> **বিকল্প ফরম্যাটসমূহ:** [এইচটিএমএল](https://golpohub.com/episodes/confusion-s1-ep10) | [জেসন](https://golpohub.com/episodes/confusion-s1-ep10?format=json) | [আরএসএস ফিড](https://golpohub.com/episodes/confusion-s1-ep10?format=rss) | [অ্যাটম ফিড](https://golpohub.com/episodes/confusion-s1-ep10?format=atom)

# দূরত্ব ভাঙার অসম সাহস

![দূরত্ব ভাঙার অসম সাহস](https://cdn.golpohub.com/covers/episodes/chapter-chapter-2748-92ba34.webp)

---
*[মৌরি মরিয়ম](https://golpohub.com/authors/mouri-morium)-এর [কনফিউশন](https://golpohub.com/series/confusion) সিরিজ থেকে*\n*আনুমানিক পড়ার সময়: 6 মিনিট*
- **মোট শব্দ:** 872
- **প্রকাশিত:** Sep 16, 2026
---

তিরা খুলনা চলে গেছে এক মাসের বেশি হয়ে গেলো। ভর্তির আগে সম্ভাবত আর আসবে না। সারাদিন আরশির একা একা কাটে। এখন রান্না খাওয়া ছাড়া আর কিছু যেন নেই আরশির জীবনে। ওহ হ্যাঁ আরেকটা কাজ আছে, রশ্নি ও তিরার সাথে ফোনে কথা বলা। কিন্তু কোথাও যেতে উচ্ছে করেনা। পাশেই চাচার বাসা। চাচাতো ভাইবোনেরা আছে তবুও সেখানে যেতে ইচ্ছে করে না। একমাত্র রশ্নির কাছে যেতে তার ভালো লাগে তবুও অন্যের বাসায় যাওয়াতেও তার অস্বস্তি। সেখানে গেলে রশ্নির সাথে ঘরের মধ্যে বসে থাকে। কারো সাথে কথা বলতে ইচ্ছে করে না৷ সবাই হয়তো অহংকারী ভাবে। তাই সেখানেও যাওয়া হয় না। নতুন যেসব বই ছিলো সেসবও পড়া শেষ। গতকাল অনলাইনে কিছু বই অর্ডার করেছে যা এখনো এসে পৌঁছোয়নি। বই অবশ্য নীলক্ষেতে গিয়ে কিনে আনা যেতো কিন্তু সে বের হতে চায় না৷ কেন যেন মনে হচ্ছে বের হলেই কাব্যর সামনে পড়তে হবে। এই লোকটার সামনে সে আর কখনো পড়তে চায় না। এমনকি এই কারণে সে গত একমাস ধরে বাজারেও যায় না। যা যা লাগবে সাহিলকে বলে ফেরার সময় নিয়ে আসতে। আরশি জানেনা এভাবে কতদিন আড়ালে থাকতে পারবে। একই বাসায় যখন থাকে কোনো না কোনোদিন তো দেখা হয়েই যাবে৷ তখন কী হবে? কীভাবে মুখোমুখি হবে তার? তার চেয়ে দেখা না হোক। আরশি একদম চায় না দেখা হোক! দুপুরে রান্না করছিলো আরশি। আজ সাহিল সন্ধ্যেবেলায় ওকে নিয়ে রশ্নির কাছে যাবে। যাওয়ার সময় আরশি রশ্নির জন্য তার প্রিয় কিছু খাবার নিয়ে যাবে। এজন্যই এতো আয়োজন। রান্নার মাঝেই বেল বেজে উঠলো। এই অসময়ে আবার কে এলো! আরশি বারান্দা দিয়ে তাকিয়ে