রাশেদের ঘরের ভেতর তখনও অদ্ভুত একটা নীরবতা।
মাইশার হাতে তার মায়ের চিঠি।
চিঠির পাতাগুলো এত পুরোনো যে কিছু জায়গায় কাগজের রং বদলে গেছে। তবুও প্রতিটা শব্দ যেন আজও তাজা।
মাইশা শেষ পাতাটার দিকে তাকিয়ে ছিল।
তার চোখ বারবার একই জায়গায় আটকে যাচ্ছিল।
“তোর মা তোকে ছেড়ে যায়নি।”
এই কথাটা সে গত কয়েকদিনে অনেকবার শুনেছে।
সায়রা বলেছে।
রাশেদ বলেছে।
তার নানিও বলেছে।
কিন্তু একটা কথাই তার মাথায় ঘুরছিল—
যদি মা সত্যিই তাকে ছেড়ে না গিয়ে থাকেন, তাহলে এত বছর কোথায় ছিলেন?
মাইশা ধীরে মাথা তুলল।
"রাশেদ চাচা..."
রাশেদ তার দিকে তাকালেন।
"হুম?"
"আপনি আমার মাকে শেষবার কবে দেখেছিলেন?"
রাশেদ কিছুক্ষণ চুপ করে থাকলেন।
তারপর বললেন,
"সেই রাতের পর।"
মাইশার বুক কেঁপে উঠল।
"মানে ২০১৪ সালের পর?"
"হ্যাঁ।"
"তাহলে আপনি জানতেন মা বেঁচে ছিলেন?"
রাশেদ মাথা নিচু করলেন।
"জানতাম।"
মাইশার চোখে পানি এসে গেল।
"তাহলে আমাকে কেউ বলেনি কেন?"
রাশেদ ধীরে বললেন,
"কারণ তোর মা নিজেই চাইছিল না।"
"কেন?"
"তোর নিরাপত্তার জন্য।"
মাইশা কিছুক্ষণ কোনো কথা বলতে পারল না।
রায়হান তার পাশে দাঁড়িয়ে ছিল।
সে খুব শান্ত গলায় বলল,
"রাশেদ চাচা, তাহলে এত বছর ধরে মাইশা যা জানত—তার অনেকটাই ভুল ছিল?"
রাশেদ বললেন,
"পুরোটা ভুল না। কিন্তু পুরো সত্যিও না।"
মাইশা মায়ের চিঠিটা আবার হাতে নিল।
"চিঠির এই অংশটা..."
সে একটা জায়গা দেখাল।
"এখানে লেখা ছিল, 'আরও একজন জানত'। কিন্তু নামটা ছেঁড়া।"
রাশেদ মাথা নেড়ে বললেন,
"কারণ তোমার মা ইচ্ছা করেই নামটা লিখে রাখেনি।"
"কেন?"
"কারণ সে ভয় পেয়েছিল, চিঠিটা ভুল মানুষের হাতে গেলে সব শেষ হয়ে যাবে।"
মাইশা ধীরে বলল,
"আর কামাল চাচা?"
রাশেদ এবার দীর্ঘশ্বাস ফেললেন।
"কামাল ইসলামকে নিয়ে তোমাদের একটা ভুল ধারণা হয়েছে।"
রায়হান তাকাল।
"কী ধরনের?"
"সে সেদিন সেখানে ছিল। কিন্তু সে তোমার মাকে ক্ষতি করার জন্য যায়নি।"
মাইশা বলল,
"তাহলে সে কী করেছিল?"
রাশেদ কয়েক মুহূর্ত চুপ করে থেকে বললেন,
"সে একটা ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।"
"কী ভুল?"
"তোমার মাকে গাড়িতে উঠতে সাহায্য করেছিল।"
মাইশা স্থির হয়ে গেল।
"কোন গাড়ি?"
"যে গাড়িটাকে সে নিরাপদ গাড়ি ভেবেছিল।"
রায়হান ধীরে বলল,
"কিন্তু সেটা নিরাপদ ছিল না?"
