নোয়াখালীর নতুন বাড়িটায় দ্বিতীয় দিনটা শুরু হয়েছিল বেশ শান্তভাবেই।
সকালের রোদটা উঠানের একপাশে এসে পড়েছে। নারকেল গাছের পাতার ফাঁক দিয়ে আলো মাটিতে ছায়ার নকশা তৈরি করেছে। বাড়ির ভেতর থেকে রান্নার গন্ধ আসছে, দূরে কোথাও একটা মুরগি ডাকছে, আর উঠানের এক কোণে ছোটরা নিজেদের মধ্যে খেলাধুলা নিয়ে ঝগড়া করছে।
ঢাকার ব্যস্ত সকাল থেকে এই সকালটা একেবারেই আলাদা।
মাইশু বারান্দার রেলিংয়ে কনুই রেখে দাঁড়িয়ে ছিল।
চুলগুলো ঘুম থেকে ওঠার পর ঠিকমতো আঁচড়ানো হয়নি। কয়েকটা চুল মুখের সামনে এসে পড়েছে। হাতে ফোন, কিন্তু সে ফোনের দিকে তাকাচ্ছিল না।
তার চোখ ছিল উঠানের দিকে।
মনে হচ্ছিল, এতদিন পর নিজের পরিবারের এই বাড়িতে এসে সে যেন একটু অন্যরকম হয়ে গেছে।
পেছন থেকে মোমোর গলা শোনা গেল,
"এই যে, এত সকালে কী নিয়ে এত চিন্তা করছিস?"
মাইশু ঘুরে তাকাল।
"চিন্তা করছি না।"
মোমো পাশে এসে দাঁড়াল।
"তাহলে?"
"কিছু না।"
"তোর 'কিছু না' কথাটা আমি বিশ্বাস করি না।"
মাইশু মুচকি হেসে বলল,
"তুই বেশি বুঝিস।"
ঠিক তখন লামিয়া দুই কাপ চা হাতে নিয়ে বারান্দায় উঠল।
"নে, তোদের চা।"
মাইশু কাপটা নিয়ে বলল,
"থ্যাংকস।"
লামিয়া মোমোর পাশে এসে দাঁড়াল।
দুজনের চোখাচোখি হলো।
মাত্র এক সেকেন্ড।
কিন্তু মাইশুর চোখ এড়াল না।
সে ভুরু কুঁচকে বলল,
"তোরা দুজন কী করছিস?"
মোমো অবাক হওয়ার অভিনয় করে বলল,
"কী করছি?"
"এভাবে তাকাচ্ছিস কেন?"
লামিয়া হেসে বলল,
"এমনিই তো।"
মাইশু সন্দেহের চোখে দুজনের দিকে তাকাল।
"তোদের দুজনের মধ্যে কিছু একটা হয়েছে।"
মোমো সঙ্গে সঙ্গে বলল,
"না।"
লামিয়াও বলল,
"একদম না।"
মাইশু চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে শান্ত গলায় বলল,
"ঠিক আছে।"
মোমো হেসে বলল,
"এত সহজে বিশ্বাস করলি?"
মাইশু বলল,
"না। মনে রাখলাম।"
দুজনেই হেসে ফেলল।
কিন্তু মাইশু তখনও জানত না, তার এই দুই বান্ধবীর মাথায় এরই মধ্যে একটা পরিকল্পনা ঘুরছে।
আর সেই পরিকল্পনার প্রধান শিকার হবে একজন—
রায়হান ব্যাপারী।
দুপুরের পর
দুপুরের খাবার শেষ হওয়ার পর বাড়ির সবাই যে যার মতো ব্যস্ত হয়ে গেল।
কেউ ঘুমাতে গেল।
কেউ উঠানে বসে গল্প করতে লাগল।
মাইশু নিজের ঘরে এসে বিছানায় শুয়ে ফোন স্ক্রল করছিল।
হঠাৎ মোমো দরজা খুলে ঢুকল।
"মাইশা!"
"হুম?"
