{
    "_links": {
        "html": "https://golpohub.com/episodes/nirobotar-arale-s1-ep29",
        "json": "https://golpohub.com/episodes/nirobotar-arale-s1-ep29?format=json",
        "markdown": "https://golpohub.com/episodes/nirobotar-arale-s1-ep29?format=md",
        "rss": "https://golpohub.com/episodes/nirobotar-arale-s1-ep29?format=rss",
        "atom": "https://golpohub.com/episodes/nirobotar-arale-s1-ep29?format=atom"
    },
    "seo": {
        "canonical_url": "https://golpohub.com/episodes/nirobotar-arale-s1-ep29",
        "title": "নীরবতার আড়ালে পর্ব ২৯ - ছেঁড়া ডায়েরির অশ্রুভেজা পাতা | Nirobotar Arale Part 29",
        "description": "পড়ুন নীরবতার আড়ালে পর্ব ২৯ (ছেঁড়া ডায়েরির অশ্রুভেজা পাতা)। মায়ের কালো ডায়েরি উদ্ধার এবং সায়রা হকের ফোনকলে চাঞ্চল্যকর তথ্য!",
        "keywords": "নীরবতার আড়ালে পর্ব ২৯, nirobotar arale porbo 29, nirobotar arale part 29, nirobotar arale episode 29, কালো ডায়েরি, সায়রা হকের ফোন, তানিয়া, মাইশা",
        "image_url": "https://cdn.golpohub.com/covers/episodes/chapter-chapter-3266-d609e7.webp",
        "schema": {
            "@context": "https://schema.org",
            "@graph": [
                {
                    "@type": "Chapter",
                    "name": "ছেঁড়া ডায়েরির অশ্রুভেজা পাতা",
                    "position": 29,
                    "description": "পশ্চিম ঘরের পুরোনো আলমারিতে পাওয়া যায় তানিয়ার কালো ডায়েরি। পাতার পর পাতায় মাইশার জন্য মায়ের অতল স্নেহ আর এক গোপন শত্রুর আশঙ্কার বয়ান। ডায়েরি শেষ হতেই ফোনে ভেসে আসে স্বয়ং সায়রা হকের কণ্ঠ—তানিয়া বেঁচে ছিল! কিন্তু বাবার পাঠানো রাশেদ কেন তানিয়াকে রক্ষা করতে পারেনি?",
                    "url": "https://golpohub.com/episodes/nirobotar-arale-s1-ep29",
                    "inLanguage": "bn",
                    "timeRequired": "PT10M",
                    "datePublished": "2026-10-15T17:23:32+00:00",
                    "dateModified": "2026-10-15T17:29:28+00:00",
                    "wordCount": 1581,
                    "image": "https://cdn.golpohub.com/covers/episodes/chapter-chapter-3266-d609e7.webp",
                    "isPartOf": {
                        "@type": [
                            "BookSeries",
                            "CreativeWorkSeries"