রাশেদ মাথা নেড়ে বললেন,
"না।"
ঘরের বাতাস যেন আরও ভারী হয়ে গেল।
যে গাড়িটা সবকিছু বদলে দিয়েছিল
রাশেদ পুরোনো একটা ফাইল বের করলেন।
ফাইল খুলতেই কয়েকটা ছবি বেরিয়ে এল।
একটা ছবিতে নদীর ঘাট।
একটা ছবিতে একটা গাড়ির পেছনের অংশ।
আরেকটা ছবিতে কয়েকজন মানুষ দূরে দাঁড়িয়ে।
মাইশা ছবিটা হাতে নিয়ে তাকাল।
"এই গাড়িটা?"
রাশেদ বললেন,
"সেদিন রাতের।"
"আপনি ছবি তুলেছিলেন?"
"না। পরে পেয়েছিলাম।"
মাইশা ছবিটা আরও কাছে এনে দেখল।
গাড়ির নম্বর পুরোটা পরিষ্কার না।
কিন্তু একটা অংশ বোঝা যাচ্ছে।
রায়হান ছবিটা হাতে নিল।
"এটা তো..."
সে থেমে গেল।
মাইশা তাকাল।
"কী?"
রায়হান বলল,
"এই গাড়িটা আমি আগে দেখেছি।"
"কোথায়?"
রায়হান কপালে হাত রাখল।
"মনে পড়ছে না।"
মাইশা বিরক্ত হয়ে বলল,
"এখন আবার মনে পড়ছে না কেন!"
রায়হান বলল,
"একটু সময় দাও।"
রাশেদ চুপ করে তাদের দেখছিলেন।
তারপর বললেন,
"তোমরা গাড়িটাকে যতটা গুরুত্বপূর্ণ ভাবছ, আসলে তার থেকেও গুরুত্বপূর্ণ হলো—গাড়ির ভেতরে কে ছিল।"
মাইশা নিঃশ্বাস আটকে বলল,
"কে?"
রাশেদ উত্তর দিলেন না।
বরং ফাইলের ভেতর থেকে আরেকটা কাগজ বের করলেন।
"এই কাগজটা তোমার বাবার।"
মাইশার চোখ বড় হয়ে গেল।
"বাবার?"
কাগজে মিলনের হাতের লেখা।
মাত্র কয়েকটা লাইন।
"যদি তানিয়াকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া যায়, তাহলে মাইশাকে কিছু জানানো যাবে না।
কারণ যারা তাকে খুঁজছে, তারা এখনও থামেনি।
রাশেদকে বলেছি নজর রাখতে।
সায়রাকে বলেছি যোগাযোগ না করতে।
আর কামালকে বলেছি—গাড়িটা যেন ঠিক জায়গায় যায়।"
মাইশা পড়তে পড়তে থেমে গেল।
"গাড়িটা যেন ঠিক জায়গায় যায়..."
রায়হানও কাগজটার দিকে তাকিয়ে আছে।
"মানে মিলন আঙ্কেল জানতেন?"
রাশেদ মাথা নেড়ে বললেন,
"তোমার বাবা জানতেন তোর মাকে একটা নিরাপদ জায়গায় নিতে হবে। কিন্তু তিনি জানতেন না, শেষ পর্যন্ত গাড়িটা কোথায় নিয়ে যাওয়া হবে।"
মাইশা চোখ বন্ধ করল।
"তাহলে বাবা আমাকে মিথ্যা বলেননি?"
রাশেদ বললেন,
"না।"
"রায়হানের বাবা?"
"সেও না।"
রায়হান যেন নিজের বুকের একটা ভার নামতে অনুভব করল।
এতদিন ধরে নিজের বাবাকে নিয়ে যে সন্দেহটা তার মনে ছিল, সেটা ধীরে ধীরে মুছে যাচ্ছিল।
মাইশার সবচেয়ে বড় প্রশ্ন
মাইশা হঠাৎ উঠে দাঁড়াল।
"আমি একটা জিনিস জানতে চাই।"
সবাই তার দিকে তাকাল।
"আমার মা এখন কোথায়?"
