{
    "_links": {
        "html": "https://golpohub.com/episodes/projapotir-rong-s1-ep24",
        "json": "https://golpohub.com/episodes/projapotir-rong-s1-ep24?format=json",
        "markdown": "https://golpohub.com/episodes/projapotir-rong-s1-ep24?format=md",
        "rss": "https://golpohub.com/episodes/projapotir-rong-s1-ep24?format=rss",
        "atom": "https://golpohub.com/episodes/projapotir-rong-s1-ep24?format=atom"
    },
    "seo": {
        "canonical_url": "https://golpohub.com/episodes/projapotir-rong-s1-ep24",
        "title": "প্রজাপতির রং পর্ব ২৪ - ঠিকানাবিহীন আঙিনা ও ভুলের অবসান | Projapotir Rong Part 24",
        "description": "পড়ুন প্রজাপতির রং পর্ব ২৪। শ্বশুরবাড়িতে নোভার আবেগঘন মুহূর্ত এবং মুরাদ সাহেবের মুখে এনাজকে বাঁচানোর সত্য উন্মোচন।",
        "keywords": "প্রজাপতির রং পর্ব ২৪, প্রজাপতির রং ২৪, projapotir rong porbo 24, projapotir rong part 24, ঠিকানাবিহীন, নোভা, মুরাদ হোসেন, মুসকান",
        "image_url": "https://cdn.golpohub.com/covers/episodes/chapter-chapter-2810-d6158b.webp",
        "schema": {
            "@context": "https://schema.org",
            "@graph": [
                {
                    "@type": "Chapter",
                    "name": "ঠিকানাবিহীন আঙিনা ও ভুলের অবসান",
                    "position": 24,
                    "description": "‘ঠিকানাবিহীন’ বাড়ির বাগানে পা রাখতেই মুরাদ ও জুলেখা বেগমের অশ্রুসজল অভ্যর্থনায় বদলে যায় সমস্ত হিসাব। মুসকানের মুখের সত্য আর তায়াংয়ের রাতের সেই ভুলের স্বীকারোক্তির পর মুরাদ সাহেব যখন বলতে শুরু করেন ঝুম বৃষ্টির রাতের কাহিনি, তখন নোভার চোখের সামনে কী উন্মোচিত হবে?",
                    "url": "https://golpohub.com/episodes/projapotir-rong-s1-ep24",
                    "inLanguage": "bn",
                    "timeRequired": "PT13M",
                    "datePublished": "2026-09-17T19:05:06+00:00",
                    "dateModified": "2026-09-17T19:10:57+00:00",
                    "wordCount": 1960,
                    "image": "https://cdn.golpohub.com/covers/episodes/chapter-chapter-2810-d6158b.webp",
                    "accessibilityFeature": [
                        "readingOrder",
                        "structuralNavigation",
                        "displayTransformability",
                        "uncontracted"
                    ],
                    "accessibilityControl": [
                        "fullKeyboardControl",
                        "fullTouchControl"
                    ],
                    "accessibilityHazard": [
                        "none"
                    ],
                    "potentialAction": {
