{
    "_links": {
        "html": "https://golpohub.com/episodes/florencia-s1-ep34",
        "json": "https://golpohub.com/episodes/florencia-s1-ep34?format=json",
        "markdown": "https://golpohub.com/episodes/florencia-s1-ep34?format=md",
        "rss": "https://golpohub.com/episodes/florencia-s1-ep34?format=rss",
        "atom": "https://golpohub.com/episodes/florencia-s1-ep34?format=atom"
    },
    "seo": {
        "canonical_url": "https://golpohub.com/episodes/florencia-s1-ep34",
        "title": "ফ্লোরেনসিয়া পর্ব ৩৪ - অবহেলার ক্ষত ও ভাইয়ের দীর্ঘশ্বাস | Florencia Part 34",
        "description": "ফ্লোরেনসিয়া পর্ব ৩৪ পড়ুন অনলাইনে। আব্রাহামের শৈশবের অভিমান, ক্লাসে সিয়ার অদ্ভুত শাস্তি এবং এদুয়ার্দোর বিয়ের প্রস্তাব।",
        "keywords": "ফ্লোরেনসিয়া পর্ব ৩৪, florencia porbo 34, florencia part 34, florencia episode 34, আব্রাহাম, এদুয়ার্দো, সিয়া, পিদর্কা, বিয়ের প্রস্তাব",
        "image_url": "https://cdn.golpohub.com/covers/episodes/chapter-474-779343.webp",
        "schema": {
            "@context": "https://schema.org",
            "@graph": [
                {
                    "@type": "Chapter",
                    "name": "অবহেলার ক্ষত ও ভাইয়ের দীর্ঘশ্বাস",
                    "position": 34,
                    "description": "এদুয়ার্দোর সামনে দাঁড়িয়ে শৈশবের বৈষম্য আর মায়ের পক্ষপাতমূলক ভালোবাসার বিষাক্ত ক্ষতগুলো উগড়ে দেয় আব্রাহাম। একাডেমির ক্লাসে এক ছাত্রীর সাজানো ষড়যন্ত্রে সিয়াকে টেবিলের ওপর হাত রেখে উল্টো হয়ে ঝুলে থাকার নির্মম দণ্ড দেয় এদুয়ার্দো। ওদিকে ক্যাসলে এসে ইউক্রেনের শাসক পিদর্কাকে প্রস্তাব দেয়—তার রাজকন্যার সাথে এদুয়ার্দোর বিবাহ দিতে হবে। এই প্রস্তাবের নেপথ্যে কী চক্রান্ত?",
                    "url": "https://golpohub.com/episodes/florencia-s1-ep34",
                    "inLanguage": "bn",
                    "timeRequired": "PT16M",
                    "datePublished": "2026-08-27T22:01:38+00:00",
                    "dateModified": "2026-09-06T00:31:31+00:00",
                    "wordCount": 2492,
                    "image": "https://cdn.golpohub.com/covers/episodes/chapter-474-779343.webp",
                    "isPartOf": {
                        "@type": [
                            "BookSeries",
                            "CreativeWorkSeries"
                        ],
                        "name": "ফ্লোরেনসিয়া",
                        "url": "https://golpohub.com/series/florencia"
                    },
                    "author": {
                        "@type": "Person",
                        "name": "লামিমা তানহা",
                        "url": "https://golpohub.com/authors/lamima-tanha"
                    }
                },
                {
                    "@type": "BreadcrumbList",
                    "itemListElement": [
                        {
                            "@type": "ListItem",
                            "position": 1,
                            "name": "Golpo Hub",
                            "item": "https://golpohub.com"
                        },
                        {
                            "@type": "ListItem",
                            "position": 2,
                            "name": "সিরিজসমূহ",
                            "item": "https://golpohub.com/series"
                        },
                        {
                            "@type": "ListItem",
                            "position": 3,
                            "name": "ফ্লোরেনসিয়া",
                            "item": "https://golpohub.com/series/florencia"
                        },
                        {
