{
    "_links": {
        "html": "https://golpohub.com/episodes/ek-somudro-prem-s1-ep36",
        "json": "https://golpohub.com/episodes/ek-somudro-prem-s1-ep36?format=json",
        "markdown": "https://golpohub.com/episodes/ek-somudro-prem-s1-ep36?format=md",
        "rss": "https://golpohub.com/episodes/ek-somudro-prem-s1-ep36?format=rss",
        "atom": "https://golpohub.com/episodes/ek-somudro-prem-s1-ep36?format=atom"
    },
    "seo": {
        "canonical_url": "https://golpohub.com/episodes/ek-somudro-prem-s1-ep36",
        "title": "এক সমুদ্র প্রেম পর্ব ৩৬ - দেয়ালের বন্দিদশা ও নিষিদ্ধ সান্নিধ্য | Ek Somudro Prem Part 36",
        "description": "পড়ুন এক সমুদ্র প্রেম পর্ব ৩৬। দেয়ালের কোণে ধূসর-পিউয়ের তীব্র সান্নিধ্য ও আত্মাহুতির রুদ্ধশ্বাস ক্ষণ।",
        "keywords": "এক সমুদ্র প্রেম পর্ব ৩৬, ek somudro prem porbo 36, ek somudro prem part 36, ak somudro prem 36, পিউ, ধূসর, সাদিফ, ইকবাল, bangla novel 36",
        "image_url": "https://cdn.golpohub.com/covers/episodes/chapter-526-a9c924.webp",
        "schema": {
            "@context": "https://schema.org",
            "@graph": [
                {
                    "@type": "Chapter",
                    "name": "দেয়ালের বন্দিদশা ও নিষিদ্ধ সান্নিধ্য",
                    "position": 36,
                    "description": "আড়ি পাতার অপরাধে পিউকে দেয়ালে চেপে ধরে ধূসর। তার উষ্ণ নিঃশ্বাস যখন পিউয়ের ঠোঁটের ঠিক এক ইঞ্চি দূরে এসে স্থির হয়, পিউ কেন নিজেকে বাঁচাতে ধাক্কা দিয়ে দৌড়ে পালাল?",
                    "url": "https://golpohub.com/episodes/ek-somudro-prem-s1-ep36",
                    "inLanguage": "bn",
                    "timeRequired": "PT19M",
                    "datePublished": "2026-08-27T22:01:41+00:00",
                    "dateModified": "2026-09-06T00:31:35+00:00",
                    "wordCount": 2973,
                    "image": "https://cdn.golpohub.com/covers/episodes/chapter-526-a9c924.webp",
                    "isPartOf": {
                        "@type": [
                            "BookSeries",
                            "CreativeWorkSeries"
                        ],
                        "name": "এক সমুদ্র প্রেম",
                        "url": "https://golpohub.com/series/ek-somudro-prem"
                    },
                    "author": {
                        "@type": "Person",
                        "name": "নুসরাত সুলতানা সেঁজুতি",
                        "url": "https://golpohub.com/authors/nusrat-sultana-sejuti"
                    }
                },
                {
                    "@type": "BreadcrumbList",
                    "itemListElement": [
                        {
                            "@type": "ListItem",
                            "position": 1,
                            "name": "Golpo Hub",
                            "item": "https://golpohub.com"
                        },
                        {
                            "@type": "ListItem",
                            "position": 2,
                            "name": "সিরিজসমূহ",
                            "item": "https://golpohub.com/series"
                        },
                        {
                            "@type": "ListItem",
                            "position": 3,
                            "name": "এক সমুদ্র প্রেম",
                            "item": "https://golpohub.com/series/ek-somudro-prem"
                        },
                        {
                            "@type": "ListItem",
                            "position": 4,
                            "name": "দেয়ালের বন্দিদশা ও নিষিদ্ধ সান্নিধ্য",
