উৎসবের আলোয় নীল শিহরণ

•11 মিনিট পড়া•1,610 শব্দ
উৎসবের আলোয় নীল শিহরণ

মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ফেস্টের দিনটা সকাল থেকেই অন্যরকম ছিল।

সাধারণত যে স্কুলের করিডোরগুলোতে ক্লাসের ঘণ্টা, শিক্ষকদের হাঁটাচলা আর ছাত্রছাত্রীদের ব্যস্ততায় দিন কাটে, আজ সেই জায়গাটাই যেন একটা ছোট্ট উৎসবের মাঠে পরিণত হয়েছে।

স্কুলের মাঠের চারপাশে রঙিন কাপড় দিয়ে সাজানো হয়েছে। মঞ্চের সামনে চেয়ার পাতা। এক পাশে খাবারের স্টল, অন্য পাশে বিভিন্ন ক্লাবের ছোট ছোট বুথ। কোথাও গান বাজছে, কোথাও নাচের rehearsal চলছে, আবার কোথাও কয়েকজন দাঁড়িয়ে ছবি তুলছে।

মাইশা অবশ্য সকাল থেকেই নিজের সাজ নিয়ে একটু চিন্তিত ছিল।

আলমারির সামনে দাঁড়িয়ে সে প্রায় দশ মিনিট ধরে একই জায়গায় দাঁড়িয়ে ছিল।

হাতে হালকা নীল রঙের শাড়ি।

পাতলা কাপড়, খুব বেশি কাজ নেই। পাড়টাও সাধারণ। কিন্তু রঙটা এত সুন্দর যে মাইশার নিজেরই ভালো লেগে গিয়েছিল।

সে শাড়িটা গায়ে জড়িয়ে আয়নার সামনে দাঁড়াল।

চুল খোলা।

কপালের ওপর কার্টেন ব্যাংস।

চোখে খুব হালকা কাজ।

ঠোঁটে স্বাভাবিক একটা শেড।

মাইশা আয়নার দিকে তাকিয়ে কয়েক সেকেন্ড চুপ করে রইল।

তারপর নিজের প্রতিবিম্বকে বলল,

“ঠিক আছে… খারাপ না।”

দুই সেকেন্ড পর আবার বলল,

“না, একটু বেশি ভালোই।”

তারপর নিজেই হেসে ফেলল।

ঠিক তখনই ফোন বেজে উঠল।

স্ক্রিনে নাম—

মোমো।

মাইশা কল ধরতেই ওপাশ থেকে মোমোর চিৎকার,

“মাইশু! তুই এখনো বাসায়?”

“হুম। কেন?”

“কেন মানে? সবাই চলে আসছে!”

“আমি তো আসতেছি।”

“কখন?”

“একটু পর।”

“একটু পর মানে?”

“মানে একটু পর!”

মোমো বিরক্ত হয়ে বলল,

“তুই যদি আর দশ মিনিট দেরি করিস, আমি তোরে নিতে বাসায় চলে আসব।”

মাইশা হেসে বলল,

“আচ্ছা বাবা, আসতেছি।”

মোমো হঠাৎ জিজ্ঞেস করল,

“শাড়ি পরছিস?”

মাইশা আয়নার দিকে তাকিয়ে বলল,

“হুম।”

ওপাশে কয়েক সেকেন্ড নীরবতা।

তারপর মোমো বলল,

“ও মা!”

“কী?”

“আজকে তোকে দেখতে মানুষজনের ভিড় হবে।”

“চুপ কর!”

“সত্যি বলছি।”

“তুই বেশি কথা বললে কিন্তু—”

“আচ্ছা আচ্ছা, বুঝছি। তাড়াতাড়ি আয়।”

কল কেটে গেল।

মাইশা ব্যাগটা হাতে নিল।

আয়নায় শেষবারের মতো নিজের দিকে তাকিয়ে খুব আস্তে বলল,

“চলো মাইশু। আজকে কোনো ঝামেলা করা যাবে না।”

তারপর একটু ভেবে যোগ করল,

“যদি ঝামেলা নিজে থেকে আসে, সেটা আমার দোষ না।”

স্কুলে পৌঁছাতেই মাইশার ফোনে আবার মোমোর কল এল।

“কই?”