                            "@type": "ListItem",
                            "position": 4,
                            "name": "অবহেলার ক্ষত ও ভাইয়ের দীর্ঘশ্বাস",
                            "item": "https://golpohub.com/episodes/florencia-s1-ep34"
                        }
                    ]
                }
            ]
        }
    },
    "filters": [],
    "data": {
        "id": 474,
        "ep_number": 34,
        "title": "অবহেলার ক্ষত ও ভাইয়ের দীর্ঘশ্বাস",
        "slug": "florencia-s1-ep34",
        "url": "https://golpohub.com/episodes/florencia-s1-ep34",
        "reading_time": 16,
        "thumbnail_url": "https://cdn.golpohub.com/covers/episodes/chapter-474-779343.webp",
        "yt_video_id": null,
        "yt_video_url": null,
        "timestamps": {
            "published_at": "2026-08-27T22:01:38+00:00",
            "updated_at": "2026-09-06T00:31:31+00:00"
        },
        "meta": {
            "word_count": 2492,
            "chapter_number": 34,
            "seo_title": "ফ্লোরেনসিয়া পর্ব ৩৪ - অবহেলার ক্ষত ও ভাইয়ের দীর্ঘশ্বাস | Florencia Part 34",
            "seo_description": "ফ্লোরেনসিয়া পর্ব ৩৪ পড়ুন অনলাইনে। আব্রাহামের শৈশবের অভিমান, ক্লাসে সিয়ার অদ্ভুত শাস্তি এবং এদুয়ার্দোর বিয়ের প্রস্তাব।",
            "keywords": "ফ্লোরেনসিয়া পর্ব ৩৪, florencia porbo 34, florencia part 34, florencia episode 34, আব্রাহাম, এদুয়ার্দো, সিয়া, পিদর্কা, বিয়ের প্রস্তাব",
            "characters_involved": [
                "আব্রাহাম",
                "এদুয়ার্দো",
                "ইজাবেল",
                "সিয়া",
                "ইনায়া",
                "ডোনা",
                "জোডিথ",
                "পিদর্কা",
                "ইয়েলোৎসিন",
                "ক্রিসক্রিংগল",
                "মার্কস"
            ]
        },
        "content": "<p>ইজাবেলের ভয়ার্ত দৃষ্টি।প্রস্তর মূর্তির ন্যায় কামরার একপাশে দাঁড়িয়ে ছিলো অ্যাভোগ্রেডো।মেঝে থেকে উঠে দাড়ায় আব্রাহাম।ঠোঁটের কোণে গড়িয়ে পড়া রক্তটুকু বামহাতের বৃদ্ধাঙ্গুলি দিয়ে মুছে ঘৃণার দৃষ্টিতে এদুয়ার্দোর দিকে তাকায়।তাচ্ছিল্য ভঙ্গিতে হাসে।অভিযোগ করে বলে,,,</p>\n<p>-এভাবেই আমার জীবন থেকে সব প্রিয় মানুষগুলোকে কেড়ে নিয়েছেন।সবকিছু পেয়েছেন আপনি,বঞ্চিত হয়েছি আমি।মায়ের সমস্ত আদর,ভালবাসা,স্নেহ আপনার জন্য বরাদ্দ ছিলো।আমি পেয়েছি শুধু অবহেলা।আমাদের ছোটবেলার ঘটনাগুলো ভুলিনি।দুই ভাই দ্বন্দ্বযুদ্ধে আহত হলে,মা আপনার কাছে ছুটে যেতেন।তার শক্তি দিয়ে আপনার ক্ষত নিরাময় করে দিতেন।অথচ আমাকে বকা ঝকা করে বলতেন,কেন আমি ছোট হয়ে আপনার সাথে বিবাদে জড়িয়েছি।</p>\n<p>তিনি আপনাকে বুক দিয়ে আগলে রাখতেন,আমার দিকে কখনো ফিরেও তাকাতেন না।আমি ভীষণ নিঃসঙ্গ বোধ করতাম।কামরায় বসে একা একা কত কেঁদেছি,কেউ জানতে পারেনি।আমার খোঁজ রাখেনি।মাঝে মাঝে আমার রাগ ভাঙ্গাতে আপনি এসেছেন।কিন্তু সেসময় আমার রাগ কমে যাওয়ার বদলে বেড়ে যেতো আরো।কারন আমার এই কান্নার কারণ ছিলেন আপনি।</p>\n<p>প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর অবশ্য মা আমাকেও গুরুত্ব দেওয়া শুরু করেন,কিন্তু আমার কাছে তা কখনো পর্যাপ্ত মনে হয়নি।আমি একসময় নিজেকে পুরোপুরি কামরাবন্দী করে ফেলি।একদিন কামরায় মন খারাপ করে বসেছিলাম।হঠাৎ মা আসেন।আমার মাথায় হাত বুলিয়ে আদর করেন।আমাকে অনেক কিছু বোঝান।আমি অনাবিল সুখানুভূতি অনুভব করি।মনে মনে বলি,সময় থমকে যাক।</p>\n<p>মা আমাকে আদুরে কন্ঠে বলেন,এটা তোমার আনন্দ করার বয়স।জীবনটাকে উপভোগ করার সময়।তোমার এই নীলাভ নেত্রদ্বয় মেলে পৃথিবীটাকে দেখো।চারপাশে কত সুন্দরী রমনীদের কোলাহল।যাদের মাঝে তুমি নিজের সুখ আর শান্তি খুঁজে পাবে।অহেতুক কামরায় বসে থেকো না।তোমার যেখানে খুশি ঘুরে বেড়াও।</p>\n<p>আমি শান্ত বেড়ালের মতো তার কথাগুলো শুনেছিলাম।সেদিন রাতেই মা আমার জন্য একজন সুন্দরী মেয়ে প্রস্তুত করেন।আমি জীবনে প্রথম কোনো মেয়ের সাথে ইন্টিমেট হই।</p>\n<p>এভাবেই ধীরে ধীরে কয়েকটা বছর কেটে যায়।