এইবার রাশেদ আর চুপ করলেন না।
তিনি বললেন,
"তোমার মা বেঁচে আছে।"
মাইশার চোখে পানি জমে উঠল।
"আমি জানি।"
"না।"
রাশেদ ধীরে বললেন,
"তুই শুধু জানিস সে বেঁচে আছে। কিন্তু তুই জানিস না, সে তোকে কতটা কাছে থেকে দেখেছে।"
মাইশা থমকে গেল।
"মানে?"
"তোর মা কখনো তোকে পুরোপুরি ছেড়ে যায়নি।"
রাশেদ বললেন,
"তোর জন্মদিনে সে তোর খবর নিত। তোর স্কুল বদলেছে কি না জানত। তুই কেমন আছিস জানত। তুই কখন চুল কাটছিস, কখন বড় হচ্ছিস—এসবও জানত।"
মাইশার চোখ দিয়ে পানি পড়তে লাগল।
"তাহলে... সে আমাকে দেখেছে?"
রাশেদ ধীরে মাথা নেড়ে বললেন,
"হ্যাঁ।"
"কখন?"
"কয়েকবার।"
মাইশার গলা কাঁপছিল।
"তাহলে আমার সামনে আসেনি কেন?"
রাশেদ কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বললেন,
"কারণ সে ভয় পেয়েছিল।"
"কিসের?"
"তুই তাকে গ্রহণ করবি কি না।"
মাইশা অবাক হয়ে বলল,
"আমি?"
রাশেদ মৃদু হেসে বললেন,
"মা হওয়ার পরও মানুষ কখনো কখনো নিজের মেয়ের কাছে যেতে ভয় পায়। কারণ সে জানে না, এত বছর পর মেয়েটা তাকে কী নামে ডাকবে।"
মাইশা মুখ ঢেকে কাঁদতে লাগল।
রায়হান তার পাশে এসে দাঁড়াল।
সে কিছু বলল না।
শুধু পাশে থাকল।
ডিসেম্বরের শেষ দিনগুলো
এরপর কয়েকটা দিন যেন খুব ধীরে কাটল।
মাইশা এখন জানে—
তার মা বেঁচে আছেন।
তার মা তাকে ভালোবাসেন।
তার বাবা তাকে মিথ্যা বলেননি।
রাশেদ তাকে সাহায্য করেছে।
সায়রা তার মায়ের পাশে ছিল।
কামাল ভুল করেছিল, কিন্তু সে মূল অপরাধী নয়।
আর ২০১৪ সালের সেই রাতের সবচেয়ে বড় রহস্যও ধীরে ধীরে পরিষ্কার হয়ে গেছে।
কিন্তু একটা জিনিস এখনও বাকি।
মায়ের সঙ্গে দেখা।
২৯ ডিসেম্বর রাতে মাইশা বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছিল।
লামিয়া এসে পাশে দাঁড়াল।
"মাইশু?"
মাইশা তাকাল।
"হুম?"
লামিয়া কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলল,
"তুই খুশি?"
মাইশা মৃদু হাসল।
"জানি না।"
"কেন?"
"কারণ আমি মাকে খুঁজে পেয়েছি। কিন্তু এখনও সামনে থেকে দেখিনি।"
লামিয়া তার হাত ধরল।
"দেখবি।"
মাইশা মৃদু হেসে বলল,
"তুই এত নিশ্চিত কীভাবে?"
"কারণ তোর জন্য এত মানুষ এতদিন অপেক্ষা করছে।"
মাইশা লামিয়ার কাঁধে মাথা রাখল।
"তুই আমার সঙ্গে থাকবি তো?"
লামিয়া হেসে বলল,
"আমি কোথায় যাব?"
"জানি না।"
"বোকা মাইশু।"
মাইশা হেসে ফেলল।
দুজন কিছুক্ষণ চুপচাপ দাঁড়িয়ে রইল।
৩০ ডিসেম্বর
সকালে রায়হান মাইশাকে ফোন করল।
"কী করছ?"
