{
    "_links": {
        "html": "https://golpohub.com/episodes/ek-somudro-prem-s1-ep2",
        "json": "https://golpohub.com/episodes/ek-somudro-prem-s1-ep2?format=json",
        "markdown": "https://golpohub.com/episodes/ek-somudro-prem-s1-ep2?format=md",
        "rss": "https://golpohub.com/episodes/ek-somudro-prem-s1-ep2?format=rss",
        "atom": "https://golpohub.com/episodes/ek-somudro-prem-s1-ep2?format=atom"
    },
    "seo": {
        "canonical_url": "https://golpohub.com/episodes/ek-somudro-prem-s1-ep2",
        "title": "এক সমুদ্র প্রেম পর্ব ২ - অন্ধকার রাতে গোপন যত্ন | Ek Somudro Prem Part 2",
        "description": "পড়ুন এক সমুদ্র প্রেম পর্ব ২। মধ্যরাতে খাবার টেবিলে ধূসরের কঠিন শাসন ও নিঃশব্দ মায়ার রুদ্ধশ্বাস মুহূর্ত।",
        "keywords": "এক সমুদ্র প্রেম পর্ব ২, ek somudro prem porbo 2, ek somudro prem part 2, ak somudro prem episode 2, ek somudro prem part 2 link, পিউ, ধূসর, সাদিফ, পুষ্প, bangla uponnash porbo 2",
        "image_url": "https://cdn.golpohub.com/covers/episodes/chapter-492-79e785.webp",
        "schema": {
            "@context": "https://schema.org",
            "@graph": [
                {
                    "@type": "Chapter",
                    "name": "অন্ধকার রাতে গোপন যত্ন",
                    "position": 2,
                    "description": "গভীর রাতে খাবার টেবিলে অতর্কিত ধরা পড়ে যায় পিউ। শাসনের গম্ভীর স্বরের মাঝেও ধূসর কেন নিজ হাতে খাবার ও ব্যথানাশক ওষুধ এগিয়ে দেয়? তার এই দ্বৈত রূপ কি পিউয়ের মনে নতুন কোনো আশার আলো জ্বালাবে?",
                    "url": "https://golpohub.com/episodes/ek-somudro-prem-s1-ep2",
                    "inLanguage": "bn",
                    "timeRequired": "PT19M",
                    "datePublished": "2026-08-27T22:01:39+00:00",
                    "dateModified": "2026-09-06T00:31:35+00:00",
                    "wordCount": 3022,
                    "image": "https://cdn.golpohub.com/covers/episodes/chapter-492-79e785.webp",
                    "isPartOf": {
                        "@type": [
                            "BookSeries",
                            "CreativeWorkSeries"
                        ],
                        "name": "এক সমুদ্র প্রেম",
                        "url": "https://golpohub.com/series/ek-somudro-prem"
                    },
                    "author": {
                        "@type": "Person",
                        "name": "নুসরাত সুলতানা সেঁজুতি",
                        "url": "https://golpohub.com/authors/nusrat-sultana-sejuti"
                    }
                },
                {
                    "@type": "BreadcrumbList",
                    "itemListElement": [
                        {
                            "@type": "ListItem",
                            "position": 1,
                            "name": "Golpo Hub",
                            "item": "https://golpohub.com"
                        },
                        {
                            "@type": "ListItem",
                            "position": 2,
                            "name": "সিরিজসমূহ",
                            "item": "https://golpohub.com/series"
                        },
                        {
                            "@type": "ListItem",
                            "position": 3,
                            "name": "এক সমুদ্র প্রেম",
                            "item": "https://golpohub.com/series/ek-somudro-prem"
                        },
                        {
                            "@type": "ListItem",
