{
    "_links": {
        "html": "https://golpohub.com/episodes/ekdin-tumio-bhalobashbe-s1-ep14",
        "json": "https://golpohub.com/episodes/ekdin-tumio-bhalobashbe-s1-ep14?format=json",
        "markdown": "https://golpohub.com/episodes/ekdin-tumio-bhalobashbe-s1-ep14?format=md",
        "rss": "https://golpohub.com/episodes/ekdin-tumio-bhalobashbe-s1-ep14?format=rss",
        "atom": "https://golpohub.com/episodes/ekdin-tumio-bhalobashbe-s1-ep14?format=atom"
    },
    "seo": {
        "canonical_url": "https://golpohub.com/episodes/ekdin-tumio-bhalobashbe-s1-ep14",
        "title": "একদিন তুমিও ভালোবাসবে পর্ব ১৪ - রক্তাক্ত চোটের শাসন | Ekdin Tumio Bhalobashbe Part 14",
        "description": "পড়ুন একদিন তুমিও ভালোবাসবে পর্ব ১৪। মৌমিতাকে বাঁচাতে আহত আদিত্যের নাটকীয় উদ্ধার!",
        "keywords": "একদিন তুমিও ভালোবাসবে পর্ব ১৪, ekdin tumio bhalobashbe part 14, ekdin tumio bhalobashbe porbo 14, আদিত্য, মৌমিতা, জিয়া, রক্তাক্ত চোটের শাসন",
        "image_url": "https://golpohub.com/assets/images/og.jpg",
        "schema": {
            "@context": "https://schema.org",
            "@graph": [
                {
                    "@type": "Chapter",
                    "name": "রক্তাক্ত চোটের শাসন",
                    "position": 14,
                    "description": "ক্লাসরুমে মিথ্যা চক্রান্তে মৌমিতা যখন বহিষ্কারের মুখে, রক্তাক্ত ক্ষতবিক্ষত দেহে দরজায় এসে দাঁড়ায় আদিত্য। অসুস্থ শরীর নিয়ে মৌমিতাকে বাঁচাতে এসে কেন সে নিজের ড্রাইভারের সিটে এক অবাধ্য শর্ত মেনে নিল?",
                    "url": "https://golpohub.com/episodes/ekdin-tumio-bhalobashbe-s1-ep14",
                    "inLanguage": "bn",
                    "timeRequired": "PT13M",
                    "datePublished": "2026-09-16T00:07:13+00:00",
                    "dateModified": "2026-09-16T00:12:44+00:00",
                    "wordCount": 2018,
                    "image": "https://cdn.golpohub.com/covers/episodes/chapter-chapter-2636-3a33bd.webp",
                    "accessibilityFeature": [
                        "readingOrder",
                        "structuralNavigation",
                        "displayTransformability",
                        "uncontracted"
                    ],
                    "accessibilityControl": [
                        "fullKeyboardControl",
                        "fullTouchControl"
                    ],
                    "accessibilityHazard": [
                        "none"
                    ],
                    "potentialAction": {
                        "@type": "ReadAction",
