সিজন 1 অধ্যায় 29 পারিবারিক রহস্য #সত্য প্রকাশ #ডায়েরি মাইশারায়হান ব্যাপারীমোমোলামিয়া

ছেঁড়া ডায়েরির অশ্রুভেজা পাতা

•10 মিনিট পড়া•1,581 শব্দ
ছেঁড়া ডায়েরির অশ্রুভেজা পাতা

পুরোনো বাড়ি থেকে ফিরে আসার পরও মাইশার মাথা থেকে কিছুতেই ২০১৪ সালের সেই রাতটা সরছিল না।

পুরোনো বাড়ির পশ্চিম ঘর।

দরজার গায়ে খোদাই করা G.B.B — 2014।

মায়ের রেখে যাওয়া চিঠি।

রাশেদের ঘড়ি।

ঘড়ির ভেতর লুকানো সায়রা হক নামটা।

আর সবচেয়ে ভয়ংকর—২টা ১৭ মিনিটের সেই ভিডিও।

ভিডিওতে তার মা তানিয়াকে দেখা গিয়েছিল নদীর ঘাটে। পাশে রাশেদ এবং সেই অচেনা নারী। আর একটু দূরে ছিল আরেকজন মানুষের ছায়া।

মাইশা জানত, এই রহস্য আর বেশি দূরে নেই।

কিন্তু সত্যিটা যত কাছে আসছিল, ততই ভয় লাগছিল।

রাত প্রায় সাড়ে দশটা।

নতুন বাড়ির নিজের ঘরে বসে মাইশা জানালার বাইরে তাকিয়ে ছিল। টেবিলের ওপর রাখা রাশেদের ঘড়িটা বারবার তার চোখে পড়ছিল।

সে ঘড়িটা হাতে তুলে নিল।

ঘড়ির কাঁটা থেমে আছে—

২টা ১৭ মিনিটে।

মাইশা খুব আস্তে বলল,

"কেন এই সময়টা বারবার ফিরে আসছে?"

ঠিক তখন দরজায় টোকা পড়ল।

"মাইশু?"

নানির কণ্ঠ।

মাইশা দ্রুত ঘড়িটা নামিয়ে রাখল।

"আসো, নানি।"

কামরুল নাহার ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দিলেন।

তার মুখটা আজ অস্বাভাবিক গম্ভীর।

মাইশা সেটা দেখে জিজ্ঞেস করল,

"কী হয়েছে?"

নানি সঙ্গে সঙ্গে উত্তর দিলেন না।

তিনি মাইশার দিকে তাকিয়ে কিছুক্ষণ চুপ করে থাকলেন।

তারপর বললেন,

"তুই কি সত্যিটা জানতে চাস?"

মাইশা এক মুহূর্তও দেরি করল না।

"হ্যাঁ।"

"যত কষ্টেরই হোক?"

"হ্যাঁ।"

নানি ধীরে ধীরে বিছানার পাশে বসলেন।

"তাহলে আজ তোকে একটা জিনিস দিতে হবে।"

মাইশা অবাক হয়ে তাকাল।

"কী?"

নানি নিজের সঙ্গে থাকা পুরোনো চাবির গোছা থেকে একটি ছোট চাবি বের করলেন।

"পুরোনো বাড়ির পশ্চিম ঘরে যে আলমারিটা আছে, সেটার।"

মাইশা চমকে উঠল।

"ওই ঘরে আলমারি আছে?"

"আছে। কিন্তু তুই যেদিন গিয়েছিলি, তখন সেটা খেয়াল করিসনি।"

মাইশা সঙ্গে সঙ্গে রায়হানের কথা মনে করল।

"ওই আলমারিতে কী আছে?"

নানি বললেন,

"তোর মায়ের ডায়েরি।"

মাইশার বুক ধক করে উঠল।

"মায়ের ডায়েরি?"

"হ্যাঁ।"

"তুমি এতদিন এটা লুকিয়ে রেখেছিলে?"

নানি মাথা নাড়লেন।

"লুকিয়ে রাখিনি। সময়ের অপেক্ষা করেছি।"

মাইশার চোখে পানি জমে উঠল।

"কোন সময়ের?"

