{
    "_links": {
        "html": "https://golpohub.com/episodes/ami-padmaja-s1-ep41",
        "json": "https://golpohub.com/episodes/ami-padmaja-s1-ep41?format=json",
        "markdown": "https://golpohub.com/episodes/ami-padmaja-s1-ep41?format=md",
        "rss": "https://golpohub.com/episodes/ami-padmaja-s1-ep41?format=rss",
        "atom": "https://golpohub.com/episodes/ami-padmaja-s1-ep41?format=atom"
    },
    "seo": {
        "canonical_url": "https://golpohub.com/episodes/ami-padmaja-s1-ep41",
        "title": "আমি পদ্মজা পর্ব ৪১ - সাফল্যের আলো ও বৈরী চাহনি | Ami Padmaja Part 41",
        "description": "পড়ুন আমি পদ্মজা পর্ব ৪১। মেট্রিকে পদ্মজার অভূতপূর্ব সাফল্য এবং রিদওয়ানের সাথে হেমলতার বৈরী সংঘাত।",
        "keywords": "আমি পদ্মজা পর্ব ৪১, ami padmaja porbo 41, ami padmaja part 41, পদ্মজা, হেমলতা, পূর্ণা, রিদওয়ান, মেট্রিক ফল",
        "image_url": "https://cdn.golpohub.com/covers/episodes/chapter-153-417d74.webp",
        "schema": {
            "@context": "https://schema.org",
            "@graph": [
                {
                    "@type": "Chapter",
                    "name": "সাফল্যের আলো ও বৈরী চাহনি",
                    "position": 41,
                    "description": "মেট্রিকে স্টার মার্ক পেয়ে পুরো এলাকায় আলোড়ন তোলে পদ্মজা। এই আনন্দের দিনে বোরকা পরে মা হেমলতা যখন জামাইর বাড়ি আসেন, রিদওয়ানের দিকে তাকিয়ে কেন তাঁর চোখ জ্বলে ওঠে সাপের মতো?",
                    "url": "https://golpohub.com/episodes/ami-padmaja-s1-ep41",
                    "inLanguage": "bn",
                    "timeRequired": "PT10M",
                    "datePublished": "2026-08-27T22:01:25+00:00",
                    "dateModified": "2026-09-05T22:50:38+00:00",
                    "wordCount": 1515,
                    "image": "https://cdn.golpohub.com/covers/episodes/chapter-153-417d74.webp",
                    "isPartOf": {
                        "@type": [
                            "BookSeries",
                            "CreativeWorkSeries"
                        ],
                        "name": "আমি পদ্মজা",
                        "url": "https://golpohub.com/series/ami-padmaja"
                    },
                    "author": {
                        "@type": "Person",
                        "name": "ইলমা বেহরোজ",
                        "url": "https://golpohub.com/authors/elma-behrooz"
                    }
                },
                {
                    "@type": "BreadcrumbList",
                    "itemListElement": [
                        {
                            "@type": "ListItem",
                            "position": 1,
