> **বিকল্প ফরম্যাটসমূহ:** [এইচটিএমএল](https://golpohub.com/episodes/chashmawala-cheleti-s1-ep4) | [জেসন](https://golpohub.com/episodes/chashmawala-cheleti-s1-ep4?format=json) | [আরএসএস ফিড](https://golpohub.com/episodes/chashmawala-cheleti-s1-ep4?format=rss) | [অ্যাটম ফিড](https://golpohub.com/episodes/chashmawala-cheleti-s1-ep4?format=atom)

# অন্ধকারের বিষাক্ত ফাঁদ

![অন্ধকারের বিষাক্ত ফাঁদ](https://cdn.golpohub.com/covers/episodes/chapter-chapter-1942-d2d6da.webp)

---
*[আভন্তিকা আনহা](https://golpohub.com/authors/avantika-anha)-এর [চশমাওয়ালা ছেলেটি](https://golpohub.com/series/chashmawala-cheleti) সিরিজ থেকে*\n*আনুমানিক পড়ার সময়: 11 মিনিট*
- **মোট শব্দ:** 1,732
- **প্রকাশিত:** Sep 6, 2026
---

নাহিদ ঢাকায় গেলো আর ভাবতে লাগলো কে এই মেয়ে আনহা নাকি তার পাশের বাড়ির মেয়েটা । . নাহিদ এসব ভাবতে ভাবতে সময় পার করতে লাগলো । . এদিকে শাম্মি আর জাহিদের প্রেম গভীর হতে লাগলো । . ১ মাস পর…. কোনো এক ছুটিতে আবার নাহিদের ফিরে আসা । . নাহিদ আবার ওই পাড়ার ওদিক যায় । এবার নাহিদ খুঁজে পায় একজনকে কিন্তু সেই মানুষটা যে ভুল মানুষ সে বুঝতে পারে না । . সেদিন জান্নাত দের বাড়িতে আনহা গিয়েছিলো কোনো এক কাজে । জান্নাতের বন্ধুরা ছিলো । তারা রিকোয়েস্ট করেছিলো আনহার গান শুনতে তাই আনহা গান গেয়েছিল । সেই সময়ই নাহিদ এসেছিলো । পরে সে জানালা দিয়ে জান্নাত কে দেখতে পায় আর ভাবে এটাই হয়তো তার এলোকেশী । . . দিন যেতে থাকে আর নাহিদ জান্নাতের সাথে বন্ধুত্ব করে ফেলে । জান্নাত মেয়েটা ওতোটা ভালো না । কিছুটা পাগল টাইপ । সাইকো ও বলা যায় । কিন্তু অন্য সময় ভালো থাকে । . পরের দিন…. কলেজে আমি আর শাম্মি বসে আছি । এমন সময় জাহিদ আসলো । আমি : কি রে রোমিও লেট কেন জানিস না তোর জুলিয়েট অপেক্ষা করছে জাহিদ : না রে ঢংগি জানতাম না আমি : দোস্ত একটা কাম কইরা দে না জাহিদ : পারুম না আমি : শাম্মি তোর বফ রে বল কইরা দিতে জাহিদ : আইছে মেডাম নিজে কর আমি : কিটক্যাট আইনা দে না শেষ হইয়া গেছে জাহিদ : পারুম না আমি : শাম্মি দেখ শাম্মি : ওই আনহা যা বলছে করো নইলে ব্রেক আপ আমি : হিহি থেংকু দোস্ত জাহিদ : দুই বান্ধবী আম্রে শেষ কইরা দিবে আল্লাহ তুইলা নাও আমি : আগে কিটক্যাট আইনা দে । . . জাহিদ কিটক্যাট আনতে গেল । এমন সময় নাহিদ আসলো জাহিদ কে কি জানি দিতে । আমি সেই টাইমে নাহিদ কে দেখলাম আর জাহিদ ভেবে টানতে টানতে শাম্মির কাছে নিয়ে আসলাম । . আমি : হারামি আমার কিটক্যাট কই? নাহিদ : মানে ? শাম্মি : ওই তুমি না ওর কিটক্যাট আনতে গেলা কই কিটক্যাট ? আমি : দ্বারা দেখাচ্ছি মজা । . কিল ঘুসি