/episodes/ami-padmaja-s1-ep16?format=json",
        "markdown": "https://golpohub.com/episodes/ami-padmaja-s1-ep16?format=md",
        "rss": "https://golpohub.com/episodes/ami-padmaja-s1-ep16?format=rss",
        "atom": "https://golpohub.com/episodes/ami-padmaja-s1-ep16?format=atom"
    },
    "seo": {
        "canonical_url": "https://golpohub.com/episodes/ami-padmaja-s1-ep16",
        "title": "আমি পদ্মজা পর্ব ১৬ - অপবাদের বিষাক্ত ছোবল | Ami Padmaja Part 16",
        "description": "পড়ুন আমি পদ্মজা পর্ব ১৬। পদ্মজার উপর গ্রামবাসীর বর্বর হামলা ও মিথ্যা অপবাদের পৈশাচিক রূপ।",
        "keywords": "আমি পদ্মজা পর্ব ১৬, ami padmaja porbo 16, ami padmaja part 16, পদ্মজা, আমির হাওলাদার, অপবাদ, রমিজ আলী, কামরুল",
        "image_url": "https://cdn.golpohub.com/covers/episodes/chapter-128-8b0270.webp",
        "schema": {
            "@context": "https://schema.org",
            "@graph": [
                {
                    "@type": "Chapter",
                    "name": "অপবাদের বিষাক্ত ছোবল",
                    "position": 16,
                    "description": "ঝড় থামার আগেই মোড়ল বাড়ি ঘিরে ফেলে গ্রামবাসী। নির্দোষ পদ্মজাকে ঘর থেকে টেনে বের করে শুরু হয় কুৎসিত অপবাদ আর শারীরিক হেনস্তা। আমির কি পারবে এই অন্ধ উন্মাদনা রুখতে?",
                    "url": "https://golpohub.com/episodes/ami-padmaja-s1-ep16",
                    "inLanguage": "bn",
                    "timeRequired": "PT12M",
                    "datePublished": "2026-08-27T22:01:24+00:00",
                    "dateModified": "2026-09-05T22:50:38+00:00",
                    "wordCount": 1795,
                    "image": "https://cdn.golpohub.com/covers/episodes/chapter-128-8b0270.webp",
                    "isPartOf": {
                        "@type": [
                            "BookSeries",
                            "CreativeWorkSeries"
                        ],
                        "name": "আমি পদ্মজা",
                        "url": "https://golpohub.com/series/ami-padmaja"
                    },
                    "author": {
                        "@type": "Person",
                        "name": "ইলমা বেহরোজ",
                        "url": "https://golpohub.com/authors/elma-behrooz"
                    }
                },
                {
                    "@type": "BreadcrumbList",
                    "itemListElement": [
                        {
                            "@type": "ListItem",
                            "position": 1,
                            "name": "Golpo Hub",
                            "item": "https://golpohub.com"
