> **বিকল্প ফরম্যাটসমূহ:** [এইচটিএমএল](https://golpohub.com/episodes/projapotir-rong-s1-ep29) | [জেসন](https://golpohub.com/episodes/projapotir-rong-s1-ep29?format=json) | [আরএসএস ফিড](https://golpohub.com/episodes/projapotir-rong-s1-ep29?format=rss) | [অ্যাটম ফিড](https://golpohub.com/episodes/projapotir-rong-s1-ep29?format=atom)

# বন্দিনী নোভা ও পুরানো আক্রোশ

![বন্দিনী নোভা ও পুরানো আক্রোশ](https://cdn.golpohub.com/covers/episodes/chapter-chapter-2815-458222.webp)

---
*[নোভা ইসলাম](https://golpohub.com/authors/nova-islam)-এর [প্রজাপতির রং](https://golpohub.com/series/projapotir-rong) সিরিজ থেকে*\n*আনুমানিক পড়ার সময়: 14 মিনিট*
- **মোট শব্দ:** 2,107
- **প্রকাশিত:** Sep 17, 2026
---

চোখ দুটো টেনে মেলতে পারছি না।মনে হচ্ছে কেউ সুপার গ্লু আঠা দিয়ে লাগিয়ে রেখেছে। তার সাথে মাথা ঝিম ঝিমানি তো আছেই। কারো উচ্চস্বরের কথা এসে কানে বারি খাচ্ছে। এত জোরে কেউ কথা বলে? বাপরে!!! আমার কান ধরে যাচ্ছে। মাথাব্যাথা আজ আমার অবস্থা খারাপ করে দিবে।ইচ্ছে না থাকা সত্ত্বেও চোখ দুটো পিটপিট করে খুললাম।এক ঝাঁক তীব্র আলো এসে চোখে লাগতেই সাথে সাথে চোখের পাতা বন্ধ করে ফেললাম।কিন্তু লোকটার কথা থামছে না।আমাকে তো তাকিয়ে দেখতে হবেই সে কে?বিশাল বড় একটা রামধমক না দিলে শান্তি হবে না।কারো কানের সামনে এত জোরে চেচিয়ে বকবক করা কোন ধরনের ম্যানারের মধ্যে পরে? আবারো চোখ খোলার চেষ্টা করলাম।এবার আমি সফল হলাম।বিশাল বড় রুমের মতো একটা জায়গায় নিজেকে আবিষ্কার করলাম।দেয়ালগুলো বেশ পুরনো,জায়গায় জায়গায় থেকে চুন খসে পরেছে।তবে চারিদিকটা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন।হাই পাওয়ারের দুটো লাইট জ্বালানো।আমার থেকে কিছুটা দূরে একটা চেয়ার ও ছোট টেবিল রাখা।পুরো রুমে দুটো চেয়ার ও একটা টেবিল।টেবিলের ওপর ল্যাপটপ, পাওয়ার ব্যাংক আরো হাবিজাবি জিনিসপত্র রাখা।চেয়ারে বসে উল্টো দিকে ঘুরে সিগারেট টানতে টানতে মোবাইলে খোশগল্পে মেতে আছে একজন।দৃষ্টি যদিও তার সামনের ল্যাপটপে নিবদ্ধ।আপাদমস্তক কালো পোশাকে মোড়ানো।বুকটা ধুক করে উঠলো।এরকম সাজে তো আমি তায়াং ভাইয়াকে দেখেছিলাম।তাহলে কে এটা তায়াং ভাইয়া? আমি আসলে কোথায়?কিছু সময় লাগলো সেটা বুঝে উঠতে।যখন পূর্বের সব কথা মনে হলো তখন ধরফরিয়ে উঠার চেষ্টা করলাম।কিন্তু বিধি বাম! হাত দুটো যে শক্ত করে বাঁধা আছে চেয়ারের মধ্যে। আমি নড়েচড়ে উঠতেই চেয়ারটা কিঞ্চিত শব্দ করে উঠলো।তখুনি সেই কথা বলা ব্যাক্তিটা আমার দিকে ঘুরলো।