                        "@type": "ReadAction",
                        "target": "https://golpohub.com/episodes/projapotir-rong-s1-ep24"
                    },
                    "isPartOf": {
                        "@type": [
                            "BookSeries",
                            "CreativeWorkSeries"
                        ],
                        "name": "প্রজাপতির রং",
                        "url": "https://golpohub.com/series/projapotir-rong"
                    },
                    "author": {
                        "@type": "Person",
                        "name": "নোভা ইসলাম",
                        "url": "https://golpohub.com/authors/nova-islam"
                    }
                },
                {
                    "@type": "BreadcrumbList",
                    "itemListElement": [
                        {
                            "@type": "ListItem",
                            "position": 1,
                            "name": "Golpo Hub",
                            "item": "https://golpohub.com"
                        },
                        {
                            "@type": "ListItem",
                            "position": 2,
                            "name": "সিরিজসমূহ",
                            "item": "https://golpohub.com/series"
                        },
                        {
                            "@type": "ListItem",
                            "position": 3,
                            "name": "প্রজাপতির রং",
                            "item": "https://golpohub.com/series/projapotir-rong"
                        },
                        {
                            "@type": "ListItem",
                            "position": 4,
                            "name": "ঠিকানাবিহীন আঙিনা ও ভুলের অবসান",
                            "item": "https://golpohub.com/episodes/projapotir-rong-s1-ep24"
                        }
                    ]
                }
            ]
        }
    },
    "filters": [],
    "data": {
        "id": 2810,
        "ep_number": 24,
        "title": "ঠিকানাবিহীন আঙিনা ও ভুলের অবসান",
        "slug": "projapotir-rong-s1-ep24",
        "url": "https://golpohub.com/episodes/projapotir-rong-s1-ep24",
        "reading_time": 13,
        "thumbnail_url": "https://cdn.golpohub.com/covers/episodes/chapter-chapter-2810-d6158b.webp",
        "yt_video_id": null,
        "yt_video_url": null,
        "timestamps": {
            "published_at": "2026-09-17T19:05:06+00:00",
            "updated_at": "2026-09-17T19:10:57+00:00"
        },
        "meta": {