শুধুমাত্র মায়ের আদর,যত্ন,স্নেহ আর ভালবাসা পাওয়ার আকাঙ্ক্ষায়,তিনি যা বলতেন আমি তাই শুনতাম।আমি মনেপ্রাণে চাইতাম মা যেন আমাকেও আপনার মত সমান ভালবাসেন।কিন্তু আমি ভুল ছিলাম।প্রতিনিয়ত উপলব্ধি করতাম,তার দৃষ্টিতে আপনার আর আমার মধ্যকার আকাশ-পাতাল ব্যবধান।পার্থক্য ছিলো তার ভালবাসা আর মায়া-মমতায়।যেখানে আমি ভুক্তভোগী সেখানে আপনি কিভাবে বুঝবেন?যখন একজন মা দু&#8217;জন সন্তানের মধ্যে ভালবাসার পার্থক্য দেখায় তখন ঠিক কতটা যন্ত্রণা হয়।</p>\n<p>এদুয়ার্দোর চোয়াল শক্ত হয়ে আসে।নিজের মায়ের ব্যাপারে কোনো ছেলে এরকম খারাপ ধারনা কিভাবে পোষণ করতে পারে?সে হাত দু&#8217;টো মুষ্ঠিবদ্ধ করে নেয়।আব্রাহাম পুনরায় বলতে শুরু করে,,,,</p>\n<p>আপনি ভাম্পায়ার সাম্রাজের ক্ষমতা পাওয়ার পর আমাকে ভিন্ন শহরে,ভিন্ন দুর্গে রাখা হলো।বোন ইজাবেলকে সাথে রাখতে চেয়েছিলাম।ও&#8217;ই আমার একমাত্র খুশি আর আমার আনন্দ ছিলো।কিন্তু আপনি ওকেও নিজের কাছে রেখে দিলেন।বড় বোনগুলো সবাই আপনাকে সম্মান করে,আপনার উপরে কোনো কথা বলে না,বলার দুঃসাহস দেখায় না।অথচ আমাকে প্রতিনিয়ত অবজ্ঞা করে।এর কারণ কি?আমি কি এতোটাই তুচ্ছ,নগন্য?ভাই নই ওদের?আপনার আর আমার মাঝে এতো কেনো পার্থক্য?</p>\n<p>ইউক্রেন ছাড়তে চাইনি,অন্তত নিজের বন্ধুদের সাথে আমি ভালো ছিলাম।কিন্তু আপনি আমাকে স্লোভাকিয়ার দায়িত্ব দিয়ে দেশ ছাড়তে বাধ্য করলেন।এমন আরও অনেক অভিযোগ আছে,বলতে চাই না।বলার প্রয়োজন মনে করছি না।কিন্তু আপনি আমার একটা প্রশ্নের উত্তর দিন।</p>\n<p>আমাকে কাস্ত্রোরুজ থর্পে কেনো পাঠিয়েছিলেন?কেনো মুখোমুখি করেছিলেন ইনায়ার?এখন কেনোই বা তার চোখে আমাকে অপরাধী বানাতে চাইছেন ভাই?</p>\n<p>ভাই শব্দ টা যেন নিমেষেই এদুয়ার্দোর বুক ঝাঁঝরা করে দেয়।শক্ত,কঠিন রাগী মুখখানা পুরোপুরি শীতল হয়ে যায়।বিষাক্ত তীরের মতো কিছু বিঁধে রয় বক্ষস্থলে।এতোগুলো অভিযোগ?</p>\n<p>-ওহ।তাহলে এই অভিযোগগুলোর জন্যই কয়েকবার তুমি আমাকে মা&#8217;রতে চেয়েছিলে?ভাই হয়ে ভাইকে হ&#8217;ত্যা করতে চেয়েছিলে?তোমার আমাকে কৃতজ্ঞতা জানানো উচিত,আমি এখনো তোমাকে বাঁচিয়ে রেখেছি।স্বাধীনভাবে নিজের জীবন পরিচালনা করার সুযোগ দিয়েছি।তোমাকে প্রতিবার ক্ষমা করে দিয়েছি বলেই তুমি এখনো আমার সামনে দাঁড়িয়ে আছো।উঁচু গলায় কথা বলার দুঃসাহস দেখাতে পারছো।___এদুয়ার্দো শান্ত গলায় বলে।</p>\n<p>আব্রাহাম ঠোঁট বাঁকিয়ে অন্যদিকে মুখ ঘুরিয়ে নেয়।ইজাবেলের আঁখিযুগল থেকে অবাধ অশ্রুকণা গড়িয়ে যায়।দু&#8217;চোখের সাদা অংশটুকু লাল হয়ে গেছে।ভীষণ গলা শুকিয়ে আসে।তার ভাইয়ের হৃদয়ে এতো এতো যন্ত্রণা লুকিয়ে ছিলো?এতোগুলো অভিযোগ?</p>\n<p>সম্পূর্ন কামরাজুড়ে পিনপতন নীরবতা নেমে আসে।ক্ষণকাল কেউ কোনো কথা বলে না।অতঃপর আব্রাহাম দৃঢ় গলায় বলে,,,</p>\n<p>-আমি কোনোদিনও আপনাকে হ&#8217;ত্যা করার কথা ভাবিনি।কখনো আপনাকে আঘাত করিনি।</p>\n<p>-নিজের চোখগুলোকে অবিশ্বাস্য করতে বলছো?তুমি আমাকে কয়েকবার প্রাণঘাতী আঘাত করেছিলে।মা সাক্ষী ছিলেন।___এদুয়ার্দো হিংস্রাত্মক শীতল কন্ঠে বলে।</p>\n<p>-হয়তো আপনি দুঃস্বপ্ন দেখেছিলেন,নয়তো আপনার দৃষ্টি ভ্রম।আমি এর আগেও বহুবার আপনাকে আর মাকে বোঝানোর চেষ্টা করেছি,আমি নির্দোষ।তাছাড়া স্যাভেরিন পরিবারের ভাম্পায়ারদের মৃ&#8217;ত্যু এতো সহজ নয়।এটা জানার পরও আমি কেনো আপনাকে প্রাণঘা&#8217;তী আ&#8217;ঘাত করবো?</p>\n<p>-আবারও মিথ্যা বলছো?ঠিক এই কারণেই আমি তোমাকে সহ্য করতে পারিনা।আমি মিথ্যা বলা পছন্দ করিনা।তুমি না আঘাত করলে আমাকে কে আঘাত করেছিলো?</p>\n<p>এদুয়ার্দো দ্রুতপায়ে আব্রাহামের দিকে তেড়ে যায়।কিন্তু সামনে বাঁধা হয়ে দাড়ায় ইজাবেল।কাতর কন্ঠে অনুরোধ করে বলে,,,,</p>\n<p>-দয়া করে শান্ত হন।আমি তার হয়ে আপনার কাছে ক্ষমা চাইছি।ক্ষমা করে দিন।</p>\n<p>-ও মিথ্যা কেনো বলবে?ওকে নিজের করা অপরাধগুলো স্বীকার করে নিতে বলো।আমি ক্ষমা করে দিবো।___এদুয়ার্দোর ক্রুদ্ধ কন্ঠস্বর।</p>\n<p>আব্রাহাম নিশ্চুপ,নির্বাক হয়ে ঠায় দাঁড়িয়ে রয়।ম্লান দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে দুই ভাই-বোনের দিকে।বুকে অদম্য,অসহনীয় যন্ত্রণার খরস্রোতা নদী বয়ে যায়।প্রতিবার তার সাথেই কেনো এরকম হয়?আব্রাহাম ভাবে।ভেবে ঠোঁট বাঁকিয়ে মৃদু হাসে।</p>\n<p>___</p>\n<p>মার্শাল আর্ট একাডেমি।