{
    "_links": {
        "html": "https://golpohub.com/episodes/fulshajja-s2-ep24",
        "json": "https://golpohub.com/episodes/fulshajja-s2-ep24?format=json",
        "markdown": "https://golpohub.com/episodes/fulshajja-s2-ep24?format=md",
        "rss": "https://golpohub.com/episodes/fulshajja-s2-ep24?format=rss",
        "atom": "https://golpohub.com/episodes/fulshajja-s2-ep24?format=atom"
    },
    "seo": {
        "canonical_url": "https://golpohub.com/episodes/fulshajja-s2-ep24",
        "title": "ফুলশয্যা পর্ব ৩৫ (সিজন ২ পর্ব ২৪) - অস্ত্রোপচারের টেবিল ও জোড়া চাঁদের হাসি | Fulshajja Part 35",
        "description": "পড়ুন ফুলশয্যা সিজন ২ পর্ব ২৪। নীলিমার সংকটজনক ডেলিভারি, আবিরের বীরোচিত উদ্ধার এবং জমজ সন্তানের আগমনের আনন্দ।",
        "keywords": "ফুলশয্যা পর্ব ৩৫, fulshajja season 2 part 24, fulshajja porbo 35, fulshajja episode 35, আবির, নীলিমা, সিজার, জমজ বাচ্চা, সন্তান প্রসব, bangla novel part 35",
        "image_url": "https://cdn.golpohub.com/covers/episodes/chapter-chapter-2983-ea2072.webp",
        "schema": {
            "@context": "https://schema.org",
            "@graph": [
                {
                    "@type": "Chapter",
                    "name": "অস্ত্রোপচারের টেবিল ও জোড়া চাঁদের হাসি",
                    "position": 24,
                    "description": "আবির এয়ারপোর্টে যাওয়ার সুযোগে প্রসব যন্ত্রণায় ছটফট করা নীলিমাকে হাসপাতালে না নিয়ে দাই দিয়ে অপচিকিৎসার ব্যবস্থা করে শাশুড়ি। শেষ মুহূর্তে এসে দরজা ভেঙে নীলিমাকে রক্তাক্ত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া আবির যখন অপারেশন থিয়েটারের বাইরে দিশেহারা পায়চারি করছিল, তখন ডাক্তার এসে কী চমকপ্রদ খবর দিল?",
                    "url": "https://golpohub.com/episodes/fulshajja-s2-ep24",
                    "inLanguage": "bn",
                    "timeRequired": "PT11M",
                    "datePublished": "2026-09-22T09:09:46+00:00",
                    "dateModified": "2026-09-22T09:22:09+00:00",
                    "wordCount": 1734,
                    "image": "https://cdn.golpohub.com/covers/episodes/chapter-chapter-2983-ea2072.webp",
                    "isPartOf": {
                        "@type": [
                            "BookSeries",
                            "CreativeWorkSeries"
                        ],
                        "name": "ফুলশয্যা",
