স্বপ্নের রক্তপাত ও বুকফাটা চিৎকার

•6 মিনিট পড়া•903 শব্দ
স্বপ্নের রক্তপাত ও বুকফাটা চিৎকার

তখনি যা দেখলাম তা দেখে অনেকটাই অবাক হয়ে গেলাম

।

কেনো না আমার পাশে ধারালো ছুরি পড়ে রয়েছে..

অবাক করার বিষয় হলো এটাই যে এই ছুরিটা এখানে কী করছি ঠিক আমার পাশে একটু উনিশ বিশ হলেই তো কেটে যেতো বুকটা…

।

এটা নিশ্চয়ই আদ্রিতার কাজ..

।

আদ্রিতাকে যে ডাকবো সেটারো কেনো উপায় নেই..

( আজ বুঝতে পারছি যারা কথা বলতে পারে না তাদের কষ্টা..)

।

উঠে দাড়ানোর শক্তি টুকুও হারিয়ে ফেলেছি..

।

সব সময় শক্তি হীন মনে হচ্ছে আর হবেই না বা কেনো যতটা রক্ত শরীর থেকে বেড়িয়েছে তার পুর্ণ হতে প্রায় ১ বছর সময় লেগে যেতে পারে…

।

পাশের টেবিল থেকে খাতা আর কলমটা নিয়ে একটা কাগজে লেখলাম আদ্রিতা তুমি এই ধারালো ছুরিটা আমার পাশে কেনো রেখেছিলে..

তখনি..

।

আদ্রিতাঃ আপনি উঠে গেছেন দেখছি ( কিছু আগে যা হয়েছে তা ওনাকে বলা যাবে না বললে ওনি টেনশন করবে ডাক্তার ওনাকে টেনশন করতে বারণ করেছে — মনে মনে)

।

তখনি ওনি একটা কাগজ এগিয়ে দিলো সেটাতে লেখা ছিলো আদ্রিতা তুমি এই ধারালো ছুরিটা আমার পাশে কেনো রেখেছিলে..

।

।

আদ্রিতাঃ আমি তো কেনো ছুরি টুরি আপনার পাশে রাখি নি তাহলে এটা আসলো কোথা থেকে.

।

ছুরিটা হাতে নিয়ে ভালো ভাবে দেখে বুঝতে পারলাম এটা আমাদের বাসার ছুরি না তাহলে এটা আসলো কোথা থেকে বিষয়টা বড় ভাবাচ্ছে..

।

সাঈদঃ আবারো একটা পৃষ্ঠায় লিখলাম কী হলো কিছু বলছো না কেনো..

।

আদ্রিতাঃ ওনার লেখাটা পড়ে না মানে এরক ছুরি তো আমাদের বাসায় ছিলো না তাহলে এটা আসলো কোথা থেকে সেটাই তো বুঝতে পারছি..

।

সাঈদঃ সত্যি তো ছুরিটা দেখতেও আজব এরকম ছুরি তো আগে দেখি নি তাহলে কীভাবে আসলো এটা যাই হোক এটা নিয়ে ওতটা ভাবার কোনো দরকার নেই…

।

আদ্রিতাঃ আপনি উঠে বসুন আমি নাস্তা বানিয়ে নিয়ে আসতেছি বলেই নিচে এসে ওনার জন্য হালকা নাস্তা বানিয়ে উপরে এসে ওনাকে খাইয়ে দিলাম…

।

আদ্রিতাঃ এবার শুয়ে পড়ুন রেস্ট না করলে তাড়াতাড়ি সুস্থ হবেন কীভাবে..

।

সাঈদঃ একা একা শুয়ে থাকতে ভালো লাগে আদ্রিতা যে সেই গেছে এখনো আসার কোন নাম গন্ধেই নেই..

।

শুয়ে থাকতে থাকতে অসহ্য লাগতে শুরু করেছে..

তখনি আকাশ টা অন্ধকার হয়ে আসলো

।

আকাশে কালো মেঘ জমতে শুরু করলো ঠিক তখনি আকাশ বেয়ে বৃষ্টি পড়তে লাগলো…

।

ওমনি আদ্রিতা নিচ থেকে দৌড়ে উপর চলে আসলো…

।

আদ্রিতাঃ এই বৃষ্টিটারো না আসার কোনো সময় পেলো না তাড়াতাড়ি গোসল টা সেরে নেই. না হলে আবার কিছু খন পরেই বজ্র পাত শুরু হয়ে যাবে বাথরুমে গিয়ে গোসলটা সেরে ফেললাম এর পর কাপড় গুলো চেনজ করে বাইরে বেড়াতোই হঠাৎ বজ্র পাত আওয়াজ শুনতে পেয়ে দৌড়ে গিয়ে ওনাকে জরিয়ে ধরলাম..

।

আমার বজ্র পাতের শব্দটা খুব ভয় লাগে..

।

সাঈদঃ আকাশটার মনে হয় আমার একা থাকতে কষ্ট দেখে তার কান্না পেয়ে গেছে আর বৃষ্টি গুলো তারি চোখের জল বৃষ্টি হলেই আদ্রিতা যেখানেই থাক না কেনো আমার কাছে আসবেই..

।

।

মেয়েটাকে কিছু বলবো সেটাও করতে পারছি না ভিতর থেকে কোনো আওয়াজ এ বেরোচ্ছে না তখনি আদ্রিতার ভেজা চুলের মধ্যে থেকে পাগল করে দেওয়ার মতো ঘ্রাণ বেড়াতো শুরু করলো..

