{
    "_links": {
        "html": "https://golpohub.com/episodes/ek-obhimanir-golpo-s1-ep8",
        "json": "https://golpohub.com/episodes/ek-obhimanir-golpo-s1-ep8?format=json",
        "markdown": "https://golpohub.com/episodes/ek-obhimanir-golpo-s1-ep8?format=md",
        "rss": "https://golpohub.com/episodes/ek-obhimanir-golpo-s1-ep8?format=rss",
        "atom": "https://golpohub.com/episodes/ek-obhimanir-golpo-s1-ep8?format=atom"
    },
    "seo": {
        "canonical_url": "https://golpohub.com/episodes/ek-obhimanir-golpo-s1-ep8",
        "title": "এক অভিমানীর গল্প পর্ব ৮ - যৌথ বাড়ির রঙিন কোলাহল | Ek Obhimanir Golpo Part 8",
        "description": "পড়ুন এক অভিমানীর গল্প পর্ব ৮। শ্বশুরবাড়িতে মায়ার আগমন এবং রান্নাঘরে বাঁধনের সাথে রোমান্টিক খুনসুটি।",
        "keywords": "এক অভিমানীর গল্প পর্ব ৮, এক অভিমানীর গল্প ৮, ৮ম পর্ব, ek obhimanir golpo porbo 8, ek obhimanir golpo part 8, ak obhimanir golpo episode 8, ek obhimanir golpo part 8 link, এক অভিমানীর গল্প পর্ব ৮ লিংক, মায়া, বাঁধন, ফারহানা, শাহিদ মাহমুদ, যৌথ পরিবার",
        "image_url": "https://golpohub.com/assets/images/og.jpg",
        "schema": {
            "@context": "https://schema.org",
            "@graph": [
                {
                    "@type": "Chapter",
                    "name": "যৌথ বাড়ির রঙিন কোলাহল",
                    "position": 8,
                    "description": "রসিক চাচার দোকান পেরিয়ে যৌথ শ্বশুরবাড়িতে পা রাখতেই মায়াকে ঘিরে তৈরি হয় আনন্দোৎসব। অসুস্থ শরীরে রান্নাঘরে মাছ ভাজতে যাওয়া মায়াকে পেছন থেকে গভীর মোহে জড়িয়ে ধরে বাঁধন। ঠিক সেই সময়ে ননদ ফারহানা কিচেনে ঢুকে পড়লে দুজনের লজ্জার পরিণতি কী দাঁড়ায়?",
                    "url": "https://golpohub.com/episodes/ek-obhimanir-golpo-s1-ep8",
                    "inLanguage": "bn",
                    "timeRequired": "PT10M",
                    "datePublished": "2026-09-06T15:24:00+00:00",
                    "dateModified": "2026-09-06T15:26:49+00:00",
                    "wordCount": 1521,
                    "image": "https://cdn.golpohub.com/covers/episodes/chapter-chapter-1920-63f282.webp",
                    "accessibilityFeature": [
                        "readingOrder",
                        "structuralNavigation",
                        "displayTransformability",
                        "uncontracted"
                    ],
                    "accessibilityControl": [
                        "fullKeyboardControl",
                        "fullTouchControl"
                    ],
                    "accessibilityHazard": [
                        "none"
                    ],
                    "potentialAction": {