                        ],
                        "name": "নীরবতার আড়ালে",
                        "url": "https://golpohub.com/series/nirobotar-arale"
                    },
                    "author": {
                        "@type": "Person",
                        "name": "মেহেজাবিন ইসলাম মাইশা",
                        "url": "https://golpohub.com/authors/mehazabin-islam-maisha"
                    }
                },
                {
                    "@type": "BreadcrumbList",
                    "itemListElement": [
                        {
                            "@type": "ListItem",
                            "position": 1,
                            "name": "Golpo Hub",
                            "item": "https://golpohub.com"
                        },
                        {
                            "@type": "ListItem",
                            "position": 2,
                            "name": "সিরিজসমূহ",
                            "item": "https://golpohub.com/series"
                        },
                        {
                            "@type": "ListItem",
                            "position": 3,
                            "name": "নীরবতার আড়ালে",
                            "item": "https://golpohub.com/series/nirobotar-arale"
                        },
                        {
                            "@type": "ListItem",
                            "position": 4,
                            "name": "ছেঁড়া ডায়েরির অশ্রুভেজা পাতা",
                            "item": "https://golpohub.com/episodes/nirobotar-arale-s1-ep29"
                        }
                    ]
                }
            ]
        }
    },
    "filters": [],
    "data": {
        "id": 3266,
        "ep_number": 29,
        "title": "ছেঁড়া ডায়েরির অশ্রুভেজা পাতা",
        "slug": "nirobotar-arale-s1-ep29",
        "url": "https://golpohub.com/episodes/nirobotar-arale-s1-ep29",
        "reading_time": 10,
        "thumbnail_url": "https://cdn.golpohub.com/covers/episodes/chapter-chapter-3266-d609e7.webp",
        "yt_video_id": null,
        "yt_video_url": null,
        "timestamps": {
            "published_at": "2026-10-15T17:23:32+00:00",