                            "position": 4,
                            "name": "অন্ধকার রাতে গোপন যত্ন",
                            "item": "https://golpohub.com/episodes/ek-somudro-prem-s1-ep2"
                        }
                    ]
                }
            ]
        }
    },
    "filters": [],
    "data": {
        "id": 492,
        "ep_number": 2,
        "title": "অন্ধকার রাতে গোপন যত্ন",
        "slug": "ek-somudro-prem-s1-ep2",
        "url": "https://golpohub.com/episodes/ek-somudro-prem-s1-ep2",
        "reading_time": 19,
        "thumbnail_url": "https://cdn.golpohub.com/covers/episodes/chapter-492-79e785.webp",
        "yt_video_id": "d1LhmtdTLQM",
        "yt_video_url": "https://www.youtube.com/watch?v=d1LhmtdTLQM",
        "timestamps": {
            "published_at": "2026-08-27T22:01:39+00:00",
            "updated_at": "2026-09-06T00:31:35+00:00"
        },
        "meta": {
            "word_count": 3022,
            "chapter_number": 2,
            "seo_title": "এক সমুদ্র প্রেম পর্ব ২ - অন্ধকার রাতে গোপন যত্ন | Ek Somudro Prem Part 2",
            "seo_description": "পড়ুন এক সমুদ্র প্রেম পর্ব ২। মধ্যরাতে খাবার টেবিলে ধূসরের কঠিন শাসন ও নিঃশব্দ মায়ার রুদ্ধশ্বাস মুহূর্ত।",
            "keywords": "এক সমুদ্র প্রেম পর্ব ২, ek somudro prem porbo 2, ek somudro prem part 2, ak somudro prem episode 2, ek somudro prem part 2 link, পিউ, ধূসর, সাদিফ, পুষ্প, bangla uponnash porbo 2",
            "characters_involved": [
                "পিউ",
                "ধূসর",
                "সাদিফ",
                "পুষ্প"
            ]
        },
        "content": "<p>“ওঠ!”</p>\n<p>সেই স্বর,যা শুনলে আমার হৃদপিণ্ড ধ*ড়ফড়িয়ে ওঠে। ধূসর ভাই ভীষণ রে*গে থাকলে আওয়াজ এমন গুরুগম্ভীর শোনায়। ওনাকে দেখে আমি শ*ঙ্কায় মিইয়ে যাই। দাঁড়াতে গিয়ে টের পাই কোমড়ে চিনচিনে ব্যাথার। হঠাৎ পরায়  লেগেছে খুব। ঠিক কতদিন লাফঝাপ দিতে পারব না কে জানে!</p>\n<p>” কথা কানে যায়নি তোর,উঠতে বলেছি।”</p>\n<p>ধূসর ভাইয়ের কঠিন কণ্ঠ শুনে তৎপর হয়ে উঠতে গেলাম। একইরকম য*ন্ত্রনায় চোখমুখ কুঁচকে এলো।  বড্ড বেগ পুহিয়ে সোজা হয়ে  দাঁড়ালাম । বাংলায় একটা কথা আছেনা?</p>\n<p>” যেখানে বাঘের ভ*য়, সেখানেই সন্ধ্যে হয়।”</p>\n<p>ঠিক তাই তাই ঘটল না? এ যেন জীবন থেকে নেয়া হলো আজ।</p>\n<p>যে মানুষটার ভ*য়ে আমি নিজের বাড়িতে চোরের মত হাটাহাটি করলাম এতক্ষন,শেষমেষ তার খ*প্পরে পরলামই পরলাম। বাহ! ভাগ্যের কী বিরুদ্ধাচারণ!</p>\n<p>” কটা বাজে?”</p>\n<p>ভাবুক আমি কিঞ্চিৎ নড়ে উঠলাম। চোখ তুলে ওনার দিকে তাকালাম। ড্রিম লাইটের সবুজ আলোয় ওনার শ্যামলা চেহারা স্পষ্ট বোঝা গেল।  সাথে বোঝা গেল ওনার কব্জিতে বাধা সোনালী রঙের চকচকে ঘড়িটাও। আচ্ছা,</p>\n<p>যার নিজের কাছেই ঘড়ি আছে,তার কেন আমার থেকে সময় জানতে হবে?</p>\n<p>মুখ ফস্কে বলেও ফেললাম,</p>\n<p>” আপনার কাছেইতো ঘড়ি আছে! ”</p>\n<p>” তুই বোধ হয় আবার মা*র খেতে চাইছিস! ”</p>\n<p>আমার কলিজা ছ*লাৎ করে লাফিয়ে ওঠে ওনার দাঁত চিবোনো কথাটায়।</p>\n<p>মনে করিয়ে দেয়,আজ বিকেলেই ওনার হাতে প্রাপ্ত সেই দাবাং চ*ড়ের কথা।</p>\n<p>“ববারোটা বাজে।”</p>\n<p>তোঁতলানো জবাব আমার৷ উনি প্রশ্ন করলেন,</p>\n<p>” এ বাড়িতে রাতের খাবারের সময় কখন?”</p>\n<p>” দশটা।”</p>\n<p>” তাহলে এক ঘন্টা কোথায় ছিলিস তুই?”</p>\n<p>ধূসর ভাই বাজখাই ধম*ক দিলেন। আমি মিনমিন করে বললাম,</p>\n<p>” ঘুমোচ্ছিলাম। ”</p>\n<p>ধূসর ভাই পুরু কণ্ঠে  হুশিয়ারী দিলেন,</p>\n<p>” একদম মিথ্যে বলবিনা! ভেবেছিলি ঘরের ভেতর ঘাপটি মেরে থাকলেই বেঁ*চে যাবি? ”</p>\n<p>আমি ঠোঁট কা*মড়ে কথা খুঁজলাম। ওনার কথা পুরোপুরি মিথ্যে নয়। আমি তো ঘরের দরজা সেজন্যেই লাগিয়েছিলাম যাতে ধূসর ভাই বাড়ি ফিরলেও আমার রুমে ঢুকতে না পারেন।  কিন্তু ঘুমিয়ে যাব সেটাও ভাবিনি।</p>\n<p>হঠাৎই ধূসর ভাই সেই টেনে নেয়া চেয়ারখানা এগিয়ে দিলেন। আমি তাকানো মাত্র চোখ দিয়া ইশারা করে বললেন,</p>\n<p>” বোস।”