দেখে যে বইগুলো অর্ডার করেছিলো সেগুলো এসে গেছে। ডেলিভারি ম্যানকে দাঁড়াতে বলে ভেতরে এসে চুলা নিভিয়ে টাকা নিয়ে নিচে নামলো। দোতলার বেলের আওয়াজ শুনেই কাব্য দরজা খুলে বের হলো। বের হওয়ার সময় ব্যাগটা কাঁধে ঝুলিয়ে বের হলো। ভানটা এমন করতে হবে যে সে বাইরে থেকে এসেছে। আরশি নিচে নামার আগেই কাব্য মূল ফটকের তালা খুলে দাঁড়িয়ে রইলো। গত একটা মাস কাব্য যতক্ষণ বাসায় ছিলো ততক্ষণই খেয়াল রেখেছে কখন দোতলার বেল বাজে। না এবাড়িতে সাহিল ছাড়া কেউ আসে! আর না আরশি বাসা থেকে বের হয়! এই এক মাসে একটা বারও আরশিকে দেখতে পায়নি সে। একদিন কাব্য বাসা ভাড়া দিতে গেলো। সাহিল তাকে ড্রয়িং রুমে বসিয়ে অনেকক্ষণ গল্প করলো। দুজন একসাথে বসে একটা ক্রিকেট ম্যাচের কিছু অংশও দেখলো কিন্তু আরশির সাথে দেখা হলো না। একবার গলার আওয়াজ শুনলো শুধু। আরশি সাহিলকে ডাকলো, সাহিল ভেতরে গিয়ে চা নাস্তা নিয়ে এলো। আরশিকে না দেখতে পেয়ে যে কাব্য মরে যাচ্ছে ব্যাপারটা এমন নয়। কিন্তু না দেখতে পেয়ে চোখের তৃষ্ণা বেড়েই চলেছে তাই বারবার তার চোখ খুঁজে ফিরেছে আরশিকে। কাব্য যখন ডেলিভারি ম্যানের হাত থেকে বইয়ের কার্টন টা হাতে নিয়ে ইনভয়েসে দেখছিল আরশি কি কি বই অর্ডার করেছে তখন আরশি এলো। কাব্যকে দেখেই কেমন একটা অস্বস্তি শুরু হয়ে গেলো তার ভেতরে। সে খুব করে চাইছে যেন সে স্বাভাবিক থাকতে পারে। আরশি ডেলিভারি ম্যানকে বললো, “কত হয়েছে?” “৯৩৯০। ম্যাম সরি ‘গড অফ স্মল থিংস’ বইটি দিতে পারিনি। একদম শেষ মুহুর্তে প্যাকিং এর সময় দেখি বইয়ের ভেতর একটা পাতা ছেঁড়া। এই মুহুর্তে আমাদের স্টকে বইটি নেই৷ আবার স্টক করলে আমরা যোগাযোগ করব।” “ঠিকাছে।” আরশি ডেলিভারি ম্যানকে ৯৫০০ টাকা দিলো। ডেলিভারি ম্যান বললো, “চেঞ্জ নেই ম্যাম?” “লাগবে না রেখে দিন।” ডেলিভারি ম্যান চলে যেতেই আরশি গেটে তালা দিচ্ছিলো। এতক্ষণ পর্যন্ত চুপচাপ দাঁড়িয়ে আরশিকে দেখছিলো কাব্য। আজও সে এলোমেলো, কোঁচকানো সুতির জামা আর আধ কোঁকড়া চুল হাতখোপায় বাঁধা। ঘেমে-নেয়ে একাকার! ফরসা মুখ লাল হয়ে আছে। রান্না করছিলো বোধহয়। আরশি সবসময় থাকেই এমন যে দেখলেই ঘরের কেউ ঘরের কেউ অনুভূতি হয়। এতো মায়া কারো মুখে থাকে কী করে? কাব্যর চোখের তৃষ্ণা মিটেছে, মিলেছে মনের শান্তিও। এক মাস না দেখার অভাব যেন এক দেখাতেই পূরণ হয়ে গেলো। আরশি তালা দিয়ে ফিরে