{
    "_links": {
        "html": "https://golpohub.com/episodes/projapotir-rong-s1-ep25",
        "json": "https://golpohub.com/episodes/projapotir-rong-s1-ep25?format=json",
        "markdown": "https://golpohub.com/episodes/projapotir-rong-s1-ep25?format=md",
        "rss": "https://golpohub.com/episodes/projapotir-rong-s1-ep25?format=rss",
        "atom": "https://golpohub.com/episodes/projapotir-rong-s1-ep25?format=atom"
    },
    "seo": {
        "canonical_url": "https://golpohub.com/episodes/projapotir-rong-s1-ep25",
        "title": "প্রজাপতির রং পর্ব ২৫ - অলৌকিক রক্ষা ও পোড়া ক্ষতের দাগ | Projapotir Rong Part 25",
        "description": "পড়ুন প্রজাপতির রং পর্ব ২৫। ব্রিজের ওপর ঝুম বৃষ্টি ও পোড়া মাংসের প্লাস্টিক সার্জারির বিস্তারিত রহস্য উন্মোচন।",
        "keywords": "প্রজাপতির রং পর্ব ২৫, প্রজাপতির রং ২৫, projapotir rong porbo 25, projapotir rong part 25, এনাজ রক্ষা, মুরাদ হোসেন, প্লাস্টিক সার্জারি, তায়াং",
        "image_url": "https://cdn.golpohub.com/covers/episodes/chapter-chapter-2811-d6cc44.webp",
        "schema": {
            "@context": "https://schema.org",
            "@graph": [
                {
                    "@type": "Chapter",
                    "name": "অলৌকিক রক্ষা ও পোড়া ক্ষতের দাগ",
                    "position": 25,
                    "description": "সেদিন ব্রিজের ওপর পেট্রোলের আগুনের পর নেমে আসা প্রবল বর্ষণ আর এক অচেনা কোল্ড ড্রিঙ্কসের ক্যান কীভাবে রক্ষা করেছিল এনাজের প্রাণ? মুরাদ সাহেবের মুখে সেই অলৌকিক গল্প শোনার মাঝেই তায়াংয়ের ফোনে আসা এক গোপন বার্তা কেন তাদের মুহূর্তেই টেনে নেয় রাজপথে?",
                    "url": "https://golpohub.com/episodes/projapotir-rong-s1-ep25",
                    "inLanguage": "bn",
                    "timeRequired": "PT13M",
                    "datePublished": "2026-09-17T19:05:06+00:00",
                    "dateModified": "2026-09-17T19:10:57+00:00",
                    "wordCount": 2036,
                    "image": "https://cdn.golpohub.com/covers/episodes/chapter-chapter-2811-d6cc44.webp",
                    "accessibilityFeature": [
                        "readingOrder",
                        "structuralNavigation",
                        "displayTransformability",
                        "uncontracted"
                    ],
                    "accessibilityControl": [
                        "fullKeyboardControl",
                        "fullTouchControl"
                    ],
                    "accessibilityHazard": [
                        "none"
                    ],
                    "potentialAction": {
                        "@type": "ReadAction",
