> **বিকল্প ফরম্যাটসমূহ:** [এইচটিএমএল](https://golpohub.com/episodes/confusion-s1-ep26) | [জেসন](https://golpohub.com/episodes/confusion-s1-ep26?format=json) | [আরএসএস ফিড](https://golpohub.com/episodes/confusion-s1-ep26?format=rss) | [অ্যাটম ফিড](https://golpohub.com/episodes/confusion-s1-ep26?format=atom)

# জোৎস্নায় উন্মোচিত অন্ধকার

![জোৎস্নায় উন্মোচিত অন্ধকার](https://cdn.golpohub.com/covers/episodes/chapter-chapter-2764-a0d0a7.webp)

---
*[মৌরি মরিয়ম](https://golpohub.com/authors/mouri-morium)-এর [কনফিউশন](https://golpohub.com/series/confusion) সিরিজ থেকে*\n*আনুমানিক পড়ার সময়: 7 মিনিট*
- **মোট শব্দ:** 1,107
- **প্রকাশিত:** Sep 16, 2026
---

আরশি ঘরে ঢুকে বুকে বালিশ চেপে বসে রইলো। ভয়ঙ্করভাবে বুক কাঁপছে তার। কাব্য কী বলবে? কথাবার্তা শুনে মনে হচ্ছে এক্স গার্লফ্রেন্ডের কথা বলবে। কাব্যর মতো ছেলের এক্স থাকবে এটা স্বাভাবিক। কিন্তু সেই এক্সের কথা সে আরশিকে বলতে চাচ্ছে এটা অস্বাভাবিক। তাহলে কি কাব্য কোনো সম্পর্কে যাওয়ার আগে পুরোনো সব বলে নিতে চায় যাতে পরে ঝামেলা না হয়? এ কথা ভাবতেই আরশির প্রচন্ড ভালো লাগলো। কাব্যর অনেক বদ অভ্যাস আছে এটা ঠিক কিন্তু সব ছাপিয়ে এই ছোটো ছোটো গুণগুলোই যে বারবার মুগ্ধ করে ফেলে আরশিকে! যাক অবশেষে তনিকার কথা আরশিকে বলার সুযোগ পাওয়া গেলো। ফোনে বলার সুযোগ হয় অহরহ। কিন্তু কাব্য সামনাসামনি বলতে চায়। সব শুনে আরশির প্রতিক্রিয়া দেখতে চায় কাব্য। যেটা ফোনে বললে সেটা সম্ভব না। বারান্দায় দাঁড়িয়ে চা খেতে খেতে এ কথাই ভাবছিলো কাব্য। কিন্তু আজ মনে হচ্ছে বিকেল থেকে সন্ধ্যা হতে একটু বেশিই সময় নিচ্ছে। অপেক্ষা করা মুশকিল, যতটুকু হালকা লাগছে ততটুকুই দুশ্চিন্তা হচ্ছে। আরশি হয়তো এখন তাকে একরকম ভাবছে। তনিকার কথা শোনার পরে আরেকরকম ভাববে। তা ভাবুক। কাব্য যেমন মানুষ, তেমনটা স্পষ্ট থাকা উচিৎ আরশির কাছে। সন্ধ্যার পর রশ্নি ও আরশি দুজনে একসাথে বসে চা খেলো। এরপর আরশি ছাদে গেলো। যেহেতু আরশি প্রায়ই ছাদে বা বাগানে হাঁটে তাই রশ্নি আর এ ব্যাপারে ভাবলো না। ছাদে যেতে যেতে আরশি কাব্যকে ফোন করতেই সে চলে এলো। আরশি বললো, “এতো তাড়াতাড়ি এলে কীভাবে?” “বাগানে ছিলাম।” “ও আচ্ছা।” আরশিদের ছাদে ছোটো একটা বসার ব্যবস্থা আছে। সেখানেই বসলো দুজন। কাব্য বললো, “আজকের চাঁদটা সুন্দর।” “হ্যাঁ।” জোৎস্নার ভেসে যাওয়া আলোয় শুভ্রের মতো আরশিকে দেখে কাব্য বিমোহিত হয়ে গেলো। মেয়েটাকে একেক সময় একেক রকম সুন্দর লাগে। এইযে আরশির হাসি হাসি সুন্দর মুখ, এটা তো একটু পরেই মিলিয়ে যাবে। তখন কি জগৎ সংসারের আর কিছু ভালো লাগবে কাব্যর? আজ কি তবে বাদ দেবে তনিকার কথা? কিন্তু আজ তো প্রস্তুতি নিয়ে এসেছিলো, আরশিকে বলেছেও সে কথা। তবে কি আরেকদিন বলবে? কাব্য যখন এসব ভাবনায় বিভোর ছিলো তখন আরশি বললো, “কী ভাবছো?” “কিছু না।” “কী