সিজন 2 অধ্যায় 25 সামাজিক সমস্যা পারিবারিক দ্বন্দ্ব #অধিকার #পারিবারিক অপমান #বিরহ আবিরনীলিমাআদিরানীলয়আবিরের মাআদিত্য

কালো নাতনির অবহেলা ও মধ্যরাতের কান্না

12 মিনিট পড়া1,854 শব্দ
কালো নাতনির অবহেলা ও মধ্যরাতের কান্না

” আল্লাহর রহমতে মা এবং সন্তান তিনজন’ই সুস্থ আছেন।”

মলিন মুখে হাসি ফুটে উঠে আবিরের। বিনীত প্রশ্ন করে ডাঃ নুসরাতকে-

” আমরা এখন ভিতরে যেতে পারি?”

ডাঃ নুসরাত মিষ্টি হেসে বলেন,

কেন নয়? রোগীকে কেবিনে নেয়া হয়েছে। আপনারা এখন যেতে পারেন সেখানে। অত্যন্ত খুশি মনে থ্যাংক ইউ মেডাম বলেই আবির দৌঁড় দেয়। আবিরের পিছু পিছু আর সবাই আসে। বেডের উপর চুপটি করে নীলিমা শুইয়ে আছে। বাচ্চা দুটি তার ঠিক পাশের একটা দোলনায় শুয়ে আসে। ধীর পায়ে আবির এগিয়ে যায় দোলনার দিকে। আদিবার ছেলে আদিত্য তো পাগল বানিয়ে দিয়েছে বাবু দেখব, বাবু দেখব বলে। আদিত্যকে কোলে তুলে নেয় আবির। তারপর দোলনার পাশে গিয়ে দাঁড়ায়। দুটো নিস্পাপ বাচ্চা দোলনায় একসাথে শুয়ে পা নাড়াচ্ছে। খিলখিল শব্দে হেসে উঠে আদিত্য-

” আম্মু ২বাবু, আম্মু ২বাবু….”

আদিত্যর এমন হাসি এবং আবিরের অপলক চাহনীর রহস্যটা বোধ হয় ছোট্ট দুই বাচ্চা জেনে গিয়েছিল। আর তাইতো পায়ের পাশাপাশি এখন হাত উপরের দিকে দিচ্ছে। আশ্চর্য ব্যাপার হলো-

দুটি বাচ্চায় একসাথে একই ভঙ্গিতে পা নাড়াচ্ছিল, এখন সেই একই ভঙ্গিতে হাত উঁচু করে নাড়াচ্ছে। আবিরের কাছে মনে হচ্ছিল যেন, বাচ্চা দুটো ওকে হাত বাড়িয়ে কোলে নেয়ার জন্য বলছে। আবির ধরতেও চেয়েছিল। কিন্তু পারেনি।

” ভাইয়া সরেন তো!

অনেক দেখছেন। পরে দেখবেন আবার। এখন আমাদের দেখার সুযোগ করে দেন।”

নীলিমার বোন লিমা কথাটা বলেই আবিরকে সরিয়ে দেয়। আবিরের বোন দুলাভাই, হিয়া, লিমা সবাই হুড়মুড়িয়ে দোলনার কাছে যায়। উপর থেকে বাচ্চার হাত পা ধরে নাড়িয়ে মুরুব্বীদের সুযোগ করে দেয় দেখার জন্য। আবির এবং নীলিমার মা দুজনেই যেন খুশিতে আত্মহারা। দুই বেয়াইন’ই বাচ্চার কাছে গিয়ে একে অন্যের মুখের দিকে তাকিয়ে বাচ্চা কোলে তুলে নেয়।

” ওরে আমার ভাইটারে”