                        "@type": "ReadAction",
                        "target": "https://golpohub.com/episodes/ek-obhimanir-golpo-s1-ep8"
                    },
                    "isPartOf": {
                        "@type": [
                            "BookSeries",
                            "CreativeWorkSeries"
                        ],
                        "name": "এক অভিমানীর গল্প",
                        "url": "https://golpohub.com/series/ek-obhimanir-golpo"
                    },
                    "author": {
                        "@type": "Person",
                        "name": "অনামিকা ইসলাম অন্তরা",
                        "url": "https://golpohub.com/authors/anamika-islam-antara"
                    }
                },
                {
                    "@type": "BreadcrumbList",
                    "itemListElement": [
                        {
                            "@type": "ListItem",
                            "position": 1,
                            "name": "Golpo Hub",
                            "item": "https://golpohub.com"
                        },
                        {
                            "@type": "ListItem",
                            "position": 2,
                            "name": "সিরিজসমূহ",
                            "item": "https://golpohub.com/series"
                        },
                        {
                            "@type": "ListItem",
                            "position": 3,
                            "name": "এক অভিমানীর গল্প",
                            "item": "https://golpohub.com/series/ek-obhimanir-golpo"
                        },
                        {
                            "@type": "ListItem",
                            "position": 4,
                            "name": "যৌথ বাড়ির রঙিন কোলাহল",
                            "item": "https://golpohub.com/episodes/ek-obhimanir-golpo-s1-ep8"
                        }
                    ]
                }
            ]
        }
    },
    "filters": [],
    "data": {
        "id": 1920,
        "ep_number": 8,
        "title": "যৌথ বাড়ির রঙিন কোলাহল",
        "slug": "ek-obhimanir-golpo-s1-ep8",
        "url": "https://golpohub.com/episodes/ek-obhimanir-golpo-s1-ep8",
        "reading_time": 10,
        "thumbnail_url": "https://cdn.golpohub.com/covers/episodes/chapter-chapter-1920-63f282.webp",
        "yt_video_id": null,
        "yt_video_url": null,
        "timestamps": {
            "published_at": "2026-09-06T15:24:00+00:00",
            "updated_at": "2026-09-06T15:26:49+00:00"
        },
        "meta": {