নানি ধীরে বললেন,

"যেদিন তুই নিজে সত্যিটা খুঁজতে শুরু করবি।"

কিছুক্ষণ পর রায়হানও ঘরে এল।

মাইশা তাকে সব বলল।

রায়হান চুপচাপ শুনে শেষে বলল,

"তাহলে আবার পুরোনো বাড়িতে যেতে হবে।"

মাইশা মাথা নাড়ল।

"হ্যাঁ।"

রায়হান ঘড়িটার দিকে তাকাল।

"এবার কিন্তু একা যাব না।"

মাইশা একটু বিরক্ত হয়ে বলল,

"আমি কি কখনো বলেছি একা যাব?"

রায়হান মৃদু হেসে বলল,

"তোমাকে চিনি তো।"

মাইশা চোখ কুঁচকে বলল,

"আমাকে এত ভালো চিনো কবে থেকে?"

রায়হান কয়েক সেকেন্ড তার দিকে তাকিয়ে বলল,

"যেদিন থেকে তুমি আমার শান্তি নষ্ট করা শুরু করেছ।"

মাইশা মুখ বাঁকিয়ে বলল,

"বেশি কথা বলো না।"

রায়হান হেসে ফেলল।

কিন্তু হাসিটা বেশিক্ষণ থাকল না।

কারণ তাদের সামনে যে রাতটা অপেক্ষা করছিল, সেখানে হাসির চেয়ে সত্যিটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

পরদিন বিকেলে মাইশা, রায়হান, মোমো ও লামিয়া পুরোনো বাড়িতে গেল।

বাড়িটা দিনের আলোতেও অদ্ভুত লাগছিল।

পুরোনো দেয়ালের গায়ে শ্যাওলা।

জানালার কাঠে বয়সের ছাপ।

বারান্দায় ধুলোর স্তর।

আর বাড়ির পেছনের দিকে তাকালে দূরে নদীর পানি দেখা যায়।

মাইশা কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে রইল।

তার মনে হলো, এই বাড়ির প্রতিটি দেয়াল যেন তার মায়ের কোনো না-বলা কথা ধরে রেখেছে।

রায়হান পাশে এসে বলল,

"কী ভাবছ?"

মাইশা ধীরে বলল,

"মনে হচ্ছে মা এখানে অনেক কিছু রেখে গেছে।"

"হয়তো।"

"আর আমরা এতদিন কিছুই জানতাম না।"

রায়হান চুপ করে থাকল।

তারপর বলল,

"চলো। পশ্চিম ঘরটা আগে দেখি।"

হেমেশ চাচা দূর থেকে তাদের দেখে এগিয়ে এলেন।

"আবার আইছো?"

মাইশা মাথা নাড়ল।

"চাচা, নানি বলেছে পশ্চিম ঘরের আলমারিটা খুলতে।"

হেমেশ চাচা কিছুক্ষণ মাইশার দিকে তাকিয়ে থাকলেন।

তারপর বললেন,

"নানি যদি অনুমতি দিয়ে থাকে, তাহলে খোলো।"

মাইশা অবাক হলো।

"আপনি কিছু বলবেন না?"

হেমেশ চাচা দীর্ঘশ্বাস ফেললেন।

"অনেক বছর ধরে একটা দরজা বন্ধ ছিল। এখন যখন খুলছো, আমার আটকানোর অধিকার নাই।"

তারপর তিনি ধীরে বললেন,

"তবে যা দেখবা, সবকিছুর উত্তর ওই ঘরে পাবে না।"

রায়হান জিজ্ঞেস করল,

"মানে?"

হেমেশ চাচা শুধু বললেন,

"কিছু উত্তর মানুষের কাছে থাকে।"

কথাটা বলে তিনি সরে গেলেন।

পশ্চিম ঘরের দরজা খুলতেই একটা ঠান্ডা, স্যাঁতসেঁতে বাতাস বাইরে বেরিয়ে এল।

মাইশা অজান্তেই রায়হানের কাছাকাছি চলে এল।

রায়হান টর্চ জ্বালাল।

ঘরের এক পাশে পুরোনো কাঠের আলমারি।

মাইশা চাবিটা বের করল।

তালা খুলতেই একটা শুকনো শব্দ হলো।

ক্লিক।

আলমারির ভেতরে কয়েকটা পুরোনো কাপড়, কিছু কাগজ, একটা কাঠের বাক্স এবং নিচে কালো মলাটের একটি ডায়েরি।

মাইশার বুক ধক করে উঠল।

সে ডায়েরিটা হাতে নিল।

মলাটে কোনো নাম নেই।

শুধু ছোট করে লেখা—

২০১৪

রায়হান বলল,

"এটাই?"

