ফেস্টের পরের দিনও মাইশার মাথা গরম।
রাগটা রায়হানের ওপর নয়—আনিকার ওপর।
গতকাল আনিকা যেভাবে তাকে সবার সামনে কথা শুনিয়েছিল, সেটা মাইশা এখনও ভুলতে পারেনি। রাগের মাথায় একটা থাপ্পড়ও দিয়ে ফেলেছে—এখন সেটা নিয়ে মোমো বকা দিলেও মাইশার রাগ কমছে না।
অন্যদিকে রায়হান বুঝতে পারছিল, মাইশার মাথা এখন গরম।
তাই সে বারবার ফোন করছিল।
প্রথমবার—
মাইশা ধরল না।
দ্বিতীয়বার—
ধরল না।
তৃতীয়বার—
না।
চতুর্থবার—
আবারও না।
রায়হান বিরক্ত হয়ে ফোনের দিকে তাকিয়ে বলল,
“আচ্ছা! ফোনটা ধরবি না?”
কিছুক্ষণ পর আবার কল দিল।
এবার মাইশা শেষ পর্যন্ত ফোনটা ধরল।
ওপাশ থেকে প্রচণ্ড বিরক্ত গলা—
“আর একবার কল দিলে আপনার কপালে শনি আছে।”
রায়হান কিছু বলার আগেই—
টুট।
কল কেটে গেল।
রায়হান ফোনের দিকে তাকিয়ে রইল।
তারপর আবার কল দেওয়ার জন্য স্ক্রিনে হাত রাখতেই দেখল—
Blocked.
রায়হান কয়েক সেকেন্ড চুপ করে থেকে মাথায় হাত দিল।
“আল্লাহ! আমি কী করলাম?”
তারপর নিজেই হেসে ফেলল।
“একজন আনিকার ওপর রাগ করে ফুঁসতেছে, আর আমার ওপরও সেই রাগের কিছু অংশ পড়তেছে!”
সে ফোনটা পাশে রেখে বলল,
“আচ্ছা, রাগ করুক।”
একটু পর আবার মুচকি হেসে যোগ করল,
“একটু বড় হোক, শোনা। পরে রাগ করবি… তখন আমি ঠিক করে দেব।”
তার নিজের কথাতেই আবার হাসি পেল।
কিন্তু মাইশা তখন এসবের কিছুই শুনছে না।
সে নিজের ঘরে বসে আনিকার কথাগুলো মনে করে আবার রেগে যাচ্ছে।
“ওই মেয়েটা আবার আমার সামনে আসলে…”
তারপর নিজেই থেমে গেল।
“না, এবার আর কিছু করব না।”
দুই সেকেন্ড পর—
“কিন্তু ও যদি আবার শুরু করে?”
মাইশা বিরক্ত হয়ে বালিশে মুখ গুঁজে দিল।
পরদিন সকাল ৭টা ১০ মিনিটে ক্লাস।
মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ক্লাসরুম ৩০৮-এ মাইশা বসে ছিল।
মোমো পাশে বসে বলল,
“তোর রাগ এখনও কমে নাই?”
মাইশা খাতা খুলতে খুলতে বলল,
“আনিকার ওপর? না।”
“কালকে যা হইছে, সেটা নিয়ে এত রাগ করিস না।”
“ও আগে এসে আমার সঙ্গে লাগতে আসছে।”
“তাও থাপ্পড়?”
মাইশা মুখ বাঁকিয়ে বলল,
“রাগের মাথায় হয়ে গেছে।”
ঠিক তখনই ক্লাসরুমের বাইরে একটা কণ্ঠ শোনা গেল—
“মিস?”
মাইশা প্রথমে তাকাল না।
শিক্ষিকা দরজার কাছে গিয়ে বললেন,
“আরে, রায়হান যে!”
রায়হান হেসে বলল,
“জি, মিস।”
“কোনো সমস্যা?”
“জি, একটু কথা ছিল।”
“বলো।”
রায়হান বলল,
“আমার কাজিনকে এই ক্লাসের আনিকা নামের একটা মেয়ে অনেক disturb করে।”
মাইশার কলম থেমে গেল।
কাজিন?
সে ধীরে ধীরে মাথা তুলল।
রায়হান বলল,
“মাইশা।”
নিজের নাম শুনেই মাইশা দরজার দিকে তাকাল।
রায়হানকে দেখেই তার চোখ বড় হয়ে গেল।
তারপর খুব নিচু গলায় বলল—
“এই পাগলটা এখানে কেন?”
মোমো মুখ চেপে হাসতে লাগল।
আর রায়হান?
সে দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে মাইশার দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসল।
মাইশা চোখ সরিয়ে নিল।
মনে মনে বলল—
“কাল ফোন করে মাথা খাইছে, আজকে আবার স্কুলে হাজির!”
কিন্তু সে তখনও জানত না—
রায়হান আজ শুধু আনিকার ব্যাপারে কথা বলতে আসেনি।
তার মাথায় মাইশাকে নিয়ে আরও একটা চিন্তা ঘুরছে।
গতকাল মেয়েটা এত রেগে গিয়েছিল কেন?