"কিছু না।"
"কাল কী করবা?"
"জানি না।"
"কাল কিন্তু একটা জায়গায় যেতে হবে।"
মাইশা সঙ্গে সঙ্গে বলল,
"কোথায়?"
"বলব না।"
"রায়হান!"
"হুম?"
"আমি কিন্তু তোমাকে ছাড়ব না।"
রায়হান হাসল।
"তুমি এমনিতেই ছাড়ো না।"
"বেশি কথা বলো।"
"কাল সময়মতো তৈরি থেকো।"
"কেন?"
"কাল বুঝবে।"
ফোন কেটে গেল।
মাইশা ফোনের দিকে তাকিয়ে বলল,
"এই মানুষটা না..."
পাশ থেকে মোমো বলল,
"কী হলো?"
"রায়হান আবার রহস্য করছে।"
মোমো হাসল।
"তুইও তো কম রহস্য করিস না।"
মাইশা তাকিয়ে বলল,
"আমি?"
"হ্যাঁ।"
"কী রহস্য?"
মোমো শুধু মুচকি হেসে বলল,
"সময় হলে বুঝবি।"
৩১ ডিসেম্বর — বিকেল
সকাল থেকেই বাড়িতে অদ্ভুত ব্যস্ততা।
মাইশা বুঝতে পারছিল কিছু একটা হচ্ছে।
মোমো ফোন ধরছে না ঠিকমতো।
লামিয়া বারবার কোথাও যাচ্ছে।
সিফাত, আয়ান, আয়াত—সবাই যেন কিছু একটা নিয়ে ব্যস্ত।
এমনকি রায়হানও অস্বাভাবিকভাবে চুপচাপ।
মাইশা বিরক্ত হয়ে বলল,
"সবাই কী লুকাচ্ছ?"
লামিয়া হাসল।
"কিছু না, মাইশু।"
"তুইও জানিস?"
"আমি কিছু জানি না।"
"মিথ্যা!"
লামিয়া হেসে পালিয়ে গেল।
মাইশা সন্দেহের চোখে তাকিয়ে রইল।
কিছুক্ষণ পর তার বাবা এসে বললেন,
"মাইশু, তৈরি হয়ে নে।"
"কোথায় যাব?"
"একটা অনুষ্ঠান আছে।"
"কিসের?"
মিলন মুচকি হাসলেন।
"গেলে বুঝবি।"
মাইশা নিজের ঘরে গেল।
আলমারি খুলে অনেকক্ষণ তাকিয়ে রইল।
শেষ পর্যন্ত সে একটা সুন্দর গাঢ় মেরুন শাড়ি বের করল।
শাড়ির বর্ডারে রুপালি কাজ।
হালকা গয়না।
চুল সুন্দর করে সেট করল।
মেকআপ খুব বেশি নয়।
চোখ দুটো একটু বেশি করে সাজাল।
আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে দেখে কিছুক্ষণ চুপ করে রইল।
তারপর নিজের অজান্তেই বলল,
"মা যদি আমাকে দেখে..."
কথাটা শেষ করতে পারল না।
চোখে পানি চলে এল।
সেই জায়গা
গাড়ি এসে থামল একটা সুন্দর সাজানো জায়গার সামনে।
চারপাশে আলো।
ফুল।
সাদা, মেরুন আর গোলাপি রঙের সাজসজ্জা।
মাইশা গাড়ি থেকে নামতেই থেমে গেল।
"এত সুন্দর করে সাজিয়েছে কে?"
মিলন শুধু বললেন,
"ভেতরে যা।"
মাইশা ধীরে ভেতরে ঢুকল।
সেখানে সবাই আছে।
নানি।
মোমো।
লামিয়া।
সিফাত।
আয়ান।
আয়াত।
রায়হান।
আর রায়হানের মা-বাবাও।
মাইশার চোখ রায়হানের ওপর গিয়ে থামল।
আজ সে পরেছে কালো পাঞ্জাবি।
চুল সুন্দর করে সেট করা।
মাইশা কয়েক সেকেন্ড তাকিয়ে থেকে চোখ সরিয়ে নিল।
রায়হানও তাকে দেখছিল।
তার চোখে একটা শান্ত হাসি।
কিন্তু মাইশা তখন অন্য কাউকে খুঁজছিল।
"বাবা..."