            "word_count": 1960,
            "seo_title": "প্রজাপতির রং পর্ব ২৪ - ঠিকানাবিহীন আঙিনা ও ভুলের অবসান | Projapotir Rong Part 24",
            "seo_description": "পড়ুন প্রজাপতির রং পর্ব ২৪। শ্বশুরবাড়িতে নোভার আবেগঘন মুহূর্ত এবং মুরাদ সাহেবের মুখে এনাজকে বাঁচানোর সত্য উন্মোচন।",
            "keywords": "প্রজাপতির রং পর্ব ২৪, প্রজাপতির রং ২৪, projapotir rong porbo 24, projapotir rong part 24, ঠিকানাবিহীন, নোভা, মুরাদ হোসেন, মুসকান",
            "characters_involved": [
                "নোভা",
                "তায়াং",
                "মুরাদ হোসেন",
                "জুলেখা বেগম",
                "মুসকান"
            ]
        },
        "content": "আমরা এখন তাজের বাসার সামনে বাইক থামিয়ে দাঁড়িয়ে আছি।ভেতরে ঢোকার আগে গেইটের পাশের নেমপ্লেটের মধ্যে ঠিকানাবিহীন নামটা দেখে বেশ অবাক হলাম।এরকম নাম আমি কখনো দেখিনি। দারোয়ান গেইট খুলে দিতেই তায়াং ভাইয়া বাইক নিয়ে সোজা বাসার ভেতরে ঢুকলো।নিরিবিলি প্রাকৃতিক পরিবেশের মাঝে দোতলা একটা ডুপ্লেক্স বাড়ি।সামনে ছোট একটা বাগান।পরিবেশটাও মনোমুগ্ধকর। ছোট বাগানের মাঝে ছোট একটা টেবিল পাতা।তার সাথে চারটা চেয়ার।সেখানে বসে আছেন মধ্যবয়স্ক এক লোক।আমি ধারণা করে নিলাম উনিই মুরাদ আঙ্কেল হবেন।তিনি গভীর মনোযোগ দিয়ে পত্রিকা পড়ছেন।এখন যদি সবকিছু ধ্বংস হয়ে যায় তাও বোধহয় উনি পত্রিকার থেকে চোখ সরাবেন না।বাইকের শব্দই তার ধ্যান ভাঙেনি অন্য কিছুতে ভাঙ্গবে বলে মনে হয় না। সামনে থাকা চায়ের কাপ থেকে খুব ধীরে ধোঁয়া উঠছে।সকাল ১১ টা বাজে চা খাওয়ার কোন লজিক আমি খুঁজে পেলাম না।সম্ভবত উনি প্রচুর চা-খোর টাইপের মানুষ হবে।তায়াং ভাইয়ার সাথে আমিও বাইক থেকে নেমে গুটি গুটি পায়ে সামনে এগিয়ে গেলাম।তায়াং ভাইয়া বেশ জোরেই তাকে সালাম দিলো।\n\nতায়াংঃ আসসালামু আলাইকুম।\n\nমুরাদঃ অলাইকুমুস সালাম।\n\nউনি পত্রিকার থেকে চোখ না তুলেই সালামের উত্তর দিলেন।এক ধ্যানে খবর পড়ার মাঝখানে তায়াং ভাইয়ার দিকে না তাকিয়েই জিজ্ঞেস করলো।\n\nমুরাদঃ কি চাই?\n\nতায়াংঃ জ্বি, আমাদের একটু দরকার ছিলো।\n\nমুরাদঃ দরকার ছাড়া তো কেউ আসে না। কোন চাকরী-টাকরী লাগবে নাকি? যদি সেরকম কিছু হয় তাহলে আমার বড় ছেলের সাথে যোগাযোগ করুন।\n\nউনার কথা শুনে তায়াং ভাইয়া আমার দিকে কটমট করে তাকালো।যার মানে হলো, উনি আমাদের কে ভাবছেন চাকরির খোঁজে আসা অসহায় মানুষ। আমি তায়াং ভাইয়াকে চোখ দিয়ে আস্বস্ত করলাম।আমি দেখছি বিষয়টা।\n\nআমিঃ আসলে আঙ্কেল আমরা কোন চাকরীর জন্য আসিনি।আমাদের কিছু জানার ছিলো।\n\nমুরাদঃ কেন, তোমরা কি আইনের লোক নাকি?\n\nএতক্ষণ পর উনি আমাদের দিকে তাকালো।অবশ্য আমার কণ্ঠ পেয়ে যে তাকিয়েছে সেটাই বুঝলাম।আমার দিকে এক পলক তাকিয়ে আবার পত্রিকায় ডুব দিতে নিয়েছিলো।কিন্তু কিছু একটা কপাল কুঁচকে ভেবে আবারো আমার দিকে তাকালো। তবে সেটা ছিলো বিস্মিত চাহনী।উনি আমাকে দেখে ভীষণ অবাক হয়েছে তা তার মুখে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে। আমি একবার তায়াং ভাইয়ার দিকে তাকিয়ে বিষয়টা বোঝার চেষ্টা করলাম।