</p>\n<p>শব্দ কম,অথচ নিরেট কণ্ঠস্বর। আমি দ্বিধাদ্বন্দে ভুগলাম বসব কী না!</p>\n<p>ঠিক তখনই উনি দ্বিতীয় ধম*ক ছুড়লেন,</p>\n<p>” বোসতে বলেছি না তোকে? বোস!”</p>\n<p>হুটোপুটি করে তড়িৎ বেগে বসে পরলাম আমি। আরেকটু হলে রুহুটাই উড়ে যেত। এরপর আরেকটা চেয়ার ঘুরিয়ে ভাইয়া আমার সামনে বসলেন। একদম মুখোমুখি।  ব্যাস,ওমনি শুরু হলো আমার বুকের দুরুদুরু স্বভাব। হৃদপিণ্ড সামনে -পিছনে সবদিকে সমান তালে লাফাচ্ছে। আমাকে নিয়ে ওনার মিটিং সভা বসানো খুব একটা স্বাভাবিক বিষয় নয়। নিশ্চয়ই কিছু ঘটাবেন। নাহলে এমন কিছু বলবেন যাতে আমি চেয়ার ছেড়ে উলটে পরি।</p>\n<p>আমার হাজারটা ভাবনার মধ্যেই ধূসর ভাই নরম কণ্ঠে জিজ্ঞেস করলেন,</p>\n<p>” তুই কি সত্যিই ওই ছেলেটাকে ভালোবাসিস?”</p>\n<p>হুশ! পাগল হলেন? এই ছোট্টখাট্টো জীবনে মানুষ কী ওরকম ভুল করে?  আপনার মত একটা জলজ্যান্ত আইটেম রেখে আমি ওমন গোবর-গনেশের প্রেমে পরব কোন দু;খে?</p>\n<p>এই কথাটাই আমার জিভ ঠেলে বের হলোনা। চেষ্টা করলাম, কিন্তু হলোনা।  উলটে অবশ অবশ ভাব নিয়ে ঝিমিয়ে থাকল মুখগহ্বরে। ধূসর ভাই একদম আমার সম্মুখে বসে আছেন। যেখানে ওনাকে দেখলেই আমার বুকে একশ একটা হাতুড়ি পে*টা হয়,সেখানে কী অবস্থা আমার এখন,বলার অপেক্ষা রাখেনা নিশ্চয়ই!  সত্যি বলতে আমার ভীষণরকম নার্ভাস লাগছে। সাথে লজ্জ্বা লজ্জা পাচ্ছি।</p>\n<p>” তোকে কিছু জিজ্ঞেস করেছি পিউ!”</p>\n<p>ফের ওনার দ*ড় আওয়াজ ভেসে এলো। আর আমার মনের প্রেম প্রেম ভাবটুকু পা*লিয়ে গেল দূরে। ঠিক এরকমটাই প্রত্যেকবার আমার সঙ্গে করছেন উনি। যখনই ওনাকে নিয়ে দারুন কিছু ভাবতে বসি এমন ভাবে ডাকবেন,তাকাবেন কথা বলবেন যেন কী না কী পা*প করেছি। আমার  সব ভালোবাসা বেলুনের মত চুপসে দিতে ওনার জুড়ি নেই।</p>\n<p>আমার কাঁধে পুরোনো সেই জেদটা চেপে বসল। ধূসর ভাইকে আরেকটু বাজিয়ে দেখতে ওপর নিচ মাথা দুলিয়ে বললাম ” হ্যাঁ “।</p>\n<p>ভাইয়া তৎক্ষনাৎ ঘু*ষি বসালেন লোহার চেয়ারের হাতলের ওপর। ভী*তশশ*স্ত্র হয়ে কেঁ*পে উঠলাম আমি। চমকে তাকালাম ওনার দিকে। উনি আমাকেই দেখছেন। চাউনীতে রু*ষ্টতা,ক্ষু*ব্ধতা স্পষ্ট।  ঠিক মিনিট খানেক চেয়ে রইলেন। সুনিপুণ প্রণিধানে  নিরীক্ষন করলেন যেন। আস্তেধীরে খেয়াল করলাম,ওনার ক্রো*ধিত দৃষ্টি বদলাচ্ছে,শিথিল হচ্ছে। ধূসর ভাই হঠাৎই মুচকি হেসে বললেন,</p>\n<p>” বোকা মেয়ে! মিথ্যে বলতেও যোগ্যতা লাগে,যেটা তোর নেই।”</p>\n<p>উনি উঠে দাঁড়ালেন।</p>\n<p>কৌতুহলে আমার ভ্রুঁ বেঁকে এলো। মানে,এটা কেমন কথা?</p>\n<p>” আমি মিথ্যে বলেছি? কী মিথ্যে বলেছি আমি?”</p>\n<p>ধূসর ভাই যাওয়ার জন্যে পা বাড়ালেন। আমার কথায় ফিরে তাকিয়ে বললেন,</p>\n<p>” ভদ্রমেয়ের মত চুপচাপ খেয়ে ঘুমিয়ে পর। এই কথাটা দ্বিতীয় বার বলতে হলে তোর কপালে দুঃ*খ আছে পিউ।”</p>\n<p>শীতল হু*মকি দিয়ে গেলেন উনি। আমি তব্দা খেয়ে চেয়ে রইলাম।</p>\n<p>যা ভাবলাম তার কিছুই হলোনা। ভয়ে সি*টিয়ে থাকা আমাকে উনিতো শাস্তিই দিলেন না। আমার তনুমন কালো মেঘে ভরে উঠল। অন্যকাউকে ভালোবাসার কথা বলেও  ভাইয়ার এই সহজ সুলভ ভঙ্গি আমি কিছুতেই মেনে নিতে পারলাম না। কেন উনি কোনও প্রতিক্রিয়া দেখালেন না? তখনকার ওই থা*প্পড়টাকেও ভীষণ হাল্কা অনুভুত হলো। আমি যদি আপুর সামনেও বলতাম কাউকে ভালোবাসি সেও নিশ্চয়ই এইভাবে আমায় মারতো,শাসন করত? ধূসর ভাই কী সে অর্থেই একজন ভাইয়ের দায়িত্ব পালন করলেন? উনি সত্যিই আমায় ভালোবাসেন না?</p>\n<p>আমার খিদে পালিয়ে গেল। উবে গেল গাল ব্যা*থা।চোখের কোটর ভরে উঠল নিজের প্রতি অভিমানে,রাগে। এক তরফা প্রেমের যন্ত্রনা ভয়ানক। যে এই ম*রন ফাঁ*দে পা দেয় সে ছাড়া কেউ বুঝবেনা সেই অনুভূতি। আমার এক সমুদ্র প্রেম ফিকে হয়ে গেল আজ। চোখ থেকে জলটা গাল অবধি আসার আগেই মুছে নিলাম। চুপচাপ ঘরের জন্যে পা বাড়ালাম।</p>\n<p>“যদি একটিবারও পারতো,</p>\n<p>সব চিন্তা ভুলে আসতে,</p>\n<p>আমি সব হারাতাম তাকে পেতে হায়!</p>\n<p>কবে পায়ের শিকল খুলবে?</p>\n<p>আর প্রেমের পর্দা উড়বে?</p>\n<p>আমি চেয়ে থাকি সেই দিনের সীমানায়!</p>\n<p>বোঝেনা,সে বোঝেনা….