কথাটা বলেই আবিরের মা ছেলেটাকে কোলে তুলে নেন। বাচ্চাকে নিয়ে হেঁটে, ঝাকিয়ে নিজে নিজেই কথা বলতে শুরু করেন। মেয়েটাকে কোলে নেন নীলিমার মা। পলকহীনভাবে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে কপালে চুমুর পরশ এঁকে দেন। সেই কখন থেকে মা তার সন্তানদের বুকে জড়িয়ে নেয়ার জন্য অধীর আগ্রহে তাকিয়ে আছেন। নীলিমার মা ব্যাপারটা বুঝতে পারেন। মেয়েটাকে নীলিমার কাছে নিয়ে গিয়ে বিছানায় শুইয়ে দেন ওনি। কোলের কাছে মেয়েকে পেয়ে পরম আবেশে বুকে জড়িয়ে নেয় নীলিমা। চুমু খায় মেয়ের নাকে, কপালে। এদিকে মা ছোট বোনকে আদর করছে এটা যেন সহ্য’ই করতে পারছিল ছোট্ট ছেলেটা। তাইতো আচমকায় ঠোঁট ভেঙে কান্না শুরু করে। শত অভিনয় করেও দাদী তার নাতির কান্না থামাতে পারেনি। এদিকে নীলিমার কোলে থাকা মেয়েটাও অনর্থক ভ্যাঁ, ভ্যাঁ করে কেঁদে উঠে। এ ঘটনায় সবাই অবাক। অবাক হয়নি হিয়া। তাইতো নীলিমার শাশুড়ির কাছে গিয়ে স্বাভাবিক ভঙ্গিতে বলেন-

” আন্টি! ওদের মনে হয় খিদে পেয়েছে।”

“ওহ, হ্যা….”

কথাটা বলেই নীলিমার শাশুড়ি ছেলেটাকে নিয়েও নীলিমার পাশে শুইয়ে দেয়।

আবির ছাড়া বাকি সবাই বের হয়ে যায় রুম থেকে। নীলিমার কাছে যায় আবির।

জিজ্ঞেস করে, কেমন বোধ করছ এখন?

ধীর কন্ঠে ভালো বলে মাথা ঝাকায় নীলিমা। আবির নীলিমার কপালে উষ্ণ পরশ এঁকে দিয়ে মিষ্টি হেসে বলে-

” Thank you.Thank you so much,

আমাকে এত মূল্যবান দুটো গিফ্ট দেয়ার জন্য।”

মৃদু হাসে নীলিমা। বাচ্চা দুটোকে খাওয়ানো হলে দুটো বাচ্চার কাছে যায় আবির। দু’হাতে বাচ্চা দুটোকে আদর করে আলতো করে নাকে, মুখে চুমু খায়।

আবির মনে মনে ভাবে আমাকে তো বলা হয়েছিল এক বাচ্চা হবে। মেয়ে বাবু। আমি তো ছেলে বাবুর নাম রাখিনি…..

আচ্ছা, বাবুদের নাম কি….(…)…???

পুরো কথা বলতে পারেনি আবির। তার আগেই পাশ থেকে বলে উঠে নীলিমা-

” নীলয়, আদিরা…”

বিস্মিত দৃষ্টিতে নীলিমার দিকে ফিরে তাকায় আবির। প্রশ্ন করে-

” মানে তুমি আগে থেকেই…..(…..)….???”

হুঁ, তোমাকে সারপ্রাইজ দেয়ার জন্য বলিনি। হেসে দেয় নীলিমা। নীলিমার সাথে আবিরও হেসে দেয় পরম সুখে।

৭দিন পর রাত্রে__

বাচ্চাদের কাপড় চোপড় গুছিয়ে চেয়ার টেনে এসে বিছানার পাশে বসে আবির।

” তাহলে বাচ্চার নাম কি স্থির হলো?”

পাশ থেকে নীলিমার জবাব, ওদের নানী মেয়ের নাম রাখছে নুহা, দাদী রাখছে ছেলের নাম আশফাক।

চিন্তিত মনে গালে আঙুল টুকে বিজ্ঞের মত বলে উঠে আবির-

সার্বিক দিক বিবেচনায় এই সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া যায় যে-

আমার বাবার নাম___

আশফাক মাহমুদ ‘নীলয়’

আর মায়ের নাম__

আদিরা মাহমুদ ‘নুহা’…..