            "updated_at": "2026-10-15T17:29:28+00:00"
        },
        "meta": {
            "word_count": 1581,
            "seo_title": "নীরবতার আড়ালে পর্ব ২৯ - ছেঁড়া ডায়েরির অশ্রুভেজা পাতা | Nirobotar Arale Part 29",
            "seo_description": "পড়ুন নীরবতার আড়ালে পর্ব ২৯ (ছেঁড়া ডায়েরির অশ্রুভেজা পাতা)। মায়ের কালো ডায়েরি উদ্ধার এবং সায়রা হকের ফোনকলে চাঞ্চল্যকর তথ্য!",
            "keywords": "নীরবতার আড়ালে পর্ব ২৯, nirobotar arale porbo 29, nirobotar arale part 29, nirobotar arale episode 29, কালো ডায়েরি, সায়রা হকের ফোন, তানিয়া, মাইশা",
            "characters_involved": [
                "মাইশা",
                "রায়হান ব্যাপারী",
                "মোমো",
                "লামিয়া"
            ]
        },
        "content": "পুরোনো বাড়ি থেকে ফিরে আসার পরও মাইশার মাথা থেকে কিছুতেই ২০১৪ সালের সেই রাতটা সরছিল না।\nপুরোনো বাড়ির পশ্চিম ঘর।\nদরজার গায়ে খোদাই করা G.B.B — 2014।\nমায়ের রেখে যাওয়া চিঠি।\nরাশেদের ঘড়ি।\nঘড়ির ভেতর লুকানো সায়রা হক নামটা।\nআর সবচেয়ে ভয়ংকর—২টা ১৭ মিনিটের সেই ভিডিও।\nভিডিওতে তার মা তানিয়াকে দেখা গিয়েছিল নদীর ঘাটে। পাশে রাশেদ এবং সেই অচেনা নারী। আর একটু দূরে ছিল আরেকজন মানুষের ছায়া।\nমাইশা জানত, এই রহস্য আর বেশি দূরে নেই।\nকিন্তু সত্যিটা যত কাছে আসছিল, ততই ভয় লাগছিল।\nরাত প্রায় সাড়ে দশটা।\nনতুন বাড়ির নিজের ঘরে বসে মাইশা জানালার বাইরে তাকিয়ে ছিল। টেবিলের ওপর রাখা রাশেদের ঘড়িটা বারবার তার চোখে পড়ছিল।\nসে ঘড়িটা হাতে তুলে নিল।\nঘড়ির কাঁটা থেমে আছে—\n২টা ১৭ মিনিটে।\nমাইশা খুব আস্তে বলল,\n\"কেন এই সময়টা বারবার ফিরে আসছে?\"\nঠিক তখন দরজায় টোকা পড়ল।\n\"মাইশু?\"\nনানির কণ্ঠ।\nমাইশা দ্রুত ঘড়িটা নামিয়ে রাখল।\n\"আসো, নানি।\"\nকামরুল নাহার ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দিলেন।\nতার মুখটা আজ অস্বাভাবিক গম্ভীর।\nমাইশা সেটা দেখে জিজ্ঞেস করল,\n\"কী হয়েছে?\"\nনানি সঙ্গে সঙ্গে উত্তর দিলেন না।\nতিনি মাইশার দিকে তাকিয়ে কিছুক্ষণ চুপ করে থাকলেন।\nতারপর বললেন,\n\"তুই কি সত্যিটা জানতে চাস?\"\nমাইশা এক মুহূর্তও দেরি করল না।\n\"হ্যাঁ।\"\n\"যত কষ্টেরই হোক?\"\n\"হ্যাঁ।\"\nনানি ধীরে ধীরে বিছানার পাশে বসলেন।\n\"তাহলে আজ তোকে একটা জিনিস দিতে হবে।\"\nমাইশা অবাক হয়ে তাকাল।\n\"কী?\"\nনানি নিজের সঙ্গে থাকা পুরোনো চাবির গোছা থেকে একটি ছোট চাবি বের করলেন।\n\"পুরোনো বাড়ির পশ্চিম ঘরে যে আলমারিটা আছে, সেটার।\"\nমাইশা চমকে উঠল।\n\"ওই ঘরে আলমারি আছে?