সিজন 1 অধ্যায় 4 রোমান্টিক কমেডি #গোপন যত্ন #চকলেট মাইশারায়হান ব্যাপারী

ক্যামেরায় বন্দি দ্বিধা

•4 মিনিট পড়া•524 শব্দ
ক্যামেরায় বন্দি দ্বিধা

সেদিন বিকেলে আবারও রায়হানের সঙ্গে দেখা হয়েছিল মাইশার।

জায়গাটা ছিল আগের সেই ক্যাফেটা।

টেবিলের ওপর ছড়িয়ে ছিল কয়েকটা পুরোনো কাগজ, একটা নোটবুক আর মাইশার মায়ের সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু তথ্য।

সবকিছুই বেশ সিরিয়াস।

অন্তত হওয়ার কথা ছিল।

রায়হান একটা পুরোনো কাগজ মাইশার দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বলল,

"এখানে তোমার মায়ের নাম আছে। কিন্তু পরের পাতাটা নেই।"

মাইশা কাগজটা হাতে নিয়ে ভ্রু কুঁচকে তাকাল।

"মানে?"

"মানে, কেউ হয়তো পাতাটা সরিয়ে ফেলেছিল।"

"কে?"

"সেটাই তো খুঁজে বের করতে হবে।"

মাইশা কয়েক সেকেন্ড চুপ করে রইল।

তারপর হঠাৎ বলল,

"এক মিনিট।"

রায়হান তাকাল।

"কী?"

মাইশা ব্যাগ খুলে খুব স্বাভাবিকভাবে একটা চকলেট বের করল।

রায়হান অবাক।

"এটা কী?"

মাইশা চকলেটের wrapper খুলতে খুলতে বলল,

"চকলেট।"

"সেটা তো দেখতেই পাচ্ছি।"

"তাহলে আবার জিজ্ঞেস করছেন কেন?"

রায়হান হেসে ফেলল।

"এই অবস্থায় চকলেট খাচ্ছ?"

মাইশা এক টুকরো মুখে দিয়ে খুব সিরিয়াস গলায় বলল,

"আমি সিরিয়াস সময় চকলেট খাই।"

রায়হান কয়েক সেকেন্ড তাকিয়ে রইল।

"সিরিয়াস সময়?"

"হ্যাঁ।"

"কেন?"

মাইশা কাঁধ ঝাঁকাল।

"জানি না। চকলেট না খেলে আরও বিরক্ত লাগে।"

রায়হান মাথা নেড়ে বলল,

"কিরে ভাই!"

মাইশা সঙ্গে সঙ্গে তাকাল।

"আবার ভাই বলছেন কেন?"

"তুমি আমাকে ভাই ডাকছ, তাই।"

"আমি তো রায়হান ভাই বলেছি।"

"সেটাও তো ভাই।"

মাইশা মুচকি হেসে আবার চকলেট খেতে শুরু করল।

রায়হান কিছুক্ষণ তার দিকে তাকিয়ে রইল।

মেয়েটা কয়েক মিনিট আগেও মায়ের হারিয়ে যাওয়া রহস্য নিয়ে এত সিরিয়াস ছিল।

আর এখন চকলেট হাতে এমনভাবে বসে আছে যেন পৃথিবীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হচ্ছে চকলেটটা শেষ করা।

রায়হানের অজান্তেই মুখে হাসি চলে এল।

মাইশা সেটা খেয়াল করে ফেলল।

"হাসছেন কেন?"

"কই?"

"হাসলেন।"

"না।"

"হ্যাঁ।"

"তুমি ভুল দেখেছ।"

মাইশা চোখ ছোট করে তাকাল।

"আপনি অনেক মিথ্যা বলেন।"

"আমি?"

"হ্যাঁ।"

"প্রমাণ?"

