> **বিকল্প ফরম্যাটসমূহ:** [এইচটিএমএল](https://golpohub.com/episodes/bosser-sathe-prem-s1-ep11) | [জেসন](https://golpohub.com/episodes/bosser-sathe-prem-s1-ep11?format=json) | [আরএসএস ফিড](https://golpohub.com/episodes/bosser-sathe-prem-s1-ep11?format=rss) | [অ্যাটম ফিড](https://golpohub.com/episodes/bosser-sathe-prem-s1-ep11?format=atom)

# পার্কের বেঞ্চ ও মধ্যরাতের শুভাকাঙ্ক্ষী

![পার্কের বেঞ্চ ও মধ্যরাতের শুভাকাঙ্ক্ষী](https://cdn.golpohub.com/covers/episodes/chapter-chapter-1961-f14ad7.webp)

---
*[অনামিকা ইসলাম অন্তরা](https://golpohub.com/authors/anamika-islam-antara)-এর [বসের সাথে প্রেম](https://golpohub.com/series/bosser-sathe-prem) সিরিজ থেকে*\n*আনুমানিক পড়ার সময়: 15 মিনিট*
- **মোট শব্দ:** 2,352
- **প্রকাশিত:** Sep 8, 2026
---

ভালোবাসা মানে হলো ভালোবাসার মানুষটির সুখের জন্য ত্যাগ,ভালোবাসা মানে দুর থেকে প্রিয় মানুষটির জন্য শুভকামনা….. ভালোবাসা মানে পাবো না জেনেও তার মঙ্গলের জন্য আল্লাহর দরবারে দোয়া করা…. সেই মন্ত্রে উজ্জীবিত হয়েই না হয় আমি আমার না পাওয়ার বেদনাকে সুখের পরম প্রাপ্তি মনে করে, ওর জন্য মন থেকে দোয়া করব। সেদিন অফিসে নতুন করে জয়েন করেছিলাম ওর পি.এ হয়ে। অফিস শেষে ওনার সাথে ওনার গাড়িতে করে বাড়ি ফিরছিলাম। মাঝরাস্তায় ওনাকে গাড়ি থামাতে বললাম। ওনি রাস্তার পাশে গিয়ে গাড়ি থামালেন। আমি গাড়ি থেকে নেমে ওনাকে চলে যেতে বলে পাশের পার্কটার বেঞ্চে গিয়ে চুপটি করে বসে রইলাম। ওনি যে কখন আমার পাশে এসে দাঁড়িয়েছে বুঝতে পারিনি। যখন বুঝতে পারলাম তখন ওনার দিকে তাকালাম। ওনি আমার পাশে নিঃশব্দে বসে পরলেন। অনেকক্ষণ চুপ করে থাকার পর ওনি’ই মুখ খুললেন- ‘ আগে কখনো এসেছ?’ -‘ একবার নয়, অনেকবার এসেছি। মন খারাপ হলেই আমি এখানে আসি। চারপাশের সতেজ প্রকৃতি আর এই ফুলবাগান দেখলে মনটা আর খারাপ থাকে না। ভালো হয়ে যায়। আমার মন খারাপের সাক্ষী এই পার্ক…. চারপাশে এই যে এত বৃক্ষলতা, ফুলের বাগিচা এই সবকিছুর সাথে আমার অনেক অনেক সখ্যতা। ওরা আমায় খুব বেশী আপন করে ফেলেছে। এই দেখেন না আসতে না আসতে কেমন বাতাস শুরু করে গেল….. -‘ অপূর্ব!(সিয়াম) -‘ কি?!!! Ufff! দেখেন না ভাইয়া কেমন বাতাস বওয়া শুরু করে দিয়েছে।(চুল সামলাতে সামলাতে মায়া) -‘ ওয়াও……(সিয়াম) -‘ কি?(মায়া) -‘ তোমার চুল……..(সিয়াম) -‘……… আচ্ছা, চলেন যাওয়া যাক এবার……..(মায়া) -‘ আরেকটু বসি না?!?(সিয়াম) -‘ আচ্ছা…….(মায়া) -‘ হুম………….