হাতে থাকা, শেষ হওয়া সিগারেটের অংশটা ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে বললো। —-জ্ঞান ফিরলো তবে ভাবীজীর?? গলার কণ্ঠস্বরটা পরিচিত মনে হলো।চট করে তার দিকে তাকাতেই ৪৪০ ভোল্টেজে শর্কড খেলাম।কাঁপা কাঁপা কণ্ঠে শুধু উচ্চারণ করলাম। আমিঃ সসসসাইমমন আপনি???? সাইমনঃ ইয়েস আই এম। মিসেস এনাজ আহমেদ। ওরফে আমার ভাবীজী। আমিঃ তার মানে এই সবকিছুর পেছনে আপনি রয়েছেন?? সাইমনঃ আমি একটা বাচ্চা ছেলে। একা এতকিছু সামলাবো কি করে বলেন তো?আমার সাথে আমার বড় ভাই ও লোকরা আছে তো। আমিঃ আমাকে এখানে কেন তুলে এনেছেন? (কঠিন গলায়) সাইমনঃ কারণ ছাড়া তো আনিনি।নিশ্চয়ই কারণ আছে।জানেন,আপনাকে আমাদের আরো আগে তুলে আনা উচিত ছিলো। আমিঃ আমাকে অজ্ঞান করার লোকটা তাহলে আপনি ছিলেন? সাইমনঃ জ্বি হ্যাঁ। আমিঃ আপনার সাথে আমার কি শত্রুতা?আপনাকে তো আমি ভালো করে চিনিও না। সাইমনঃ আপনার সাথে আমাদের অনেক পুরনো শত্রুতা।আপনাকে সেই কবে মেরে ফেলতাম।শুধু ভাইয়ের কথায় সেদিন বাচিয়ে দিয়েছিলাম।আমি ঐদিনের কথা বলছি।যেদিন আপনার প্রাণপ্রিয় স্বামীকে আপনার চোখের সামনে জ্বালিয়ে দিয়েছিলো আমাদের লোকেরা।আপনাকে তুলে আমাদের ডেরায় নিয়ে এসেছিলো।আপনি প্রেগন্যান্ট ছিলেন বলে কেন জানি ভাইয়ের একটু দয়া হয়েছিলো।ভাইয়ার কোন বাচ্চা ছিলো না বলে আপনার ওপর দয়া করে, আপনাকে ছেড়ে দিয়েছিলো।এমনি আপনি বাকি জীবনটা জিন্দা লাশ হয়ে কাটাবেন।তাই এই মরাকে আমরা আর মারতে চাইনি।সহিসালামত আপনার বাসায় পৌঁছে দিয়ে এসেছিলাম।কিন্তু এখন দেখছি সেটাই আমাদের বিরাট ভুল। আমিঃ আপনারা আমার এনাজকে মেরেছিলেন? সাইমনঃ হ্যাঁ গো ভাবিজী। সাইমনের মুখে বারবার ভাবী ডাক শুনে আমার রাগটা যেনো আরো বেড়ে গেল।তেলেবেগুনে জ্বলে উঠে তুই-তুকারি করে রুক্ষ গলায় বললাম। আমিঃ আমি তোর কোন রিস্তায় ভাবি লাগি? তোর ঐ পাপী মুখে আমাকে ভাবী বলে ডাকবি না।আরেকবার ডাকলে ঠোঁট সেলাই করে দিবো।ফালতু লোক কোথাকার,শয়তান বেডা।(রেগে) সাইমনঃ আমার বড় ভাইয়ের ভাবী লাগেন বলে আমারও ভাবী হোন।আমার ডেরায় বসে আমাকেই গালিগালাজ করছেন।আপনার তারিফ করতে হয়।চাইলে আপনাকে মেরে আমি এতগুলো টুকরো করতে পারি যে কেউ আপনার হদিসও পাবে না। আমিঃ তোর এতবড় সাহস আছে নাকি?তুই কিছু করতে পারলে এতক্ষণে করে ফেলতি। আমার না একটুও ভয় করছে না।বরং কোথা থেকে যে এত সাহস আসছে আল্লাহ মালুম। অনেক হয়েছে। এবার এদের একটা ব্যবস্থা করা দরকার।সাইমন আমার দিকে ক্রুর দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। পারলে এখুনি চিবিয়ে খেয়ে ফেলে। সাইমনঃ মুখে খই ফুটছে দেখি। আমিঃ বাইক থেকে আমার শরীরে পেট্রোল ছুঁড়ে মারা মানুষগুলোর মধ্যে একটা ছেলে তুইও ছিলি তাই না? সাইমনঃ জ্বি।আমি ও আমার লোক ছিলাম।কিন্তু মাঝখান থেকে তায়াং ফেঁসে গেলো।