তাকাতেই কাব্য এবার কার্টনের ইনভয়েসের দিকে তাকিয়ে বললো, “গুড চয়েজ! বাই দ্যা ওয়ে ‘গড অফ স্মল থিংস’ বইটি আমার কাছে আছে। আপনি বরং নিয়ে পড়ুন।” আরশি স্বাভাবিকভাবেই বললো, “না থাক। আগে যেগুলো নিয়েছি সেগুলো পড়ে নিই। তাছাড়া বইটি আমি আমার কালেকশনে রাখতে চাই।” “আচ্ছা।” আরশি কার্টনটার দিকে হাত বাড়াতেই কাব্য বললো, “বইগুলো অনেক ভারী। আমি উপরে তুলে দেই?” “থ্যাংকস, আপনাকে কষ্ট করতে হবে না। আমিই পারবো।” “আমি নিয়ে দিলে খুব কি ক্ষতি হয়ে যাবে?” “আমি নিজের কাজ নিজে করতেই পছন্দ করি আঙ্কেল।” কাব্যর মুখটা হা হয়ে গেলো। অবাক হয়ে বললো, “হোয়াট! আমি আঙ্কেল?” আরশি মুখটা স্বাভাবিক রেখে বললো, “আপনি তিরার বাবার মতো হলে আমার তো আঙ্কেলই হবেন তাইনা?” “ওয়েট ওয়েট!” কাব্য বড় একটা নিশ্বাস নিয়ে বললো, “শুনুন তিরা আমার সাথে কথা বলতো আমিও বলতাম। আমি প্রতিবেশি হিসেবে স্বাভাবিকভাবেই ওর সাথে মিশতাম। বন্ধুত্বপূর্ণ একটা সম্পর্ক ছিলো। সেই বন্ধুত্বও তিরাই চেয়েছিলো। আমার দিক থেকে ব্যস এটুকুই। কিন্তু তিরা খুব দ্রুত আমার উপর ফল করছিলো। ও যে পরিমাণ ফাস্ট যেকোনো সময় আমাকে প্রোপোজ করে দিতো। এবং তখন না করা ছাড়া আমার কোনো উপায় থাকতো না। তখন কষ্ট কে পেতো? আমি? কষ্টটা তখন তিরা পেতো। ও যাতে সিরিয়াস হয়ে অনেকদূর এগিয়ে পরে কষ্ট না পায় সেজন্য কিছু মিথ্যে বলে আমি ওকে বুঝিয়ে দিয়েছি যে ওর সাথে বন্ধুত্বের চেয়ে বেশি কিছু সম্ভব না। যখন কাউকে গ্রহণ না করা যায় তখন তাকে ভালোবাসার কথা বলার সুযোগই দিতে নেই।” “বাহ! আপনাকে অনেক ধন্যবাদ আমাকে এতো দারুন একটা জিনিস শেখাবার জন্য!” আবারও অবাক কাব্য, “আমি কী শেখালাম?” “এইযে শেখালেন যখন কাউকে গ্রহণ না করা যায় তখন তাকে ভালোবাসার কথা বলার সুযোগই দিতে নেই। আমি ভালোবাসার ব্যাপারে একদমই অনভিজ্ঞ। এটা হয়তো ভবিষ্যতে আমার কাজে লাগবে!” আরশি বইয়ের কার্টন টা কাব্যর হাত থেকে নিয়ে সিঁড়ির দিকে চলে গেলো। কাব্য বিস্ময়ে সেখানেই স্থির হয়ে গেলো। অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলো এই অসম্ভব বুদ্ধিমতী মেয়েটির দিকে।

---

[<< পূর্ববর্তী অধ্যায়](https://golpohub.com/episodes/confusion-s1-ep9) | [সিরিজ সূচি](https://golpohub.com/series/confusion) | [পরবর্তী অধ্যায় >>](https://golpohub.com/episodes/confusion-s1-ep11)