                        },
                        {
                            "@type": "ListItem",
                            "position": 2,
                            "name": "সিরিজসমূহ",
                            "item": "https://golpohub.com/series"
                        },
                        {
                            "@type": "ListItem",
                            "position": 3,
                            "name": "আমি পদ্মজা",
                            "item": "https://golpohub.com/series/ami-padmaja"
                        },
                        {
                            "@type": "ListItem",
                            "position": 4,
                            "name": "অপবাদের বিষাক্ত ছোবল",
                            "item": "https://golpohub.com/episodes/ami-padmaja-s1-ep16"
                        }
                    ]
                }
            ]
        }
    },
    "filters": [],
    "data": {
        "id": 128,
        "ep_number": 16,
        "title": "অপবাদের বিষাক্ত ছোবল",
        "slug": "ami-padmaja-s1-ep16",
        "url": "https://golpohub.com/episodes/ami-padmaja-s1-ep16",
        "reading_time": 12,
        "thumbnail_url": "https://cdn.golpohub.com/covers/episodes/chapter-128-8b0270.webp",
        "yt_video_id": null,
        "yt_video_url": null,
        "timestamps": {
            "published_at": "2026-08-27T22:01:24+00:00",
            "updated_at": "2026-09-05T22:50:38+00:00"
        },
        "meta": {
            "word_count": 1795,
            "chapter_number": 16,
            "seo_title": "আমি পদ্মজা পর্ব ১৬ - অপবাদের বিষাক্ত ছোবল | Ami Padmaja Part 16",
            "seo_description": "পড়ুন আমি পদ্মজা পর্ব ১৬। পদ্মজার উপর গ্রামবাসীর বর্বর হামলা ও মিথ্যা অপবাদের পৈশাচিক রূপ।",
            "keywords": "আমি পদ্মজা পর্ব ১৬, ami padmaja porbo 16, ami padmaja part 16, পদ্মজা, আমির হাওলাদার, অপবাদ, রমিজ আলী, কামরুল",
            "characters_involved": [
                "পদ্মজা",
                "আমির হাওলাদার",
                "বাসন্তী",
                "রমিজ আলী",
                "কামরুল",
                "রীনা"
            ]
        },
        "content": "<p>টিনের চালে ঝুম ঝুম শব্দ। বৃষ্টির এই ছন্দ অন্যবেলা বেশ লাগলেও এই মুহূর্তে ভয়ংকর লাগছে পদ্মজার। একেকটা বজ্রপাত আরো বেশি ভয়ানক করে তুলেছে পরিবেশ। সে কাচুমাচু হয়ে ফোঁপাচ্ছে। বৃষ্টির শব্দ একটু কমলে কিছু কথা ভেসে আসে বাতাসে,&#8217;আপনি ভয় পাচ্ছেন কেন? আমাকে ভয় পাবেন না। বিপদে পড়ে এই বাড়িতে উঠেছি৷ বিশ্বাস করুন।