সিজন 1 অধ্যায় 21 ড্রামা রোমান্টিক #ঈর্ষা #অভিমান #মান ভাঙানো মাইশারায়হান ব্যাপারীমোমো

চশমার আড়ালে অভিমানে ভরা দৃষ্টি

•7 মিনিট পড়া•1,075 শব্দ
চশমার আড়ালে অভিমানে ভরা দৃষ্টি

১২ ডিসেম্বর, সকাল

নোয়াখালীর সকালটা ছিল বেশ ঠান্ডা।

শীতের কুয়াশা ধীরে ধীরে কাটছিল। বাড়ির উঠানে তখন সবাই ব্যস্ত। কেউ নাস্তা করছে, কেউ বাইরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

আজ সবাই মিলে ঘুরতে যাওয়ার কথা।

আয়ান, সিফাত, মোমো, আয়াত, লামিয়া—সবাই সকাল থেকেই বেশ excited।

কিন্তু মাইশার সকালটা অন্যরকম।

রাতটা সে প্রায় ঘুমায়ইনি।

গত রাতের সেই কালো খাম, পশ্চিম ঘরের দরজা, হাশেম চাচার কথা—সবকিছু মাথার মধ্যে ঘুরছিল।

তার ওপর রায়হানের শেষ কথাটা—

"সত্যিটা জানার পর তুমি নিজেই হয়তো আমার কাছ থেকে দূরে চলে যেতে চাইবে।"

কথাটা বারবার মনে পড়ছিল।

ফলে সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর তার চোখ দুটো ফুলে গেছে।

মাইশা আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের চোখের দিকে তাকাল।

"উফ্..."

চোখ দুটো সত্যিই ফুলে আছে।

সে একটু বিরক্ত হয়ে একটা চশমা পরে নিল।

কিন্তু আশ্চর্যের ব্যাপার—

চশমা পরার পরও তাকে অদ্ভুত সুন্দর লাগছিল।

চোখ ফুলে থাকার কারণে চোখ দুটো আরও নরম আর মায়াবী দেখাচ্ছিল।

চুলগুলো এলোমেলোভাবে কাঁধের কাছে পড়ে আছে।

মাইশা আয়নার দিকে তাকিয়ে নিজের মনেই বলল,

"রাত জেগে থাকার শাস্তি।"

তারপর নিচে নেমে এল।

বাড়ির সামনে সবাই দাঁড়িয়ে ছিল।

রায়হান গাড়ির পাশে দাঁড়িয়ে বন্ধুদের সঙ্গে কথা বলছিল।

মাইশাকে দেখেই তার চোখ থেমে গেল।

আজ মাইশাকে অন্যরকম লাগছে।

চশমা।

ফোলা চোখ।

সাধারণ পোশাক।

কোনো বিশেষ সাজ নেই।

তবুও রায়হানের চোখ কয়েক সেকেন্ডের জন্য তার ওপর আটকে রইল।

সে মনে মনে বলল,

"চশমা পরলেও এই মেয়েটা এত সুন্দর লাগে কীভাবে?"

তারপর নিজেকে সামলে নিয়ে বলল,

"মাইশা।"

মাইশা তাকাল।

"হুম?"

রায়হান তার চশমার দিকে তাকিয়ে বলল,

"চশমা পরছো কেন?"

মাইশা একটু চোখ নামিয়ে বলল,

"চোখে অনেক ব্যথা করতেছে।"

রায়হান সঙ্গে সঙ্গে বলল,

"করবেই তো।"

মাইশা ভ্রু কুঁচকে তাকাল।

"কেন?"

রায়হান একটু কাছে এসে নিচু গলায় বলল,

"কাল সারারাত অনলাইনে কী করছ?"

মাইশা চুপ।

রায়হান আবার বলল,

"আমি যখন ফোনটা খুলছি, তখনও তুমি active।"

মাইশা একটু অস্বস্তি নিয়ে বলল,

"আয়ানের সাথে কথা বলছিলাম।"

রায়হানের মুখটা সঙ্গে সঙ্গে শক্ত হয়ে গেল।

কয়েক সেকেন্ড সে কোনো কথা বলল না।

তারপর শুধু বলল,

"আচ্ছা।"

মাইশা অবাক হয়ে তাকাল।

"কী হলো?"

"কিছু না।"

রায়হান ঘুরে চলে গেল।

মাইশা তার পেছনের দিকে তাকিয়ে রইল।

"এ আবার কী হলো?"

কিছুক্ষণ পর সবাই গাড়িতে ওঠার প্রস্তুতি নিচ্ছিল।

মোমো মাইশার পাশে এসে দাঁড়িয়ে বলল,

"তুই এত চুপ কেন?"

মাইশা ফিসফিস করে বলল,

"জানি না। রায়হান হঠাৎ আমার ওপর রাগ করল।"

মোমো একটু অবাক হয়ে বলল,

"কেন?"