                            "name": "Golpo Hub",
                            "item": "https://golpohub.com"
                        },
                        {
                            "@type": "ListItem",
                            "position": 2,
                            "name": "সিরিজসমূহ",
                            "item": "https://golpohub.com/series"
                        },
                        {
                            "@type": "ListItem",
                            "position": 3,
                            "name": "আমি পদ্মজা",
                            "item": "https://golpohub.com/series/ami-padmaja"
                        },
                        {
                            "@type": "ListItem",
                            "position": 4,
                            "name": "সাফল্যের আলো ও বৈরী চাহনি",
                            "item": "https://golpohub.com/episodes/ami-padmaja-s1-ep41"
                        }
                    ]
                }
            ]
        }
    },
    "filters": [],
    "data": {
        "id": 153,
        "ep_number": 41,
        "title": "সাফল্যের আলো ও বৈরী চাহনি",
        "slug": "ami-padmaja-s1-ep41",
        "url": "https://golpohub.com/episodes/ami-padmaja-s1-ep41",
        "reading_time": 10,
        "thumbnail_url": "https://cdn.golpohub.com/covers/episodes/chapter-153-417d74.webp",
        "yt_video_id": null,
        "yt_video_url": null,
        "timestamps": {
            "published_at": "2026-08-27T22:01:25+00:00",
            "updated_at": "2026-09-05T22:50:38+00:00"
        },
        "meta": {
            "word_count": 1515,
            "chapter_number": 41,
            "seo_title": "আমি পদ্মজা পর্ব ৪১ - সাফল্যের আলো ও বৈরী চাহনি | Ami Padmaja Part 41",
            "seo_description": "পড়ুন আমি পদ্মজা পর্ব ৪১। মেট্রিকে পদ্মজার অভূতপূর্ব সাফল্য এবং রিদওয়ানের সাথে হেমলতার বৈরী সংঘাত।",
            "keywords": "আমি পদ্মজা পর্ব ৪১, ami padmaja porbo 41, ami padmaja part 41, পদ্মজা, হেমলতা, পূর্ণা, রিদওয়ান, মেট্রিক ফল",
            "characters_involved": [
                "পদ্মজা",
                "হেমলতা",
                "পূর্ণা",
                "আমির",
                "রিদওয়ান",
                "লাবণ্য"
            ]
        },
        "content": "<p>সূর্যমামার ঘুম ভাঙতে তখনো বাকি। তবে তার আগেই ডাকাডাকি করে সবার ঘুম ভাঙানোর কাজ শুরু করে দিয়েছে পাখিরা। পদ্মজা স্বামীর বুকের ওম ঝেড়ে ফেলে অজু করে আসে। এসে দেখে তার সোহাগের স্বামী এখনও গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন। পদ্মজা ডেকে তুলে, একসাথে ফজরের নামায আদায় করে। নামায শেষ করেই আমির ঘুমিয়ে পড়ে। পদ্মজা রান্নাঘরে যায়। গিয়ে দেখে,ফরিনা বেগম এখনও আসেননি। আজ মেট্রিক পরীক্ষার ফলাফল। উত্তেজনায় পদ্মজার সর্বাঙ্গ কাঁপছে। সে পায়চারি করতে করতে লাবণ্যর ঘরের সামনে আসে। দরজা খোলা। পদ্মজা বাইরে থেকে উঁকি দিয়ে দেখল, রানি মাটিতে বসে আছে। উদাস হয়ে কিছু ভাবছে। রাতে ঘুমায় না। নিজের মতো জগত করে নিয়েছে। খাবার রেখে যাওয়া হয়,যখন ইচ্ছে হয় খায়। পদ্মজা দীর্ঘশ্বাস ছাড়ল। এরপর জায়গা ত্যাগ করল। রানি অন্য কাউকে দেখলে খুব রেগে যায়। তাই এই ভোরবেলা তার সামনে না যাওয়াই মঙ্গল। পদ্মজা সদর ঘরে পায়চারি করতে থাকল। ফরিনা বেগম তাসবিহ পড়তে পড়তে সদর ঘরে প্রবেশ করেন। পদ্মজাকে দেখে প্রশ্ন করলেন, &#8216;উইট্টা পড়ছ তুমি! চুলায় আগুন ধরাইছো?&#8217;</p>\n<p>পদ্মজা অপরাধীর মতো মাথা নত করে &#8216;না&#8217; উচ্চারণ করল। ফরিনা এ নিয়ে কথা বাড়ালেন না। মৃদু কণ্ঠে আদেশ করলেন, &#8216;লাবণ্যরে ডাইককা তুলো গিয়া। ছেড়িডা আইজও মানুষ হইলো না। ভোরের আলো ফুইটা গেছে। হে এহনও ঘুমায়।&#8217;</p>\n<p>&#8216;আচ্ছা,আম্মা।&#8217;</p>\n<p>পদ্মজা আবার লাবণ্যর ঘরের সামনে আসল। এবার আর বাইরে থেকে উঁকি দিয়ে চলে যায়নি। ভেতরে ঢুকল। পদ্মজা আওয়াজ করে দরজা খুলে। তাও রানির ভাবান্তর হলো না। সে যেভাবে মাটিতে বসে জানালার বাইরে তাকিয়ে ছিল,সেভাবেই রয়েছে। পদ্মজা রানির দিকে চেয়ে চেয়ে পালঙ্কের পাশে গিয়ে দাঁড়াল। এরপর লাবণ্যকে ডাকল, &#8216;এই লাবণ্য। লাবণ্য?&#8217;</p>\n<p>লাবণ্য আড়মোড়া ভেঙে ঘুমু ঘুমু চোখে পিটপিট করে তাকিয়ে বলল, &#8216;উ?&#8217;</p>\n<p>&#8216;আজ ফলাফল। আর তুই ঘুমাচ্ছিস।&#8217;</p>\n<p>পদ্মজার কথা বুঝতে লাবণ্যর অনেক সময় লাগল। যখন বুঝতে পারল লাফিয়ে উঠে বসল। বুকে হাত রেখে, হাসঁফাঁস করতে করতে বলল, &#8216;কী বললি এটা! দেখ কলিজাডা লাফাইতাছে। কী ভয়ানক কথা মনে করায়া দিলি, উফ!&#8217;</p>\n<p>পদ্মজা হাসল। বলল, &#8216;কলিজা লাফায় না,বুক ধুকপুক করে।&#8217;</p>\n<p>&#8216;হ,ওইটাই&#8230;ওইটাই। আমি ফেইল করব। রানি আপার মতো মাইর খাব দেখিস। আমার শ্বাস কষ্ট হইতাছে।&#8217; লাবণ্য ভয়ে ঘন ঘন নিঃশ্বাস নিচ্ছে। সে আতঙ্কে আছে। এই চিন্তায় রাতে ঘুম আসেনি। ঘুমাতে ঘুমাতে মাঝরাত হয়ে গেছে। পদ্মজা লাবণ্যর ছটফটানি দেখে ভয় পেয়ে যায়। স্বান্ত্বনা দিয়ে বলল, &#8216;এমন কিছুই হবে না, দেখিস। বেহুদা চিন্তা করছিস। সূর্য উঠে যাবে। নামায পড় জলদি। আল্লাহর কাছে দোয়া কর।&#8217;</p>\n<p>লাবণ্য হুড়মুড়িয়ে বিছানা থেকে নেমে,কলপাড়ে ছুটে যায়। এইবার পদ্মজা হেসে ফেলল। রানির দিকে চোখ পড়তেই হাসিটা মিলিয়ে যায়। রানি কাঁদছে। পদ্মজা দুই পা রানির দিকে এগিয়ে আবার পিছিয়ে যায়।</p>\n<p>আবার এগিয়ে যায়। রানির পাশে বসে ডাকল, &#8216;আপা?&#8217;</p>\n<p>রানি চোখ ভর্তি অশ্রু নিয়ে তাকায়। পৃথিবীর সব কষ্টরা বুঝি এক জোট হয়ে রানির চোখে ভীড় জমিয়েছে। রানি অশ্রুরুদ্ধ কণ্ঠে বলল, &#8216;প্রিয় মানুষ হারানোর কষ্ট এতোডা যন্ত্রনা কেন দেয় পদ্মজা? তুমি তো অনেক জ্ঞানী। সবাই তোমারে বুদ্ধিমতী কয়। তুমি একটা বুদ্ধি দেও না। এই কষ্টের পাহাড় কমানোর বুদ্ধি। আমারে দেখায়া দিবা শান্তির পথ?