মাইশা কিছু বলতে গিয়ে থেমে গেল।

তারপর বলল,

"প্রমাণ নাই। কিন্তু বুঝি।"

রায়হান মাথা নেড়ে আবার কাগজের দিকে তাকাল।

কিন্তু তার মুখের হাসিটা আর গেল না।

কিছুক্ষণ পর মাইশা একটা পুরোনো কাগজ পড়তে পড়তে এমন একটা expression দিল যে রায়হানের হাসি আবার চলে এল।

মাইশা তখন একদম সিরিয়াস।

ভ্রু কুঁচকে আছে।

এক হাতে চকলেট।

আর অন্য হাতে কাগজ।

রায়হান চুপচাপ নিজের ফোনটা বের করল।

ক্যামেরা খুলল।

ক্লিক।

একটা ছবি।

মাইশা কিছুই টের পেল না।

আরেকটা।

ক্লিক।

এবার মাইশা হঠাৎ মাথা তুলল।

"আপনি কি ছবি তুললেন?"

রায়হান খুব স্বাভাবিকভাবে ফোন নামিয়ে বলল,

"না তো।"

"আপনার ফোনের ক্যামেরা খোলা কেন?"

রায়হান এক সেকেন্ড থেমে বলল,

"সময় দেখছিলাম।"

মাইশা সন্দেহের চোখে তাকাল।

"ক্যামেরা দিয়ে?"

"হুম।"

"ক্যামেরা দিয়ে সময় দেখা যায়?"

রায়হান একটু থেমে বলল,

"আজকাল অনেক কিছুই যায়।"

মাইশা হেসে ফেলল।

"আপনি একটা পাগল।"

রায়হান মুখ ঘুরিয়ে হাসি লুকাল।

কিন্তু ফোনের gallery-তে তখন মাইশার দুটো ছবি।

একটায় সে ভ্রু কুঁচকে চকলেট খাচ্ছে।

আরেকটায় কাগজের দিকে তাকিয়ে এমন একটা মুখ করেছে, যেন পৃথিবীর সবচেয়ে কঠিন রহস্যের সমাধান সে এখনই করে ফেলবে।

রায়হান ছবিগুলোর দিকে তাকিয়ে মনে মনে বলল,

"এই মেয়েটা সত্যিই অদ্ভুত।"

তারপর খুব অল্প করে হাসল।

মাইশা সেটা আবারও দেখে ফেলল।

"আবার হাসছেন!"

রায়হান দ্রুত ফোনটা পকেটে রেখে বলল,

"তুমি বেশি কথা বলো।"

মাইশা চকলেটের শেষ টুকরোটা মুখে দিয়ে বলল,

"আর আপনি বেশি লুকান।"

কথাটা শুনে রায়হানের হাসি থেমে গেল।

এক মুহূর্তের জন্য দুজনের চোখে চোখ পড়ল।

মাইশা বুঝতে পারল না সে কথাটা কতটা সত্যি বলে ফেলেছে।

কারণ রায়হান সত্যিই অনেক কিছু লুকিয়ে রেখেছে।

আর মাইশা তখনও জানত না—

তার মায়ের রহস্যের পাশাপাশি,

রায়হানের নিজের কাছেও এমন কিছু সত্যি আছে, যেগুলো সে এখনো তাকে বলতে প্রস্তুত নয়।

অধ্যায় 4 সমাপ্ত

আপনি এই অধ্যায়টি পড়া শেষ করেছেন। পরবর্তী পর্বে যান অথবা আপনার প্রতিক্রিয়া জানান!

মন্তব্যসমূহ

0

আলোচনায় যোগ দিন

মতামত জানাতে এবং পাঠকদের সাথে আলোচনায় অংশ নিতে লগইন করুন।

এখনও কোনো মন্তব্য নেই।

প্রথম মন্তব্যটি করে আলোচনা শুরু করুন!

রকমারি কালেকশন

বইপ্রেমীদের জন্য রকমারি বেস্টসেলার

অধ্যায় পাঠ শেষে সংগ্রহ করুন আপনার পছন্দের ঘরানার সেরা বই ও বিশেষ ডিসকাউন্ট

ক্যামেরায় বন্দি দ্বিধা

অনুচ্ছেদ 1 / 1 • চলছে
বিজ্ঞাপন