“গেটের কাছে।”

“দাঁড়া, আসতেছি।”

কয়েক মিনিটের মধ্যেই মোমো দৌড়ে এসে মাইশার সামনে দাঁড়াল।

তারপর একদম থেমে গেল।

মাইশা ভ্রু কুঁচকে বলল,

“কী হলো?”

মোমো কিছুক্ষণ তার দিকে তাকিয়ে থেকে বলল,

“তুই…”

“আমি কী?”

“তুই আজকে সত্যিই সুন্দর লাগতেছে।”

মাইশা একটু লজ্জা পেয়ে মুখ ঘুরিয়ে বলল,

“জানি।”

মোমো হেসে ফেলল।

“ওই! এত attitude কোথা থেকে আসে?”

“নিজে থেকেই আসে।”

“আচ্ছা, আজকে তোকে নিয়ে আমি একশোটা ছবি তুলব।”

“একশোটা না।”

“দুইশোটা।”

“মোমো!”

“চল!”

দুজনেই হাসতে হাসতে ভেতরে ঢুকে গেল।

কিছুক্ষণ পর তাদের আরও কয়েকজন বন্ধু এসে যোগ দিল।

সবাই মিলে এক জায়গায় দাঁড়িয়ে গল্প শুরু করল।

কেউ বলছে কোন স্টলে খাবার ভালো।

কেউ বলছে কোন অনুষ্ঠান কখন শুরু হবে।

কেউ আবার ছবি তোলার জন্য জায়গা খুঁজছে।

মাইশা তখন মোমোর সঙ্গে দাঁড়িয়ে হাসতে হাসতে একটা ঘটনা বলছিল।

“তারপর স্যার এমনভাবে তাকাইছে—আমি তো ভাবছি আজকে শেষ!”

মোমো হেসে বলল,

“তুই যে কত ঝামেলার মানুষ, সেটা স্যারও জানে।”

“আমি ঝামেলা?”

“তুই না হলে কে?”

“চুপ!”

সবাই হেসে উঠল।

ঠিক তখনই স্কুলের গেট দিয়ে রায়হান ঢুকল।

আজ সে খুব সাধারণ পোশাকে এসেছে। কালো একটা শার্ট, গাঢ় রঙের প্যান্ট। চুলটা স্বাভাবিকভাবেই একটু এলোমেলো।

সে মূলত কয়েকজন পরিচিত মানুষের সঙ্গে দেখা করতেই এসেছিল।

গেট দিয়ে ঢুকে একজন পরিচিত ছেলের সঙ্গে কথা বলতে বলতে এগোচ্ছিল।

“কেমন আছিস?”

“ভালো। তুই?”

“ভালো।”

কথা চলছিল।

কিন্তু হঠাৎ রায়হানের চোখ অন্যদিকে চলে গেল।

মাঠের মাঝামাঝি দাঁড়িয়ে থাকা একটা মেয়ের দিকে।

হালকা নীল শাড়ি।

খোলা চুল।

বন্ধুদের সঙ্গে দাঁড়িয়ে হাসছে।

রায়হানের পা যেন এক মুহূর্তের জন্য থেমে গেল।

সে আর কিছু শুনছিল না।

সামনের মানুষটা কী বলছে, সেটাও যেন কানে ঢুকছিল না।

তার চোখ শুধু মাইশার দিকে।

কয়েক সেকেন্ড পর নিজের মনেই বলল,

“এই মাইয়া আমারে মারার প্ল্যান করতেছে নাকি?”

তারপর আবার মাইশার দিকে তাকাল।

“আল্লাহ… এই মাইয়া এমন কেন! 😭🙏”

পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ছেলেটা অবাক হয়ে বলল,

“কী হইছে?”

রায়হান সঙ্গে সঙ্গে চোখ সরিয়ে বলল,

“কিছু না।”

“তুই হঠাৎ চুপ হয়ে গেলি কেন?”

“কিছু দেখি নাই।”

“আমি তো কিছু জিজ্ঞেসও করি নাই!”