(সিয়াম) -……….(মায়া চুপচাপ) -‘………(সিয়ামও চুপচাপ) -‘ ভাইয়া একটা কথা বলব? ওনার দিকে তাকিয়ে আমি কথাটা বলছিলাম… ওনি আমার দিকে তাকিয়ে বলল- জি, বলো। -‘ আপনি কি সত্যি’ই কাউকে ভালোবাসেন?কথাটা বলতে গিয়ে গলা আটকে আসছিল আমার। তবুও বললাম। ওনার দিকে তাকাতে পারছিলাম না, তাই নিচে তাকিয়ে আছি প্রশ্নটা করেই। ওনি আমার দিকে তাকিয়ে হেসে হেসে বললেন, হুম। বাসি। -‘ কতটুকু বাসেন?(M) -‘ যতটুকু ভালোবাসলে বুকে হাত দিয়ে বলা যায়, আমার মত ভালো বোধ হয় পৃথিবীর আর কোনো প্রেমিক তার প্রেমিকাকে বাসতে পারবে না।(S) -‘ আর বসে থাকতে পারছিলাম না। বসা থেকে উঠে পরলাম। ওনি এখনো বসে আছেন। চোখে জল, মুখে হাসি নিয়ে অন্যদিকে তাকিয়ে আবারো জিজ্ঞেস করলাম- ” ম্যাডাম নিশ্চয় আপনাকে খুব ভালোবাসে?!!! -‘ নির্লিপ্ত কন্ঠে ওনার জবাব- জানি না, তবে ভালো না বাসলেও ও আমায় ঘৃণা করে না।’ -‘ একতরফা ভালোবাসা? কিছুটা গম্ভীর হয়ে ও বলল, আপাতত একতরফা’ই বলতে পার। তবে খুব শিগ্রয় মনের কথা’টা ওকে বলে দিব….(S) -‘ সেটাই ভালো। মনের কথা যত তাড়াতাড়ি পারেন বলে দিবেন, ভাইয়া। না হলে পরে প্রস্তাতে হবে…. ও হাসোজ্জল মুখে বলল, সেটাই করতে হবে। কেন জানি না চোখ দিয়ে পানি পরতেছে। কন্ঠ আটকে যাচ্ছিল। বহুকষ্টে কান্না থামালা। আচ্ছা! ওনি কি অনেক সুন্দর,ভাইয়া? -‘ সিয়াম জোর গলায় বলল, হুম, অনেক সুন্দর। …..দেখতে কেমন? আমার থেকেও বেশী মায়াবী? – হুম, তোমার থেকেও অনেক সুন্দর সে। তবে সে নিজেও জানে না সে কতটা সুন্দর। ওর ঐ মায়াবী মুখের পানে যতবার’ই তাকাই, ততবার’ই ওর প্রেমে পরে যায়। মায়া জানো, খুব ভালোবাসি আমি আমার ঐ মায়াপরিটাকে। এতটাই ভালোবাসি যে যা ও কখনো কল্পনাও করতে পারেনি, পারবেও না….. কেন জানি এবার আর কান্না আটকাতে পারছিলাম না। অবস্থা বেগতিক দেখে মুখটা হাত দিয়ে চেপে ধরলাম….. ছেলেটির ডায়েরী\_ সে রাতের পর থেকে ও কেমন যেন হয়ে গেল। হাসি-ঠাট্টা, গল্পে-আনন্দে ও কেমন যেন একটু বেশীই মেতে থাকত। আমার সাথেও হেসে হেসে কথা বলত। আগের মত আর চুপ করে থাকত না। পুরো ব্যপারটা’ই আব্বু-আম্মু কিংবা বোনের কাছে স্বাভাবিক হলেও আমার কাছে কেন যেন ব্যপার’টা অস্বাভাবিকের চেয়েও একটু বেশীই মনে হতো। মনে হতো, এই যে ওর এত হাসি-ঠাট্টা, গল্প-আনন্দ সবকিছুই যেন মেকি। কেন জানি মনে হতো- আমি/আমরা যা দেখছি তা সত্যি নয়, আর যা সত্যি তা আমরা দেখছি না। সেদিন ও নতুন করে আমাদের কোম্পানিতে আমার পি.