ছাদভরা আলো ও ভালোবাসার ইশারা

•8 মিনিট পড়া•1,270 শব্দ
ছাদভরা আলো ও ভালোবাসার ইশারা

সকালে ঘুম থেকে উঠে নিলা দেখে নিলার কোমরের উপর আবিরের হাত।

নিলার ভালোই লাগছে।

নিলা ও হাতটা উপরে করে আবিরের দিকে ফিরে আবার তার কোমরের উপর রেখে দিলো।

অনেক্ষন তাকিয়ে আছে আবিরের ঘুমন্ত চেহেরার দিকে… চুল গুলো কপালের মধ্যে নেমে গেছে…

আবিরের হেয়ার স্টাইলটা হচ্ছে অন্যরকম সামনে কিছু নামিয়ে রাখে আর কিছু খারা করে রাখে… অবশ্য হেয়ার স্টাইলটা আবিরকে দারুন মানায়।

এখন কিন্তু আবিরের সব চুল কপালের মধ্যে নামানো…

আবিরের চুল গুলো নিলা হাত দিয়ে উপরে তুলে দিলে আবিরের ঘুম হালকা হালকা ভেংগে যায়…

নিলাকে আবির আরো টেনে ঝরিয়ে ধরলে আবিরের হঠাৎ মনে পরে….সে কাকে ঝরিয়ে ধরে আছে…

চোখ খুলে দেখে নিলা তারদিকে টেপ টেপ চোখে চেয়ে আছে..

আবির হঠাৎ হাত সরিয়ে উঠে বসে…

আবির : সরি! নিলা আসলে ঘুম ছিলাম তো তাই খেয়াল করিনি।

নিলা : খেয়াল করেননি কেনো খেয়াল করার দরকার ছিলো আমি আপনাকে রাতে বলে দিয়েছিলাম যাতে আমার গায়ে হাত না লাগে… আর আপনি তো একদম…..

আবির : তুমি বলেছিলা না! তোমার ভয় করে তাই… তোমার যাতে ভয় না করে তাই আরকি…

নিলা আবিরের দিকে চেয়ে আছে… আর মনে মনে হাসছে…

আবির ও একটা মুচকি হাসি দিয়ে ওয়াসরুমে চলে গেলো ফ্রেশ হতে…

ওয়াসরুম থেকে বেরিয়ে দেখে নিলা এখনো বসে আছে…

আবির : কী বেপার ফ্রেশ হয়ে নাও.. নাস্তা করবানা… তোমার সকালের ঔষধ খেতে হবে তো….

নিলা বসে আছে… কিছু বলছে না।

আবির : নিলা! আর ইউ ওকে…

নিলা : হুম!

আবির : তো কিছু বলছো না কেনো…

নিলা : কি বলবো…

আবির : (একটু হেসে)এটা বলবা আরকি আমি ওয়াসরুমে হেটে যেতে পারবো না পৌছে দিন।

নিলা : আবিরের দিকে তাকিয়ে হেসে দিলো।

আবির নিলাকে কোলে তুলে নিয়ে ওয়াসরুমে দিয়ে আসলো…

আবির : কোলে উঠবে না বলে বলে কইবার উঠেছো মনে আছে…

নিলা: বডিটা আর কেনোই বা বানিয়েছেন।

আবির : হেসে হেসে হে তা ঠিক বলেছো…তবে হেল্প লাগবে সেটা বললেই পারতে..

নিলা : দেখেন আর হেল্প এর দরকার নেই যান গিয়ে ভাবীকে ঢেকে দেন।

আবির : ভাবীকে কেনো লাগবে… আমি আছিনা বলো কি করতে হবে…

নিলা : কি! আপনি?….. ছিঃ…..

আবির : হা-হা-হা ওকে ওকে রিলেক্স..just joking….

নিলা : হুম এবার যান।

আবির গিয়ে ভাবীকে ঢেকে দেই…

ভাবী নিলাকে ফ্রেশ হতে সাহায্য করে…

নিলার জন্য খাবার রুমেই নিয়ে আসলাম।

প্রায় ২০/২৫ দিন লাগলো নিলার পা ঠিক হতে…

এখন নিলা হাটতে পারে…তবে পা পুরোপুরি ঠিক হয়নি ব্যথা আছে এখনো..

আবির : (মনে মনে নিলা এখন মোটামুটি সুস্থ তাহলে নিলাকে আজ বলে দিলে ভালো হয়।)

আবির আজ সারাদিনো বাসায় আসেনি।

দাদী থেকে জিজ্ঞেস করলে দাদী বলে বিকেলে এসেছিলো দেখেছি ছাদে উঠতে…

কিছুক্ষন পরে ছাদ থেকে নেমে চলে গেলো..

কিন্তু এখন তো সন্ধ্যা এইসময় একা ছাদে যাওয়া সম্ভব না।

ফোন দিচ্ছি তা ও রিসিভ করছে না।

প্রায় রাত ১২:৪৫ এর দিকে আবির বাসায় আসে..