                        "target": "https://golpohub.com/episodes/ekdin-tumio-bhalobashbe-s1-ep14"
                    },
                    "isPartOf": {
                        "@type": [
                            "BookSeries",
                            "CreativeWorkSeries"
                        ],
                        "name": "একদিন তুমিও ভালোবাসবে",
                        "url": "https://golpohub.com/series/ekdin-tumio-bhalobashbe"
                    },
                    "author": {
                        "@type": "Person",
                        "name": "কোয়েল ব্যানার্জী আয়েশা",
                        "url": "https://golpohub.com/authors/koyel-banerjee-ayesha"
                    }
                },
                {
                    "@type": "BreadcrumbList",
                    "itemListElement": [
                        {
                            "@type": "ListItem",
                            "position": 1,
                            "name": "Golpo Hub",
                            "item": "https://golpohub.com"
                        },
                        {
                            "@type": "ListItem",
                            "position": 2,
                            "name": "সিরিজসমূহ",
                            "item": "https://golpohub.com/series"
                        },
                        {
                            "@type": "ListItem",
                            "position": 3,
                            "name": "একদিন তুমিও ভালোবাসবে",
                            "item": "https://golpohub.com/series/ekdin-tumio-bhalobashbe"
                        },
                        {
                            "@type": "ListItem",
                            "position": 4,
                            "name": "রক্তাক্ত চোটের শাসন",
                            "item": "https://golpohub.com/episodes/ekdin-tumio-bhalobashbe-s1-ep14"
                        }
                    ]
                }
            ]
        }
    },
    "filters": [],
    "data": {
        "id": 2636,
        "ep_number": 14,
        "title": "রক্তাক্ত চোটের শাসন",
        "slug": "ekdin-tumio-bhalobashbe-s1-ep14",
        "url": "https://golpohub.com/episodes/ekdin-tumio-bhalobashbe-s1-ep14",
        "reading_time": 13,
        "thumbnail_url": "https://cdn.golpohub.com/covers/episodes/chapter-chapter-2636-3a33bd.webp",
        "yt_video_id": null,
        "yt_video_url": null,
        "timestamps": {
            "published_at": "2026-09-16T00:07:13+00:00",
