মরিচের শরবত ও অনুশোচনা

•8 মিনিট পড়া•1,173 শব্দ
মরিচের শরবত ও অনুশোচনা

জিহাদ : চুপপপপ

আমি : এটা আমি করতে পারি না হিহি । কথা বলে থাকি নাই বকবক করুম ই তাই

জিহাদ : তুই এমন কেন

আমি : এমনি বদলাবো না

জিহাদ : দুররররর

.

বলে হাত টা ছেড়ে দিল

.

আমি হাসতেছি আর ভাবছি এমনেই ওরে মানুষ করবো ।

.

বিকেলে

জিহাদ আসলো ।

আমি : কি খবর জামাই লেট কেন

জিহাদ : তোকে বলবো কেন

আমি : কজ আমি আপনার বউউউউ

জিহাদ : বউ আমি মানি না

আমি : ওয়াওওও তো আমি কি করবো । আমি তো মানি

জিহাদ : দুরররর

আমি : কিটক্যাট খাবেন

জিহাদ : মানে

আমি : এমা চকলেট খাবেন জিগাইলাম

জিহাদ : আমি কি বাচ্চা

আমি : ওহ ভালো আমি তো ভুলেই গেছি আপনি বুড়া আমিই খাই হিহি

.

জিহাদ : ( ভাবছে মায়া জড়ানো হাসি )

আমি : যাই গা আমি কিটক্যাট খাই একটু কার্টুন দেখতে দেখতে

জিহাদ : এ্যা

আমি : হ্যাঁ

.

যাই‌গা সরেন তো

জিহাদ : এই‌ মেয়ে কেমন রে আমি এতো আঘাত করি তাও‌ এতো দুষ্টু ।

.

হুহ আমার কি ?

জিহাদ দেখলো আনহা সত্যি ই কার্টুন দেখতেছে ৤আর হাসতেছে ।

.

এটা দেখে ও নিজেও হেসে ফেললো যদিও লুকিয়ে যা আনহা দেখে নি ।

.

কিছুদিন পর

জিহাদের ব্যবহারে পরিবর্তন লক্ষ্য না হলেও ও আজকাল হাসতে শিখেছে ।

.

বিকেলে দেয়ালের উপরের সেল্ফ টা গোছাতে টেবিলের উপর উঠলাম । এমন সময় জিহাদ আসলো।

.

জিহাদ : পিচ্চি মেয়ে আবার কাজ করতে উপরে উঠছে হুহ

আমি : পিচ্চি তো কি হইছে আমি পারবো ।

জিহাদ : ওরে বাবারে নিচে নেমে আয় । আমি করতেছি

আমি : আমিই করবো

জিহাদ : ওই মেয়ে আমার মুখের উপর কথা

আমি : এমা তাই তো আমি উপরে আপনার মুখের উপর

জিহাদ : হুরররর

আমি : এহে বকিয়েন না

জিহাদ : ওই নাম

আমি : আরেহ

.

আরেহ করতেই পা পিছলে গেলো আর পড়ে গেলাম

.

আম্মুউউউউউ

এমা আমার হাড্ডি ভাঙ্গে নি কেমনে ।

আমি : এমা আমাকে ধরছেন

.

জিহাদ তাকায় আছে আনহার দিকে হয়তো ওর মাঝে ডুবে গেছে

আমি : বাহ থেংকু #Angry_husband

.

জিহাদ আনহার কথা টা শুনে ওকে ছেড়ে দিল

.

আমি : মা গো ছাড়ার ই ছিলো তো ধরলেন কেন

জিহাদ : আমার কথা না শুনার মজা বুঝ

আমি : আপনাকে ছাড়বো না ওয়েট এন ওয়াচ আনহার স্টাইল

জিহাদ : হুররর

.

রাতে খাবার টেবিলে

জিহাদ : বাহ খাবার তো ভালোই রেঁধেছো মা

মামনি : আনহা রেঁধেছে

জিহাদ : ওহ

.

খাচ্ছে সবাই

জিহাদ : ( ঝাল লাগে কেন । নিশ্চই এই মেয়ে কিছু করছে )

আমি : ( হাসতেছি আর দিলাম চোখ মেরে )

.