নিলা : কোথায় ছিলেন সারাদিন…? এতোবার ফোন দিয়েছি ফোনটা ও রিসিভ করছেন না।এটা কি বাসায় আসার সময়?

আবির : চার্জ ছিলোনা ফোনের।

নিলা : আবারো মিথ্যে! । ফোনের চার্জ শেষ হলে তো ফোন অফ হয়ে যাওয়ার কথা কিন্তু আপনার ফোনে তো রিং যাচ্ছিলো।

আবির : আচ্ছা বাসার সবাই কি ঘুমিয়ে পড়েছে…

নিলা : (রাগান্বিত ভাবে) না সবাই আপনার সাথে লুডু খেলার জন্য বসে আছে না ঘুমিয়ে।

আবির : (হেসে দিলো নিলার কথা শুনে)

নিলা : মা অনেক্ষন বসে ছিলো আপনার জন্য….

আপনার মা অসুস্থ মানুষ জানেন যে

অনি আপনার জন্য টেনশন করে বাসায়

তাড়াতাড়ি না আসলে।

আপনি তাও এমন করেন কেনো… আসলে আপনি কখনো বদলাতে পারবেন না।

আবির : একটু হেসে (মনে মনে মাকে তো ফোন করে বলেছি তা ও অপেক্ষা করার কি দরকার ছিলো…)

নিলা : আজব তো আমি বক বক করেই যাচ্ছি আর আপনি হাসছেন আমাকে কি আপনার জোকার মনে হচ্ছে। আমি কি আপনার সাথে কমিডি করছি।

আবির : তুমি রাগলে অনেক সুন্দর দেখায়।

নিলা মুখ ভেঙিয়ে চলে যাচ্ছিলো…

আবির পিছন থেকে এসে নিলাকে কোলে তুলে নিলো…

নিলা : কি করছেনটা কি? আমি এখন হাটতে পারি।

আবির : হে দেখছি তোমার ওজন ৫৪ থেকে কমেছে নাকি বেড়েছে…

নিলা : (আবিরের দিকে তাকিয়ে রইলো)

আবির : কি দেখছো…?

নিলা : কিছু না! এবার নামান।

আবির : (হেসে) নামানোর জন্য তুলেছি নাকি..

নিলা : তাহলে?….

আবির : চলো ছাদে যাবো….

নিলা : এতোরাতে? আবারো? আবির! মা জানলে বকা দিবে….

আবির : জানবে না!

আবির নিলাকে নিয়া ছাদে উঠলো…

ছাদে উঠার পর নিলা যা দেখেছে তা সে কখনো কল্পনা করেনি।

দেখে নিলার চোখ দিয়ে পানি চলে আসে…

খুব সুন্দর করে ফুলের মধ্যে লাইটিং করে লিখা আছে I LOVE U..

নিলা আবিরের দিকে তাকালে…

আবির নিলার চোখের পানি মুছে দিলো…

নিলা আবিরকে খুব শক্ত করে ঝরিয়ে ধরে…

আবির ও নিলাকে ঝরিয়ে ধরে..

তখন লাগছে পৃথিবীটা পুরা যদি ও একহাতে এনে দেই তা ও এতো আনন্দ লাগবে না…যে আনন্দ আজ লাগছে।

আবিরের শার্ট পুরাটা ভিজেই যাচ্ছে নিলার চোখের পানিতে।

পাগলীটা ফুফিয়ে ফুফিয়ে কেঁদেই যাচ্ছে।

আবির : নিলা! কাদঁছো কেনো এভাবে..

নিলা : আপনি I love u বলেছেন তাই।

আবির : হা হা হা… পাগলী সেটা বললে কি কাঁদতে হয়?

আচ্ছা হয়েছে আর কাঁদতে হবে না এবার এদিকে তাকাও

হঠাৎ কারেন্ট চলে যাওয়াতে চারদিক থেকে আলো চলে যায়…

নিলা আবিরকে আরো শক্ত করে ধরে রাখে… আবির বুঝতে পারে নিলা ভয় পাচ্ছে তাই সে মোবাইল বের করে আলো জালালো..

নিলা : আবির রুমে চলেন…

আবির : ভয় লাগছে….? আমি আছিতো…

নিলা : হুম।

আবির : আচ্ছা চলো রুমে.!

দুজনে রুমে গেলো….

নিলা : আপনি খেয়েছেন?

আবির : না! তুমি?

নিলা : হে খেয়েছি! খাবার দিচ্ছি খেতে আসেন।

আবির খেতে বসলো…

আবির : নিলা তুমি আমাকে ফেলে খেয়ে ফেললে যে…

নিলা : ক্ষিদে পেয়েছিলো…তাই অনেক্ষন অপেক্ষা করেছিলাম। কিন্তু আপনি তো লেট করে এসেছেন।

আবির : লেট করে এসেছি যাতে বাসার সবাই ঘুমিয়ে পরে আর তুমি আর আমি নিরবে প্রেম করতে পারি..হা-হা-হা

নিলা একটু লজ্জার দৃষ্টিতে আবিরের দিকে তাকালো

আবির: নিলা! এখন কিন্তু আবার খাবে আমার সাথে…

নিলা : না। আমি খেতে পারবো না আমি খেয়েছি পেট ভরা…আপনি খান।

আবির : ঠিকাছে আমিও খাবো না।

নিলা : আরে আরে কই যাচ্ছেন? আচ্ছা ঠিকাছে খাবো বসেন।

নিলা আবিরকে খাবার বেড়ে দিলো…

আবির : হা করো…

নিলা : আরে আগে আপনি খান না…

আবির : হা করতে বলেছি হা করো….