                        "target": "https://golpohub.com/episodes/projapotir-rong-s1-ep25"
                    },
                    "isPartOf": {
                        "@type": [
                            "BookSeries",
                            "CreativeWorkSeries"
                        ],
                        "name": "প্রজাপতির রং",
                        "url": "https://golpohub.com/series/projapotir-rong"
                    },
                    "author": {
                        "@type": "Person",
                        "name": "নোভা ইসলাম",
                        "url": "https://golpohub.com/authors/nova-islam"
                    }
                },
                {
                    "@type": "BreadcrumbList",
                    "itemListElement": [
                        {
                            "@type": "ListItem",
                            "position": 1,
                            "name": "Golpo Hub",
                            "item": "https://golpohub.com"
                        },
                        {
                            "@type": "ListItem",
                            "position": 2,
                            "name": "সিরিজসমূহ",
                            "item": "https://golpohub.com/series"
                        },
                        {
                            "@type": "ListItem",
                            "position": 3,
                            "name": "প্রজাপতির রং",
                            "item": "https://golpohub.com/series/projapotir-rong"
                        },
                        {
                            "@type": "ListItem",
                            "position": 4,
                            "name": "অলৌকিক রক্ষা ও পোড়া ক্ষতের দাগ",
                            "item": "https://golpohub.com/episodes/projapotir-rong-s1-ep25"
                        }
                    ]
                }
            ]
        }
    },
    "filters": [],
    "data": {
        "id": 2811,
        "ep_number": 25,
        "title": "অলৌকিক রক্ষা ও পোড়া ক্ষতের দাগ",
        "slug": "projapotir-rong-s1-ep25",
        "url": "https://golpohub.com/episodes/projapotir-rong-s1-ep25",
        "reading_time": 13,
        "thumbnail_url": "https://cdn.golpohub.com/covers/episodes/chapter-chapter-2811-d6cc44.webp",
        "yt_video_id": null,
        "yt_video_url": null,
        "timestamps": {
            "published_at": "2026-09-17T19:05:06+00:00",
            "updated_at": "2026-09-17T19:10:57+00:00"
        },
        "meta": {
            "word_count": 2036,
            "seo_title": "প্রজাপতির রং পর্ব ২৫ - অলৌকিক রক্ষা ও পোড়া ক্ষতের দাগ | Projapotir Rong Part 25",