মাইশা মাথা নাড়ল।

"মনে হয়।"

তারা সবাই মেঝেতে বসে পড়ল।

মাইশা ডায়েরি খুলল।

প্রথম কয়েকটি পৃষ্ঠা ছিল স্বাভাবিক।

মায়ের হাতের লেখা।

মাইশার ছোটবেলার কথা।

বাড়ির কথা।

পরিবারের কথা।

এক জায়গায় লেখা—

“আজ মাইশু সারাদিন আমার পেছনে পেছনে ঘুরেছে। ওকে দেখে মনে হয়, পৃথিবীর কোনো দুঃখ যেন ওকে ছুঁতে পারবে না।”

মাইশার চোখ ভিজে উঠল।

সে পৃষ্ঠা ছুঁয়ে খুব আস্তে বলল,

"মা..."

রায়হান কিছু বলল না।

সে শুধু মাইশার পাশে বসে রইল।

এরপর ডায়েরির লেখার ধরন বদলে গেল।

তারিখ—

১৭ আগস্ট ২০১৪

“আজ রাশেদ আবার এসেছে। ও বলেছে, সময় খুব কম।”

পরের পৃষ্ঠা—

“আমি রাশেদকে বিশ্বাস করি। কিন্তু ও যা বলছে, সেটা বিশ্বাস করলে আমাকে একটা কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হবে।”

আরেক পৃষ্ঠা—

“মিলন আজ আমাকে জিজ্ঞেস করেছে, আমি কি কোনো সমস্যায় আছি। আমি ওকে কিছু বলতে পারিনি।”

মাইশা থেমে গেল।

"বাবা জানতেন?"

রায়হান বলল,

"মনে হচ্ছে কিছুটা জানতেন।"

পরের পৃষ্ঠায় লেখা—

“মিলন খারাপ মানুষ নয়। কিন্তু ওকে সবটা জানানো যাবে না। কারণ ও যদি সত্যিটা জানে, তাহলে মাইশুকে নিয়ে চলে যেতে চাইবে। আর আমি জানি না, মাইশুকে কোথায় নিরাপদ রাখা যাবে।”

মাইশা কিছুক্ষণ চুপ করে থাকল।

তারপর বলল,

"মা আমাকে বাঁচানোর জন্য বাবার কাছেও সব বলেনি?"

রায়হান উত্তর দিল,

"সম্ভবত।"

পরের কয়েকটি পৃষ্ঠা প্রায় ফাঁকা।

তারপর—

২৯ আগস্ট ২০১৪

“আজ সায়রার সঙ্গে দেখা হলো।”

মাইশার চোখ সঙ্গে সঙ্গে লেখার ওপর আটকে গেল।

"সায়রা..."

রায়হান বলল,

"এই নামটাই তো ঘড়ির ভেতর পেয়েছিলাম।"

ডায়েরিতে লেখা—

“সায়রা বলেছে, সে আমাকে সাহায্য করবে। কিন্তু আমি পুরোপুরি নিশ্চিত নই, ওকে বিশ্বাস করা ঠিক হবে কি না।”

পরের লাইন—

“ও এমন একটা নাম জানে, যে নামটা প্রকাশ পেলে শুধু আমি না, আরও অনেকের জীবন বদলে যাবে।”

মাইশা ফিসফিস করে বলল,

"কোন নাম?"

পাতার একটা অংশ ছেঁড়া।

মাইশা বিরক্ত হয়ে বলল,

"আবার ছেঁড়া!"

রায়হান পাতাটা খুব সাবধানে উল্টে দেখল।

"ইচ্ছে করে ছেঁড়া হয়েছে।"

"কে ছিঁড়েছে?"

কেউ উত্তর দিতে পারল না।

মোমো এতক্ষণ চুপ করে ছিল।

সে হঠাৎ বলল,

"হয়তো তানিয়া আন্টি নিজেই ছিঁড়েছিলেন।"

মাইশা তাকাল।

"কেন?"

মোমো বলল,

"যদি কেউ ডায়েরিটা পেয়ে যায়?"