</p>\n<p>সকাল আটটা বেজে চল্লিশ মিনিট।ক্লাস শুরু হতে এখনো বিশ মিনিট বাকি।একসাথে তিন শ্রেণীর শিক্ষার্থীরা মিলনায়তন ভবনের বৃহৎ কামরায় দাড়িয়ে যে যার মতো গল্প করছিলো।অধিকাংশ মেয়েদের আজকের আলোচনার বিষয় ছিলো চিফ মাস্টার ক্লীভল্যান্ড এদুয়ার্দো স্যাভেরিন।ভিন্ন ভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে মেয়েরা কথা বলছিলো আর লাজুক হাসছিলো।তারা বারবার ঘড়ির দিকে তাকাচ্ছিলো এবং অধীর আগ্রহে প্রহর গুনছিলো।ঠিক নয়টার দিকে চিফ মাস্টারের ক্লাস শুরু হবে।</p>\n<p>হঠাৎই কতগুলো মেয়ে একটা মেয়েকে চারদিক থেকে ঘিরে ধরে।মেয়েটাকে উদ্দেশ্য করে অন্য একটা মেয়ে কৌতুহলী কন্ঠে জিজ্ঞেস করে,,,</p>\n<p>-ওয়েসলি,আজ এখনো ইজাবেল আসেনি কেনো?</p>\n<p>-আমি কি করে জানবো?___ভ্রু-কুঁচকে প্রত্যুত্তর দেয় ওয়েসলি।</p>\n<p>-তুমিই তো ওর প্রিয় বান্ধবী।যদি তুমি না জানো তাহলে আর কে জানবে?___পাশ থেকে জিজ্ঞেস করে অন্য একটা মেয়ে।</p>\n<p>-ও যখনই আসুক।ও&#8217;কে দিয়ে তোমাদের কি কাজ?</p>\n<p>-শুনেছি চিফ মাস্টার নাকি ওর ভাই?</p>\n<p>-হ্যাঁ।তোহ?____দু&#8217;কাঁধ সামান্য উঁচু করে জানতে চায় ওয়েসলি।</p>\n<p>-নাহ।ভাবছি,ও না আসলে যদি চিফ মাস্টারও একাডেমিতে না আসেন।</p>\n<p>-ডা&#8217;ইনী সবগুলো।নির্ঘাত এদের কুনজর লেগে যাবে।এতো বেশি সুদর্শন হওয়ার কি দরকার ছিলো?হায়য়য়!বেচারা চিফ মাস্টার।ঈশ্বর রক্ষা করুন তাকে।___ওয়েসলি ভীষণ দুঃখী দুঃখী মনে ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করে।</p>\n<p>নয়টা বাজার ঠিক দশ মিনিট আগে সিয়া আর ইনায়া কামরায় প্রবেশ করে।দু&#8217;জনের পরনে টেকউন্ডো(ডো-বক) পোশাক।আর্নি আসেনি।ক্রিস্তিয়ান ওদের একাডেমিতে পৌঁছে দিয়ে গেছে।বিকাল তিনটার আগে আবার নিতে আসবে।ক্লাস শুরু হওয়ার সময় হয়ে যাওয়ায় শিক্ষার্থীরা যে যার জায়গায় গিয়ে দাড়ায়।ইনায়ার মুখখানা অস্বাভাবিক থমথমে।দু&#8217;পাশে সারিবদ্ধ ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝখানে থাকা ফাঁকা জায়গা দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে সিয়া ইনায়ার একহাত আলতো স্পর্শে ধরে।শান্ত গলায় আশ্বস্ত করে বলে,,,,,</p>\n<p>-তুমি সবসময়ই আমাকে শান্ত থাকার পরামর্শ দিয়েছিলে।হঠকারী কোনো সিদ্ধান্ত নিতে বারণ করেছিলে।ধৈর্য ধরতে বলেছিলে।আজ আমি তোমাকে বলছি,ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করো।যদি ঈশ্বর চান,একদিন সঠিক সময় আসবে।তোমার প্রতিজ্ঞা পূর্ণ হবে।মা&#8217;য়ের হ&#8217;ত্যাকারীকে তুমি নিজ হাতে বি&#8217;নাশ করবে।শান্ত হও,ভরসা রাখো।</p>\n<p>ইনায়া কোনো প্রত্যুত্তর দেয়না।একনজর সিয়ার দিকে তাকিয়ে চোখ সরিয়ে মেঝের দিকে তাকায়।সামনের জায়গাগুলো দখল হয়ে গেছে।ইনায়া আর সিয়া পেছন দিকে এগিয়ে যায়।পেছনে দাড়ালে অসুবিধায় পড়তে হয়।অদূরে মাস্টারের দেখানো রণকৌশলগুলো আয়ত্ত করতে সমস্যা হয়ে দাড়ায়।সামনে এতো গুলো স্টুডেন্ট,সমস্যা হওয়াটাই স্বাভাবিক।পেছনে দাড়ায় ফাঁকিবাজ শিক্ষার্থীরা।সিয়া,ইনায়া&#8217;তো ফাঁকিবাজ নয়।কিন্তু উপায় নেই।পিছনেই দাড়াতে হবে।পৌঁছাতে দেরি হয়ে গেলো যে।</p>\n<p>ওরা দু&#8217;জন পেছনে ফাঁকা জায়গা পেয়ে একসাথে দাড়ায়।প্রথমে সিয়া।তারপর ইনায়া।কিন্তু সামনের মেয়েটা সিয়াকে ধাক্কা দিতেই সিয়া ইনায়ার উপর পড়ে যায়।মেয়েটা ঠোঁট বাকায়।আঙ্গুল উঁচিয়ে শাসানোর স্বরে বলে,,,</p>\n<p>-আমার পেছনে একদম দাড়াবে না।কোন শ্রেনীর স্টুডেন্ট তোমরা?আগেতো কখনো দেখিনি।</p>\n<p>-কোন শ্রেনীর স্টুডেন্ট,সেটা পরে বলবো।প্রথমে তুমি বলো,ওকে ধাক্কা দিলে কেনো?___ইনায়ার শান্ত গম্ভীর কন্ঠ।এমনিতেই মন মেজাজ খারাপ ছিলো।তন্মধ্যে মেয়েটার অসভ্য আচরণ ওকে বিগড়ে দেয়।</p>\n<p>-ইট&#8217;স ওকে ইয়ানা।বাদ দাও।আমরা অন্য কোনো সারিতে দাঁড়াই?</p>\n<p>ইনায়া তখনো তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে মেয়েটার দিকে তাকিয়ে রয়।সিয়া ওর হাত ধরে টেনে নিয়ে অন্য সারিতে গিয়ে দাড়ায়।সিয়ার সামনে দাড়ানো মেয়েটাকে তার সামনে দাড়ানো মেয়েটা কানের কাছে ছোট ছোট আওয়াজে কিছু একটা বলে।না চাইতেও কথাগুলো শুনে ফেলে সিয়া।সামনের মেয়েটা পেছনের মেয়েটাকে ফিসফিসিয়ে বলে,,,,</p>\n<p>-তোমার পেছনের মেয়েটাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দাও।