            "updated_at": "2026-09-16T00:12:44+00:00"
        },
        "meta": {
            "word_count": 2018,
            "seo_title": "একদিন তুমিও ভালোবাসবে পর্ব ১৪ - রক্তাক্ত চোটের শাসন | Ekdin Tumio Bhalobashbe Part 14",
            "seo_description": "পড়ুন একদিন তুমিও ভালোবাসবে পর্ব ১৪। মৌমিতাকে বাঁচাতে আহত আদিত্যের নাটকীয় উদ্ধার!",
            "keywords": "একদিন তুমিও ভালোবাসবে পর্ব ১৪, ekdin tumio bhalobashbe part 14, ekdin tumio bhalobashbe porbo 14, আদিত্য, মৌমিতা, জিয়া, রক্তাক্ত চোটের শাসন",
            "characters_involved": [
                "আদিত্য",
                "মৌমিতা",
                "জিয়া",
                "হরি কাকা"
            ]
        },
        "content": "আমি অবাক হয়ে ভাবছি এসব কি করে হলো? আর চোখে দেখলাম জিয়া হাসছে। বুঝতে বাকি রইলো না কে কাজটা করেছে। আমি বেরোচ্ছি না দেখে ম্যাম আমার দিকে এগিয়ে এসে আমার হাত ধরতে যাবেন এমন সময়….\n\n‘এক মিনিট ম্যাডাম।’\n\nআমরা সবাই দরজার দিকে তাকাতেই দেখলাম আদিত্য একহাতে ভর করে দরজা ধরে দাঁড়িয়ে আছেন। ওনার কপালে গোল করে ব্যান্ডেজ করা।\n\n‘একি আদিত্য? তুমি এখানে কি করছো?’\n\nম্যাডামের কথা শুনে আদিত্য এগিয়ে আসতে শুরু করে ম্যাডামের দিকে। উনি একটু খুঁড়িয়ে হাঁটছেন দেখে ম্যাডাম জিজ্ঞেস করলেন,\n\n‘একি আদিত্য? তোমার এমন অবস্থা কি করে? এই অবস্থায় কেন এসেছো তুমি?’\n\nউনি ম্যাডামের কথায় মুচকি হেসে ডান হাতে একটা কপি ম্যাডামের দিকে এগিয়ে দিলেন। ওনার ডান হাতেও ব্যান্ডেজ করা। উনি আমার দিকে তাকালেন কিন্তু আজ আমি চোখ সরালাম না। আমার দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে তাচ্ছিল্য হেসে ম্যাডামকে বললেন,\n\n‘আমি চাই না আমার জন্য আর কোনো ক্ষতি হোক কাওর। তাই চলে এসেছি।’\n\nম্যাডাম কপি টা হাতে নিয়ে অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলেন,\n\n‘এটা তো মৌমিতার কপি। তোমার কাছে কি করে গেলো?’\n\n‘ম্যাডাম মৌমিতা যখন আপনাকে কপিটা সাবমিট করেছিল তখন এই কপিটাই করেছিলো। কিন্তু পরবর্তীকালে ওটা চেঞ্জ করে দেওয়া হয়। সবাই কম্পিটিশন নিয়ে ব্যস্ত ছিলো তাই কাওর চোখে পড়েনি, আমার চোখে ভাগ্যবশত পরে গেছিলো।’\n\n‘কি বলছো এসব? কে করেছে এমন কাজ?’\n\nআদিত্য ম্যাডামের কথা শুনে একটু পিছিয়ে গিয়ে সবাইকে উদ্দেশ্য করে বললেন,\n\n‘কাজটা যে করেছিস সে এই ক্লাসেই আছিস এখন। আমি চাই সে নিজের মুখে স্বীকার করুক তাহলে হয়তো শাস্তিটা কম হবে আর যদি তার নাম আমাকে বলতে হয় তাহলে পরিণাম ভালো হবে না।’\n\n‘আদিত্য এসব কি বলছো তুমি?’\n\nম্যাডামের প্রশ্ন শুনে আদিত্য অনেকটা রেগেই উত্তর দিলো,\n\n‘ম্যাডাম অনেকে হয়তো ভুলে গেছে আমি কে, কি করতে পারি। সহ্য করছি বলে যে যা ইচ্ছে তাই করবে সেটা এবার থেকে আর হবে না। তাই আবারও বলছি, শাস্তি কম পেতে চাইলে নিজেই স্বীকার করুক নাহলে…\n\n‘আ..আমি! আমি করেছি।’