                        "url": "https://golpohub.com/series/fulshajja"
                    },
                    "author": {
                        "@type": "Person",
                        "name": "অনামিকা ইসলাম অন্তরা",
                        "url": "https://golpohub.com/authors/anamika-islam-antara"
                    }
                },
                {
                    "@type": "BreadcrumbList",
                    "itemListElement": [
                        {
                            "@type": "ListItem",
                            "position": 1,
                            "name": "Golpo Hub",
                            "item": "https://golpohub.com"
                        },
                        {
                            "@type": "ListItem",
                            "position": 2,
                            "name": "সিরিজসমূহ",
                            "item": "https://golpohub.com/series"
                        },
                        {
                            "@type": "ListItem",
                            "position": 3,
                            "name": "ফুলশয্যা",
                            "item": "https://golpohub.com/series/fulshajja"
                        },
                        {
                            "@type": "ListItem",
                            "position": 4,
                            "name": "অস্ত্রোপচারের টেবিল ও জোড়া চাঁদের হাসি",
                            "item": "https://golpohub.com/episodes/fulshajja-s2-ep24"
                        }
                    ]
                }
            ]
        }
    },
    "filters": [],
    "data": {
        "id": 2983,
        "ep_number": 24,
        "title": "অস্ত্রোপচারের টেবিল ও জোড়া চাঁদের হাসি",
        "slug": "fulshajja-s2-ep24",
        "url": "https://golpohub.com/episodes/fulshajja-s2-ep24",
        "reading_time": 11,
        "thumbnail_url": "https://cdn.golpohub.com/covers/episodes/chapter-chapter-2983-ea2072.webp",
        "yt_video_id": null,
        "yt_video_url": null,
        "timestamps": {
            "published_at": "2026-09-22T09:09:46+00:00",
            "updated_at": "2026-09-22T09:22:09+00:00"
        },
        "meta": {
            "word_count": 1734,
            "seo_title": "ফুলশয্যা পর্ব ৩৫ (সিজন ২ পর্ব ২৪) - অস্ত্রোপচারের টেবিল ও জোড়া চাঁদের হাসি | Fulshajja Part 35",