যেন বলবে বলেছিলে?” কাব্য ভাবলো যা হবার হবে, বলে দিক আজ। কাব্য বলতে শুরু করলো, “হুম বলবো। ভাবছি কোনদিক থেকে শুরু করবো! সব এতো এলোমেলো!” আরশি হেসে বললো, “একদিক থেকে শুরু করলেই হয়।” “আচ্ছা এলোমেলোভাবেই বলি৷ এসব গুছিয়ে বলা সম্ভবও না বোধহয়।” “বলো।” “মেয়েটার নাম তনিকা। গতবছর ওর সাথে আমার সম্পর্ক হয়। এর আগে আমার কারো সাথে কিছু ছিলো না, এটাই আমার প্রথম প্রেম বলতে পারো।” “আচ্ছা।” “তনিকার সাথে আমার পরিচয় এক বন্ধুর মাধ্যমে। আমাদের বন্ধুদের আড্ডায় আসতো। ছেলেদের সাথেই তার ওঠাবসা বেশি, মেয়েদের সাথে তার যায় না। মেয়েটা প্রচন্ড সাহসী ও জেদি। প্রকাশ্যে সিগারেট খায়, স্ট্রেইট ফরোয়ার্ড, কোনো ন্যাকামি নেই, ভনিতা নেই, লজ্জা নেই, জড়তা নেই, একদম বোল্ড। আই লাইক দ্যাট টাইপ অফ গার্ল। আড্ডায় আসতো, প্রায়ই দেখা হতো, কথা হতো। এভাবেই ভালো লাগার শুরু। বুঝতাম সেও আমাকে পছন্দ করে। অল্প কয়েক মাসের পরিচয়েই আমাদের প্রেম হয়। পয়েন্ট টু বি নোটেড, আমিই তাকে প্রোপোজ করেছিলাম।” আরশি হেসে বললো, “এরকম মেয়ে সিনেমায় দেখা যায়।” কাব্যও হেসে বললো, “বাস্তবেও আছে তবে রেয়ার।” “তারপর কী হলো?” “মা আমার বেস্টফ্রেন্ড। মার কাছে আমি কিছুই লুকাই না। জীবনের প্রথম একটা প্রেম করছি, লুকানোর তো প্রশ্নই আসেনা। তনিকার ব্যাপারটা মায়ের সাথে শেয়ার করি। মা আবার অতি উৎসাহী। সে তনিকার সাথে কথা বলতে চাইলো। আমি কথা বলিয়ে দিলাম দুজনার।” “বাহ।” “ভালোই চলছিলো। তবে ঝামেলাটা হলো কিছুদিন পর। যখন আমরা লিভ টুগেদার শুরু করলাম।” এবার আরশি চমকে গেলো। কি বলবে বুঝতে পারলো না। কিছু কি বলা উচিৎ? নাকি চুপচাপ শুনে যাওয়া উচিৎ? অবশেষে আরশি বললো, “কিন্তু আমাদের দেশে দুজন অবিবাহিত ছেলেমেয়ে একসাথে কীভাবে থাকতে পারে? এটা কি সম্ভব?” “তনিকা হুট করে এসে থাকতে শুরু করে। জেদ ধরে সে যাবেনা। শেষে উপায় না দেখে বাড়িওয়ালাকে বলি বিয়ে করে ফেলেছি।” আরশি এবার আর কিছু বললো না। কাব্য বলতে লাগলো, “ধীরে ধীরে তনিকা আমার ব্যাপারে একটু বেশিই ক্রেজি হয়ে যাচ্ছিলো। ব্যাপারটা প্রথমে আমার ভালো লাগলেও পরে অস্বস্তিতে রূপ নিলো যখন সে আমার বাসায় এসে উঠলো।” “তোমার ফ্যামিলির কেউ কখনো তোমার বাসায় আসতো না?” “না, কক্সবাজারে বাবার কিছু হোটেল আছে তারই একটার ব্রাঞ্চ ঢাকায় আছে। কেউ এলে সেখানেই ওঠে।” “ওহ আচ্ছা।” “সমস্যা ফ্যামিলি বা পারিপার্শ্বিক কোনো দিক থেকে ছিলো না। সমস্যাটা আমাদের মধ্যেই তৈরি হয়েছিলো। কিংবা বলা ভালো আমার মধ্যে।” আরশি চুপ। কাব্য বললো, “মাসখানেক একসাথে থাকার পর আমি একটা জিনিস আবিস্কার করলাম তা হলো প্রতিবার ওর সাথে পারসোনাল টাইম স্পেন্ড করার পর আমি খুব বিষণ্ণবোধ করি। তখন আমার কিছু ভালো লাগে না। এরপর থেকে কিছুটা দূরে থাকার চেষ্টা করি।” আরশি এবারো কিছু বললো না। কাব্য বললো, “ব্যাপারটা তনিকাকে বলবো কিনা বুঝতে পারছিলাম না। সে কষ্ট পাক এটা আমি চাচ্ছিলাম না। সে হ্যাপি ছিলো আমার