.

আমিই মরিচের গুড়ো দিছি

৤.

.

জিহাদ : রাগী লুকে আনহার দিকে তাকিয়ে সব খেয়ে চলে গেল

আমি : (হায় কপাল কি যে হবে আমার সাথে আজ ভাবছি )

.

রুমে……..

আমি ঢুকতেই……….

আমার হাত ধরে পিছন দিকে নিয়ে গেলো

আমি : আম্মু গো হাত আবার গেছে আমার

জিহাদ : আমার সাথে মজা দেখাচ্ছি ঝাল কাকে বলে

আমি : হিহি সরি

জিহাদ : দাড়া তুইইইই

.

আমাকে রাখে গেল….

.

আমি ভাবছি , আম্মু গো কি হবে এখন পালাবো নাকি ?

.

এই ভেবে যেই পালাতে যাবো ওয় চলে আসছে হাতে গ্লাসে কি শরবত । এ্যা ওয় তো শরবত খাওয়ানোর মানুষ না ।

জিহাদ : খা এবার মরিচের শরবত

আমি : ইইইই না সরি আর করবো না আমি মরিচ খেতে পারি না বেশি প্লিজ

জিহাদ : তুই খাবি এখনি

আমি : প্লিজ না

.

জিহাদ জোড় করে আমাকে ওই শরবত খাওয়ায় দিল ।

.

খাওয়া শেষে…..

আমি শেষ ঝালে

আমি কাশতে শুরু করলাম

.

জিহাদ : বুঝ মজা

.

আমি আর কিছু বলতে পারলাম না এতো পরিমাণ ঝাল লেগেছে যে

আমি লাল হয়ে গেলাম আর কাঁশতে কাঁশতে চোখের সামনে অন্ধকার হয়ে আসলো । আমি জ্ঞান হারালাম ।

.

এদিকে জিহাদ : আনহা কথা বলছে না কেনো আমি কি বেশিই করে ফেললাম

.

আমার মাথা টা তার কোলে নিয়ে

.

জিহাদ : আনহা কথা বলো

ওই

.

আনহা….

সরি বেশি করে ফেলছি

.

চোখ খুলো

.

জিহাদ আর কিছু না বলে আনহা কে কোলে করে হসপিতালে নিয়ে গেলো ।

.

ডাক্তার চেক আপ এর পর

ডাক্তার : কি এমন খেয়েছে

জিহাদ : মরিচ

ডাক্তার : মানে কি এতো পরিমাণ

জিহাদ : sorry doctor it’s my mistake

ডাক্তার : মিস্টেক যার ই হোক । উনার তো মনে হয় বেশি মরিচ খাওয়া তে রিয়েকশন করছে

জিহাদ : ডক্তর যে করে হোক ওকে সুস্থ করুন

ডাক্তার : আমি ওষুধ লিখে দিচ্ছি খাওয়াইয়েন আর উনার খেয়াল রাখবেন

জিহাদ : ওকে ডক্তর

.

বাড়িতে নিয়ে আসলো আমাকে আমি তখনো দূর্বল

.

মামনি : কি রে আনহার কি হয়েছে এমন অবস্থা হঠাৎ কিভাবে ?

জিহাদ : আসলে আমি রেগে গিয়ে ওকে অনেক পরিমাণ মরিচ খাইয়ে দিছি

মামনি : এই মেয়ে টা কি করছে তোকে এতো কেন রাগ

জিহাদ : না কিন্তু

মামনি : ও অনেক ভালো রে জিহাদ

জিহাদ : আচ্ছা সরি বললাম তো ভালো লাগছে না আমি গেলাম ওকে নিয়ে রুমে ।

.

রুমে…………

.

আমার কপালে হাত রেখে

জিহাদ : জ্বর আসলো নাকি মেয়েটার

.

হায়রে এই মেয়ে এতো দূর্বল । দুর দোষ তো আমারি । কেন যে এতো রাগ । কি আর করবো দেখি মেয়েটার খেয়াল রাখি ।

.

এসব ভাবছিল জিহাদ

.