মারতে লাগলাম নাহিদের গায়ে । আমি ভেবেছিলাম ওটা জাহিদ । এমন সময় জাহিদ আসলো আর বললো : কি রে কাকে মারিস ? আমি : জাহিদ রে জাহিদ : আমি তো এখানে আমি : মানে ? . তাকায় দেখি ওটা জাহিদ আমি ভুউউউউউউউত বইলা অজ্ঞান । . জাহিদ : ওই নাহিদ তুই এখানে কেন ? নাহিদ : তোকে এটা দিতে আসছিলাম আর এই মেয়ে আমাকে মারতে লাগলো । শাম্মি : এটা কে ? জাহিদ : আমার যমজ ভাই নাহিদ তোমার ভাসুর হবে সালাম দাও শাম্মি : আসসালামুয়ালাইকুম ভাইয়া নাহিদ : ওয়ালাইকুমআসসালাম . কিন্তু এই মেয়ে তো ভয়ে অজ্ঞান কি করবি ? জাহিদ : তোর জন্য হইছে তুই দেখ নাহিদ : ওকে উঠা জাহিদ : আমার হাত ব্যাথা শাম্মি আসো আমি গাড়ি বের করি । নাহিদ : ওই ওই জাহিদ . হুর আমাকেই কোলে উঠাতে হবে । নাহিদ আমাকে কোলে তুলে নিলো । নাহিদ : বাহ পাতলু মেয়েরো ওজন আছে ভালোই । . . উঠাতে গিয়ে আমার চুল খুলে গেলো । নাহিদ দেখলো লম্বা চুল মেয়েটার একদম আমার এলোকেশির মতো । কিন্তু ও কেনো জানি চুল কেটে ফেলছে ।‌ ওকে বলবো চুল আর জেনো না কাটে । কিন্তু মেয়েটা বড্ড মায়াবি । . এসব ভাবতে ভাবতে গাড়িতে নিলো আমাকে । বাড়িতে আনলো । তারপর আমার মুখে পানির ছিটা দিলো । আমার জ্ঞান ফিরলো । আমি : আমার কি হইছে । . মনে পড়লো সব পাশে তাকায় দেখি জাহিদ আর নাহিদ । ভয়ে চিল্লায় উঠলাম । আমি : আম্মু ভুত জাহিদ : আর জ্ঞান হারাইস না । এটা ভুত না আমার যমজ ভাই । আমি : কি? শাম্মি : হুম আমি : তো আগে বলিস নাই কেনো ? এতোদিন ধরে আমি আন্দাজি ভয় পাইতাম । শাম্মি : হুম . . সেদিন বিকেলে….. আমি , শাম্মি , নাহিদ আর জাহিদ গেলাম বেড়াতে । আমি : ওই‌ জাহিদ যা তো কিছু কিনে আন । জাহিদ : ওকে নাহিদ চল । নাহিদ : হুম চল আমি : না শাম্মি কে নিয়ে যা জাহিদ : ওকে নাহিদ : কেন আমিই তো যাইতে পারবো তোমরা থাকো আমি : না না ওই‌ তোরা যা আমার নাহিদের সাথে জরুরী কথা আছে । নাহিদ : ও বলো . জাহিদ আর শাম্মি গেলো । . নাহিদ : বলো কি বলবে ? আমি : ওই গাধা নাকি আপনি ? নাহিদ : কেনো ? আমি : ওরা সময় কাটাবে একটু । তাই আমি ওদের পাঠালাম‌ আর আপনি সাথে যাচ্ছিলেন । নাহিদ : ও সরি আমি না বুঝি নি . বলেই হাসে দিলো । আমি : কিউট হাসি, মায়াবি চোখ সেই তো ( আস্তে বললাম ) নাহিদ : কিছু বললেন আমি : না ও কিছু না । নাহিদ : হেহে তা কি করতে ভালোবাসেন আমি : কিটক্যাট খাইতে , গান গাইতে আর বকবক করতে আপনি ? নাহিদ : গান গাইতে একটু । আমি : তাহলে তো শুনাতেই হবে । নাহিদ : ওকে পরে আমি : না না এখন নইলে কিন্তু কথা কমু না নাহিদ : ওকে‌ . “আমি তোমাকে আরও কাছে থেকে তুমি আমাকে আরও কাছে থেকে । যদি জানতে চাও তবে ভালোবাসা দাও ভালোবাসা নাও । ভালোবাসা দাও ভালোবাসা নাও । “ . আমি : বাহ সেই তো নাহিদ : আপনাকেও গান গাইতে হবে তাহলে । . এমন