নীলিমা:- হুঁ! আশফাক, নুহা…

আবির:- নাহ। নীলয়, আদিরা…

নীলিমা:- বললাম তো আশফাক, নুহা…

আবির:- বললাম তো নীলয়, আদিরা।

নীলিমা:- না, না! আশফাক, নুহা।

আবির:- বললাম তো নীলয়, আদিরা….

নীলিমা:- উফ, বুইড়া! বাদ দেননা, পাঠকের উপর ছেড়ে দেন।

আবির:- হা, হা! ঠিক আছে…..

দেখতে দেখতে বাবুদের বয়স একমাস পূর্ণ হয়ে যায়। এদিকে আবিরের ছুটির দিনও শেষ হয়ে আসে। ফিরে যায় আবির ঢাকায়। যাওয়ার আগে নীলিমা ও তার বাচ্চাদের যাতে কোনো অযত্ন না হয় সেজন্য আবির গ্রাম থেকে নীলিমার মাকে এনে রেখে যায়। যদিও নীলিমার মা দিন পনেরো এখানেই ছিল। যায় হোক! গ্রাম থেকে নীলিমার মা এসে সারাক্ষণ বাচ্চাদের পিছনেই পরে থাকত। এটাই যেন ওনার একমাত্র কাজ। এর ছাড়া বাসায় তেমন কাজও ছিল না। রান্নাবান্নার কাজ করার জন্য আবির আগেই আলাদা মহিলা রেখে দিয়ে গেছে। সেদিন বিকেলে বাচ্চারা ঘুমালে রুমে খোলা জানালার পাশে গিয়ে বাইরের দিকে দৃষ্টি মেলে দেয় নীলিমা। তখনি কেউ একজন বলে উঠে-

” মারে!

এই জাহেলকে কি কখনো’ই কি

আর ক্ষমা করা যাবে না?”

কিছুটা চমকে পিছনে ফিরে তাকায় নীলিমা। মাকে দেখে স্বাভাবিক হয়। নীলিমার মা আবারো বলে উঠেন-

” জেদের বশে এ আমি কি করলাম?

কিভাবে পারলাম আমি এটা করতে? তরতাজা একটা আঙ্গুল’ই কেটে ফেললাম আমি? এ জীবনে কখনোই যে নিজেকে ক্ষমা করতে পারব না! এই একটা অপরাধের জন্য সারাটা জীবন প্রস্তাতে হবে। নিজেকে কখনো ক্ষমা করতে পারব না। বিবেকের কাছে অপরাধী হয়েই থেকে যাব মৃত্যুর আগ পর্যন্ত।”

মৃত্যু কথাটা শুনা মাত্রই মায়ের হাতটা চেপে ধরে নীলিমা। চুপ হয়ে যায় মা। মেয়ের মুখের দিকে তাকায়। জল ছলছল দৃষ্টিতে নীলিমা তাকিয়ে আছে তার মায়ের দিকে। আবার একই কথা শুরু করলে কথার মাঝখানে থামিয়ে দেয় নীলিমা।