</p>\n<p>বোঝেনা সে বোঝেনা……</p>\n<p>কানে হেডফোন গুঁজে ফুল ভলিউমে গান শুনছিলাম। সাথে হৃদয় তোলপাড় করে কা*ন্না পাচ্ছিল। আসলেই সে বোঝেনা। এই গান অরিজিৎ আমার জন্যেই গেয়েছে। ধূসর ভাইয়ের শা*স্তি না পেয়ে আমার ব্য*থিত হৃদয় ডুব দিয়েছে কূল হারানো অথৈ সাগরে। কেন যে ওই মানুষটার প্রেমে পরতে গেলাম!</p>\n<p>হঠাৎ মনে হলো দরজা ধাক্কাচ্ছে কেউ। আমি কানথেকে একটা হেডফোন সরিয়ে নিশ্চিত হতে চাইলাম। পরপর আবার জো*ড়াল করাঘা*তের শব্দ। তৎক্ষনাৎ উঠে দরজা খুলতে এগোলাম। এত রাতে আমার ঘরে কে আসবে?</p>\n<p>ওপাশের মানুষটির ভীষণ তাড়া। কী ব্যস্ত হাতে ধাক্কাচ্ছে! তার ব্যস্ততাও আমাকে ছুঁয়ে দিলো। তাড়াহুড়ো করে দরজা খুলতই আমার কাঙ্ক্ষিত মানুষটির দেখা মিলল।  ধূসর ভাই! পড়নে কালো হাফ হাতা টিশার্ট,আর চেক চেক ট্রাউজারে যেন পুরো টসটসে স্ট্রবেরি !  আমার এতক্ষনের মনঃক*ষ্ট সব ছুট্টে পালাল ধূসর ভাইয়ের রুপ দেখে। আহা কী সুন্দর আমার ধূসরভাই!</p>\n<p>আহ্লাদে গলেগলে পরতে গিয়েও আমি তটস্থ হয়ে দাঁড়ালাম। এতরাতে উনি আমার ঘরে কেন?</p>\n<p>ঠিক তখনি ভাইয়া গম্ভীর কণ্ঠে বললেন,</p>\n<p>” সামনে থেকে সর।”</p>\n<p>আমার ভ্রুঁদ্বয় বেকে এলো। সামনে থেকে সর মানে কী? এটা তো আমার ঘর। আমি দাঁড়িয়ে থাকব যতক্ষন ইচ্ছে ততক্ষন। অথচ এই কথা ওনার সামনে উচ্চারন করার ধৃষ্টতা আমার কোনও কালেই ছিলনা। বাধ্য মেয়ের মত একপাশে সরে দাড়ালাম তাই।</p>\n<p>ধূসর ভাইয়া ভেতরে ঢুকলেন।  তখনি খেয়াল পরল ওনার হাতের ট্রের দিকে। আমার চোখ বেরিয়ে এলো প্রায় যখন সেখানে খাবার দেখলাম।</p>\n<p>” দরজা লাগা।</p>\n<p>না থাক,এমনি চাপিয়ে দে।”</p>\n<p>যা যা বললেন, আমি তাই তাই করলাম। উনি সোজা গিয়ে বসলেন বিছানায়। ট্রে সামনে রেখে আমার দিকে ঘাড় কাত করে তাকালেন। ওমনি আমার মনের আঙিনায় বিদ্যুৎ চমকালো। এইভাবে কেউ তাকায়? খু*ন হব নির্ঘাত।</p>\n<p>উনি কোমল কণ্ঠে বললেন,</p>\n<p>” এদিকে আয়!”</p>\n<p>ডাক শুনে আমার এক মুহুর্ত দেরি করার ইচ্ছে হলো না। মন চাইল এক ছুট্টে ওনার কাছে যেতে। দ্রুত হাটতে গিয়েই বাধালাম বি*পদ। মেঝেতে বিছানো পাপসে  হো*চট খেলাম, উলটে প*রতে নিলাম। ধূসর ভাই আগত পরিস্থিতি অনুমান করতে পেরে ত্রস্ত ভঙিতে এগিয়ে এলেন আমাকে ধরতে। কিন্তু লাভের লাভ হলোনা। উনি আমাকে সামলে নেয়ার আগেই আমি হুমড়ি খেয়ে পরলাম ওনার ওপর। ফলাফল, দুজন একসঙ্গে মেঝেতে। ব্যা*থা জায়গায় ফের ব্যা*থা পেয়ে আমার জ্ঞান হা*রানোর উপক্রম হলো। গগনবি*দারী চিৎ*কার ছোড়ার কথা ছিল। অথচ আমি,ইহজগতের সব কিছু ভুলে বসলাম,যখন বোধগম্য হলো আমি আসলে ধূসর ভাইয়ের বুকের ওপর রয়েছি। আমার ঠোঁট দুটো আলাদা হয়ে গেল নিজেদের জোর খাটিয়ে৷ ধূসর ভাইয়ের এত কাছাকাছি এসে কেমন কেমন লাগছে। ইশ!  ম*রে যাব না তো খুশিতে?</p>\n<p>” তুই ঠিক আছিস?”</p>\n<p>আমি যখন ক্যাবলার মত তাকিয়ে ধূসর ভাই এই প্রশ্নটাই ছুড়ে দিলেন। আমি উত্তর হিসেবে মাথা দোলালাম।</p>\n<p>আপনাকে কীভাবে বলব ধূসর ভাই, ভেতরে ভেতরে একদম ঠিক নেই। আমার হার্টবিট যে দশগুন জোরে চলছে! সে খবর রাখলে এই প্রশ্ন করতেই পারতেন না।</p>\n<p>” ওঠ তাহলে। ”</p>\n<p>আমি নির্লজ্জ্বের মত আওড়ালাম,</p>\n<p>” কেন? আমার তো বেশ ভালোই লাগছে,ইচ্ছে করছে সারাজীবন এভাবেই থাকি।”</p>\n<p>ধূসর ভাই তাজ্জব বনে তাকালেন।  ভ্রুঁ গুঁছিয়ে বললেন,</p>\n<p>” থা*প্পড় খাবি?”</p>\n<p>আমার সম্বিৎ ফিরল।</p>\n<p>নিজের কথা খেয়াল পরতেই নির্বোধ বনে গেলাম। লজ্জ্বায় হাঁ*সফাঁ*স করে যত্র উঠে দাঁড়ালাম। পরপর ধূসর ভাই উঠে পরলেন। আমি ওনার দিকে চোখ তুলে দ্বিতীয় বার তাকানোর সা*হস পেলাম না।  কুন্ঠায় মরিমরি অবস্থা হলো। মাথাটা ঠুকে দিতে ইচ্ছে করল দেয়ালে। কী বললাম এটা? ধূসর ভাই কী</p>\n<p>ছ্যা*চড়াই না ভাবলেন আমায়। ধ্যাত!</p>\n<p>” একটু সাবধানে চলতে পারিস না? এক্ষুনি একটা অঘ*টন ঘটলে কী হতো?”</p>\n<p>” অঘ*টন তো ঘটেই গেছে। এইযে আপনি আমার মন নিয়ে ছিনিমিনি খেলছেন এর থেকে বড় অঘট*ন আর হয় বলুন তো?</p>\n<p>” হা করে তাকিয়ে আছিস কেন?</p>\n<p>আমার ধ্যান কেঁটে গেল। মেরুদণ্ড সোজা করে চোখ নামালাম। ধূসর ভাই আরেকদিক তাকিয়ে মুখ ফুলিয়ে শ্বাস ফেললেন। বললেন,</p>\n<p>” তোকে বলেছিলাম খেয়ে রুমে আসতে,না খেয়ে এলি কেন?”</p>\n<p>ধূসর ভাই কথা খুম কম বলেন তা নয়। যতটুকু দরকার ততটুকু। কিন্তু একটু রাগলেই ওনার ভরাট কন্ঠ আরো ভারী শোনায়।