"আজকে আমরা শাড়ি পরব।"
মাইশু ফোন থেকে চোখ তুলল।
"তোমরা পরো।"
"না, তুইও পরবি।"
"আমি কেন?"
লামিয়াও এবার ঘরে ঢুকল।
"কারণ আজকে আমরা তিনজন একসঙ্গে ছবি তুলব।"
মাইশু বিরক্ত মুখে বলল,
"আমার ছবি তুলতে ভালো লাগে না।"
মোমো বলল,
"মিথ্যা কথা।"
"কীভাবে?"
"তোর গ্যালারিতে তোর নিজের ছবিই সবচেয়ে বেশি।"
মাইশু একটু থেমে বলল,
"সেটা আলাদা বিষয়।"
লামিয়া হাসতে হাসতে বলল,
"চল, বেশি কথা না। শাড়ি পর।"
"না।"
"প্লিজ।"
"না।"
"মাইশু..."
"উফফ, আচ্ছা!"
মোমো সঙ্গে সঙ্গে বিজয়ের হাসি দিল।
"এই তো আমার মাইশা!"
মাইশু আঙুল তুলে বলল,
"কিন্তু বেশি সাজাবি না।"
"একদম না।"
"মেকআপও বেশি না।"
"না।"
"চুলও বেশি কিছু করবি না।"
"না।"
মাইশু সন্দেহের চোখে তাকাল।
"তোরা আজকে এত ভালো কেন?"
মোমো মুখ লুকিয়ে হাসল।
"আমরা সবসময়ই ভালো।"
লামিয়া বলল,
"হ্যাঁ, আমরা খুব ভালো মেয়ে।"
মাইশু জানত না—
এই 'ভালো মেয়ে' দুজনই আজকে সবচেয়ে বড় ফাজলামিটা করতে যাচ্ছে।
প্রায় এক ঘণ্টা পর মাইশু আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের দিকে তাকিয়ে রইল।
হালকা রঙের একটা শাড়ি।
চুল খোলা, সামনে কয়েকটা নরম করে নামানো।
চোখে হালকা কাজল।
খুব সামান্য মেকআপ।
ঠোঁটে ন্যাচারাল শেড।
কানে ছোট দুল।
ব্যস।
বিয়ের কনের মতো কিছুই নয়।
বরং এমন একটা সাজ, যেটা দেখে যে কেউ বলবে—
"আজকে মেয়েটা একটু বেশি সুন্দর করে সেজেছে।"
মাইশু আয়নার দিকে তাকিয়ে বলল,
"হুম... ভালোই তো।"
মোমো পেছন থেকে বলল,
"শুধু ভালো?"
"হ্যাঁ।"
লামিয়া বলল,
"তুই নিজেকে কখনো সুন্দর বলিস না কেন?"
মাইশু হাসল।
"কারণ বেশি বললে তোরা বলবি আমার attitude বেড়ে গেছে।"
মোমো বলল,
"ওটা তো এমনিতেই আছে।"
মাইশু সঙ্গে সঙ্গে বালিশ তুলে মোমোর দিকে ছুড়ে মারল।
"চুপ!"
তিনজনের হাসিতে ঘরটা ভরে গেল।
অন্যদিকে...
রায়হান তখন নিজের বাড়ি থেকে বের হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল।
নোয়াখালীতে আসার পর আজকে তারও বেশ কিছু আত্মীয়ের সঙ্গে দেখা করার কথা ছিল।
গাড়িতে ওঠার আগে ফোনটা হাতে নিয়ে সে কিছুক্ষণ স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে রইল।
মাইশার সঙ্গে তার শেষ কথোপকথনটা এখনো ওপেন ছিল।
সে একটা মেসেজ লিখল—
"কী করছ?"
কিছুক্ষণ পর reply এল।
"কিছু না।"
রায়হান মুচকি হাসল।
"খেয়েছ?"
মাইশা reply দিল,
"হ্যাঁ। আপনি?"
