সিজন 1 অধ্যায় 5 ড্রামা আবেগঘন #কঠিন সিদ্ধান্ত #হাসপাতাল #জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণ সাঈদআদ্রিতাসাঈদের মাতামান্নাতামান্নার বাবা

মৃত্যুর দুয়ারে চব্বিশ ঘণ্টার লড়াই

•7 মিনিট পড়া•1,005 শব্দ
মৃত্যুর দুয়ারে চব্বিশ ঘণ্টার লড়াই

আদ্রিতা কথা বলো প্লিজ হঠাৎ কী হয়ে গেলো তোমার আদ্রিতা কথা বলছো না কেনো আমার সাথে…..

।

।

আদ্রিতাকে এখনি হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে কিন্তু হঠাৎ মেয়েটার কী হয়ে গেলো..

।

।

আদ্রিতাকে কোলে তুলে নিয়ে গাড়িতে বসিয়ে ফুল স্পিডে গাড়ী চালাতে লাগলাম…

।

।

কিছু খনের মধ্যে সিটি হাসপাতালে নিয়ে এসেছি ….

।

।

ডাক্তার দেখুন না আদ্রিতা আমার সাথে কথা বলছেন আপনারা প্লিজ আমার আদ্রিতাকে ঠিক করে দিন…

।

।

ডাক্তারঃ আপনি প্লিজ আগে শান্ত হন আমরা দেখছি কী করা যায় নার্স দুরুত্ব আইসিও তে নাও রোগীর অবস্থা খুব খারাপ…

।

।

ডাক্তারা আদ্রিতাকে আইসিও তে নিয়ে চলো ঠিক হয়ে যাবে তো আমার আদ্রিতা আগের মতো কথা বলবে তো আমার সাথে…

।

।

কিছুই ভালো লাগতেছে আইসিওর বাইরে দাড়িয়ে আছি প্রায় ২ ঘন্টা যাবত…

।

ডাক্তাররা এখনো বেড় হচ্ছে কেনো কিছু হয়ে যায়নি তো আদ্রিতার ওমনি..

।

।

ডাক্তারঃ দেখুন রোগীর অবস্থা খুব খারাপ বাচবে কী না তার গ্যারান্টি নেই..

আপনার রোগীকে দুধের সাথে যে বিষটা খাওয়ানো হয়েছে তাতে ৯৯% মানুষ মারা যায়…

।

।

২৪ ঘন্টার মধ্যে জ্ঞান না ফিরলে রোগীকে বাচানো সম্ভব হবে না এখন বাকিটা উপর ওয়ালার ইচ্ছে

।

।

না না এভাবে আমাকে একা রেখে কখনো আদ্রিতা যেতে পারে না…

।

।

সাঈদঃ আমি আদ্রিতার মা কথা রাখতে ব্যর্থ আমরা জন্যই আজ আদ্রিতা মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে…

।

।

আমাকে ভিতরেও যেতে দিচ্ছে না নার্স গুলো…

।

।

কাচের মধ্যে দিয়ে আদ্রিতা মায়াবী মুখ দেখতে পাচ্ছি…

আমার মনে হচ্ছে আদ্রিতা আমাকে বলছে এইতো আমি তোমার সামনে দেখো আমি পুরো সুস্থ আমাকে নিয়ে ঘুরতে যাবা না…

।

।

এসব যে সত্যি নয় সব কিছু মনের ভুল..

।

।

।

।

মাঃ এত ক্ষণ হয়ে গেলো বিষটা এখনো কাজ করে নি বড় আজব বিষয় তো না এবার গিয়ে দেখতেই হয়

।

।

এক পা দু পা করে এগিয়ে গিয়ে দেখলাম রুমের মধ্যে কেউ নেই..

।

।

কোথায় গেলো এরা..

যেখানেই যাক না কেনো ওই নষ্টা মেয়েকে তো মরতেই হবে…

।

।

।

সাঈদঃ রাত পেরিয়ে দিনের আলো ফুটলো এখনো আদ্রিতার জ্ঞান ফিরে নি এভাবে ২৩ ঘন্টা ৪৫ মিনিট হতে চললো ডাক্তারা তো সব আশা ছেড়ে দিয়েছে…

।

কিন্তু আমার মন বলছে আদ্রিতার কিছু হবে না…

তখনি নার্স..