            "seo_description": "পড়ুন প্রজাপতির রং পর্ব ২৫। ব্রিজের ওপর ঝুম বৃষ্টি ও পোড়া মাংসের প্লাস্টিক সার্জারির বিস্তারিত রহস্য উন্মোচন।",
            "keywords": "প্রজাপতির রং পর্ব ২৫, প্রজাপতির রং ২৫, projapotir rong porbo 25, projapotir rong part 25, এনাজ রক্ষা, মুরাদ হোসেন, প্লাস্টিক সার্জারি, তায়াং",
            "characters_involved": [
                "মুরাদ হোসেন",
                "জামাল",
                "নোভা",
                "তায়াং",
                "জুলেখা বেগম",
                "মুসকান"
            ]
        },
        "content": "—- সেদিন ছিল ঝুম বৃষ্টি। বৃষ্টির কারণে ভালো মতো সবকিছু দেখা যাচ্ছিলো না।সামনে সাদা হয়েছিলো।এমন অবস্থায় ড্রাইভ করাও কষ্ট হয়ে যাচ্ছিলো আমাদের ড্রাইভার জামালের।ব্যাংক থেকে বাসায় ফিরছিলাম।যেই রাস্তা দিয়ে সচারাচর আমরা বাসায় ফিরি সেটা প্রায় হাঁটু সমান পানিতে তলিয়ে যায়। তাই ভাবলাম দূরের রাস্তা দিয়ে ঘুরে বাসায় আসবো।ড্রাইভারকে বলতেই সে অন্য রাস্তায় মোড় নিলো।চারিদিকে বৃষ্টির কারণে কিছু দেখা যাচ্ছে না।সকাল থেকেই আকাশটা মেঘলা।ব্যাংক থেকে ডেকেছে বলে না যেয়েও উপায় নেই।যাওয়ার সময় ফোঁটা ফোঁটা বৃষ্টি পরছিলো।আসার সময় যখন গাড়িতে উঠলাম তখনও ঝিরিঝিরি বৃষ্টি পরছিলো।হুট করে ঝুপঝাপ বৃষ্টি নেমে গেলো।এত বৃষ্টি হবে জানলে কিছু সময় ব্যাংকে থেকে যেতাম।হঠাৎ আমাদের ড্রাইভার জামাল গাড়ি থামিয়ে দিলো।\n\nএতটুকু বলে থেমে গেলেন মুরাদ সাহেব।তার মুখের দিকে উৎসুক চোখে তাকিয়ে আছে নোভা ও তায়াং।ওদের দিকে তাকিয়ে একটা মুচকি হাসি দিলেন।তারপর ডুব দিলেন অতীতের স্মৃতির পাতায়।যেখানে এখনো জ্বলজ্বল করে ভাসছে সেই ঝুম বৃষ্টির দিনটা।\n\nফ্লাশব্যাক………\n\nবাইরে তাকিয়ে একমনে মুরাদ সাহেবে কিছু একটা ভাবছিলেন।পুনরায় আবার ঘুরে দাঁড়াতে হবে তার।সবকিছু তিনি গুছিয়ে নিয়েছেন।ড্রাইভারের হুট করে গাড়ি থামাতে সে সামনের দিকে ঝুঁকে গেলেন।যাতে তার হুশ ফিরলো।বৃষ্টির তোড়জোড় বেড়েই যাচ্ছে। বিন্দুমাত্র কমার নাম নেই। কিছুটা বিরক্ত সহকারে ড্রাইভার জামালকে সে বলে উঠলেন।\n\nমুরাদঃ কি ব্যাপার ড্রাইভার গাড়ি থামালে কেন?\n\nজামালঃ স্যার, মনে হইতাছে ব্রীজের ওপর কেউ পইরা আছে।\n\nমুরাদঃ কই কেউ নেই তো।আমি কিছুই দেখতে পাচ্ছি না।বৃষ্টির কারণে কিছু কি ভুলভাল দেখছো?তোমার কথাও ভালো করে শোনা যাচ্ছে না।একটু জোড়ে বলো।\n\nজামালঃ স্যার,আমার মনে হইতাছে ব্রীজের ওপরে কেউ উপুড় হইয়া পইরা রইছে।(জোরে চিৎকার করে)\n\nএত বৃষ্টি যে এক গাড়িতে বসে দুজন দুজনের কথা স্পষ্ট শুনতে পাচ্ছে না।চারিদিকে শুধু বৃষ্টি পরার শব্দ। মুরাদ সাহেব জোর চেচিয়ে বললেন।\n\nমুরাদঃ আমার চোখে কিছু পরছে না।\n\nজামালঃ স্যার বাইর হইয়া কি দেখবেন কেডা পইরা রইছে। আমি কিন্তু অনেকটা স্পষ্ট দেখতে পাইতাছি একটা পোলা ব্রীজের ওপর পইরা রইছে।\n\nমুরাদঃ চলো তো নেমে দেখি।\n\nজামালঃ কিন্তু স্যার যদি কোন ডাকাতের লোক হয়।সিনেমায় তো বহুত দেখছি এমন কইরা রাস্তায় পইরা থাকে।যহন কেউ তার সাহায্য করতে যায় তহন আরো লোক বাইর হইয়া বড় বড় ছুরি দেখাইয়া লগের সবকিছু নিয়ে যায়।