&#8217;</p>\n<p>পদ্মজা কান্না থামাল। কান খাড়া করে শোনার চেষ্টা করল। দরজার ওপাশ থেকে আমির নামের মানুষটা বলছে,&#8217;দরজা খুলুন। বিশ্বাস করুন আমাকে। আমি আপনার সাথে কোনো সুযোগ নিতে আসেনি। ভয় পাবেন না।&#8217;</p>\n<p>পদ্মজা একটু নড়েচড়ে বসল। আমির আবার বলল,&#8217;শুনছেন?&#8217;</p>\n<p>পদ্মজা ঢোক গিলে কথা বলার চেষ্টা করল। কথা আসছে না। এরপর খ্যাঁক করে গলা পরিষ্কার করল। বলল,&#8217;আ&#8230;আমি দরজা খুলব না।&#8217;</p>\n<p>ক্ষণকাল উত্তর আসল না। এরপর আমির বলল,&#8217;আচ্ছা, খুলতে হবে না। আপনি ভয় পাবেন না প্লীজ।&#8217;</p>\n<p>&#8216;আপনি চলে যান।&#8217;</p>\n<p>&#8216;বৃষ্টি থামতে দিন। হঠাৎ বৃষ্টির জন্যই তো আপনার বাড়িতে উঠা। আমার বৃষ্টিতে সমস্যা হয়।&#8217;</p>\n<p>আমিরের মুখে স্পষ্ট শুদ্ধ ভাষা শুনে পদ্মজা বুঝল, লোকটা শিক্ষিত। কথাবার্তা শুনে ভালো মানুষ মনে হচ্ছে। তবুও সাবধানের মার নেই। সে দরজা খুলল না। বিছানায় গিয়ে বসল। ভয়টা কমেছে।</p>\n<p>&#8216;শুনছেন?&#8217;</p>\n<p>পদ্মজা জবাব দিল,&#8217;বলুন।&#8217;</p>\n<p>&#8216;আপনার নাম কী? ডাকনাম বলুন।&#8217;</p>\n<p>&#8216;পদ্মজা।&#8217;</p>\n<p>&#8216; সুন্দর নাম। আমার নাম জিজ্ঞাসা করবেন না?&#8217;</p>\n<p>&#8216;জানি।&#8217;</p>\n<p>আমির অবাক হওয়ার ভান ধরে প্রশ্ন করল,&#8217;কীভাবে? আমাকে চিনেন?&#8221;</p>\n<p>&#8216;না, কিছুক্ষণ আগেই  নাম বললেন।&#8217;</p>\n<p>&#8216;তখন তো ভয়ে কাঁপছিলেন, নাম শুনেছেন! বাব্বাহ!&#8217;</p>\n<p>আমিরের কণ্ঠে রসিকতা। পদ্মজা মৃদু হাসল। কেন হাসল জানে না। আমির বলল,&#8217;শুনছেন?&#8217;</p>\n<p>&#8216;শুনছি।&#8217;</p>\n<p>&#8216;আপনি কী এরকমই ভীতু?&#8217;</p>\n<p>&#8216;আমার সাহসিকতা প্রমাণ করানোর জন্য এখন বের হতে বলবেন তাই তো?&#8217;</p>\n<p>ওপাশ থেকে গগন কাঁপানো হাসির শব্দ আসল। আমির হাসতে হাসতে বলল,&#8217;বেশ কথা জানেন তো।&#8217;</p>\n<p>এই বিষয়ের কথাবার্তা এড়িয়ে গেল পদ্মজা। বলল,&#8217;বৃষ্টি কমলেই চলে যাবেন কিন্তু।&#8217;.</p>\n<p>&#8216;এতো তাড়াতে হবে না। বৃষ্টি কমলেই চলে যাবো।&#8217;</p>\n<p>&#8216;কষ্ট নিবেন না। খালি বাড়ি তো।&#8217;</p>\n<p>&#8216;বাকিরা কোথায়? এটা মোর্শেদ কাকার বাড়ি না?&#8217;</p>\n<p>&#8216;জি।&#8217;</p>\n<p>&#8216;উনার ধানের মিল তো এখন আমার আব্বার দখলে। ছুটিয়ে নিবেন কবে?&#8217;</p>\n<p>পদ্মজা অবাক হয়ে দরজার দিকে তাকাল। বিস্ময় নিয়ে বলল,&#8217;আপনি মাতব্বর কাকার ছেলে?&#8217;</p>\n<p>&#8216;অবাক হলেন মনে হচ্ছে।&#8217;</p>\n<p>&#8216;মাতব্বর কাকার ছেলের নাম তো বাবু।&#8217;</p>\n<p>আমির হেসে বলল,&#8217;আমার ডাকনাম বাবু। আম্মা আর আব্বা ডাকে। ভাল নাম, আমির।&#8217;</p>\n<p>পদ্মজা আর কথা বাড়াল না। বজ্রপাত থেমেছে। বৃষ্টি রয়েছে। আমির জিজ্ঞাসা করল,&#8217;বাকিরা কোথায় বললেন না?&#8217;</p>\n<p>&#8216;আম্মা,আব্বা ঢাকা। আজ ফেরার কথা ছিল। আর আমার দুই বোন আর ভাই নানাবাড়ি। বোধহয় বৃষ্টির জন্য আসতে পারছে না।&#8217;</p>\n<p>&#8216;এখনো আমাকে ভয় পাচ্ছেন?&#8217;</p>\n<p>&#8216;একটু,একটু।&#8217;</p>\n<p>&#8216;এটা ভালো। অচেনা মানুষকে একেবারেই বিশ্বাস করতে নেই।