।

বুঝি না এটা কী শুধু আদ্রিতার চুল থেকে বেড় হয় নাকি সব মেয়েদের আরেকটা বিয়ে করলে বুঝতে পেতাম

।

।

আদ্রিতাঃ আচ্ছা আপনার ভয় লাগছে না..

।

সাঈদঃ মাথা নারিয়ে না..

।

আদ্রিতাঃ কেনো আপনার বুঝি কোনো কিছুতেই ভয় লাগে না

।

।

সাঈদঃ ভয়ের সঙ্গে বেচে থাকাটা মৃত্যুর সমান যত দিন বেচে রয়েছি তদিন সাহসের সঙ্গে বেচে থাকবো এতে যা হবার হোক ( মনে মনে )

।

আদ্রিতাঃ কয়েক ঘন্টা পরে যাক বাবা বৃষ্টি টা কিছুটা হলেও কমেছে ওনার জন্য খাবার নিয়ে আসলাম তার পর ওনাকে খাইয়ে দিয়ে নিজেও খেয়ে নিলাম..

।

কথায় আছে স্বামীর পায়ে নিচে স্থীর জান্নাত

..

।

।

সাঈদঃ এভাবে আর কত দিন চলবে কে জানে আর ভালো লাগছে না এসব…

।

রাতের বেলা

.

আদ্রিতাঃ আচ্ছা একটা কথা বলার ছিলো আপনি এত রোমান্টিক মানুষ টা এতটা আনরোমান্টিক কীভাবে হয়ে গেলেন..

।

সাঈদঃ বা বা এখন অসুস্থ বলে এসব বলছে একবার সুস্থ হয়ে যাই তার পর বুঝাবো কত ধানের কত চাল..

।

আদ্রিতাঃ এই যে মিঃ সাঈদ বাবু আমি কিন্তু মোটেও বদলায়নি আগের মতো আছি

।

সাঈদঃ হ্যা হ্যা থেকে নাও আর কয়েকটা দিন..

।

আদ্রিতাঃ আপনি তো এখন অসুস্থ কিছু করতে পারবেন না আমিই তাহলে কিছু করি..

।

সাঈদঃ কথাটা বলতে না বলতেই দুই ঠোঁট এক করে দিলো এভাবে কয়েক মিনিট থাকার পর দমটা বন্ধ হয়ে আসছিলো..

।

কোনো মতো নিজেকে ছারিয়ে নিলাম না হলে তো দম বন্ধ হয়েই বুঝি মরে যেতাম..

।

আদ্রিতাঃ কী হলো..

।

সাঈদঃ কী আবার হবে ( মনে মনে)

।

আদ্রিতাঃ আচ্ছা আরেক বার প্লিজ

।

সাঈদঃ বলতে না বলতেই আবার দুই ঠোঁট এক করে দিলো এভাবে কয়েক মিনিট ছেড়ে দিলো বুঝতে ছি মেয়েটার আজকে কী হয়েছে এত রোমান্টিক মুডে কীভাবে..

।

তার পর কী হলো সেটা সিকরেট বলা যাবে না

।

।

এভাবে প্রায় কয়েক মাস কেটে গেলো এখন পুরো পুরি সুস্থ হয়ে উঠেছি শুধু কথা বলতে পারছি না…

।

প্রতিদিনর মতোও আজ রাতে শুয়ে ছিলাম আর আদ্রিতা আমার বুকে মাথা রেখে ঘুমিয়ে গেছে মেয়েটার এই কয়েক মাসে অনেকটাই কষ্ট গেছে কিন্তু কখনো তা প্রকাশ করে নি নিজের মাঝেই চেপে রেখেছে..

।

।

রাত ১ টা গভীর ঘুমে তালিয়ে গেছি ঠিক তখনি একটা ভয়ানক স্বপ্ন দেখলাম..

।

তামান্না আদ্রিতার পেটে কয়েক মাসে আগে যে ছুরিটা পেয়েছিলাম তা ডুকিয়ে দিয়েছে আদ্রিতার শরীর থেকে রক্ত বেড়িয়ে যাচ্ছে

।

আদ্রিতার বার বার বলতেছিলো আমি বাচতে চাই প্লিজ আপনি আমাকে বাচান…

।

আমি থেকেও কিছু করতে পারছিলাম

।

তখনি মুখ ফুটে বেড় হলো আদ্রিতা আমি তোমার কিছু হতে দিবো জোরে চিৎকার করে..

।

।

আদ্রিতাঃ এত রাতে কে চিৎকার করলো ( চিৎকার এর আওয়াজ শুনে ঘুমটা ভেঙ্গে গেলো)

।

তখনি যা দেখলাম তা দেখে আমার বিশ্বাসি হচ্ছে না ওনার…

অধ্যায় 19 সমাপ্ত

আপনি এই অধ্যায়টি পড়া শেষ করেছেন। পরবর্তী পর্বে যান অথবা আপনার প্রতিক্রিয়া জানান!

মন্তব্যসমূহ

0

আলোচনায় যোগ দিন

মতামত জানাতে এবং পাঠকদের সাথে আলোচনায় অংশ নিতে লগইন করুন।

এখনও কোনো মন্তব্য নেই।

প্রথম মন্তব্যটি করে আলোচনা শুরু করুন!

রকমারি কালেকশন

বইপ্রেমীদের জন্য রকমারি বেস্টসেলার

অধ্যায় পাঠ শেষে সংগ্রহ করুন আপনার পছন্দের ঘরানার সেরা বই ও বিশেষ ডিসকাউন্ট

স্বপ্নের রক্তপাত ও বুকফাটা চিৎকার

অনুচ্ছেদ 1 / 1 • চলছে
বিজ্ঞাপন