"আমিও।"
তারপর আর কোনো message এল না।
রায়হান ফোনটা পকেটে রাখল।
কিন্তু তার মুখের হাসিটা রয়ে গেল।
সে জানত না, কয়েক ঘণ্টা পর এই হাসিটা কেড়ে নেওয়ার জন্য মোমো আর লামিয়া প্রস্তুত হয়ে বসে আছে।
বিকেলের দিকে রায়হান নতুন বাড়ির দিকে এল।
গাড়ি থেকে নামতেই মোমো তাকে দেখতে পেল।
তার চোখ চকচক করে উঠল।
লামিয়াকে আস্তে করে বলল,
"শিকার এসেছে।"
লামিয়া হাসি চাপল।
"আজকে ভাইয়ার অবস্থা খারাপ করব।"
দুজনেই রায়হানের দিকে এগিয়ে গেল।
রায়হান বলল,
"কী ব্যাপার? তোমরা দুজন এভাবে আসছ কেন?"
মোমো একটু গম্ভীর হয়ে বলল,
"রায়হান ভাই, একটা কথা আছে।"
রায়হান সঙ্গে সঙ্গে সিরিয়াস হয়ে গেল।
"কী হয়েছে?"
লামিয়া চারপাশে তাকিয়ে বলল,
"এখানে না। একটু সাইডে আসেন।"
রায়হান তাদের সঙ্গে বাড়ির একপাশে গেল।
"এবার বলো।"
মোমো একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল।
"একটা খবর আছে।"
"কী খবর?"
লামিয়া বলল,
"মাইশাকে নিয়ে।"
রায়হানের মুখ সঙ্গে সঙ্গে বদলে গেল।
"মাইশার কী হয়েছে?"
মোমো একটু থেমে বলল,
"ওর নাকি একটা ছেলের সঙ্গে engagement হয়ে গেছে।"
রায়হান স্থির হয়ে গেল।
এক মুহূর্ত।
দুই মুহূর্ত।
তারপর সে খুব ধীরে বলল,
"কী?"
মোমো গম্ভীর থাকার চেষ্টা করে বলল,
"হ্যাঁ।"
"কে বলেছে?"
লামিয়া বলল,
"ওর বাবা নাকি ঠিক করেছেন।"
রায়হান কিছুক্ষণ চুপ করে রইল।
তার চোখের সামনে হঠাৎ মাইশার মুখটা ভেসে উঠল।
তার হাসি।
তার রাগ।
তার অদ্ভুত কথা বলার ধরন।
তার "রায়হান ভাই" বলা।
তারপর সে নিজের অজান্তেই বলে ফেলল,
"কিন্তু... আমাকে তো কিছু বলেনি।"
মোমো মুখ ঘুরিয়ে হাসি লুকাল।
লামিয়া ঠোঁট কামড়ে দাঁড়িয়ে রইল।
রায়হান নিজেকে সামলে নিয়ে বলল,
"আচ্ছা..."
মোমো বলল,
"আপনি ঠিক আছেন?"
"হ্যাঁ।"
"সত্যি?"
"হ্যাঁ।"
রায়হান মুখে স্বাভাবিক থাকার চেষ্টা করলেও তার চোখে সেটা একেবারেই ছিল না।
ঠিক তখনই দূর থেকে মাইশাকে দেখা গেল।
মোমো বলল,
"ওই যে আসছে।"
রায়হান অনিচ্ছা সত্ত্বেও তাকাল।
আর তারপর কয়েক সেকেন্ডের জন্য সে কিছুই বলতে পারল না।
মাইশা ধীরে ধীরে হাঁটছে।
হালকা শাড়ি।
খোলা চুল।
চোখে হালকা কাজল।
মুখে স্বাভাবিক হাসি।
কোনো বাড়তি সাজ নেই।
তবুও রায়হানের চোখ আটকে গেল।
সে মনে মনে শুধু বলল,
"এই মেয়েটা এত সুন্দর কেন?"