রায়হান বিরক্ত হয়ে বলল,

“তুই বেশি কথা বলিস।”

ছেলেটা হেসে বলল,

“আচ্ছা, বুঝছি। কিছু একটা হইছে।”

“কিছুই হয় নাই।”

রায়হান আবার মাইশার দিকে তাকাল।

মাইশা তখন হাসতে হাসতে চুলটা কানের পাশে সরিয়ে নিচ্ছিল।

রায়হানের ঠোঁটের কোণে অজান্তেই একটা মুচকি হাসি ফুটে উঠল।

সে নিজের অজান্তেই ফোনটা বের করল।

স্ক্রিন অন করল।

ক্যামেরা খুলল।

চারপাশে একবার তাকাল।

কেউ তার দিকে তাকাচ্ছে না।

মাইশা তখন মোমোর দিকে তাকিয়ে কিছু একটা বলছে।

রায়হান ফোনটা একটু নিচু করে ধরল।

ক্লিক।

ছবি হয়ে গেল।

সে ছবিটা দেখল।

তারপর আবার ক্যামেরা খুলল।

এবার মাইশা হেসে মাথা একটু নিচু করেছে।

ক্লিক।

আরেকটা ছবি।

রায়হান ছবিটা দেখে খুব আস্তে হাসল।

“বাহ…”

তারপর তৃতীয়বার ছবি তুলতে গিয়ে হঠাৎ মাইশা মাথা তুলল।

রায়হান দ্রুত ফোনটা নিচে নামিয়ে ফেলল।

মাইশার চোখ কয়েক সেকেন্ডের জন্য তার দিকে পড়ল।

কিন্তু সে কিছু বুঝল না।

মোমোকে কিছু একটা বলে আবার অন্যদিকে তাকিয়ে ফেলল।

রায়হান স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল।

“বাঁচলাম।”

কিছুক্ষণ পর মাইশা বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে গেল।

মোমো বলল,

“মাইশু, একটু এইদিকে দাঁড়া।”

“কেন?”

“ছবি তুলব।”

“আচ্ছা।”

মাইশা দাঁড়াতেই মোমো ছবি তুলতে শুরু করল।

একটা।

দুইটা।

তিনটা।

মাইশা বলল,

“হইছে?”

“না।”

“আর কত?”

“আর পাঁচটা।”

“তুই একটা পাগল।”

মোমো হাসতে হাসতে বলল,

“তুই হাস।”

মাইশা হেসে ফেলল।

দূর থেকে রায়হান পুরো ব্যাপারটা দেখছিল।

তার মনে হলো, মোমো যদি আরও দশ মিনিট ছবি তোলে, তাহলে সে নিজেই গিয়ে ফোনটা নিয়ে নেবে।

কিন্তু সে কিছু করল না।

শুধু দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখল।

তারপর আবার ফোন বের করল।

গ্যালারি খুলে একটু আগে তোলা ছবিগুলো দেখতে লাগল।

একটায় মাইশা হাসছে।

আরেকটায় মাইশা মোমোর সঙ্গে কথা বলছে।

তৃতীয়টায় মাইশা দূরের দিকে তাকিয়ে আছে।

রায়হান কিছুক্ষণ ছবিগুলোর দিকে তাকিয়ে রইল।

তারপর হঠাৎ গ্যালারির একটা আলাদা folder বানানোর কথা মাথায় এল।

সে কয়েকটা ছবি select করল।

Folder-এর নাম দিতে গিয়ে প্রথমে লিখল—

“Maisha”

কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে সেটা delete করল।

তারপর লিখল—

“ঝামেলা”

আবার delete।

শেষে একটু ভেবে লিখল—

“নীল শাড়ির বিপদ 🩵”

রায়হান নামটা দেখে নিজের অজান্তেই মুচকি মুচকি হাসতে লাগল।

পাশ থেকে একজন বলল,

“কী দেখিস?”

রায়হান সঙ্গে সঙ্গে ফোন লক করে ফেলল।

“কিছু না।”

“তুই আজকে অনেক ‘কিছু না’ বলতেছিস।”

“তোর সমস্যা কী?”

“আমার কোনো সমস্যা নাই। তোরই মনে হয় কিছু হইছে।”

রায়হান হেসে বলল,

“চুপ থাক।”

কিছুক্ষণ পর মাইশা একা একা খাবারের স্টলের দিকে যাচ্ছিল।

হঠাৎ সামনে রায়হানকে দেখে থেমে গেল।

“আপনি এখানে?”

রায়হান স্বাভাবিক গলায় বলল,

“হ্যাঁ। ফেস্ট দেখতে আসলাম।”

মাইশা চারপাশে তাকিয়ে বলল,

“আপনার এখানে কী কাজ?”

“কাজ থাকতে হবে?”