\n\nআমি অবাক হয়ে গেলাম জিয়া কে দাঁড়াতে দেখে। আমি ভাবিনি জিয়া স্বীকার করে নেবে। কিন্তু এখন আমার চোখ আর মন শুধুমাত্র আদিত্যের দিকেই তাকিয়ে থাকতে চাইছে আর কথা বলতে চাইছে। উনি এখনও উত্তর দিলেন না কিভাবে এরকম অবস্থা হলো ওনার। জিয়া উঠে দাঁড়াতেই উনি আমার দিকে তাকিয়ে সামান্য হাসলেন যাতে আমার বুকের ভিতর টা কেমন মোচড় দিয়ে উঠলো।\n\n‘আমার কাজ শেষ ম্যাডাম, আমি আসছি।’\n\n‘দাঁড়াও, আমি সাহায্য করছি। তুমি বললে না কি করে হলো এমনটা?’\n\n‘না না ম্যাডাম আমি ঠিক আছি। সামান্য একটা একসিডেন্ট হয়েছিল দ্যাট সেট।’\n\n‘কোনো কথা শুনছিনা। আমি এগিয়ে দিচ্ছি।’\n\nম্যাডাম আদিত্যের দিকে হাত বাড়ালে উনি ম্যাডামের হাতের উপর হাত রেখে একবার আমার দিকে তাকালেন তারপর জিয়ার দিকে তাকালেন। দরজার কাছে গিয়ে ম্যাডাম কে কিছু একটা বলতে লাগলেন,\n\n‘ম্যাডাম আমার হয়ে শাস্তিটা আপনিই বলে দিন।’\n\n‘কিন্তু আদিত্য আমি কি শাস্তি দেবো বলো?’\n\n‘আমি ভাবতেও পারছি না ভার্সিটির সব থেকে রাগী ম্যাডাম এই কথাটা বলছেন?’\n\n‘বলছি তার কারণ জিয়ার বাবা মোটেও ভালো মানুষ নন। যে কাওর ক্ষতি করে দিতে পারেন উনি। আর কদিনের মধ্যেই ডিরেক্টর হবেন আমাদের ভার্সিটির।’\n\n‘এমন শাস্তি দিন যাতে সাপ ও মরে আর লাঠিও না ভাঙে।’\n\nওনারা কি কথা বলছেন শোনা যাচ্ছে না। আমি শুধু অপেক্ষা করছি কখন ম্যাডাম ছুটি দেবেন আমি ওনার কাছে যাবো। সেই কাল রাত থেকে হওয়া অস্বস্তির কারণ বোধহয় এটাই। ওনার ক্ষতি হয়েছে বলেই হয়তো মনটা এতো অশান্ত হয়ে উঠেছিল। ইশ, একটা ফোন করতে পারতাম আমি। কেন যে…\n\n‘সো স্টুডেন্টস, আমি বাকি কপিগুলো নেক্সট ডে চেক করে তোমাদেরকে ফেরত দেবো। আজকে আমি নিউ একটা অ্যাসাইনমেন্ট দিচ্ছি তোমাদের যেটা তোমাদের করতে হবে না।’\n\n‘মানে? ঠিক বুঝলাম না ম্যাম।’\n\n‘মানে এটাই যে তোমাদের সকলের অ্যাসাইনমেন্ট জিয়া কমপ্লিট করে আনবে। এটা ওর দায়িত্ব বলতে পারো। তা জিয়া, তুমি করে আনবে তো? নাহলে কিন্তু পানিশমেন্ট পেতে হবে।’\n\nম্যামের কথা শুনে বুঝলাম এটা নিয়ে আদিত্যের সাথে কথা বলছিলেন উনি। আমার জানো আর তর সইছে না বাধ্য হয়ে ম্যামকে উঠে দাঁড়িয়ে বললাম,\n\n‘ম্যাম, আমি কি যেতে পারি? আসলে ওনাকে থ্যাংক ইউ বলা হয়নি তাই…\n\n‘অফকোর্স! তুমি যেতে পারো আর হ্যাঁ, আমার ব্যবহারে কিছু মনে করো না।’\n\n‘ইটস ওকে ম্যাম।’\n\nআমি নিজের ব্যাগটা নিয়ে পড়ি কি মরি করে ছুটলাম আদিত্যের কাছে যাবো বলে। কিন্তু উনি কোথায়? নিশ্চই ভার্সিটির বাইরের দিকে গেছেন। যেভাবে হাঁটছিলেন তাতে মনে হয় না ভার্সিটির বাইরে যেতে পেরেছেন বলে তাই আমি আগে পৌঁছে যাবো যদি অন্যদিক দিয়েও যান। যেই ভাবা সেই কাজ ছুটলাম ভার্সিটির গেটের দিকে।\n\n২৮.\nআদিত্য রীতিমতো খোঁড়াচ্ছে। শরীরটা জানো চলছে না তার। পায়ে জোরই পাচ্ছে না এগিয়ে যাওয়ার জন্য। একটু করে হাঁটছে তো একটু করে দাঁড়াচ্ছে। অসহ্য ব্যাথা শুরু হয়ে গেছে হেঁটে আসার ফলে। ডক্টর বলেই দিয়েছিল হাঁটাচলা করতে না কয়েকদিন। চোটটা বেশ ভালোই লাগে মাথায় আর পায়ে। কিন্তু মৌমিতার কথা মনে হতেই ডাক্তারের সব কথা সে ভুলে গেছে, শুধু এটাই মনে হয়েছে মৌমিতাকে হ্যারাস হতে দেওয়া যাবে না, কোনোমতেই না! তাই তো সে কোনো কিছুর পরোয়া না করেই ছুটে এসেছে। এসবই দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কিছুক্ষণ ভাবার পর আদিত্য পা বাড়াতে নিলে কেউ পিছন থেকে ধাক্কা মারে।