&#8217;</p>\n<p>__________</p>\n<p>বাসন্তী ভ্যান থেকে নেমে সামনে এগোলেন। মোর্শেদের বাড়িটা তিনি চিনেন না। তাই কোনদিকে যাবেন বুঝে উঠতে পারছেন না। এদিকে আকাশের অবস্থা ভাল না। রাস্তাঘাটেও  মানুষ নেই। ঝড়ো হাওয়া বইছে৷ আরো কিছুটা পথ হাঁটার পর আচমকা ঝড় শুরু হলো। তিনি দৌড়ে একটা বাড়িতে উঠলেন। রমিজ আলি বারান্দায় বসে হুঁকা টানছিল। সিল্কের শাড়ি পরনে,পেট উন্মুক্ত,লম্বা চুলের বেণুনীতে ধবধবে সাদা বাসন্তীকে দেখে তিনি অবাক হয়ে এগিয়ে আসেন। বিস্ময়ে প্রশ্ন করেন,&#8217;কেডা আপনে? কারে চান?&#8217;</p>\n<p>বাসন্তী কেঁপে উঠলেন। ঘাড় ঘুরিয়ে রমিজকে দেখে, লম্বা করে হাসেন। বলেন,&#8217;হুট কইরা মেঘখান আইয়া পড়ল তো।&#8217;</p>\n<p>&#8216;তে আপনে কার বাড়িত যাইতেন?&#8217;</p>\n<p>&#8216;মোর্ছেদের বাড়ি।&#8217;</p>\n<p>রমিজ আলি বিরক্তিকর ভাব নিয়ে সরে যান। ঘরের ভেতর থেকে চেয়ার এনে দেন। বলেন,&#8217;মোর্শেইদদার কী লাগেন আপনে?&#8217;</p>\n<p>বাসন্তী চিন্তায় পড়েন। গ্রামের মানুষ তো জানে না তার আর মোর্শেদের সম্পর্ক। এখন জানানোটা কতটা যুক্তিসংগত? সেকেন্ড কয়েক ভাবার পর যুক্তি মিলে গেল। গ্রামবাসীকে বলা উচিত। নয়তো সে তার অধিকার কখনো পাবে না। একমাত্র গ্রামবাসীই পারে তার জায়গাটা শক্ত করে দিতে। বাসন্তী রমিজ আলির চোখের দিকে তাকিয়ে বললেন,&#8217;আমি তার বউ লাগি। পরথম বউ। তার লগে আমার বিছ বছরের ছম্পর্ক।&#8217;</p>\n<p>রমিজ আলির চক্ষুদ্বয় যেন কোটর থেকে বেরিয়ে আসতে চাইল। মেঘ না চাইতেই বৃষ্টি পাওয়ার মতো আনন্দ অনুভব করেন। তিনি প্রবল উৎসাহ নিয়ে বলেন,&#8217;হের পরের বউয়ে জানে?&#8217;</p>\n<p>&#8216;না।&#8217;</p>\n<p>&#8216;থাহেন কই আপনে?&#8217;</p>\n<p>&#8216;রাধাপুর।&#8217;</p>\n<p>&#8216;লুকাইয়া রাখছিল বিয়া কইরা?&#8217;</p>\n<p>&#8216;হ। এখন মোর্ছেদ আমারে তালাক দিতে চায়। আমার সাথে ছংছার করতে চায় না। তাই আমি আমার অধিকার নেয়ার জন্যে আইছি। আমি তার বাড়িতে থাকবার চাই। আপনেরা আমারে ছাহায্য কইরেন। গ্রামবাছী ছাড়া মোর্ছেদ আমারে জায়গা দিব না।&#8217;</p>\n<p>রমিজ আলি প্রবল বৃষ্টি, আর বজ্রপাতকে হটিয়ে উঁচু স্বরে বলেন,&#8217;আপনের জায়গা করে দেওন আমরার কাম। আপনি চিন্তা কইরেন না।মেঘডা কমতে দেন। এরপর খালি দেহেন কী হয়।&#8217;</p>\n<p>বাসন্তী চোখমুখ জ্বলজ্বল করে উঠল। ভরসা পাওয়া গেল। রমিজ আলির প্রতিশোধের নেশা পেয়েছে। মোর্শেদ তাকে কতো কটু কথা বলেছে,অবজ্ঞা করেছে,অপমান করেছে। এইবার তার পালা। প্রতিটি অপমান ফিরিয়ে দিবেন বলে শপথ করেন। তিনি বাসন্তীকে ভরসা দিয়ে বলেন,&#8217;আপনি বইয়া থাহেন। আমি আরো কয়জনরে লইয়া আইতাছি।&#8221;</p>\n<p>রমিজ আলি খুশিতে গদগদ হয়ে বেরিয়ে যান। ছইদ, রজব, মালেক,  কামরুলকে নিয়ে ফিরেন। সবার হাতে হাতে ছাতা। কামরুল আটপাড়া এলাকার মেম্বার। গ্রামে কোনো অনাচার হলে তা দেখার দায়িত্ব তার। তাই তিনি মাথার উপর বজ্রপাত, ঝড় নিয়েই ছুটে আসেন।