"আমি বললাম আয়ানের সাথে কথা বলছিলাম। তারপর থেকেই মুখটা এমন করে আছে।"

মোমো ঠোঁট চেপে হাসল।

"ওহ্..."

মাইশা তাকাল।

"কী?"

"কিছু না।"

"মোমো!"

মোমো হাসতে হাসতে বলল,

"আরে, তুই বুঝিস না?"

"কী?"

"রায়হান jealous."

মাইশা চোখ বড় করে বলল,

"কিসের jealous?"

মোমো এবার আর কিছু বলল না।

কারণ ঠিক তখনই রায়হান পাশ দিয়ে যাচ্ছিল।

সবাই গাড়ির কাছে জড়ো হলো।

মোমো হঠাৎ রায়হানের দিকে তাকিয়ে বলল,

"ভাই, একটা কথা বলি?"

রায়হান গম্ভীরভাবে বলল,

"বলো।"

মোমো মাইশার দিকে তাকিয়ে আবার রায়হানের দিকে তাকাল।

"জানো, সবাই কিন্তু একবার মাইশা আর আয়ানকে couple বানানোর চেষ্টা করছিল।"

রায়হানের মুখের ভাব এক মুহূর্তে বদলে গেল।

সে ধীরে বলল,

"কী?"

মোমো হেসে বলল,

"হ্যাঁ। সবাই মজা করে বলত ওরা ভালো couple হবে।"

রায়হান কিছু বলল না।

মোমো আবার বলল,

"এমনকি একবার আয়ান মাইশাকে propose-ও করেছিল।"

মাইশা দূর থেকে শুনে চিৎকার করে উঠল,

"মোমো!"

মোমো হেসে বলল,

"কী হয়েছে? সত্যিই তো!"

রায়হান এবার মাইশার দিকে তাকাল।

তার চোখে অদ্ভুত একটা কষ্ট।

"তারপর?"

মোমো বলল,

"আমাদের মাইশু ওকে reject করে দিয়েছে।"

মাইশা একটু বিরক্ত হয়ে বলল,

"ওইটা পুরোনো কথা!"

কিন্তু রায়হান আর কিছু বলল না।

তার চোখের দৃষ্টি বদলে গেছে।

সে শুধু মাটির দিকে তাকিয়ে রইল।

রায়হানের আরেক বন্ধু রহমান তখন পাশে দাঁড়িয়ে ছিল।

সে পরিস্থিতিটা দেখে হেসে বলল,

"ভাই, আজকে তো দেখি চেক্কা খাইছো!"

আয়ানও হেসে ফেলল।

"ভাইয়ের অবস্থা খারাপ।"

রহমান মজা করে বলল,

"আজকে গান শুনে কান্না করবে।"

সবাই হেসে উঠল।

কিন্তু রায়হান হাসল না।

সে শুধু বলল,

"চুপ কর।"

তারপর হঠাৎ গাড়ির দরজা খুলে ভেতরে উঠে গেল।

কারও দিকে তাকাল না।

মাইশার সঙ্গেও আর কোনো কথা বলল না।

মাইশা কিছুই বুঝতে পারছিল না।

সে মোমোর কাছে গিয়ে বলল,

"ও এমন করছে কেন?"

মোমো বলল,

"তুই সত্যিই বুঝিস না?"

"না!"

"তুই ওর জায়গায় থাকলে বুঝতি।"

"মানে?"

মোমো শুধু হেসে বলল,

"গাড়িতে ওঠ।"

সবাই গাড়িতে উঠে গেল।

মাইশা জানালার পাশে বসে রায়হানের দিকে তাকাল।

রায়হান সামনে বসে আছে।

চোখে কোনো হাসি নেই।

সে ফোন হাতে নিয়েছে।

কিন্তু স্ক্রিনের দিকে তাকাচ্ছে না।

শুধু জানালার বাইরে তাকিয়ে আছে।

মাইশা কয়েকবার কথা বলার চেষ্টা করল।

"রায়হান..."

কোনো উত্তর নেই।

"রায়হান?"

সে এবারও তাকাল না।

মাইশা একটু অভিমান করে চুপ হয়ে গেল।

গাড়ি চলতে শুরু করল।

কিছুক্ষণ পর আয়ান গান চালিয়ে দিল।

কিন্তু রায়হান বিরক্ত হয়ে বলল,

"গানটা বন্ধ কর।"

আয়ান অবাক হয়ে বলল,

"কেন?"

"ভালো লাগছে না।"

গাড়ির ভেতর আবার নীরবতা।

মাইশা জানালার বাইরে তাকিয়ে রইল।

তারপর হঠাৎ তার মনে হলো—

রায়হান হয়তো সত্যিই কষ্ট পেয়েছে।

কিন্তু কেন?

আয়ানের সঙ্গে তো তার কিছুই নেই।

তাহলে?