সারারাত খেয়াল রাখলো

.

সকালে উঠছিলাম

জিহাদ : সরি

আমি : মাফ করবো না

জিহাদ : কর বলছি

আমি : এক শর্তে

জিহাদ : কি

আমি : আমাকে তুমি বলতে হবে

জিহাদ : ওকে

জিহাদ : শুয়ে থাকো

আমি : আপনি আমাকে তুমি বলছেন সূর্য কোন দিক উঠছে

জিহাদ : (এই‌ অবস্থায় ও‌ মজা করে এই মেয়ে ভাবছে ) ওই চুপ করে থাক ।

আমি : হুরর এখনো অসুস্থ তো আপনার জন্যই হইছি

জিহাদ : তো তোকে ঝাল দিতে কে বলছিলো জানিস না আমার রাগ বেশি

আমি : ফেলে দিছিলেন কেন

জিহাদ : আরও ফেলবো

আমি : কেন ফেলবেন

জিহাদ : তুই আমার বউ তাই

আমি : এমা মানলেন আমি আপনার বউ

.

জিহাদ আর কিছু না বলে বের হয়ে গেল রুম থেকে

.

কিছু সময় পর

জিহাদ আসলো

জিহাদ : খেয়ে নে

আমি : খাবো না‌

জিহাদ : খা

আমি : উহু এটা খেতে ভালো না

জিহাদ : খা

.

বলে খাইয়ে দিল

.

জিহাদ : সরি

আমি : মাফ করবো না

জিহাদ : কর বলছি

আমি : এক শর্তে

জিহাদ : কি

আমি : আমাকে তুমি বলতে হবে

জিহাদ : ওকে

.

দুইদিন পর রাত্রে

আমি আর ও বসে ছিলাম যদিও ও নিজের অফিসের কাজ করছিল ।

.

আমি অনেকটা সুস্থ এই দুইদিনে ।

.

এমন সময় বৃষ্টি আসলো

.

আমি : ওয়াও বৃষ্টি আমি গেলাম

.

জিহাদ কিছু সময় পর লক্ষ করলো

আর বলল : মেয়েটা গেলো কই

.

এদিক ওদিক দেখে

.

পুরো বাড়ি খুজে নাই আনহা

.

যাই তো ছাদে দেখি আছে কি না ?

.

.

.

ছাদে গিয়ে দেখলো আনহা বৃষ্টি ভিজছে

জিহাদ তাকিয়ে দেখছে আর ভাবছে দারুণ লাগছে মেয়ে টাকে । কিছু সময়ের জন্য জিহাদ আনহার মাঝে হারিয়ে গেলো ।

আনহা : ভিজবেন নাকি আসুন

.

.

জিহাদের ঘোর ভাঙলো

.

.

জিহাদ : চলে আসো

আমি : না আমি ভিজবো

জিহাদ : কেবল জ্বর সারলো

আমি : হুর কিছু হবে না

জিহাদ : আসবা না

আমি : না

.

জিহাদ আর কিছু না বলে আনহা কে কোলে নিয়ে আসছিল ।

পথে একটু কিল ঘুসি মারলাম ছাড়ানোর চেষ্টায়

অধ্যায় 2 সমাপ্ত

আপনি এই অধ্যায়টি পড়া শেষ করেছেন। পরবর্তী পর্বে যান অথবা আপনার প্রতিক্রিয়া জানান!

মন্তব্যসমূহ

0

আলোচনায় যোগ দিন

মতামত জানাতে এবং পাঠকদের সাথে আলোচনায় অংশ নিতে লগইন করুন।

এখনও কোনো মন্তব্য নেই।

প্রথম মন্তব্যটি করে আলোচনা শুরু করুন!

রকমারি কালেকশন

বইপ্রেমীদের জন্য রকমারি বেস্টসেলার

অধ্যায় পাঠ শেষে সংগ্রহ করুন আপনার পছন্দের ঘরানার সেরা বই ও বিশেষ ডিসকাউন্ট

মরিচের শরবত ও অনুশোচনা

অনুচ্ছেদ 1 / 1 • চলছে
বিজ্ঞাপন