এ হয়ে জয়েন করেছিল। বাবার কড়া নির্দেশ অফিসে নেওয়া এবং আসার সময়ও যাতে ওকে সাথে নিয়ে আসি। সেদিন আসার সময় মাঝ রাস্তায় গাড়ি থামিয়ে ও গাড়ি থেকে নেমে পরে। তারপর আমাকে চলে যেতে বলে। ওর আসতে দেরী হবে তাই ওকে রেখেই চলে আসতে বলে। আমি সেদিন গাড়িতে রাস্তার পাশে রেখে ওর পিছু নিলাম। যেতে যেতে ও রাস্তা থেকে ক্ষাণিকটা দূরবর্তী স্থানে যে পার্কটা রয়েছে ঐখানে হাজির হলো। পার্কটার এককোণে একটা বেঞ্চ ছিল, ও খুঁজে খুঁজে সেখানটাই গিয়ে বসল। আমি যে পিছনে দাড়িয়ে আছি সেটা বোধ হয় ওর দৃষ্টিগোচর হয়নি এতক্ষণ। আর যখন বুঝতে পারল পিছনে কিছু একটা দাঁড়িয়ে আছে, তখন মাথা তুলে একবার পিছনে তাকালো। তারপর চোখ আগের জায়গায় সরিয়ে নিল। আমি ওর সাথে গিয়ে চুপটি করে গিয়ে বসলাম। ও একটা কথাও বলেনি। মৌনতা ভেঙে আমি’ই সেদিন প্রথম প্রশ্ন করেছিলাম। -‘ এই পার্কটার সাথে ওর পূর্বপরিচয় আছে সেটা সেদিন’ই জানতে পারলাম। আর এটাও জানতে পারলাম পার্ক’টাতে ও তখনি আসে, যখন ওর মনটা খুউব, খুউউব বেশী খারাপ থাকে। ও সেদিন আমায় অনেক কিছু জিজ্ঞেস করেছিল। বেঞ্চ থেকে উঠে গিয়ে অন্যদিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করেছিল, – আমার কল্পনার রাজকুমারীকে আমি কতটা ভালোবাসি?! ও দেখতে ওর থেকেও মায়াবী কিনা?!!! ~আমি সহাস্যে বলেছিলাম, হ্যাঁ, ও তোমার থেকেও সুন্দর! কিন্তু ও নিজেও জানে না ও কতটা সুন্দর…!!!?? -‘ সেদিন মায়াকে আরেকটু বসতে বলেছিলাম, কিন্তু ও নাকি একটু ক্লান্ত ছিল। তাই ও আমায় রেখে ছুটে গাড়ির কাছে চলে গেল। আমি আসার আগেই গাড়িতে উঠে বসে পরল। আমি গিয়ে গাড়ি স্টার্ট দিলাম। পুরো রাস্তা ও চুপচাপ গিয়েছিল, একটা কথাও বলেনি। কিছু জিজ্ঞেস করলে শুধু হ্যাঁ, না জবাবটাই দিয়েছে। এভাবেই চলে গেল আরো একটা বছর। মায়া এখন আর সেই আগের মায়াটি নেই। দৈহিক ওও মানসিক গঠনে ও হয়ে উঠেছে এখন একজন পরিপূর্ণ মানবী। একজন পরিপূর্ণ নারীতে যা যা বিদ্যমান থাকে সেটাই ওর মধ্যে ফুটে উঠেছে। ওর চলায়-বলায়, ওর আকার-আকৃতিতে পরিপূর্ণ নারী ছাপ স্পষ্ট…. মায়া এখন আর মামার সংসারের অবহেলিত সেই মায়াটি নেই, ও এখন বিশিষ্ট শিল্পপতি খন্দকার মো. আশিকুর রহমান সাগরের মেয়ে। সেই হিসেবে দেশের নামী-দামি ব্যবসায়ী ও শিল্পপতি মহলের অনেকেই মায়া’কে পুত্রবধূ করে নেওয়ার প্রস্তাব দিচ্ছে। বাবা দক্ষ ব্যবসায়ীর মত মায়ার বিয়ে দেওয়া নিয়েও দক্ষতার পরিচয় দিবেন, এটাই আমার পরিবারের সবাই নিশ্চিত জানে। -‘ একটা ভয় সারাক্ষণ আমায় তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে, আর সেটা হলো মায়া’কে হারানোর ভয়। বাবা যখন মায়ার জন্য উপযুক্ত পাত্রনির্বাচন করে ফেলবে তখন আমার কি