\"\n\"আছে। কিন্তু তুই যেদিন গিয়েছিলি, তখন সেটা খেয়াল করিসনি।\"\nমাইশা সঙ্গে সঙ্গে রায়হানের কথা মনে করল।\n\"ওই আলমারিতে কী আছে?\"\nনানি বললেন,\n\"তোর মায়ের ডায়েরি।\"\nমাইশার বুক ধক করে উঠল।\n\"মায়ের ডায়েরি?\"\n\"হ্যাঁ।\"\n\"তুমি এতদিন এটা লুকিয়ে রেখেছিলে?\"\nনানি মাথা নাড়লেন।\n\"লুকিয়ে রাখিনি। সময়ের অপেক্ষা করেছি।\"\nমাইশার চোখে পানি জমে উঠল।\n\"কোন সময়ের?\"\nনানি ধীরে বললেন,\n\"যেদিন তুই নিজে সত্যিটা খুঁজতে শুরু করবি।\"\nকিছুক্ষণ পর রায়হানও ঘরে এল।\nমাইশা তাকে সব বলল।\nরায়হান চুপচাপ শুনে শেষে বলল,\n\"তাহলে আবার পুরোনো বাড়িতে যেতে হবে।\"\nমাইশা মাথা নাড়ল।\n\"হ্যাঁ।\"\nরায়হান ঘড়িটার দিকে তাকাল।\n\"এবার কিন্তু একা যাব না।\"\nমাইশা একটু বিরক্ত হয়ে বলল,\n\"আমি কি কখনো বলেছি একা যাব?\"\nরায়হান মৃদু হেসে বলল,\n\"তোমাকে চিনি তো।\"\nমাইশা চোখ কুঁচকে বলল,\n\"আমাকে এত ভালো চিনো কবে থেকে?\"\nরায়হান কয়েক সেকেন্ড তার দিকে তাকিয়ে বলল,\n\"যেদিন থেকে তুমি আমার শান্তি নষ্ট করা শুরু করেছ।\"\nমাইশা মুখ বাঁকিয়ে বলল,\n\"বেশি কথা বলো না।\"\nরায়হান হেসে ফেলল।\nকিন্তু হাসিটা বেশিক্ষণ থাকল না।\nকারণ তাদের সামনে যে রাতটা অপেক্ষা করছিল, সেখানে হাসির চেয়ে সত্যিটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল।\nপরদিন বিকেলে মাইশা, রায়হান, মোমো ও লামিয়া পুরোনো বাড়িতে গেল।\nবাড়িটা দিনের আলোতেও অদ্ভুত লাগছিল।\nপুরোনো দেয়ালের গায়ে শ্যাওলা।\nজানালার কাঠে বয়সের ছাপ।\nবারান্দায় ধুলোর স্তর।\nআর বাড়ির পেছনের দিকে তাকালে দূরে নদীর পানি দেখা যায়।\nমাইশা কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে রইল।\nতার মনে হলো, এই বাড়ির প্রতিটি দেয়াল যেন তার মায়ের কোনো না-বলা কথা ধরে রেখেছে।\nরায়হান পাশে এসে বলল,\n\"কী ভাবছ?\"\nমাইশা ধীরে বলল,\n\"মনে হচ্ছে মা এখানে অনেক কিছু রেখে গেছে।\"\n\"হয়তো।\"\n\"আর আমরা এতদিন কিছুই জানতাম না।\"\nরায়হান চুপ করে থাকল।\nতারপর বলল,\n\"চলো। পশ্চিম ঘরটা আগে দেখি।\"\nহেমেশ চাচা দূর থেকে তাদের দেখে এগিয়ে এলেন।\n\"আবার আইছো?\"\nমাইশা মাথা নাড়ল।\n\"চাচা, নানি বলেছে পশ্চিম ঘরের আলমারিটা খুলতে।\"\nহেমেশ চাচা কিছুক্ষণ মাইশার দিকে তাকিয়ে থাকলেন।\nতারপর বললেন,\n\"নানি যদি অনুমতি দিয়ে থাকে, তাহলে খোলো।\"\nমাইশা অবাক হলো।\n\"আপনি কিছু বলবেন না?\"\nহেমেশ চাচা দীর্ঘশ্বাস ফেললেন।\n\"অনেক বছর ধরে একটা দরজা বন্ধ ছিল। এখন যখন খুলছো, আমার আটকানোর অধিকার নাই।\"\nতারপর তিনি ধীরে বললেন,\n\"তবে যা দেখবা, সবকিছুর উত্তর ওই ঘরে পাবে না।\"\nরায়হান জিজ্ঞেস করল,\n\"মানে?\"\nহেমেশ চাচা শুধু বললেন,\n\"কিছু উত্তর মানুষের কাছে থাকে।