</p>\n<p>আর যা শুনলে আমার প্রান হয় ওষ্ঠাগত।</p>\n<p>এখন কী উত্তর দেব আমি? আপনার শো*কে কাতর হয়ে খিদে মিটে গেছে বলে দেব? না, না আরেকটা ছ্যাচড়ামো হবে তারপর। আস্তে করে বললাম,</p>\n<p>” খেতে ইচ্ছে করেনি।”</p>\n<p>আমি তখনও ওনার দিকে তাকাইনি। উনি আবার গিয়ে বসলেন আগের জায়গায়। ডাকলেন,</p>\n<p>” এখানে বোস।”</p>\n<p>না তাকিয়ে আস্তেধীরে গিয়ে বসলাম ওনার ঠিক সামনে।  ধূসর ভাই প্লেট হাতে ধরে কিছুক্ষন থম মেরে থাকলেন। যেন ভাবলেন গভীর কিছু।</p>\n<p>আমার মন আনচান আনচান করছিল। উনি কি আমায় খাইয়ে দেবেন?</p>\n<p>কিন্তু না। উনি তা করলেন না। উলটে প্লেট টা আমার দিকে ঠেলে দিয়ে বললেন,</p>\n<p>” খেয়ে নে।”</p>\n<p>আরো একবার ঝরঝরে কাঁচের ন্যায় মনটা ভে*ঙে দিলেন উনি। বললাম,</p>\n<p>” পরে খাব।”</p>\n<p>ধূসর ভাই চোখ পাকিয়ে বললেন,</p>\n<p>” এক্ষুনি।”</p>\n<p>আমার অল্পবিস্তর জেদটা টিকলোনা আর। ধূসর ভাই হাত টেনে নিয়ে গ্লাস থেকে পানি ঢেলে ধুইয়ে দিলেন। উপায় না পেয়ে  ভাত মেখে মুখে দিলাম। যদি খাইয়ে না দেবে,নাহলে ঢং করে খাবার আনার মানে ছিল?</p>\n<p>আমি তীব্র অনিহা নিয়ে খাবার চিবোতে চিবোতে ওনার দিকে তাকালাম। যেই মাত্র চেয়েছি উনি চট করে দৃষ্টি ফেরালেন। আমি সতর্ক হলাম। উনি কী তাহলে এতক্ষন আমাকেই দেখছিলেন?</p>\n<p>ধূসর ভাই পকেট থেকে ফোন বের করলেন। উঠে গিয়ে চেয়ারে বসলেন। আর আমি খেতে খেতে  একধ্যানে চেয়ে থাকলাম ওনার সুন্দর মুখের দিকে। আমাদের পরিবারে সবাই সুদর্শন বলতে সাদিফ ভাইকে গননা করে। ফর্সা, গোলগাল,স্বাস্থ্যও উন্নত। কিন্তু আমার? আমার কাছে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ সুতনু পুরুষটি হলেন ধূসর ভাই। ওনার গায়ের রং শ্যামলা। অথচ বাকী সব,বাকী সবটা মনকাড়া। আমার কাছে ধূসর ভাই মানে আস্ত একটা ডেইরি মিল্ক!</p>\n<p>কথায় বলেনা,পাগলের সুখ মনে মনে? আমার হয়ত ওই রো*গটাই হয়েছে। ধূসর ভাই আমায় ধম*কালেও আমার মনে হয়,উনি ভালোবেসে ধম*ক দিলেন। উফ! আমি আর বেশিদিন বাঁচ*বনা। এই নি*ষ্ঠুর ধূসরের প্রেমে শ*হীদ হবে কনফার্ম। আমি খেয়েদেয়ে প্লেট গুছিয়ে টেবিলে রাখলাম।</p>\n<p>” শেষ খাওয়া।”</p>\n<p>ধূসর ভাই না তাকিয়েই বললেন,</p>\n<p>” শুধুমাত্র প্রথমবার তোকে মে*রেছি বলে খাবার এই অবধি এনেছিল। তাই বলে ভাবিস না আমি বলব যে মে*রে ভুল করেছি। তোর কাজ হলো সোজা কলেজে যাবি,আর তেমন ভাবেই বাসায় ফিরবি। মাথা উচু করে কোনও ছেলের দিক তাকালেও আমার থেকে কিন্তু খারাপ কেউ হবেনা পিউ।”</p>\n<p>ওনার শান্ত অথচ ক*ড়া কণ্ঠ৷ আমার ভেতরটা ছেঁয়ে গেল তুলতুলে ভালো লাগায়। অথচ কপাল গুঁটিয়ে বললাম,</p>\n<p>” আপনি তো আর কাউকে এতটা ক*ড়াক*ড়ি দেননা ধূসর ভাই। এত গুলো ভাইবোনের মধ্যে কী আমাকেই খুঁজে পেলেন?”</p>\n<p>মুখে কথাটা বললেও আমি খুব করে চাইলাম,ধূসর ভাই একবার বলুক,</p>\n<p>” হ্যাঁ পেলাম।কারন আমি তোকে ভালোবাসি আর কাউকে নয়।”</p>\n<p>কিন্তু বরাবরের মত আমাকে হ*তাশ করে দিয়ে উনি বললেন,</p>\n<p>” কারন তোর মত বাকিরা বাঁদড় নয় যে প্রেম পত্র হাতে করে বাড়ি ফিরবে। তাছাড়া…</p>\n<p>উনি থামতেই আমি উৎসাহ নিয়ে বললাম,</p>\n<p>” তাছাড়া…?</p>\n<p>ধূসর ভাই তাকালেন। বললেন,</p>\n<p>”  চাচ্চু ঢাকার বাইরে আছেন। উনি যতদিন না ফিরছেন তোদের দায়িত্ব আমার। ঢুকেছে মাথায়?”</p>\n<p>ফাঁ*টা বেলুনের মত হয়ে এলো আমার চেহারটা। তবুও মাথা নাড়লাম, মানে সব বুঝেছি। কিন্তু অ*ন্ধকার মুখটা কী আর লুকানো যায়? হঠাৎই ধূসর ভাই উঠে এলেন আবার। ওমনি আমার  মনের মধ্যে বসন্তের কোকিল কুহু কুহু গান ধরল। আমাকে জানাল,</p>\n<p>” ধূসর ভাই তোকে চুঁমু খাবেনা তো?</p>\n<p>সিনেমায়তও এমন অনেক হয়। বেহায়ার মত ভাবতেই লজ্জ্বায় আড়ষ্ট আমি এইটুকুন হয়ে যাই। মাথা নামিয়ে নেই। কিন্তু না,ধূসর ভাই বিছানা ঘেষে দাড় করানো টেবিলের ড্রয়ার টেনে খুললেন। শব্দ পেয়ে চোখ তুললাম। এই ঘটনায় রীতিমতো নিজের কাছেই নিজেকে নির্বোধ প্রমান করে ভীষণ রকম আ*হত হলাম। ধূসর ভাই খুঁজে খুঁজে  ওষুধের একটা পাতা বের করলেন। সেখানে থেকে  একটা ট্যাবলেট বের করে আমার হাতে দিয়ে বললেন,</p>\n<p>” খা।”