” মা! জন্মের পর থেকেই দেখেছি আপনি বাবা, চাচা-চাচি, ফুফু, দাদা-দাদী, নানা-নানীকে কিরকম শ্রদ্ধা করতেন, ভালোবাসতেন, সম্মান করতেন। উচ্চস্বরে কথা তো দুরে থাক, শত কিছুর পরও কখনো ওনাদের চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বলতেন না। তার’ই মেয়ে আমি। যে আমাকে আপনি নিজে নৈতিকতার শিক্ষা দিয়েছেন, সেই আমি আপনার সাথে চোখ রাঙ্গিয়ে কথা বলেছি। শুধু চোখে রাঙ্গিয়েই ক্ষান্ত হইনি, আপনাকে তুই তুকারি করে গালিগালাজ করেছি। মাগো, যেখানে আমার কথা ছিল পুরো ঘটনা আপনাকে খুলে বলা, সেখানে আমি তা না করে আমার জামাইকেও গালিগালাজ করেছি। একজন আদর্শ পরিবারের সন্তান হয়ে, আদর্শ মায়ের সন্তান হয়ে আমি এরকম কাজ করছি। মা আপনি তো আমার আঙ্গুল কেটেছেন, এখানে অন্য কোনো মা হলে হাতটাই কেটে দিত। মা, আমি আমার ভুল বুঝতে পারছি। আর এটাও বুঝতে পারছি আমি আমার দোষেই আঙ্গুল হারিয়েছি, আমার পাপের সাজা পেয়েছি। মা, এখানে আপনার কোনো হাত নেই। তাই দয়া করে ‘ক্ষমা কর, ক্ষমা কর’ করে আমার পাপের বোজাটা ভারী করে দিবেন না। হাতজোর করছি আপনার কাছে, দয়া করে আর কখনো ক্ষমা করার কথা বলে আমাকে ছোট করে দিবেন না।”

আনন্দে দু’চোখের জল ছেড়ে দিয়ে সে স্থান ত্যাগ করেন নীলিমার মা। মসজিদ থেকে আসরের আজানের ধ্বনি ভেসে আসলে ওজু করে নামাজ পড়ে নেয় নীলিমার মা। নামাজ শেষে মোনাজাতে বসে অনেকটা গর্বের সাথে আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ জানায় নীলিমার মত মেয়ে যাতে বাংলার প্রতিটি ঘরে জন্ম নেয়।

মাসখানেক থাকার পর খবর আসে নীলিমার ছোট ভাই লিমন হোস্টেল থেকে ফিরে এসেছে বাসায়। ও নাকি অনেক অসুস্থ। নীলিমার মা নীলিমার থেকে বিদায় নিয়ে গ্রামে চলে যায়। এদিকে আদিবা আপুর হাজবেন্ডও ব্যবসায়ের কাজে বিদেশে চলে যায়। আদিবা তাই ছেলে আদিত্যকে নিয়ে বাপের বাড়ি চলে আসে। বাসায় আদিবার কোনো কাজ ছিল না বিধায় নীলিমার বাচ্চা নিয়ে বসে থাকত। বাসায় শ্বশুর ননাসের ভরসায় আবারো চেম্বারে বসতে শুরু করে নীলিমা। এক দুপুরে আদিবা সোফায় ওর মা এবং ছোট্ট নীলয়ের পাশে আদিরাকে রেখে মিনিট দশেকের জন্য রান্নাঘরে যায়। ঠিক তখনি আবিরের কাজিন রুবেলের সদ্য বিবাহিতা স্ত্রী লিজা আসে বাচ্চা দেখতে। আবিরের মা খুশিতে গদগদ হয়ে নাতি নীলয়কে লিজার কোলে তুলে দেন। লিজাকে যেন ছেলে নীলয়ের চেয়ে মেয়ে আদিরা’য় বেশী টানছিল। সোফায় আদিত্যর পাশে বসেও কিরকম মায়াবী চাহনীতে লিজার দিকে তাকিয়ে ছিল। একটা হাসি দিয়ে নীলয়কে দাদীর কোলে দিয়ে লিজা আদিরাকে কোলে তুলে নেয়। দু’গালে, নাকে চুমু দিয়ে অনর্গল কথা বলতে থাকে বাঁচাল প্রকৃতির লিজা। হাপিয়ে উঠলে বিরাম নেয়ার জন্য থেমে যায়। থেমে গিয়েও প্রশ্ন করে আবিরের মাকে-

” কাকিমা! আদিরা কার মত হইছে?”