            "seo_description": "পড়ুন ফুলশয্যা সিজন ২ পর্ব ২৪। নীলিমার সংকটজনক ডেলিভারি, আবিরের বীরোচিত উদ্ধার এবং জমজ সন্তানের আগমনের আনন্দ।",
            "keywords": "ফুলশয্যা পর্ব ৩৫, fulshajja season 2 part 24, fulshajja porbo 35, fulshajja episode 35, আবির, নীলিমা, সিজার, জমজ বাচ্চা, সন্তান প্রসব, bangla novel part 35",
            "characters_involved": [
                "আবির",
                "নীলিমা",
                "আদিবা",
                "আবিরের মা"
            ]
        },
        "content": "“আর যায় হোক!\n\nএম.বি.বি.এস নীলিমার সন্তান কখনো অপুষ্টিতে ভুগতেই পারে না…..”\n\nকথাটা বলে একটা রহস্যজনক হাসি দেয় নীলিমা…..\n\nসারাটা ক্ষণ ক্লান্ত নীলিমাকে আবির আরো ক্লান্ত করে দিত এটা খাও, ওটা খাও করে। রান্না করার সময় হলে নীলিমা যখন ধীর পায়ে রান্না ঘরে যেত আবির তখন চেয়ার হাতে পিছনে এসে দাঁড়াত। নীলিমাকে জোর করে রান্নাঘরের এককোণে চেয়ারে বসিয়ে নিজেই রান্নায় লেগে পরত। রান্নাটা আবির বেশ পারে কারণ ঢাকায় থেকে আবির যখন পড়াশুনা করত তখন বন্ধুরা মিলে রান্না করে খেত। তারপর আবিরের চাকরী হলো, এদিকে ওর বাবাও ফ্ল্যাট কিনল। নতুন বাসায়ও আবির নিজে নিজেই রান্না করে খেয়ে কলেজে যেত। যদিও ওর বাবা বলেছিল কাজের জন্য কোনো লোক রাখতে। অন্তত পক্ষে রান্নাটা যাতে করে দিতে পারে। কিন্তু আবির একটু অন্যরকম। উচ্চবংশে জন্ম নিয়েও খুব অনাড়ম্বর জীবন যাপন করত। সর্বোপরি, নিজের কাজ নিজে করে খেতে পছন্দ করত। আবির ছুটি নিয়ে বাসায় আসার পর নীলিমা হাতে গুনা কয়েকদিন রান্না করেছে। বাকিদিনগুলো বলতে গেলে বলতে হয় আবির’ই রান্না করেছে। মায়ের নজর এড়িয়ে আড়ালে লুকিয়ে আবির নীলিমাকে রান্নায় হেল্প করেছে। কখনো তরকারী কুটে দিয়েছে, কখনো বা মাছ কেটে দিয়েছে। কারো পায়ের শব্দ পেলে কিচেন থেকে দৌঁড়ে বের হয়ে বাথরুমে ঢুকে যেত আবির আর নীলিমা রান্নায় দাঁড়িয়ে পরত।\n\nদিন এভাবেই কাটছিল__\nসেদিন নীলিমাকে দেখতে ওর বান্ধবী হিয়া এসেছিল। নীলিমার ছোট বোন লিমা ভার্সিটিতে ভর্তির জন্য কোচিং করত ঢাকা, ফার্মগেইট। হিয়া আসার সময় লিমাকেও সাথে করে নিয়ে আসে। প্রিয়জনদের পেয়ে খুশিতে আত্মহারা নীলিমা ভুলেই যায় ওরা অনেক দুর থেকে এসেছে। ওদের ফ্রেশ হওয়া দরকার, আপ্যায়নের ব্যবস্থা করা দরকার। সব ভুলে খুশিতে আত্মহারা নীলিমা এক বিরাট গল্প জোড়ে দেয় বান্ধবী এবং বোনের সাথে। দরজার সামনে এসে দাঁড়ায় নীলিমার শাশুড়ি। দুর থেকে ইশারায় ডাক দেয় নীলিমাকে। শাশুড়ির ডাকে সাড়া দেয় নীলিমা। নীলিমার শাশুড়ি ফিসফিসিয়ে বলেন, গল্প যে জুড়ে দিয়েছ বাসায় রান্না করার মত কিছু আছে? নীলিমা নিচু স্বরে না-বোধক জবাব দেয়। অনেকটা রাগ দেখিয়ে বলেন-\nকিছুই নাই, এদিকে বাসায় মেহমান