সময় জান্নাত এলো । জান্নাত : আরে নাহিদ তুমি আর আনহা তুমিও আছো দেখছি । আমি : হুম তুমি একে চিনো ? জান্নাত : হুম . নাহিদ , আমি আর জান্নাত অনেক সময় ধরে গল্প করলাম । . জান্নাত আসলে নাহিদ কে পছন্দ করে । নাহিদও তাই চায় কারণ নাহিদ জানে তার এলোকেশি জান্নাত । . দিন যেতে লাগলো আমি আর নাহিদ ভালো বন্ধু হলাম । আমি ওর প্রতি দুর্বল হয়ে পড়লাম । কিন্তু নাহিদের অজানা সে তো জানে তার ভালোবাসার মানুষটি জান্নাত । আমার ডায়রির পাতা ভরতে থাকলো নাহিদের নামে । . একদিন আমার ব্যাগ নাহিদ কে ধরতে দিছিলাম ফুল ছিঁড়ার সময় । এমন সময় নাহিদের হাত থেকে ব্যাগ টা পড়ে গেলো আর ডায়রি টা বেড়িয়ে এলো । . নাহিদ কিছু পৃষ্ঠা পড়ে ফেললো । . আমি ফুল পাড়িয়ে যেয়ে দেখি ও আমার ডায়রির পাতা পড়ছে । . আমি জ্বলদি টেনে নিলাম । নাহিদ : আনহা তুমি যা চাও তা কোনোদিন হবে না । আমি : না মানে নাহিদ : আমি জান্নাত কে ভালোবাসি আমি অনেক পরিমাণ কষ্ট পেলাম কিন্তু কিছু বললাম না শুধুই বললাম : ওহ বলেই চলে আসতেছিলাম কিন্তু উষ্টা খেয়ে পড়ে যেতে লাগলাম আর নাহিদ ধরে ফেললো কিন্তু পমি তারাতারি চলে গেলাম । . সেই‌ সময় জান্নাতও এটা দেখে ফেললো । আগেই বলেছিলাম তার মাঝে কিছু সাইকো টাইপ ভাব আছে । সে নাহিদকে একদম হারাতে চাইলো না । সে প্লান করলো যেন নাহিদ আমাকে একদম ঘৃণা করুক । . . পরের দিন জান্নাত কি একটা কারণে‌ আমাকে তার বাড়ি যেতে বললো । তার রুমে ধুকেই দেখি রুম অন্ধকার । আমি : জান্নাত কই তুমি জান্নাত চাকু নিয়ে : তুমি আমার নাহিদ থেকে দূরে চলে যাও আমি : আমি তো ওর কাছে যাই নি আপু জান্নাত : মিথ্যা বলছো আমি দেখছি কাল তুমি ওর কাছে যাচ্ছিলা । আমি : ভুল ভাবছো তুমি । জান্নাত : না ভুল না . তোমাকে আমি থাকতে দিবো না । না না না । আমার দিকে এগুতেই আমি চাকুটা কেড়ে নিলাম কিন্তু এমন সময় নাহিদ এসে আমাকে চর মারলো । . . নাহিদ : নির্লজ্জ , সাইকো মেয়ে । তুমি এতো বাজে । কেনো মারতে আসছো ওকে কি করছে ও । আমি কোনোদিন তোমাকে ক্ষমা করবো না । . জান্নাতের যে এটা প্লান ছিলো আমি বুঝলামও না । . আমি কাঁদতে কাঁদতে বাড়ি ফিরে এলাম । আমার জীবনের কোনো বিষয়ই শাম্মির কাছে লুকাই নি । সাথে সাথে কাঁদতে কাঁদতে শাম্মি কে ফোন দিলাম । . শাম্মিকে সবটুকু জানালাম । শাম্মি : একটু দ্বারা আমি আসতেছি জাহিদকে নিয়ে এখনি তুই কাঁদিস না আমি : জ্বলদি আয় দোস্ত খুব কষ্ট হচ্ছে । . জান্নাত এতেও থেমে থাকে নি । আমি বাড়ি ফিরার কিছু সময় পর নাহিদ আমার মা কে বলে আমি নাকি পাগল ইত্যাদি । জান্নাত সায় দেয় এতে । . জান্নাত যে একটু সাইকো ধরনের আমরা সবাই জানতাম এমনকি জান্নাতের পরিবারও । কিন্তু এমন পরিস্থিতি ছিলো আম্মুও আমাকে ভুল বুঝলো । সেখানে আব্বুও ছিল । . . সেদিন আব্বু আম্মু লজ্জিত বোধ করেছিলো কিছুটা । পরে তারা আমাকে খুব বকলো । শেষে মা বললো : কেনো যে তোকে জন্ম দিলাম ? মরে গেলেই ভালো হতো । . আমি সামান্য জেদ নিয়ে চলি । তাই তারাতারি রুমে গিয়ে রুম বন্ধ করে নিলাম । . ওদিকে জান্নাত : তুমি আমাকে কখনো ছেড়ে যেও না নাহিদ : যাবো না জান্নাত : চলো না আমরা বিয়ে করে ফেলি তাহলে কেউ আর আমাদের আটকাতে পারবে না । নাহলে ওই আনহা আমাকে মেরেই ফেলবে নাহিদ : আচ্ছা চলো . নাহিদ জান্নাতকে ভরসা করে ফেলছিলো । . এমন সময় শাম্মি আর জাহিদ আসলো । নাহিদ : তোমরা আসছো । জানো কি ওই আনহা কতোটা বাজে । শাম্মি : দাড়ান ওর ব্যাপারে কিছু বলার কোনো অধিকার নাই আপনার নাহিদ : মানে জাহিদ : তুই যা দেখছিস কীভাবে বুঝলি যে ওটাই সত্য নাহিদ : তুই জান্নাত কে জিজ্ঞেস কর . জান্নাত কিছুটা ভয়ে : হ্যা হ্যা আনহা আমাকে মারতে চাইছে । শাম্মি : কেনো মারতে চাইছে ? জান্নাত : কারণ নাহিদ আর আমি একে অপরকে ভালোবাসি শাম্মি : তাই জান্নাত : হুম শাম্মি : আচ্ছা জান্নাত তোমার কি জানি একটা রোগ‌ আছে না ? জান্নাত : না মানে শাম্মি : অনেক হয়েছে আর মিথ্যে না নাহিদ ভাইয়া শুনুন আনহা কিছুই করে নি । আপনি যা দেখছেন তাই বিশ্বাস করছেন । দ্বারান এক মিনিট . শাম্মি জান্নাতের মা কে ফোন করে জানালো । জান্নাতের মা ভালো করেই জানে জান্নাতের সব সমস্যা । . সে নাহিদ কে সরি বললো আর জান্নাতের সমস্যা সম্পর্কে জানালো । সব শেষে জান্নাতও স্বীকার করে নিলো । . নাহিদ : ছি তোমাকে কতো ভালোবাসলাম আর তুমি এতোটা মিথ্যুক । . শাম্মি : জাহিদ চলো আনহার কাছে ও অনেক ইমোশোনাল । কিছু করেও ফেলতে পারে । . ওরা তিনজন আমার বাড়িতে এলো । নাহিদ আমার আম্মু ও‌ আব্বুর কাছে ক্ষমা চাইলো । . তারাও ক্ষমা করে দিলো । . সবাই আমাকে ডাকতে লাগলো কিন্তু আমি সেই সময়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে গিয়েছি । . সব সময়ের আমার আপন ছিল ফুপি তাই ফুপিকে ফোন করে সব বললাম । ফুপিও তার কাছে ডাকলো । রুমে একটা চিঠি ছাড়ছিলাম, “আচ্ছা যা দেখা যায় তাই কেনো বিশ্বাস করে সবাই । আমি তো কিছুই করি নি । তবুও সবার চোখে খারাপ হলাম । আমাকে খুঁজবে না কেউ চলে গেলাম ।‌” . চিঠিটি পড়ে সবাই কাঁদতে লাগলো । কিন্তু সেই সময় ফুপি জানালো আম্মু আব্বু কে সব । তারা একটু স্বস্তি ফিরে পেলো । . সবাই নিজের বাড়ি চলে গেলো । কারণ শাম্মি জানে আমি ফিরে‌ আসবো । . নাহিদ নিজেকে অনুতপ্ত ভাবা শুরু করলো ।

---

[<< পূর্ববর্তী অধ্যায়](https://golpohub.com/episodes/chashmawala-cheleti-s1-ep3) | [সিরিজ সূচি](https://golpohub.com/series/chashmawala-cheleti) | [পরবর্তী অধ্যায় >>](https://golpohub.com/episodes/chashmawala-cheleti-s1-ep5)