> **বিকল্প ফরম্যাটসমূহ:** [এইচটিএমএল](https://golpohub.com/episodes/oboseshe-tumi-amar-s1-ep16) | [জেসন](https://golpohub.com/episodes/oboseshe-tumi-amar-s1-ep16?format=json) | [আরএসএস ফিড](https://golpohub.com/episodes/oboseshe-tumi-amar-s1-ep16?format=rss) | [অ্যাটম ফিড](https://golpohub.com/episodes/oboseshe-tumi-amar-s1-ep16?format=atom)

# বিষের পেয়ালা ও প্রকাশ্য চড়

![বিষের পেয়ালা ও প্রকাশ্য চড়](https://cdn.golpohub.com/covers/episodes/chapter-chapter-2016-e2b331.webp)

---
*[তাসনিম রাইসা](https://golpohub.com/authors/tasnim-raisa)-এর [অবশেষে তুমি আমার](https://golpohub.com/series/oboseshe-tumi-amar) সিরিজ থেকে*\n*আনুমানিক পড়ার সময়: 6 মিনিট*
- **মোট শব্দ:** 907
- **প্রকাশিত:** Sep 10, 2026
---

– অধরা যোহরের নামায পড়ে রুমে বসে আছে এমন সময়, মিসেস রাহেলা অধরার জন্য এক গ্লাস দুধ এনে বলে মা তোমার সাথে অনেক অন্যায় অবিচার করেছি ক্ষমা করে দিয়ো। তুমি অন্তঃসত্ত্বা এ শরীর নিয়ে এতো কাজ করতে হবে না। তোমার জন্য দুধ নিয়ে আসছি খেয়ে নাও। অধরা হাতে দুধের গ্লাস নিতেই, ত্রিযামিনী মনে মনে ভাবতে লাগলো দুধটা খেলেই বাচ্চা নষ্ট হয়ে যাবে। দুধের মাঝে বেবী নষ্ট করার মেডিসিন দিয়েছে। – এদিকে অধরা দুধের গ্লাস মুখে দিতে গিয়েই মাথা ঘুরিয়ে পড়ে গেল। গ্লাসটা হাত থেকে ফ্লরে পড়ে গেল। – ত্রিযামিনী দৌড়ে এসে দেখলো অধরা সেন্সলেসস হয়ে গেছে। অধরার সেন্সলেস হতে দেখে বললো,’ মা এটার পেটে একটা লাথি দেয়। যাতে বেবি টা নষ্ট হয়ে যায়। – আরে আমার মাথায় তো এ বুদ্ধিটা আগে আসেনি। একটা কেন কয়েকটা ভালো করে দে। যেন ভেতরেই বাচ্চা মরে যায়। ত্রিযামিনী যখন অধরার পেটে লাথি দিতে যাবে তখনি কাজের মেয়েটা রুমে এসে যায়। অধরাকে ফ্লরে পড়ে থাকতে দেখে ত্রিযামিনীকে বলে ম্যাডাম, ‘ অধরা ম্যাডামের কি হয়েছে।” – জানি না গ্লাস পড়ার শব্দে এখানে আসলাম। কাজের মেয়ে অধরাকে বিছানায় শুইয়ে দিয়ে মুখে পানি দিতেই অধরার সেন্স ফিরে আসলো। – মিসেস রাহেলা পড়ে গিয়েছিল কেন জিজ্ঞেস করতেই বললো,’আন্টি মাথাটা খুব ঘুরাচ্ছে। – ও আচ্ছা এ সময়ে একটু -আধটু শরীর খারাপ লাগবেই। তুমি চিন্তা করো না। এই বলে রুম থেকে চলে গেল। – মা কি হলো খাওয়াতে পারলো কোথায়? – আরে তুই চিন্তা করিস না। কপাল ভালো খাওয়ার আগেই মাথা ঘুরিয়ে পড়ে গেছে। – অধরা বিছানায় শুয়ে আছে। আর মনে মনে বলছে হে আল্লাহ তুমি আমার সন্তানটাকে হেফাযত কইরো। – রাত্রে রাজ বাসায় আসতেই অধরা রাজকে ফ্রেশ হয়ে আসতে বলে। – রাজ ফ্রেশ হয়ে আসলে অধরা খাবার ড্রাইনিয়ে সাজিয়ে বলে খেয়ে নেন। – রাজ অধরাকে বললোও না খেয়েছে কি না? নিজে সব খাবার খেয়ে নিলো। খাওয়া শেষ হলে তৃপ্তির ঢেকুর তুলতে তুলতে রুমে চলে গেল। – অধরা আর রাতে খেলো না। পাশের রুমে যখন শুতে যাবে এমন সময় রাজ অধরাকে ডাক দিয়ে বললো,’ কোথায় যাচ্ছিস? আমি কি একা থাকবো? – অধরা রাজকে কিছু না বলে রাজের রুমে এসে বললো,’ প্রতিদিন এমন করেন আমার কষ্ট হয় না?’ – তাই বুঝি? কত কষ্ট হয়? – অধরা আর কিছু বললো না। আজ মনে স্থির করে নিলো রাজের কাছে নিজেই সবকিছু বিলিয়ে দিবে। তাই শাড়ির আঁচল টান দিতেই বললো,’ এই নেন আপনার শরীর দরকার না।’ – হাহা! আচ্ছা খেয়েছিস? – অধরা মাথা নাড়িয়ে বললো হ্যাঁ খেয়েছি! – রাজ ধমক দিয়ে বললো, ‘ মিথ্যা বলছিস কেন? খেয়ে নে। শক্তিহীন শরীর আমার ভালোলাগে না। রাজ অধারাকে নিজ হাতে খাইয়ে দিল! – অধরা খাচ্ছে আর কাঁদছে। – কি হলো কাঁদছিসস কেন? কান্না করিস না । – আমার টাকা দরকার। দু’লাখ। – ওহো জানতাম এজন্যই। তোরা মেয়েরা টাকার জন্য সব পারিস। চিন্তা করিস না সকালে পেয়ে যাবি। রাজ আপনাকে একটা কথা বলি? – হ্যাঁ বল। – অধরা সাথে সাথে রাজের পা দু’টি ঝাপটে ধরে বললো,’ আমাকে তোমার এ পায়ের নিচে একটু জায়গা দিবে? তুমি মারো কাটো যাই করো চাকরানীর মতো থাকতে দিয়ো। তবুও তোমার স্ত্রী হিসেবে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করতে দাও। – রাজ অধরাকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিয়ে বললো,’ তোর আরো টাকা চায় তাই না? – ভালোবাসার নাটক করতে হবে। ছোটবেলায় তোর নাটকের জন্য বাবা-মাকে হারিয়েছি। তোকে আমি ঘৃণা করি। তোকে তো বিয়ে করেছি মজা করার জন্য। – রাজ আমাকে ক্ষমা করে দাও। সেদিন বুঝতে পারিনি। তুমি আমাকে না ভালোবাসলেও আমি তোমাকে ভালোবেসে যাবো। একটু বুকে নিবে আমায়? খুব কষ্ট হচ্ছে। ছোট্ট বেলায় যেভাবে বুকে জড়িয়ে নিতে সেভাবে। আমি আর পারছি না নিজের বুকে ভালোবাসার কথাগুলো লুকিয়ে রাখতে ভেতরটা পুড়ে যাচ্ছে আমার। নাও না একটু বুকে। অধরা রাজকে জড়িয়ে ধরতে গেলে রাজ অধরার গালে কষে থাপ্পর বসিয়ে দেয়। থাপ্পর এতটাই জুরে লাগে যে, অধরার ঠোঁট কেটে রক্ত গড়গড় করে গড়িয়ে পড়ে। রক্তমাখা মুখ নিয়েই অধরা কাঁপা কাঁপা গলায় বলে রাজ আমি তোমাকে ভালোবাসি। সত্যি তোমাকে ছাড়া বাঁচবো না। আমি আর পারছি না এভাবে। – বাহ! মোবাইলে তিয়াসের সাথে প্রেমালাপ করতে সময় এ ভালোবাসা কোথায় ছিল। – রাজ তুমি যা ভাবছো সত্যি তা নয়। – চুপ কালনাগিনী তোর কোন কথা শুনতে চাচ্ছি না। তুই আজ ফ্লরে ঘুমাবি। এ বলে শুধু একটা বালিশ ফ্লরে ছুড়ে দেয়। অধরা বালিশে মাথা রেখে কাঁদতে কাঁদতে ঘুমিয়ে যায়। পরের দিন অধরা কাজ করছে। এমন সময় আননোন নাম্বার থেকে ফোন আসলো। অধরা ফোন রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে পরিচিত কন্ঠে বলে ওঠলো, ‘ কেমন আছো অধরা?’ -জি ভালো আপনি? – আপনি করেই বলবে? আচ্ছা অধরা আজ বিকালে মিট করতে পারবে?প্লিজ না করো না। ” – অধরা মনে মনে ভাবলো তিয়াসের সাথে একটু কথা বলা তারও দরকার। – বিকেল বেলা অধরা রেস্টুরেন্টে বসে আছে। অধরার সামনে তিয়াস বসে আছে।দু’জনেই চুপ-চাপ কেউ কোন কথা বলছে না। – অধরা নিরবতা ভেঙে বললো,’ কিছু বলবেন?’ – আমি তোমাকে ভালোবাসি। তুমি চাইলে তোমাকে রাজের থেকে মুক্তি দিতে চাই। – চাইলেই সেটা কী সম্ভব? আমি তো বিবাহিত! – অধরা তুমি বিবাহিত হও আর যাই হও তাতে আমার কোন সমস্যা নেই। আমি তোমাকে ভালোবাসি এটাই শেষ কথা। – তিয়াস আমি যে রাজকে ভালোবাসি। ওই যে আমার জীবন মরণ! আর তোমাকে ধন্যবাদ। আপনার সাথে জেদ করেই রাজ আমাকে বিয়েটা করেছিল। আমার মনে রাজকে সেই শৈশবেই স্থান দিয়েছি। সেখানে চাইলেও আর অন্য কাউকে জায়গা দিতে পারবো না। আপনাকে তো এর আগেও একবার বলেছি আমি আপনাকে ভালোবাসতে পারবো না। – আমি আসি আর প্লিজ আমাকে বিরক্ত করবেন না। আর হ্যাঁ আমার ফোন নাম্বার কোথায় পেলেন? আপনার সাথে তো কোনদিন ফোনে কথা হয়নি। – ভালোবাসলে সবি সম্ভব! – প্লিজ এসব বলবেন না। আমি আসি তাহলে। ” এই বলে অধরা যখন রেস্টুরেন্ট থেকে বের হতে যাবে তখনি তিয়াস অধরার হাতটা ধরে ফেলে। – অধরা তিয়াসকে হাত ছাড়ার কথা বলার আগেই ঠাস করে চড় বসিয়ে দেয় অধরার গালে রাজ! রাজকে দেখে অধরার অন্তর আত্মা কেঁপে ওঠে।

---

[<< পূর্ববর্তী অধ্যায়](https://golpohub.com/episodes/oboseshe-tumi-amar-s1-ep15) | [সিরিজ সূচি](https://golpohub.com/series/oboseshe-tumi-amar) | [পরবর্তী অধ্যায় >>](https://golpohub.com/episodes/oboseshe-tumi-amar-s1-ep17)