> **বিকল্প ফরম্যাটসমূহ:** [এইচটিএমএল](https://golpohub.com/episodes/nirobotar-arale-s1-ep31) | [জেসন](https://golpohub.com/episodes/nirobotar-arale-s1-ep31?format=json) | [আরএসএস ফিড](https://golpohub.com/episodes/nirobotar-arale-s1-ep31?format=rss) | [অ্যাটম ফিড](https://golpohub.com/episodes/nirobotar-arale-s1-ep31?format=atom)

# চৌকাঠের ওপাশে দাঁড়িয়ে থাকা অতীত

![চৌকাঠের ওপাশে দাঁড়িয়ে থাকা অতীত](https://cdn.golpohub.com/covers/episodes/chapter-chapter-3268-8b1de5.webp)

---
*[মেহেজাবিন ইসলাম মাইশা](https://golpohub.com/authors/mehazabin-islam-maisha)-এর [নীরবতার আড়ালে](https://golpohub.com/series/nirobotar-arale) সিরিজ থেকে*\n*আনুমানিক পড়ার সময়: 11 মিনিট*
- **মোট শব্দ:** 1,670
- **প্রকাশিত:** Oct 15, 2026
---

"আমি জানি রাশেদ কোথায় আছে।" মিলনের কথাটা ঘরের ভেতর যেন হঠাৎ ভারী হয়ে ঝুলে রইল। কেউ কোনো কথা বলল না। মাইশা বাবার দিকে তাকিয়ে রইল। তার চোখে অবিশ্বাস, ভয় আর অসংখ্য প্রশ্ন একসঙ্গে। কয়েক সেকেন্ড আগেও সে ভাবছিল, হয়তো আজও কোনো উত্তর পাওয়া যাবে না। কিন্তু বাবা নিজেই যখন বললেন তিনি জানেন রাশেদ কোথায়— তখন যেন এতদিনের অন্ধকারের মধ্যে হঠাৎ একটা ছোট আলো দেখা গেল। মাইশা ধীরে ধীরে বলল, "আপনি... সত্যিই জানেন?" মিলন মাথা নিচু করে কিছুক্ষণ চুপ করে থাকলেন। তারপর বললেন, "হ্যাঁ।" "তাহলে এতদিন বলেননি কেন?" মিলন এবার মেয়ের দিকে তাকালেন। "কারণ আমি নিশ্চিত ছিলাম না, রাশেদ এখনও সেখানে আছে কি না।" মাইশা সঙ্গে সঙ্গে বলল, "কিন্তু আপনি তো জানেন সে কোথায় ছিল!" "ছিল আর আছে—দুটো এক জিনিস না, মাইশা।" "তাহলে অন্তত আমাকে বলতে পারতেন!" মাইশার গলায় অভিমান জমে উঠল। "আমি এতদিন ধরে কী কী পেয়েছি জানেন? মায়ের পুরোনো চিঠি, ডায়েরি, ২০১৪ সালের ছবি, রাশেদের ঘড়ি, ২টা ১৭ মিনিটের সেই রেকর্ডিং... তারপর সায়রা আমাকে ফোন করে বলল মা সেদিন বেঁচে ছিল।" মিলন চুপ করে শুনছিলেন। "আর আজ আপনি বলছেন, রাশেদ কোথায় সেটাও জানেন।" মাইশার চোখে পানি চলে এল। "বাবা, আমি কি এতটাই ছোট যে সত্যিটা জানার অধিকারও আমার নেই?" মিলনের মুখটা শক্ত হয়ে গেল। "তুই আমার মেয়ে। তাই তো এতদিন তোকে বাঁচিয়ে রাখতে চেয়েছি।" মাইশা কিছুক্ষণ চুপ করে রইল। তারপর খুব আস্তে বলল, "কিন্তু সত্যি থেকে আমাকে লুকিয়ে রাখলে তো আমি বাঁচব না, বাবা।" মিলনের চোখে কষ্ট ফুটে উঠল। তিনি চেয়ার থেকে উঠে জানালার পাশে গিয়ে দাঁড়ালেন। বাইরে বিকেলের আলো ধীরে ধীরে ফিকে হয়ে আসছিল। "তোর মা যখন হারিয়ে গেল," মিলন বলতে শুরু করলেন, "আমি ভেবেছিলাম