\n\nমুরাদ সাহেবের কপালে চিন্তার রেখা ফুটে উঠলো। জামাল কথা ভুল বলেনি।এই ছেলে ১৭ বছর থেকে তাদের ড্রাইভার হয়ে আছে। এখন বয়স ৩২ এর কোঠায়।মুরাদ সাহেব একে চোখ বুজে বিশ্বাস করতে পারে। ছেলেটা কিছুটা বোকা কিছিমের হলেও মানুষ হিসেবে ভালো।বৃষ্টির বেগ কিছুটা কমেছে। চোখের চশমাটা ভালো করে মুছে সামনের দিকে তাকালো। এবার সেও দেখতে পেলো একটা পুরুষের অবয়ব রাস্তায় পরে আছে। মুরাদ সাহেব ভাবলেন হয়তো ডেড বডি হবে।যদি ডেড বডি হয় তাহলে তো সামনে গেলেই ফেঁসে যাবেন।তাই জামালকে গাড়ি সাইড কাটিয়ে নিয়ে যেতে বললেন।জামাল গাড়ি সাইড কাটালো।যখুনি স্টার্ট দিবে তখন মুরাদ সাহেব কিছু একটা ভেবে আবার বললেন।\n\nমুরাদঃ জামাল গাড়ি থামাও।\n\nজামালঃ কিন্তু স্যার আপনেই তো কইলেন গাড়ি সাইড কাটতে।তার লিগা আমি সাইড কাটলাম।\n\nমুরাদঃ যা বলছি তা কর।\n\nজামাল এক সাইডে গাড়ি থামালো।মুরাদ সাহেব ও জামাল মাথায় একটা পলিথিন ব্যাগ বেঁধে বাইরে এলেন।তাদের কাছে এখন ছাতা নেই। জুলেখা বেগম বারবার করে বলেছিলেন ছাতা নিয়ে যেতে।কিন্তু গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি দেখে মুরাদ সাহেব আনেননি।বাতাসের কারণে তারা সামনেও এগুতে পারছেন না।ঠান্ডা হিম শীতল বাতাসে তাদের কেমন জানি শীত শীত লাগছে।কোনমতে ছেলেটার সামনে গেল।গলায় হাত রাখলেন।তারপর হাতের পালস চেক করলেন।\n\nমুরাদঃ জামাল, ছেলেটা এখনো বেঁচে আছে। ওর পালস চলছে।ওকে সোজা করতে আমায় হেল্প করো। আমি একা পারবো না। বৃষ্টিতে ভিজে অনেক ভারী হয়ে গেছে। তাছাড়া তাগড়া জোয়ান ছেলে। একে একা উঠানোও সম্ভব নয়।\n\nজামালঃ আইচ্ছা স্যার।\n\nমুরাদঃ শরীরের পোশাক জায়গায় জায়গায় পুরে গেছে। পেট্রোলের মৃদু গন্ধ পাচ্ছি। কেউ মেরে জ্বালিয়ে দিতে চেয়েছিলো।\n\nজামালঃ তাই তো দেখতাছি স্যার।আমি এদিকটা ধরি আপনে ঐদিক ধইরা ঠেলা দেন।\n\nমুরাদ সাহেব ও জামাল মিলে ছেলেটাকে উল্টালো।বৃষ্টিতে ভিজে অনেক ভারী হয়ে গেছে। মুরাদ সাহেব দেখলেন বাম গালের মাংস পুরে হা হয়ে গেছে। ঐ গালের নিচে স্টীল জাতীয় কিছু একটা লেগে ছিলো।যার কারণে অনেকখন সেটায় আগুন ছিলো।সেই কারণে গালের মাঝখানটা পুরে মাংস ঝলসে হা হয়ে গেছে। স্টীল জাতীয় জিনিসটা হাতে নিয়ে দেখলেন কোল্ড ড্রিংকসের ক্যান।বাম গাল পাকা ফ্লোরের সাথে লাগানো ছিলো।গাল আর ফ্লোরের মাঝখানে ক্যানটা ছিলো।মুরাদ সাহেব এতক্ষণ পোড়া গালটা পর্যবেক্ষণ করছিলো।যার কারণে ছেলেটাকে চিনতে পারেনি।অন্য পাশটা দেখে সে চমকে উঠলো।\n\nজামালঃ কি হয়েছে স্যার?আপনে কি এরে চিনেন?\n\nমুরাদঃ জামাল এতো অফিসার এনাজ আহমেদ। এর এই অবস্থা কে করলো?তুমি ওকে চিনতে পারোনি?\n\nজামালঃ কোন অফিসার?এনাজটাই বা কে?\n\nমুরাদঃ আমার যেবার শেয়ার ব্যবসায় বিশাল লস খাইলাম সেবার আমার নামে মিথ্যা মামলা করা হইছিলো।ঐ মামলায় আমার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হইতো।কিন্তু তা হয় নাই। আমার কেসটা এনাজ নিজ দায়িত্বে নিয়ে গিয়েছিল। আর আমাকে নির্দোষ প্রমাণ করে।ও না থাকলে আমি এখন কারাদণ্ডের চার দেয়ালে বন্দী থাকতাম।\n\nজামাল মাথা চুলকালে।বছর খানিক আগের কথা এগুলো।কিন্তু তার মনে পরছে না।তার আবার ভুলে যাওয়ার রোগ আছে। এই বিষয়ে মাথা ঘামালেন না মুরাদ সাহেব।