এসেছে। কোথায় আবিরকে ফোন দিবা, তা না করে গল্প জুড়ে দিয়েছ? ওরা কতদুর থেকে এসেছ জানো? এবারো নীলিমা নিচু স্বরে বলে উঠে, দিচ্ছি কল মা। নীলিমা আবিরের নাম্বারটা ডায়াল করতেই ওর শাশুড়ি হাত থেকে ফোনটা নিয়ে গিয়ে নিজের কানের কাছে ধরে। নীলিমা তো পুরা’ই থ। কানে ফোন রেখেই গম্ভীর মুখে শাশুড়ির প্রশ্ন-\n“কি হলো? এখানে দাঁড়িয়ে কেন আছ? ওদেরকে শরবত দাও। আমি ফ্রিজে রেখে আসছি। আর নুডলস রান্না করছি দেখো। এগুলোও সামনে এনে দাও।”\nদিচ্ছি বলে নীলিমা কিচেনের দিকে পা বাড়ায়….\n\nনীলিমার শাশুড়ি এমনিতে ওকে যত তিক্ত কথায় শুনাক না কেন, বাসায় মেহমান আসলে দৌঁড়াতে থাকে কি খাওয়াবে না খাওয়াবে। এটা একটা ওনার বিশেষ গুন।\nআবির সওদা করে তাড়াতাড়ি’ই ফিরে আসে। আবির ফিরে আসলে ওর হাত থেকে বাজারের ব্যাগটা নিয়ে দ্রুত রান্না ঘরে চলে যায় নীলিমার শাশুড়ি। নীলিমা চুপসে দাঁড়িয়ে আছে শাশুড়ির পিছনে আর ওর শাশুড়ি রান্না করছে। পিছনে ফিরে নীলিমার শাশুড়ি-\n” কি হলো? এখানে দাঁড়িয়ে কেন আছ? ফ্রিজে দেখো ফল রাখা আছে, ভালোভাবে ধূয়ে ঐগুলো ওদের সামনে দাও।”\nনীলিমা শাশুড়ির কথা মত ফ্রিজ থেকে ফল বের করে নিঃশব্দে রান্নাঘর ত্যাগ করে।\n\nরাত্রে খাওয়া দাওয়ার পর নীলিমা ওর বান্ধবী হিয়া এবং বোন লিমাকে নিয়ে গেস্টরুমে যায়। ফিরে আসছিল নীলিমা, পিছন থেকে বলে উঠে লিমা-\n” আমি দুনিয়াতে অনেক অনেক মানুষ দেখেছি কিন্তু আমার আপুর মত মানুষ দেখিনি।”\nপিছনে ফিরে তাকায় নীলিমা। গড়গড় করে বলতে থাকে লিমা-\n” তুই কিরে আপু? একজন শিক্ষিত, প্রতিষ্ঠিত মেয়ে হয়ে কি করে তুই তোর শাশুড়ির এত অত্যাচার সহ্য করছিস?”\nরেগে যায় নীলিমা-\n” খবরদার! আর একটাও কথা বলবি না।”\nপাশ থেকে বলে উঠে হিয়া-\n” কেন? বললে কি করবি? ও কি মিথ্যে কিছু বলছে নাকি?”\nবান্ধবীর কথায় চেহারায় বিরক্তি ফুঁটে উঠে নীলিমার। মুখে বিরক্তি ভাব নিয়েই প্রশ্ন করে, চুপ করবি?\n—– কেন চুপ করব? আর কত? আর কত ঐ মহিলার অত্যাচার সহ্য করবি? এমনভাবে মানসিক অত্যাচার চলতে থাকলে তুই তো পাগল হয়ে যাবি! আর তুই একটা শিক্ষিত মেয়ে হয়ে কি করে এসব সহ্য করছিস? কেন প্রতিবাদ করছিস না? তুই বুঝতে পারছিস খাওয়ার অভাবে, শুধুভাবে খাওয়ার অভাবে তোর কি পরিমাণ ক্ষতি হচ্ছে? তুই বুঝতে পারছিস পরিবর্তিতে এটা বাচ্চার উপর কতবড় প্রভাব ফেলতে পারে?\n\nহিয়া থামতে না থামতেই লিমা বলে উঠে-\n” কাকে কি বুঝাচ্ছ আপু? ওনি তো তোমার আমার মত সাধারণ কোনো মানুষ না যে আমাদের কথা বুঝবেন! ওনি হচ্ছেন নায়িকা সাবানা। সেই মহৎ হৃদয়ের সাবানা যিনি শাশুড়ির অবর্নণীয় অত্যাচার সহ্য করেও কিচ্ছু বলবে না। ওনি মহান হিয়া আপু। তোমার কি মনে হয় এরকম মহান হৃদয়ের অধিকারী নায়িকা সাবানা আমাদের কথা শুনবে? শাশুড়ি যদি ওনাকে তিনবেলা ভাত নাও দেয় তবুও ওনি মুখ খুলবেন না।”