\"\nকথাটা বলে তিনি সরে গেলেন।\nপশ্চিম ঘরের দরজা খুলতেই একটা ঠান্ডা, স্যাঁতসেঁতে বাতাস বাইরে বেরিয়ে এল।\nমাইশা অজান্তেই রায়হানের কাছাকাছি চলে এল।\nরায়হান টর্চ জ্বালাল।\nঘরের এক পাশে পুরোনো কাঠের আলমারি।\nমাইশা চাবিটা বের করল।\nতালা খুলতেই একটা শুকনো শব্দ হলো।\nক্লিক।\nআলমারির ভেতরে কয়েকটা পুরোনো কাপড়, কিছু কাগজ, একটা কাঠের বাক্স এবং নিচে কালো মলাটের একটি ডায়েরি।\nমাইশার বুক ধক করে উঠল।\nসে ডায়েরিটা হাতে নিল।\nমলাটে কোনো নাম নেই।\nশুধু ছোট করে লেখা—\n২০১৪\nরায়হান বলল,\n\"এটাই?\"\nমাইশা মাথা নাড়ল।\n\"মনে হয়।\"\nতারা সবাই মেঝেতে বসে পড়ল।\nমাইশা ডায়েরি খুলল।\nপ্রথম কয়েকটি পৃষ্ঠা ছিল স্বাভাবিক।\nমায়ের হাতের লেখা।\nমাইশার ছোটবেলার কথা।\nবাড়ির কথা।\nপরিবারের কথা।\nএক জায়গায় লেখা—\n“আজ মাইশু সারাদিন আমার পেছনে পেছনে ঘুরেছে। ওকে দেখে মনে হয়, পৃথিবীর কোনো দুঃখ যেন ওকে ছুঁতে পারবে না।”\nমাইশার চোখ ভিজে উঠল।\nসে পৃষ্ঠা ছুঁয়ে খুব আস্তে বলল,\n\"মা...\"\nরায়হান কিছু বলল না।\nসে শুধু মাইশার পাশে বসে রইল।\nএরপর ডায়েরির লেখার ধরন বদলে গেল।\nতারিখ—\n১৭ আগস্ট ২০১৪\n“আজ রাশেদ আবার এসেছে। ও বলেছে, সময় খুব কম।”\nপরের পৃষ্ঠা—\n“আমি রাশেদকে বিশ্বাস করি। কিন্তু ও যা বলছে, সেটা বিশ্বাস করলে আমাকে একটা কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হবে।”\nআরেক পৃষ্ঠা—\n“মিলন আজ আমাকে জিজ্ঞেস করেছে, আমি কি কোনো সমস্যায় আছি। আমি ওকে কিছু বলতে পারিনি।”\nমাইশা থেমে গেল।\n\"বাবা জানতেন?\"\nরায়হান বলল,\n\"মনে হচ্ছে কিছুটা জানতেন।\"\nপরের পৃষ্ঠায় লেখা—\n“মিলন খারাপ মানুষ নয়। কিন্তু ওকে সবটা জানানো যাবে না। কারণ ও যদি সত্যিটা জানে, তাহলে মাইশুকে নিয়ে চলে যেতে চাইবে। আর আমি জানি না, মাইশুকে কোথায় নিরাপদ রাখা যাবে।”\nমাইশা কিছুক্ষণ চুপ করে থাকল।\nতারপর বলল,\n\"মা আমাকে বাঁচানোর জন্য বাবার কাছেও সব বলেনি?\"\nরায়হান উত্তর দিল,\n\"সম্ভবত।\"\nপরের কয়েকটি পৃষ্ঠা প্রায় ফাঁকা।\nতারপর—\n২৯ আগস্ট ২০১৪\n“আজ সায়রার সঙ্গে দেখা হলো।”\nমাইশার চোখ সঙ্গে সঙ্গে লেখার ওপর আটকে গেল।\n\"সায়রা...\"\nরায়হান বলল,\n\"এই নামটাই তো ঘড়ির ভেতর পেয়েছিলাম।\"\nডায়েরিতে লেখা—\n“সায়রা বলেছে, সে আমাকে সাহায্য করবে। কিন্তু আমি পুরোপুরি নিশ্চিত নই, ওকে বিশ্বাস করা ঠিক হবে কি না।”\nপরের লাইন—\n“ও এমন একটা নাম জানে, যে নামটা প্রকাশ পেলে শুধু আমি না, আরও অনেকের জীবন বদলে যাবে।”\nমাইশা ফিসফিস করে বলল,\n\"কোন নাম?\"\nপাতার একটা অংশ ছেঁড়া।\nমাইশা বিরক্ত হয়ে বলল,\n\"আবার ছেঁড়া!\"\nরায়হান পাতাটা খুব সাবধানে উল্টে দেখল।