এক সাইড পুরে গেলোও এনাজকে চিনতে তার কষ্ট হয়নি।কি করে ছেলেটাকে ভুলে যাবে সে।যেই যুদ্ধ করে তাকে বাঁচিয়ে ছিলো।সেগুলো কি ভোলার মতো।এনাজের ওপর অনেক কৃতজ্ঞ সে।মিথ্যা মামলা থেকে বেঁচে যাওয়ার পর খুশি হয়ে এনাজকে কিছু গিফট দিতে চেয়েছিলো।কিন্তু তখন এনাজ বলেছিলো আমার জন্য দোয়া করবেন।আমি একটা মেয়েকে অনেক ভালোবাসি। তাকে যেনো পাই।আমার আর কিছু লাগবে না।কিন্তু মুরাদ সাহেব নাছোড়বান্দা। তিনি এনাজকে কিছু দিবেই।তখন এনাজ মাথা চুলকে বলেছিলো, যদি নিতান্ত কিছু দিতে চান তাহলে সেটা তুলে রেখে দিন।যাতে আমি পরবর্তীতে সেটা চেয়ে নিতে পারি।কে জানতো সেই ছেলেটাকে আজ এই অবস্থায় দেখবে।হয়তো আল্লাহ তার কাছে পাঠিয়েছে সেই উপহার ফেরত দেওয়ার জন্য। এনাজকে এই অবস্থায় দেখে মুরাদ সাহেবের চোখ ছলছল করে উঠলো।ছেলেটার মুখে সবসময় হাসি লেগে থাকতো।কখনও কাউকে কষ্ট দিয়ে কোন কাজ বা কথা বলেনি।ডিপার্টমেন্টেও খুব নামডাক এনাজের।এর মধ্যে প্রায় এক বছর এনাজের সাথে দেখা হয়নি তার।তবে মাঝে মাঝে অন্য কারো থেকে এনাজের টুকটাক খবর নিতেন তিনি।\n\nএবার আসল ঘটনা আপনাদের খুলে বলি।নোভা সেদিন কিন্তু তায়াং কে বলেছিলো, যেদিন এনাজকে মারা সেদিন ঝিরিঝিরি বৃষ্টি আর বাতাস ছিলো।সে হাত মেলে সেটা উপভোগ করছিলো। লোকগুলো যখন এনাজকে পেট্রোল ছুঁড়ে আগুন ধরিয়ে দিয়েছিলো তখন সেটা দেখে নোভা অজ্ঞান হয়ে গিয়েছিলো।তারপর কি হয়েছে তা সে জানে না। এনাজকে চোখের সামনে আগুনে পুড়তে দেখে সে স্থির থাকতে পারেনি।লোকগুলো যখন এনাজের নিশ্বাস পরীক্ষা করছিলো তখন ওর দম আটকে ছিলো।যার কারণে এনাজকে ওরা মৃত ধরে নিয়েছে।\nএনাজের শরীরে পেট্রোল ছুঁড়ে আগুন জ্বালানোর মিনিট পাঁচ পরেই ঝুম বৃষ্টি নেমে গিয়েছিল। সেকি বৃষ্টি!!! দাঁড়িয়ে থাকার মতো অবস্থা ছিলো না।বৃষ্টির কারণে শরীরর পোড়া অংশগুলো ততটা ঘা হতে পারেনি।শুধু পোশাক পুরে গিয়েছিল। তবে গালের ওপাশটায় বৃষ্টির পানি পৌঁছাতে পারেনি বলে মাংস পুরে গলে গিয়েছিল। আগুন ধরিয়েই লোকগুলো সেখান থেকে কেটে পরেছিলো। ভেবেছিলো পরে এসে পোড়াদেহ নিয়ে গিয়ে গুম করে দিবে।কিন্তু বৃষ্টি থেমেছিল এশার আজানের পর দিয়ে। ততক্ষণে তারা এনাজের কথা ভুলেই গিয়েছিল। যখন মনে হয়েছে তখন তাড়াহুড়ো করে এখানে এসেও লাশ পাইনি।এই কথা তাদের বসকে বললে তো জ্যান্ত কবর দিয়ে দিবে।তাই সেটা খুব সাবধানে তাদের বসের থেকে লুকিয়ে গেছে। আল্লাহর শান বোঝার ক্ষমতা কোন মানুষের নেই। আল্লাহ যাকে বাঁচাতে চান তাকে যেকোন উপায় বাঁচিয়ে দেন।তাই তো সেদিন এনাজকে বাঁচাতে ঝুম বৃষ্টি নামিয়ে ছিলেন আর মুরাদ সাহেবকে এই রাস্তা দিয়ে আসতে বাধ্য করেছিলেন।\n\nবৃষ্টির বেগ কমে গেছে। মুরাদ সাহেব পুরো চুপচুপে ভিজে গেছেন।কিন্তু সেদিকে তার খেয়াল নেই। সে এনাজকে দেখে যাচ্ছে। পুরনো কথা মনে পরে গিয়েছিল। জামালের ডাকে ভাবনা থেকে ফিরে এলেন।\n\nজামালঃ স্যার চলেন এরে হাসপাতালে নিতে হইবো তো।নয়তো কোন ক্ষতি হইতে পারে।\n\nমুরাদঃ হুম চলো।দুজন একসাথে ধরাধরি করে নিয়ে যাই।আমি ওর কিছু হতে দিবো না।\n\nজামালঃ হো স্যার।আমি এদিকটা ধরি। আপনি ঐদিকটা ধইরা কান্ধে উঠান।\n\nদুজন ধরাধরি করে গাড়িতে উঠালো এনাজকে।