বাসর রাতের সংঘাত

•7 মিনিট পড়া•1,107 শব্দ
বাসর রাতের সংঘাত

আজ আনহার বিয়ে । অনেকটা জটিলতা প্রবণ ভাবেই বিয়েটা হলো । পারিবারিক বিয়ে হলেও মেয়ে দেখে পছন্দ করার পর তাড়াতাড়ি ই বিয়ে হয়ে গেলো ।

.

বাসরে……..

আনহা একা বসে রয়েছে । ছোট থেকেই মেয়েটা ফাজিল । তার খুব ইচ্ছে এমন একজন কে ভালোবাসার যে তাকে বড্ড ভালোবাসবে ।

.

জিহাদের প্রবেশ……….…

সে : ওই মেয়ে যায়ে কাপড় পাল্টিয়ে নিচে শুয়ে পড় ।৤

আমি : মানে

সে : আজাইরা মানে খুঁজবি না যা বলছি তাই কর আর আমার মুখের উপর কথা বলবি না

আমি : কেন আপনি কি আমার স্যার যে কথা বলবো না আপনার মুখের উপর

সে : আজ থেকে তাই তুই আমাকে একা থাকলে স্যার ই বলবি

আমি : এসব কেমন ব্যবহার আপনার

সে : হাহ তোকে বিয়ে করেছি শুধুই আমার মা কে খুশি করতে

নাহলে আজকাল কার লোভী মেয়েদের কে বিশ্বাস করে‌ । আমার টাকা আছে এখন তাই আসছিস তাই না । কোনো এক ছেলে কে মিথ্যে ওয়াদে করে আমার জীবনে আসছিস তাই না ।

আমি : হইলো আপনার৤?

সে : মানে

আমি : আপনি ছেকা খাইছেন ভালো কথা আমার উপর Angry হচ্ছেন কেন

সে : চুপ আমার মুখের উপর কথা

আমি : বলবো আপনার সমস্যা । আমি আমার বরের সাথে কথা বলছি হুহ

সে : তুই ও একটা লোভী মেয়ে

আমি : ওই চুপ আমি বিয়ের আগে প্রেম করি নি বরের সাথে করবো বলে আর লোভী বলবেন না হুহ

সে : তুই এমন কেন দেখছিস না আমি কতো খারাপ ।

আমি : খারাপ হন আর ভালো আমারি তো বর হিহি ( হাসি দাত বের করে )

সে : (তাকিয়ে হাসি দেখছে বড্ড মায়াবী হাসি । পরক্ষণেই ভাবলো না এ কি ভাবছি সব মেয়ে আজকাল কার লোভী হয় )

আমি : তা ছেকা খাইছেন বুঝছি আপনাকে সোজা করা মুশকিল ।

সে : চুপ করররররর একদম

আমি : ওহো করবো না চুপ

সে : যা নিচে ঘুমা আমার ঘুম পাচ্ছে

আমি : আমি বিছানায় ই ঘুমাবো

সে : না তুই নিচেই থাকবি

আমি : আমাকে নিচে থাকতে হলে আপনাকেও নিচেই রাখবো

সে : হুহ আমি নিচে গেলে তো

আমি : ওকে মিস্টার ওয়েট এন ওয়াচ আনহার কেরামতি

.

আমি চলে আসলাম । ভাবতেছি একে কেমনে শায়েস্তা করা যায় ।

.

.

সে : বড্ড পাগলি টাইপের মেয়ে । এই মেয়েও কি তার মতোই ধোকা দিবে । কিন্তু একে তো নিশ্পাপ মনে হয় । নাহ আমি কারো মায়ায় জড়াবো না আর ।৤

.

আমি এক বালতি পানি এনে বিছানায় ঢেলে দিলাম । সাথে ছোফায়ও ।

.

জিহাদ তো থ

.

.

সে : এটা কি করলিইইইইইই

আমি : কেনো গো দেখতে পাও না

সে : পানি ঢাললি কেন

আমি : আপনি এতো রাগী কেনো হুহ

সে : তুই কথা বলিস কেন এতো

আমি : আপনি রাগ করেন তাই

সে : যাহ এখান থেকে

আমি : ওকে মামনির কাছে গেলাম

সে : ওই না ( ও মামনি কে ভয় পায় )

আমি : হিহি আপনি ভয় পান

সে : নাহ তোকে কে বললো

আমি : ননদিনী

সে : ওরে আমি খাইছি

আমি : চুপপপপপ

সে : আমার মুখের উপর আবার কথা বলিস

আমি : আপনার মুখের উপর কই আমি তো আপনার না আমার #Angry_husband এর মুখের উপর কথা বলছি

.

.

ও আর কিছু না বলে আমার এক হাত শক্ত করে ধরে পিছনের দিকে ঘুরিয়ে নিলো ।

আমি : লাগছে আমার

সে : তুই এমন করলি কেন

আমি : হুহ আপনার জন্য

.

সে আরও শক্ত করে হাত টা ধরলো আর বলল : কিইইই আমার মুখের উপর কথা

.

এবার অনেক লাগলো

.

আমি : ছাড়ুন লাগছে

সে : লাগুক

.

.

আমি আর পারলাম না কেঁদে ফেললাম

.

.

জিহাদ আনহার কান্না দেখে আর খারাপ ব্যবহার করতে পারলো না । নিচে বিছানা করে শুয়ে পড়লো ।

.

আমি কাঁদলাম অনেক সময় ধরে । জিহাদ ও ঘুমের ভান করে সব শুনলো কিন্তু কিছু বললো না ।

.

কিছু সময় পর আমি ঘুমিয়ে পড়লাম ।

.