                            "item": "https://golpohub.com/episodes/ek-somudro-prem-s1-ep36"
                        }
                    ]
                }
            ]
        }
    },
    "filters": [],
    "data": {
        "id": 526,
        "ep_number": 36,
        "title": "দেয়ালের বন্দিদশা ও নিষিদ্ধ সান্নিধ্য",
        "slug": "ek-somudro-prem-s1-ep36",
        "url": "https://golpohub.com/episodes/ek-somudro-prem-s1-ep36",
        "reading_time": 19,
        "thumbnail_url": "https://cdn.golpohub.com/covers/episodes/chapter-526-a9c924.webp",
        "yt_video_id": null,
        "yt_video_url": null,
        "timestamps": {
            "published_at": "2026-08-27T22:01:41+00:00",
            "updated_at": "2026-09-06T00:31:35+00:00"
        },
        "meta": {
            "word_count": 2973,
            "chapter_number": 36,
            "seo_title": "এক সমুদ্র প্রেম পর্ব ৩৬ - দেয়ালের বন্দিদশা ও নিষিদ্ধ সান্নিধ্য | Ek Somudro Prem Part 36",
            "seo_description": "পড়ুন এক সমুদ্র প্রেম পর্ব ৩৬। দেয়ালের কোণে ধূসর-পিউয়ের তীব্র সান্নিধ্য ও আত্মাহুতির রুদ্ধশ্বাস ক্ষণ।",
            "keywords": "এক সমুদ্র প্রেম পর্ব ৩৬, ek somudro prem porbo 36, ek somudro prem part 36, ak somudro prem 36, পিউ, ধূসর, সাদিফ, ইকবাল, bangla novel 36",
            "characters_involved": [
                "পিউ",
                "ধূসর",
                "সাদিফ",
                "ইকবাল"
            ]
        },
        "content": "<p>স্বভাবে মুখচোরা মানুষগুলো সমাজে সবথেকে বড় অসহায়। তারা নিজেদের জন্য মুখ ফুটে কখনওই কিছু চাইতে পারেনা। সোজাসুজি মনের কথা জানাতে সর্বদা বিফল তারা। আমার এটা চাই,ওটা লাগবে,এটা দরকার,নাহলে হবেনা,এরকম বাক্যগুলো ওদের জন্য নিষিদ্ধ, অস্বাভাবিক। যে একবার অন্তর্মুখী  হয়,সে নিজের সীমারেখা থেকে বাইর আসতে শেখেনি। ঠেলেঠুলেও আনার সাধ্য নেই।</p>\n<p>এরা কিছু বিশেষ মানুষের সঙ্গে মেশে,তাদেরকেই ভালোবাসে সবটুকু দিয়ে।</p>\n<p>আজ সেই কাতারে তবে সাদিফও পরল?</p>\n<p>সে টানটান ভাবে লেপ্টে বিছানায়। মাথার ওপরে রাখা আড়াআড়ি হাত। নেত্রযূগল নিবদ্ধ সম্মুখে লাগানো সাদা এসিটার ওপর। চোখে ঘুম নেই, মনে শান্তি নেই।</p>\n<p>সমস্ত মুখজুড়ে বিষাদের চিহ্ন। আঁকিবুঁকি করছে হতাশা,বেদনা। এক জীবনে অনেক কিছু পেয়েছে সে। পাওয়ার খাতা ভর্তি ছিল আদরে,স্নেহে,আহ্লাদে,ভালোবাসায়। এতদিন অবধি জীবন নিয়ে ছিল যথেষ্ট হৃষিত। কী পায়নি? স্কুল,কলেজে ভালো রেজাল্ট করেছে। নিজের প্যাশন ফলো করে হয়েছে সাকসেসফুল। ভালো ছাত্র ও আদর্শ ছেলের ব্যাকরণ মানা লক্ষীমন্ত ছেলে সে। যতটা ভালো হলে পাড়ার মহিলারা তাদের মেয়ের জামাই করতে বিলম্ব ব্যাতীত ভাববেন, ঠিক অতটাই। আত্মীয়-স্বজন সকলের চোখের মণি সে। দেখতে সুদর্শন আবার লেখপড়ায় ভালো, ইউনিভার্সিটিতে ডিপার্টমেন্টের বেশিরভাগ মেয়ে তার প্রতি দূর্বল ছিল । যেচেপড়ে আসত আলাপ করতে। কত মেয়ের প্রেমের প্রস্তাব নাকচ করেছে অবলীলায়! তাদের ব্য*থিত চোখমুখ দেখে একটিবার মায়া করেনি। হত্যে দিয়ে পড়ে থেকেছে কেউ কেউ।</p>\n<p>সব সময় নিজেকে নিয়ে মনে মনে ভীষণ গর্ব করত সাদিফ। বাড়িময় বাপ-চাচারা যখন ধূসরের কর্মকান্ডে বিরক্ত হয়ে তাকে গা*লমন্দ করতেন,পালটা মুখরিত হতেন ওর প্রসংশায়। ভাইয়ে-ভাইয়ে তুলনা লেগে থাকত যেন। অথচ আজ প্রতিটি পদক্ষেপে সেই সাদিফই নিজেকে ধি*ক্কার দিচ্ছে। নিজের ব্যক্তিত্বহীনতা নিয়ে তাচ্ছ্যি*ল্য করছে।</p>\n<p>পুষ্পর দিয়ে যাওয়া বিশেষণ&#8217; তুমি স্বার্থ*পর!&#8217; কানে বাজছে নিরন্তর। সে কী আসলেই স্বার্থ*পর? এই পরিবারের জন্য সত্যিই বিষা*ক্ত?  কেন? কেন সে স্বার্থ*পর হবে? পুষ্পটা তো জানেনা,পরিবারের সবার ওপর সেও না বলতে পারেনি। মেয়েটা দুবছর ধরে ভালোবেসে কেঁ*দে ব্যকুল। আর ওর ভালোবাসা?  বেহিসেবী। কবে থেকে, কত বছর থেকে পিউকে হৃদয়ে জায়গা দিয়েছে গুনে পাওয়া যাবে? পুষ্প কাঁ*দছে,চোখের পানি ফেলছে,প্রকাশ করতে পারছে নিজের ক*ষ্ট। কিন্তু সে? সে কিচ্ছুটি করতে অপারগ। বুকটা ব্য*থায় ছিড়লে বাইরে থেকে সে নিশ্চুপ,নির্বিকার। বিয়ের আলাপ করার সময় মা আর বাবার মুখের হাসিটুকু তার হাসি কে*ড়ে নিয়েছে। কখনওই একটা মানুষের মুখের ওপর সে না করতে পারেনি। কাউকে না বলার ক্ষমতাই নেই ওর। কেন যেন পেরে ওঠেনা। বলতে চায়,খুব করে চায়, অথচ শক্তিতে কূলোয় না।