সাথে।” আরশি এসবের সাথে পরিচিত না। কি বলবে জানেনা তাই চুপ করেই রইলো। কাব্য বললো, “কিছুদিনের মধ্যে আরো কিছু জিনিস আবিস্কার করলাম যেমন, তনিকা যখন বাইরে থাকে এবং আমি একা থাকি তখন খুব ভালো থাকি৷ আবার আমি যখন বাইরে থাকি তখনও খুব ভালো থাকি। এরপর আমি ইচ্ছে করে লেট নাইট পর্যন্ত অফিস করতাম বা আড্ডা দিতাম যাতে আমি ফেরার আগে সে ঘুমিয়ে পড়ে। এভাবে আসলে আমি পারছিলাম না। এরমধ্যেই সেমিস্টার গ্যাপ এলো, তখন কক্সবাজার গিয়ে এক মাসের বেশি থাকলাম। এদিকে তনিকা পাগল হয়ে যাচ্ছিলো কবে ফিরব বলে আর আমি ওদিকে অযুহাত খুঁজতে থাকলাম কীভাবে আমার ঢাকা আসা আরো পেছানো যায়।” আরশি বললো, “খুবই অস্বস্তিকর পরিস্থিতি।” কাব্য একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বললো, “প্রচন্ড।” কিছুক্ষণ দুজনেই চুপ। এরপর কাব্য বললো, “যাই হোক, এরপর এক্সাম কাছাকাছি আসায় ঢাকা ফিরতে হলো। কিছুদিন পর আমি যা বুঝলাম তা হলো আমি তনিকাকে ভালোবাসি না, ভালোলাগে ওকে আমার। আর এই ভালোলাগাকেই ভালোবাসা ভেবে ভুল করে ফেলেছি আমি৷ তোমাকে বলেছি প্রপোজ আমি করেছিলাম। ভুলটা যেহেতু আমার সেহেতু এতদিন একসাথে থাকার পর সম্পর্কটা ভাঙতে চাচ্ছিলাম না। আমাদের দেশে অনেক স্বামী স্ত্রী তো ভালো না বেসেও একসাথে থাকে আমিও সেরকমই থাকার সিদ্ধান্ত নিই। কিন্তু সেভাবেও আমি পারছিলাম না, হাঁপিয়ে উঠেছিলাম। আমি শুধু এই অভিনয়, পালিয়ে বেড়ানো এসব থেকে মুক্তি চাচ্ছিলাম। তাই তনিকার সাথে সব কথা শেয়ার করার সিদ্ধান্ত নিই। তার সব জানা দরকার। সব শুনে সে যা সিদ্ধান্ত নেবে তাই হবে। সে কো-অপারেট করে থাকতে চাইলে থাকবে, চলে যেতে চাইলে চলে যাবে। তবে আমি সবকিছুর আগে তার কাছে মাফ চেয়ে নেই ভুলটা তো আমারই ছিলো।” “তারপর?” “তারপর আর কী! সব শুনে তনিকা খুব বাজেভাবে রিয়্যাক্ট করে।” “কিরকম?” “ভুল বোঝে, রেগে যায়। ওর হাতের কাছে টেবিলে একটা কাচি ছিলো সেটা ছুঁড়ে মারে। ব্রেকাপ করে। তারপর ওর সব জিনিসপত্র নিয়ে চলে যায়।” “তোমার গালের কাটা দাগটা কী সেই কাচিতে কাটা?” “হ্যাঁ।” “এরপর আর যোগাযোগ করেনি?” “করেছে তবে আমার সাথে নয়, আমার মায়ের সাথে।” “আন্টির সাথে কেন?” “মাকে সব বলেছে। মা আমাকে ভুল বোঝে এখনো। যতোবার দেখা হয় ততবারই সেসব কথা তোলে। তনিকার বিয়ে হয়েছে গতবছরই আমাদের ব্রেকাপের পর। কিন্তু তারপরেও আমার উপর ওর রাগ এখনো মেটেনি। তিরার বিয়ে থেকে আমি সোজা বাড়ি চলে গেলাম না?” “হ্যাঁ।” বাড়ি যাওয়ার পর কী হয়েছে তা সব বললো কাব্য। সব শুনে আরশি বললো, “আন্টিকে কেন সব বললো?” “জিজ্ঞেস করিনি?” “কেন?” কাব্য মৃদু হেসে বললো, “কারণ সে চায় আমি তাকে ফোন করি, সে কেন এসব করছে জিজ্ঞেস করি। কিন্তু আমি তা করবো না।”

---

[<< পূর্ববর্তী অধ্যায়](https://golpohub.com/episodes/confusion-s1-ep25) | [সিরিজ সূচি](https://golpohub.com/series/confusion) | [পরবর্তী অধ্যায় >>](https://golpohub.com/episodes/confusion-s1-ep27)