\n\"ইচ্ছে করে ছেঁড়া হয়েছে।\"\n\"কে ছিঁড়েছে?\"\nকেউ উত্তর দিতে পারল না।\nমোমো এতক্ষণ চুপ করে ছিল।\nসে হঠাৎ বলল,\n\"হয়তো তানিয়া আন্টি নিজেই ছিঁড়েছিলেন।\"\nমাইশা তাকাল।\n\"কেন?\"\nমোমো বলল,\n\"যদি কেউ ডায়েরিটা পেয়ে যায়?\"\nমাইশা চুপ হয়ে গেল।\nকথাটা অসম্ভব নয়।\nডায়েরির আরও কয়েক পৃষ্ঠা পরে একটা ছোট কাগজ পাওয়া গেল।\nকাগজে লেখা—\n“২টা ১৭ মিনিট — নদীর ঘাট।”\nতার নিচে—\n“রাশেদ আসবে।”\nআরেক লাইন—\n“সায়রা থাকবে।”\nমাইশার বুক কেঁপে উঠল।\n\"এটাই সেই রাত।\"\nরায়হান মাথা নাড়ল।\n\"হ্যাঁ।\"\nকিন্তু কাগজের একদম নিচে আরও একটা লাইন ছিল।\nকালি অনেকটা মুছে গেছে।\nরায়হান ফোনের আলো ফেলল।\nধীরে ধীরে লেখা বোঝা গেল—\n“মিলন একজনকে পাঠাবে।”\nমাইশা স্তব্ধ হয়ে গেল।\n\"কাকে?\"\nউত্তর নেই।\nএরপরের পাতাটা ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।\nতারিখ—\n৩১ আগস্ট ২০১৪\nলেখা—\n“আজ আমি মাইশুকে নিয়ে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”\nতারপর—\n“কিন্তু যাওয়ার আগে আমাকে নদীর ঘাটে যেতে হবে।”\nআরেক লাইন—\n“রাশেদ বলেছে, সে সবকিছু সামলে নেবে।”\nতারপর লেখা—\n“মিলনকে আমি সব বলতে পারছি না। কারণ ওকে কেউ অনুসরণ করছে।”\nমাইশা ধীরে বলল,\n\"বাবাকে কেউ অনুসরণ করছিল...\"\nরায়হান বলল,\n\"হয়তো এই কারণেই তিনি পুরো সত্যিটা জানতে পারেননি।\"\nমাইশা পরের পৃষ্ঠা উল্টাল।\nসেখানে মাত্র একটি বাক্য—\n“আমি যাকে সবচেয়ে বেশি ভয় করছি, সে আমার শত্রু নয়—সে আমার পরিচিত।”\nমাইশার বুকের ভেতর কেমন যেন করে উঠল।\nতারপর—\n“ও আমাদের পরিবারের খুব কাছের।”\nরায়হান তাকিয়ে রইল।\nমোমো ও লামিয়াও চুপ।\nমাইশা ফিসফিস করে বলল,\n\"তাহলে মানুষটা আমাদের পরিচিত...\"\nঠিক তখনই ডায়েরির মাঝখান থেকে একটা ভাঁজ করা কাগজ পড়ে গেল।\nরায়হান সেটা তুলে দিল।\nমাইশা কাগজটা খুলল।\nএবার লেখা ছিল—\n“যদি আমি ফিরে না আসি, তাহলে প্রথমে রাশেদকে খুঁজবে না। প্রথমে মিলনের কাছে জানতে চাইবে—সেদিন সে কাকে পাঠিয়েছিল।”\nমাইশার চোখ বড় হয়ে গেল।\n\"মানে মা জানত বাবা কাউকে পাঠিয়েছিলেন!\"\nরায়হান ধীরে বলল,\n\"হ্যাঁ।\"\n\"কিন্তু কে?\"\nরায়হান উত্তর দিতে পারল না।\nঠিক তখনই মাইশার ফোন বেজে উঠল।\nঅচেনা নম্বর।\nঘরে সবাই চুপ হয়ে গেল।\nমাইশা কলটা ধরল।\n\"হ্যালো?\"\nকিছুক্ষণ কোনো শব্দ নেই।\nতারপর একটি নারীকণ্ঠ—\n\"তুমি তানিয়ার মেয়ে?\"\nমাইশার বুক কেঁপে উঠল।\n\"আপনি কে?\"\n\"আমার নাম সায়রা।\"\nরায়হান সঙ্গে সঙ্গে মাইশার দিকে তাকাল।\nমাইশা স্পিকারে দিল।\n\"আপনি আমার মাকে চিনতেন?\"\nওপাশ থেকে উত্তর এল,\n\"শুধু চিনতাম না। শেষ রাত পর্যন্ত আমি ওর সঙ্গে ছিলাম।