</p>\n<p>এই দোষ কী ওর? আজ প্রবল আক্ষেপে বক্ষ জ্ব*লছে তার। এই গুড বয়ের খেতাব তার চাইনা। কেন ধূসরের মতো হলোনা সে?   ওরকম কাঠখোট্টা মানুষরাই জীবনে জিতে যায়। ঠকে যায় ভদ্রতার বেড়াজালে আটকে পরা সাদিফরা।</p>\n<p>এই যে, নম্রতার আখ্যান পেয়ে হাত পা বেঁ*ধে গেল মোটা রশিতে। চোখ ঢেকে গেল স্নেহের পুরূ কাপড়ে।  একটিবার মুখ ফুটে বলতে পারল না,আমি পুষ্পকে নয়,পিউকে চাই। ওর সাথে কাটাতে চাই সারাটাজীবন।</p>\n<p>সত্যি বলতে পুষ্প ভুল বলেছে। না জেনেবুঝে মিথ্যে বিশেষন দিয়েছে। সে স্বার্থ*পর নয়,সে আসলে ভদ্রের নামে জ্বলজ্যান্ত কাপু*রুষ। যে মানব বুক ফুলিয়ে ভালোবাসার কথা ব্যক্ত করতে অক্ষম,তার ভালোবাসা নিয়ে সন্দেহ আছে।</p>\n<p>সাদিফ চোখের কোনা বেঁয়ে গড়ানো অশ্রু চটজলদি মুছে নিলো। অন্ধকারে,বদ্ধ রুমে সেই জল কেউ দেখল না। কয়েক হাত দূরের সটান দাঁড়ানো দেয়ালটাও না।</p>\n<p>***</p>\n<p>পিউয়ের চেহারা ভীত। মধ্যরাতে কারো ঘরে চুরি করতে গেল,আর বাড়ির লোক ধরে ফেলল হাতে-নাতে।  তাও আবার দারোগা রকম লোকের হাতে ধরা! সে আত*ঙ্কিত চেহারা লোকাতে ব্যস্ত। ধূসরের মুখে &#8216;শাস্তি&#8217; শব্দটায় যে বুক ধড়ফড় করছে খুব।</p>\n<p>সে  বসা থেকে আস্তেধীরে, লতিয়ে উঠে দাঁড়ায়। মিনমিন করে বলে,</p>\n<p>&#8216; আড়ি পাতছিলাম না ধূসর ভাই।&#8217;</p>\n<p>&#8216; কী করছিলি তাহলে? &#8216;</p>\n<p>&#8216; ঘরের সামনে দিয়ে যাচ্ছিলাম,আপুকে দেখে দাঁড়িয়েছি। &#8216;</p>\n<p>কথাটা মিথ্যে নয়। সে পুষ্পকে ঢুকতে দেখেই তীব্র কৌতুহল সমেত এগিয়ে এসেছে। এতক্ষণ ধরে দেয়া বুদ্ধিটা আপু কাজে লাগালো কী না সেসব বুঝতে। অথচ কে জানত,এই লোক এটাও ধরে ফেলবেন।</p>\n<p>ধূসরের দৃষ্টি তার হাতের ওপর। যেটা ডলতে ব্যস্ত পিউ। কতটুকু কী আ*ঘাত পেয়েছে তীক্ষ্ণ চোখে নিরীক্ষন করছে। তেমন লাগেনি। অথচ এই মেয়ে ডলে -টলে কী অবস্থা।</p>\n<p>সে বলল,</p>\n<p>&#8216; এবার থাম,চামড়া উঠে যাবে।&#8217;</p>\n<p>পিউ তৎক্ষনাৎ থেমে গেল।</p>\n<p>প্রচন্ড নার্ভাস লাগছে তার। ধূসরের শা*স্তিটা ঠিক কীরকম হতে পারে সেই চিন্তায় অবস্থা করূন।</p>\n<p>তক্ষুনি ধূসর ঠান্ডা গলায় শুধাল,</p>\n<p>&#8216; পুষ্পকে আমার কাছে কে পাঠিয়েছে?&#8217;</p>\n<p>পিউ চমকে উঠল।</p>\n<p>দুদিকে মাথা নেড়ে বলল &#8216; আমি পাঠাইনি।&#8217;</p>\n<p>&#8216; তার মানে তুই-ই পাঠিয়েছিস।&#8217;</p>\n<p>পিউ চোখ নামিয়ে নিলো। ধূসর ধম*কে বলল,</p>\n<p>&#8216; পাঠিয়েছিস কেন? মানা করেছিলাম না তোকে? &#8216;</p>\n<p>পিউ সরল কণ্ঠে বলল,</p>\n<p>&#8216; আমার কী দোষ? আপু এত কাঁ*দছিল বলে সহ্য করতে পারিনি। &#8216;</p>\n<p>ধূসরের অভিব্যক্তি বোঝা গেল না। বলল,</p>\n<p>&#8216; কী কী বলেছিস আর?&#8217;</p>\n<p>&#8216; আর কিছু বলিনি। সত্যি বলছি, বিশ্বাস করুন।&#8217;</p>\n<p>ধূসরের মন গলেনি। তার গম্ভীর কণ্ঠে শোনা গেল,</p>\n<p>&#8216; তোর তাহলে দুটো শা*স্তি জমা হয়েছে। আমার অবাধ্য হয়েছিস,আবার মিথ্যে বলছিস। &#8216;</p>\n<p>পিউ বোঝাতে ক্লান্ত,এমন স্বরে বলল,</p>\n<p>&#8216; মিথ্যে বলিনি ধূসর ভাই।&#8217;</p>\n<p>&#8216; চুপ।&#8217;</p>\n<p>চোখ রা*ঙানো দেখে দমে গেল সে। সন্তর্পনে দীর্ঘশ্বাস ফেলল। মন খা*রাপে হাবু*ডুবু শরীরটাকে নিয়ে স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। সে চোখ বুজে ধূসর ভাইকে বিশ্বাস করে। এতটা ভরসা তার নিজের প্রতিও নেই। আর সেখানে কী না ধূসর ভাই ওর কথা কানেই তোলেননা। সব বিশ্বাসের দ্বায়ভার তার একার?</p>\n<p>প্রেমের মানসিক টানাপো*ড়নে পরে গেল সে। ধূসর ভাইয়ের মন বোঝা শ*ক্ত। মানুষটাই একটা স্টিলের কারখানা। ভা*ঙেনা,মচকায় না, শুধু ঝনঝন শব্দ করে। কানের বদলে ঝালাপালা করে ওর হৃদয়টা। তার কোমল মনের আনাচে-কানাচে তমসা নামবে নামবে ভাব,সেই ক্ষনে পেলো কারো কাছে এসে দাঁড়ানোর মত অনুভূতি।</p>\n<p>কে যেন ভীষণ করে ঘেঁষে এলো শরীরের ধারে।  পিউ চকিতে তাকায়। অভাবনীয়, ধূসরকে সান্নিধ্যে দেখে গলায় আটকে যায় নিঃশ্বাস। কবুতরের ছানার মতোন থরথ*র করে ওঠে দেহটা।</p>\n<p>ধূসরের  আবেশিত, মোহময়, মাদকের ন্যায় চাউনী শীতল করে দেয় হাত-পা। এমন করছেন কেন মানুষটা?