মোমো তার মুখের expression দেখে লামিয়ার কানে ফিসফিস করে বলল,
"শেষ।"
লামিয়া হাসি চাপল।
মাইশা কাছে এসে বলল,
"আপনারা এখানে কী করছেন?"
রায়হান দ্রুত নিজের expression স্বাভাবিক করে বলল,
"কিছু না।"
মাইশা তার দিকে তাকাল।
"আপনার মুখ এমন কেন?"
"কেমন?"
"জানি না।"
রায়হান হালকা হাসল।
"কিছু হয়নি।"
মাইশু বলল,
"হুম।"
তারপর মোমোর দিকে তাকিয়ে বলল,
"চল, ছবি তুলব।"
মোমো বলল,
"হ্যাঁ, চল।"
মাইশু চলে গেল।
রায়হান তার চলে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে রইল।
তার মাথায় তখনো একটা কথাই ঘুরছে—
"ওর engagement হয়ে গেছে?"
মোমো আর লামিয়ার দ্বিতীয় ধাপ
মাইশু অন্যদিকে চলে যেতেই মোমো আবার রায়হানের কাছে এল।
"রায়হান ভাই?"
"হুম?"
"একটা কথা জিজ্ঞেস করি?"
"করো।"
লামিয়াও এসে পাশে দাঁড়াল।
মোমো সরাসরি বলল,
"আপনি মাইশাকে like করেন?"
রায়হান একদম স্বাভাবিক থাকার চেষ্টা করল।
"আরে না!"
মোমো ভুরু তুলল।
"সত্যি করে বলেন।"
"সত্যিই তো বললাম।"
"তাহলে ঠিক আছে।"
রায়হান বলল,
"কী ঠিক আছে?"
মোমো ফোন বের করল।
"আমি আমার boyfriend আয়াতের best friend-এর সঙ্গে মাইশার relationship করিয়ে দেব।"
রায়হানের মুখের expression মুহূর্তেই বদলে গেল।
"আরে না না! সেটা করতে হবে না!"
লামিয়া হেসে ফেলল।
"কেন?"
রায়হান থেমে গেল।
মোমো এবার বলল,
"আপনি তো মাইশাকে পছন্দ করেন না। তাহলে সমস্যা কী?"
রায়হান কিছু বলল না।
মোমো আবার বলল,
"বলুন।"
"কী বলব?"
"সত্যি কথা।"
রায়হান কয়েক সেকেন্ড চুপ করে থাকল।
তারপর একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল,
"আচ্ছা।"
মোমো আর লামিয়া একসঙ্গে তাকাল।
রায়হান নিচু গলায় বলল,
"হ্যাঁ... আমি মাইশাকে পছন্দ করি।"
মোমো হাসল।
"শুধু পছন্দ?"
রায়হান এবার চোখ তুলে মাইশার দিকে তাকাল।
দূরে মাইশা তখন হাসতে হাসতে কারও সঙ্গে কথা বলছে।
রায়হানের গলায় এবার আর কোনো দ্বিধা ছিল না।
"না।"
একটু থেমে সে বলল,
"আমি মাইশাকে ভালোবাসি।"
মোমো আর লামিয়া দুজনেই কয়েক সেকেন্ড চুপ।
তারপর মোমো মুখ চেপে বলল,
"আহা! অবশেষে!"
রায়হান বিরক্ত হয়ে বলল,
"এত খুশি হওয়ার কী আছে?"
লামিয়া হেসে বলল,
"কারণ এতদিন ধরে আপনি না না করছিলেন!"
রায়হান বলল,
"আমি কখন না করেছি?"
মোমো বলল,
"এই তো একটু আগেই!"
রায়হান মাথা নাড়ল।
"তোমরা অনেক কথা বলো।"
মোমো আবার জিজ্ঞেস করল,
"মাইশাকে জানাব?"
রায়হান সঙ্গে সঙ্গে বলল,
"না।"
"কেন?"
"এখন না।"
লামিয়া বলল,
"কেন?"