\n\nআমি ছুটে আসছিলাম এমন সময় দেখলাম আদিত্য দাঁড়িয়ে আছেন। আমি ওনার দিকে এগোতে শুরু করলেই দেখলাম একটা ছেলে ওনাকে ধাক্কা মারলো তাই সঙ্গে সঙ্গে ওনার সামনে গিয়ে ওনাকে ধরে নিলাম।\n\n‘আদিত্য! আপনি ঠিক আছেন?’\n\nঠিক সময়ে আমি আদিত্যকে না ধরলে উনি পরেই যেতেন। উনি আমার কথা শুনে আমার দিকে তাকালে দেখলাম মুখটা লাল হয়ে গেছে। উনি সোজা হয়ে দাঁড়ালেন, তাতেও যে কষ্ট হচ্ছে সেটা মুখভঙ্গি দেখেই বুঝতে পারলাম।\n\n‘আমি ঠিক আছি। থ্যাংক ইউ।’\n\n‘থ্যাংক ইউ তো আমার বলার কথা।’\n\n‘কি জন্য? তোমার কপি টা ঠিক সময় সাবমিট করেছি তার জন্যে?’\n\n‘না। আমাকে নিয়ে এতটা ভাবার জন্যে।’\n\nআমার কথা শুনে উনি আমার দিকে তাকালেন। আমিও ওনার দিকেই তাকিয়ে রয়েছি। জানি না কেন এই কথাটা আমি বললাম। নিজের আনমনেই বলে ফেলেছি কথাটা কিন্তু ভুল কিছু বলিনি। আমার জন্য ভাবেন বলেই তো এই অবস্থায়, এতটা কষ্ট সহ্য করে আজ এখানে এসেছেন। উনি আমার থেকে চোখ সরিয়ে নিয়ে ইতস্তত করে বললেন,\n\n‘আমি, আমি বাড়ি যাচ্ছি। পরে কথা হবে।’\n\nআদিত্য আমার হাত ছাড়িয়ে নিতে চাইলে আমি আরও শক্ত করে ওনার হাতটা ধরলাম। উনি আমার দিকে সেটা দেখে তাকালে আমি বললাম,\n\n‘আমি জানি আপনার কষ্ট হচ্ছে। আর ক্ষতি করার লোকের তো অভাব নেই বলুন? আমি সাহায্য করছি চলুন।’\n\nআমার কথার পরিপ্রেক্ষিতে উনি আমার হাতটা শক্ত করে ধরে সামনের দিকে তাকালে আমিও সেদিকেই তাকাই, উনি হেসে বলেন,\n\n‘ক্ষতি করার লোক যতই থাকুক, এভাবে শক্ত করে হাত ধরে থাকার লোক থাকলে কোনো কিছুই কেউ করতে পারবে না। তুমি খুব লাকি যে প্রথম থেকেই ভালো বন্ধু পেয়ে এসেছো।’\n\nকথাটা উনি সৌভিকদার দিকে তাকিয়ে কোয়েল আর অঙ্কিতের উদ্দেশ্যে বললেন তা বুঝতে বাকি রইল না। ওনাকে ধাক্কাটা সৌভিকদাই মেরেছে। ফ্রেশার পার্টিতে আদিত্য যে ব্যবহার করেছিলেন সেটারই হয়তো প্রতিশোধ নিতে চেয়েছিলেন আদিত্যের এই অবস্থার সুযোগ নিয়ে। আমি কথা না বাড়িয়ে আদিত্যকে নিয়ে এগিয়ে যেতে থাকলাম। ভার্সিটির বাইরে আসতেই আদিত্য বললেন,\n\n‘তুমি ক্লাসে চলে যাও। আমি যেতে পারবো, গাড়ি এনেছি।’\n\nআমি ওনার কথা শুনে অবাক হয়ে ওনাকে জিজ্ঞেস করলাম,\n\n‘ড্রাইভার এনেছেন?’\n\n‘না। একাই পারবো যেতে। তুমি যাও।’\n\n‘আপনার কি মাথায় চোট লেগে মাথা খারাপ হয়ে গেছে? না মানে এই অবস্থায় আপনি নিজে গাড়ি চালিয়ে এসেছেন আবার এখন নিজে গাড়ি চালিয়ে যাবেন? সত্যি কি যে বলবো আপনাকে সেটাই ভেবে পাচ্ছি না। চুপ! চুপ একদম, চলুন আপনার গাড়ির সামনে।’\n\nউনি কিছু বলতে গেলে ওনাকে থামিয়ে দিয়ে ওনার গাড়ির সামনে যেতে লাগলাম। যেতে যেতে উনি দাঁড়িয়ে গেলেন হঠাৎ করেই।\n\n‘কি হয়েছে? মাথা ঘুরছে নাকি?’\n\nকোনো কিছু না বলেই উনি আমার কাঁধে ডান হাত রেখে আমার ডান হাতটা শক্ত করে ধরলে, আমিও বাঁ হাত দিয়ে ওনার কোমর ধরে নিলাম। ওনার কানের কাছে বললাম,\n\n‘খুব কষ্ট হচ্ছে?’