</p>\n<p>____________</p>\n<p>পদ্মজা উসখুস করছে। টয়লেটে যাওয়া প্রয়োজন। প্রস্রাবের বেগ বাড়ছে। এভাবে আর কতক্ষণ থাকা যায়। সাহসও পাচ্ছে না বের হওয়ার। রুমে পায়চারি করল কিছুক্ষণ। চোখ বন্ধ করে জোরে নিঃশ্বাস নিল। এরপর কাঁচি কোমরে গুঁজে নিল। আয়তুল কুরসি পড়ে বুকে ফুঁ দিল। তারপর দরজা খুলল। আচমকা দরজা খোলার আওয়াজ শুনে আমির চমকে তাকাল। আকাশ থেকে কালো মেঘের ভাব কেটে গেছে অনেকটা। সন্ধ্যার আযান পড়ছে। সালোয়ার,কামিজ পরা পদ্মজাকে দেখে মুহূর্তে হৃদস্পন্দন থমকে গেল তার। পদ্মজা ওড়না টেনে নিল নাক অবধি। এরপর কাঁপা পায়ে আমিরের পাশ কাটাল। আমিরের চোখ স্থির। নিঃশ্বাস এলোমেলো। ঠোঁট শুকিয়ে কাঠ। পদ্মজা যখন ফিরছিল রুমে তখন আমির ডাকল,&#8217;পদ্মজা?&#8217;</p>\n<p>পদ্মজা দাঁড়াল। মানুষটা খারাপ হলে এতক্ষণে আক্রমণ করতো। যেহেতু করেনি, মানুষটার উদ্দেশ্য খারাপ না। তাই দাঁড়াল। তবে ঘাড় ঘুরিয়ে তাকাল না। আমিরের গায়ে স্যান্ডো গেঞ্জি পরা। শার্ট ভিজে গেছে। তাই বারান্দার দড়িতে রেখেছে,বাতাসে শুকাতে। আমির বলল, &#8216;অলন্দপুরে এমন রূপবতী আছে জানতাম না।&#8217;</p>\n<p>পদ্মজা লজ্জা পেল। বিব্রতবোধও করল। বৃষ্টি প্রায় কমে এসেছে। পদ্মজা বলল,&#8217;আপনি এবার আসুন। কেউ দেখলে খারাপ ভাববে।&#8217;</p>\n<p>&#8216;যেতে তো ইচ্ছে করছে না।&#8217;</p>\n<p>লোকটা বলে কী! এতক্ষণ বলল,বৃষ্টি কমলেই চলে যাবে। এখন বলছে, যাবে না৷ পদ্মজা ঘুরে তাকাল। চোখের দৃষ্টিতে আকুতি নিয়ে বলল,&#8217;চলে যান।&#8217;</p>\n<p>আমির কিঞ্চিৎ হা হয়ে তাকিয়ে রইল। না চাইতেও পদ্মজা আমিরকে খেয়াল করল। শ্যামবর্ণের একজন পুরুষ। থুতনির মাঝে কাটা দাগ। সাথে সাথে চোখ সরিয়ে নিল পদ্মজা। কাঁদো কাঁদো হয়ে বলল,&#8217;বৃষ্টি কমে গেছে। আম্মা,আব্বা চলে আসবে। চলে যান।&#8217;</p>\n<p>আমিরের নিস্তব্ধতা পদ্মজাকে বিরক্ত করে তুলল। এতো ঘাড়ত্যাড়া, দুই কথার মানুষ কীভাবে হয়? উঠানে পায়ের শব্দ! কয়েক জোড়া পায়ের শব্দ। বারান্দা থেকে তাকাল আমির এবং পদ্মজা। গ্রামের এতোজনকে দেখে পদ্মজার নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসে। দৌড়ে রুমে ঢুকে পড়ল। রমিজ আলি চেঁচিয়ে ডাকেন,&#8217;কইরে মোর্শেইদদা। আকাম কইরা এখন লুকায়া আছস ক্যান? বাইর হ। তোর আকাম ধইরা লইয়া আইছি।&#8217;</p>\n<p>আমির বারান্দা পেরিয়ে বেরিয়ে আসে। গম্ভীরমুখে বলল,&#8217;উনারা বাড়িতে নেই।&#8217;</p>\n<p>উৎসুক জনতা আমিরকে দেখে অবাক হলো। কামরুল বললেন,&#8217; আরে আমির। শহর থেকে আইলা কবে?&#8217;</p>\n<p>&#8216;এইতো চার দিন হলো। আছেন কেমন?&#8217;</p>\n<p>&#8216;এইতো আছি। তা এইহানে কি করো?&#8217;</p>\n<p>আমির উত্তর দেয়ার আগে রমিজ আলি প্রশ্ন করেন,&#8217;বাড়িত কী কেউ নাই?&#8217;</p>\n<p>আমির বেশ সহজ,সরল গলায় বলল,&#8217;আছে। পদ্মজা আছে।