সময়ের সঙ্গে সবকিছু একদিন শান্ত হয়ে যাবে।" মাইশা নিঃশব্দে শুনছিল। "কিন্তু কিছু ঘটনা সময়ের সঙ্গে শেষ হয় না। শুধু মানুষের চোখের আড়ালে চলে যায়।" রায়হান এতক্ষণ চুপ করে ছিল। সে এবার ধীরে বলল, "আঙ্কেল, রাশেদ কি সবটা জানে?" মিলন তার দিকে তাকালেন। "রাশেদ অনেক কিছু জানে।" "আর কিছু জানে না?" মিলন দীর্ঘশ্বাস ফেললেন। "সে সেদিন সেখানে ছিল। কিন্তু পুরো ঘটনা তার চোখের সামনেও ঘটেনি।" মাইশা তাড়াতাড়ি বলল, "তাহলে সে কী দেখেছিল?" মিলন উত্তর দিলেন না। "বাবা?" "আগে ওর সঙ্গে কথা বল। তারপর বুঝবি।" মাইশা বিরক্ত হয়ে বলল, "সবকিছুর উত্তর আগে না দিয়ে পরে কেন দেন?" মিলন হালকা একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললেন। "কারণ কিছু উত্তর মুখে বললে তার মূল্য থাকে না। যে মানুষ নিজে সেই রাতটা দেখেছে, তার মুখ থেকে শুনলে তুই বুঝতে পারবি।" রায়হান মাথা নেড়ে বলল, "ঠিক বলেছেন।" মাইশা তার দিকে তাকাল। "তুমিও বাবার পক্ষ নিচ্ছ?" রায়হান মৃদু হেসে বলল, "না। শুধু মনে হচ্ছে এবার রাশেদের কাছ থেকেই শোনা উচিত।" মাইশা মুখ ফিরিয়ে নিল। "আচ্ছা।" পুরোনো ঠিকানা মিলন টেবিলের ড্রয়ার খুললেন। ভেতর থেকে একটা ভাঁজ করা কাগজ বের করলেন। কাগজটা বেশ পুরোনো। কোনায় হালকা হলদেটে দাগ। তিনি সেটা রায়হানের হাতে দিলেন। "এই ঠিকানায় যাও।" রায়হান কাগজটা খুলে পড়তে লাগল। মাইশা তার পাশে এসে দাঁড়াল। "কোথায়?" রায়হান ঠিকানাটা আবার পড়ল। "নোয়াখালীর বাইরে একটা জায়গা।" মাইশার বুকের ভেতর কেমন যেন ধক করে উঠল। "নোয়াখালী?" মিলন মাথা নেড়ে বললেন, "হ্যাঁ।" "রাশেদ সেখানে কেন?" "ও অনেক বছর ধরে জায়গা বদলেছে। তবে শেষবার যখন ওর খবর পেয়েছিলাম, এই ঠিকানাটাই ছিল।" মাইশা বলল, "আমরা কখন যাব?" মিলন মেয়ের দিকে তাকালেন। "এখনই যেতে হবে না।" মাইশা সঙ্গে সঙ্গে বলল, "আমি যাব।" "মাইশা—" "আমি যাব, বাবা।" মিলন মেয়ের জেদ বুঝে গেলেন। "ঠিক আছে। কিন্তু একা নয়।" রায়হান সঙ্গে সঙ্গে বলল, "আমি যাব।" মিলন তার দিকে তাকিয়ে বললেন, "তুমি যাবে, কিন্তু একটা কথা মনে রাখবে।" "জি?" "রাশেদের সঙ্গে কথা বলার সময় আবেগ দিয়ে সিদ্ধান্ত নিও না।" রায়হান কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলল, "চেষ্টা করব।" মাইশা মৃদু হেসে বলল, "ও চেষ্টা করবে মানে বুঝতেই পারছেন, কিছু একটা করবেই।" রায়হান তার দিকে তাকাল। "তুমি চুপ করবে?" "না।" "তাহলে আমিও চুপ করব না।" মাইশা চোখ ছোট করে তাকাল। "বেশি কথা বলো।" "তুমিই তো শিখাইছ।" মোমো এতক্ষণ দরজার কাছে দাঁড়িয়ে সব শুনছিল। সে এবার বলল, "তোমরা দুজন রহস্য সমাধান করতে যাচ্ছ নাকি ঝগড়া করতে?" মাইশা তাকিয়ে বলল, "দুটোই হতে পারে।" ঘরের পরিবেশে সামান্য হাসি ফুটে উঠল। কিন্তু সেই হাসিটা বেশিক্ষণ স্থায়ী হলো না। কারণ মাইশার চোখ আবার কাগজটার দিকে চলে গেল। রাশেদ। এই মানুষটাই হয়তো তার মায়ের শেষ রাতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী। যাত্রার আগে সন্ধ্যার পর মাইশা নিজের ঘরে এসে ব্যাগ গোছাতে শুরু করল। খুব বেশি কিছু নিল না। একটা ছোট ব্যাগ। কিছু কাপড়। ফোনের চার্জার। মায়ের পুরোনো চিঠিগুলোর ছবি রাখা একটা ফোল্ডার। আর সেই ঘড়ির ছবি। সবশেষে সে মায়ের পুরোনো ছবিটা হাতে নিল। ছবিটা কিছুক্ষণ তাকিয়ে দেখল। "মা..." তার চোখে আবার পানি চলে এল। "আমি তোমাকে খুঁজে বের করব।" ঠিক তখন দরজায় হালকা শব্দ হলো। মাইশা ঘুরে তাকাল। রায়হান। "তুমি?" "হ্যাঁ।" "এখানে কী করছ?" "তোমার বাবা বললেন বের হওয়ার আগে তোমার সঙ্গে কথা বলতে।" মাইশা আবার ব্যাগ গোছাতে লাগল। "কী কথা?" রায়হান দরজার পাশে দাঁড়িয়ে বলল, "কাল আমরা যেখানে যাচ্ছি, সেখানে যা শুনবে তার সবটা হয়তো ভালো লাগবে না।" মাইশা থেমে গেল। "আমি জানি।" "তবুও যাবে?" "হ্যাঁ।" "কেন?" মাইশা কিছুক্ষণ চুপ করে রইল। তারপর বলল, "কারণ আমি আর অর্ধেক সত্যি নিয়ে বাঁচতে চাই না।" রায়হান ধীরে মাথা নেড়ে বলল, "ঠিক আছে।" মাইশা তার দিকে তাকাল। "তুমি ভয় পাচ্ছ?" রায়হান একটু হাসল। "তোমার জন্য?" "হুম।" "সবসময়।" মাইশা কিছু বলতে গিয়ে থেমে গেল। রায়হান কথাটা হালকা করে দেওয়ার জন্য বলল, "তবে একটা শর্ত আছে।" "কী?" "ওখানে গিয়ে তুমি একা কোথাও যাবে না।" মাইশা ভ্রু কুঁচকে বলল, "আমি কি এত বাচ্চা?" "হ্যাঁ।" "এই!" "আর তুমি জেদি।" "তুমি খুব জ্ঞানী?" "না। কিন্তু তোমাকে চিনি।" মাইশা মুখ ঘুরিয়ে হাসি লুকাল। "বেশি কথা বলো।" রায়হান দরজা থেকে বের হতে হতে বলল, "কাল আবার বলো না, আমি সাবধান করিনি।" মাইশা তার চলে যাওয়া দেখল। তারপর খুব আস্তে বলল, "রায়হান..." রায়হান ফিরে তাকাল। "হুম?" "থ্যাংক ইউ।" "কিসের?" "আমার সঙ্গে থাকার জন্য।" রায়হান কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে বলল, "তোমার সত্যিটা তোমার একার না।" তারপর সে চলে গেল। মাইশা কিছুক্ষণ দরজার দিকে তাকিয়ে রইল। পরদিন সকাল থেকেই বাড়িতে একটা অদ্ভুত ব্যস্ততা। মিলন আবার ঠিকানাটা দেখে নিলেন। মাইশা, রায়হান, মোমো আর সিফাত যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হলো। মিলন শেষবার মাইশাকে বললেন, "কোনো সমস্যা হলে সঙ্গে সঙ্গে আমাকে ফোন করবি।" "ঠিক আছে।" "আর রাশেদের কথায় তাড়াহুড়ো করে কোনো সিদ্ধান্ত নেবি না।" "ঠিক আছে।" "মাইশা।" "হুম?" মিলন মেয়ের কাঁধে হাত রাখলেন। "যা-ই শুনিস, একটা