\n\nউনি এখনও কিছু বলছেন না। চোখে জল চলে এসেছে আমার ওনার এই অবস্থা দেখে। কিছুক্ষণ সময়ের মধ্যেই আমরা ওনার গাড়ির কাছে পৌঁছালাম।\n\n‘অনেক হয়েছে মৌমিতা। এবার তুমি ক্লাসে যাও। নাহ আর নয়, অনেক হেল্প করেছ তুমি আমার। আমি চাই না আমার জন্য তোমার আর কোনো ক্ষতি হোক। একটা কথা কি বলো তো, মানুষ নিজের অজান্তে কোনো ভুল করলে সেটাকে ভুল বলে মেনে নেওয়া যায় আর জেনে বুঝে ভুল করলে সেটাকে অন্যায় বলা হয়। আর আদিত্য ব্যানার্জী না কোনোদিন নিজে অন্যায় করেছে আর না কোনো অন্যায় সাপোর্ট করেছে। তুমি চলে যাও। কোয়েল আর তোমার অঙ্কিত খুঁজছে হয়তো তোমায়।’\n\nআমাকে কোনো কথা না বলতে দিয়ে উনি নিজের কথা শেষ করে গাড়ির ড্রাইভিং সিটে উঠতে গেলে আমি বাঁধ সাধলাম।\n\n‘চুপচাপ এখানে বসুন। বসুন বলছি!’\n\n‘আরে, কিন্তু কেন?’\n\n‘বসতে বলেছি বসবেন আর একটাও বাড়তি কথা নয়। কি হলো বসুন!’\n\nধমক দিতেই উনি চুপচাপ উঠে বসলেন আর আমি সামান্য হেসে ড্রাইভিং সিটে উঠে বসলাম। সিট বেল্ট লাগিয়ে ওনার দিকে তাকাতেই দেখলাম উনি অবাক হয়ে তাকিয়ে আছেন,\n\n‘চাবি টা দিন। এভাবে কি দেখছেন?’\n\n‘তুমি ড্রাইভিং জানো?’\n\n‘কেন? মিডিল ক্লাস মেয়েরা বুঝি ড্রাইভিং জানতে পারে না?’\n\nওনার থেকে চাবিটা নিয়ে গাড়ি স্টার্ট দিতেই উনি বললেন,\n\n‘জিয়ার সাথে আমাকে গুলিয়ে ফেলোনা। আমি মানুষকে ইম্পরটেন্স দি, তার ক্লাসকে নয়।’\n\nআমি হাসলাম ওনার কথা শুনে কারণ এটা আমি অনেক আগেই জানি যে, উনি জিয়ার মতন নয়। ইনফ্যাক্ট উনি কাওর মতোই নন। সবার থেকে আলাদা উনি।\n\n‘একসিডেন্ট টা হলো কীভাবে?’\n\nউনি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন,\n\n‘ভুলবশত রাগের মাথায় বাইক নিয়ে বেরিয়ে গেছিলাম। রাগের মাথায় ড্রাইভ করলে একসিডেন্ট আমার হয়ই। বাট রাগ এতটাই ছিলো যে কি করছিলাম, কি বলছিলাম কোনো রকম হিতাহিত জ্ঞানই কাজ করছিল না আমার।’\n\n‘এতো রাগের কারণ?’\n\nআমার এই প্রশ্নে আদিত্য চুপ করে গেলেন। কিছু একটা ভাবছেন মনে হচ্ছে,\n\n‘সেটাই তো জানি না আমি মৌমিতা। কেন কালকে আমি তোমার সাথে অঙ্কিতকে দেখে নিজেকে ঠিক\nরাখতে পারিনি আমি জানি না। শুধু এটুকু জানি তোমার সাথে অঙ্কিতকে সহ্য করাটা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। তোমার সাথে অঙ্কিতের কথা বলা, ওর টোনার হাত ধরাতেই আমি রেগে গেছিলাম। আমার মাথার ঠিক ছিলো না, কিন্তু কেন এই রাগ আনার হয়েছে আমি জানি না। সত্যিই জানি না!’\n\n‘আমার সাথে অঙ্কিতের সম্পর্কটা শুধু বন্ধুত্বের।’\n\nআমার কথা শুনে উনি আমার দিকে তাকালেন যা আমি ড্রাইভ করতে করতে লক্ষ্য করলাম। জানলার দিকে তাকিয়ে শুধু বললেন,\n\n‘সেটুকু থাকলেই ভালো।’\n\nমনে মনে হাসলাম ওনার কথা শুনে। কালকে থেকে যে অস্বস্তিটা হচ্ছিল তা ওনার সাথে থাকার ফলে চলে গেছে তা ভালোই বুঝতে পারছি। দেখতে দেখতে ওনার বাড়ির সামনে এসে পড়লাম। ওনাকে নামতে বারণ করে আমি নিজে নেমে ওনাকে নামতে সাহায্য করলাম। কিছুক্ষন আগের মতোই ওনার ডান হাত নিজের কাঁধের উপর নিয়ে, এক হাতে ওনার কোমর জড়িয়ে ধরে আরেক হাতে ওনার বাম হাত শক্ত করে ধরলাম।\n\n‘হরি কাকা, ওনার রুমটা খুলে দাও তো।’