উনি হাতের পত্রিকা রেখে আমাদের নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পরলো।\n\nমুরাদঃ তোমরা? আরে দাঁড়িয়ে আছো কেন?বসো, বসো।আমি তোমাদের খেয়ালই করিনি।কই গো জুলেখা জলদী এসো।দেখে যাও কে এসেছে? তুমি এতদিন ধরে যাকে দেখার জন্য মরিয়া হয়ে গিয়েছিল সে আজ নিজে আমাদের বাসায় এসেছে। জুলেখা জলদী এসো।\n\nআমি ও তায়াং ভাইয়া একে অপরের দিকে অবাক চোখে তাকাচ্ছি।তায়াং ভাইয়া আমার কানের সামনে এসে নিচুস্বরে বললো।\n\nতায়াংঃ কি হচ্ছে বল তো?উনি আমাদের দেখে এত খুশি হচ্ছে কেন?এনাজকে যদি উনি সত্যি কোন স্বার্থের জন্য ব্যবহার করতো তাহলে তো আমাদের দেখে ভয় পাবার কথা। কিংবা আমাদের না চেনার ভান করার কথা।\n\nআমিঃ আমিও তো বুঝতে পারছি না।\n\nউনি এত খুশি কেন হচ্ছে? তাহলে কি এই বাড়ির সবাই জানে আমি তাজের বউ।তায়াং ভাইয়া আর আমি চেয়ারে বসে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পরে গেলাম।\n\nমুরাদঃ কি খাবে তোমরা বলো? সকালের নাস্তা করেছো? না করলে এখানে করবে।দুপুরে না খেয়ে কোথাও যেতে পারবে না।\n\nমুরাদ আঙ্কেল আবারো জুলেখা নাম ধরে ডাকলো।আমাদের কে দেখে তার চোখ খুশিতে চকচক করছে।বহুদিন প্রতিক্ষার পর আমরা যখন কাঙ্ক্ষিত বস্তুটা পাই তখন আমাদের যেই খুশিটা লাগে আমিও মুরাদ আঙ্কেলের মুখে সেম হাসিটা দেখছি।যার মধ্যে নেই কোন ভেজাল কিংবা স্বার্থ।বরং নিখাঁদযুক্ত এক প্রশান্তির হাসি।\n\n—- এত ডাকাডাকি কিসের তোমার? একটু আগেই তো চা করে দিয়ে গেলাম।এখন আবার কি লাগবে?সবেমাত্র রান্নাঘরে ঢুকেছিলাম এর মধ্যে গলা ফাটিয়ে চিৎকার করা শুরু করলে।বলি,সারাদিন কি তোমার সাথে গল্পগুজব করে কাটালে চলবে?দুপুরের রান্নাটাও তো বসাতে হবে নাকি।\n\nআঁচলে হাত মুছতে মুছতে ভেতর থেকে এক মহিলা বের হলো।উনি জুলেখা হবেন।আরিয়ানের মা আরকি।সুশ্রী মুখমণ্ডলে বিন্দু বিন্দু ঘামগুলো জানান দিচ্ছে উনি এতখন কিচেনে ছিলেন।গায়ে ছাই কালার পাড়ের হালকা ঘিয়া কালার শাড়ি।উনি যে যৌবনে অনেক রূপসী ছিলেন তা যে কেউ এক পলক দেখেই বলে দিতে পারবেন।আন্টি মুরাদ আঙ্কেলকে কথা শুনাতে এতই ব্যস্ত ছিলেন যে আমাদের দিকে খেয়াল করেননি।\n\nমুরাদঃ আরে থামো থামো।এখুনি কি সব বলে ফেলবে?কালকের জন্য কিছু জমিয়ে রাখো।সামনে তাকিয়ে দেখো কে এসেছে?\n\nজুলেখাঃ কে আবার আসবে এখন………..\n\nপুরো কথা শেষ করার আগেই উনি আমাকে দেখলেন।ওমনি তার মুখ অটোমেটিক হা হয়ে গেলো।ছুটে আমার কাছে এসে তার দুই হাত আমার গালে আলতো করে রেখে মুরাদ আঙ্কেলকে উদ্দেশ্য করে বললেন।\n\nজুলেখাঃ হ্যাঁ গো আরিয়ানের বাবা।আমি কি ঠিক দেখছি।যার খোঁজে আমরা পাগল হয়ে গেলাম।সে আজ নিজে আমাদের বাড়ি।আমি স্বপ্ন দেখছি না তো।\n\nমুরাদঃ না গো স্বপ্ন নয় সত্যি। আমি নিজের হাতে চিমটি কেটে দেখেছি।\n\nসবকিছু আমার আর তায়াং ভাইয়ার মাথার উপর দিয়ে যাচ্ছে। মুখে হাসি রেখে তাকে জিজ্ঞেস করলাম।\n\nআমিঃ আসসালামু আলাইকুম আন্টি।কেমন আছেন?\n\nজুলেখাঃ আমি ভালো আছি রে মা।তুই কেমন আছিস? তোকে যে কত খুঁজেছি।আমার এখন নিজের চোখকেই বিশ্বাস হচ্ছে না তুই আমাদের বাড়িতে এসেছিস।