মাইশা চুপ হয়ে গেল।

কথাটা অসম্ভব নয়।

ডায়েরির আরও কয়েক পৃষ্ঠা পরে একটা ছোট কাগজ পাওয়া গেল।

কাগজে লেখা—

“২টা ১৭ মিনিট — নদীর ঘাট।”

তার নিচে—

“রাশেদ আসবে।”

আরেক লাইন—

“সায়রা থাকবে।”

মাইশার বুক কেঁপে উঠল।

"এটাই সেই রাত।"

রায়হান মাথা নাড়ল।

"হ্যাঁ।"

কিন্তু কাগজের একদম নিচে আরও একটা লাইন ছিল।

কালি অনেকটা মুছে গেছে।

রায়হান ফোনের আলো ফেলল।

ধীরে ধীরে লেখা বোঝা গেল—

“মিলন একজনকে পাঠাবে।”

মাইশা স্তব্ধ হয়ে গেল।

"কাকে?"

উত্তর নেই।

এরপরের পাতাটা ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

তারিখ—

৩১ আগস্ট ২০১৪

লেখা—

“আজ আমি মাইশুকে নিয়ে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”

তারপর—

“কিন্তু যাওয়ার আগে আমাকে নদীর ঘাটে যেতে হবে।”

আরেক লাইন—

“রাশেদ বলেছে, সে সবকিছু সামলে নেবে।”

তারপর লেখা—

“মিলনকে আমি সব বলতে পারছি না। কারণ ওকে কেউ অনুসরণ করছে।”

মাইশা ধীরে বলল,

"বাবাকে কেউ অনুসরণ করছিল..."

রায়হান বলল,

"হয়তো এই কারণেই তিনি পুরো সত্যিটা জানতে পারেননি।"

মাইশা পরের পৃষ্ঠা উল্টাল।

সেখানে মাত্র একটি বাক্য—

“আমি যাকে সবচেয়ে বেশি ভয় করছি, সে আমার শত্রু নয়—সে আমার পরিচিত।”

মাইশার বুকের ভেতর কেমন যেন করে উঠল।

তারপর—

“ও আমাদের পরিবারের খুব কাছের।”

রায়হান তাকিয়ে রইল।

মোমো ও লামিয়াও চুপ।

মাইশা ফিসফিস করে বলল,

"তাহলে মানুষটা আমাদের পরিচিত..."

ঠিক তখনই ডায়েরির মাঝখান থেকে একটা ভাঁজ করা কাগজ পড়ে গেল।

রায়হান সেটা তুলে দিল।

মাইশা কাগজটা খুলল।

এবার লেখা ছিল—

“যদি আমি ফিরে না আসি, তাহলে প্রথমে রাশেদকে খুঁজবে না। প্রথমে মিলনের কাছে জানতে চাইবে—সেদিন সে কাকে পাঠিয়েছিল।”

মাইশার চোখ বড় হয়ে গেল।

"মানে মা জানত বাবা কাউকে পাঠিয়েছিলেন!"

রায়হান ধীরে বলল,

"হ্যাঁ।"

"কিন্তু কে?"

রায়হান উত্তর দিতে পারল না।

ঠিক তখনই মাইশার ফোন বেজে উঠল।

অচেনা নম্বর।

ঘরে সবাই চুপ হয়ে গেল।

মাইশা কলটা ধরল।

"হ্যালো?"

কিছুক্ষণ কোনো শব্দ নেই।

তারপর একটি নারীকণ্ঠ—

"তুমি তানিয়ার মেয়ে?"

মাইশার বুক কেঁপে উঠল।

"আপনি কে?"

"আমার নাম সায়রা।"

রায়হান সঙ্গে সঙ্গে মাইশার দিকে তাকাল।

মাইশা স্পিকারে দিল।

"আপনি আমার মাকে চিনতেন?"

ওপাশ থেকে উত্তর এল,

"শুধু চিনতাম না। শেষ রাত পর্যন্ত আমি ওর সঙ্গে ছিলাম।"

মাইশার চোখে পানি চলে এল।

"তাহলে আমার মা কোথায়?"

সায়রা কিছুক্ষণ চুপ করে রইলেন।

তারপর বললেন,

"তোমার মা বেঁচে ছিল।"

মাইশার হাত কেঁপে উঠল।

"ছিল?"

"হ্যাঁ।"

"এখন?"

ওপাশে দীর্ঘ নীরবতা।

তারপর সায়রা বললেন,

"এই প্রশ্নের উত্তর তোমার বাবার কাছ থেকে শোনা উচিত।"

মাইশা হতভম্ব হয়ে গেল।

"আপনি কি জানেন আমার বাবা সেদিন কাকে পাঠিয়েছিলেন?"