&#8217;</p>\n<p>উপস্থিতি পাঁচ-ছয়জন তীক্ষ্ণ চোখে তাকাল। সবার দৃষ্টি দেখে আমির বুঝল,সে কত বড় ভুল করে ফেলল। তাহলে পদ্মজা এটারই ভয় পাচ্ছিল? আমির দড়ি থেকে শার্ট নিয়ে দ্রুত পরল। এরপর কৈফিয়ত স্বরে বলল,&#8217;আপনারা যা ভাবছেন তা নয়। বাড়ি ফিরছিলাম। বৃষ্টি নামে তাই এই বাড়িতে উঠে পড়ি। বাড়িতে কেউ নাই জানলে&#8230;&#8221;</p>\n<p>আমির কথা শেষ করতে পারল না। রমিজ আলি চেঁচিয়ে আশেপাশে বাড়ির সব মানুষদের ডাকা শুরু করল। মাতব্বর তাকে কম অপদস্ত করেনি। কোণঠাসা করেছে। মোর্শেদ পথেঘাটে কটু কথা শুনিয়েছে। আজ সেই যন্ত্রণা কমানোর দিন। আমির ভড়কে গেল। কামরুল আঙ্গুল শাসিয়ে কঠিন স্বরে বললেন,&#8217;তোমার কাছে এইডা আশা করি নাই। তোমার আব্বারে ডাকাইতাছি। উনি যা করার করবেন।&#8217;</p>\n<p>আমির বিরক্তি নিয়ে বলল,&#8217;আরে আজব! কী শুরু করেছেন আপনারা?&#8217;</p>\n<p>ছইদ আমিরের বয়সের কাছাকাছি। ব্যক্তিগত ভেজাল আছে তাদের মধ্যে। ছইদ হুংকার ছেড়ে বলল,&#8217;চুপ থাক তুই! তোর বাপে মাতব্বর বইলা তোরে ডরাই আমরা? আকাম করবি আর ছাইড়া দিমু?&#8217;</p>\n<p>আমিরের চোখ লাল বর্ণ ধারণ করে। রেগে গেলে চোখের রং পাল্টে যায় তার। কালো মুখশ্রীর সাথে লাল চোখ ভয়ংকর লাগে। ছইদ ভেতরে ভেতরে ভয় পেল। আমিরের হাতে কম মার সে খায়নি। তবে, আজ সুযোগ আছে৷ পুরো গ্রামবাসী এক দলে। সে কিছুতেই ছাড়বে না। ঢোক গিলে বলে,&#8217;চোখ উলডাইয়া লাভ নাই। কুকামের উসুল না তুলে যাইতাছি না।&#8217;</p>\n<p>আমির রাগে শক্ত হাতে ছইদের কানের কাছে থাপ্পড় দিল। মুহূর্তে ছইদের মাথা ভনভন করে উঠল। ততক্ষণে রমিজের উস্কানিতে মানুষ জমে গেছে। সবার হাতে হাতে টর্চ,হারিকেন। আঁধার নেমে এসেছে। আমির আবারো ছইদকে মারতে গেলে কয়জন এসে জাপটে ধরল। কামরুল একজন মহিলাকে আদেশ স্বরে বলেন,&#8217; শিউলির আম্মা কয়জনরে লইয়া মাইয়াডারে বার কইরা আনো। লুকাইছে নটি। গ্রামডা নটিদের ভীরে ধ্বংস হইয়া যাইতাছে&#8217;</p>\n<p>পদ্মজা মাটিতে নতজানু হয়ে বসে কাঁপছে। দ্রুতগতিতে পা থেকে মাথার চুল অবধি কাঁপছে। বাইরের প্রতিটি কথা কানে এসেছে। চারপাশ যেন ভনভন করছে। শিউলির আম্মা পদ্মজার রুমে আসল। দরজা খোলা ছিল। টর্চ ধরে দেখল পদ্মজা মাটিতে বসে কাঁপছে। সে পদ্মজার মাথায় হাত রেখে বলল,&#8217;কেন এমন কাম করছস?&#8217;</p>\n<p>পদ্মজা ঝাপসা চোখ মেলে তাকাল। শিউলির আম্মা পাশের বাড়ির। পদ্মজার সাথে ভাল সম্পর্ক। পদ্মজা শিউলির মাকে জড়িয়ে ধরে হাউমাউ করে কেঁদে উঠল। বলল,&#8217;ভাবী আমি কোনো খারাপ কাজ করি নাই। সবাই ভুল বুঝছে।&#8217;</p>\n<p>রীনা নামে একজন মহিলা পদ্মজাকে জোর করে টেনে দাঁড় করাল। হেমলতার অনেক বাহাদুরি এই মেয়ে নিয়ে। অনেক অহংকার। সেই অহংকার আজ ভাল করে ভাঙ্গবে। সে মনে মনে পৈশাচিক আনন্দে মেতে উঠেছে। ঘৃণিত কণ্ঠে পদ্মজাকে বলল,&#8217;ধরা পড়লে সবাই এমনডাই কয়। আয় তুই।&#8217;</p>\n<p>পদ্মজা আকুতি করে বলল,&#8217;বিশ্বাস করুন আমি খারাপ কিছু করিনি। আম্মা এসব শুনলে মরে যাবে। আপনারা এমন করবেন না।&#8217;</p>\n<p>কারো কানে পৌছালো না পদ্মজার কান্না,আর্তনাদ, আকুতি। সবাই গ্রামের সবচেয়ে সুন্দর মনের, সুন্দর পরিবারের সদস্য গুলোকে ধ্বংস করায় মেতে উঠল। পদ্মজাকে টেনেহিঁচড়ে বের করে আনে। কখনো ঘোমটা ছাড়া কোনো পুরুষের সামনে না যাওয়া মেয়েটার বুকের ওড়না পড়ে রইল ঘরে। তিন-চার জন মহিলা শক্ত করে চেপে ধরে রাখল। সবাইকে উপেক্ষা করে পদ্মজা ঘৃণা চোখে তাকাল আমিরের দিকে। আমির চেষ্টা করছে নিজেকে ছাড়ানোর, কিছুতেই পারছে না। পূর্ণা জ্বরের চোটে কাঁপছে। বাড়িতে ঢুকে দেখল কোলাহল। ভয় পেয়ে গেল। একটু এগিয়ে দেখল,পদ্মজার বিধ্বস্ত অবস্থা। জ্বর মুহূর্তে উবে গেল। দৌড়ে এসে পদ্মজাকে জড়িয়ে ধরল। চেঁচিয়ে উঠল,&#8217;আমার আপারে এমনে ধরছেন কেন? আপা..