\n\nহিয়া লিমাকে থামিয়ে দিয়ে নীলিমার পাশে গিয়ে দাঁড়ায়। কাঁধে হাত রেখে বলেন-\n” নীলিমা! আমার মনে হয় তোর শাশুড়ির ব্যাপারটা আবির স্যারকে খুলে বলা দরকার। এভাবে তো চলতে পারে না। আর কত? আর কত দিন অভুক্ত থাকবি? শুধু তো কথায় মারেন না ওনি, ভাতেও মারেন। এ অবস্থা চলতে থাকলে তো তোর বাচ্চার ক্ষতি হবে। তাই বলছি প্লিজ স্যারকে খুলে বল সবটা।”\n\nকথাগুলো বলে নিশ্বাসও ফেলতে পারেনি হিয়া, তার আগেই পেছন থেকে বলে উঠে আবির,\n“ওর বলতে হবে না, আমি সব জানি।”\n\nচমকে উঠে পিছনে তাকায় হিয়া। আবিরকে এভাবে রুমে এগিয়ে আসতে দেখে কলিজার পানি শুকিয়ে যায় হিয়াসহ লিমার। নীলিমারও অবস্থা যায় যায়। ক্লান্ত শরীর নিয়ে পেছনে না ঘুরলে ও বুঝতে পারে আবির সব শুনে নিয়েছে।\n\nআমতা আমতা করে হিয়া যখন আবিরকে কিছু বলতে যাচ্ছিল, তখন থামিয়ে দেয় আবির। তোমরা ক্লান্ত। কথা না বাড়িয়ে দরজা লাগিয়ে শুয়ে পড়ো। আবির নীলিমার কাঁধে হাত রেখে পিছন দিক থেকে জড়িয়ে ধরে। “চলো……..”\n\nনীলিমা ধীরগতিতে আবিরের সাথে হাঁটতে থাকে।\n\nরাত্রি অনেক হয়েছিল, আর তাছাড়া নীলিমার শরীরটাও বেশী ভালো যাচ্ছে না আজকাল। তাই আবির মায়ের কথা তুলে নীলিমাকে উত্তেজিত করতে চায়নি। আর চায়নি বলেই বিছানা পরিষ্কার করে নীলিমাকে ধরে শুইয়ে দেয়। নীলিমা কথা বলতে চাইলে আবির থামিয়ে দেয়।\n” চুপ! আমি আর এ সম্পর্কে কোনো কথা এখন শুনতে চাই না। যা শুনব, বাচ্চাটা ভালোভাবে হওয়ার পর। আর মায়ের সাথে শেষ বোঝাপড়াটা সেদিন’ই হবে।”\n\nকথা বাড়ায়নি নীলিমা। চুপটি করে আবিরের বুকে মাথা রেখে শুয়ে পড়ে। মাঝরাত্রে ঘুম ভেঙে যায় নীলিমার। বিছানায় উঠে বসে। আবিরও জেগে যায়। তাড়াতাড়ি উঠে লাইট জ্বেলে নীলিমার কাঁধে হাত রাখে। ঘুমে ঢুলুঢুলু নীলিমা বসে বসেই ঘুমুচ্ছে। বিছানা থেকে উঠে গিয়ে খাবারের নানা আইটেম নীলিমার সামনে এনে রাখে। নীলিমা তখনো বসে বসে ঝিমুচ্ছে। বিভিন্ন খাবারের নাম বলে বলে প্রশ্ন করে আবির-\n” খাবে?”\nপ্রত্যেকবার’ই মাথা ঝাঁকিয়ে না-বোধক জবাব দেয় নীলিমা। প্রশ্ন করে-\n” তাহলে….. কলা খাবে?”\n” উম্মমমম কলা বলে মাথা নাড়ে নীলিমা।”\nহেসে দেয় আবির।\nওরে কলা পাগলীটা আমার….!\nতোমার কলা খাওয়ার খিদে পেয়েছে সেটা বলবা না? কলা খেতে নীলিমা ভালোবাসে। ফলের মধ্যে এই একটা ফল’ই বলা ছাড়া খায় নীলিমা। আবিরও তাই প্রত্যেকদিন রাত্রে মোড়ের দোকান থেকে কলা নিয়ে এসে টেবিলে’ই রেখে দেয়। মাঝরাত্রে অন্য খাবার খাওয়ার আগে কলাটা ওর চাই’ই চাই।\nকিন্তু আজতো নীলিমা ঘুমে ঢুলুঢুলু তাই আবির কলাগুলো দু’বালিশের ফাঁকে রেখে নীলিমাকে শুয়ে দেয়। নীলিমার কপালে আলতো করে চুমুর পরশ এঁকে দেয় আবির—\n” তোমার চোখে ঘুম। কলাটা ঘুম থেকে উঠে খেও।”\n\nবাধ্য বালিকার মতো চোখ বোজে নীলিমা।