ভোরের সময়……

জিহাদ ভোরের আলোতে মেয়েটাকে আরও বেশি মিষ্টি লাগছে । সত্যি কি আনহাও । নাহ সব মেয়ে ই এক ।

.

কিছু সময় পর আনহার ঘুম ভাঙলো

.

নামায পড়তে উঠেছে সে ।

.

নামায শেষে…..

জিহাদের পাশে বসলো …..

ছেলেটা বড্ড মায়াবী । বুঝাই যায় না কালকের রাগী ছেলেটাই হলো ও ।

.

সকালে৤৤৤৤৤৤……..

আমি : উঠুন

জিহাদ : আমি ঘুমাবো

আমি : ওই পোলা উঠেন

জিহাদ : এই মেয়ে যাও তো

আমি : দাড়ান দেখাচ্ছি মজা

.

পানি ঢেলে দিলাম

.

জিহাদ : ইউউউউউউউ

আমি : হ অনেক খারাপ উঠেন এবার

.

জিহাদ গোসল শেষ করে এসে দেখলো………….

.

আনহা ভিজা চুলে দাড়িয়ে রেডি হচ্ছে……

জিহাদ ভাবছে…… (অপরূপ লাগছে মেয়েটি সব মেয়ে ই কি কিউট হয় । নাকি ও ই একটু বেশি মায়াবী । আমি কি ভাবছি এসব । নাহ এর মায়ায় জড়ানো যাবে না । মেয়েরা মায়ায় জড়িয়েই কষ্ট দেয় )

.

.

আমি : কিছু বলবেন ?

জিহাদ : আমার মা কে কিছু বলবি না তুই

আমি : উনি আমারো মা আপনি আমাকে স্ত্রী না ভাবলেও আপনি আমার স্বামী আর আমি আমার মা কে কষ্ট দিবো না হুহ ।

জিহাদ : না দিলেই ভালো

.

রান্নাঘরে

আমি : আসসালামুয়ালাইকুম দেন আমি করছি

মামনি : নাহ রে পাগলি তুই বস

আমি : আমাকে কি মেয়ে ভাবো না

মামনি : তুই তো আমারি মেয়ে

আমি : তাহলে মেয়ে থাকতে মা এতো কাজ করবে কেন

মামনি : আচ্ছা কর

.

রান্নার সময় মা আমার দিকে তাকিয়ে কেনো । আল্লাহ উনি তো আমার হাত দেখছে । কালকের দাগ টা তো এখনো আছে । ভয়ে হাত লুকালাম ।

.

মামনি : জিহাদ করেছে তাই না

আমি : নাহ ওইতো পড়ে গেছিলাম

মামনি : মিথ্যে বলছিস তাই না ।

আমি : না মিথ্যে কেন বলবো

মামনি : চোখ লুকাচ্ছিস কেন

আমি : নাহ কই

মামনি : আমাকে বল আমি কাউকে বলবো না

আমি : ওয়াদা করো যে আমি না বলা অব্দি কাউকে বলবে না

মামনি : আচ্ছা ওয়াদা রইলো

.

আমি বললাম……..

বলতে গিয়ে কেঁদেই ফেললাম

মামনি : মা রে আমার ছেলেটা অমন ছিল না । ওর এমন ব্যবহারের জন্য দায়ী নিহা নামের এক মেয়ে । ও তখন এইচএসসি দিচ্ছিল এক মেয়ে কে বড্ড ভালোবাসতো । আমরাও জানতাম কিন্তু মেয়েটা টাকার লোভে এক ছেলেকে বিয়ে করে । বিয়ের আগে আমি মেয়েটাকে ফোন ও দিছিলাম কিন্তু সে আমাকেই বাজে কথা শুনায় । তারপর থেকেই ও এমন হয়ে যায় ।

আমি : ব্যাপার না মামনি আনহা আছে না

আমি থাকতে এতো চিন্তা কই । ওকে সোজা আমি করবো ।

মামনি : আচ্ছা

আমি : চলো নাস্তা নিয়ে যাই

মামনি : আচ্ছা

.

খাবার টেবিলে জিহাদ কে দেখে ইচ্ছে করে চোখ মারলাম

.

হিহি ওয় তো রাগে শেষ । মনে হচ্ছিল আমাকে খেয়ে ফেলবে ।

.

রুমে আসলাম ।

জিহাদ : চোখ মারলি কেন

আমি : প্রমাণ আছে ?

জিহাদ : আমি দেখছি

আমি : আপনার চোখে সমস্যা আছে

জিহাদ : কিহ্

আমি : এমা আমার বরের চোখে সমস্যা আমার বর কানা এমা……

জিহাদ : চুপপপপ

অধ্যায় 1 সমাপ্ত

আপনি এই অধ্যায়টি পড়া শেষ করেছেন। পরবর্তী পর্বে যান অথবা আপনার প্রতিক্রিয়া জানান!

মন্তব্যসমূহ

0

আলোচনায় যোগ দিন

মতামত জানাতে এবং পাঠকদের সাথে আলোচনায় অংশ নিতে লগইন করুন।

এখনও কোনো মন্তব্য নেই।

প্রথম মন্তব্যটি করে আলোচনা শুরু করুন!

রকমারি কালেকশন

বইপ্রেমীদের জন্য রকমারি বেস্টসেলার

অধ্যায় পাঠ শেষে সংগ্রহ করুন আপনার পছন্দের ঘরানার সেরা বই ও বিশেষ ডিসকাউন্ট

বাসর রাতের সংঘাত

অনুচ্ছেদ 1 / 1 • চলছে
বিজ্ঞাপন