(তায়াং ভাইয়ার দিকে তাকিয়ে)\nতায়াং বাবা কেমন আছো?\n\nতায়াং ভাইয়া নিজের নাম তার মুখ থেকে শুনতে পেয়ে বিস্ফোরিত চোখে তার দিকে তাকালো। তায়াং ভাইয়ার রিয়েকশন দেখে আমার পেট ফেটে হাসি আসছে।তায়াং ভাইয়া কোনরকম শব্দ করে বললো।\n\nতায়াংঃ জ্বি আন্টি ভালো আছি।আপনি কেমন আছেন?\n\nজুলেখাঃ এতক্ষণ ভালো না থাকলেও এখন ভালো আছি।আমার বড় ছেলের বউকে নিজের চোখের সামনে দেখে কি খারাপ থাকতে পারি?\n\nএতক্ষণে আমাদের কাছে সব ক্লিয়ার হলো।তার মানে তারা জানে আমি তাজের বউ। কিন্তু তায়াং ভাইয়াকে কি করে চিনলো?\n\nতায়াংঃ আমাদের চিনলেন কি করে আন্টি?\n\nজুলেখাঃ শোনো ছেলের কথা।আমাদের তাজের জানের প্রাণের বন্ধু তুমি। তোমাকে চিনবো না তো কাকে চিনবো বলো।তাজ তো প্রায় তোমার কথা বলে।তাছাড়া তোমার আর তাজের আগের ছবি দেখেছি। সেখান থেকে চিনি।আর এই লক্ষ্মী মেয়েটা হলো আমার তাজের অর্ধাঙ্গিনী।আমাদের বড় বউ।\n\nমুরাদঃ কথা না বলে ওদের জন্য খাবার ব্যবস্থা করো।\n\nজুলেখাঃ হ্যাঁ, আমি যাচ্ছি। মুসকানকেও পাঠিয়ে দেই।ওর কত ইচ্ছে তাজের বউকে নিজের চোখে দেখবে।(আমার দিকে তাকিয়ে) তুই এখানে থাক।আমি আসছি।\n\nআমিঃ না না আন্টি কোন ঝামেলার দরকার নেই। আমাদের সাথে এখানে বসুন।\n\nজুলেখাঃ এই প্রথম শ্বশুর বাড়িতে এসেছিস।আর আমি খালি মুখে যেতে দিবো কি করে ভাবলি?চুপ করে বসে থাক।আমি তোর শ্বাশুড়ি তুই নস।তোকে তুই বলছি দেখে আবার রাগ করিসনি তো।\n\nআমিঃ রাগ করবো কেন?শ্বাশুড়ি মা তো তুই করে বলতেই পারে।\n\nউনি আমাকে আলতো করে জড়িয়ে ধরে গাল দুটো টেনে দিলো।তারপর কিছু সময় শাসিয়ে ভেতরে চলে গেলো।আমি ও তায়াং ভাইয়া দুজনের কেউই এখনো বিস্ময়কর অবস্থা থেকে বের হতে পারিনি। আমরা দুজনে কি ভেবেছিলাম আর হচ্ছেটা কি?\n\n🦋🦋🦋\n\n—– বড় ভাবী-ই-ই-ই-ই-ই-ই-ই-ই-ই-ই-ই!!! অবশেষে তুমি আসছো।আমার তো খুশিতে নাচতে ইচ্ছে করছে।\n\nচিৎকার করে ভাবী বলে ডাকতে ডাকতে একটা মেয়ে এসে হুট করে আমাকে জড়িয়ে ধরলো। ঘটনার আকস্মিকতায় আমি কিছুটা ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম।মেয়েটা আমাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে আছে।মুরাদ আঙ্কেল ওকে ঝাড়ি মেরে উঠলেন।\n\nমুরাদঃ মুসকান করছিস কি? আরে ছাড় মেয়েটাকে।এভাবে কেউ ধরে।মেয়েটা নিশ্বাস নিতে পারছে না।\n\n— কতদিন পর ভাবীকে পেলাম।তাই খুশিতে সবকিছু ভুলে গিয়েছিলাম।\n\nমেয়েটা আমাকে ছেড়ে অপর চেয়ারে গিয়ে বসলো।আমার দিকে হাত বাড়িয়ে বললো।\n\n—- আমি মুসকান। তাজরান ও আরিয়ান ভাইয়ার একমাত্র বোন।\n\nআমি মুসকানের দিকে তাকিয়ে চোখ দুটো বড় বড় করে ফেললাম।এই মুসকানই তো ছিল সেদিন।যে তাজকে জড়িয়ে ধরে রেখেছিলো।তাজকে ও বড় ভাই ভাবে।আর আমি কত হাবিজাবি ভেবে বসলাম।নিজের ওপর এখন রাগ হচ্ছে।\n\nমুসকানঃ কি হলো ভাবী? কোথায় হারিয়ে গেলে?\n\nআমিঃ তুমি সেদিন অফিসে গিয়েছিল? তাজকে জড়িয়ে ধরেছিলে।\n\nমুসকানঃ হ্যাঁ আমি ছিলাম।আমাদের ভার্সিটি থেকে জাফলং ট্যুরে যাবে সামনের সপ্তাহে। কিন্তু বাবা যেতে দিবে না। তাই ভাইয়ার অফিসে গিয়েছিলাম।যাতে ভাইয়া বাবাকে কনভিন্স করে।ভাইয়া কনভিন্স করতে পেরেছিলো।