</p>\n<p>আমি দীর্ঘশ্বাস ফেললাম। প্রত্যেকবার ভাবি এক,হয় আরেক। ধূসর ভাই এমন এমন চমকে দেয়া কাজ করেন আমার আশা ভরসা সব ধূলিসাৎ করতে যথেষ্ট তা। উনি গ্লাসে পানি ঢেলে হাতে দিলেন। আমি আর কোনও দ্বিরুক্তি না করে ওষুধ খেয়ে নিই। উনি বললেন,</p>\n<p>” রাত অনেক হয়েছে! ঘুমো এবার। সকাল হতে হতে  ব্যা*থা সেড়ে যাবে।”</p>\n<p>ঠিক তখনি আমার টনক নড়ল। এটা কী ব্যাথার ওষুধ ছিল? মানে আমি এতক্ষন ওনার ভাবনায় এতটাই মজে ছিলাম খেয়াল  ও করিনি। এভাবে তো বি*ষ খাওয়ালেও বুঝবনা। ব্যাথার ওষুধ? এর মানে ধূসর ভাই আমি না বলতেই বুঝেছেন আমি তখন পরে গিয়ে ব্যা*থা পেয়েছি?</p>\n<p>আমি আশ্চর্য বনে তাকালাম। ধূসর ভাই বেরিয়ে গেলেন ঘর থেকে। আমার সাদা কালো চেহারাটা পূর্নিমার চাঁদের ন্যায় ঝল্কে উঠল। কোথাও গিয়ে সেই পুরোনোও প্রত্যাশা নড়ে উঠল ভেবে,</p>\n<p>” আমি না বলতেই যদি উনি আমার ব্যা*থা বোঝেন,তবে ভালোবাসাটাও বুঝবেন। ”</p>\n<p>সেই রাতটা আমার ভালো কাটার কথা ছিল। অথচ কাটেনি। ধূসর ভাইয়ের দিয়ে যাওয়া ছোট্ট একখানা আশার আলোয় ঝল*সে গেছে আমার রাতের ঘুম। ছট*ফট করতে করতে শেষ রাতে ঘুমিয়েছি। উঠেছিও বেলা করে। ঠিক কলেজ যাওয়ার আগে আগে। কারন এই বাড়ির নিয়ম আছে,খুব অ*সুস্থ না হলে ক্লাশ মিস দেয়া যাবেনা। আর এই নিয়ম স্বয়ং আমার বাবা আমজাদ  সিকদার এর তৈরি। তিনিই এ বাড়ির কর্তা! অথচ ওই মানুষটির সঙ্গেই যেন ধূসর ভাইয়ের অবাধ প্রতিযোগিতা। আমরা প্রত্যেকে যেখানে আব্বুর ভ*য়ে তটস্থ থাকি, ধূসর ভাই সেখানে গা ভাসানো লোক। আব্বুর ধমক,চোখ রা*ঙানো সবটাতেই উনি ভ্রুক্ষেপহীন।</p>\n<p>আব্বুও যে খুব একটা ওনাকে পছন্দ করেন তা কিন্তু নয়। আমার বাবার সব থেকে অপছন্দের কাজ হলো রাজনীতি। আর ধূসর ভাই এই রাজনীতিতেই ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে। ঠিক এই কারনেই ওনাকে একদিন দেশ ছাড়তে হয়েছিল। কিন্তু না,ফেরানো আর গেলনা। তবে একটা কথা সত্যি, ওনার এই নি*র্ভীক ভাবভঙ্গিটাই আমার মন ফুরুৎ করে উড়িয়ে নিয়ে গেল।</p>\n<p>ভীষণ তাড়াহুড়ো করে তৈরি হয়ে আমি নিচে নামলাম। বাড়ির সবাই তখন নাস্তার টেবিল ঘিরে বসেছে। সবাই বলতে চাচীরা আর আমরা ভাইবোনেরা। কারন এ বাড়ির পুরুষদা নিজেদের অফিসের জন্যে  খুব সকালে বেরিয়ে যান। ঘুম ভেঙে  নাস্তার টেবিলে আমি আজ অবধি দেখিনি তাদের।</p>\n<p>আমি সিড়িতে দাঁড়িয়ে থাকলাম কিছুক্ষন। ধূসর ভাই আসবেন না খেতে? তক্ষুনি ধূসর ভাই এলেন। ঘুমঘুম ভাব তখনও চেহারায় লেপ্টে। উফ কী কিউট! মনে হচ্ছে গালটা টিপে দেই। ধূসর ভাইয়ের পাশের ফাঁকা চেয়ারটা দেখেই আমি দ্রুত এগোলাম। ওখানেই বসব ভেবে। অথচ আমাকে দেখা মাত্রই সাদিফ ভাই বললেন,</p>\n<p>” পিউ,আয় এখানে বোস। ”</p>\n<p>সাদিফ ভাই ওনার পাশের চেয়ার ইঙ্গিত করলেন। আমি অসহায় বনে ঘুরে গিয়ে বসলাম। বড় মানুষ, মুখের ওপর না বলি কী করে!</p>\n<p>আমাকে দেখা মাত্রই ছোট মা বললেন,</p>\n<p>” কীরে পিউ! কাল রাতে কী হয়েছিল তোর?”</p>\n<p>আমি পানির গ্লাসে চুমুক দিতে দিতে বললাম,</p>\n<p>” কই ,কিছু নাতো! ”</p>\n<p>সেজো মা বললেন,</p>\n<p>” কিছু নাহলে খেতে এলিনা। কতজন ডাকলাম কতবার, উঠলিনা।”</p>\n<p>সাদিফ ভাইয়ের ছোট ভাই রাদিফ, সে দাঁত কেলিয়ে বলল,</p>\n<p>” পিউপু মনে হয় ছ্যাকা খেয়েছে।”</p>\n<p>দশ বছরের অবোধ বালকের মুখে কথাটা শুনে আমার সদ্য গেলা পানিটুকু বেরিয়ে এলো বাইরে। প্রত্যেকে অবাক চোখে তাকাল ওর দিকে। আমি</p>\n<p>খুকখুক করে কেশে উঠলাম। সেজো মা,মানে সাদিফ ভাইয়ার আম্মু ধমকে উঠলেন,</p>\n<p>” চুপ কর! কোত্থেকে শিখেছিস এসব কথা? ”</p>\n<p>রাদিফ কাচুমাচু করে বলল,</p>\n<p>” টিভিতে দেখেছিলাম,নায়িকারা দুঃখ পেলে ঘর আটকে বসে থাকে।”</p>\n<p>সাদিফ ভাইয়া রেগে বললেন ” আজ থেকে তোর টিভি দেখা বন্ধ।”</p>\n<p>রাদিফ কিছু বলতে হা করল,  চাচী পথিমধ্যেই বললেন,</p>\n<p>” আর কোনো কথা না। প্লেটের খাবার তো এক ফোটাও নড়ছেনা। চুপচাপ খা।”</p>\n<p>দুঃখী দুঃখী মুখ করে রাদিফ চুপ করে গেল। সে তখনও বোঝেনি এক ঘর মুরুব্বির সামনে কী কথা বলেছে!</p>\n<p>এদিকে আমি তাকিয়ে দেখছি সামনে বসা ধূসর ভাইয়ের দিকে। তিনি একমনে খাচ্ছেন। একটা কথা অবধি মুখ দিয়ে বের হচ্ছেনা। মেজো মা কখন থেকে জিজ্ঞেস করছেন ” আর একটু ভাজি দেই? একটু জুস দেই? ”</p>\n<p>সে শুধু মাথা দোলাচ্ছেন দুদিকে।