</p>\n<p>কেন এত কাছে আসছেন? পিউ ঠাঁয় দাঁড়িয়ে থাকতে পারেনা। পায়ের পাতা শিরশির করছে। যেন তলায় মাটি নেই। ধূসর ভাইয়ের উষ্ণ শ্বাস, শাণিত চাহনী,এই অকষাৎ কাছাকাছি আসায় নাভিশ্বাস অবস্থাপ্রায়।  রুদ্ধ*কর পরিস্থিতি থেকে নিজেকে বাঁচাতে সে দু কদম পিছিয়ে গেল। সরে যেতে চাইল ধূসরের থেকে।</p>\n<p>সে মানুষের চক্ষুযূগল এক মুহুর্ত সরল না। একটিবার পল্লব পড়ল না।  তার দূর্বোধ্য,খুরখার দৃষ্টি ।এই চাউনীর সঙ্গা নেই,নেই ব্যকরণে উল্লেখ করার যথাযথ বিশেষণ। তবু পিউ বারংবার আহ*ত হলো । ভয়া*বহ পর্যায়ে বক্ষ কাঁ*পল তার। সে অলস গতিতে পেছনে যেতেই পিঠ গিয়ে দেয়ালে ঠেকে। একটা নির্দিষ্ট গন্ডির মধ্যে ব*ন্দী হয়ে কেঁ*পে ওঠে।</p>\n<p>ধূসরের চোখ দুটোতে আজ লুকোচুরি নেই। সরাসরি, সোজাসাপটা নিক্ষিপ্ত, পিউয়ের প্রশ্নবিদ্ধ আঁখিজোড়ায়।</p>\n<p>পিউ দুরুত্ব বাড়ানোর প্রয়াসে সফল হলো না। ধূসর আরো ঘেঁষে দাঁড়াল কাছে। মেয়েটার মাথার ওপর দিয়ে দেয়ালে ঠেসে দিল এক হাত। অদ্ভূত পুরুষালি গন্ধে রোমকূপ পর্যন্ত ঝাঁকু*নি তুলল তার। গোটা দেহে অনিয়ন্ত্রিত খেলে গেল অনুভূতির ঢেউ। মন,মস্তিষ্ক ফুঁড়ে বেরিয়ে গেল আয়ত্তের বাইরে। এই সুগন্ধে চোখ বুজে আসতে চায়। বুঁদ হয়ে ভেসে যেতে চায়,শূন্য আকাশে।</p>\n<p>পরপর কানে লাগে একটি ভরাট,শীতল,ফিসফিসে কণ্ঠ,</p>\n<p>&#8216; মাঝে মাঝে তোকে খুব কঠিন শা*স্তি দেয়ার ইচ্ছে হয় পিউ। বাধ্য হয়ে আটকে রাখি,বুঝিয়ে শুনিয়ে থামিয়ে দেই। নিজের ইচ্ছের বিরুদ্ধে যাওয়া কত ক*ষ্টের তুই জানিস?&#8217;</p>\n<p>পিউ ফ্যালফ্যাল চোখে চেয়ে প্রশ্ন ছুড়ল,</p>\n<p>&#8216; আমি কী করেছি ধূসর ভাই?&#8217;</p>\n<p>ধূসর নিঃশব্দে কিছুক্ষণ তাকিয়ে রয়। এই মেয়ের এইরকম শত শত বোকা বোকা প্রশ্ন, বোকা বোকা চাউনী, তার ভেতর কী মাত্রাধিক তোল*পাড় চালায় কেউ জানে?</p>\n<p>তার ত*প্ত শ্বাস ছুঁয়ে গেল পিউয়ের মুখমণ্ডল। সে তীর্যক হেসে, নীচু কণ্ঠে জানাল,</p>\n<p>&#8216; এত বা*জে কিছু করেছিস,যার কোনও ক্ষমা নেই। &#8216;</p>\n<p>তারপর কয়েক সেকেন্ড চোখ অবিচল রইল তার। এক চুল অনড় হলোনা পিউয়ের মুখস্রী থেকে। ধীরে ধীরে তার মুখটা আরও কাছে চলে  আসে। ধূসরকে এইভাবে এগোতে দেখে পিউয়ের র*ক্তাসঞ্চালন অবধি স্থিত হয়। বক্ষপিঞ্জর ভে*ঙে বেরিয়ে আসতে চায় হৃদপিণ্ড। স্থায়িত্ব পেলো হাত পায়ের অনির্দিষ্ট কাঁ*পন। কপালে ঘাম ছুটল সবেগে। দূর্নিবার অনুভূতিতে, গুরুতর হয়ে এলো নিঃশ্বাস। ধূসর, পিউয়ের করূন অবস্থা বুঝল কী না কে জানে। তার  লম্বা দেহ ঝুঁকে গেল,উষ্ণীষ প্রঃশ্বাস ছিটকে ফেলল পিউয়ের ঘাড়ে। আবেগের তাড়াহুড়োতে, অচিরেই দূর্বল দেহটা পিউ ছেড়ে দিলো দেয়ালে।</p>\n<p>জোর করে চেষ্টা করল ঠিক ওই অক্ষিপট বরাবর চেয়ে থাকতে।</p>\n<p>আস্তেধীরে পরিবর্তিত হলো তার অভিপ্রায়। হারিয়ে ফেলল নিজেকে। তিনটি বছর ধরে হৃদয়ের চারটে অলিন্দে বয়ে বেড়ানো মানুষটার প্রতি এক সমুদ্র প্রেম বেরিয়ে এলো ডাগর ডাগর চাউনীতে।  মোহিত ভঙিতে চেয়ে রইল সে । ধূসর ভাই এত কাছাকাছি এলে তার কিছু একটা হয়ে যায়। কেমন কেমন লাগে। বুকের মধ্যে কেউ ঢোল বাজিয়ে নাঁচে। হৃদযন্ত্র ধ্বক ধ্বক করে। সে নিরব লোঁচন ধূসরের সমগ্র চেহারায় বোলালো। মাঝেমধ্যে</p>\n<p>ভীষণ রকম ইচ্ছে হয়, ধূসরকে একটা সাদা কাঁচের বোতলে পু*ড়ে ফেলতে। সেই বোতলটা জীবনভর স্বযত্নে  বুকের সাথে চে*পে রাখবে সে। ওই আলিফ লায়লার জ্বীনদের মত।  মাঝে মাঝে বের করবে, আঁশ মিটিয়ে দেখবে, আর প্রানভরে  চুঁমু খাবে। এরকম হলে কী দারূন হতোনা? পরমুহূর্তে চটক কাটল তার।</p>\n<p>নিলজ্জের মত  চুঁমুর কথা ভাবতেই লজ্জ্বায় নুইয়ে গেল। প্রেমে পড়ে সে ভাষাহীন বেহায়া হয়ে যাচ্ছে। কোথায় লজ্জ্বাবতী বৃক্ষের ন্যায় গুঁটিয়ে রবে তা না!</p>\n<p>সে মাথা নামিয়ে কুন্ঠা ঢাকতে ব্যস্ত যখন, আচমকা ধূসর ফুঁ দিলো মুখবিবরে।</p>\n<p>সমস্ত গাত্র শিউরে উঠল তার। চিনচি*নে শিরশিরানিতে ভরে গেল। বসন্তের হাওয়ার মত দুলে উঠল শীর্ন দেহখানি। এই অল্প ছোঁয়া, ক্ষন হাওয়া,এইটুকু সময়েই  আ*গুন ব্যাতীত তাকে পু*ড়িয়ে দিল।</p>\n<p>ধূসর কণ্ঠ খাদে নামিয়ে শুধাল,</p>\n<p>&#8216; তুই এরকম কেন পিউ? কারো নিবারণের বেড়ি ভা*ঙতে কেন এত উঠেপড়ে লেগেছিস? দিনকে দিন তোর নিপুণ দক্ষতা,কারো  অমোঘ বনিয়াদ নাড়িয়ে  দিচ্ছে। এরপর সে একটা বড়সড় অন্যায় ঘটিয়ে ফেললে অপ*রাধী কে হবে? সে না তুই?&#8217;</p>\n<p>দু সেকেন্ড অবাক চোখে চেয়ে রইল পিউ।  