হবে?!!! আর মুখ থেকে সকালের ঘুম থেকে উঠব, আর কি নিয়ে আমি বাঁচব?!!! আমি যে নিঃস্ব হয়ে যাব একেবারে…. আর পারছিলাম না। আবার মনের কথাটি ওকে বলতেও পারছিলাম না। যতবার’ই বলতে চেয়েছি ততবার’ই ওর ভাইয়া ডাকটার কাছে হেরে গিয়েছি। ফিরে এসেছি মনের লুকানো কথাটি না বলেই….. সেদিন জীবনের প্রথম নেশা করেছিলাম। নেশাটা বোধ হয় একটু বেশী’ই হয়ে গিয়েছিল। নেশার বোতল হাতে নিয়ে মাতলামি করতে করতে কখন যে মেইন রাস্তায় চলে গিয়েছিলাম বুঝতে পারিনি। হুশ হয় তখন যখন মাথায় প্রচন্ড আঘাত পায়। মাথায় হাত দিয়ে উপরের দিকে তাকাতেই দেখি বন্ধু আতিক আমার দিকে অগ্নিদৃষ্টি নিয়ে তাকিয়ে আছে। কি হয়েছল জানতে চাওয়ার আগেই গালে প্রচন্ড ব্যাথা অনুভব করলাম। ও আমায় রাস্তা থেকে তুলতে তুলতে ৩টা চড় মারল। তারপর বাসায় নিয়ে আমার মাথায় পানি দিল, আমায় টক খাইয়ে। চোখ থেকে নেশা অনেকটাই চলে গেছে। এখন আশেপাশের সবকিছু স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি। এখন আর মায়াকে দেখতে পাচ্ছি না চারদিকে। রাত আনুমানিক ১১টা কি সাড়ে ১১টা বাজে। বন্ধু আতিক ও ওর মা-ভাবির জুরাজুরিতে ডিনার’টা ওদের বাড়িতেই করে নিলাম। ও বাসায় ফোন করে জানিয়ে দিয়েছে, আমি ওদের বাসায় থাকব, তাই টেনশনের কোন কারন নেই। রাত ১২টা\_ গালটা ব্যথা করতেছে। গালে হাত বুলাতে বুলাতে মায়ার কথা ভাবছি। ও কি করছে, খাইছে কি না ইত্যাদি, ইত্যাদি। তখন’ই আতিক প্রবেশ করে রুমে। -‘ ব্যথা করতেছে?(আতিক) ~’ হুম…?(আমি) -‘ শালা, দে আর কয়টা লাগিয়ে দেই।?(আতিক) ~’ নে…বলে গালটা বাড়িয়ে দিলাম। গাক বাড়াতে দেরী গালে আরেকটা বোনাস পরতে দেরী না…. -‘ শালা! তুই কিরে? মানুষ না গন্ডার?!!! এভাবে আর কত? আর কত কাঁদবি?!!!(আতিক) ~তো, আমি কি করব??(আমি) -‘ কি করব মানে? কাল ভালোবাসা দিবস না?!!! তুই সরাসরি কাল গিয়ে ওকে প্রপোজ করবি। :/ (আতিক) ~’ আমি কি পারব বলতে? আর ও যদি রিজেক্ট করে দেয়? তখন! তখন কি হবে? ওকে তো হারিয়ে ফেলব আমি। অদৃশ্য যে অধিকারে ওর বিষয়ে খবরদারি করতে পারি, তাও হারিয়ে ফেলব…(আমি) -‘ একসেপ্ট কিংবা রিজেক্ট সেটা পরে দেখা যাবে। তোর বন্ধু আতিক আছে তোর পাশে। তুই শুধু কাল ওকে আই লাভ ইউ’টা বলে দেখ কি হয়। বাকিটা আমি দেখব। সেদিন সারারাত ভর একটা নিদারুণ ভয় আর উত্তেজনার মধ্যে ছিলাম। তারপর শেষরাতে ঘুমিয়ে পড়ি। ঘুম ভাঙলো কারো কলের আওয়াজে। ফোনে তাকিয়ে দেখি ১২টা বাজে। বাবা আরআর সাইমা মিলে ৭৪টা কল দিয়েছে। সর্বনাশ! এত বেলা অবধি ঘুমালাম?!! তাড়াতাড়ি ফ্রেশ হয়ে আতিকের ভাবিকে বলে ছুটে চললাম ফুলের