“না, কিন্তু আপনাকে দেখে মনে হচ্ছে আপনি স্কুলের ফেস্টে না, কোনো তদন্তে আসছেন।”

রায়হান হেসে বলল,

“তোমার চোখে আমি সবসময় সন্দেহজনক কেন?”

“কারণ আপনি সন্দেহজনক।”

“বাহ।”

“সত্যি।”

রায়হান কিছু বলল না।

মাইশা তার দিকে তাকিয়ে হঠাৎ বলল,

“আপনি আজকে এত হাসতেছেন কেন?”

“আমি?”

“হ্যাঁ, আপনি।”

“কোথায় হাসলাম?”

“এই যে।”

মাইশা তার মুখের দিকে তাকিয়ে বলল,

“আপনার ঠোঁটের কোণে হাসি।”

রায়হান খুব স্বাভাবিক থাকার চেষ্টা করে বলল,

“তুমি ভুল দেখছ।”

“না।”

“হ্যাঁ।”

“না।”

রায়হান মুচকি হেসে বলল,

“তুমি অনেক তর্ক করো।”

মাইশা সঙ্গে সঙ্গে বলল,

“আপনিই আমাকে শিখাইছেন।”

“আমি?”

“হুম।”

“আমি কখন?”

“আপনার সঙ্গে কথা বললেই তো তর্ক করতে হয়।”

রায়হান হাসল।

মাইশা আবার বলল,

“আর একটা কথা।”

“বলো।”

“আপনি কি আমার ছবি তুলছিলেন?”

রায়হানের মুখের হাসি এক মুহূর্তের জন্য থেমে গেল।

“কী?”

“আমি দেখছি।”

“কী দেখেছ?”

“আপনার হাতে ফোন ছিল।”

“ফোন থাকলেই ছবি তুলতে হবে?”

“আপনি খুব চালাক।”

রায়হান শান্তভাবে বলল,

“তুমি খুব সন্দেহপ্রবণ।”

“আমি এখন আপনার ফোন দেখতে চাই।”

“কেন?”

“দেখব।”

“না।”

“কেন?”

“ব্যক্তিগত জিনিস।”

মাইশা চোখ ছোট করে তাকাল।

“নিশ্চয়ই কিছু লুকাচ্ছেন।”

রায়হান মুচকি হেসে বলল,

“সবকিছু জানার দরকার নেই।”

মাইশা মুখ বাঁকিয়ে বলল,

“আপনি আবার শুরু করেছেন!”

“কী?”

“রহস্য রহস্য খেলা।”

রায়হান একটু ঝুঁকে বলল,

“তুমি তো রহস্য পছন্দ করো।”

মাইশা কিছু বলতে গিয়ে থেমে গেল।

তারপর বলল,

“আপনি একদম অসহ্য।”

“জানি।”

“কীভাবে জানেন?”

“তুমি প্রতিদিন মনে করিয়ে দাও।”

মাইশা আর কথা না বাড়িয়ে চলে গেল।

রায়হান তার চলে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে মৃদু হেসে মাথা নাড়ল।

সন্ধ্যার দিকে ফেস্টের অনুষ্ঠান আরও জমে উঠল।

মঞ্চে গান শুরু হলো।

বন্ধুরা সবাই মাইশাকে টেনে সামনে নিয়ে গেল।

“চল, নাচ দেখব!”

“না!”

“চল!”

“আমি নাচব না।”

“একটু দাঁড়া!”

মাইশা হাসতে হাসতে তাদের হাত ছাড়ানোর চেষ্টা করছিল।

দূর থেকে রায়হান সবকিছু দেখছিল।

তার মুখে সেই একই মুচকি হাসি।

কিন্তু হঠাৎ তার চোখ চলে গেল মাইশার শাড়ির পাড়ের দিকে।

হালকা বাতাসে শাড়ির আঁচলটা একটু উড়ছিল।

মাইশা সেটা ঠিক করতে গিয়ে আবার হেসে ফেলল।

রায়হান মনে মনে বলল,

“এই মেয়েটা কি জানে না, ওকে দেখলে মানুষ চুপ হয়ে যায়?”