কার মত আর হবে? মা যখন কালো তখন আর কার মত হবে? মায়ের রং’ই পাইছে। রাখো তো ওকে কোল থেকে। তোমার নতুন বিয়ে হয়েছে। কয়দিন পর বাচ্চা হবে। এখন এরকম কালো বাচ্চাকাচ্চা কোলে নিও না। এখন যত পারো সুন্দর সুন্দর ছেলে বাচ্চা দেখবা, সুন্দর ছেলে বাচ্চাদের ক্যালেন্ডার টানিয়ে রাখবা ঘরে। তবেই না সুন্দর ছেলে হবে। অত্যন্ত সুন্দর ভাবে ব্যাখ্যা বিশ্লেষণের মাধ্যমে আবিরের মা রুবেলের বউ লিজাকে কথাগুলো বুঝাচ্ছিল। এর মাঝে কখন যে ছোট্ট আদিরা আদিত্যর কোল থেকে পরে গিয়ে নিস্তেজ হয়ে গেছে কিছুই টের পায়নি। টের পায় তখন যখন আদিবা বলতেছে-

” এই নীলিমা! কি হয়েছে তোর? এভাবে ঠাপাচ্ছিস কেন ওকে?”

আবিরের মা এবং লিজা দুজনেই পাশে ফিরে তাকায়। ততক্ষণে ছোট্ট আদিরা চিৎকার দেয়। মেয়েকে বুকে জড়িয়ে হু, হু করে কেঁদে উঠে নীলিমা। আজ ওনারা যেভাবে আমার বাচ্চাটাকে আদিত্যর কোলে তোলে গল্প মশগুল ছিল, আজ আমি আসলে বোধ হয় আমার মেয়েটা মরেই যেত। কথাটা বলেই মেয়েটাকে বুকের মধ্যে শক্ত করে চেপে ধরে নীলিমা।

আদিবা আদিত্যকে ধমক দিলে আদিত্য গড়গড় করে বলতে থাকে-

” আমার কি দোষ! নানু’ই তো ওকে ঐ নতুন মামির কোল থেকে কেড়ে নিয়েছে। তারপর সোফায় ঠাস করে বসিয়ে রেখে দিছে। নতুন মামীকে বলতেছে বোন নাকি কালো, ওর মায়ের মত। ওরে যাতে কোলে না নেয়।”

আদিত্যর কথা শুনে থ হয়ে যায় আদিবা।

নীলিমা চোখের জল ছেড়ে দিয়ে দৌঁড়ে রুমে চলে যায়।

” ছি, মা! ছি!

তুমি এখনো শুধরাতে পারো নি।”

কথাটা বলেই মায়ের কোল থেকে ছোট নীলয়কে নিয়ে রুমে চলে যায় আদিবা।

২বছর পর__

সেদিন রাত্রি ৮টার দিকে ঢাকা থেকে আবির আসে। হন্যে হয়ে ড্রয়িংরুমে ঢুকেই দেখে সবাই বসে টিভি দেখছে। আবির সে অবস্থায়’ই ওর বাবার কোল থেকে ছেলে নীলয়কে নেয়। কিছুক্ষণ আদর করে বলে, আপু আদিরাকে যে দেখছি না? ও কোথায়? আদিবা কিছুটা মলিন মুখে বলে, উপরে নীলিমার সাথে নিজের রুমেই আছে। আবির দৌঁড়ে উপরে উঠে।

দরজার বাইরে থেকেই বলে উঠে,

মামনি! আমি এসে গেছি…..

কিন্তু একি?!!!

আদিরা কাঁদছে কেন? আবির দৌঁড়ে রুমে ঢুকে দেখে আদিরাকে শক্ত করে বুকে চেপে ধরে আছে নীলিমা। এমন শক্ত যে ওর নিশ্বাস নিতেই কষ্ট হচ্ছিল। ‘এসব কি করছ? ওকে এভাবে কেন জাপটে ধরে আছ?’ কথাটা বলেই নীলিমার হাতটা সরিয়ে আদিরাকে কোলে নিতে চাচ্ছিল আবির। নীলিমা এক ধাক্কায় আবিরকে ফেলে দিয়ে শুয়া থেকে উঠে বসে।

” আশ্চর্য! তুমি এমন করছ কেন?”