বাবা যাওয়ার অনুমতি দিয়ে দিয়েছিলো।তাই খুশিতে ভাইয়াকে জড়িয়ে ধরেছিলাম। কিন্তু তুমি এসব জানলে কি করে? তুমি আবার আমাদের একসাথে দেখে ভাইয়াকে খারাপ ভেবে বসোনি তো?\n\nআমিঃ এই রে কি করেছি আমি😖।মেয়েটার সম্পর্কে খোঁজ না নিয়েই আমি এনাজকে খারাপ ধরে বসে আছি।এটা কি ঠিক হলো? আমি ভাবলাম কি করে এনাজ এমন কাজ করতে পারে? ভাই-বোন সম্পর্ক হিসেবে তো মুসকান এনাজকে জড়িয়ে ধরতেই পারে।কিন্তু আমি না জেনে কতকিছু ভেবে বসলাম।এসব জানলে তাজ কি আমায় ক্ষমা করবে?(মনে মনে)\n\nমুসকানঃ ও ভাবী কোথায় হারিয়ে যাও?\n\nআমিঃ তুমি আমায় চিনলে কি করে?\n\nমুসকানঃ কি যে বলো না ভাবী?তোমার ছবি দেখতে দেখতে পুরো মুখস্থ হয়ে গেছে। তাছাড়া ভাইয়ার রুমে তোমার বিশাল বড় একটা ফ্রেম বাঁধানো ছবি টাঙানো আছে। সেটা দেখে যে কেউ তোমাকে চিনতে পারে।\n\nআমিঃ ওহ্ এই কারণে আরিয়ান আমাকে ভাবী সাহেবা বলে সম্বোধন করেছিলো। (মনে মনে)\n\nমুসকানঃ আমার যদি ভুল না হয় তাহলে আপনি তানভীর রহমান।নিক নেম তায়াং।এম আই রাইট।\n\nতায়াংঃ জ্বি।\n\nমুসকানঃ আপনার কথা বড় ভাইয়ার কাছে অনেক শুনেছি। আর ছবিতে আপনাকে দেখেছিও।আপনি ছবিতে দেখতে যতটা হ্যান্ডসাম, বাস্তবে তার থেকে অনেক বেশি।\n\nআমিঃ আমাদের ছবি কোথায় পেলো তোমার ভাইয়া?\n\nমুসকানঃ তোমাদের পুরনো ফ্ল্যাট বাসা থেকে। ভাইয়ার নিজস্ব যে ফ্ল্যাট-টা ছিলো সেখান থেকে নিয়ে এসেছে।\n\nআমিঃ আমার জানা মতে সেটা তো আমার দেবর বিক্রি করে দিয়েছে।\n\nমুসকানঃ বিক্রি করার আগে গিয়ে নিয়ে এসেছে ভাইয়া।তোমরা থাকো আমি একটু আসছি।আম্মু ডাকছে আমায়।\n\nআমি আরো কিছু জিজ্ঞেস করতাম।কিন্তু তার আগেই মুসকান উঠে চলে গেল। তায়াং ভাইয়া ও মুরাদ আঙ্কেল নিজেদের মধ্যে টুকটাক কথা বলছিলো।\n\nমুরাদঃ বড় বউমা কোথায় ছিলে এতদিন? তোমাকে খুজতে খুজতে আমরা হয়রান হয়ে গিয়েছিলাম।তাজ ঠিকই বলেছিলো।যতদিন তুমি নিজ থেকে ধরা না দিবে ততদিন তোমাকে খুঁজে পাবো না।তাজ আরো বলেছিল, দেখেন বাবা আমার বউ নিজে একদিন এই বাসায় আসবে।আমার সব খোঁজ নিতে।তাই হলো।তুমি নাকি আমাদের কোম্পানিতে চাকরী নিয়েছো?তাজ বলেছিলো।তখন তোমার সাথে দেখা করতে চেয়েছিলাম।কিন্তু তাজ বলেছে কিছু দিন অপেক্ষা করুন।আপনাদের বউমা আপনাদের সাথে দেখা করতে আসবে।অনেক খুশি হয়েছি তোমাকে দেখে।\n\nআমিঃ আঙ্কেল আপনারা এনাজকে পেলেন কি করে?ওকে তো আগুনে জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছিল।\n\nমুরাদঃ আমি জানতাম তুমি এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে ঠিক আসবে।আচ্ছা বলছি।তবে তুমি হয়তো ভাবতে পারো আমি তোমার স্বামীকে নিজের স্বার্থের জন্য বাঁচিয়েছি।কিন্তু তা নয়।আমি ওর ওপর কৃতজ্ঞ ছিলাম।সেই কৃতজ্ঞতা প্রকাশেই ওকে এখন অব্দি নিজের ছেলের পরিচয়ে রেখেছি। এনাজ যখন সিবিআই অফিসারের পদে ছিলো তখন বহু আগে একবার আমাকে জানে বাঁচিয়ে ছিলো।তার কৃতজ্ঞতা বোধে আমি ওকে নিজের ছেলে করে রেখেছি।\n\nআমি উনার কথার মাথামন্ডু কিছুই বুঝলাম না।আঙ্কেলের কথা শেষ হওয়ার আগেই তায়াং ভাইয়া থমথমে গলায় বললো।\n\nতায়াংঃ নোভা একটু ঐদিকে আয়।তোর সাথে কথা ছিলো।\n\nআমিঃ আঙ্কেল, আমি একটু আসছি।