।

নার্সঃ স্যার ভিতরে আসুন রোগীর জ্ঞান ফিরেছে…

।

ডাক্তারঃ এটা কীভাবে সম্ভব… ২৪ ঘন্টা হয়ে গেছে ভিতরে গিয়ে দেখলাম সত্যি সত্যি রোগীর জ্ঞান ফিরেছে

।

।

কিছু খন পর..

।

ডাক্তারঃ আপনার রোগী এখন out of danger..

।

।

সাঈদঃ আমি দেখা করতে পারবো আদ্রিতার সঙ্গে…

।

।

ডাক্তারঃ হ্যা কিন্তু পেসেন্টের সঙ্গে বেশি কথা বলতে পারবেন না…

।

।

সাঈদঃ আচ্ছা এর পর ভিতরে গিয়ে…

।

।

আদ্রিতাঃ কী হয়েছে আমার আমি এটা কোথায় আর এভাবে শুয়ে রয়েছি কেনো…

।

।

সাঈদঃ সে অনেক বড় ঘন্টা অন্য সময় বলবো এখন কেমন লাগছে..

।

।

আদ্রিতাঃ মাথাটা হালকা ভারি ভারি লাগছে আর শরীরে মনে হচ্ছে এক ফোটাও শক্তি নেই..

।

।

সাঈদঃ মেয়েটার শরীরটা খুবি দুর্বল হয়ে গেছে…

।

আচ্ছা আমি এখনি আসছি তুমি তায় শুয়ে রেস্ট নাও…

।

।

আদ্রিতাঃ কোথায় যাচ্ছেন আপনি আমার একা একা ভয় লাগবে…

।

।

সাঈদঃ আমি এই যাবো এই আসবো বলেই রুম থেকে বেড় হয়ে আদ্রিতার জন্য সুপ কমলালেবুর জুস আরো কিছু পুষ্টি কর খাবার নিয়ে গেলাম…

।

।

সাঈদঃ একটু উঠে বসার চেষ্টা করবো..

।

।

আদ্রিতাঃ পারছি না…

।

।

সাঈদঃ দাড়াও আমি উঠিয়ে দিচ্ছি আস্সে করে আদ্রিতাকে তুলে বেডে বসিয়ে দিলাম…

।

।

এবার মুখটা হা করো…

।

।

আদ্রিতাঃ কী এটা

।

।

সাঈদঃ সুপ তোমার শরীরটা এখন খুব দুর্বল এসব পুষ্টি কর খাবার না খেলে তাড়াতাড়ি সুস্থ হবে কীভাবে.

।

।

আদ্রিতাঃ এই মানুষট কত ভালো পৃথিবীতে এনার মতো মানুষ মনে হয় একটাই রয়েছেন..

।

যেদিন থেকে প্রথম পরিচয় সে দিন থেকে কতটা খেয়াল রাখছেন আমার…

।

।

সাঈদঃ কী হলো মুখটা খুলে খাবার গুলো ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে তো…

।

।

আদ্রিতাঃ আপনি খেয়েছেন আমার তো মনে হচ্ছে আপনি কিছুই খান নি..

।

।

সাঈদঃ আগে তুমি খেয়ে নাও তার পর আমি খেয়ে নিচ্ছি এর পর মেয়েটাকে খাবার খাইয়ে দিয়ে নার্স কিছু ঔষধ দিয়ে গেছিলো সে গুলো খাইয়ে দিলাম…

।

।

সাঈদঃ এখন তুমি রেস্ট করো আমি এখানেই বসে রয়েছি…

।

।

আদ্রিতাঃ একা রেখে আবার চলে যাবেন না তো…

।

।

সাঈদঃ আরে না এর কিছু পরেই আদ্রিতা ঘুমিয়ে পড়লো..

।

।

এর ফাঁকে আমিও কিছু খেয়ে নিলাম তার পর হাসপাতালের সব বিল পরিশোধ করে দিলাম..