            "word_count": 1521,
            "seo_title": "এক অভিমানীর গল্প পর্ব ৮ - যৌথ বাড়ির রঙিন কোলাহল | Ek Obhimanir Golpo Part 8",
            "seo_description": "পড়ুন এক অভিমানীর গল্প পর্ব ৮। শ্বশুরবাড়িতে মায়ার আগমন এবং রান্নাঘরে বাঁধনের সাথে রোমান্টিক খুনসুটি।",
            "keywords": "এক অভিমানীর গল্প পর্ব ৮, এক অভিমানীর গল্প ৮, ৮ম পর্ব, ek obhimanir golpo porbo 8, ek obhimanir golpo part 8, ak obhimanir golpo episode 8, ek obhimanir golpo part 8 link, এক অভিমানীর গল্প পর্ব ৮ লিংক, মায়া, বাঁধন, ফারহানা, শাহিদ মাহমুদ, যৌথ পরিবার",
            "characters_involved": [
                "বাঁধন",
                "মায়া",
                "শাহিদ মাহমুদ",
                "ফারহানা"
            ]
        },
        "content": "মায়া- বাঁধনের চোখাচোখির মাঝেই সেখানে হাজির হয় হোটেল মালিক শাহিদ মাহমুদ।\n\n‘খাওয়া হয়েছে?’\nমায়ার দিকে তাকিয়ে স্মিতহাস্যে প্রশ্ন করেন হোটেল মালিক। ওনার দিকে তাকিয়ে ছোট্ট হাসি দিয়ে পার্স থেকে টাকা বের করে মেলে ধরে মায়া। বাঁধন মায়ার হাতটা ওর হাত দিয়ে ঠেলে দুরে সরিয়ে বলে উঠে, কাকা!\nমায়া…. তোমার ভাতিজার বউ…(মায়ার দিকে তাকিয়ে বাঁধন)।\nহোটেল মালিক ওরফে বাঁধনের কাকা অবাক দৃষ্টি নিয়ে মায়ার দিকে তাকাই। এরই মাঝে একবার পা থেকে মাথা পর্যন্ত দেখে ফেলেছেন ওনি। মায়াও অবাক বিস্ময়ে হোটেল মালিকের দিকে তাকিয়ে আছেন। অনেকগুলো প্রশ্ন ওকে তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে। উত্তর না জানা পর্যন্ত ওর নিস্তার নেই। বাঁধনের দিকে জিজ্ঞাসো দৃষ্টি নিয়ে তাকাতেই একটা মৃদু হাসি দিয়ে বলে উঠে বাঁধন, মায়া! ইনি’ই সেই কাকা, যার কথা তোমাকে বলতাম। মায়ার মুখে হাসির রেখা ফুটে উঠে। স্মিতহাস্যে প্রশ্ন করে, মানে ওনি শাহিদ মাহমুদ কাকা? রসিক কাকা?\nহায়রে!\nরসিক কথাটা এখানে না বললেই নয়? বাঁধন লজ্জায় মাথা নিচু করে ফেলে। মায়া মিষ্টি হেসে সালাম এবং কুশল বিনিময় করে চাচাশ্বশুরের সাথে। মায়ার খাওয়ার বিল আর দেয়া হয়নি। উল্টো ওর হাতে চকচকে ১হাজার টাকার নোট ধরিয়ে দেয় শাহিদ মাহমুদ মানে বাঁধনের কাকা। বাঁধন মায়াকে নিয়ে চলে যাচ্ছিল, পিছন থেকে ডাক দেয় কাকা। শুন….\nবউরে লইয়্যা আইয়্যা পরিস রাত্রিতে, তোর কাকি খুশি অইব্য, আর দু’জোড়া টুনাটুনিতে আড্ডাও বেশ জমবে।\nবাঁধন মৃদু হেসে মায়ার দিকে তাকায়। মায়া লজ্জায় মাথা নিচু করে।\nহাঁটা শুরু করে বাঁধন।\nদু’জন পাশাপাশি হাঁটছে। কিন্তু দু’জনেই বেশ চুপচাপ। কারো মুখেই কোনো কথা নেই। হাঁটার সময় দুটো হাতের পৃষ্ট একসাথে লেগে মৃদু কাঁপনির সৃষ্টি হচ্ছে। কিছুদুর এগুতেই বাঁধন রিক্সা ডাকে। যদিও মায়ার ইচ্ছে হচ্ছিল বাঁধনের পাশাপাশি একটু হাঁটতে, তবুও রিক্সায় উঠেই গেল। কারণ, সব ইচ্ছেকে সব সময় প্রশ্রয় দিতে নেই। আর তাছাড়া বাঁধনের হাঁটাতে এলার্জি আছে সেটা মায়া রিলেশন চলাকালীন সময়ে বাঁধনের মুখ থেকে একাধিকবার শুনেছে, তাই মায়া নিঃশব্দে রিক্সায় উঠে বসে। রিক্সায় উঠে মায়ার নিজেকে সিনেমার হিরোইনদের মত মনে হচ্ছে, কিন্তু বাঁধন?!!!