কোথাও দাড়াতে দিবে না ওকে।গতকাল চিফ মাস্টারকে সংবর্ধনা জানাতে ওকে ডাকা হয়েছিলো।কত বড় স্পর্ধা ওর।হঠাৎ করে উড়ে এসে জুড়ে বসেছে।এতোগুলো স্টুডেন্টদের মাঝে প্রিন্সিপালের ওকেই কেনো ডাকতে হবে?</p>\n<p>-মেয়েটা অসম্ভব সুন্দর দেখতে।তাছাড়া গতকাল আমাদের সবার মাঝে ওকে সবচেয়ে বেশি আকর্ষণীয় লাগছিলো।কালো রঙের ছোট গাউন পরিধেয় কোনো বার্বি পুতুল যেন।ওর সৌন্দর্য দেখে আমার হিংসে হচ্ছিলো।এজন্য হয়তো ও খুব সহজেই প্রিন্সিপালের নজর কেড়েছিলো।ওদের দু&#8217;জনের চুলগুলো দেখেছো?মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে থাকার মতো।</p>\n<p>-ওর রুপের প্রশংসা করতে বলিনি।ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিতে বলেছি।না পারলে সামনে থেকে সরো।___সামনের মেয়েটা পেছনের মেয়েটাকে কপট রাগ দেখিয়ে বলে।</p>\n<p>-আরেহ পারবো না কেনো?অবশ্যই পারবো।দাড়াও,মজা দেখাচ্ছি।</p>\n<p>কামরায় উপস্থিত থাকা অধিকাংশ মেয়ে সিয়ার প্রতি ঈর্ষান্বিত ছিলো।সবাই ওকে অপমান-অপদস্ত করার সুযোগ খুজঁছিলো।</p>\n<p>সিয়া কিছুটা আন্দাজ করতে পারে।তবুও নিশ্চুপ হয়ে দাড়িয়ে থাকে ও।আবারও একই ঘটনা ঘটে।সিয়ার সামনে দাড়ানো মেয়েটা সজোরে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয় ওকে।সহসা মেয়েটার পেট বরাবর মুষ্টিবদ্ধ হাতে শক্তপোক্ত একটা ঘুষি দেয় সিয়া।মেয়েটা তার সামনে দাড়ানো আরও কয়েকজন মেয়েকে সাথে নিয়ে মেঝেতে উল্টে পড়ে যায়।ছেলেরা মজা পায়।উচ্চস্বরে হাসতে শুরু করে।ওখানে দাঁড়িয়ে থাকা একটা ছেলে মিটমিটিয়ে হাঁসে।প্রশিক্ষণ ব্যতীত ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে মেয়েদের করা মারপিট আর ঝগড়াঝাটি দেখতে তার বেশ ভালো লাগে।ছেলেটার নাম অ্যালেন সিলোসি।প্রথম শ্রেনীর সেরা ছাত্রদের মধ্যে একজন।মার্শাল আর্টে যেমন পারদর্শী,তেমনই দুষ্টামিতেও বেশ পটু।হাস্যোজ্জ্বল এবং চঞ্চল প্রকৃতির ছেলে।</p>\n<p>কামরায় হট্টগোল শুরু হয়।ইনায়া স্তব্ধ দৃষ্টিতে তাকিয়ে রয়।মুহূর্তেই কি থেকে কি হয়ে গেলো!বাকি ছাত্র-ছাত্রীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে সরে দাড়ায়।পড়ে যাওয়া মেয়েগুলো উঠে দাড়িয়ে সিয়াকে একসাথে আক্রমণ করার প্রস্তুতি নেয়।ইনায়া সিয়ার ডান কাঁধে বামহাত রেখে শঙ্কিত গলায় বলে,,,</p>\n<p>-এটা কি করলে?</p>\n<p>-এখানে যুদ্ধবিদ্যা শিখতে এসেছি।অহেতুক মা&#8217;র খেতে নয়।আমরা কোনো অবলা নারী নই যে,সবধরনের অন্যায় মুখ বুঝে সব সহ্য করে নিতে হবে।ওদের বোঝাতে হবে আমরাও পাল্টা আঘাত করতে জানি।এই একাডেমি আমাদের সকল শিক্ষার্থীদের,কারো ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়।</p>\n<p>টানটান উত্তেজনা নিয়ে তাকিয়ে থাকে অ্যালেন।এইতো এখুনি সবগুলো একসাথে ঝাপিয়ে পড়বে দুইজন নতুন ছাত্রীর উপর।তার উত্তেজনা বাড়িয়ে দিয়ে একটা মেয়ে উঁচুতে লাফ দিয়ে সিয়ার দিকে উড়ে যায়।লাথি মা&#8217;রতে চায় সিয়ার বুক বরাবর।কিন্তু তার আঘাত টা প্রতিহত করে ইনায়া।সিয়া সরে দাড়ায়।পরপর আরও দু&#8217;জন একসাথে আক্রমণ করে বসে।</p>\n<p>ওরা প্রথম শ্রেনীর স্টুডেন্ট।মার্শাল আর্টে দক্ষ ছিলো।ইনায়াও ওদের মতো দক্ষ।কিন্তু সিয়া এখনো দুর্বল।বুকের কাছে মোক্ষম একটা লাথি খেয়ে মেঝেতে পড়ে যায় সিয়া।ইনায়া চিৎকার দিয়ে ডাকে,,,,</p>\n<p>-সিয়া!!</p>\n<p>ঠিক নয়টায়।দু&#8217;জন মাস্টারসহ কামরায় প্রবেশ করে এদুয়ার্দো।প্রথমেই তার দৃষ্টি যায় শিক্ষার্থীদের জটলার দিকে।বাকি দু&#8217;জন মাস্টারের মধ্যে একজন রাগামিশ্রিত কন্ঠে জিজ্ঞেস করেন,,,,,</p>\n<p>-এখানে কি হচ্ছে?</p>\n<p>মুহূর্তেই কামরা নিস্তব্ধ হয়ে যায়।মাস্টার দু&#8217;জন পায়ে পায়ে এগিয়ে যায়।এদুয়ার্দো গম্ভীর মুখে দাড়িয়ে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে নির্নিমেষ তাকিয়ে থাকে।ছাত্রীরা দু&#8217;দিকে সরে দাড়িয়ে মাস্টার দু&#8217;জনকে সামনে যাওয়ার রাস্তা করে দেয়।ততক্ষণে সিয়া মেঝে থেকে উঠে পড়ে।সোজা হয়ে পেছনে দু&#8217;হাত বেঁধে দাড়ায়।</p>\n<p>-কি হচ্ছিলো এখানে?এতো শোরগোল আর জটলা কিসের?</p>\n<p>-মাস্টার জো,এই মেয়েটা অহেতুক আমাদের কয়েকজনকে আঘাত করেছে।____কথাটা বলে ডোনা নামের একটা মেয়ে।</p>\n<p>-কোনো কারন ছাড়া অহেতুক আঘাত করেছে?___বিস্মিত কন্ঠে জিজ্ঞেস করেন জোডিথ।