সিজন 1 অধ্যায় 5 ড্রামা রোমান্টিক #হঠাৎ সিদ্ধান্ত #মন ভাঙা নীলাআবির হকতারাভাবী ডিয়ার

অপ্রত্যাশিত শর্ত ও প্রত্যাখ্যান

•6 মিনিট পড়া•899 শব্দ
অপ্রত্যাশিত শর্ত ও প্রত্যাখ্যান

আবির : কি দাদি :O এতো তারাতারি কেন?

দাদি : চমকে গেছিস তাইতো। আমি আর তোর বাবা মিলে ডিজিসন নিয়েছি। শোন নিলার পরিবারকে বলেছি যে কাল এংগেজডমেন্ট এর শপিং করতে যাব। তারা ও আসবে তুই ও চল।

আবির : না দাদি আমার একটু কাজ আছে।

আবিরের মা : নিলা ও আসবে আবির ?

আবির : মা তুমি ও শুরু করেছো।

মা : হা-হা-হা আচ্ছা আচ্ছা নাসতা করেনে।

আবির তারার সাথে দেখা করতে গেল।হাতে একগুচ্ছ ফুল নিয়ে।

তারা : কেমন আছো আবির?

(আবির তারার হাতে ফুলগুলি দিয়ে)

আবির : কেমন থাকবো আর তারা তোমার তো কোনো খবরি নেই।

তারা : আসলে আবির অনেক ব্যস্ত আছি।পড়াশোনা নিয়ে। বাবার সপ্ন। বাবার আমি ছাড়া আর কে আছে বলো।

আবির : আচ্ছা তোমার বাবা আমাকে একদমি দেখতে পারেনা কেন বলো তো। 🙁

তারা : হা-হা-হা বাবার সামনে তো কতোবার কতোকিছুতে ধরা পড়েছ তাই আরকি।

আবির : আসলেই ভাল কিছু যখন করি তখন তোমার বাবাটা সামনে পরে না।? যখনি কারো সাথে মারামারি কিংবা বাইক স্টান্ট করি তখনি তোমার বাবাটা সামনে পরে। ?

তারা : আচ্ছা কি যেন বলবে আমায়।

আবির : তারা ইয়ে মানে………

তারা : কি?…….

আবির : তারা… আই লাভ ইউ ্্্?

(তারা একটু লজ্জা পেয়ে গেল)

আবির : তারা আমি আসলে তোমাকে অনেক ভালবাসি। কিন্তু তোমাকে বলার সাহসটা পায়নি।

তারা : তো আজ হঠাৎ সাহস কই পেলে??

আবির : আরে জানোনা যে বাসায় আমার বিয়ে ঠিক করে রেখেছে নিলা নামের একটি মেয়ের সাথে।কিন্তু তুমি চিন্তা কোরো না আমি সব ম্যানেজ করে নিব।শুধু তোমার আন্সারটা চায়।তারপর আমরা বিয়ে করে নিব।

তারা : আবির কিন্তু আমিতো এসব বিয়ে টিয়ে নিয়ে ভাবিনি। আমি পড়াশোনা শেষ করে ডাক্তার হবো।

আবির : প্লিজ তারা এভাবে বলোনা।

তারা : আচ্ছা ঠিক আছে একবছর অপেক্ষা করো তুমি তারপর আমি জানাবো একবছর পরে তোমাকে বিয়ে করতে পারবো নাকি পারবো না।

আবির : কি…… এক বছর অপেক্ষা করবো তারমাঝে তুমি আমাকে জানাবে যে বিয়ে করবে কি করবে না। তারা এটা একটু বেশী হয়ে যাচ্ছে না?

তারা : উফফ আবির দেখো তুমি যদি পারো তাহলে এক বছর অপেক্ষা করো আর না হলে ঐ নিলাকেই বিয়ে করে ফেলো।

আবির : আচ্ছা ঠিক আছে আমি অপেক্ষা করবো তারা। তারা আই রিয়েলি লাভ ইউ।

তারা : হুমমম। আচ্ছা তাহলে এখন যায়।

আবির : ওকে বাই।

তারা : বাই।

আবির বাসায় আসে। তার ভাবিকে সব বলে।

আবির : ভাবি এবার তো বিয়ে কেন্সেল করাতে পারবা।

ভাবি : না আমি তারাকে একবার দেখতে চায় ওর সাথে কথা বলতে চায়।

আবির : ভাবি এসব কিন্তু ভাল হচ্ছে না। আমি এক্ষুনি হিটলারকে গিয়ে সব বলছি।

ভাবি : ঠিকাছে তুই গিয়ে বল বাবা আমি নিলাকে বিয়ে করবো না আমি তারাকে ভালবাসি।

আবির : ভাবি ডিয়ার তুমিতো হিটলারকে চেনো ও আমাকে বাড়ি থেকে বের করে দেবে।?

ভাবি : তো বের হয়ে যাবি ব্যাস।?

আবির : ভাবি আমি তারাকে বিয়ে করবো ও কে কই রাখবো।?

ভাবি : তাহলে আমার কন্ডিশন মানতে হবে।

আবির : আচ্ছা ঠিকাছে ঠিকাছে।

আবির তারাকে ফোন দিলো।

তারা : হে আবির বলো

আবির : তারা তোমার সাথে ভাবি দেখা করতে চাচ্ছেন।

তারা : কিন্তু আবির আমারতো সময় নেই।

আবির : তারা প্লিজ আমার দিক চেয়ে হলেও।

তারা : আচ্ছা ঠিকাছে। কখন?