\nওর মনে হয় মোটেও নিজেকে ঐ হিরোইনের হিরো মনে হচ্ছে না। মনে হলে এতক্ষণে ঠিক ইতস্তত করে হলেও পাশে বসে থাকা হিরোইনের হাতটা আলতো করে চেপে ধরত।\nনিশ্চুপ মায়া কিছুক্ষণ করুণ চোখে বাঁধনের দিকে তাকিয়ে থেকে দৃষ্টি ফিরিয়ে নেয়। উদাসীন দৃষ্টিতে মায়া অন্য দিকে মুখ করে তাকিয়ে আছে।\nবাঁধন হাসি আটকে ওর অভিমানীর দিকে তাকায়। সত্যি বলতে ওরও ইচ্ছে হচ্ছে মায়ার হাতদুটো আলতো করে ছুঁয়ে দিতে কিংবা মাথার ঐ অবাধ্য চুলগুলো যা ওড়নার নিচ থেকে বেরিয়ে ওর চোখে মুখে এসে ছিটকে পরছে, সেগুলো পরম যত্নে কানের পাশে গুজে দিতে কিংবা এতটা কাল ধরে করে আসা কল্পনার মতই রিক্সার হুড ফেলে আচমকা ওর মায়াকে জড়িয়ে ধরতে কিংবা হঠাৎ করে কানের কাছে গিয়ে ফিসফিসিয়ে ‘লক্ষ্মী ভালোবাসি তো’ বলতে।\nএই এরকম হাজারো কিছু ইচ্ছে হচ্ছে বাঁধনের, কিন্তু এই মুহূর্তে সেই ইচ্ছেগুলোর কোনো প্রাধান্য দিচ্ছে না। কেননা, বাঁধন চাচ্ছে আজ অন্যকিছু হোক। অভিমানী ওর সব অভিমান ঝেড়ে ফেলে ওর কাছে ছুটে আসুক। রিলেশন চলাকালীন সময়ে বাঁধন যে কথাটি শুনতে শুনতে অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছিল, আজও বাঁধন ওর মায়ার মুখ থেকে সেই কথাটি শুনতে চায়। বাঁধন ওর অভিমানীর মুখ থেকে শুনতে চায়-\n” কিন্তু আমি তো আপনাকে ভালোবাসি না।”\nমায়ার বলা কথার মধ্যে এই একটি কথা বাঁধনের অদ্ভুত রকম ভালো লাগে। মায়া হয়তো বলে, ভালোবাসি না। কিন্তু বাঁধন মায়ার এই ভালোবাসি না কথার মধ্যে অন্য রকম কিছু খুঁজে পায়। আর সেই অন্যরকম কিছুর স্বাদ আস্বাদনের জন্যই বাঁধনের বার বার একই কথা, ‘ভালোবাসি তো লক্ষ্মী’। আর নিত্যকার নিয়মে মায়ার সেই প্রশ্নের জবাব হিসেবে বলা, কিন্তু আমি তো আপনাকে ভালোবাসি না।\nবাজান, আইয়্যা পরছি!\nরিক্সাওয়ালার কথায় হুশ ফিরে বাঁধনের। তাকিয়ে দেখে রিক্সা থেকে নেমে মায়া হাঁটতে হাঁটতে অনেকটা দুরে চলে গেছে। চটজলদি রিক্সা থেকে নেমে ভাড়া মিটিয়ে মায়ার দিকে ছুটতে থাকে বাঁধন।\nকি হলো? আমি ডাকছি, শুনতে পাচ্ছো না?\nবাঁধনের প্রশ্নে চুপসে দাঁড়ায় মায়া। বাঁধন আবারো বলা শুরু করে, আর এদিকে কোথায় যাচ্ছ? এদিকে কি তোমার নতুন শ্বশুরবাড়ি নাকি? মায়া উদাস দৃষ্টি মেলে বাঁধনের দিকে একবার তাকায় তারপর চুপচাপ হাঁটতে থাকে বাঁধনের পিছুপিছু। শ্বশুরবাড়ির ত্রিসীমানায় পা রাখতেই বাঁধন একটা পিচ্চিকে ডাক দেয়–\n” ঐ হাসান! এদিকে আয়!”\nপিচ্চিটা বাঁধনের ডাক শুনে ছুটে আছে।\n” কাকা, কিছু বলবা? তাড়াতাড়ি বলো, আমার নৌকা ডুবে যাচ্ছে।”\nপিচ্চিটার দিকে তাকিয়ে থ হয়ে যায় মায়া। এ সেই পিচ্চিটা যার সাথে পুকুরপাড়ে দেখা হয়েছিল। এ তাহলে বাঁধনের কাজিনের ছেলে হাসান মাহমুদ? মায়া এতক্ষণে পিচ্চিটার তখনকার হাসির রহস্য বুঝতে পারে। অজান্তেই ঠোঁটের কোণে হাসি ফুঁটে উঠে ওর।\n” এ তোর কাকিমা! সালাম দে…”\nবাঁধনের কথায় পিচ্চি হাসান মাহমুদ একবারের জন্য মায়ার দিকে ফিরে তাকায়। তারপর কিছু না বলেই হাসতে হাসতে দৌঁড়ে সে স্থান ত্যাগ করে।\n” কত বজ্জাত হয়েছে। লজ্জায় নিজের বউয়ের সামনে নাক কান কাটা গেল। এ মুখ আমি কই লুকাবো।”\nবাঁধন কথাগুলো মনে মনে ভাবছিল, মায়া তখনি জোরে হাসা শুরু করল।