সারা শরীর ভিজে দুজন মানুষের ওজন হয়ে গেছে। মুরাদ সাহেবের গাড়ির সিট ভিজে যাচ্ছে সেদিকের পরওয়ানা করলেন না।এনাজের মাথাটা নিজের কোলে তুলে নিলেন।তার সারা শরীর ঠান্ডায় কাঁপছে। তড়িঘড়ি করে জামালকে বললেন সামনের বড় প্রাইভেট হসপিটালে যেতে।জামালও কথা না বলে হসপিটালের রাস্তা ধরলেন।\n\nফ্লাশব্যাক এন্ড…………\n\n🦋🦋🦋\n\nমুরাদ আঙ্কেলের চোখে দিয়ে পানিতে টলমল করছে,\nযেকোন সময় গড়িয়ে পরবে । আমার চোখ দিয়ে অনরবত পানি পরছে।তায়াং ভাইয়া শূণ্য দৃষ্টিতে তাকিয়ে থম মেরে বসে আছে। আমার মাথা থেকে পুরোপুরি এই বিষয়টা চলে গিয়েছিল যে বৃষ্টিতে কোনভাবে এনাজ বেঁচে গেছে। আল্লাহ আমার স্বামীকে বাঁচানোর জন্য কত সুন্দর করে আগের থেকে সব ভেবে রেখেছিলেন।তার দরবারে লাখো কোটি কোটি শুকরিয়া।\n\nমুরাদঃ ওর মুখের অংশটা খুব বাজেভাবে পুরে গিয়েছিল।যা দিনকে দিন পচন ধরেছিলো।তাই এনাজের মুখ প্লাস্টিক সার্জারি করতে হয়েছে।বাহুর থেকে মাংস নিয়ে ক্ষতস্থানটা পূরণ করতে হয়েছে। তোমাদের কোন খোঁজ আমি জানতাম না যে এনাজের কথা তোমাদের বলবো।প্লাস্টিক সার্জারি করার সময় একটা মুখের আদলের দরকার ছিল। আমি তখন হিতাহিত জ্ঞান শূন্য হয়ে গেছি।আমার কাছে এনাজের কোন ছবিও ছিলো না। তাই ডাক্তারকে বলেছিলাম আপনাদের ইচ্ছে মতো একটা মুখের আদল দিয়ে দিয়েন।\n\nআমিঃ আমি আপনাদের কি বলে ধন্যবাদ দিবো তার ভাষা আমার জানা নেই। তবে আপনাদের কাছে চিরজীবন ঋণী থাকবো আমরা।\n\nমুরাদঃ আমি শুধু আমার দায়িত্ব পালন করেছি।ওর প্রতি কৃতজ্ঞতা স্বীকার করেছি।ওর যাতে কোন ক্ষতি না হয় তার জন্য ওর নাম পাল্টে ফেলেছি।ওকে নিজের ছেলে পরিচয়ে রেখেছি।ওর ওপর কেউ যাতে সন্দেহ না করে তার জন্য পুরাতন বাড়ি বিক্রি করে এই নতুন বাড়িতে উঠেছি।আমি সুস্থ, স্বাভাবিক আছি শুধুমাত্র এনাজের জন্য। ও সেদিন আমায় না বাঁচালে আমার স্ত্রী, সন্তান পথে বসতো।আমার অনিশ্চিত ভবিষ্যত পার হতো।এই বাড়ি,গাড়ি, অফিস সবকিছু হয়েছে আল্লাহর রহমতে। আমি সারাজীবন এনাজের জন্য নিজের জীবন বিলিয়ে দিলেও ওর ঋণ শোধ হবে না।\n\nআমি বিস্মিত চোখে মুরাদ আঙ্কেলের দিকে তাকিয়ে আছি। একটা মানুষ কতটা ভালো হলে এতকিছু করতে পারে।আর আমি এই লোকটার বিষয়ে না জেনে কত আজেবাজে কথা বলেছি।সেটা মনে হতেই নিজেকে ছোট মনে হলো।তায়াং ভাইয়ার মোবাইলে একটা কল আসতেই সে অন্যদিকে চলে গেল।তখুনি জুলেখা আন্টি ও মুসকান ট্রে ভর্তি করে আরো একগাদা খাবার নিয়ে হাজির।\n\nজুলেখাঃ এ মা, তুই দেখি কিছু মুখে দিসনি বড় বউ?না খেয়ে, খেয়ে চেহারার কি হাল করেছিস দেখছিস?আমার ছেলেটার জন্য চিন্তা করতে করতে শরীরের বারোটা বাজিয়ে ফেলেছিস।এখন একটু নিজের যত্ন নে।স্বামী তো চলে এসেছে।তাহলে আর কিসের চিন্তা।শোন,আজ কিন্তু দুপুরে না খেয়ে কিছুতেই যেতে পারবি না।\n\nমুরাদঃ হ্যাঁ,একদম ঠিক কথা।দুপুরে না খেয়ে বাসা থেকে যেতে পারবে না।\n\nমুসকানঃ ভাবী,এতদিন পর তোমাকে পেয়েছি। এত সহজে যেতে দিবো তা ভাবলে কি করে?(কানের কাছে এসে নিচুস্বরে)তোমাকে তো রাখবোই সাথে তোমার ঐ হ্যান্ডসাম ভাইকেও রাখবো।\n\nআমিঃ নজর দিয়ে লাভ নেই ননদি।আমার ভাই বহু আগের থেকে আমার মামাতো বোন নূরের ওপর ফিদা হয়ে আছে।