\nলাইটটা নিভিয়ে পাশ বালিশে শুয়ে পরে আবির। মিনিট দশেক যেতে না যেতেই আবির মাথার পাশেই কুটকুট শব্দ শুনতে পায়। অনেক খেয়াল করে শুনার পর আবির সিদ্ধান্তে এলো এটা ইঁদুরের শব্দ। নিশ্চয় কলার উপর হামলা। ওরে ইঁদুর আজ তোর একদিন কি আমার একদিন মনে মনে কথাটা বলেই আবির নিঃশব্দে লাইট জ্বেলে দেয়। রাগান্বিত মুখে হাসি ফুটে উঠে আবিরের। “এ যে বড় ইঁদুর….”\nঘুমন্ত চোখজোড়া মিটমিট করে নীলিমা শুয়ে শুয়েই কলা খাচ্ছে। চোখগুলো ঘুমের কারণে খুলতে পারছে না, তারপরও কলা খাচ্ছে…..\n\nদেখতে দেখতে নীলিমার বাচ্চা প্রসবের দিন এগিয়ে আসে। আবির এখন একমুহূর্তের জন্যও নীলিমাকে চোখের আড়াল করে না। সবসময় নীলিমার পাশে পাশে থাকে। গোসল করিয়ে দেয়, খাইয়ে দেয়। সেদিন আবিরের বাবাকে বিশেষ একটা কারণে দেশের বাহিরে যেতে হচ্ছিল। আবিরের মা ছেলেকে বলেন, বাবাকে এয়ারপোর্ট পৌঁছে দিয়ে আসতে। আবির যেতে চাচ্ছিল না নীলিমাকে ছেড়ে।\nনীলিমার গম্ভীর জবাব-\n” সময় এখনো দেরী আছে। আজ মাত্র ৪তারিখ। ডাক্তার এ মাসের ১৭তারিখ আর ২৩তারিখের কথা বলেছে। আপনি প্লিজ বাবাকে দিয়ে আসেন। আমার জন্য টেনশন করবেন না। আর তাছাড়া গাড়ি তো আছে’ই। আপনি যাবেন আর আসবেন।”\n\nনীলিমার জোড়াজুড়িতে আর মায়ের কথায় শেষমেষ আবির বাবাকে এয়ারপোর্টে নিয়ে যেতে রাজি হয়। বাবাকে এয়ারপোর্টে পৌঁছে দিয়ে একমুহূর্তও দেরী করেনি আবির। বাসায় আসতেই নীলিমার চাপা আর্তনাদ শুনতে পায়। শব্দটা নিচ তলার’ই এক রুম থেকে আসছে। কিন্তু ও রুমে নীলিমা কেন আসল? আর ও এভাবে কাঁদছে কেন? ওর কিছু হলো নাতো? ভেতরটা অজানা আশঙ্কায় কেঁপে উঠে আবিরের। দৌঁড়ে দরজার কাছে যেতেই পাশ থেকে বাঁধা দেয় আবিরের মা। আবির ভয়ার্ত চোখে মায়ের দিকে তাকায়। গম্ভীর কন্ঠে আবিরের মায়ের জবাব,\n” তোর বউ অসুস্থ। ভিতরে যাওয়া যাবে না। ভিতরে দাই মহিলারা গেছেন মাত্র।”\n\nচমকে গিয়ে প্রশ্ন করেন আবির-\n” What?”\nউত্তর দেয় আবিরের মা,\n” ঘন্টা খানেক হলো বউ অসুস্থ হয়ে পরছে। তোর উত্তর পাড়ার জ্যাঠি তো দাইয়ের কাজ করেন। ওনাকে আনছি। ওনারা তিনজন কেবল ভিতরে গেছেন বউকে দেখতে। আল্লাহকে ডাক।”\n\nঅবাকের চূড়ান্ত সীমায় আবির। একঘন্টা ধরে ও অসুস্থ, আর তুমি মাত্র মানুষ ডেকে এনেছ। তাও দাই। যাদের হাতে আমার ২ভাই মরেছে তুমি নার্স না ডেকে তাদের ডেকে এনেছ? তাদের হাতে আমার বউকে ছেড়ে দিয়েছ? তুমি পারো নি লোক ডেকে ওকে হসপিটালে নিয়ে যেতে? একঘন্টা হয়ে গেল আমাকে কল কেন দাওনি….?\n\nআবিরকে থামায় ওর মা।\n” দ্যাখ, আবির। আমাদের বংশে কারো সিজার হয়নি। নীলিমারও হবে না। নীলিমার নরমাল ডেলিভারি হবে।”\n\nউত্তেজিত হয়ে উঠে আবির,\n” কারো হয়নি, কিন্তু নীলিমার হবে। ডাক্তার বলেছে ওর শরীরের যা কন্ডিশন ওর নরমাল ডেলিভারি হতে পারে না।”\n\n” কিন্তু…..”