তারপর নিজের কথাতেই নিজে হেসে ফেলল।

“আমি নিজেই তো চুপ হয়ে গেছি।”

ফেস্ট শেষ হওয়ার সময় মাইশা আর মোমো গেটের দিকে যাচ্ছিল।

মাইশা ক্লান্ত হয়ে বলল,

“আজকে অনেক হাঁটছি।”

মোমো বলল,

“তুই তো শুধু ঘুরছিস আর ছবি তুলছিস।”

“তাও ক্লান্ত।”

“তোর stamina কম।”

“চুপ কর।”

ঠিক তখন মাইশার ফোনে একটা notification এল।

সে ফোন বের করে দেখল—

রায়হান:

“বাসায় পৌঁছে জানিও।”

মাইশা কয়েক সেকেন্ড মেসেজটার দিকে তাকিয়ে রইল।

তারপর লিখল,

“কেন?”

রায়হানের উত্তর এল—

“এমনি।”

মাইশা সঙ্গে সঙ্গে লিখল,

“আপনার সবকিছুই ‘এমনি’ আর ‘কিছু না’ কেন?”

কিছুক্ষণ পর উত্তর—

“অভ্যাস।”

মাইশা ফোনের দিকে তাকিয়ে হালকা হেসে ফেলল।

মোমো সেটা দেখে বলল,

“কার মেসেজ?”

মাইশা ফোনটা সঙ্গে সঙ্গে নামিয়ে বলল,

“কেউ না।”

মোমো চোখ সরু করল।

“ওহ্।”

“কী?”

“কিছু না।”

মাইশা হেসে বলল,

“তুইও শুরু করলি?”

দুজনেই হাসতে হাসতে গেটের দিকে এগিয়ে গেল।

অন্যদিকে একটু দূরে দাঁড়িয়ে রায়হান শেষবারের মতো নিজের ফোনটা বের করল।

গ্যালারি খুলল।

নীল শাড়ির বিপদ 🩵

Folder-এর ভেতরে আজকের কয়েকটা ছবি।

রায়হান ছবিগুলোর দিকে তাকিয়ে কিছুক্ষণ চুপ করে রইল।

তারপর ফোনটা বন্ধ করে নিজের মনে বলল,

“তুই বুঝবি না, মাইশা…”

কথাটা শেষ করল না।

কারণ কিছু অনুভূতির নাম দেওয়ার সময় এখনও আসেনি।

আর ঠিক সেই সময় তার ফোনে একটা অচেনা নম্বর থেকে মেসেজ এল।

“তুমি যার দিকে এত তাকিয়ে আছ, তার মায়ের গল্পটা ভুলে যেও না।”

রায়হানের মুখের হাসি মুহূর্তেই মিলিয়ে গেল।

সে আবার মেসেজটা পড়ল।

তারপর দ্বিতীয় একটা মেসেজ এল—

“গুনহাজী ব্যাপারী বাড়ির দরজা খুললে, শুধু মাইশার নয়—তোমার পরিবারেরও পুরোনো সত্য বেরিয়ে আসবে।”

রায়হান কিছুক্ষণ স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে রইল।

তারপর ধীরে ধীরে ফোনটা মুঠোয় চেপে ধরল।

ফেস্টের আলো তখনও জ্বলছিল।

চারপাশে সবাই হাসছিল।

কিন্তু রায়হানের চোখে তখন আর কোনো হাসি ছিল না।

কারণ সে বুঝতে পারল—

মাইশাকে ঘিরে যে রহস্যটা শুরু হয়েছে, সেটা শুধু মাইশার পরিবারের নয়।

তার নিজের পরিবারও সেই গল্পের ভেতরে আছে।

অধ্যায় 9 সমাপ্ত

আপনি এই অধ্যায়টি পড়া শেষ করেছেন। পরবর্তী পর্বে যান অথবা আপনার প্রতিক্রিয়া জানান!

মন্তব্যসমূহ

0

আলোচনায় যোগ দিন

মতামত জানাতে এবং পাঠকদের সাথে আলোচনায় অংশ নিতে লগইন করুন।

এখনও কোনো মন্তব্য নেই।

প্রথম মন্তব্যটি করে আলোচনা শুরু করুন!

রকমারি কালেকশন

বইপ্রেমীদের জন্য রকমারি বেস্টসেলার

অধ্যায় পাঠ শেষে সংগ্রহ করুন আপনার পছন্দের ঘরানার সেরা বই ও বিশেষ ডিসকাউন্ট

উৎসবের আলোয় নীল শিহরণ

অনুচ্ছেদ 1 / 1 • চলছে
বিজ্ঞাপন