আবির : কালকে আমার বাসায় কেউ থাকবে না। ভাবি অসুস্থ মানে ভাবি ডিয়ার প্রেগন্যান্ট তাই ভাবি বাসায় থাকবে তুমি ভাবির সাথে বাসায় দেখা করতে পারবে।

তারা :আচ্ছা ওকে বাই।

আবির : বাই।

ভাবি : কি আসছে তো।

আবির : আসছে মানে তারা এমন না যে আমার কথা রাখবে না।

পরদিন আবিরের পরিবারের সবাই এংগেজডমেন্ট এর শপিং করতে গিয়েছে। আবিরকে ও সবাই জোর করে নিয়ে গিয়েছে। আবির যেতে চাইনি তারা আসবে বলে। তা বাধ্য হয়ে যেতে হয়েছে।

তারা আবিরের বাসায় আসে ভাবির সাথে কথা বলে।

তারার কথা শুনেতো ভাবি পুরায় অবাক।

এই মেয়ে কি বলে সে নাকি আবিরকে নিয়ে তেমন কিছুই ভাবতে পারছেনা। একবছর পরে ভেবে বলবে। যাই হোক ভাবি এখন আবিরের অপেক্ষায় আছে।

আবিররা বাসায় আসে। আবির বাসায় এসে ভাবির থেকে জিজ্ঞেস করতে লাগলো

আবির: ভাবি তারাকে কেমন লাগলো?

ভাবি : একদম ভাল লাগেনি। আবির তুই জানিস ও বলেছে একবছর পরে ও ভেবে বলবে তোকে বিয়ে করতে পারবে কি পারবে না।

আবির : জানি!

ভাবি : কি! তুই জেনে ও।

আবির : কি করবো ভাবি আমি তারাকে ছাড়া আর কাউকে বিয়ে করতে পারবো না।

ভাবি :ঠিকাছে যা ইচ্ছা তাই কর।

আবির : তার মানে তুমি বাবাকে কিছু বলবা না।?

ভাবি : না বলছি না।?

আবির : ঠিকাছে আমি নিলাকে গিয়ে সব বলে দিচ্ছি। সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।

ভাবি : আবির তুই পাগল হয়ে গেছিস নাকি। তুই নিলাকে বলবি। তুই জানিস ও এসব শুনলে কি কষ্ট পাবে।

আবির : এটাই একটা রাস্তা।

(আবির তার রুমে চলে গেল)

এইদিকে নিলার বোন ভাবিরা নিলাকে জালিয়ে ছাড়ছে আবিরকে আই লাভ ইউ বলার জন্য। নিলার মামাতো বোন শ্রেয়া নিলাকে জোড় করে আবিরকে কল দিয়ে আসতে বলতে বলে বাড়ির পেছনে।

আবিরের ও কি আর করার। আবির গাড়ি বের করে নিলার বাসায় যাওয়ার জন্য রওনা হয়।হঠাৎ আবিরের মনে পড়লো এই সুযোগে নিলাকে ও তারার কথা বলে দেওয়া যাক।

আবির নিলার বাসার পেছনে গেল।নিলা ও এসেছে গোলাপী রং এর একটি জামা পড়েছে নিলা। যেন আকাশ থেকে পরী নেমে এসেছে।

নিলা : জি আসলে এতো রাতে আপনাকে কষ্ট দেওয়ার জন্য সরি।

আবির : না না সমস্যা নেই। নিলা আমার ও তোমাকে কিছু বলার ছিলো।

নিলা : ? ও আচ্ছা তাই। তো বলে ফেলেন কি বলবেন।

আবির : না তুমি আগে বলো।

(আবির ভাবছে মেয়েটার মনটা এখনি ভেঙে যাবে। তবে কি করার বলতে তো হবেই)

নিলা : না সমস্যা নেই আপনি বলুন।

আবির : নিলা আসলে কথা হচ্ছে যে…….. আমি তোমাকে বিয়ে করতে পারবোনা।

আমি তারা নামে একটি মেয়েকে ভালোবাসি।

(নিলার মাথায় যেন আকাশ ভেংগে পড়লো)

অধ্যায় 5 সমাপ্ত

আপনি এই অধ্যায়টি পড়া শেষ করেছেন। পরবর্তী পর্বে যান অথবা আপনার প্রতিক্রিয়া জানান!

মন্তব্যসমূহ

0

আলোচনায় যোগ দিন

মতামত জানাতে এবং পাঠকদের সাথে আলোচনায় অংশ নিতে লগইন করুন।

এখনও কোনো মন্তব্য নেই।

প্রথম মন্তব্যটি করে আলোচনা শুরু করুন!

রকমারি কালেকশন

বইপ্রেমীদের জন্য রকমারি বেস্টসেলার

অধ্যায় পাঠ শেষে সংগ্রহ করুন আপনার পছন্দের ঘরানার সেরা বই ও বিশেষ ডিসকাউন্ট

অপ্রত্যাশিত শর্ত ও প্রত্যাখ্যান

অনুচ্ছেদ 1 / 1 • চলছে
বিজ্ঞাপন