\n\nআবির একমুহূর্তও এখানে দাঁড়ায়নি। মাকে সরিয়ে দরজা ঠেলে ভেতরে প্রবেশ করে। মহিলাদের সরিয়ে কোলে তুলে নেয় নীলিমাকে। গাড়ির পেছনে শুইয়ে দিয়ে আদিবা আপুকে ফোন করে আসতে বলে দ্রুত হসপিটালের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেয়। নীলিমাকে অটিতে নিয়ে যাওয়া হয়। আবিরের মুখ ফ্যাকাশে বর্ণ ধারণ করেছে। চিন্তিত মনে বাইরে পায়চারি করছে। মিনিট ত্রিশেকের মধ্যে হসপিটালে পৌঁছে যায় আদিবা ও তার স্বামী। তারাও চিন্তিত মুখে এদিক ওদিক ঘোরাফেরা করছে। কিছুক্ষণ পর অটি থেকে বেরিয়ে আসে একজন নার্স।\nউতলা কন্ঠে প্রশ্ন করে আবির, কি হলো সিস্টার? উত্তরে নার্স বলে,\n” রোগীর রক্ত লাগবে। জরুরী ভিত্তিতে রোগীর রক্ত লাগবে।”\nআগে থেকেই প্রস্তুত ছিল আদিবা।\n” আমি, আমি দিব রক্ত। আমার রক্তের গ্রুপ ও নেগেটিভ।”\n\nআসুন, টেস্ট করে দেখি….\nনার্স আদিবাকে চলে যায়। রক্ত দেয়া হলে আদিবা চলে আসে, কিন্তু নীলিমার কোনো খুঁজ নেই। ভয়ে কলিজা শুকিয়ে যাওয়ার উপক্রম সবার। খবর পেয়ে নীলিমার মা চলে আসছে, চলে আসছে বোন লিমা ও বান্ধবী হিয়া। চিন্তিত মুখে হিয়ার প্রশ্ন-\n” এতক্ষণ ধরে ওরা কি করছে? এতক্ষণ তো লাগার কথা নয়।”\n\nহিয়ার কথা শেষ হতে না হতেই ভিতর থেকে বেরিয়ে আসে ডাক্তার নুসরাত। মিষ্টি হেসে আবিরের দিকে তাকিয়ে বলে-\n” Double Congratulation, Mr. Abir.”\n\nচমকে যায় আবির। Double Congratulation মানে?\nহেসে দেয় ডাঃ নুসরাত। মুখে হাসির রেখা নিয়েই বলে উঠে, আপনি একসাথে দু’সন্তানের বাবা হয়ে গেলেন। একটা ছেলে, একটা মেয়ে। খবরটা শুনার পর চারদিকে খুশির বন্যা বয়ে গেল। সবার মুখেই হাসি। শুধু হাসি নেয় আবিরের মুখে। চিন্তিত মুখেই আবারো প্রশ্ন করেন ডাঃ নুসরাতকে-\n” আর নীলিমা? ও, ও কেমন আছে?”\n\n” আল্লাহর রহমতে মা এবং সন্তান তিনজন’ই সুস্থ আছেন।”",
        "series": {
            "id": 80,
            "title": "ফুলশয্যা",
            "slug": "fulshajja",
            "url": "https://golpohub.com/series/fulshajja",
            "thumbnail_url": "https://cdn.golpohub.com/covers/series-fulszza-80-a26cca.webp",
            "progress_status": "completed"
        },
        "author": {
            "id": 47,
            "name": "অনামিকা ইসলাম অন্তরা",
            "slug": "anamika-islam-antara",
            "url": "https://golpohub.com/authors/anamika-islam-antara",
            "avatar_url": "https://cdn.golpohub.com/avatars/author-onamika-islam-ontra-47-7e302d.webp",