এরা একে অপরকে ভীষণ ভালোবাসে। এখন শুধু বিয়ের অপেক্ষা। (নিচু স্বরে)\n\nনিচুস্বরে ওকে কথাগুলো বলতেই মুসকান চোখ দুটোকে রসগোল্লা বানিয়ে বুকের বা পাশে হাত দিয়ে দুষ্টামীর ভঙ্গিতে বললো।\n\nমুসকানঃ দিল টুট গ্যায়া💔।কোথায় ভাবলাম তোমার এই হ্যান্ডসাম ভাইয়ের সাথে লাইন মারবো। তা আর হলো না। এই কষ্ট আমি কোথায় রাখি?\n\nমুসকানের কথা বলার ভঙ্গিতে আমি ফিক করে হেসে উঠলাম।মুসকানও আমার সাথে যোগ দিলো।তখুনি আমার দুই নাম্বার শ্বাশুড়ি মা (জুলেখা আন্টি আরকি)চোখ গোল গোল করে বললো।\n\nজুলেখাঃ ভাবী,ননদ কি ফুসুরফুসুর করছিস?\n\nমুসকানঃ তোমাকে কেন বলবো? এটা আমাদের সিক্রেট।\n\nমুরাদঃ বউমা,আমি যতদূর তাজ মানে এনাজের মুখ থেকে শুনেছিলাম তুমি ছয় মাসের প্রেগন্যান্ট ছিলে আড়াই বছর আগে। সেই বাচ্চা কোথায় তাহলে?\n\nআমি মুরাদ আঙ্কেলের মুখে এই কথাটা শুনে ভীষণ অবাক হলাম।তাহলে কি আরিয়ান তাদের কে নাভানের বিষয় কিছু বলেনি।কে জানে বলেছে কিনা।নিশ্চয়ই বলেনি।বললে তো জিজ্ঞেস করতো দাদুভাই কে নিয়ে আসোনি কেন?আমি দুই হাত কচলে আমতাআমতা করে বললাম।\n\nআমিঃ আসলে আঙ্কেল হয়েছে কি, আমার একটা…….\n\nআমি নাভানের কথা বলার আগেই তায়াং ভাইয়া হন্তদন্ত হয়ে বাগানের ওপর পাশ থেকে এসে বললো।\n\nতায়াংঃ নোভা,জলদী চল তো।আমাদের এখুনি বের হতে হবে।আমার একটা আর্জেন্ট কাজ পরে গেছে।\n\nআমিঃ কি হয়েছে ভাইয়া? তোকে এত নার্ভাস লাগছে কেন? সবকিছু ঠিক আছে তো।কে কল করেছিলো তোকে?\n\nতায়াংঃ তোকে যেতে যেতে সব বলবো এখন চল।\n\nজুলেখাঃ সে কি কথা!!! দুপুরের খাবার না খেয়ে তোমরা দুজন কোথাও যেতে পারবে না।\n\nমুরাদঃ এতদিন পর আমাদের বাড়িতে এলে।কিছু না খেয়েই চলে যাবে।এটা কি ভালো দেখায়?\n\nতায়াংঃ সরি আন্টি,আঙ্কেল।আমাকে এখুনি যেতে হবে। আর নোভাকে আমি বাসায় পৌঁছে দিবো।\n\nমুসকানঃ ভাবী তুমি না হয় থাকো।বিকালে চলে যাবে।\n\nআমিঃ না গো। এখন নয়।( মুসকানের কানের কাছে মুখ নিয়ে)তোমার ভাইয়ের সাথে সবকিছু স্বাভাবিক হোক তারপর আসবো।ব্যাটাকে আচ্ছা করে শাস্তি দিতে হবে তো।আমার থেকে যাতে আর কখনো দূরে না থাকে।\n\nআমার কথা শুনে মুসকান খিলখিল করে হেসে উঠলো। তায়াং ভাইয়া তাড়া দিতে শুরু করলো আমায়।আমিও সবার থেকে বিদায় নিয়ে তায়াং ভাইয়ার বাইকে উঠে বসলাম।আমাদের কে বিদায় জানাতে তারা তিনজন একসাথে গেইট অব্দি এলো।\n\nজুলেখাঃ টেবিলে থাকা একটা খাবারও কেউ ধরিসনি।দুপুরে খেয়ে গেলে খুব খুশি হতাম।কি এমন হতো গরীবের ঘরে একবেলা খেয়ে গেলে।\n\nআন্টি ছোট বাচ্চাদের মতো আমাদের কে অনুরোধ করলো।আমি মুচকি হেসে তাকে বললাম।\n\nআমিঃ আরেকদিন এসে টানা ৭ দিন বেড়াবো।তখন ইচ্ছে মতো জ্বালিয়ে যাবো।যাতে বুঝতে পারেন কাদের কে বাসায় দাওয়াত করেছেন।\n\nমুসকানঃ না আসলেই চলে। সোজা রিয়েকশন নিবো তখন।\n\nমুরাদঃ দুপুরে একসাথে খেয়ে গেলে সত্যি খুশি হতাম।\n\nতায়াংঃ মন খারাপ করবেন না আপনারা।সত্যি আরেকদিন এসে সারাদিন বেড়াবো।\n\nজুলেখাঃ না আসলে পিঠের ছাল তুলবো বলে দিলাম।\n\nতায়াংঃ আচ্ছা, কোন সমস্যা নেই।\n\nআমিঃ আল্লাহ হাফেজ আঙ্কেল, আন্টি।আল্লাহ হাফেজ ননদী।আপনারা নিজেদের খেয়াল রাখবেন।\n\nমুরাদঃ সাবধানে যেও।\n\nতায়াং ভাইয়া বাইক স্টার্ট দিলো।আমি ওর কাঁধে এক হাত রেখে আরেক হাত নাড়িয়ে সবাইকে বিদায় জানালাম।মাত্র ঘন্টাখানিকের পরিচয়। অথচ তাদের ব্যবহার দেখে মনে হচ্ছিল না জানি কত বছরের চেনা পরিচিত আমরা।অনেক ভালো মন-মানসিকতা তাদের। যা আমাকে সত্যি মুগ্ধ করলো।কিন্তু তায়াং ভাইয়ার হঠাৎ কি হলো তা বুঝলাম না। কে কল করেছিলো তাকে?আর আর্জেন্ট কাজটাই বা কি?",