এই আপা? কাঁদছো কেন?&#8217;</p>\n<p>পদ্মজা কেঁদে বলল,&#8217;পূর্ণা, আম্মা মরে যাবে এসব দেখলে। আমি কিছু করি নাই পূর্ণা।&#8217;</p>\n<p>পূর্ণা কিছু বুঝে উঠতে পারছে না। শুধু অনুভব করছে,তার বুক কাঁপছে। ব্যথায় বিষে যাচ্ছে৷ সে রীনাকে বলল,&#8217;খালা আপনি আমার বোনরে এভাভে ধরেছেন কেন? ছাড়েন।&#8217;</p>\n<p>রীনা কর্কশ কণ্ঠে বলল,&#8217;তোর বইনের রস বাইড়া গেছিল। এজন্যে খালি বাড়িত ব্যাঠা ছেড়া ডাইকা আইনা রস কমাইছে।&#8217;</p>\n<p>পূর্ণার গা রিরি করে উঠল! তেজ নিয়ে বলল,&#8217;খারাপ কথা বলবেন না। আমার আপা এমন না।&#8217;</p>\n<p>পাশ থেকে একজন মহিলা পূর্ণার উদ্দেশ্যে বলল,&#8217;তোর মা যেমন হের মাইডাও এমন অইছে। নিজেও এমন কিচ্ছা করল। মাইয়াও করল।&#8217;</p>\n<p>পদ্মজা চমকে তাকাল। মহিলা বলে যাচ্ছে,&#8217;বুঝলা তোমরা সবাই, মায় এক বেশ্যা, মাইয়ারে বানাইছে আরেক বেশ্যা।&#8217;</p>\n<p>পদ্মজা আচমকা রেগে গেল খুব। আক্রোশে শরীর কাঁপতে থাকল। রীনা সহ দুজন মহিলাকে ঠেলে সরিয়ে দিল। এরপর রাগে চেঁচিয়ে বলল,&#8217;আমার মা নিয়ে কিছু বললে,আমি খুন করব। মেরে ফেলব একদম। জিভ ছিড়ে ফেলব ।&#8217;</p>\n<p>পদ্মজার এহেন রূপে সবাই থতমত খেয়ে গেল। লম্বা চুলগুলো খোঁপা থেকে মুক্ত হয়ে পিঠময় ছড়িয়ে পড়ল। চোখের মণি অন্যরকম হওয়াতে মনে হচ্ছে, কোনো প্রেতাত্মা রাগে ফোঁস ফোঁস করছে। গ্রামের কয়েক মহিলা আবার বিশ্বাস করে, পদ্মজা কোনো পরীর মেয়ে। তাই এতো সুন্দর। এই মুহূর্তে তারা ভাবছে,পদ্মজার ভেতর কেউ ঢুকেছে। তাই সামনে এগোল না। রীনা একাই এগিয়ে আসল। পদ্মজার চুলের মুঠি ধরে বিশ্রি গালিগালাজ করল। এরপর কামরুলকে বলল,&#8217;কামরুল ভাই, এই বান্দিরে বাঁন্ধা লাগব।&#8217;</p>\n<p>পূর্ণা,প্রেমা পদ্মজাকে ছাড়াতে গেলে ছইদসহ আরো তিন চারজন এগিয়ে আসল। অন্ধকারের ভীরে পড়ে পদ্মজা, পূর্ণা, প্রেমা বাজেভাবে উত্ত্যক্ত হলো। কয়টা কালো হাত নিজেদের তৃপ্তি মিটিয়ে নিল। তিন বোনের কান্না,আর্তনাদ কারো হৃদয় ছুঁতে পারল না। হেমলতার অনুপস্থিতিতে তার আদরের তিন কন্যার জীবন্ত কবর হচ্ছিল,বাধা দেয়ার কেউ ছিল না।</p>",
        "series": {
            "id": 3,
            "title": "আমি পদ্মজা",
            "slug": "ami-padmaja",
            "url": "https://golpohub.com/series/ami-padmaja",
            "thumbnail_url": "https://cdn.golpohub.com/covers/series-ami-pdmja-3-76884d.webp",
            "progress_status": "completed"
        },
        "author": {
            "id": 3,
            "name": "ইলমা বেহরোজ",
            "slug": "elma-behrooz",
            "url": "https://golpohub.com/authors/elma-behrooz",
            "avatar_url": "https://cdn.golpohub.com/avatars/ilma-behroj-3-87a9ea.webp",