            "bio": "অনামিকা ইসলাম অন্তরা সমসাময়িক বাংলা অনলাইন সাহিত্যের এক সংবেদনশীল ও মননশীল কথাসাহিত্যিক। সামাজিক বাস্তবতা, পারিবারিক সংস্কার, সম্পর্কের জটিল মনস্তত্ত্ব এবং দাম্পত্য জীবনের সূক্ষ্ম টানাপোড়েনকে তিনি অত্যন্ত দরদি ও প্রাঞ্জল ভাষায় পাঠকের সামনে তুলে ধরেন। তাঁর সৃষ্টিশীল লেখনীতে গতানুগতিক প্রেমের চেয়ে আত্মসম্মানবোধ, ত্যাগ এবং মানসিক পরিণতির চিত্রায়ন পায় অনন্য গভীরতা।\n\nগায়ের রঙের বর্ণবৈষম্য, যৌথ পরিবারের ভুল বোঝাবুঝি এবং সামাজিক কুসংস্কারের বিরুদ্ধে অন্তরার কলম বরাবরই আপসহীন ও তীক্ষ্ণ। আবেগের সাথে বাস্তবতার সুষম মেলবন্ধন ঘটিয়ে তিনি প্রতিটি চরিত্রকে জীবন্ত ও বিশ্বাসযোগ্য করে গড়ে তোলেন। তাঁর প্রতিটি পর্ব পাঠকের অন্তরে মানবিক সহমর্মিতা ও গভীর জীবনবোধের অনুরণন সৃষ্টি করে।",
            "series_count": 0,
            "meta": {
                "bio": "অনামিকা ইসলাম অন্তরা সমসাময়িক বাংলা অনলাইন সাহিত্যের এক সংবেদনশীল ও মননশীল কথাসাহিত্যিক। সামাজিক বাস্তবতা, পারিবারিক সংস্কার, সম্পর্কের জটিল মনস্তত্ত্ব এবং দাম্পত্য জীবনের সূক্ষ্ম টানাপোড়েনকে তিনি অত্যন্ত দরদি ও প্রাঞ্জল ভাষায় পাঠকের সামনে তুলে ধরেন। তাঁর সৃষ্টিশীল লেখনীতে গতানুগতিক প্রেমের চেয়ে আত্মসম্মানবোধ, ত্যাগ এবং মানসিক পরিণতির চিত্রায়ন পায় অনন্য গভীরতা।\n\nগায়ের রঙের বর্ণবৈষম্য, যৌথ পরিবারের ভুল বোঝাবুঝি এবং সামাজিক কুসংস্কারের বিরুদ্ধে অন্তরার কলম বরাবরই আপসহীন ও তীক্ষ্ণ। আবেগের সাথে বাস্তবতার সুষম মেলবন্ধন ঘটিয়ে তিনি প্রতিটি চরিত্রকে জীবন্ত ও বিশ্বাসযোগ্য করে গড়ে তোলেন। তাঁর প্রতিটি পর্ব পাঠকের অন্তরে মানবিক সহমর্মিতা ও গভীর জীবনবোধের অনুরণন সৃষ্টি করে।",
                "pen_name": "অনামিকা ইসলাম অন্তরা",
                "aliases": [
                    "Anamika Islam Antara",
                    "অনামিকা অন্তরা",
                    "অন্তরা",
                    "Antara"
                ]
            },
            "timestamps": {
                "created_at": null,
                "updated_at": null
            }
        },
        "navigation": {
            "previous_episode": {
                "id": 2982,
                "ep_number": 23,
                "title": "ফুলে ওঠা পা ও গোপন রান্না",
                "slug": "fulshajja-s2-ep23",
                "url": "https://golpohub.com/episodes/fulshajja-s2-ep23",
                "thumbnail_url": "https://golpohub.com/assets/images/og.jpg"
            },
            "next_episode": {
                "id": 2984,
                "ep_number": 25,
                "title": "কালো নাতনির অবহেলা ও মধ্যরাতের কান্না",
                "slug": "fulshajja-s2-ep25",
                "url": "https://golpohub.com/episodes/fulshajja-s2-ep25",
                "thumbnail_url": "https://golpohub.com/assets/images/og.jpg"
            }
        }
    }
}