নিলা : (হেসে) ওকেই!

দুজনে খেয়ে শুতে আসলো…

আবির : নিলা! ঘুমানোর সময় দেখিও যাতে আমার গায়ে হাত না লাগে…

নিলা : (হেসে) ইডিয়ট….

এই বলে আবিরের বুকের উপর মাথা রেখে শুয়ে পরে…

আবির : নিলা!

নিলা : হুম!

আবির : কতো ঘটনা পাড় করে আজ আমরা এক হয়েছি তাই না….

নিলা : ভালোই তো হয়েছে…

আবির : মানে!

নিলা : মানে যখন আপনি দাদা হবেন তখন আপনার নাতি নাতনীকে আপনার লাভ স্টোরি কেমনি বলবেন। যদি কোনো ঘটনাই না ঘটতো তাহলে ওরা বলবে নিরামিষ স্টোরি এখন তো বলবে ওয়াও ইন্টারেস্টিং স্টোরি..

আবির: (হেসে) হা-হা-হা… তুমি আসলেই পাগলী… আচ্ছা এখনো তো বাবাই হলাম না… নাতি নাতনী কেমনি হবে…

আবির : (দুষ্টুমির ভংগিতে… নিলা এখন কিন্তু আমার অধিকারটা পেতে পারি..).

নিলা : (একটু লজ্জা পেয়ে….. চুপ করে আছে কিছুই বলছে না..)।

কিছুক্ষন পরে আবির নিলাকে জরিয়ে ধরলে নিলা আবিরের হাত সরিয়ে…

নিলা : আবির আমার অনেক ঘুম পাচ্ছে…

(আবির মনেমনে একটু মন খারাপ করে..

নিলা এমন কেনো করলো…)

আবির : ওকে!…

সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখে নিলা পাশে নেই…

ফ্রেশ হয়ে ড্রইং রুমে গিয়ে দেখে নিলা আর ভাবী সবার জন্য নাসতা রেডি করছে।

আমিও আর কিছু বললাম না..নাস্তা খেয়ে বেরিয়ে পড়লাম..

রাতে বাসায় আসি…

এসে দেখি নিলা তার চুল ঝুটি করছে…

কোমড়ের পাশ থেকে শাড়ীটা সরে যাচ্ছে বার বার…

না চেয়েও নিলার পিছনে গিয়ে দাঁড়ালাম…

দু-হাত তার কোমরের দুপাশে দিলাম।

নিলার শরীরটা শিউরে উঠলো..

নিলা : খাবার দিচ্ছি খেতে আসেন।

এই বলে নিলা চলে যাচ্ছে…

আবির নিলার হাত ধরে টেনে আবিরের কাছে আনলো…

আবির : নিলা! একটু বেশি হয়ে যাচ্ছে না এটা…

নিলা আবিরের হাত ধরে টেনে নিয়ে… ক্যালেন্ডারের কাছে নিয়ে গেলো….

আর আংগুলের ইশারায় ক্যালেন্ডারের কয়েকটা তারিখ হাত দিয়ে ক্রস করে দিলো।

আবির : (কিছুক্ষন ভেবে….) ওহহ…নো..

আর সময় পায়নি বুঝি…

নিলা হেসে লজ্জা পেয়ে রুম থেকে চলে গেলো…

এভাবে আবির ক্যালেন্ডারের তারিখ দেখে দেখে অফিস যাচ্ছে..

এমনি হলে আজ কয় তারিখ সেটা ও মনে থাকে না।

অধ্যায় 20 সমাপ্ত

আপনি এই অধ্যায়টি পড়া শেষ করেছেন। পরবর্তী পর্বে যান অথবা আপনার প্রতিক্রিয়া জানান!

মন্তব্যসমূহ

0

আলোচনায় যোগ দিন

মতামত জানাতে এবং পাঠকদের সাথে আলোচনায় অংশ নিতে লগইন করুন।

এখনও কোনো মন্তব্য নেই।

প্রথম মন্তব্যটি করে আলোচনা শুরু করুন!

রকমারি কালেকশন

বইপ্রেমীদের জন্য রকমারি বেস্টসেলার

অধ্যায় পাঠ শেষে সংগ্রহ করুন আপনার পছন্দের ঘরানার সেরা বই ও বিশেষ ডিসকাউন্ট

ছাদভরা আলো ও ভালোবাসার ইশারা

অনুচ্ছেদ 1 / 1 • চলছে
বিজ্ঞাপন