\n\nমুরাদঃ আচ্ছা যাও।\n\nতায়াং ভাইয়া ও আমি বাগানের অন্য পাশটায় চলে এলাম।তায়াং ভাইয়ার মুখে রাগ দেখা যাচ্ছে। কিন্তু কি কারণে তা খুজে পেলাম না।\n\nআমিঃ কি হয়েছে তোর?এখানে নিয়ে এলি যে।\n\nতায়াংঃ তুই সিউর এই মেয়েটাই সেদিন এনাজকে জড়িয়ে ধরেছিলো।\n\nআমিঃ হ্যাঁ রে।এখন আমার নিজের ওপর প্রচন্ড রাগ হচ্ছে। সবসময় দুই লাইন বেশি বুঝি।\n\nতায়াংঃ তুই দুই লাইন নয় চার লাইন বেশি বুঝিস শাঁকচুন্নি। ইচ্ছে করছে তোর চুল ছিড়তে।\n\nআমিঃ কেন আমি কি করলাম আবার?(অবাক হয়ে)\n\nতায়াংঃ তোর এই দুই লাইন বেশি বোঝার কারণে আমি গতকাল সন্ধ্যায় তাজের গলা টিপে ধরছিলাম।\n\nআমিঃ কি বলছিস তুই? তোর কি মাথা খারাপ হয়ে গেছে। যদি ওর কিছু হয়ে যেতো?আর ওকে তুই পাইলি কোথায়?\n\nতায়াংঃ গতকাল সন্ধ্যার আগে তাজের অফিসের সামনে দিয়ে যাচ্ছিলাম।তখন ওর পিয়নকে দেখতে পাই।কি মনে করে পিয়নের কাছে তাজের কথা জিজ্ঞেস করলাম।সে বললো তাজ এখনো অফিসেই আছে।তখুনি মেজাজ বিগড়ে গেলো।রাগ নিয়ে তাজের অফিসে ঢুকে গেলাম।কিন্তু লিফটের কাছে এসে দেখলাম লিফট ওপর থেকে নিচে নামছে।আমার কেন জানি মনে হচ্ছিলো তাজাই নিচে নামছে।হলোও তাই।লিফট খুলতেই দেখলাম তাজ দাঁড়িয়ে। দিকপাশ না তাকিয়ে ওর গলা চেপে ধরলাম।ও প্রথমে ছাড়ানোর চেষ্টা করলেও পরবর্তীতে আমাকে দেখে থেমে গেল।নিষ্পলক চাহনিতে তাকিয়ে ছিলো আমার দিকে।ইচ্ছে করছিলো ওকে শেষ করে দিতে।কিন্তু জানে জিগার দোস্ত তো। তাই কখনো সম্ভব নয় ওর ক্ষতি করা।ওর ওপর খুব রাগ হয়েছিলো জানিস।ও আমায় শক্ত করে কেন জড়িয়ে ধরেনি তার জন্য। আগে কখনও ওর গলা চেপে ধরলে হাত ছাড়িয়ে জড়িয়ে ধরতো।ওর গলার থেকে হাত সরিয়ে দ্রুত বের হয়ে গিয়েছিলাম।আমার চোখ পানিতে টলমল করছিলো।ওর সামনে থাকলে কান্না করে দিতাম।ও পেছন থেকে অনেক ডেকেছে কিন্তু আমি পিছু ফিরে দেখিনি।\n\nআমিঃ ওরে পাঠারে😤!!! হারামজাদা, আমাকে আবার বিধবা বানানোর ব্যবস্থা করছিলি তুই। আজকে তোর একদিন কি আমার একদিন।\n\nতায়াংঃ আমার রাগ উঠছিলো তো আমি কি করবো?একে তোকে ও কষ্ট দিচ্ছিলো।দুইয়ে আমার সাথে কোন যোগাযোগ কেন করেনি?এই ছিলো ওর বন্ধুত্ব।\n\nআমিঃ তোরে আমার ফ্রাই করতে মন চাইতাছে পাঠা।আমার জামাই মারার ষড়যন্ত্র করছিলি তুই।\n\nতায়াংঃ ঝগড়া পরেও করতো পারবি।যে কাজে এসেছি সেই কাজ আগে করি।এনাজ কি করে বাচলো সেটা আমাদের জানার দরকার।\n\nআমিঃ হুম চল।\n\nআমি ও তায়াং ভাইয়া দুজনেই আবার মুরাদ আঙ্কেলের কাছে চলে এলাম।ছোট টেবিলটায় বাহারী খাবারের সমহার।মুসকান ভেতর থেকে ট্রে ভর্তি করে নানাকিছু নিয়ে এসে টেবিলের ওপর রেখে যাচ্ছে।আরিয়ান বা তাজ কেউ বাসায় নেই।দুজনেই অফিসে। আমি আজ অফিসে যাইনি।সকালপর শো শেষ করে সোজা তায়াং ভাইয়ার সাথে এখানে চলে এসেছি।আমার পরনে আজ ফুল ব্লাক ড্রেস।সাদা পরে আসলে আমি নির্ঘাত আজ বিপদে পরতাম।মাঝে মাঝে কালো ড্রেস পরি বলে হিমি বা এরিন কারো কাছে জবাবদিহি দিতে হয়নি।\n\nমুরাদঃ খাবার নেও তোমরা।\n\nতায়াংঃ আঙ্কেল, আপনি ব্যস্ত হবেন না।আপনি বরং আমাদের সবকিছু খুলে বলুন।এনাজকে কি করে পেলেন?আর তারপর কি হয়েছিলো।\n\nআমিঃ হ্যাঁ, আঙ্কেল বলুন আমাদের। কি করে বাচলো আমার স্বামী।\n\nমুরাদ আঙ্কেল বড় করে একটা দীর্ঘ শ্বাস ছেড়ে আমাদের দিকে তাকালো।তার মুখটা থমথমে দেখাচ্ছিলো। কিছু সময় নিরব থাকলেন। তারপর বলতে শুরু করলো।\n\nমুরাদঃ সেদিন ___________",