সায়রা ধীরে বললেন,

"জানি।"

"কে ছিল?"

"তুমি প্রস্তুত তো?"

মাইশা চোখ বন্ধ করে বলল,

"হ্যাঁ।"

সায়রা বললেন,

"সেদিন তোমার বাবা রাশেদকে নদীর ওপারে পাঠিয়েছিলেন।"

মাইশা স্তব্ধ।

"রাশেদ?"

"হ্যাঁ।"

রায়হানও অবাক হয়ে গেল।

সায়রা আবার বললেন,

"কিন্তু রাশেদ একা যায়নি।"

"কার সঙ্গে?"

ওপাশে কিছুক্ষণ নীরবতা।

তারপর সায়রা বললেন,

"আমার সঙ্গে।"

মাইশার নিঃশ্বাস আটকে গেল।

"তাহলে ভিডিওতে আপনিই ছিলেন!"

"হ্যাঁ।"

"আর ওই ছায়াটা?"

সায়রা উত্তর দেওয়ার আগেই কল কেটে গেল।

মাইশা হতভম্ব হয়ে ফোনের দিকে তাকিয়ে রইল।

রায়হান বলল,

"আবার কল দাও।"

মাইশা সঙ্গে সঙ্গে নম্বরে কল করল।

নম্বরটি বন্ধ।

কয়েক সেকেন্ড কেউ কথা বলল না।

তারপর রায়হান ডায়েরিটার দিকে তাকিয়ে বলল,

"একটা বিষয় পরিষ্কার।"

মাইশা তাকাল।

"কী?"

"সায়রা আমাদের শত্রু নয়।"

"তাহলে?"

রায়হান ধীরে বলল,

"সে হয়তো তোমার মাকে বাঁচানোর চেষ্টা করেছিল।"

মাইশা চোখ নামিয়ে বলল,

"আর রাশেদ?"

"রাশেদও সম্ভবত।"

"তাহলে এত বছর সবাই কেন চুপ ছিল?"

রায়হান কোনো উত্তর দিল না।

কারণ সেই প্রশ্নের উত্তর এখনও তাদের কাছে নেই।

কিন্তু এবার তাদের হাতে একটা গুরুত্বপূর্ণ সত্য এসেছে—

২০১৪ সালের সেই রাতে রাশেদ তানিয়ার কাছে গিয়েছিল মাইশার বাবার পাঠানো মানুষ হিসেবে।

আর সায়রা ছিল তার সঙ্গে।

কিন্তু তারা তখনও জানত না—

সেই রাতের শেষ মুহূর্তে তানিয়াকে কে নিয়ে গিয়েছিল।

আর ডায়েরির শেষ পাতায়, যেখানে এতদিন তারা খেয়ালই করেনি, কালো কালিতে লেখা ছিল মাত্র চারটি শব্দ—

“ওকে আমি চিনতাম।”

তার নিচে—

“কিন্তু বিশ্বাস করিনি।”

মাইশা লেখাগুলোর দিকে তাকিয়ে রইল।

তারপর ধীরে ডায়েরিটা বন্ধ করল।

কারণ এখন রহস্যের পরের দরজা একটাই—

মাইশার বাবা রফিকুল ইসলাম মিলন।

অধ্যায় 29 সমাপ্ত

আপনি এই অধ্যায়টি পড়া শেষ করেছেন। পরবর্তী পর্বে যান অথবা আপনার প্রতিক্রিয়া জানান!

মন্তব্যসমূহ

0

আলোচনায় যোগ দিন

মতামত জানাতে এবং পাঠকদের সাথে আলোচনায় অংশ নিতে লগইন করুন।

এখনও কোনো মন্তব্য নেই।

প্রথম মন্তব্যটি করে আলোচনা শুরু করুন!

রকমারি কালেকশন

বইপ্রেমীদের জন্য রকমারি বেস্টসেলার

অধ্যায় পাঠ শেষে সংগ্রহ করুন আপনার পছন্দের ঘরানার সেরা বই ও বিশেষ ডিসকাউন্ট

ছেঁড়া ডায়েরির অশ্রুভেজা পাতা

অনুচ্ছেদ 1 / 1 • চলছে
বিজ্ঞাপন