মিলন তার কাঁধে হাত রাখলেন।
"চলো।"
"কোথায়?"
"একটু সামনে।"
মাইশা ধীরে এগিয়ে গেল।
সামনের দিকে একটা দরজা।
দরজার পাশে দাঁড়িয়ে আছেন একজন মহিলা।
গাঢ় রঙের শাড়ি।
চোখে পানি।
মুখে অদ্ভুত পরিচিত একটা কোমলতা।
মাইশার পা থেমে গেল।
তার বুকের ভেতর ধক করে উঠল।
সে মহিলাটার দিকে তাকিয়ে রইল।
মহিলাটাও তাকিয়ে আছেন তার দিকে।
কেউ কথা বলছে না।
মাইশার চোখ ধীরে ধীরে ভিজে গেল।
সে খুব আস্তে বলল,
"মা...?"
মহিলাটার ঠোঁট কেঁপে উঠল।
চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়ল।
তিনি দুই হাত বাড়িয়ে দিলেন।
"মাইশু..."
এই একটা ডাক—
এই একটা শব্দ—
মাইশার শৈশব থেকে হারিয়ে যাওয়া সবকিছুকে যেন এক মুহূর্তে ফিরিয়ে আনল।
মাইশা আর দাঁড়িয়ে থাকতে পারল না।
সে দৌড়ে গিয়ে মায়ের বুকে মুখ লুকিয়ে দিল।
"মা..."
তানিয়া মেয়েকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরলেন।
"আমার মাইশু..."
দুজনের কান্না মিশে গেল।
মাইশা কাঁদতে কাঁদতে বলল,
"তুমি আমাকে ছেড়ে যাওনি?"
তানিয়া তার মাথায় হাত রেখে বললেন,
"কখনো না।"
"তাহলে এতদিন কোথায় ছিলে?"
"তোর জন্য অপেক্ষা করেছি।"
"আমি তোমাকে অনেক খুঁজেছি..."
"জানি।"
"আমি তোমার ওপর রাগ করেছিলাম..."
তানিয়া কাঁদতে কাঁদতে হেসে বললেন,
"রাগ করিস। যত খুশি করিস। শুধু আর আমাকে ছেড়ে যাস না।"
মাইশা আরও শক্ত করে মাকে জড়িয়ে ধরল।
দূরে দাঁড়িয়ে মিলন চোখ মুছছিলেন।
নানি চুপচাপ তাকিয়ে ছিলেন।
মোমো আর লামিয়ার চোখেও পানি।
রায়হান কিছুটা দূরে দাঁড়িয়ে ছিল।
তার মুখে মৃদু হাসি।
কারণ সে জানত—
আজ মাইশা তার সবচেয়ে বড় হারানো মানুষটাকে ফিরে পেয়েছে।
আর এত বছরের নীরবতার পর—
অবশেষে একটা গল্পের সবচেয়ে সুন্দর উত্তর পাওয়া গেছে।
মাইশা মায়ের বুকে মুখ লুকিয়ে ছিল।
আর বাইরে তখন ৩১ ডিসেম্বরের রাত ধীরে ধীরে নামছিল।
পুরোনো বছর শেষ হতে চলেছে।
আর মাইশার জীবনের সবচেয়ে অন্ধকার অধ্যায়টাও।
কিন্তু রাতটা এখনও শেষ হয়নি।
কারণ সামনে অপেক্ষা করছিল—
একটা পরিবার।
একটা নতুন শুরু।
আর কিছু মানুষ—
যারা মাইশার জীবনে শুধু রহস্য নিয়ে আসেনি,
ভালোবাসাও নিয়ে এসেছে।
