> **বিকল্প ফরম্যাটসমূহ:** [এইচটিএমএল](https://golpohub.com/episodes/ekdin-tumio-bhalobashbe-s1-ep2) | [জেসন](https://golpohub.com/episodes/ekdin-tumio-bhalobashbe-s1-ep2?format=json) | [আরএসএস ফিড](https://golpohub.com/episodes/ekdin-tumio-bhalobashbe-s1-ep2?format=rss) | [অ্যাটম ফিড](https://golpohub.com/episodes/ekdin-tumio-bhalobashbe-s1-ep2?format=atom)

# ক্যাম্পাসে চেনা অচেনা

![ক্যাম্পাসে চেনা অচেনা](https://cdn.golpohub.com/covers/episodes/chapter-chapter-2624-7a161f.webp)

---
*[কোয়েল ব্যানার্জী আয়েশা](https://golpohub.com/authors/koyel-banerjee-ayesha)-এর [একদিন তুমিও ভালোবাসবে](https://golpohub.com/series/ekdin-tumio-bhalobashbe) সিরিজ থেকে*\n*আনুমানিক পড়ার সময়: 11 মিনিট*
- **মোট শব্দ:** 1,745
- **প্রকাশিত:** Sep 16, 2026
---

৪. চুপচাপ ক্লাসরুমের এক কোণে দাঁড়িয়ে আছি। সামনে সিনিয়ররা বসে হাসাহাসি করছে। নিজেকে প্রস্তুত করছি ওদের উত্তর দেওয়ার জন্য। তখনই ওদের মধ্যে থেকে একজন বলে উঠলো, ‘আশা করছি বুঝতে পারছো আমরা তোমার সিনিয়র?’ ছেলেটির কথা বলার ধরন দেখে আমার মোটেও পছন্দ হলো না। আমি সোজাসুজি উত্তর দিলাম, ‘হ্যাঁ বুঝতে পারছি তো? আপনারা আমার সিনিয়র তো আমি কি করবো?’ ‘বাহ, তুমি তো বেশ আমাদের থেকে এগিয়ে। একবারে কাজের কথায় চলে এলে। যাক ভালো, তাহলে শোনো কি করতে হবে তোমায়।’ ‘আপনাদের কি খেয়ে দেয়ে কাজ নেই? এভাবেই জুনিয়রদের র‍্যাগ করেন নাকি? জানেন এটা এখন আইনত অপরাধ?’ ‘জানি তো। তাই তো সবার উপর র‌্যাগ করিনা, কিছু টিপিক্যাল বেহেনজি ছাড়া।’ কথা শেষ হতেই ওদের পুরো গ্রুপ হাসাহাসি শুরু করলো। আমি ওখান থেকে রেগে বেরিয়ে আসতে নিলে ছেলেটি আমার হাত ধরে টান দেয় আর আমি আমার হাত ছাড়িয়ে সজোরে একটা চড় বসিয়ে দি ওর গালে। ওর বন্ধুরা রেগে বলে, ‘এইটারই তো অপেক্ষা করছিলাম আমরা। এই যে এইবার তুমি সিনিয়রদের গায়ে হাত তুলে অপরাধ করলে তার শাস্তি পেতে হবে। চিন্তা করো না, শাস্তি টা আমরাই দেবো।’ ওরা আমাদের দিকে এগিয়ে এলে আমি ছুটে ঘর থেকে বেরতে যাই আর কাওর সাথে পা বেজে হুমড়ি খেয়ে পরে যাই মেঝে তে। শুনতে পাই ওদের কথা, ‘বাহ জিয়া! কি দিলি। এক্কেবারে মাস্টার স্ট্রোক।’ পরে যাওয়ায় হাতের কুনুই আর পায়ের হাঁটুতে বেশ চোট পেলাম। উঠতে যাবো এমন সময় একজোড়া পা এসে আমার সামনে দাঁড়ালো। এটা একটা মেয়ে বুঝতে পেরে ওর মুখের দিকে তাকাতেই ও নীচু হয়ে সাহায্য করলো আমায় উঠতে। ওর সাহায্য নিয়ে উঠে দাঁড়াতেই ও আমাকে জিজ্ঞেস করলো, ‘নতুন এসেছো?’ ‘হ্যাঁ।’ আমাকে দাঁড় করিয়ে ও ওদের গ্রুপের দিকে এগিয়ে গেলো। এগিয়ে গিয়ে ওদের সামনে হাত ভাঁজ করে দাঁড়িয়ে জিজ্ঞেস করলো, ‘বিনোদন হয়ে গেছে? তাহলে এবার আসতে পারো।’ ‘এই কোয়েল! বেশি বাড়াবাড়ি করবি না নাহলে কিন্তু…’ ‘নাহলে কিন্তু কি? কি করবে বেশি বাড়াবাড়ি করলে?’ ছেলেটি কিছু বলতে চেয়েও বললো না। জিয়া বলে মেয়েটি ছেলেটির কাঁধে হাত রেখে বললো, ‘দেখ কোয়েল আমাদের সব কাজে এভাবে তোর নাক না গলানোই ভালো।’ ‘আমার নাক টা খুব সুন্দর তীক্ষ তো তাই আমি নাক গলিয়ে অন্যের নাক বোচা করতে ভালো বাসি। আমি কি করতে পারি না পারি তোমাদের সবার খুব ভালো ভাবে জানা আছে তাই…’ কোয়েলর কথা শেষ হওয়ার আগেই জিয়া বিরক্ত হয়ে চলে গেলো ওর দলবল নিয়ে। আমি বুঝলাম যে আমায় সাহায্য করলো তার নাম কোয়েল। মেয়েটি কে বেশ ভালো লাগলো, মনে হলো এর সাথে বন্ধুত্ব করা যেতেই পারে। আমার ভাবনার মাঝেই ও আমার চোখের সামনে তুড়ি বাজিয়ে আমার ঘোর কাটাল। আমি একটু ইতস্তত করে ওকে জিজ্ঞেসা করলাম, ‘তোমার নাম কোয়েল?’ ‘কোয়েল ব্যানার্জী। কোয়েল বলেই সবাই চেনে আমায়। তুমি?’ ‘মৌমিতা, মৌমিতা চৌধুরি। ইংরেজি অনার্স নিয়ে ভর্তি হয়েছি।’ ‘হস্টেলে থেকে পরবি নাকি?’ ‘হ্যাঁ।’ ‘বুঝলাম। আরো অনেক কিছু সহ্য করতে হবে তোকে।’ ওর “তুই” বলে সম্বোধন করায় আমি একটু সাহস পেয়ে জিজ্ঞেসা করলাম, ‘বন্ধু হবে আমার?’ ও আমার দিকে ঘুরে তাকিয়ে বললো, ‘নাহ। বান্ধবী হবো।’ প্রথমে নাহ বলে একটু থামার পর যখন বান্ধবী হবে বলে হেসে ফেললো তখন আমারও ভালো লাগলো। মেয়েটা যে বেশ রাগী এবং সাহসী তা দেখেই বোঝা যায়। পুরোপুরি আমার মতো যখন তাহলে বন্ধুত্ব ভালোই জমবে। হাঁটতে হাঁটতে ও আমায় বললো, ‘দেখ এখানে ওই জিয়ার দল একটু উৎপাত করে। সবার সাথে নয়, যারা একটু দুর্বল তাদের সাথেই। শক্ত থাকবি, তার মানে এই নয় যে দুমদাম হাত-পা চালাবি তাহলে মুশকিল হয়ে যাবে। নিজের রাগ সংযত রেখে মুখে উত্তর দিবি তাহলেই ওরা আর কিছু করতে পারবে না। এখন তো র‍্যাগ করা আইনত অপরাধ তাই ইচ্ছে করে এমন এমন কাজ করে যাতে মেয়েরা বাধ্য হয়ে গায়ে হাত তোলে। এই সুযোগ একদম দিবিনা।’ কোয়েলের কথা শুনে আমি একটা শুকনো ঢোঁক গিললাম। মনে মনে ভাবছি, ‘এখন কি হবে? প্রথম দিন এসেই তো আমি ওই ছেলেটাকে চড় মেরে দিলাম। এটা কি বলবো ওকে?’ ‘কি রে? আমার কথাটা শুনে চুপ করে গেলি যে? এক মিনিট, তুই কি এমন কিছু করেছিস নাকি?’ কোয়েল সত্যিটা ধরে ফেলায় আমি আর লুকাবো না ঠিক করলাম। ‘আসলে, হ্যাঁ তখন হাত ধরায় মেরে দিয়েছি একটা চড়।’ আমি ইতস্তত করে কথাটা বলে কোয়েলের দিকে তাকাতেই দেখলাম ও একদৃষ্টে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। আমি স্যরি বলতে যাবো তখনই ও বললো, ‘যাক গে। যা করেছিস ভালো করেছিস হুহ!’ ‘এই যে বললি মুশকিল হয়ে যাবে?’ ‘ও দেখা যাবে যা হবে। ওর আমানত নাকি তুই যে টাচ করবে। আমি হলে তো হাত ভেঙ্গে রেখে দিতাম। যত্তসব লুইচ্চা লাফাঙার দল। হাটটটট!’ কোয়েল ভার্সিটি থেকে বেরিয়ে গেলো একা একা গজগজ করতে করতে। আমি ওর পিছু পিছু যাচ্ছি আর ভাবছি, ‘এই মেয়ে তো আমার থেকেও বড়ো গুন্ডি। কিছুক্ষন আগেই বললো গায়ে হাত তুলবি না আর এখন বলছে হাত ভেঙে রেখে দিতো? আমি এর সাথে মানিয়ে থাকতে পারবো তো? কি জানি বাবা।’ আর বেশি না ভেবে কোয়েলের পিছনে ছুট দিলাম কারণ ও অনেকটা এগিয়ে গেছে। ৫. দুপুর হয়ে এসেছে। সকাল সকাল কলকাতা থেকে রওনা দিয়েছিলাম যাদবপুরের উদ্দেশ্যে আর এইসব ঘটনার শেষ হতে হতে দুপুর হয়ে গেলো। বেশ কিছুক্ষণ হেঁটে আসার পর আমরা হোস্টেলের সামনে এসে উপস্থিত হলাম। ‘আমি আর তুই রুমমেট ওকে?’ ‘কিন্তু আমার রুম তো অন্য দিলো।’ ‘সে আমি ম্যানেজ করে নেবো তোকে ভাবতে হবে না। তুই তাড়াতাড়ি একটু ফ্রেশ হয়ে নে। আজকে তোকে পুরো ভার্সিটি ঘুরে দেখাবো, কালকে থেকে নয় ক্লাস করবো ওকেই?’ ‘ওকে।’ কোয়েল কে বলে আমি ফ্রেশ হতে গেলাম। বেশ ভালো লাগলো প্রথম দিনেই একজন বান্ধবী বানাতে পেরে। ফ্রেশ হয়ে এসে কোয়েলের সাথে বেরোলে ও এক এক করে হোস্টেলের সবার সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়। পরিচয় শেষ হওয়ার পর আমরা ভার্সিটি তে এসে উপস্থিত হই। ভার্সিটি ঘুরে দেখানোর সাথে সাথে কোন স্যার ম্যাডাম কেমন সেটাও কোয়েল আমাকে বলতে লাগলো। সেই সময় হঠাৎই আমার চোখ গেলো সামনের দিকে আর আমার পা থমকে দাঁড়ালো। ‘যার থেকে দুরে আসতে চাইলাম সেই সামনে চলে এলো?’ ‘কি রে দাঁড়িয়ে পড়লি কেন?’ কোয়েলের প্রশ্নে ওর দিকে তাকিয়ে না বোধক মাথা নাড়তেই সকালে যাকে চড় মেরেছিলাম সেই ছেলেটা সামনে এসে দাঁড়ালো। বললো, ‘এখানে টিকে থাকাটা খুব একটা সহজ হবে না ম্যাডাম। আপনি সকালে যেটা করেছেন সেটা ঠিক করেননি।’ ‘আপনিও সকালে যেটা করেছেন সেটা ঠিক করেননি। শুরুটা আপনি করেছিলেন আমি নয়।’ ‘খুব কথা বলছেন তাই নাহ? সময় আসলে সবটা সুদে আসলে উসুল করে নেবো …’ কথা শেষ করার আগেই ছেলেটির পিছন থেকে একটি ছেলে এসে ওর কাঁধে হাত রাখলো। সেই ছেলেটি আর কেউ নয় আমার স্বামী আদিত্য ব্যানার্জী! যার থেকে আমি পালাতে চেয়েছিলাম। যার মুখ দেখারও ইচ্ছে আমার ছিলো নাহ। কি করে থাকবে বলুন তো? যে কি না নিজের স্ত্রী কে বিয়ের রাতে ঠিক মতো দেখে পর্যন্ত না, অপমান করে তার মুখ দেখার ইচ্ছে আর যারই থাকুক আমার একদমই নেই। কিন্তু আমার ভাগ্যটা এতোই ভালো যে ইনিই আমার সিনিয়র বের হলো। উনি ছেলেটি কে বললেন, ‘কি হয়েছে?’ ‘এই মেয়েটা, এই মেয়েটা আমার গায়ে হাত তুলেছে আদি আজকে সকালে।’ ছেলেটার কথা শুনে উনি আমার দিকে বেশ কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইলেন। মনে হচ্ছে চেনার চেষ্টা করছেন। সেটা দেখে আমি ভাবছি, ‘ঠিকই ভেবেছিলাম তাহলে। মুখটাও ঠিক ভাবে দেখেননি। যেই সময় আমাকে ধরে কথাগুলো বলে ছিলেন সেই সময় মুখ নামিয়ে রেখেছিলাম বলে হয়তো দেখতে পাননি। কিন্ত হাতের ব্যান্ডেজ? ধুর, চিনতে না পারলেই ভালো হয়।’ এমন সময় উনি আমার হাতের দিকে তাকালেন যেখানে ব্যান্ডেজ করা আছে। তারপর আপাদমস্তক এক নজর দেখতেই চোখে মুখে বিরক্তির ছাঁপ ফুটে উঠলো ওনার। উনি ছেলেটিকে বললেন, ‘তুই যা। আমি কথা বলছি।’ ওনার কথা শুনে ছেলেটি কোনো রকম কোনো কথা না বলে চলে গেলো। এতক্ষণ ধরে কোয়েল চুপ করে থাকলেও এইবার কোয়েল ওনাকে বললো, ‘আদিত্য দা আমি তোমাকে একটা কথাই বলবো যে মৌমিতার কোনো দোষ নেই। তুমি খুব ভালো ভাবেই জানো আমি মিথ্যে বলি না। আর সবার সাথে কথা বলার প্রয়োজনও মনে করি না।’ ‘হমম। তুমি একটু এগিয়ে গিয়ে দাঁড়াও। আমি তোমার ফ্রেন্ডের থেকে সবটা শুনতে চাই।’ ওনার কথায় মীরা আমাকে ভরসা দিয়ে ওদিকে চলে গেলো। আমি মাথা নীচু করে চুপ চাপ দাঁড়িয়ে রয়েছি এমন সময় উনি বললেন, ‘তুমি এই ভার্সিটি তে?’ ‘আমি জানতাম না আপনিও এই ভার্সিটি তে পড়েন।’ ‘জানার কথাও নয়। আমি তো তোমাকে চিনতেই পারিনি প্রথমে। যাই হোক আমি চাই না তুমি এখানে আমাকে তোমার হাসব্যেন্ড বলে পরিচয় দাও। এইটা জানো না হয় কোনো ভাবে।’ ‘ঠিক আছে।’ ‘আর শোনো!’ আমি চলে যাচ্ছিলাম ওনাকে পাশ কাটিয়ে সেই সময় উনি আবার ডাকলেন। ‘কিছু বলবেন?’ ‘হ্যাঁ। স্যরি!’ আমি অবাক হয়ে ওনার মুখের দিকে তাকালাম। হয়তো প্রথমবারের জন্য আমি ওনার মুখটা ভালো ভাবে দেখলাম। আগে যতবার দেখা হয়েছে, শুধুমাত্র ঝগড়াই হয়েছে তাই আর মুখটা ভালো ভাবে দেখে হয়ে ওঠা হয়নি। ঘোর কাটলো যখন উনি স্যরি বলার কারণ বললেন, ‘বিয়ের দিন রাতে আমি যেই বিহেভটা করেছি সেটা আমার করা উচিত হয়নি। আমি বিয়ের কনসেপ্টটাকেই বিশ্বাস করিনা সো আমার জন্য এই হুট করে বিয়েটা মেনে নেওয়া পসিবল নয়। তুমি খুব ভালো ভাবেই জানো আমাদের বিয়েটা কি সিচুয়েশনে হয়েছে। তুমি বলেও ছিলে সেদিন রাতে কিন্তু আমি যতটা রুড বিহেভ করেছি তুমি করনি। এই সবের জন্যেই স্যরি! নাও তুমি তোমার রাস্তায় আর আমি আমার।’ ‘ইয়াহ, ইটস ওকে। আব একটা কথা ছিলো..??’ ‘কি কথা?’ ‘আমার হাতের এই ব্যান্ডেজটা কি আপনি করেছিলেন?’ ‘হ্যাঁ। তখনই তোমার মুখটা দেখেছিলাম তাই আজকে চিনতে পেরেছি। ব্যান্ডেজটার জন্য সিওর হয়েছি আর কি।’ ‘ওহ আচ্ছা।’ উনি আমাকে পাশ কাটিয়ে চলে গেলে কেন জানো আমার চোখটা ছলছল করে ওঠে। হয়তো ওনার আলাদা হওয়ার কথাটা শুনে। হাজার হোক স্বামী হন উনি আমার। উনি বিয়েটা কে অস্বীকার করলেও আমি করতে পারিনি। তাই তো উনি আলাদা হওয়ার কথা বলায় খারাপ লাগছে নিজের অজান্তে। নিজেকে স্বাভাবিক করে নিতেই কোয়েল এসে জিজ্ঞেস করলো, ‘কি বললো তোকে?’ ‘বললো, বললো ওই ছেলেটা আর ডিস্টার্ব করবে না। আর আমাকেও একটু সংযত থাকতে।’ ‘হমম। আদিত্য দা খারাপ নয়। ওদের গ্যাং এর লিডার আদিত্য দাই আর ওর পার্টনার কে জানিস?’ ‘পার্টনার?’ ‘হ্যাঁ। গ্যাং এরও পার্টনার আবার রিলেশনেরও। আই মিন ওরা বিএফ জিএফ।’ ‘ওনার জিএফ আছে?’ ‘ইয়াপ! জিয়া। যে তোকে র‌্যাগ করতে চেয়েছিল। তুই জানিস ও আমাদেরই ডিপার্টমেন্টের?’ ‘কি?’ ‘শুধুমাত্র আদিত্য দার জিএফ বলেই ও আদিত্য দার গ্যাং এর সাথে চলে আর যাকে ইচ্ছা তাকে র‌্যাগ করে। বাট সেটা আদিত্য দা জানে না। আদিত্য দা ওদের থেকে ডিফারেন্ট। জিয়ার ভয়েই কেউ আদিত্য দাকে বলেনা ওর সম্পর্কে আর আমি বলতাম না তার কারণ ও আমার ফ্রেন্ডের সাথে বা আমার সাথে কোনোদিন এরকম কিছু করেনি। কিন্তু এবার বলবো, যদি তোর সাথে আবার এমন কিছু করার চেষ্টা করে।’ ‘তুই এতো খোঁজ রাখিস ওনার ব্যাপারে? তুই কি ওনাকে লাইক করিস নাকি?’ আমার কথা শুনে কোয়েল চুপ করে গেলো। জানো কোনো পুরোনো কথা মনে করিয়ে দিয়েছি আমি ওকে। ওর ওমন মুখ দেখে আমারও মন খারাপ হয়ে গেলো, তাহলে কি কোয়েলও ওনাকে পছন্দ করে? ‘হোস্টেল ফিরে যাই চল।’ কোয়েল চলে গেলো। আমি ঠিক করলাম ওর থেকে জানবো যে ও সত্যি ওনাকে লাইক করে কি না। তাই ওর পিছু পিছু গিয়ে ওর পাশে হাঁটতে হাঁটতে জিজ্ঞেস করলাম, ‘ওহ বুঝেছি। জিয়া ওনার জিএফ আর তুই ওনাকে লাইক করিস এটাই তোকে মনে করালাম বলে মন খারাপ?’ ‘নাহ রে। তেমন কিছুই না। আদিত্য দা কে আমি কলেজ লাইফ থেকেই চিনি। তাই জন্যেই বলতে পারলাম। এর চাইতে বেশি কিছুই নাহ।’ ‘তাহলে মুড অফ হয়ে গেলো যে?’ ‘এমনি। চল হোস্টেলে ফিরে বাকি গল্প করবো।’ আমিও আর কথা বাড়ালাম না। কেন জানো কোয়েলের কথায় একটু স্বস্তি পেলাম কারণ আমার মন বলছে ও সত্যি কথাই বলেছে আমায়।

---

[<< পূর্ববর্তী অধ্যায়](https://golpohub.com/episodes/ekdin-tumio-bhalobashbe-s1-ep1) | [সিরিজ সূচি](https://golpohub.com/series/ekdin-tumio-bhalobashbe) | [পরবর্তী অধ্যায় >>](https://golpohub.com/episodes/ekdin-tumio-bhalobashbe-s1-ep3)