</p>\n<p>-জ্বি মাস্টার,কোনো কারন ছিলো না।____সমস্বরে বলে উঠে কতগুলো ছেলে মেয়ে।</p>\n<p>-তুমি কেনো ওদেরকে আঘাত করেছো?কারণ ছাড়া কাউকে আঘাত করা নিয়ম বহির্ভূত।</p>\n<p>-ক্ষমা করবেন মাস্টার।এই মেয়েটা আমাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়েছিলো।___ডোনার দিকে আঙ্গুল তুলে সিয়া শান্ত কন্ঠে বলে।</p>\n<p>-কেউ দেখেছো?এই মেয়েটা কি সত্যি বলছে?___জোডিথ চারদিকে নজর বুলিয়ে শিক্ষার্থীদের জিজ্ঞেস করে।এদুয়ার্দো দুরে দাঁড়িয়ে সবটা দেখে।</p>\n<p>মাস্টার জোডিথের প্রশ্নের উত্তর দেয় না কেউ।সবাই নিশ্চুপ হয়ে থাকে।ডোনা সুযোগ বুঝে নাকী সুরে বলে,,,</p>\n<p>-আমি ওকে ধাক্কা দেইনি,তাই কেউ দেখেনি।</p>\n<p>-এর জন্য তোমাকে শাস্তি পেতে হবে।শাস্তি সরুপ আজকের ক্লাস তুমি করতে পারবে না।এখুনি কামরার বাইরে বেরিয়ে যাও।</p>\n<p>ইনায়া ব্যস্ত কন্ঠে উদ্বিগ্ন স্বরে বলে,,,,</p>\n<p>-কিন্তু মাস্টার&#8230;..</p>\n<p>সিয়া ওর একহাতের আঙ্গুল আঁকড়ে ধরে।দু&#8217;চোখের পল্লব নেড়ে চুপ থাকতে বলে ওকে।ধীরপায়ে সামনের দিকে এগিয়ে যায়।দৃষ্টির সম্মুখে এদুয়ার্দো দাঁড়িয়ে আছে।সিয়া তার দিকে তাকায় না একবারও।দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে যায়।হঠাৎই পেছন থেকে এদুয়ার্দোর গম্ভীর কন্ঠস্বর শুনতে পায়,,,,</p>\n<p>-দাড়াও।</p>\n<p>অনিচ্ছা থাকা সত্ত্বেও সিয়া দাড়ায়।চিফ মাস্টারকে অপমান করার অপরাধে না জানি আবারও কোনো শাস্তি পেতে হয়।এদুয়ার্দো মাস্টার জোডিথকে উদ্দেশ্য করে শান্ত গলায় বলে,,,</p>\n<p>-আমার মনে হয় এই মেয়েটাকে এর থেকেও কঠিন কোনো শাস্তি দেওয়া প্রয়োজন।যাতে পরবর্তীতে এরকম কোনো অপরাধ না করতে পারে।</p>\n<p>-মাননীয় মাস্টার,তাহলে স্বয়ং আপনিই ওর শাস্তি নির্ধারণ করুন।____মাস্টার জোডিথ সবিনয়ে বলেন।</p>\n<p>-যতক্ষণ আমার ক্লাস চলবে,ততক্ষণ টেবিলের উপর দু&#8217;হাত আর উপরের দিকে দুই পা সোজা রেখে উল্টো হয়ে ঝুলে থাকবে।যতবার পড়ে যাবে,ততবার ওর শাস্তির পরিমাণ বাড়বে।</p>\n<p>কামরায় থাকা মেয়েগুলো মিটমিটিয়ে হাঁসে।স্তব্ধ দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে এদুয়ার্দোর দিকে।মাস্টার দু&#8217;জন বিস্মিত হন।এটা তো রীতিমতো কঠিন শাস্তি হয়ে যায়।ইনায়ার রাগ হয়।ভীষণ রাগ হয়।এ কেমন অন্যায়?কোনো অপরাধ না করেও সিয়াকে কেনো শাস্তি পেতে হবে?</p>\n<p>সিয়া উৎকর্ণ কানে দৃঢ়চিত্তে দাড়িয়ে রয়।দু&#8217;হাতে পরিধেয় সাদা প্যান্টের দু&#8217;পাশ খামচে ধরে।ওর বুকের ভেতরে ভয়ংকর আগুন জ্বলছে।এই আগুন ততদিন পর্যন্ত জ্বলবে,যতদিন না পর্যন্ত এদুয়ার্দো নামের এই র&#8217;ক্তচোষা শ&#8217;য়তানটাকে নিজ হাতে হ&#8217;ত্যা করতে পারবে।</p>\n<p>যথারীতি ক্লাস শুরু হয়।কামরার এক কোণায় থাকা কাঠের টেবিলের উপর সিয়া দু&#8217;হাত আর উপরের দিকে দু&#8217;পা সোজা রেখে উল্টো হয়ে ঝুলে।হিংস্রাত্মক শান্ত দৃষ্টিতে এদুয়ার্দোর দিকে অনিমেষ তাকিয়ে থাকে। তার দেখানো রণকৌশলগুলো মনোযোগ সহকারে দেখে। যেন গুরুর থেকেই গুরুকে ধ্বংস করার বিদ্যা শিখছে ও।</p>\n<p>________</p>\n<p>কিয়েভ,স্যাভেরিন ক্যাসল।</p>\n<p>মস্ত থালার মতো লাল আভাযুক্ত সুর্য টা পশ্চিম আকাশে ডুবে যায়।দুর্গের হলরুমে বেশ জমকালো আয়োজন করা হয়।হঠাৎ ফ্রন্ট ডোর দিয়ে চালচলন এবং বেশভূষায় আত্মম্ভরিতাপূর্ন একজন ব্যক্তি প্রবেশ করে।পরনে স্যূট,বুট আর টাই।তাকে দেখা মাত্রই পিদর্কা স্যাভেরিন সৌজন্যতার হাসি হাসেন।উড্রো উইলসন তাকে সাদরে সংবর্ধনা জানিয়ে বলে,,,,</p>\n<p>-আপনাকে স্বাতগম মহামান্য শাসক।</p>\n<p>লোকটার মুখ দেখে মনে হয় তিনি বেজায় অসন্তুষ্ট।উইলসনের সংবর্ধনা গ্রহণ করেননি।তিনি ভারি ভারি পা ফেলে এগিয়ে যান পিদর্কা স্যাভেরিনের দিকে।পিদর্কা উঠে দাড়ান।সহাস্যে সংবর্ধনা জানান।পাশের একটি সোফা দেখিয়ে বসার অনুরোধ করেন।লোকটা বসেন।গম্ভীর মুখে এদিক সেদিকে তাকান।অতঃপর স্মিথ হাসেন।ক্যারলোয়েন,ভিক্টোরিয়া,ব্রাংকো আর অ্যালিশ নিশ্চুপ হয়ে বসে রয়।পিদর্কা একগাল হাসি উপহার দিয়ে জিজ্ঞেস করেন,,,,</p>\n<p>-ইয়েলোৎসিন মার্টেল।ইউক্রেনের শাসক হঠাৎ স্যাভেরিন ক্যাসলে?কি মনে করে?</p>\n<p>-এসেছি একটা প্রস্তাব নিয়ে।আশা করি আপনি খুশি হবেন।__ইয়েলোৎসিন সগর্বিত কন্ঠস্বরে বলেন।</p>\n<p>-এমন কি প্রস্তাব যা শুনে আমি খুশি হতে পারি?