\"\nমাইশার চোখে পানি চলে এল।\n\"তাহলে আমার মা কোথায়?\"\nসায়রা কিছুক্ষণ চুপ করে রইলেন।\nতারপর বললেন,\n\"তোমার মা বেঁচে ছিল।\"\nমাইশার হাত কেঁপে উঠল।\n\"ছিল?\"\n\"হ্যাঁ।\"\n\"এখন?\"\nওপাশে দীর্ঘ নীরবতা।\nতারপর সায়রা বললেন,\n\"এই প্রশ্নের উত্তর তোমার বাবার কাছ থেকে শোনা উচিত।\"\nমাইশা হতভম্ব হয়ে গেল।\n\"আপনি কি জানেন আমার বাবা সেদিন কাকে পাঠিয়েছিলেন?\"\nসায়রা ধীরে বললেন,\n\"জানি।\"\n\"কে ছিল?\"\n\"তুমি প্রস্তুত তো?\"\nমাইশা চোখ বন্ধ করে বলল,\n\"হ্যাঁ।\"\nসায়রা বললেন,\n\"সেদিন তোমার বাবা রাশেদকে নদীর ওপারে পাঠিয়েছিলেন।\"\nমাইশা স্তব্ধ।\n\"রাশেদ?\"\n\"হ্যাঁ।\"\nরায়হানও অবাক হয়ে গেল।\nসায়রা আবার বললেন,\n\"কিন্তু রাশেদ একা যায়নি।\"\n\"কার সঙ্গে?\"\nওপাশে কিছুক্ষণ নীরবতা।\nতারপর সায়রা বললেন,\n\"আমার সঙ্গে।\"\nমাইশার নিঃশ্বাস আটকে গেল।\n\"তাহলে ভিডিওতে আপনিই ছিলেন!\"\n\"হ্যাঁ।\"\n\"আর ওই ছায়াটা?\"\nসায়রা উত্তর দেওয়ার আগেই কল কেটে গেল।\nমাইশা হতভম্ব হয়ে ফোনের দিকে তাকিয়ে রইল।\nরায়হান বলল,\n\"আবার কল দাও।\"\nমাইশা সঙ্গে সঙ্গে নম্বরে কল করল।\nনম্বরটি বন্ধ।\nকয়েক সেকেন্ড কেউ কথা বলল না।\nতারপর রায়হান ডায়েরিটার দিকে তাকিয়ে বলল,\n\"একটা বিষয় পরিষ্কার।\"\nমাইশা তাকাল।\n\"কী?\"\n\"সায়রা আমাদের শত্রু নয়।\"\n\"তাহলে?\"\nরায়হান ধীরে বলল,\n\"সে হয়তো তোমার মাকে বাঁচানোর চেষ্টা করেছিল।\"\nমাইশা চোখ নামিয়ে বলল,\n\"আর রাশেদ?\"\n\"রাশেদও সম্ভবত।\"\n\"তাহলে এত বছর সবাই কেন চুপ ছিল?\"\nরায়হান কোনো উত্তর দিল না।\nকারণ সেই প্রশ্নের উত্তর এখনও তাদের কাছে নেই।\nকিন্তু এবার তাদের হাতে একটা গুরুত্বপূর্ণ সত্য এসেছে—\n২০১৪ সালের সেই রাতে রাশেদ তানিয়ার কাছে গিয়েছিল মাইশার বাবার পাঠানো মানুষ হিসেবে।\nআর সায়রা ছিল তার সঙ্গে।\nকিন্তু তারা তখনও জানত না—\nসেই রাতের শেষ মুহূর্তে তানিয়াকে কে নিয়ে গিয়েছিল।\nআর ডায়েরির শেষ পাতায়, যেখানে এতদিন তারা খেয়ালই করেনি, কালো কালিতে লেখা ছিল মাত্র চারটি শব্দ—\n“ওকে আমি চিনতাম।”\nতার নিচে—\n“কিন্তু বিশ্বাস করিনি।”\nমাইশা লেখাগুলোর দিকে তাকিয়ে রইল।\nতারপর ধীরে ডায়েরিটা বন্ধ করল।\nকারণ এখন রহস্যের পরের দরজা একটাই—\nমাইশার বাবা রফিকুল ইসলাম মিলন।",
        "series": {
            "id": 92,
            "title": "নীরবতার আড়ালে",
            "slug": "nirobotar-arale",
            "url": "https://golpohub.com/series/nirobotar-arale",
            "thumbnail_url": "https://cdn.golpohub.com/covers/series-neerbtar-arale-92-7cc1ae.webp",
            "progress_status": "ongoing"