নীলিমা আরো শক্ত করে ধরে রাখছে আদিরাকে। আবির আবারো কোলে নিতে গেলে ধাক্কা দিয়ে ফেলে অন্য রুমে গিয়ে দরজা বন্ধ করে রাখে।

আশ্চর্য!

এর আবার কি হলো?

কথাটা বলতে পিছনে ফিরতেই দেখে আদিত্য দাঁড়িয়ে।

” মামা, মামা!

জানো, আজকে নীলি মামীরে নানু বকছে। মামী কেন কালো এজন্য নাকি আদিরাও কালো হয়েছে। আদিরাকে আদর করে না নানু। নানু আরো বলছে, আদিরা’কে নাকি টাকা দিয়ে বিয়ে দিতে হবে।

মোটামুটি বড়’ই হয়েছে আদিত্য। যা শুনে, যার বিরুদ্ধেই শুনে তাকে গিয়েই লাগিয়ে দিতে পারে কথা। আবির ক্ষেপে যায়। জার্নি করে বাসায় ফিরছে, তবুও একদন্ডের জন্যও বিশ্রাম নেয়নি। বাজারে চলে যায়। বাজার থেকে ফিরে আসে। নীলিমাকে জোর করে ভাত খাইয়ে দিয়ে নিজেও কিছু খেয়ে নিল। তারপর আদিরাকে দখল করে নিল। কিচ্ছু বলেনি নীলিমা। চুপচাপ নীলয়কে কোলে নিয়ে অন্য রুমে গিয়ে লাইট অফ করে শুয়ে পড়ে। কথা বাড়ায়নি আবির। যা হবার সকালেই হবে। বাজার থেকে কিনে আনা কলার মধ্যে কিছু কলা দরজার ফাঁক দিয়ে নীলিমার বিছানার উপর ছুঁড়ে দেয়। তারপর আদিরাকে নিয়ে অন্যরুমে শুয়ে পরে। মাঝরাত্রে বিছানায় প্রস্রাব করে দেয় আদিরা। বিছানা থেকে প্রস্রাব মুছে শুয়ে পরছিল আবির, তখনই কান্না শুরু করে আদিরা। কিছুক্ষণ কোলে রেখে পিঠে হাত বুলিয়ে, কান চুলকিয়ে দিলে ঘুমিয়ে পরে আদিরা। বিছানার পাশে কলাগুলো রেখে শুয়ে পরে আবির। মিনিট ত্রিশেক পর শুনতে পায় চপচপ শব্দ। শব্দটা ঠিক পাশ থেকেই আসছিল। মনে হচ্ছে আদিরার কলার উপর ইঁদুর হামলা করেছে। আস্তে আস্তে ফোনটা হাতে নিয়ে টর্চটা জ্বেলে দেয়। কিন্তু একি?

” এ যে ছোট ইঁদুর….”

হেসে দেয় আবির। ঘুমে ঢুলুঢুলু আদিরা মিটমিট চোখে কলা খাচ্ছে……

[বিঃদ্রঃ- গল্পের সর্বশেষ পর্ব পেতে সাথেই থাকুন। ধন্যবাদ।]

অধ্যায় 25 সমাপ্ত

আপনি এই অধ্যায়টি পড়া শেষ করেছেন। পরবর্তী পর্বে যান অথবা আপনার প্রতিক্রিয়া জানান!

মন্তব্যসমূহ

0

আলোচনায় যোগ দিন

মতামত জানাতে এবং পাঠকদের সাথে আলোচনায় অংশ নিতে লগইন করুন।

এখনও কোনো মন্তব্য নেই।

প্রথম মন্তব্যটি করে আলোচনা শুরু করুন!

কালো নাতনির অবহেলা ও মধ্যরাতের কান্না

অনুচ্ছেদ 1 / 1 চলছে