\n\nহরি কাকা আসতেই হরি কাকে বলে দিয়ে আসতে আসতে ওনাকে নিয়ে বাড়ির ভিতরে চলে গেলাম। সিঁড়ি দিয়ে অনেক ধীরে ধীরে উঠলাম ওনাকে, প্রচুর কষ্ট হচ্ছে সিঁড়ি দিয়ে উঠতে বোঝাই যাচ্ছে। না জানি কীভাবে নেমেছিলেন। ওনার ঘরে গিয়ে ওনাকে বিছানায় বসিয়ে দিতেই হরি কাকা এলেন।\n\n‘কাকা, আপনি ওনার খেয়াল রাখবেন। উনি জানো এক পা ঘরের বাইরে না ফেলেন পুরোপুরি সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত।’\n\n‘আমি কেন, তুমিই তো ওনার খেয়াল রাখতে পারো বউমা।’\n\nহরি কাকার কথা শুনে আমি চুপ করে গেলাম। আড় চোখে দেখলাম আদিত্য আমার দিকে করুন ভাবে তাকিয়ে আছে কিন্তু কেন?\n\n‘কাকা তোমার বউমার পড়াশোনা আছে। তার আমার জন্য সময় নেই।’\n\nআদিত্যের কথায় আমি ওনার দিকে চোখ বড়ো করে তাকাতেই আদিত্য মাথা নিচু করে ঠোঁট উল্টে ফেললেন বাচ্চাদের মতো। ওনার উপর রাগ দেখাবো না কি করবো আমি বুঝতে পারছি না এই মুহূর্তে। হরি কাকাকে বললাম,\n\n‘তুমি ওর জন্যে একটু সুপ নিয়ে আসো। আমি খাইয়ে চলে যাবো।’\n\nএরপর আদিত্যর দিকে তাকাতেই দেখলাম আদিত্য হাসছেন, আমি তাকাতেই চুপ করে গেলেন। আমি ছোটো ছোটো চোখ করে ওনাকে জিজ্ঞেস করলাম,\n\n‘মতলব টা কি হম?’\n\n‘আরেকটু থাকো না।’\n\nখুবই আস্তে কথাটা বললেও আমি শুনতে পেলাম কিন্তু উনি কথাটা আমায় শুনতে দিতে চাইনি বলে ভান করে থাকলাম না শোনার। তাহলে কি ওনারও আমার মতোই অনুভব হয়? আমার যেমন ওনার সাথে থাকতে, সময় কাটাতে ভালো লাগে তেমন কি..?? ধুর, কিসব যে ভাবছি। নিজে নিজেই এসব ভাবছি আর লজ্জা পাচ্ছি, ধ্যাৎ!\n\nকিছুক্ষণ পর হরি কাকা সুপ দিয়ে গেলে আমি সেটা ওনাকে খাওয়াতে খাওয়াতে অনেকরকম গল্প করতে থাকলাম। সব শেষে আমি যখন বেরোতে যাবো তখন উনি হঠাৎই আমার হাত পিছন থেকে টেনে ধরলেন। ওনার দিকে তাকাতেই উনি বললেন,\n\n‘আমি যে কদিন ভার্সিটি যেতে পারবো না সে কটাদিন খুব সাবধানে থাকবে। জিয়া আর সৌভিক একা তোমাকে পেলে অনেক কিছুই করতে পারে তাই কোয়েল আর, আর অঙ্কিতের সাথেই থাকবে। বন্ধুর মতো, ঠিক আছে?’\n\nওনার শেষের কথাটা শুনে না হেসে পারলাম না। এদিকে উনি আমার হাসি দেখে বাচ্চাদের মতো গাল ফুলালে আমি আরো জোরে হেসে ফেললাম। উনি ফোন হাতে নিয়ে কাওকে ফোন করে বললেন,\n\n‘ম্যাডাম নীচে যাচ্ছে। ওনাকে ওনার হস্টেলে ঠিক ভাবে পৌঁছে দিয়ে তারপর আসবে।’\n\n‘আপনার ড্রাইভার থাকা স্বত্বেও নিজে পাকামী মেরে ড্রাইভ কেন করেছেন এই অবস্থায়?’\n\nআমার প্রশ্ন শুনে উনি একটা ক্যাবলা হাসি দিলে আমি নিচে চলে আসি।\n\nনিচে নামতেই আমার ফোনে মেসেজ আসে, “সাবধানে যাবে।” হে ভগবান! একসিডেন্ট হয়েছে ওনার আর খেয়াল রাখছে উনি আমার। কেন এত খেয়াল রাখছেন আমার? এটা নিয়ে আর না ভেবে আমি হস্টেলে চলে এলাম। কিন্তু ওনাকে এভাবে একা ছেড়ে আসতে কেন জানো মন চাইছে না।",
        "series": {
            "id": 73,
            "title": "একদিন তুমিও ভালোবাসবে",
            "slug": "ekdin-tumio-bhalobashbe",
            "url": "https://golpohub.com/series/ekdin-tumio-bhalobashbe",