রায়হান কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলল,
"ওকে আমি নিজের মতো করে বুঝতে চাই। ওকে চাপ দিতে চাই না।"
মোমো মুচকি হেসে বলল,
"আর engagement-এর কথাটা?"
রায়হান এবার বিরক্ত হয়ে বলল,
"ওটা সত্যি?"
মোমো আর লামিয়া একসঙ্গে হেসে ফেলল।
রায়হান বুঝে গেল।
"তোমরা মিথ্যা বলেছ!"
মোমো হাসতে হাসতে বলল,
"একটু ফাজলামি করেছি!"
রায়হান কপালে হাত দিল।
"আল্লাহ!"
লামিয়া বলল,
"আপনার মুখটা দেখার মতো হয়েছিল!"
রায়হান বিরক্ত হওয়ার ভান করে বলল,
"তোমাদের দুজনকে আমি ছাড়ব না।"
মোমো বলল,
"কিন্তু একটা কথা সত্যি।"
"কী?"
"আপনি মাইশাকে সত্যিই ভালোবাসেন।"
রায়হান আর কিছু বলল না।
তার চোখ আবার মাইশার দিকে চলে গেল।
মাইশা তখনও কিছু জানে না।
সে হাসছে।
কথা বলছে।
নিজের মতোই স্বাভাবিক আছে।
রায়হান খুব আস্তে বলল,
"ও জানুক... তবে আমার মুখ থেকে।"
কিছুক্ষণ পর মাইশা আবার তাদের কাছে ফিরে এল।
"তোরা এতক্ষণ কোথায় ছিলি?"
মোমো দ্রুত বলল,
"কোথাও না।"
মাইশু রায়হানের দিকে তাকাল।
"আপনিও?"
রায়হান স্বাভাবিকভাবে বলল,
"আমি তো এখানেই।"
মাইশু সন্দেহের চোখে তাকাল।
"আপনাদের সবাইকে আজকে অদ্ভুত লাগছে।"
মোমো হেসে বলল,
"তুই বেশি ভাবিস।"
মাইশু বলল,
"হুম।"
তারপর হঠাৎ রায়হানের দিকে তাকিয়ে বলল,
"আমাকে কেমন লাগছে?"
প্রশ্নটা শুনে রায়হান কয়েক মুহূর্ত থেমে গেল।
মোমো আর লামিয়া একে অপরের দিকে তাকাল।
রায়হান হালকা হাসল।
"ভালো।"
মাইশু বলল,
"শুধু ভালো?"
রায়হান চোখ সরিয়ে বলল,
"অনেক ভালো।"
মাইশু মুচকি হেসে বলল,
"এইবার ঠিক আছে।"
তারপর সে চলে গেল।
রায়হান তার চলে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে রইল।
মোমো পাশে দাঁড়িয়ে খুব আস্তে বলল,
"ভাইয়া, সাবধান। আপনার চোখ সব বলে দিচ্ছে।"
রায়হান হেসে বলল,
"ও যেন না দেখে।"
মোমো বলল,
"কতদিন লুকাবেন?"
রায়হান উত্তর দিল না।
কারণ সে নিজেও জানত না—
মাইশাকে ভালোবাসার কথা কতদিন নিজের মধ্যে লুকিয়ে রাখতে পারবে।
আর মাইশা?
সে তখনও একদম অজ্ঞাত।
তার জানা ছিল না, আজকের এই সাধারণ শাড়ি পরার পেছনে শুধু মোমো আর লামিয়ার ফাজলামি ছিল না।
আজ তার অজান্তেই—
রায়হান ব্যাপারী প্রথমবার নিজের ভালোবাসার কথা মুখে স্বীকার করেছে।
আর সামনে যে দিনগুলো আসছে, সেগুলো হয়তো এই সম্পর্কটাকে আরও কাছে নিয়ে যাবে...
অথবা এমন কিছু সত্যি সামনে আনবে,
যার জন্য এই হাসিগুলো একদিন খুব দূরের স্মৃতি হয়ে যাবে।