।

।

ডাক্তারঃ আপনি চাইলে পেসেন্টকে বাসায় নিয়ে যেতে পারেন…

।

।

পরে দিন সকাল বেলা হাসপাতাল থেকে রিলিজ নিয়ে…

।

।

আদ্রিতাঃ কোথায় যাচ্ছি আমরা এখন…

।

।

সাঈদঃ আমাদের নতুন বাসায় যেখানে তোমার আমার মাঝে কেউ আসবে না..

।

।

আমি সব বুঝতে পেরেছি সব কিছু মায়ে এ করেছে ছিঃ মা হয়ে কীভাবে এমন একটা কাজ করতে পারলো আমি ওনাকে কোনোদিন ও ক্ষমা করতে পারবো না…

।

।

।

আজ সকাল. বেলা নতুন একটা ফ্লাট ভাড়া নিয়েছি…

।

।

যেখানে কেউ আমাদের মাঝে আসতে পারবে না..

।

।

।

অপর দিকে…

।

।

তামান্নার বাবাঃ আমার একটা ভুলের জন্য আমার আজ এই অবস্থা একটা বার জানতেও চাইলাম না যে সে আসলেই ওমন করেছিলো কী না…

।

।

একটা মাসুম ছেলেকে না জেনেই কতটা আঘাত করে ফেলেছি…

।

।

উপর ওয়ালাও মনে হয় কখনো মাফ করবে না আমায়….

।

।

অন্য দিকে..

।

তামান্নাঃ আন্টিকে যেভাবে হোক এই কাজে সাঈদ এর সাইন করিয়ে নিতে পারলেই কাজ শেষ…

।

কিন্তু কীভাবে করবো এই সাইন…

।

।

।

সাঈদঃ কিছু খন পরেই নতুন ফ্লাটে চলে আসলাম…

।

কেমন লাগছে এই বাসাটা…

।

।

আদ্রিতাঃ খুব সুন্দর…

।

কিন্তু আমি কী আপনার এই ঝ্রণ পরিশোধ করতে পারবো ..

।

।

সাঈদঃ আমি কী কখনো পরিশোধ করতে বলেছি …..

।

।

তুমি যদি আমাকে… বলতে যেও বলতে পারলাম না…

।

।

আদ্রিতাঃ কী বলতে বলতে থেকে গেলেন কেনো…

।

।

সাঈদঃ ও কিছু না আচ্ছা তুমি রেস্ট আমি বাইরে থেকে আসছি…

।

।

আদ্রিতাঃ আমিও যাবো…

।

।

সাঈদঃ না… তোমার শরীরটা দুর্বল ঠিক মতো তো হাটতেও পারছো না.

আজ মা সাথে শেষ দিন তিনি আজকের পর থেকে আমার আর আদ্রিতার চাইলেও কোনো যোগাযোগ করতে পারবে না

।

।

আদ্রিতাঃ ওনার অসমাপ্ত কথাটা কী ছিলো…

এই কয়েক দিনে মনে হয় তার প্রেমে পড়ে গেছি…

এই রকম মানুষের প্রেমে না পড়ে থাকাও যায় না আচ্ছা ওনিও কী ভালোবাসে আমায়…

অধ্যায় 5 সমাপ্ত

আপনি এই অধ্যায়টি পড়া শেষ করেছেন। পরবর্তী পর্বে যান অথবা আপনার প্রতিক্রিয়া জানান!

মন্তব্যসমূহ

0

আলোচনায় যোগ দিন

মতামত জানাতে এবং পাঠকদের সাথে আলোচনায় অংশ নিতে লগইন করুন।

এখনও কোনো মন্তব্য নেই।

প্রথম মন্তব্যটি করে আলোচনা শুরু করুন!

রকমারি কালেকশন

বইপ্রেমীদের জন্য রকমারি বেস্টসেলার

অধ্যায় পাঠ শেষে সংগ্রহ করুন আপনার পছন্দের ঘরানার সেরা বই ও বিশেষ ডিসকাউন্ট

মৃত্যুর দুয়ারে চব্বিশ ঘণ্টার লড়াই

অনুচ্ছেদ 1 / 1 • চলছে
বিজ্ঞাপন