&#8217;</p>\n<p>মানুষের কতটা কষ্ট হলে এভাবে শান্তি খুঁজে? পদ্মজার চোখ টলমটল করে উঠে। সে ঢোক গিলে বলল, &#8216;পুরনো স্মৃতি মুছে সামনের কথা ভাবো। নামায পড়ো। হাদিস পড়ো,কোরআন পড়ো। একদিন ঠিক শান্তি খুঁজে পাবা।&#8217;</p>\n<p>&#8216;আমার মতো পাপীরে আল্লাহ কবুল করব?&#8217;</p>\n<p>&#8216;আল্লাহ তায়ালার মতো দয়াবান, উদার আর কেউ নেই। পাপ মুছার জন্য অনুতপ্ত হয়ে সেজদা দিয়েই দেখো না আপা। ক্ষমা চেয়ে দেখো। আল্লাহ ঠিক তোমার জীবনে শান্তি ফিরিয়ে আনবেন। সেদিন বুঝবে,আল্লাহ তোমার সেজদা কবুল করেছেন।&#8217;</p>\n<p>রানি জানালার বাইরে তাকায়। আমগাছের ডালে চোখ রেখে বলল, &#8216;কেন এমনডা হইলো আমার সাথে?&#8217;</p>\n<p>&#8220;ব্যভিচার করেছো আপা। বিয়ের আগে এভাবে&#8230;! আপা এসব ভেবো না আর। যা হওয়ার হয়েছে।&#8217;</p>\n<p>&#8216;দুনিয়াত আর চাওনের বা পাওনের কিচ্ছু নাই আমার।&#8217;</p>\n<p>&#8216;আখিরাতের জন্য সম্পদ জমাও এবার।&#8217;</p>\n<p>রানি অন্যরকম দৃষ্টি নিয়ে পদ্মজার  দিকে তাকায়। পদ্মজা মাথায় সোজা সিঁথি করে সবসময়। এক অংশ সিঁথি দেখা যাচ্ছে। বাকিটুকু শাড়ির আঁচলে ঢাকা। মেয়েটা এত স্নিগ্ধ, এতো সুন্দর, এতো পবিত্র! দেখলেই মন প্রাণ জুড়িয়ে যায়। পদ্মজা বলল,&#8217;আখিরাতের সম্পদ এবাদত। খাঁটি এবাদত।&#8217;</p>\n<p>&#8216;তুমি জান্নাতের হূর পদ্মজা।&#8217; রানি মৃদু হেসে বলল। তার চোখ বেয়ে দুই ফোঁটা জল গড়িয়ে পড়ে। পদ্মজা অপ্রস্তুত হয়ে হাসল। বলল,&#8217;এখন নামায পড়তে পারবে? তাহলে পড়ে নেও আপা।&#8217;</p>\n<p>&#8216; ওইদিনডার পর আর গোসল করি নাই।&#8217;</p>\n<p>&#8216;আজ করবে কিন্তু।&#8217;</p>\n<p>&#8216;করব।&#8217;</p>\n<p>&#8216;আসি?&#8217;</p>\n<p>&#8216;আসো।&#8217;</p>\n<p>পদ্মজা বেরিয়ে আসে। দরজার বাইরে পা রাখতেই রানির কান্নার স্বর কানে আসে। পদ্মজা থমকে দাঁড়ায়। পিছন ফিরে একবার রানিকে দেখে। রানি হাঁটুতে মুখ লুকিয়ে কাঁদছে। পদ্মজা মনে মনে প্রার্থনা করে, &#8216;আল্লাহ,ক্ষমা করে দাও রানি আপাকে। শান্তির পথে ফিরে  আসার রহমত দাও।&#8217;</p>\n<p>__________________</p>\n<p>বাড়ির সবাই মেট্রিক পরীক্ষার ফলাফল জানার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে। আমির সেই সকাল দশটায় বের হয়েছে। এখন বাজে,দুপুর তিনটা। লাবণ্য মিনিটে মিনিটে গ্লাস ভরে পানি খাচ্ছে। আর বার বার টয়লেটে যাচ্ছে। পদ্মজা ঝিম মেরে বসে আছে। হেমলতা সবসময় পদ্মজাকে বলতেন, মেট্রিকে ফার্স্ট ডিভিশন পাওয়ার  জন্য। পদ্মজার একবার মনে হচ্ছে সে ফার্স্ট ডিভিশন ফলাফল করবে। আরেকবার মনে হচ্ছে, সেকেন্ড ডিভিশনে চলে যাবে। সে এক হাতের আঙুল দিয়ে অন্য হাতের তালু চুলকাচ্ছে। এই মুহূর্তে মাকে খুব মনে পড়ছে। কতদিন হলো,দেখা হয় না। প্রথম প্রথম  মায়ের জন্য প্রায় কাঁদতো সে। এখন অবশ্য মানিয়ে নিয়েছে। আছরের আযান পড়ছে। এখনও ফিরেনি আমির। পদ্মজা নামায পড়তে চলে যায়। নামায পড়ে বারান্দায় এসে দাঁড়ায়। এরপর যা দেখল, খুশিতে আত্মহারা হয়ে পড়ে সে। আমিরের সাথে হেমলতা, পূর্ণা এসেছে। দুজনের পরনে কালো বোরখা। তিনজন আলগ ঘর পেরিয়ে অন্দরমহলের দিকে আসছে। মাথার উপর কড়া রোদ নিয়ে মরুভূমিতে সারাদিন হাঁটার পর পথিক তৃষ্ণার্ত হয়ে পানির দেখা পেলে