কথা মনে রাখিস—তোর মা তোকে ভালোবাসত।" মাইশার চোখ ভিজে উঠল। "আমি জানি, বাবা।" গাড়ি বেরিয়ে গেল। রাশেদের বাড়ি অনেকক্ষণ পথ চলার পর তারা একটা শান্ত এলাকায় পৌঁছাল। রাস্তার দুই পাশে পুরোনো গাছ। দূরে কয়েকটা ছোট বাড়ি। মাইশা জানালার বাইরে তাকিয়ে ছিল। তার বুকের ভেতর অদ্ভুত একটা চাপ। রায়হান সামনে বসে ঠিকানাটা মিলিয়ে দেখছিল। "এটাই জায়গা।" গাড়ি থামল। মাইশা নামল। সামনে পুরোনো একটা একতলা বাড়ি। দেয়ালে সময়ের দাগ। দরজার পাশে ছোট একটা নামফলক। রাশেদ। মাইশা নামটা দেখে স্থির হয়ে গেল। এতদিন ধরে যে নামটা শুধু চিঠি, ডায়েরি আর রেকর্ডিংয়ে শুনেছে— আজ সেই মানুষটা তার সামনে। রায়হান তার পাশে এসে দাঁড়াল। "চলো।" মাইশা ধীরে মাথা নেড়ে দরজার সামনে গেল। রায়হান কড়া নাড়ল। একবার। দুবার। কোনো উত্তর নেই। আবার কড়া নাড়ল। ভেতর থেকে ধীর পায়ের শব্দ শোনা গেল। মাইশার বুক ধকধক করতে লাগল। দরজার ছিটকিনি খুলল। দরজা একটু ফাঁক হলো। একজন বয়স্ক মানুষ দরজায় এসে দাঁড়ালেন। চোখে ক্লান্তি। মুখে বয়সের ছাপ। কিন্তু চোখ দুটো অদ্ভুতভাবে পরিচিত। লোকটা প্রথমে রায়হানের দিকে তাকাল। তারপর মাইশার দিকে। মাইশার মুখ দেখেই লোকটার চোখ বড় হয়ে গেল। কয়েক মুহূর্ত সে কোনো কথা বলতে পারল না। তারপর খুব আস্তে বলল, "তুমি... মাইশা?" মাইশার বুক কেঁপে উঠল। "আপনি রাশেদ?" লোকটা মাথা নেড়ে বলল, "হ্যাঁ।" মাইশার চোখে পানি চলে এল। "আপনি আমার মাকে চিনতেন?" রাশেদ দরজার হাতলটা শক্ত করে ধরল। "শুধু চিনতাম না।" সে একটু থামল। "তোমার মায়ের শেষ রাতের অনেকটা সময় আমি তার সঙ্গে ছিলাম।" মাইশা যেন নিঃশ্বাস নিতে ভুলে গেল। রায়হানও স্থির হয়ে গেল। মোমো আর সিফাত একে অপরের দিকে তাকাল। রাশেদ ধীরে দরজা খুলে বলল, "ভেতরে এসো।" রাশেদের ঘরের ভেতর ঘরটা খুব সাধারণ। একটা পুরোনো কাঠের টেবিল। কয়েকটা চেয়ার। দেয়ালে পুরোনো ক্যালেন্ডার। আর একটা আলমারি, যার দরজায় তালা। রাশেদ সবাইকে বসতে বললেন। মাইশা বসতে পারছিল না। সে দাঁড়িয়েই বলল, "আমার মা কোথায়?" রাশেদ চোখ নামিয়ে ফেলল। "এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার আগে তোমাকে কিছু জানতে হবে।" "আমি আর কিছু শুনতে চাই না।" মাইশার গলা কেঁপে উঠল। "আমি শুধু জানতে চাই—মা কোথায় গিয়েছিল?" রাশেদ ধীরে বলল, "তোমার মা তোমাকে ছেড়ে যেতে চায়নি।" মাইশার চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়ল। "তাহলে?" "ওকে যেতে হয়েছিল।" "কেন?" রাশেদ উত্তর দেওয়ার আগে অনেকক্ষণ চুপ করে রইল। তারপর বলল, "কারণ সে ভয় পেয়েছিল।" "কিসের?" "তোমাকে হারানোর।" ঘরের বাতাস যেন ভারী হয়ে গেল। মাইশা ধীরে