\nবাঁধন মুখ কালো করে বলল, হাসির কি হলো এখানে? এভাবে হাসছ কেন? মায়া হাসিটা কোনোরকম থামিয়ে বলল, এমনি!\nএমনি এমনি কেউ পেত্নী মার্কা হাসি দেয়?\nবাঁধনের শেষের কথাটায় কষ্ট পেল মায়া।\nহাসি থামিয়ে পূর্বেকার মতই মুখটা মলিন করে ফেলল। মনে মনে, আগে যখন হাসতাম তখন মনে হতো হাসিতে মুক্তো ঝরে আর এখন যখন হাসছি তখন মনে হচ্ছে পেত্নী হাসে। অভিমানে গাল ফুলিয়ে বাঁধনের পিছুপিছু বাসায় ঢুকলো অভিমানী মায়া।\n\nএকমাত্র পুত্রবধূকে সামনে পেয়েই যেন অর্ধেক সুস্থ হয়ে গেছে বাঁধনের মা। কারো কোনো সাহায্য ছাড়াই হাসতে হাসতে বিছানায় উঠে বসেন ওনি। মায়ার পিঠে হাত বুলাতে বুলাতে বাসার সবার খবর নিচ্ছেন।\nএদিকে মায়ার আসার খবর শুনে বাড়ির পিচ্চিরা মুহূর্তেই এসে জড়ো হয়ে গেলো। সবার মুখেই হাসি। মায়াকে খুঁজে পেয়ে ওরা যেন আকাশের চাঁদ হাতে পেয়েছে। খুশি হওয়ারও একটা কারণ আছে। কারণ, এই বাড়িতে মায়ায় একমাত্র বধূ স্যরি বধূ বললে ভুল হবে, মায়ায় একমাত্র মেয়ে যে আসলে পুরো বাড়ি খুশির আমেজে মেতে উঠে।\nছোট ছোট বাচ্চাদের সাথে মায়ার হাসি, মায়ার কথা পুরনো দেয়ালের চারপাশে প্রতিধ্বণিত হয়ে যখন ফিরে আসে, তখন আশেপাশের মানুষজন বুঝতে পারে এ বাড়িতে মায়া এসেছে। যার মায়ার বাঁধনে দেয়ালগুলোও কেমন আষ্টেপিষ্টে জড়িয়ে আছে। তাইতো মায়ার হাসিতে, কথা বার্তায় এক মোহনীয় সুরের ঝংকার সৃষ্টি করে এ বাড়ির চারপাশের দেয়াল। মায়া এসেছে, এ বাড়ির প্রাণ ফিরে এসেছে সেটাই দেয়ালগুলো জানান দেয়।\nশাশুড়ির সাথে কথা বলা শেষে শ্বশুরের রুমে যায় মায়া। মায়ার পিছুপিছু বিচ্ছুরাও গেল বাঁধনের বাবার রুমে। সালাম দিয়ে কুশলাদি বিনিময় করার একপর্যায়ে মায়া দেখতে পায় পিচ্চিরা যে যার মত বাহিরে চলে যাচ্ছে মন খারাপ করে।\nমায়া শ্বশুরের রুম থেকে বেরিয়ে নিচতলায় দাদী শাশুড়ির রুমে যায়।\n\nএদিকে ফ্রেশ হয়ে দোতলায় বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছিল বাঁধন। আর তার ঠিক নিচেই বাচ্চারা বলাবলি করছে-\n” মায়া’পু বোধ হয় এবার আর আমাদের সাথে খেলবে না।”\nআরেকজন বলছে, খেলবে কিভাবে? দেখিস নি ওর কাশি?\nধূর! ভাল্লাগে না……\nএই শুন! আমার কাকিমারও এমন কাশি হয়ছিল, কাকিমা তখন তুলশী পাতার রস খায়ছে আর ভালো হয়ে গেছে। আমরা যদি মায়া’পুরে তুলসী পাতা এনে দেই?\nআনন্দে একসাথে হুল্লোর দিয়ে সবাই চলে গেল তুলসী পাতার সন্ধানে, উপরে বাঁধন ওদের কথা শুনে আনমনেই হেসে উঠে।\n\nসবার সাথে পরিচয় পর্ব শেষে মায়া যায় ওর ননদ ফারহানার রুমে। খাটে হেলান দিয়ে আধশোয়া অবস্থায় তন্ময় হয়ে কানে হ্যাডফোন গুজে কি যেন শুনছে। হতে পারে ওর হিরোইনের কথার রেকর্ড শুনছে।\nএটা ছাড়া এই অবেলায় শুয়ে আর কিবা করবে? চুপচাপ মায়া ননদের পাশে গিয়ে বসে। ‘বাব্বাহ্! খুব খুশি মনে হচ্ছে। ইঞ্জিনিয়ার সাহেব আজকে কি এমন করল, হুম?\nচটজলদি বিছানা থেকে উঠে বসে বুকে থু, থু দেয় ফারহানা। একটা বড়সড় নিশ্বাস ফেলে বলে উঠে, আপু তুমি? যা ভয়টাই না পাইয়ে দিয়েছিলে!\nমুচকি হেঁসে মায়ার প্রশ্ন, আবহাওয়া চেঞ্জের পূর্বাভাস পাচ্ছি, ব্যাপার কি?\nফারহানা মাথা চুলকিয়ে বলে, কি যে বলো না আপু-ভাবী?!!!\nআপু- ভাবী?!!!\nসেটা আবার কেমন?????