শেষ কথাটার ইঙ্গিত বুঝতেই হাঁসফাঁস করে চোখ খিঁচে বুজে নিলো। জোড়ালো নিঃশ্বাসে ঝ*ড়ের গতিতে বুক ওঠানামা করে। ওষ্ঠাগ*ত প্রাণে দিশেহারা হয়ে বলল,</p>\n<p>&#8216; শা*স্তিটা দিয়ে দিন ধূসর ভাই। চলে যাই আমি।&#8217;</p>\n<p>ধূসরের ওষ্ঠপুটে ভিড়ে গেল হাসি। পিউ অস্থির ভাবে চোখ মেলল আবার। অনুভব করল, এমনিতে সে মুখে খই ফোটাতে ওস্তাদ হলেও, এই নির্দিষ্ট মানুষটির সামনে সে কিচ্ছুটি না। মনে প্রানে বিশ্বাস করে ফেলল, ধূসর ভাইয়ের কাছে আসার পর, শ*ক্ত হয়ে দাঁড়িয়ে থাকার চেয়ে, তার হাতে দু চারটে চ*ড় খাওয়াও সহজ। এরকম দম*বন্ধ হয়ে আসেনা। রুহুটা গলার কাছে এসে আটকে থাকেনা। পুনরায় ধূসরের চোখের দিকে তাকাল সে।</p>\n<p>ঠোঁটের কোনের ওই নির্ম*ম,দুষ্প্রাপ্য, অন্তর্ভে*দী হাসিটা টর্নেডোর ন্যায় ঘুরপাক খেল মনে।</p>\n<p>সে তখন ভ্রুঁ উঁচায় &#8216; শাস্তি চাস?&#8217;</p>\n<p>পিউ আজ আর ভ*য় পেলোনা। একটু আগের ঘটনাচক্রের রেশ তার মনে তখনও বহমান। সে আই-ঢাই করে মাথা দোলায়। এই শাস্তি বরেণ্য। অন্তত বেচে থেকেও অনুভূতিদের কবলে নিহ*ত হওয়ার থেকে অকঠিন।</p>\n<p>তার ভাবনার মধ্যে ধূসরের অধরদ্বয় এগিয়ে আসতে দেখা যায়। পিউ চমকে, বিমুঢ় হয়ে পরল। আগত পরিস্থিতি বুঝতেই বুকের বা পাশে অনুভব করল অসরল ভূমিকম্প। ধূসর ভাই কি চুমু খাবেন? আল্লাহ, সে নিশ্চিত ম*রে যাবে । পিউয়ের হার্টবিট থেমে গিয়েছে। র*ক্ত সমেত যেন এক্ষুনি বুক ফুঁড়ে বাইরে আসবে ওটা। সর্বদা ধূসরকে কাছে চাওয়া মেয়েটি আজ আকষ্মিক তার অচেনা আগমন মেনে নিতে পারেনা। ধূসরের স্পর্শ পাওয়ার জন্য  উচাটন  মন আজ হতচকিত। অলীক স্বপ্নের ন্যায় ঠেকছে সব। চোখ,কান,উন্মুখ,ব্যকুল থাকে যার জন্য সে কাছে এলে এমন হয় কেন? ছট*ফট করা অন্তকরন,আর মাথার ভেতর বাজতে থাকা রুমঝুম সুরে পিউ পাগলপ্রায়। এমন মিহি,মিধুর, ভয়*ঙ্কর য*ন্ত্রনা বোধহয় ভালোবাসায় হয়। সুরেলা, মিষ্ট পী*ড়া থেকে নিজেকে বাঁচাতে সে দুহাত রাখল ধূসরের ইস্পাত,প্রসস্থ বক্ষে। পরপর মৃদূ ধা*ক্কা দিয়ে সরিয়ে দিলো। ধূসর স্বেচ্ছায় সরেছে,তার ধা*ক্কায় নয়। ওই বলিষ্ঠ মানুষটিকে নড়ানোর সাধ্যি সপ্তদশীর নেই।</p>\n<p>পিউ লজ্জ্বায় সহস্র হাত নীচু হয়ে রইল। তারপর নিভু নিভু চোখ তুলে তাকাল ধূসরের, উদ্বেগশূন্য, নিরেট চিবুক পানে। মানুষটার স্বল্প,ঈষৎ মিটিমিটি  হাসিটা বুকের গোপন কুঠুরির সবটা এলোমেলো করে দিল। বেসামাল হওয়ার আগেই মুচকি হেসে, এক ছুট্টে, ঘর ছেড়ে বেরিয়ে গেল সে।</p>\n<p>ধূসর সেদিক তাকিয়ে ঘাড় ডলল ডান হাতে। তার ঠোঁটের কোনায় দূর্বোধ্য, দূষ্টু হাসি। ইচ্ছে করে করেছে এমন। ফাজলামো করে পিউকে জ্বা*লাতে স্বেচ্ছায়,বুদ্ধি এঁটে এগিয়েছে ঠোঁট। চুঁমু অবধি যেতনা নিশ্চিত। এখনও যে, ওই এক ভুল দুবার করার সময় আসেনি। অথচ এর আগেই পালালো মেয়েটা। ধূসর বক্র হেসে বিড়বিড় করে বলল,</p>\n<p>&#8216; এইটুকুতে এই অবস্থা,সারাটাজীবন তো পরেই রইল।&#8217;</p>\n<p>****</p>\n<p>পার্টি অফিসে উৎসব আজ। নতুন দল নিয়ে দুপুরের খাওয়া-দাওয়া হবে। হাজির হবেন নব নমিনীত  তাদের মেয়র প্রার্ত্রী খলিলুল্লাহ সাহও।</p>\n<p>তদারকিতে বরাবরের মতো ধূসর রয়েছে। একে ওকে হুকুম দিচ্ছে। না বুঝলে, বোঝাচ্ছে ভালো করে। মাঝে মাঝে হাতঘড়ি দেখছে। ঘড়িতে একটা ছাড়াবে অথচ ইকবালের দেখা নেই। এই প্রোগ্রামের জন্য আজ সে অফিস থেকে লাঞ্চের আগে বেরিয়েছে। রিসিপশনে বলে এসছে, ফিরবেনা বিকেলে। অথচ সভাপতি নিখোঁজ। ছেলেটা মাঝেমধ্যে এত দায়িতজ্ঞানহীনের মত কাজ করে কেন? একেই কীনা সে ভবিষ্যতে মেয়র করার পায়তারা করছে!</p>\n<p>ধূসর ঠোঁট ফুলিয়ে শ্বাস ফেলল। ফুল দিয়ে মূল গেটে ডেকোরেশন হচ্ছে। পুরো পার্টি অফিস সাজানো শেষ প্রায়।</p>\n<p>ঘেমে-নেয়ে গোসল করার মতন অবস্থা। সোহেল এসে খাবারের মেন্যু দেখিয়ে শুধাল,</p>\n<p>&#8216; কোক তো খলিল ভাই খাননা,স্প্রাইট আনব না কি? একী! তুইত একদম ঘেমে গেছিস ধূসর। ভেতরে গিয়ে বসবি? আমি বরং দেখি এদিকিটা!&#8217;</p>\n<p>ধূসর রুমাল দিয়ে মুখ মুছতে মুছতে বলল,</p>\n<p>&#8216; লাগবে না। তুই এক কাজ কর,সবার জন্য স্প্রাইট আনা। ওনার একার জন্য আলাদা করে আনালে খারাপ দেখায়। &#8216;</p>\n<p>&#8216; আচ্ছা ঠিক আছে। &#8216;</p>\n<p>সোহেল চলে গেল। তার ও অনেকটা সময় পর দৃশ্যমান হলো ইকবালের সাদা গাড়িটা।</p>\n<p>ধূসর,ওমনি চোখ-মুখ পাথরের ন্যায় শ*ক্ত করল। বোধহীন ছেলেটার ওপর মেজাজ দারূনভাবে চটেছে আজ। তাকে ক*ঠিন কিছু  কথা শোনানোর উদ্দেশ্যে গটগটিয়ে হেঁটে গেল কাছে।