            "thumbnail_url": "https://cdn.golpohub.com/covers/series-ekdin-tumioo-valobasbe-73-7ed239.webp",
            "progress_status": "completed"
        },
        "author": {
            "id": 58,
            "name": "কোয়েল ব্যানার্জী আয়েশা",
            "slug": "koyel-banerjee-ayesha",
            "url": "https://golpohub.com/authors/koyel-banerjee-ayesha",
            "avatar_url": "https://cdn.golpohub.com/avatars/author-kozel-bzanarjee-azesa-58-e3b374.webp",
            "bio": "কোয়েল ব্যানার্জী আয়েশা সমকালীন বাংলা অনলাইন কথাসাহিত্যের একজন জনপ্রিয় ও আবেগপ্রবণ কথাসাহিত্যিক। তরুণ প্রজন্মের মনস্তাত্ত্বিক টানাপোড়েন, পারিবারিক অনুশাসন, কলেজ ক্যাম্পাসের রাজনীতি এবং প্রেমের ভেতরকার তীব্র অভিমান ও অধিকারবোধকে নিখুঁত লেখনীতে ফুটিয়ে তোলাই তাঁর স্বকীয় বৈশিষ্ট্য। পাঠকদের হৃদয় স্পর্শ করার অদ্ভুত ক্ষমতা এবং বাস্তবসম্মত সংলাপ নির্মাণের কারণে তাঁর সৃষ্ট চরিত্রগুলো তরুণ সমাজের কাছে অত্যন্ত জীবন্ত ও সমাদৃত।",
            "series_count": 0,
            "meta": {
                "bio": "কোয়েল ব্যানার্জী আয়েশা সমকালীন বাংলা অনলাইন কথাসাহিত্যের একজন জনপ্রিয় ও আবেগপ্রবণ কথাসাহিত্যিক। তরুণ প্রজন্মের মনস্তাত্ত্বিক টানাপোড়েন, পারিবারিক অনুশাসন, কলেজ ক্যাম্পাসের রাজনীতি এবং প্রেমের ভেতরকার তীব্র অভিমান ও অধিকারবোধকে নিখুঁত লেখনীতে ফুটিয়ে তোলাই তাঁর স্বকীয় বৈশিষ্ট্য। পাঠকদের হৃদয় স্পর্শ করার অদ্ভুত ক্ষমতা এবং বাস্তবসম্মত সংলাপ নির্মাণের কারণে তাঁর সৃষ্ট চরিত্রগুলো তরুণ সমাজের কাছে অত্যন্ত জীবন্ত ও সমাদৃত।",
                "pen_name": "কোয়েল ব্যানার্জী আয়েশা",
                "aliases": [
                    "Koyel Banerjee Ayesha",
                    "কোয়েল ব্যানার্জী",
                    "Koyel Banerjee"
                ]
            },
            "timestamps": {
                "created_at": null,
                "updated_at": null
            }
        },
        "navigation": {
            "previous_episode": {
                "id": 2635,
                "ep_number": 13,
                "title": "নিশীথ রাতের অস্থিরতা",
                "slug": "ekdin-tumio-bhalobashbe-s1-ep13",
                "url": "https://golpohub.com/episodes/ekdin-tumio-bhalobashbe-s1-ep13",
                "thumbnail_url": "https://golpohub.com/assets/images/og.jpg"
            },
            "next_episode": {
                "id": 2637,
                "ep_number": 15,
                "title": "জ্বরের ঘোরে আধো নাম",
                "slug": "ekdin-tumio-bhalobashbe-s1-ep15",
                "url": "https://golpohub.com/episodes/ekdin-tumio-bhalobashbe-s1-ep15",
                "thumbnail_url": "https://golpohub.com/assets/images/og.jpg"
            }
        }
    }
}