\nআর বলো না। আমি তোমাকে আপু কেন ডাকি, এই নিয়ে বুড়িদের কথার শেষ নেই। বুঝতে পারছি না আমি আমার ভাবিকে আপু ডাকি, ওদের কেন এত জ্বলে?\nহা, হা!!!\nএভাবে বলতে নেই বোন, ওরা মুরুব্বী তো। বলতেই পারে। তাই বলে ওনাদের কথায় কষ্ট পেলে চলবে???\nমায়ার কথায় মাথা ঠান্ডা হয় ওর ননদের। তারপর আড্ডায় মেতে উঠে। সন্ধ্যার পর মাগরিবের নামাজ শেষে বাসায় আসে বাঁধন। ওর আকুল নয়ন দুটি যেন এদিক ওদিক তাকিয়ে মায়াকেই খুঁজছিল কিন্তু কোথাও পায়নি বাঁধন মায়াকে।\nরাত্রি তখন ৮টা বাজে। বাঁধন মাকে দেখার বাহানায় মায়াকে খুঁজতে যায়। প্রশ্ন করার আগেই বাঁধনের মা বলে উঠে, সেই সন্ধ্যা থেকে বলছি অসুস্থ শরীরে রান্না করতে হবে না, দাদীর পাশে গিয়ে বস। আমার কথা শুনলো না। গিয়ে দেখে আয় না রান্না কতদূর এগুলো?\nমায়ের কথা শুনে বাঁধন হতবাক!\nএই অসুস্থ শরীরে মায়া রান্না করতে গেছে? একদিন ওনারা রান্না করতে পারল না???\nবাঁধনের প্রশ্নে ওর মায়ের জবাব, যৌথ ফ্যামিলি তো! তাই হয়তো ভাবছে রান্না না করলে যদি কেউ কোনো কথা শুনায় আমাকে, তাই হয়তো গেছে। বাঁধন মায়ের কথার পাল্টা জবাবে দাঁতে দাঁত চেপে বলে, যৌথ ফ্যামিলি দেখেই তো ওর ছাড় আরো বেশী পাওয়ার কথা। আর ওরা যেমন শহর থেকে তোমার অসুস্থতার খবর শুনে এসেছে তেমনি মায়াও দুর শহর থেকে তোমাকেই দেখতে এসেছে। তো ওরা যদি একেকজন একেক দিকে হাত পা গুটিয়ে বসে থাকতে পারে, তাহলে মায়া কেন পারবে না?\nবাঁধনের মা আর কোনো কথা বাড়ায়নি।\nবাঁধনও রাগে হনহনিয়ে কিচেনের দিকে পা বাড়ায়। দুর থেকেই বাঁধন মায়াকে দেখতে পায়। ওড়না কোমড়ে গুজে দিয়ে পাঁকা গৃহিণী বধূদের মত কোমড়ে হাত দিয়ে মাছ ভাজি উল্টাচ্ছে আর একটু একটু পর কপালের ঘাম মুছছে।\nবাঁধনের কল্পনার সংসারে ওর বউ যেভাবে রান্না করত, আজ মায়াকে সেভাবেই রান্না করতে দেখে মুখে একচিলতে হাসি ফুঁটে উঠে বাঁধনের। কেমন যেন ঘোরের মধ্যেই বাঁধন মায়ার অনেকটা কাছে চলে যায়। কাছে গিয়ে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরে কাঁধে থুতনি রাখে।\nঠান্ডায় জমে গেছে মায়ার গলা। ভাঙা গলায়’ই মায়া বলতে থাকে, ছাড়ুন! এখানে আমি একা আসিনি, ফারহানাও এসেছে রান্না করতে। ঘোরের মধ্যেই বাঁধন বলে উঠে, থাকুক ফারহানা।\nততক্ষণে হাতে একটা বাটি নিয়ে ফারহানা এসে হাজির। ই, ই করে লজ্জায় অন্যদিকে চোখ ফিরিয়ে নেয় ফারহানা। এর চেয়ে অধিক লজ্জায় মায়াকে ছেড়ে মাথা চুলকাতে চুলকাতে কিচেন ত্যাগ করে বাঁধন।",
        "series": {
            "id": 53,
            "title": "এক অভিমানীর গল্প",
            "slug": "ek-obhimanir-golpo",
            "url": "https://golpohub.com/series/ek-obhimanir-golpo",
            "thumbnail_url": "https://cdn.golpohub.com/covers/series-ek-ovimaneer-glp-53-a5630b.webp",
            "progress_status": "completed"
        },
        "author": {
            "id": 47,
            "name": "অনামিকা ইসলাম অন্তরা",
            "slug": "anamika-islam-antara",
            "url": "https://golpohub.com/authors/anamika-islam-antara",
            "avatar_url": "https://cdn.golpohub.com/avatars/author-onamika-islam-ontra-47-7e302d.webp",