        },
        "author": {
            "id": 69,
            "name": "মেহেজাবিন ইসলাম মাইশা",
            "slug": "mehazabin-islam-maisha",
            "url": "https://golpohub.com/authors/mehazabin-islam-maisha",
            "avatar_url": "https://cdn.golpohub.com/avatars/author-mehejabin-islam-maisa-69-4fcdfa.webp",
            "bio": "মেহেজাবিন ইসলাম মাইশা সমকালীন বাংলা ওয়েব ফিকশনের এক সংবেদনশীল ও রহস্যসন্ধানী কণ্ঠস্বর। পারিবারিক সম্পর্কের মনস্তাত্ত্বিক জটিলতা, কৈশোরের অস্ফুট অনুভূতির দোলাচল এবং অতল রহস্যের বুনন তাঁর লেখনীর প্রধান বৈশিষ্ট্য। তাঁর গল্পে চরিত্রগুলোর দ্বিধাদ্বন্দ্ব, অভিমান ও নিখাদ ভালোবাসার আবেগ অত্যন্ত জীবন্ত ও বিশ্বাসযোগ্য রূপে ধরা দেয়।",
            "series_count": 0,
            "meta": {
                "bio": "মেহেজাবিন ইসলাম মাইশা সমকালীন বাংলা ওয়েব ফিকশনের এক সংবেদনশীল ও রহস্যসন্ধানী কণ্ঠস্বর। পারিবারিক সম্পর্কের মনস্তাত্ত্বিক জটিলতা, কৈশোরের অস্ফুট অনুভূতির দোলাচল এবং অতল রহস্যের বুনন তাঁর লেখনীর প্রধান বৈশিষ্ট্য। তাঁর গল্পে চরিত্রগুলোর দ্বিধাদ্বন্দ্ব, অভিমান ও নিখাদ ভালোবাসার আবেগ অত্যন্ত জীবন্ত ও বিশ্বাসযোগ্য রূপে ধরা দেয়।",
                "pen_name": "মেহেজাবিন ইসলাম মাইশা",
                "aliases": [
                    "Mehazabin Islam Maisha",
                    "মাইশা",
                    "Mehazabin Maisha"
                ]
            },
            "timestamps": {
                "created_at": null,
                "updated_at": null
            }
        },
        "navigation": {
            "previous_episode": {
                "id": 3265,
                "ep_number": 28,
                "title": "চরবাগানের পরিত্যক্ত গুদামে সত্যসন্ধান",
                "slug": "nirobotar-arale-s1-ep28",
                "url": "https://golpohub.com/episodes/nirobotar-arale-s1-ep28",
                "thumbnail_url": "https://golpohub.com/assets/images/og.jpg"
            },
            "next_episode": {
                "id": 3267,
                "ep_number": 30,
                "title": "বাবার চোখে গভীর অনুশোচনা",
                "slug": "nirobotar-arale-s1-ep30",
                "url": "https://golpohub.com/episodes/nirobotar-arale-s1-ep30",
                "thumbnail_url": "https://golpohub.com/assets/images/og.jpg"
            }
        }
    }
}