        "series": {
            "id": 76,
            "title": "প্রজাপতির রং",
            "slug": "projapotir-rong",
            "url": "https://golpohub.com/series/projapotir-rong",
            "thumbnail_url": "https://cdn.golpohub.com/covers/series-prjaptir-rng-76-4967c3.webp",
            "progress_status": "completed"
        },
        "author": {
            "id": 57,
            "name": "নোভা ইসলাম",
            "slug": "nova-islam",
            "url": "https://golpohub.com/authors/nova-islam",
            "avatar_url": "https://cdn.golpohub.com/avatars/author-nova-57-49c18b.webp",
            "bio": "নোভা বাংলা অনলাইন সাহিত্যের এক অনন্য ও সংবেদনশীল কথাসাহিত্যিক। মানবিক সম্পর্কের জটিল সমীকরণ, পারিবারিক টানাপোড়েন এবং রহস্য-রোমাঞ্চের আবহে ভালোবাসার চিরন্তন রূপ উন্মোচনে তিনি সিদ্ধহস্ত। তাঁর সাবলীল ও দৃশ্যমান লেখনী পাঠকদের শুরু থেকে শেষ অবধি তীব্র কৌতূহল ও আবেগের দোলাচলে আচ্ছন্ন করে রাখে।",
            "series_count": 0,
            "meta": {
                "bio": "নোভা বাংলা অনলাইন সাহিত্যের এক অনন্য ও সংবেদনশীল কথাসাহিত্যিক। মানবিক সম্পর্কের জটিল সমীকরণ, পারিবারিক টানাপোড়েন এবং রহস্য-রোমাঞ্চের আবহে ভালোবাসার চিরন্তন রূপ উন্মোচনে তিনি সিদ্ধহস্ত। তাঁর সাবলীল ও দৃশ্যমান লেখনী পাঠকদের শুরু থেকে শেষ অবধি তীব্র কৌতূহল ও আবেগের দোলাচলে আচ্ছন্ন করে রাখে।",
                "pen_name": "নোভা",
                "aliases": [
                    "Nova",
                    "লেখিকা নোভা",
                    "নোভা ইসলাম"
                ]
            },
            "timestamps": {
                "created_at": null,
                "updated_at": null
            }
        },
        "navigation": {
            "previous_episode": {
                "id": 2810,
                "ep_number": 24,
                "title": "ঠিকানাবিহীন আঙিনা ও ভুলের অবসান",
                "slug": "projapotir-rong-s1-ep24",
                "url": "https://golpohub.com/episodes/projapotir-rong-s1-ep24",
                "thumbnail_url": "https://golpohub.com/assets/images/og.jpg"
            },
            "next_episode": {
                "id": 2812,
                "ep_number": 26,
                "title": "শ্রোতার বেশে প্রিয়জন",
                "slug": "projapotir-rong-s1-ep26",
                "url": "https://golpohub.com/episodes/projapotir-rong-s1-ep26",
                "thumbnail_url": "https://golpohub.com/assets/images/og.jpg"
            }
        }
    }
}