যেমন আনন্দ হয়,ঠিক তেমন আনন্দ হচ্ছে পদ্মজার। ইচ্ছে হচ্ছে দুই তলা থেকে ঝাঁপ দিয়ে নেমে যেতে। কিন্তু তা তো সম্ভব নয়। পদ্মজা উন্মাদের মতো দৌড়াতে থাকে। সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় উল্টে পড়ে যেতে গিয়েও নিজেকে সামলে নিল। তবুও দৌড় থামল না। সদর ঘরের সবাইকে তোয়াক্কা না করে বাড়ির বউ ছুটে বেরিয়ে যায়। হেমলতা কিছু বুঝে উঠার আগেই তার নয়নের মণি ঝাঁপিয়ে পড়ে বুকে। পদ্মজার ছোঁয়ায় চারিদিকে যেন বসন্ত শুরু হয়। পূর্ণা পদ্মজাকে দেখেই জড়িয়ে ধরে, ফোঁপাতে থাকল। পদ্মজা হেমলতার বুকে মাথা রেখে পূর্ণাকে এক হাতে জড়িয়ে ধরে কাঁদো কাঁদো হয়ে বলল, &#8216;এতদিনে আসতে মনে হয়েছে তোমাদের? এভাবে পর করে দিলে আম্মা? আর পূর্ণা,তুইতো আসতে পারিস। বোনকে মনে পড়ে না?&#8217;</p>\n<p>শাড়ির আঁচল টেনে পদ্মজার মাথার চুল ঢেকে দিলেন হেমলতা। এরপর বললেন, &#8216;মেয়ের শ্বশুরবাড়ি আসা কী এতই সোজা?&#8217;</p>\n<p>&#8216;তাহলে শ্বশুরবাড়ি পাঠানোর কী দরকার? যদি মা-বাবা সহজে না আসতে পারে।&#8217;</p>\n<p>&#8216;আপা..আমার তোমাকে খুব মনে পড়ে।&#8217; পূর্ণা বাচ্চাদের মতো করে কাঁদছে। পদ্মজা পূর্ণার চোখের জল মুছে দিয়ে বলল, &#8216;আমারও মনে পড়ে।&#8217;</p>\n<p>হেমলতা পদ্মজার চোখের জল মুছে দিয়ে বললেন, &#8216;৭৫০ মার্ক পেয়েছিস। স্টার মার্ক। ফার্স্ট ডিভিশন। এই খুশিতে আর কাঁদিস না।&#8217;</p>\n<p>পদ্মজার চোখভর্তি জল। গাল,ঠোঁট  চোখের জলে ভেজা। এমতাবস্থায় হাসল। তাকে মায়াবী ভোরের শিশিরের মতো দেখায়। হেমলতা অন্দরমহলের সদর দরজার দিকে তাকিয়ে দেখেন, হাওলাদার বাড়ির বাকিরা তাকিয়ে আছে। তিনি পদ্মজাকে সরিয়ে সদর দরজার দিকে এগিয়ে আসেন। ফরিনা বেগমের মুখ দেখে পদ্মজার ভয় হচ্ছে। উনার মুখ আগে আগে ছুটে। আম্মাকে কিছু বলবেন না তো?</p>\n<p>হেমলতা সবাইকে সালাম দিয়ে বললেন, &#8216;আমির ধরে নিয়ে আসলো।&#8217;</p>\n<p>মজিদ হাওলাদার বিনীত স্বরে বললেন, &#8216;এই প্রথম আমাদের বাড়িতে এসেছেন। আজ আসবেন আগে জানলে, গরু জবাই করে রাখতাম।&#8217;</p>\n<p>হেমলতা হাসলেন। বললেন, &#8216;বলেছেন, এই অনেক।&#8217;</p>\n<p>&#8216;বললেই হবে না। করতে হবে। কয়দিন কিন্তু থেকে যাবেন।&#8217;</p>\n<p>&#8216;এটা বলবেন না। আজই ফিরতে হবে আমার। কিছুক্ষণ থেকেই চলে যাব।&#8217;</p>\n<p>&#8216;প্রথম বার আসলেন আর কিছুক্ষণ থেকেই চলে যাবেন?&#8217;</p>\n<p>&#8216;আবার আসব।  অনেকদিন থেকে যাবো।&#8217;</p>\n<p>&#8216;আজকের রাতটা থেকে যান।&#8217;</p>\n<p>&#8216;আম্মা আজ থেকে যাও,আমার সাথে।&#8217; পদ্মজা অনুরোধ করে বলল।</p>\n<p>হেমলতা হাসলেন। ফরিনা কিছু বলছেন না। ভ্রুকুটি করে দাঁড়িয়ে আছেন। তিনি হেমলতাকে ভেতরে ভেতরে ভয় পান। কেমন ধারালো চোখের দৃষ্টি। যেন, একবার তাকিয়েই ভেতরের সব দেখে ফেলতে পারে। আর চোখমুখের ভাব দেখলে মনে হয়, কোন দেশের রাজরানি। তার উপর আমির দরদ দেখিয়ে শ্বাশুড়ি নিয়ে এসেছে। ফরিনা বিরক্ত  হচ্ছেন। হেমলতা ফরিনার দিকে তাকাতেই ফরিনা চোখ সরিয়ে নেন। হেমলতা ফরিনাকে প্রশ্ন করলেন, &#8216;আপা,কথা বলছেন না যে? আমার উপস্থিতি বিরক্ত করেছে খুব?