দোকানের দিকে। একটা সুন্দর ফুলের তোড়া কিনে বাবাকে কল দিলাম। স্যরি বললাম। জরুরী কাজের কথা বলে গাড়ি পাঠাতে বললাম। বাবা, ড্রাইভারকে দিয়ে গাড়ি পাঠিয়ে দিল। তারপর গাড়ি নিয়ে ছুটে চললাম অফিসের দিকে। সেখানে গিয়ে মায়াকে খুঁজে পায়নি। মেনেজার আংকেলের থেকে খবর নিয়ে জানতে পারলাম, অসুস্থতার কথা বলে ও নাকি একটু আগেই বাসায় চলে গেছে। বাসায় ফোন দিয়ে জানিয়ে দিলাম, মায়া বাসায় পৌঁছালে আমায় জানাতে। ১ঘন্টা, ২ঘন্টা, ৩ঘন্টা অতিবাহিত হয়ে গেল। বাসা থেকে রোকসানা ফোন করেনি। আমি আবারো কল দিলাম। জানতে পারলাম, ও তখনো বাসায় পৌঁছায়নি। টেনশনে পরে গেলাম। মাথায় হাত দিয়ে বসে পরলাম। এই মুহূর্তে নানান বাজে চিন্তা মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে। , মলিন মুখে হাসি ফুটে উঠল। বসা থেকে উঠে পরলাম। তারপর গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে পরলাম। গন্তব্য- ‘ মায়ার মন খারাপের সাথী পার্কটা…..’ আধঘন্টার মধ্যে পৌঁছে গেলাম সেই পার্কটাই। বেঞ্চের এককোণে চুপটি করে বসে একজোড়া দম্পতির দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। ফুলগুলো হাতে নিয়ে গাড়ি থেকে নামলাম। ওর পাশে গিয়ে দাঁড়িয়ে এদিক ওদিক ভালোভাবে তাকালাম। ও হাসোজ্জল মুখে বলল\_\_ ‘ আরে সিয়াম ভাই আপনি? কাকে খুঁজছেন?’ ~’ এই তো আমার মায়া-পরিটাকে…….'(আমি) -‘ ওহ, আপু কি এখানে আসবেন বলেছিল? (মায়া) ~’ বলেছিল তো আসবে।'(আমি) -‘ তো কোথায় ওনি, ভাইয়া?(মায়া) ~এদিক ওদিক তাকিয়ে বললাম, ও মনে হয় আজকে আসেনি মায়া……. ও আমার হাতে রাখা ফুলের দিকে তাকিয়ে বলল, -‘ আপুর জন্য এনেছিলেন বুঝি?’ -‘ হুম, ও তো আসে নি। আমি এ ফুল দিয়ে কি করব? তার চেয়ে বরং এগুলো তুমি’ই নিয়ে যাও মায়া…….(আমি) মায়া মিষ্টি হেসে ফুল নিতে নিতে বলল- ‘ফুল সৌন্দর্য এবং পবিত্রতার প্রতিক। এ ফুল উপেক্ষা করার ক্ষমতা আমার নেই….’ ও ফুলগুলো হাতে নিয়ে বসা থেকে উঠে পরল। আসি বলে আমাকে রেখে’ই ফুলগুলো নিয়ে চলে গেল…… আমি গাধা হা করে সেদিকে তাকিয়ে আছি। রাত্রে আতিকের সাথে দেখা। -‘ কিরে?! বলতে পেরেছিস মনের কথাগুলো? ★আমি:- নারে! আমি পারলাম না। কি করব বল? যতবার’ই বলতে চাই ততবার’ই ওর ভাইয়া ডাকটার কাছে হেরে যায়। ★আতিক:- বুঝতে পারছি তোকে দিয়ে হবে না। যা করার আমাদের করতে হবে। ★আমি:- কি করবি তোরা? ★আতিক:- শুন তাহলে…..(……….)……??? এটাই শেষ। ★আমি:- কিন্তু ও যদি বুঝে যায়?!!! ★আতিক:- বুঝার জন্য তো আমরা এ পরিকল্পনা করিনি। যত বুদ্ধিমতি’ই হোক না কেন, ও তোকে ধরতে পারবে না।