            "bio": "ইলমা বেহরোজ সমকালীন বাংলা অনলাইন কথাসাহিত্যের এক শক্তিমান ও তুমুল জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক। মনস্তাত্ত্বিক টানাপোড়েন, গ্রামীণ পটভূমিতে গড়ে ওঠা সামাজিক বাস্তবতার অন্ধকার গহ্বর এবং রক্ত হিম করা থ্রিলারধর্মী আখ্যান নির্মাণে তাঁর কলম অনন্য। 'আমি পদ্মজা' উপন্যাসের মধ্য দিয়ে তিনি বাংলা পাঠকমহলে এক অবিস্মরণীয় আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন, যা তাঁকে এনে দিয়েছে পাঠকহৃদয়ের অপার ভালোবাসা ও সাহিত্যিক মর্যাদা।",
            "series_count": 0,
            "meta": {
                "bio": "ইলমা বেহরোজ সমকালীন বাংলা অনলাইন কথাসাহিত্যের এক শক্তিমান ও তুমুল জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক। মনস্তাত্ত্বিক টানাপোড়েন, গ্রামীণ পটভূমিতে গড়ে ওঠা সামাজিক বাস্তবতার অন্ধকার গহ্বর এবং রক্ত হিম করা থ্রিলারধর্মী আখ্যান নির্মাণে তাঁর কলম অনন্য। 'আমি পদ্মজা' উপন্যাসের মধ্য দিয়ে তিনি বাংলা পাঠকমহলে এক অবিস্মরণীয় আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন, যা তাঁকে এনে দিয়েছে পাঠকহৃদয়ের অপার ভালোবাসা ও সাহিত্যিক মর্যাদা।",
                "phone": null,
                "gender": "female",
                "address": {
                    "city": "Sylhet",
                    "country": "Bangladesh"
                },
                "birth_date": null,
                "social_links": {
                    "facebook": "https://facebook.com/458485514942456",
                    "instagram": "https://instagram.com/alabalatalatula"
                },
                "pen_name": "ইলমা বেহরোজ",
                "aliases": [
                    "Elma Behrooz",
                    "Ilma Behroz",
                    "ইলমা"
                ]
            },
            "timestamps": {
                "created_at": null,
                "updated_at": null
            }
        },
        "navigation": {
            "previous_episode": {
                "id": 127,
                "ep_number": 15,
                "title": "ঝড়ের রাতে অচেনা অতিথি",
                "slug": "ami-padmaja-s1-ep15",
                "url": "https://golpohub.com/episodes/ami-padmaja-s1-ep15",
                "thumbnail_url": "https://golpohub.com/assets/images/og.jpg"
            },
            "next_episode": {
                "id": 129,
                "ep_number": 17,
                "title": "অপমানের আগুনে রক্তক্ষরণ",
                "slug": "ami-padmaja-s1-ep17",
                "url": "https://golpohub.com/episodes/ami-padmaja-s1-ep17",
                "thumbnail_url": "https://golpohub.com/assets/images/og.jpg"
            }
        }
    }
}