</p>\n<p>হঠাৎই আপু এসে বসল চেয়ারে। থমথমে মুখে আম্মুকে বলল,</p>\n<p>” আমাকে এক কাপ চা দাও মা।”</p>\n<p>আম্মু রান্নাঘর থেকে উত্তর পাঠালেন,</p>\n<p>” সময় লাগবে বোস।”</p>\n<p>আপু আর কিছু বললনা। ধূসর ভাইয়ের মা জিজ্ঞেস করলেন,</p>\n<p>” শুধু চা খাবি কেন পুষ্প? নাস্তা করবিনা?”</p>\n<p>” না মেজো মা ,আমার পেটের অবস্থা ভালো নয়। আপাতত স্যালাইন খেয়ে বেঁচে আছি।”</p>\n<p>” সেকী আমাদের তো কিছু বলিসও নি। ”</p>\n<p>” সামান্য ব্যাপার তো, তাই।”</p>\n<p>” তোর পড়াশুনার কী খবর পুষ্প?”</p>\n<p>এই এতক্ষনে ধূসর ভাই মুখ খুললেন। আমার খুব রাগ লাগল। এইযে আমি মানুষটা এত সময় ধরে বসে আছি ওনার সামনে, কই আমাকে তো কিছু জিজ্ঞেস করলেন না। পড়াশুনা তো আমিও করি তাইনা?</p>\n<p>হঠাৎ প্রশ্নে আপু ঘাবড়ে গেল একটু। তাও অল্প হেসে বলল,</p>\n<p>” এইতো,ভভালো ভাইয়া।”</p>\n<p>” তোর ক্লাশ শেষ হয় কখন?”</p>\n<p>” একটায়। ”</p>\n<p>” কাল বাড়ি ফিরলি চারটায়, কোথাও গিয়েছিলি?”</p>\n<p>একটা প্রশ্নও ধূসর ভাই আপুর দিকে তাকিয়ে করলেন না। অথচ বাকীদের প্রশ্নবিদ্ধ দৃষ্টি আপুর ওপর আছড়ে পরল। ভড়কে গেল আপু। কী বলবে বুঝে না পাওয়ার মতন অবস্থা হলো। মিনমিনিয়ে বলল,</p>\n<p>” রাস্তায় জ্যাম ছিল।”</p>\n<p>” রাস্তার জ্যাম নদীর পাড়ে থাকেনা বোধ হয়। ফুচকা খেলে ভালো জায়গা থেকে খাওয়া উচিত। তাহলে এত স্যালাইনের দরকার পরতোনা।”</p>\n<p>ধূসর ভাই টিস্যু দিয়ে মুখ মুছতে মুছতে উঠে গেলেন। সঙ্গে সঙ্গে আপুর পিঠে দুম করে চ*ড় বসালেন আম্মু। মূলত  ধূসর ভাইয়ের কথাগুলো শুনেই রান্নাঘরের সব কাজ ফেলে রেখে এসেছেন তিনি। হঠাৎ হামলায়</p>\n<p>আপু ব্যাথায় মু*চড়ে উঠল। আম্মু খেকিয়ে বললেন,</p>\n<p>” এই তোর এক্সট্রা ক্লাস? আসুক তোর বাবা। ক্লাশ শেষে ড্যাংড্যাং করে ঘুরে বেড়ানো বার করবে।”</p>\n<p>মেজো মা আপুকে আড়াল করে বললেন,</p>\n<p>” থাক থাক আপা ছোট মানুষ! ”</p>\n<p>ব্যাপার গুলো আমাদের বাকী সবার মাথার ওপর দিয়ে গেল। ছেলে আ*সামী বানিয়ে রেখে গেছে, আর মা উকিল হয়ে বাঁ*চাতে আসছে।</p>\n<p>না, আমার  হবু শ্বাশুড়ি মা কিন্তু ফার্স্টক্লাস! বিয়ের পর ধূসর ভাইয়ের সাথে আমার ঝ*গড়া হলে এইভাবে মিটমাট করিয়ে দেবেন।</p>\n<p>আপু ছ*লছ*ল চোখে মাথা নোয়াল। আমার মায়া হলো ভারী। ধূসর ভাইটা এমন করে কেন? নিজেতো একটা পান্তাভাত।  বাকীরা কী একটুও ঘুরবেওনা?</p>\n<p>ঠিক এই কারনেই ধূসর ভাইকে আমরা সবাই ভ*য় পাই। ওনার চোখ বাজ পাখির মতো। কখন কোনদিকে থাকে কেউ জানেনা। এই যে আপু ক্লাশ শেষ করে সামান্য একটু ফুচকা খেয়েছে সেটাও উনি দেখে নিলেন? কই, ছোট চাচ্চু যে গোয়েন্দা বিভাগের কর্মকর্তা উনিতো দেখলেন না!</p>\n<p>খেয়েদেয়ে উঠতে যাব তখনি সাদিফ ভাইয়া বললেন,</p>\n<p>” পিউ দাঁড়া,আমি যাব।”</p>\n<p>” আপনার অফিস তো উল্টোদিকে ভাইয়া।”</p>\n<p>সাদিফ ভাইয়া উঠে দাঁড়াতে দাঁড়াতে বললেন,</p>\n<p>” সমস্যা নেই, ঘুরে যাব আজ। সোজা রাস্তাটায় জ্যাম পরে খুব। তুই চল,তোকে এগিয়ে দেব।”</p>\n<p>আমি বিনাশর্তে রাজি হলাম। ভালোই হবে। গাড়িতে চড়তে ভালো লাগেনা। এর চেয়ে সাদিফ ভাইয়ের বাইকে করে যাব।</p>\n<p>পার্কিং লট থেকে সাদিফ ভাই বাইক বের করে গেটে আনলেন। আমাকে বললেন উঠতে৷ আমি ওনার কাধ ছুয়ে উঠতে উঠতে বললাম,</p>\n<p>” জানেন  ভাইয়া,আমার না গাড়ির থেকে বাইক পছন্দ৷ আবার বাইকের চেয়ে রিক্সা।”</p>\n<p>সাদিফ ভাইয়া হাসলেন। বললেন না কিছু। আমার হঠাৎ চোখ পরল দোতলার দিকে। ধূসর ভাই বারান্দায় দাঁড়ানো। এদিকেই তাকিয়ে।</p>\n<p>সাদিফ ভাইয়া বাইক চালু করলেন।  আর আমি চেয়ে দেখলাম আমার দিকে তাকিয়ে থাকা ধূসর ভাইয়ের কট*মটে চিবুক।</p>\n<p>ধূসর ভাই কী রা*গ করলেন? বা হিংসে?</p>",
        "series": {
            "id": 9,
            "title": "এক সমুদ্র প্রেম",
            "slug": "ek-somudro-prem",
            "url": "https://golpohub.com/series/ek-somudro-prem",
            "thumbnail_url": "https://cdn.golpohub.com/covers/series-ek-smudr-prem-9-e2317b.webp",
            "progress_status": "completed"
        },
        "author": {
            "id": 8,
            "name": "নুসরাত সুলতানা সেঁজুতি",
            "slug": "nusrat-sultana-sejuti",