</p>\n<p>ইকবাল গাড়ি থেকে নামল। দরজা আটকে ঘুরতেই ধূসর সামনে পড়ল। ত্বরিতে তার পো*ক্ত চিবুক মসৃন হলো। ক*ড়া কথা শোনাতে চাওয়ার ইচ্ছে, হুরহুর করে উবে গেল।</p>\n<p>ইকবালের অবিন্যস্ত মুখমণ্ডল থামিয়ে দিয়েছে। টকটকে লাল দুটো চোখ ,অসিত ঠোঁটযূগল আরো বেশি কালো আজ, চুল অগোছালো হয়ে কপালে পরেছে,সাথে বাম চক্ষু রেখেছে দৃষ্টির আড়ালে।</p>\n<p>ধূসর চিন্তিত কণ্ঠে বলল,</p>\n<p>&#8216; কী অবস্থা চেহারার?&#8217;</p>\n<p>ইকবাল একটু হাসল। সত্যি বলতে ছেঁচড়ে এনেছে হাসিটা। বলল,</p>\n<p>&#8216; রাতে ঘুম হয়নিতো,তাই আর কী!&#8217;</p>\n<p>গলার স্বরও অন্য রকম। ভা*ঙা-চোড়া, রুগ্ন। ধূসর কাঁধে হাত রেখে বলল,</p>\n<p>&#8216; তুই ঠিক আছিস?&#8217;</p>\n<p>ইকবালের অন্তঃস্থল হুহু করে উঠল। ধূসরকে দুহাতে আগলে ধরতে মন চাইছে। মন চাইছে চিৎ*কার করে জানাতে,</p>\n<p>&#8216; আমি ঠিক নেই ধূসর। তোর বোন আমায় ঠিক থাকতে দিচ্ছেনা। ভালোবাসার অনলে  জ্বা*লাচ্ছে,পোড়া*চ্ছে,পুতুলের ন্যায় নাঁচাচ্ছে। ওর একটা সুষ্ঠু বিচার কর ভাই।&#8217;</p>\n<p>মুখে বলল</p>\n<p>&#8216; একদম।&#8217;</p>\n<p>ধূসর তাও শুধাল</p>\n<p>&#8216; ইজ এভ্রিথিং অলরাইট ইকবাল?&#8217;</p>\n<p>ইকবাল স্বভাবসুলভ হেসে বলল,</p>\n<p>&#8216; আরে হ্যাঁ হ্যাঁ। আমাকে দেখে অলরাইট মনে হচ্ছেনা তোর? &#8216;</p>\n<p>&#8216; না। &#8216;</p>\n<p>সে ঠোঁট ওল্টায় &#8216; ঠিক আছি রে বাবা। এক মাঈল দৌড়ে এলে বিশ্বাস করবি?&#8217;</p>\n<p>&#8216; থাক। ভেতরে চল,খলিল ভাই অপেক্ষা করছেন।&#8217;</p>\n<p>&#8216; ও ব্যাটা এত আগেভাগে এসেছে কেন? পরে এলে খাবার কী কম পাবে?&#8217;</p>\n<p>&#8216; সবাই তোর মত লেট লতিফ নয়। হি ইজ আ পাংকচুয়্যাল গাই। আয় এখন।&#8217;</p>\n<p>ধূসর উল্টোপথে কদম ফেলল। ইকবাল দাঁড়িয়ে রইল স্থির। তার ভেতরটা খচখচ করছে অন্য কিছু নিয়ে। পুষ্প কাল রাতে হঠাৎ অস্বাভাবিক ব্যবহার করেছে। সে ক*ষ্ট পেয়েছে বুঝেও একটি বার ফোন করল না,খবর নিলো না।</p>\n<p>হঠাৎ কী হলো সেই চিন্তা, আর ভারী বুক সমেত সারারাত বিনিদ্রায় কে*টেছে তার। এক ফোঁটা চোখ বোজেনি, ঘুমায়নি। অসংখ্য সিগারেটের ধোঁয়া উড়িয়েছে বাতাসে। সকালে যাও একটু ঘুমাতো,পুষ্পর নো কল,নো মেসেজ দেখে অভিমানে মাথার রগ দপদপ করে উঠল। ক্রো*ধ ছড়াল শিরাসমূহে। সব সময় রা*গ করবে ও,ভা*ঙাবে সে? কেন, এক তরফা কেন হবে এই নিয়ম? অত গুলো কলে ওকে না পেয়ে একটু না হয় উচু কণ্ঠে কথা বলেছে,তাই বলে এভাবে রিয়্যাক্ট করবে? এত বা*জে বা*জে কথা শোনাবে? সে ট*র্চার করছে মানে,সে কি অত্যা*চারী?</p>\n<p>ইকবাল ফের অনুরাগী হয়। মনের সাথে সাথে চোখমুখ শ*ক্ত করে।</p>\n<p>অভিমানে ছেঁয়ে যায় তনুমন। কিন্তু একটিবার পুষ্পর কথা জানার স্পৃহা কমেনা। ইনিয়ে-বিনিয়ে যদি ধূসরের থেকে একবার শুনতে পারত,সে আজ ইউনিভার্সিটি গিয়েছে কী না! তবে যা বোঝার বুঝে নেবে।</p>\n<p>&#8216; কী? দাঁড়িয়ে আছিস কেন?&#8217;</p>\n<p>তার ধ্যান কা*টল। দুপা এগিয়ে গিয়ে আবার দাঁড়িয়ে গেল। ধূসরের দৃষ্টি বদলাল সন্দেহে। ওর উশখুশানি নজর বন্দী হতে কয়েক সেকেন্ড লাগে। ইকবাল  জ্বিভে,কৃষ্ণবর্ন  ঠোঁট  ভিজিয়ে বলল,</p>\n<p>&#8216; ইয়ে মানে,বলছিলাম যে বাড়ির সবাই কেমন আছে?&#8217;</p>\n<p>ধূসর একটুও অবাক হলোনা এমন ভঙিতে বলল,</p>\n<p>&#8216; ভালো।&#8217;</p>\n<p>&#8216; পিউয়ের পরীক্ষা কেমন হচ্ছে?&#8217;</p>\n<p>&#8216; শুনছি তো ভালো।&#8217;</p>\n<p>সে অকারণে সব দাঁত দেখিয়ে বলল,</p>\n<p>&#8216; ভালো,ভালো। তোর হিটলার চাচার কী খবর?&#8217;</p>\n<p>ধূসর চোখ রাঙাতেই, দাঁতে, জ্বিভ কে*টে বলল,</p>\n<p>&#8216; ভালো মানুষ আঙ্কেলের কী খবর?&#8217;</p>\n<p>&#8216; হঠাৎ সবার খোঁজ খবর নিচ্ছিস যে?&#8217;</p>\n<p>&#8216; এমনিই। তুই আমার বেস্টফ্রেন্ড, তোর পরিবার আমার পরিবার না?&#8217;</p>\n<p>&#8216; হু। বাড়ির সবাই ভালো আছে। এখন  আরেকটু বেশি ভালো থাকার কথা। খুশির খবর চলছে তো।&#8217;</p>\n<p>ইকবাল কপাল কুঁচকে বলল,</p>\n<p>&#8216; কী খবর? তোর চাচার আবার ইয়ে টিয়ে হবে না কী?&#8217;</p>\n<p>ধূসর চোখ গ*রম করে বলল,</p>\n<p>&#8216; উজবুকের মত কথা বলবিনা।&#8217;</p>\n<p>ইকবাল মাথা দোলাল। মনে মনে একটুখানি সুযোগ হাতাল পুষ্পর নাম উচ্চারণ করার। কিন্তু, ওই যে,চোরের মন পুলিশের মতো। পাছে ধূসর সন্দেহ করে বসলে!।</p>\n<p>&#8216; আর কোনও প্রশ্ন?