&#8217;</p>\n<p>হেমলতার কথার ফরিনা সহ উপস্থিত সবাই অস্বস্তিতে পড়ে যায়। ফরিনা হাসার ব্যর্থ চেষ্টা করলেন। তারপর বললেন, &#8216;কী বলছেন আপা? বিরক্ত হইতাম কেরে? এই পরথম আইছেন। খুশিই হইছি।&#8217;</p>\n<p>&#8216;তাই বলুন।&#8217;</p>\n<p>&#8216; দরজায় দাঁড়ায়া গপ আর কতক্ষণ হইবো। ঘরে আহেন।&#8217; ফরিনা দ্রুত সটকে পড়েন। সদর ঘরে আগে আগে হেঁটে আসেন। হাঁপাতে থাকেন। বিড়বিড় করেন, &#8216;মহিলা এত্ত চালাক। সত্যি সত্যি সব বুইঝা ফেলে।&#8217;</p>\n<p>হেমলতা সবার আড়ালে শাড়ির আঁচল মুখে চেপে সেকেন্ড দুয়েক হাসলেন। হেমলতাকে হাসতে দেখে, পদ্মজাও  হাসল। সবাই সদর ঘরে এসে বসে। লাবণ্য ও পদ্মজার ফলাফল দেওয়ার উপলক্ষে শিরিন,শাহানাকে দাওয়াত দেওয়া হয়েছিল। তারা এখন হাওলাদার বাড়িতেই আছে। দুই বোন হেমলতা,পূর্ণার জন্য নাস্তা তৈরি করতে রান্নাঘরে গেল। লাবণ্য দরজা বন্ধ করে ঘরে বসে আছে। আমির এখনও লাবণ্যর ফলাফল কাউকে বলেনি। সে সদর ঘর থেকে লাবণ্যকে ডাকল, &#8216;লাবণ্য? এই লাবণ্য? শুনছিস? এদিকে আয়। আজ তোর খবর আছে।&#8217;</p>\n<p>আমিরের কথা শুনে লাবণ্যর বুকের ধুকপুকানি থেমে যায়। এখুনি নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে যাবে অবস্থা।  নিশ্চিত ফেইল করেছে! লাবণ্য চিৎ হয়ে শুয়ে অপেক্ষা করতে থাকে,কখন সে মারা যাবে। আমির আবার ডাকল, &#8216;বেরিয়ে আয় বলছি। নয়তো দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকব। তখন কিন্তু গায়ে মার বেশি পড়বে।&#8217;</p>\n<p>লাবণ্য তড়িঘড়ি করে বিছানা থেকে নামে। গায়ের ওড়না ঠিক করে দরজা খুলে। সদর ঘরে ঢুকতে ঢুকতে নামাযের সব সূরা পড়তে থাকে।</p>\n<p>আমির চেয়ার ছেড়ে দাঁড়াতেই লাবণ্য কেঁপে উঠে। কাঁদো কাঁদো হয়ে বলল, &#8216;আগামী বছর মেট্রিকে পাশ করাম, কসম!&#8217;</p>\n<p>&#8216;এই বছরই তো পাশ করেছিস! তাহলে আগামী বছর আবার মেট্রিক দিবি কেন?&#8217;</p>\n<p>লাবণ্য চকিতে তাকাল। তার মুখটা হা হয়ে যায়। লাবণ্যর মুখের ভঙ্গি  দেখে সবাই হাসল। লাবণ্য খুশিতে কেঁদে দিল। আমির লাবণ্যকে জড়িয়ে ধরে,মাথায় হাত বুলিয়ে বলল,&#8217;আরেকটুর জন্য ফেইল করিসনি।&#8217;</p>\n<p>লাবণ্য হাসতে হাসতে কাঁদছে।  লাবণ্যর পাগলামি দেখে আমিরও হাসছে। তখন সদর ঘরে প্রবেশ করে রিদওয়ান হাওলাদার। হেমলতা রিদওয়ানের দিকে অনুসন্ধানী দৃষ্টিতে তাকান। হেমলতার চোখে চোখ পড়তেই রিদওয়ান বিব্রত হয়ে উঠে। চোখ সরিয়ে নেয়। একটু পর আড়চোখে তাকিয়ে দেখে,হেমলতা তখনও তীক্ষ্ণ দৃষ্টি মেলে তাকিয়ে আছেন। রিদওয়ান ঘর ছেড়ে বেরিয়ে যায়। এ যেন সাপুড়ে ও সাপের খেলা।</p>",
        "series": {
            "id": 3,
            "title": "আমি পদ্মজা",
            "slug": "ami-padmaja",
            "url": "https://golpohub.com/series/ami-padmaja",
            "thumbnail_url": "https://cdn.golpohub.com/covers/series-ami-pdmja-3-76884d.webp",
            "progress_status": "completed"
        },
        "author": {
            "id": 3,
            "name": "ইলমা বেহরোজ",
            "slug": "elma-behrooz",
            "url": "https://golpohub.com/authors/elma-behrooz",