        "series": {
            "id": 76,
            "title": "প্রজাপতির রং",
            "slug": "projapotir-rong",
            "url": "https://golpohub.com/series/projapotir-rong",
            "thumbnail_url": "https://cdn.golpohub.com/covers/series-prjaptir-rng-76-4967c3.webp",
            "progress_status": "completed"
        },
        "author": {
            "id": 57,
            "name": "নোভা ইসলাম",
            "slug": "nova-islam",
            "url": "https://golpohub.com/authors/nova-islam",
            "avatar_url": "https://cdn.golpohub.com/avatars/author-nova-57-49c18b.webp",
            "bio": "নোভা বাংলা অনলাইন সাহিত্যের এক অনন্য ও সংবেদনশীল কথাসাহিত্যিক। মানবিক সম্পর্কের জটিল সমীকরণ, পারিবারিক টানাপোড়েন এবং রহস্য-রোমাঞ্চের আবহে ভালোবাসার চিরন্তন রূপ উন্মোচনে তিনি সিদ্ধহস্ত। তাঁর সাবলীল ও দৃশ্যমান লেখনী পাঠকদের শুরু থেকে শেষ অবধি তীব্র কৌতূহল ও আবেগের দোলাচলে আচ্ছন্ন করে রাখে।",
            "series_count": 0,
            "meta": {
                "bio": "নোভা বাংলা অনলাইন সাহিত্যের এক অনন্য ও সংবেদনশীল কথাসাহিত্যিক। মানবিক সম্পর্কের জটিল সমীকরণ, পারিবারিক টানাপোড়েন এবং রহস্য-রোমাঞ্চের আবহে ভালোবাসার চিরন্তন রূপ উন্মোচনে তিনি সিদ্ধহস্ত। তাঁর সাবলীল ও দৃশ্যমান লেখনী পাঠকদের শুরু থেকে শেষ অবধি তীব্র কৌতূহল ও আবেগের দোলাচলে আচ্ছন্ন করে রাখে।",
                "pen_name": "নোভা",
                "aliases": [
                    "Nova",
                    "লেখিকা নোভা",
                    "নোভা ইসলাম"
                ]
            },
            "timestamps": {
                "created_at": null,
                "updated_at": null
            }
        },
        "navigation": {
            "previous_episode": {
                "id": 2809,
                "ep_number": 23,
                "title": "ভাসুরের পরিচয় ও রাতের আক্রমণ",
                "slug": "projapotir-rong-s1-ep23",
                "url": "https://golpohub.com/episodes/projapotir-rong-s1-ep23",
                "thumbnail_url": "https://golpohub.com/assets/images/og.jpg"
            },
            "next_episode": {
                "id": 2811,
                "ep_number": 25,
                "title": "অলৌকিক রক্ষা ও পোড়া ক্ষতের দাগ",
                "slug": "projapotir-rong-s1-ep25",
                "url": "https://golpohub.com/episodes/projapotir-rong-s1-ep25",
                "thumbnail_url": "https://golpohub.com/assets/images/og.jpg"
            }
        }
    }
}