___পিদর্কা স্যাভেরিন বিস্মিত কন্ঠে জিজ্ঞেস করেন।</p>\n<p>-আমার একমাত্র মেয়ে।আপনার বড় ছেলেকে পছন্দ করে।তাকে ভালবাসে। তাকে বিয়ে করতে চায়।</p>\n<p>পিদর্কা স্যাভেরিন উচ্চস্বরে হাসেন।ইয়েলোৎসিন অপমানবোধ করেন।অ্যালিস সরু চোখে তাকায়।পিদর্কা স্যাভেরিন ঠোঁটের ভাঁজে হাসির রেখা বজায় রেখে বলেন,,,,</p>\n<p>-তা কি করে সম্ভব? একজন র&#8217;ক্তপিপাসুর সাথে মানব কন্যার বিয়ে? আপনি তাহলে এরকম উদ্ভট মজা করতেই এখানে এসেছেন?</p>\n<p>-আমি কোনো মজা করছি না। আমার মেয়ে সব জেনে শুনেই এদুয়ার্দোকে বিয়ে করতে চায়। প্রয়োজনে সে পি&#8217;শাচ সত্তা গ্রহন করবে। </p>\n<p>পিদর্কা স্যাভেরিন বিস্মিত হন।কিঞ্চিৎ ভ্রু-কুঁচকে নেন।স্পষ্ট গলায় জিজ্ঞেস করেন,,,,</p>\n<p>-এতে আমার কি লাভ?</p>\n<p>-আপনি যা বলবেন। আমি তাই করবো। আপনাকে সব ধরনের সাহায্য করবো। আপনার সব ধরনের প্রয়োজন মেটাবো।</p>\n<p>-এই যে আপনি ইউক্রেনের শাসকের আসনে বসে রাজত্ব করছেন , সেটাও আমার ছেলের দয়ায়। তাহলে আমার কি প্রয়োজন মেটাবেন আপনি?____পিদর্কা স্যাভেরিনের কন্ঠে দাম্ভিকতার রেশ।</p>\n<p>-আপনি কি চান না?আপনার ছেলের সাথে যোগ্য কোনো সুন্দরী যুবতীর বিয়ে হোক? আমার মেয়ের থেকে সুযোগ্য এবং সুন্দরী প্রিন্সেস আপনি আর একটাও খুঁজে পাবেন না।___ইয়েলোৎসিন গর্ব করে বলেন।</p>\n<p>&#8211; আচ্ছা। এই বিয়েতে আপনার কি লাভ?</p>\n<p>&#8211; কেনো লাভ নেই। আজ পর্যন্ত আমি আমার মেয়ের কোনো চাওয়াই অপূর্ণ রাখিনি। ওর খুশিই আমার খুশি।_____ইয়েলোৎসিনের দৃঢ় কন্ঠস্বর।</p>\n<p>&#8211; লোকটা আমার থেকেও বড় শ&#8217;য়তান। নিশ্চয়ই এই বিয়ের পেছনে বড় কেনো স্বার্থ আছে তার।</p>\n<p>&#8211; তাহলে কি সিদ্ধান্ত নিলেন ?___অকপটে জিজ্ঞেস করেন ইয়েলোৎসিন।</p>\n<p>&#8211; এখনো সিদ্ধান্ত নেইনি। ভেবে জানাবো।</p>\n<p>ইয়েলোৎসিনের মুখখানা গম্ভীর হয়ে যায়।তিনি শঙ্কিত হন।যদি পিদর্কা স্যাভেরিন বা এদুয়ার্দো রাজি না হয়।যদি এই বিয়েটা ভেঙ্গে যায়।পিদর্কা স্যাভেরিন তার মুখের দিকে তাকিয়ে রহস্যময় হাসেন।</p>\n<p>___</p>\n<p>প্রাসকোভিয়া।</p>\n<p>দেখতে দেখতে প্রাসকোভিয়ার গহীন জঙ্গলে কেটে গেছে দু&#8217;রাত। আজ আবারও একটি ভয়ংকর রাতের সূচনা হয়। অন্ধকার যত গাঢ় হয় মনের কোণে জেঁকে বসে ভয়। ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়ছে ক্রিসক্রিংগলের শরীর।সাথে খাবার নেই,নেই খাওয়ার উপযোগী পানি। তন্মধ্যে কপালে জুটেছে বাঁচাল প্রকৃতির এক ছেলে। গতকাল অনেক চেষ্টা করেও মার্কস গ্রোসিয়াসকে পিছু ছাড়াতে পারেননি তিনি।অগ্যতা ওকে সাথে নিয়ে সরু খাল সাঁতরে পার হয়েছিলেন।তারপর আবারও নবোদ্যমে পথযাত্রা শুরু করেন। পথে কয়েকবার ভয়ংকর সব ফাঁদের সম্মুখীন হয়েছেন।কিন্তু সৌভাগ্যবশত এখন পর্যন্ত কোনো যোদ্ধাদের মুখোমুখি হননি। বিকল্প রাস্তা ধরে হাঁটছেন।এতে করে সময় বেশি লাগলেও ঝুঁকি কম ছিলো। </p>\n<p>দু&#8217;জনের হাতে দু&#8217;টো মশাল। অন্ধকারে ভেজা স্যাঁতস্যাঁতে মাটিতে তারা সাবধানী পায়ে হাঁটেন। চারদিকে সতর্ক দৃষ্টিতে নজর বুলান। অন্ধকার খুব বেশি গাঢ় হয়নি।আরও একটু রাস্তা অতিক্রম করে তাবু খাটানোর সিদ্ধান্ত নেন ক্রিসক্রিংগল। </p>\n<p>-আর কতদুর হাঁটবেন?যাচ্ছেনই বা কোথায়? গতকাল থেকে একটা প্রশ্ন করে চলেছি,উত্তরই দিচ্ছেন না।____মার্কস চাঞ্চল্য কন্ঠে জিজ্ঞেস করে তাকে।</p>\n<p>ক্রিসক্রিংগল তার করা প্রশ্নের কোনো উত্তর দেন না।অদূরে আগুনের মশাল জ্বলতে দেখেন।তাদের দু&#8217;জনের চারদিকে বড় বড় সব রাক্ষুসে বৃক্ষ দাঁড়িয়ে ছিলো।কয়েকটা আগুনের মশাল এগিয়ে আসতে দেখে ক্রিসক্রিংগল মার্কসকে অকপটে জিজ্ঞেস করেন,,,,</p>\n<p>-গাছে উঠতে পারো?</p>\n<p>-হ্যাঁ।কিন্তু কেনো?</p>\n<p>-সামনে তাকিয়ে দেখো।বাঁচতে চাইলে দ্রুত গাছে উঠে পড়ো।</p>\n<p>ক্রিসক্রিংগল ত্বরিত প্রশস্ত ডালা-পালা যুক্ত একটা লম্বাকৃতির গাছে চড়তে শুরু করেন।মার্কস আহাম্মকের মতো তাকিয়ে থাকে।লোকগুলো কাছাকাছি চলে আসতেই ক্রিসক্রিংগলের পেছন পেছন গাছে উঠতে শুরু করে।লোকগুলো আরও কাছাকাছি চলে আসে।ক্রিসক্রিংগল একটা গাছের ডালে বসেন।মার্কসকে বসার ইশারা করে চুপ থাকতে বলেন।গাছটা পিচ্ছিল ছিলো।সাবধানে বসে পড়ে মার্কস।কয়েক পল সময় গড়ায়।লোকগুলো মশাল হাতে গাছটার নিচে এসে দাড়ায়।তাদের দিকে তাকাতেই অসাবধানতাবশত অকস্মাৎ দুম করে গাছ থেকে পড়ে যায় মার্কস।বীভৎস চিৎকার দিয়ে উঠে,,,</p>\n<p>-আহহহহহ।</p>",