            "avatar_url": "https://cdn.golpohub.com/avatars/ilma-behroj-3-87a9ea.webp",
            "bio": "ইলমা বেহরোজ সমকালীন বাংলা অনলাইন কথাসাহিত্যের এক শক্তিমান ও তুমুল জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক। মনস্তাত্ত্বিক টানাপোড়েন, গ্রামীণ পটভূমিতে গড়ে ওঠা সামাজিক বাস্তবতার অন্ধকার গহ্বর এবং রক্ত হিম করা থ্রিলারধর্মী আখ্যান নির্মাণে তাঁর কলম অনন্য। 'আমি পদ্মজা' উপন্যাসের মধ্য দিয়ে তিনি বাংলা পাঠকমহলে এক অবিস্মরণীয় আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন, যা তাঁকে এনে দিয়েছে পাঠকহৃদয়ের অপার ভালোবাসা ও সাহিত্যিক মর্যাদা।",
            "series_count": 0,
            "meta": {
                "bio": "ইলমা বেহরোজ সমকালীন বাংলা অনলাইন কথাসাহিত্যের এক শক্তিমান ও তুমুল জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক। মনস্তাত্ত্বিক টানাপোড়েন, গ্রামীণ পটভূমিতে গড়ে ওঠা সামাজিক বাস্তবতার অন্ধকার গহ্বর এবং রক্ত হিম করা থ্রিলারধর্মী আখ্যান নির্মাণে তাঁর কলম অনন্য। 'আমি পদ্মজা' উপন্যাসের মধ্য দিয়ে তিনি বাংলা পাঠকমহলে এক অবিস্মরণীয় আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন, যা তাঁকে এনে দিয়েছে পাঠকহৃদয়ের অপার ভালোবাসা ও সাহিত্যিক মর্যাদা।",
                "phone": null,
                "gender": "female",
                "address": {
                    "city": "Sylhet",
                    "country": "Bangladesh"
                },
                "birth_date": null,
                "social_links": {
                    "facebook": "https://facebook.com/458485514942456",
                    "instagram": "https://instagram.com/alabalatalatula"
                },
                "pen_name": "ইলমা বেহরোজ",
                "aliases": [
                    "Elma Behrooz",
                    "Ilma Behroz",
                    "ইলমা"
                ]
            },
            "timestamps": {
                "created_at": null,
                "updated_at": null
            }
        },
        "navigation": {
            "previous_episode": {
                "id": 152,
                "ep_number": 40,
                "title": "লাশের খবর ও প্রেমিকের সমাপ্তি",
                "slug": "ami-padmaja-s1-ep40",
                "url": "https://golpohub.com/episodes/ami-padmaja-s1-ep40",
                "thumbnail_url": "https://golpohub.com/assets/images/og.jpg"
            },
            "next_episode": {
                "id": 154,
                "ep_number": 42,
                "title": "বাণিজ্যের আড়াল ও মধ্যরাতের হুঁশিয়ারি",
                "slug": "ami-padmaja-s1-ep42",
                "url": "https://golpohub.com/episodes/ami-padmaja-s1-ep42",
                "thumbnail_url": "https://golpohub.com/assets/images/og.jpg"
            }
        }
    }
}