বলল, "কেউ কি আমাকে মেরে ফেলতে চেয়েছিল?" রাশেদ সরাসরি উত্তর দিল না। "তখন তোমার মা মনে করেছিল, তুমি বিপদে পড়তে পারো।" রায়হান এবার বলল, "কামাল ইসলাম কি সেই রাতে সেখানে ছিল?" রাশেদ তাকাল। কয়েক সেকেন্ড কোনো উত্তর নেই। তারপর সে ধীরে বলল, "ছিল।" মাইশার চোখ বড় হয়ে গেল। "কামাল চাচা?" রাশেদ মাথা নেড়ে বলল, "হ্যাঁ।" মাইশা আর রায়হান একে অপরের দিকে তাকাল। কিন্তু রাশেদ সঙ্গে সঙ্গে বলল, "তোমরা যা ভাবছ, সেটা পুরো সত্যি নয়।" রায়হান বলল, "তাহলে সত্যিটা কী?" রাশেদ উঠে দাঁড়াল। আলমারির কাছে গিয়ে তালাটা খুলল। ভেতর থেকে একটা পুরোনো কালো ফাইল বের করল। ফাইলের ভেতর অনেক কাগজ। ছবি। চিঠি। আর একটা খাম। খামের ওপর লেখা— “মাইশার জন্য — ১৫ অক্টোবর” মাইশা খামটা দেখেই স্থির হয়ে গেল। তার ঠোঁট কাঁপতে লাগল। "এটা..." রাশেদ বলল, "তোমার মায়ের লেখা।" মাইশার চোখে পানি জমে উঠল। "আমার জন্য?" "হ্যাঁ।" রাশেদ খামটা তার হাতে দিল। "এটা তোমার কাছে পৌঁছানোর কথা ছিল অনেক আগেই।" মাইশা কাঁপা হাতে খামটা নিল। রায়হান তার পাশে এসে দাঁড়াল। মাইশা ধীরে খামটা খুলল। ভেতরে ভাঁজ করা কয়েক পৃষ্ঠার চিঠি। প্রথম লাইনটা পড়তেই তার চোখ ঝাপসা হয়ে গেল। “মাইশু, যদি তুই এই চিঠি পড়িস, তাহলে বুঝবি—আমি এখনও তোকে ভালোবাসি।” মাইশা আর নিজেকে ধরে রাখতে পারল না। চিঠিটা বুকের সঙ্গে চেপে ধরে কেঁদে ফেলল। রায়হান চুপচাপ তার পাশে দাঁড়িয়ে রইল। রাশেদ জানালার দিকে তাকিয়ে খুব ধীরে বলল, "তোমার মা তোমাকে ছেড়ে যায়নি, মাইশা।" মাইশা চোখ মুছে তাকাল। "তাহলে কোথায় গিয়েছিল?" রাশেদ কিছুক্ষণ চুপ করে থাকল। তারপর বলল, "সেটা এই চিঠির শেষ পাতায় লেখা আছে।" মাইশার হাত থেমে গেল। সে শেষ পাতার দিকে তাকাল। রাশেদ আবার বলল, "আর সেই পাতায় শুধু তোমার মায়ের কথা নেই।" "তাহলে?" রাশেদের চোখ এবার রায়হানের দিকে গেল। "তোমার বাবার কথা আছে।" তারপর ধীরে ধীরে রায়হানের দিকে তাকিয়ে বলল, "আর তোমার পরিবারেরও।" মাইশার বুকের ভেতর আবার অজানা ভয় জমে উঠল। রায়হান কিছু বলল না। শুধু চিঠিটার দিকে তাকিয়ে রইল। কারণ তারা দুজনেই বুঝতে পারছিল— এতদিনের রহস্যের শেষ দরজাটা এখন খুলতে শুরু করেছে। আর সেই দরজার ওপাশে শুধু মাইশার মায়ের হারিয়ে যাওয়ার গল্প নেই— রায়হানের পরিবার, মাইশার পরিবার আর ২০১৪ সালের সেই রাতের সবচেয়ে বড় সত্যিটাও সেখানে লুকিয়ে আছে।

---

[<< পূর্ববর্তী অধ্যায়](https://golpohub.com/episodes/nirobotar-arale-s1-ep30) | [সিরিজ সূচি](https://golpohub.com/series/nirobotar-arale) | [পরবর্তী অধ্যায় >>](https://golpohub.com/episodes/nirobotar-arale-s1-ep32)