&#8217;</p>\n<p>&#8216; হু? হ্যাঁ, না মানে ওই,খুশির সংবাদটা কী?&#8217;</p>\n<p>&#8216; পুষ্পর সঙ্গে  সাদিফের বিয়ে।&#8217;</p>\n<p>ইকবাল বেখেয়ালে মাথা দুলিয়ে বলল,</p>\n<p>&#8216; ও,ভালো।&#8217;</p>\n<p>হুশে ফিরতেই বজ্রাহ*তের ন্যায় তাকাল। আ*র্তনাদ করে বলল,</p>\n<p>&#8216; কীইইই?&#8217;</p>\n<p>ধূসর কাঁধ উঁচু করে বলল,</p>\n<p>&#8216; হ্যাঁ। এইত, কালই পাকাপাকি করল। দুদিনের ভেতর বোধহয় এনগেজমেন্টের দিনও ঠিক হবে।&#8217;</p>\n<p>ইকবালের কান ঝাঁ ঝাঁ করে উঠল। বক্ষে সাই করে একটা তী*র বসল। বুকটা বি*চ্ছিন্ন,ফালা-ফালা করল নিমিষে। এতটা দেবে বসল যে, এফোড়-ওফোড় হয়ে গেল সব। অদৃশ্য র*ক্ত ঝড়ল অনর্গল।  সে উত্তর দিতে পারল না। কেমন র*ক্তশূন্য চেহারায় ধূসরের মুখের দিক চেয়ে রইল। অক্ষিপটের শ্বেত রঙটা বিবর্ন,ফ্যাকাশে।  নিশ্চিত হতে, শুকনো খনখনে কণ্ঠে শুধাল,</p>\n<p>&#8216; কী বলছিস?&#8217;</p>\n<p>ধূসরের আনন্দিত জবাব,</p>\n<p>&#8216; ইয়েস! ঠিক শুনেছিস। এইত কদিনের মধ্যেই ওদের বিয়ের ডেট পরবে শুনলাম। ভাবছি, হলুদের প্রোগ্রাম অনেক বড় করে করব। উম,আমরা এক রকম পাঞ্জাবি নেই কী বলিস! আফটার অল, আমার পরিবার তোর পরিবার হলে, পুষ্প অলসো লাইক ইউর সিস্টার। &#8216;</p>\n<p>ইকবাল অদৃশ্য দুহাতে কান চে*পে ধরল নিজের। অদ্ভূত অদ্ভূত আর্ত*নাদ করল। কিন্তু কথা ফুটল না। পুষ্প তার বোন? না, ইহকালে না।</p>\n<p>ধূসর ভ্রু কুঁচকে বলল,</p>\n<p>&#8216; কী হয়েছে?&#8217;</p>\n<p>সে ক্লান্ত কণ্ঠে বলল,</p>\n<p>&#8216; পানি খাব।&#8217;</p>\n<p>ধূসর ছোট্ট শ্বাস ফেলে আশেপাশে তাকাল। সামীরকে দেখে আদেশ করল পানি দিয়ে যেতে। ইকবালের বুকে ব্য*থা উঠেছে। বিকল বিকল লাগছে হার্টবিট। যেন এক্ষুনি অ্যা*টাক-ফ্যাটাক করে লু*টিয়ে পরবে মাটিতে। তার পুষ্পরানির বিয়ে,অন্য কারো সাথে? সে ম*রে যাবে, বাঁচবে না। এই খা*রাপ,কু*ৎসিত দিন দেখার আগে ঝাঁ*প দেবে খাদে।</p>\n<p>যতটা কাতর ভাবে পানি চাইল সে,অতটা গলা দিয়ে নামল না। বোতলে এক চুমুক দিয়ে বাকীটা রেখে দিল। এদিকে ব্য*থা বাড়ছে। বাড়তে বাড়তে ছড়িয়ে পরছে শরীরের সবখানে। বাম পাশে মনে হচ্ছে বহ্নির লেলি*হান শিখা ঢেলে দিয়েছে কেউ। ধূসর কিছুই জানেনা এমন ভাণ করে বলল,</p>\n<p>&#8216; তাহলে কী বলিস? আমরা পার্টি অফিসের সবাই মিলে প্ল্যানিং শুরু করি?&#8217;</p>\n<p>ইকবাল নির্জীব দৃষ্টিতে তাকিয়ে শুধায়,</p>\n<p>&#8216; কীসের প্ল্যান যেন?&#8217;</p>\n<p>&#8216; পুষ্প আর সাদিফের বিয়ের? সিকদার ধূসর মাহতাবের ভাইবোনের বিয়ে,ধুমধাম করে হবে, বুঝতেই পারছিস।&#8217;</p>\n<p>ইকবালের মুখ তেঁতো হয়ে এলো। তিক্ততায় গলার কাছটা ফ্যাসফ্যাসে। ঢোক গিল*তেও যেন নরকীয় ক*ষ্ট। ধূসরের খুশিতে প্রথম বার তার বিতৃষ্ণা হলো,রা*গ হলো। চোখ ঠেলে বেরিয়ে আসতে চাইল চকচকে অশ্রু। গুমড়ে গুমড়ে কথা চে*পে রাখার এত য*ন্ত্রনা? এই জন্যেই কি পুষ্প কাল ওমন করেছিল? বাড়ির সবার রা*গ,ক্ষো*ভ ওর ওপর ঢেলেছে?</p>\n<p>ইকবালের বক্ষ যাত*না অস্থির ভঙিতে বৃহৎ হচ্ছে৷ চট করে বুকের বাম পাশ চে*পে ধরে বসে পরল পার্টি অফিসের সদর সিড়িতে।</p>\n<p>ধূসর ধড়ফড় করে ধরে বলল,</p>\n<p>&#8216; কী হলো?&#8217;</p>\n<p>ইকবাল সত্যিটা বলতে অক্ষম। বুক ডলতে ডলতে জবাব দিল,</p>\n<p>&#8216; এমনি। বুকে ব্য*থা করছে একটু।&#8217;</p>\n<p>&#8216; গ্যাস্ট্রিকের বোধহয়। খাসনি সকালে? ওষুধ আনাব,খাবি? &#8216;</p>\n<p>ইকবাল অসহায় চোখে তাকাল। তারপর ফেলল দীর্ঘশ্বাস। সে কী করে বোঝাবে? এই ব্য*থা কীসের? এক সৎ প্রেমিক পুরুষের, প্রেমিকা হারানোর পী*ড়া, দুনিয়ার কোনও ওষুধ সাড়ানোর যোগ্যতা রাখেনা। প্রেমের মাম*লায়,বুকটা আ*সামী। প্রেমিক কাঠগড়ায় দাঁড়ালেও উকিল হয়না কেউ।</p>\n<p>মাঝখান থেকে বিনা-দোষে হৃদয় শা*স্তি পায়। ফাঁসি হয় প্রেম ভালোবাসা আর মহব্বতের। এই নিদারূন খেলায় আজ থেকে ভাগ্য খেলোয়াড়। আর সে ছুটে চলা খেলোয়াড় দের পায়ে নি*ষ্ঠুর ভাবে ঠেলতে থাকা গোলাকার ফুটবল।</p>",
        "series": {
            "id": 9,
            "title": "এক সমুদ্র প্রেম",
            "slug": "ek-somudro-prem",
            "url": "https://golpohub.com/series/ek-somudro-prem",
            "thumbnail_url": "https://cdn.golpohub.com/covers/series-ek-smudr-prem-9-e2317b.webp",
            "progress_status": "completed"
        },
        "author": {