তুই শুধু কাজটা শুরু কর… ★আমি:- অতঃপর… ★আতিক:- অতঃপর ওর মনের ঘরে প্রবেশ করে ভালোবাসার বীজ বপন করে বেরিয়ে আসবি। বেরিয়ে আসার সময় ও যদি তোকে চিনতে পারে, বুঝতে পারে তোর ভালোবাসাকে তাহলে ও তোর, সাথে সাথে ভালোবাসার শিকল পরিয়ে দিবি ওর পায়ে….. ★আমি:- আর যদি না বুঝতে পারে? ★আতিক:- আর যদি না বুঝতে পারে তাহলে উড়িয়ে দিবি শূন্যে। মুক্তবিহঙ্গের মত উড়ে যাক দুর অজানায়। তবে, এটা যেন কখনো না হয়…… ★আমি:- ওকে, তাহলে তাই হবে……….. মেয়েটির ডায়েরী\_ ওর দেওয়া ফুলগুলো যতনে রেখে দিয়েছি আমার বেডরুমে। রাত ১১টা…… ফুলগুলোর দিকে একদৃষ্টিতে সেই সন্ধ্যা থেকে তাকিয়ে আছি। রাত্রি গভীর। চোখ থেকে অঝোরে জল গড়িয়ে পরছে আর বুকের বামপাশটাই অজানা চিনচিনে এক ব্যথা অনুভূত হচ্ছে। ঠিক তখনি এ রুমের টেলিফোন’টা বেজে উঠল। চোখের জল মুছে রিসিভারটা উঠালাম। হ্যালো! বলতেই ফোনের ওপাশ থেকে পুরুষ কন্ঠ ভেসে উঠল। ★মিস মায়া বলছেন? ~হুম, কিন্তু আপনি কে? ★মানুষ….. ~ হুম, জানি আপনি মানুষ। এর ছাড়া তো প্রাণী ফোন করতে পারে না। তো আপনার নাম’টা কি?(কর্কশ কন্ঠে) ★ মিস মায়া! আপনি বোধ হয় রেগে যাচ্ছেন! আচ্ছা, এখন তাহলে রাখি। আপনার সাথে আমি পরে কথা বলব। – কিছু বলতে গিয়েও বলতে পারলাম না আমি। তার আগেই ফোনটা কেটে দিল লোকটা….. কে হতে পারে লোকটা? ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়ে পরলাম। সারাদিনে একবারও সিয়াম ভাইয়ার সাথে কথা বলতে পারিনি। ও কেমন যেন এড়িয়ে যাচ্ছে আমাকে। সেদিন আর লোকটা কল দেয়নি। ২দিন পর…….. ঠিক একই টাইমে টেলিফোন’টা বেজে উঠে। ছোঁ মেরে ফোন’টা রিসিভ করলাম। এতরাত্রে সজাগ থাকার একটাই কারন। সে হলো সিয়াম ভাইয়া…… যাকগে! রিসিভারটা উঠিয়ে হ্যালো বলতেই আবারো সেই কন্ঠ ভেসে আসল। ★কারো জন্য অপেক্ষা করছিলেন বুঝি? ~ না…… ★ তাহলে এত রাত্রে জেগে আছেন যে? ~আমার ভালো লাগছে তাই। ★ আমার কিন্তু মোটেও ভালো লাগছে না আপনার ভেঁজা কন্ঠ। আচ্ছা, কেউ কি আপনাকে ছ্যাঁকা-ত্যাকা দিল নাকি? ~ You…….বকতে গিয়েও বকলো না। রেগে রিসিভারটা উপুরমুখী করে রাখল মায়া। অসহ্য লোকটা……. ঘুমিয়ে পরে মায়া। ৪,৫দিন পর\_\_ মনটা ভিষন ভিষন খারাপ। আগে কখনো এতটা কাঁদেনি মায়া, যতটা এখন কাঁদে। – ইদানিং ও আমায় খুব বেশী ইগ্নোর করছে। আগের মতমত কথা বলছে না, অফিসে যতকক্ষণ থাকি, ওনার দিকেই তাকিয়ে থাকি। অথচ ওনি?!!! একটাবারও চোখ তোলে দেখে না।