            "url": "https://golpohub.com/authors/nusrat-sultana-sejuti",
            "avatar_url": "https://cdn.golpohub.com/avatars/nusrat-sultana-sennjuti-8-9b0085.webp",
            "bio": "নুসরাত সুলতানা সেঁজুতি সমকালীন বাংলা অনলাইন কথাসাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় ও প্রভাবশালী কথাশিল্পী। গভীর মনস্তাত্ত্বিক টানাপোড়েন, রোমাঞ্চকর পারিবারিক ড্রামা এবং তীব্র আবেগময় সম্পর্কের জটিল সমীকরণ ফুটিয়ে তোলায় তাঁর লেখনী অনন্য ও শক্তিশালী। বাঙালি মধ্যবিত্ত যৌথ পরিবারের অভ্যন্তরীণ সংস্কৃতি, সম্পর্কের অন্তর্নিহিত মান-অভিমান এবং অব্যক্ত ভালোবাসার দোলাচলকে তিনি অত্যন্ত জীবন্ত ভাষায় জীবন্ত করে তোলেন।\n\nতাঁর প্রতিটি উপন্যাস পাঠককে শেষ পর্ব পর্যন্ত চুম্বকের মতো বেঁধে রাখে। সংলাপে দেশীয় কথ্যরীতির প্রাণবন্ত ব্যবহার, তীব্র আবেগঘন মুহূর্তের নিপুণ চিত্রায়ণ এবং নায়কের পজেসিভ ব্যক্তিত্বের সাথে কোমল অথচ একগুঁয়ে নায়িকার মানসিক সংঘাতকে রূপ দেওয়ায় সেঁজুতি পাঠকমহলে এক বিশেষ ঘরানা তৈরি করেছেন। ‘এক সমুদ্র প্রেম’ তাঁর লেখক জীবনের এক অনন্য সৃষ্টি, যা বাংলা ওয়েব উপন্যাসের ইতিহাসে পাঠকপ্রিয়তার নতুন মাইলফলক স্থাপন করেছে।",
            "series_count": 0,
            "meta": {
                "bio": "নুসরাত সুলতানা সেঁজুতি সমকালীন বাংলা অনলাইন কথাসাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় ও প্রভাবশালী কথাশিল্পী। গভীর মনস্তাত্ত্বিক টানাপোড়েন, রোমাঞ্চকর পারিবারিক ড্রামা এবং তীব্র আবেগময় সম্পর্কের জটিল সমীকরণ ফুটিয়ে তোলায় তাঁর লেখনী অনন্য ও শক্তিশালী। বাঙালি মধ্যবিত্ত যৌথ পরিবারের অভ্যন্তরীণ সংস্কৃতি, সম্পর্কের অন্তর্নিহিত মান-অভিমান এবং অব্যক্ত ভালোবাসার দোলাচলকে তিনি অত্যন্ত জীবন্ত ভাষায় জীবন্ত করে তোলেন।\n\nতাঁর প্রতিটি উপন্যাস পাঠককে শেষ পর্ব পর্যন্ত চুম্বকের মতো বেঁধে রাখে। সংলাপে দেশীয় কথ্যরীতির প্রাণবন্ত ব্যবহার, তীব্র আবেগঘন মুহূর্তের নিপুণ চিত্রায়ণ এবং নায়কের পজেসিভ ব্যক্তিত্বের সাথে কোমল অথচ একগুঁয়ে নায়িকার মানসিক সংঘাতকে রূপ দেওয়ায় সেঁজুতি পাঠকমহলে এক বিশেষ ঘরানা তৈরি করেছেন। ‘এক সমুদ্র প্রেম’ তাঁর লেখক জীবনের এক অনন্য সৃষ্টি, যা বাংলা ওয়েব উপন্যাসের ইতিহাসে পাঠকপ্রিয়তার নতুন মাইলফলক স্থাপন করেছে।",
                "phone": null,
                "gender": "female",
                "address": {
                    "city": "Dhaka",
                    "street": "Mirpur 10, Dhaka",
                    "country": "Bangladesh"
                },
                "birth_date": "2001-02-08",
                "social_links": {
                    "facebook": "https://facebook.com/100571068399797"
                },
                "pen_name": "নুসরাত সুলতানা সেঁজুতি",
                "aliases": [
                    "Nusrat Sultana Sejuti",
                    "সেঁজুতি",
                    "Nusrath Sultana Sejuti"
                ]
            },
            "timestamps": {
                "created_at": null,
                "updated_at": null
            }
        },
        "navigation": {
            "previous_episode": {
                "id": 491,
                "ep_number": 1,
                "title": "অনাহূত স্বীকারোক্তির চরম মূল্য",
                "slug": "ek-somudro-prem-s1-ep1",
                "url": "https://golpohub.com/episodes/ek-somudro-prem-s1-ep1",
                "thumbnail_url": "https://golpohub.com/assets/images/og.jpg"
            },
            "next_episode": {
                "id": 493,
                "ep_number": 3,
                "title": "শ্রেণিকক্ষের শাস্তি ও শাসন",
                "slug": "ek-somudro-prem-s1-ep3",
                "url": "https://golpohub.com/episodes/ek-somudro-prem-s1-ep3",
                "thumbnail_url": "https://golpohub.com/assets/images/og.jpg"
            }
        }
    }
}