            "id": 8,
            "name": "নুসরাত সুলতানা সেঁজুতি",
            "slug": "nusrat-sultana-sejuti",
            "url": "https://golpohub.com/authors/nusrat-sultana-sejuti",
            "avatar_url": "https://cdn.golpohub.com/avatars/nusrat-sultana-sennjuti-8-9b0085.webp",
            "bio": "নুসরাত সুলতানা সেঁজুতি সমকালীন বাংলা অনলাইন কথাসাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় ও প্রভাবশালী কথাশিল্পী। গভীর মনস্তাত্ত্বিক টানাপোড়েন, রোমাঞ্চকর পারিবারিক ড্রামা এবং তীব্র আবেগময় সম্পর্কের জটিল সমীকরণ ফুটিয়ে তোলায় তাঁর লেখনী অনন্য ও শক্তিশালী। বাঙালি মধ্যবিত্ত যৌথ পরিবারের অভ্যন্তরীণ সংস্কৃতি, সম্পর্কের অন্তর্নিহিত মান-অভিমান এবং অব্যক্ত ভালোবাসার দোলাচলকে তিনি অত্যন্ত জীবন্ত ভাষায় জীবন্ত করে তোলেন।\n\nতাঁর প্রতিটি উপন্যাস পাঠককে শেষ পর্ব পর্যন্ত চুম্বকের মতো বেঁধে রাখে। সংলাপে দেশীয় কথ্যরীতির প্রাণবন্ত ব্যবহার, তীব্র আবেগঘন মুহূর্তের নিপুণ চিত্রায়ণ এবং নায়কের পজেসিভ ব্যক্তিত্বের সাথে কোমল অথচ একগুঁয়ে নায়িকার মানসিক সংঘাতকে রূপ দেওয়ায় সেঁজুতি পাঠকমহলে এক বিশেষ ঘরানা তৈরি করেছেন। ‘এক সমুদ্র প্রেম’ তাঁর লেখক জীবনের এক অনন্য সৃষ্টি, যা বাংলা ওয়েব উপন্যাসের ইতিহাসে পাঠকপ্রিয়তার নতুন মাইলফলক স্থাপন করেছে।",
            "series_count": 0,
            "meta": {
                "bio": "নুসরাত সুলতানা সেঁজুতি সমকালীন বাংলা অনলাইন কথাসাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় ও প্রভাবশালী কথাশিল্পী। গভীর মনস্তাত্ত্বিক টানাপোড়েন, রোমাঞ্চকর পারিবারিক ড্রামা এবং তীব্র আবেগময় সম্পর্কের জটিল সমীকরণ ফুটিয়ে তোলায় তাঁর লেখনী অনন্য ও শক্তিশালী। বাঙালি মধ্যবিত্ত যৌথ পরিবারের অভ্যন্তরীণ সংস্কৃতি, সম্পর্কের অন্তর্নিহিত মান-অভিমান এবং অব্যক্ত ভালোবাসার দোলাচলকে তিনি অত্যন্ত জীবন্ত ভাষায় জীবন্ত করে তোলেন।\n\nতাঁর প্রতিটি উপন্যাস পাঠককে শেষ পর্ব পর্যন্ত চুম্বকের মতো বেঁধে রাখে। সংলাপে দেশীয় কথ্যরীতির প্রাণবন্ত ব্যবহার, তীব্র আবেগঘন মুহূর্তের নিপুণ চিত্রায়ণ এবং নায়কের পজেসিভ ব্যক্তিত্বের সাথে কোমল অথচ একগুঁয়ে নায়িকার মানসিক সংঘাতকে রূপ দেওয়ায় সেঁজুতি পাঠকমহলে এক বিশেষ ঘরানা তৈরি করেছেন। ‘এক সমুদ্র প্রেম’ তাঁর লেখক জীবনের এক অনন্য সৃষ্টি, যা বাংলা ওয়েব উপন্যাসের ইতিহাসে পাঠকপ্রিয়তার নতুন মাইলফলক স্থাপন করেছে।",
                "phone": null,
                "gender": "female",
                "address": {
                    "city": "Dhaka",
                    "street": "Mirpur 10, Dhaka",
                    "country": "Bangladesh"
                },
                "birth_date": "2001-02-08",
                "social_links": {
                    "facebook": "https://facebook.com/100571068399797"
                },
                "pen_name": "নুসরাত সুলতানা সেঁজুতি",
                "aliases": [
                    "Nusrat Sultana Sejuti",
                    "সেঁজুতি",
                    "Nusrath Sultana Sejuti"
                ]
            },
            "timestamps": {
                "created_at": null,
                "updated_at": null
            }
        },
        "navigation": {
            "previous_episode": {
                "id": 525,
                "ep_number": 35,
                "title": "অসহায় প্রেম ও অভয়বাণী",
                "slug": "ek-somudro-prem-s1-ep35",
                "url": "https://golpohub.com/episodes/ek-somudro-prem-s1-ep35",
                "thumbnail_url": "https://golpohub.com/assets/images/og.jpg"
            },
            "next_episode": {
                "id": 527,
                "ep_number": 37,
                "title": "অসহ্য ঈর্ষা ও তীব্র যন্ত্রণা",
                "slug": "ek-somudro-prem-s1-ep37",
                "url": "https://golpohub.com/episodes/ek-somudro-prem-s1-ep37",
                "thumbnail_url": "https://golpohub.com/assets/images/og.jpg"
            }
        }
    }
}