ডাকে না আমায়। সেরাতে আবারো কল আসে। রিসিভার উঠিয়ে কান্না ভেঁজা কন্ঠে হ্যালো বলতেই ওপাশ লোকটি বলে উঠল- ★ আহারে! বেচারি….. ছ্যাকা খেয়ে ব্যাকা হয়ে গেছে। ~’ দেখুন, আমি কোনো ছ্যাকা ত্যাকা খায়নি। ব্যাকা হওয়া তো অনেক দুরের কথা… ★প্রেম করবেন, কিন্তু ছ্যাকা পরুটা খাবেন না, তা কি হয়? না, না। আর যায় হোক, আমি আমি অন্তত সেটা বিশ্বাস করি না। এ কথা অন্য কাউকে বলবেন, আমাকে নয়। মিস মায়া পরি। ~ আপনি বিশ্বাস করেন আর নাই করেন এটাই সত্যি। আমি প্রেম করি না…. ★ Hurreh! তাহলে লাইন ক্লিয়ার……. ওকে, ঘুমাও মায়া-য়া-পরি। ~’ লাইন ক্লিয়ার মানে? , হ্যালো, হ্যালো। নাহ, ফোনটা কেটে দিল। একসপ্তাহ পর\_ হ্যালো মায়া পরি?!!! ~হ্যালো………. ★ সেকি! তোমার গলা তো বসে গেছে ঠান্ডায়। নিশ্চয় ঔষধ খাওনি? এক্ষণি কিছু খেয়ে ঔষধ খেয়ে নাও… ~ খাবো না….. ★ একদম ঘাড় ত্যাড়ামি করবা না লক্ষ্মী! যা বলছি তাই করো…. ~’ আপনি আমার কে যে আমাকে আপনার কথা শুনতে হবে? আর আপনিই বা কেন আমার কেয়ার করছেন? ★ আমি তোমার কেউ না হতে পারি, কিন্তু তুমি আমার অনেক কিছু……… আর কেয়ারের কথা বলছ? ভালোবাসি তোমায়, অনেক বেশী ভালোবাসি।তাই কেয়ার করি। ~ কিন্তু আমি তো আপনাকে ভালোবাসি না। ★ বাসো না,বাসবে।সমস্যা কি?!!! ~কখনো বাসব না। কখনো না। ★ এত গ্যারান্টি দিও না। আজ না হয় কাল ভালো তোমাকে বাসতেই হবে। ~আপনি ভুল করছেন…. ৬মাস পর\_ হ্যালো……… মায়া-পরি প্লিজ ফোনটা কেটো না। ~আপনাকে আর কতবার বলব আমি আপনাকে ভালোবাসি না। বাসতে পারব না। ★ কেন বাসো না? কেন বাসতে পারো না? ~ কারন, আমি একজনকে ভালোবাসি। ★বিশ্বাস করি না।তুমি আমায় ছাড়া অন্য কাউকেই ভালোবাসতে পারো না। তুমি শুধু আমায় ভালোবাসো… ~না, আমি আপনাকে ভালোবাসি না। ★না, তুমি আমায় ভালোবাসো। ~না, আমি বাসি না। ★ না, তুমি আমায় ভালোবাসো। ~না, আমি বাসি না। ★জি,তুমি আমায় ভালোবাসো। ~জি, না। বাসি না। ★জি, হ্যা! বাসো। তুমি আমাকেই ভালোবাসো। ~Ufff! বাসি না। ★জি, বাসো।আমায় ভালোবাসো ডেয়ার…….. ~আমি আপনাকে ভালোবাসি না। আমি সিয়াম ভাইয়াকে ভালোবাসি। বিশ্বাস করেন আমি সিয়াম ভাইয়াকে…(.?.) এটুকু বলে মায়া আটকে গেল। একি বলে ফেললাম আমি। এদিকে ফোনের ওপাশ থেকে লোকটি- ★জানি তো সিয়ামকেই ভালোবাসো।স্যরি, তোমার সিয়াম ভাইয়াকে। ~আমি স্তব্ধ হয়ে গেলাম।প্রতিউত্তরে কিছুই বলতে পারিনি। এদিকে ফোনের ওপাশ থেকে অদ্ভুতসব হাসির আওয়াজ শুনা যাচ্ছে…

---

[<< পূর্ববর্তী অধ্যায়](https://golpohub.com/episodes/bosser-sathe-prem-s1-ep10) | [সিরিজ সূচি](https://golpohub.com/series/bosser-sathe-prem) | [পরবর্তী অধ্যায় >>](https://golpohub.com/episodes/bosser-sathe-prem-s1-ep12)