        "series": {
            "id": 8,
            "title": "ফ্লোরেনসিয়া",
            "slug": "florencia",
            "url": "https://golpohub.com/series/florencia",
            "thumbnail_url": "https://cdn.golpohub.com/covers/series-florensiya-8-69ae99.webp",
            "progress_status": "completed"
        },
        "author": {
            "id": 7,
            "name": "লামিমা তানহা",
            "slug": "lamima-tanha",
            "url": "https://golpohub.com/authors/lamima-tanha",
            "avatar_url": "https://cdn.golpohub.com/avatars/lamima-tanha-7-c8334e.webp",
            "bio": "লামিমা তানহা সমকালীন বাংলা অনলাইন কথাসাহিত্যের এক ব্যতিক্রমী ও প্রভাবশালী কণ্ঠস্বর। তিনি বিশেষত ডার্ক রোম্যান্স, অতিপ্রাকৃত রহস্য, গথিক থ্রিলার এবং গভীর মনস্তাত্ত্বিক টানাপোড়েনের আখ্যান রচনায় নিজস্ব এক স্বতন্ত্র ধারা সৃষ্টি করেছেন। তাঁর লেখনীতে নিখুঁত বিশ্বনির্মাণ (World-building), প্রাচীন কিংবদন্তি ও পুরাণের মেলবন্ধন এবং বহুস্তরীয় চরিত্রের আবেগঘন দ্বৈরথ অত্যন্ত প্রাণবন্তভাবে ফুটে ওঠে।\n\nপ্রেম, ক্ষমতা, রক্তপিপাসা ও প্রতিশোধের জটিল মনস্তত্ত্বকে রোমাঞ্চকর গতিতে রূপায়িত করার ক্ষেত্রে লামিমা তানহা অতুলনীয় মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন। পাঠককে রুদ্ধশ্বাস সাসপেন্সে বন্দি রেখে প্রতিটি অধ্যায়ে অনুভূতির রূপান্তর ঘটানোই তাঁর লেখনীর প্রধানতম শক্তি।",
            "series_count": 0,
            "meta": {
                "bio": "লামিমা তানহা সমকালীন বাংলা অনলাইন কথাসাহিত্যের এক ব্যতিক্রমী ও প্রভাবশালী কণ্ঠস্বর। তিনি বিশেষত ডার্ক রোম্যান্স, অতিপ্রাকৃত রহস্য, গথিক থ্রিলার এবং গভীর মনস্তাত্ত্বিক টানাপোড়েনের আখ্যান রচনায় নিজস্ব এক স্বতন্ত্র ধারা সৃষ্টি করেছেন। তাঁর লেখনীতে নিখুঁত বিশ্বনির্মাণ (World-building), প্রাচীন কিংবদন্তি ও পুরাণের মেলবন্ধন এবং বহুস্তরীয় চরিত্রের আবেগঘন দ্বৈরথ অত্যন্ত প্রাণবন্তভাবে ফুটে ওঠে।\n\nপ্রেম, ক্ষমতা, রক্তপিপাসা ও প্রতিশোধের জটিল মনস্তত্ত্বকে রোমাঞ্চকর গতিতে রূপায়িত করার ক্ষেত্রে লামিমা তানহা অতুলনীয় মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন। পাঠককে রুদ্ধশ্বাস সাসপেন্সে বন্দি রেখে প্রতিটি অধ্যায়ে অনুভূতির রূপান্তর ঘটানোই তাঁর লেখনীর প্রধানতম শক্তি।",
                "phone": null,
                "gender": "female",
                "address": {
                    "city": "Jamalpur",
                    "street": "Jamalpur, Dhaka",
                    "country": "Bangladesh"
                },
                "birth_date": null,
                "social_links": {
                    "facebook": "https://facebook.com/107004075567786"
                },
                "pen_name": "লামিমা তানহা",
                "aliases": [
                    "Lamima Tanha",
                    "তানহা"
                ]
            },
            "timestamps": {
                "created_at": null,
                "updated_at": null
            }
        },
        "navigation": {
            "previous_episode": {
                "id": 473,
                "ep_number": 33,
                "title": "মধ্যরাতের মুখোমুখি সংঘাত ও দেবীর বার্তা",
                "slug": "florencia-s1-ep33",
                "url": "https://golpohub.com/episodes/florencia-s1-ep33",
                "thumbnail_url": "https://golpohub.com/assets/images/og.jpg"
            },
            "next_episode": {
                "id": 475,
                "ep_number": 35,
                "title": "অন্ধকারের পলায়ন ও রহস্যের সিন্দুক",
                "slug": "florencia-s1-ep35",
                "url": "https://golpohub.com/episodes/florencia-s1-ep35",
                "thumbnail_url": "https://golpohub.com/assets/images/og.jpg"
            }
        }
    }
}