মাইশা কিছুক্ষণ ভেবে ফোনটা বের করল।

তারপর earphone না লাগিয়েই ফোনে একটা গান চালাল।

গাড়ির ভেতর খুব আস্তে গানটা বাজতে শুরু করল—

"শুধু তোমাকে..."

রায়হান প্রথমে পাত্তা দিল না।

কিন্তু কয়েক সেকেন্ড পর গানটা তার কানে গেল।

সে ধীরে ধীরে ঘুরে তাকাল।

মাইশা তখন জানালার বাইরে তাকিয়ে বসে আছে।

তার চোখ এখনও একটু ফোলা।

চশমার আড়ালে চোখ দুটো আরও মায়াবী লাগছে।

রায়হান গানটার দিকে তাকিয়ে রইল।

তারপর মাইশা হঠাৎ তার দিকে তাকাল।

দুজনের চোখাচোখি হলো।

মাইশা মৃদু হেসে বলল,

"রাগ করছ কেন?"

রায়হান কিছু বলল না।

মাইশা আবার বলল,

"আমি আয়ানের সঙ্গে শুধু কথা বলছিলাম।"

রায়হান মুখ ঘুরিয়ে নিল।

মাইশা একটু কাছে এসে বলল,

"আর আমাকে আয়ান কখনো propose করলেও আমি তো reject করেছিলাম।"

রায়হানের ঠোঁটের কোণে অল্প হাসি ফুটে উঠল।

মাইশা সেটা দেখে বলল,

"হাসলেন?"

"না।"

"হ্যাঁ।"

"না।"

মাইশা হাসল।

"আপনি jealous হয়েছেন?"

রায়হান এবার তার দিকে তাকাল।

কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলল,

"হয়তো।"

মাইশা অবাক।

"কেন?"

রায়হান জানালার বাইরে তাকিয়ে খুব আস্তে বলল,

"জানি না।"

মাইশা হেসে বলল,

"মিথ্যা।"

রায়হানও এবার হেসে ফেলল।

মাত্র কয়েক সেকেন্ড আগেও যে মানুষটার মুখ ভার ছিল, তার চোখের সেই কষ্ট যেন এক মুহূর্তে অনেকটাই মিলিয়ে গেল।

মাইশা গানটা একটু বাড়িয়ে দিল।

রায়হান চুপচাপ শুনতে লাগল।

তারপর খুব আস্তে বলল,

"গানটা বন্ধ করো না।"

মাইশা মুচকি হেসে বলল,

"কেন?"

রায়হান তার দিকে তাকিয়ে বলল,

"ভালো লাগছে।"

মাইশা কিছু বলল না।

শুধু জানালার দিকে তাকিয়ে হাসল।

কিন্তু রায়হানের চোখ তখন আর জানালার বাইরে ছিল না।

ছিল শুধু—

মাইশার দিকে।

আর মাইশা বুঝতে না পারলেও, তার একটা ছোট্ট গানই কয়েক মিনিটের মধ্যে রায়হানের সমস্ত রাগ, অভিমান আর কষ্টকে যেন গলিয়ে দিয়েছিল।

তবুও—

রায়হানের মনে একটা প্রশ্ন রয়ে গেল।

আয়ান যদি একদিন সত্যিই মাইশাকে আবার কিছু বলে?

আর ঠিক সেই মুহূর্তে রায়হানের ফোনে একটা নতুন মেসেজ এলো।

Unknown Number:

"তুমি যাকে নিয়ে এত ভয় পাচ্ছ, সে তোমার সবচেয়ে কাছের মানুষদের মধ্যেই একজন।"

রায়হানের হাসি থেমে গেল।

সে ফোনটা শক্ত করে ধরে স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে রইল।

আবারও সেই অচেনা নম্বর।

এবার কি রহস্যটা তার নিজের বন্ধুদের মধ্যেই লুকিয়ে আছে?

অধ্যায় 21 সমাপ্ত

আপনি এই অধ্যায়টি পড়া শেষ করেছেন। পরবর্তী পর্বে যান অথবা আপনার প্রতিক্রিয়া জানান!

মন্তব্যসমূহ

0

আলোচনায় যোগ দিন

মতামত জানাতে এবং পাঠকদের সাথে আলোচনায় অংশ নিতে লগইন করুন।

এখনও কোনো মন্তব্য নেই।

প্রথম মন্তব্যটি করে আলোচনা শুরু করুন!

রকমারি কালেকশন

বইপ্রেমীদের জন্য রকমারি বেস্টসেলার

অধ্যায় পাঠ শেষে সংগ্রহ করুন আপনার পছন্দের ঘরানার সেরা বই ও বিশেষ ডিসকাউন্ট

চশমার আড়ালে অভিমানে ভরা দৃষ্টি

অনুচ্ছেদ 1 / 1 • চলছে
বিজ্ঞাপন