            "bio": "অনামিকা ইসলাম অন্তরা বাংলা সাহিত্যের একজন সংবেদনশীল ও সমকালীন কথাশিল্পী। মানবমনের নিভৃত অনুভূতি, যৌথ ও মধ্যবিত্ত পারিবারিক মূল্যবোধ এবং তরুণ প্রজন্মের মনস্তাত্ত্বিক টানাপোড়েনকে তিনি গভীর মমতায় রূপ দেন তাঁর কথাসাহিত্যে।\n\nতাঁর লেখার স্বকীয় বৈশিষ্ট্য হলো সাবলীল ভাষাভঙ্গি, প্রাঞ্জল সংলাপ এবং বাস্তবসম্মত চরিত্রের মনস্তাত্ত্বিক বিস্তার। বিশেষ করে ক্যাম্পাসকেন্দ্রিক বন্ধুত্ব, গভীর বিষাদ এবং হৃদয়ের অব্যক্ত অনুরাগকে এক অপূর্ব কাব্যিক আবহে ফুটিয়ে তোলায় তিনি বিশেষভাবে প্রশংসিত।\n\n'নিশ্চুপ বালিকা' উপন্যাসে তিনি সামাজিক বৈষম্য, পারিবারিক অসম্মান এবং এক তরুণীর নীরব আত্মত্যাগের বিপরীতে নিঃস্বার্থ প্রেমের যে উজ্জ্বল আলেখ্য রচনা করেছেন, তা পাঠকদের হৃদয়ে দীর্ঘস্থায়ী দাগ কাটে।",
            "series_count": 0,
            "meta": {
                "bio": "অনামিকা ইসলাম অন্তরা বাংলা সাহিত্যের একজন সংবেদনশীল ও সমকালীন কথাশিল্পী। মানবমনের নিভৃত অনুভূতি, যৌথ ও মধ্যবিত্ত পারিবারিক মূল্যবোধ এবং তরুণ প্রজন্মের মনস্তাত্ত্বিক টানাপোড়েনকে তিনি গভীর মমতায় রূপ দেন তাঁর কথাসাহিত্যে।\n\nতাঁর লেখার স্বকীয় বৈশিষ্ট্য হলো সাবলীল ভাষাভঙ্গি, প্রাঞ্জল সংলাপ এবং বাস্তবসম্মত চরিত্রের মনস্তাত্ত্বিক বিস্তার। বিশেষ করে ক্যাম্পাসকেন্দ্রিক বন্ধুত্ব, গভীর বিষাদ এবং হৃদয়ের অব্যক্ত অনুরাগকে এক অপূর্ব কাব্যিক আবহে ফুটিয়ে তোলায় তিনি বিশেষভাবে প্রশংসিত।\n\n'নিশ্চুপ বালিকা' উপন্যাসে তিনি সামাজিক বৈষম্য, পারিবারিক অসম্মান এবং এক তরুণীর নীরব আত্মত্যাগের বিপরীতে নিঃস্বার্থ প্রেমের যে উজ্জ্বল আলেখ্য রচনা করেছেন, তা পাঠকদের হৃদয়ে দীর্ঘস্থায়ী দাগ কাটে।",
                "pen_name": "অনামিকা ইসলাম অন্তরা",
                "aliases": [
                    "Anamika Islam Antara",
                    "অনামিকা অন্তরা",
                    "Antara"
                ]
            },
            "timestamps": {
                "created_at": null,
                "updated_at": null
            }
        },
        "navigation": {
            "previous_episode": {
                "id": 1919,
                "ep_number": 7,
                "title": "অচেনা গন্তব্যে আকস্মিক মুখোমুখি",
                "slug": "ek-obhimanir-golpo-s1-ep7",
                "url": "https://golpohub.com/episodes/ek-obhimanir-golpo-s1-ep7",
                "thumbnail_url": "https://golpohub.com/assets/images/og.jpg"
            },
            "next_episode": {
                "id": 1921,
                "ep_number": 9,
                "title": "দাদীমার ওষুধ ও তোতলানো ক্ষমা",
                "slug": "ek-obhimanir-golpo-s1-ep9",
                "url": "https://golpohub.com/episodes/ek-obhimanir-golpo-s1-ep9",
                "thumbnail_url": "https://golpohub.com/assets/images/og.jpg"
            }
        }
    }
}