আসলে তায়াংকে ফাঁসাতেই তায়াং-এর মতো গেটআপ নিয়েছিলাম আমরা।যাতে আপনার সন্দেহ হয়ে যায় সেটা তায়াং ছিলো। আমিঃ আমার ভাইকে আমি তোদের থেকে বহুগুণ ভালো করে চিনি।ও এমন কাজ জীবনেও করতে পারে না।তাই তো আমার মনে হচ্ছিলো কোথাও একটা ভুল হচ্ছে আমার। সাইমনঃ আপনার পেছনে যে ছেলে দুটোকে আগুন নিয়ে ছুটতে পাঠিয়ে ছিলাম সেই লোকগুলোকে তায়াং মোটেও টাকা দিচ্ছিলো না।সেটাও সাজানো পুরো প্ল্যান ছিলো।ঐ লোকগুলো তায়াং-কে থামিয়ে কতগুলো বান্ডিলের টাকা দেখিয়ে জিজ্ঞেস করছিলো সেগুলো জাল নোট কিনা।তায়াং সেগুলো হাতে নিয়ে মস্তবড় ভুল করে ফেললো।সে বান্ডিলটা নেড়েচেড়ে উত্তর দিলো এটা আসল।আর যখুনি লোক দুটোকে টাকার বান্ডিল দুটো ফিরিয়ে দিচ্ছিলো তখুনি তুমি সরি আপনি দেখে নিলেন।আর তায়াং-কে ভুল বুঝে ফেললেন।এত ভালো ছেলেটাকে আপনি এমন ভাবলেন কি করে? আমিঃ এসব করে কি লাভ হলো?এখন তো আমি জেনেই গেলাম যে তায়াং নির্দোষ। সাইমনঃ লাভ তো অবশ্যই হয়েছে। আপনাকে একটু ভয় দেখালাম।কাছের মানুষটাকে একটু অবিশ্বাস করলাম।রিয়েলাইজ করালাম কাছের মানুষটা বিশ্বাস ঘাতকতা করলে কিরকম লাগে?অনেক বেশি কষ্ট হয় তাইনা।তেমনি আমাদের সাথেও আপনার গুণধর স্বামী কাছের মানুষ হয়েও বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। আমিঃ কি বলছেন আপনি? আমার স্বামী কেন বিশ্বাস ঘাতকতা করবে আপনাদের সাথে?ওর কে হোন আপনারা? সাইমনঃ অনেক কাছের মানুষও নই, আবার অনেক দূরের মানুষও নই। তা আপনার স্বামী এনাজের কি খবর?(ভ্রু নাচিয়ে) আমিঃ মমমমাননে!!!(ভয় পেয়ে) সাইমনঃ আরে ভাবীজী,এতখন তো বেশ তেজ দেখালেন।এখন চুপসে গেলেন কেন? আপনার স্বামী এনাজ ওরফে তাজরান তাজওয়ারের খবর চাইলাম,আর আপনি ভয়ে চুপসে গেলেন।গত দুই দিন আগে যে আপনার সাথে দেখা করতে এসেছিলো সকাল সকাল। আমি তো দরজার আড়ালে দাঁড়িয়ে সবই দেখলাম। আমিঃ তুই ছিলি দরজার আড়ালে?তোকে আমার প্রথম থেকেই সন্দেহ হয়েছিল। তুই যে গভীর জলের মাছ তা আমি বহু আগে বুঝে গেছি। জেনেই যখন গেছিস তাহলে লুকিয়ে লাভ কি? এবার না হয় তৈরি থাক নিজেদের পাপের শাস্তির জন্য। আমার স্বামী আর ভাই খুব শীঘ্রই তার ব্যবস্থা করবে। সাইমনঃ কে কার ব্যবস্থা করে তা না হয় পরেই দেখবো।কান টানলে মাথা আসে।তাই তো ওদেরকে আনতে তোমায় এখানে নিয়ে এসেছি। এখানে এলে একসাথে না হয় মেরে দিবো।এর জন্যই এত কিছু করা।সেদিন তাজ ওরফে এনাজ রেডিও স্টেশনে না আসলে আমি তো জানতামই না যে এনাজ বেঁচে আছে। তাই তো দুই দিনে সব ইনফরমেশন জোগাড় করে আপনাকে টোপ হিসেবে বেছে নিলাম। আমিঃ আমার স্বামী ও ভাইয়ের সাথে তোদের কিসের শত্রুতা?কেন ওদের জীবন নিয়ে পরেছিস? সাইমনঃ অনেক বড় শত্রতা।তোমার স্বামীকে শুধু শেষ করতে চেয়েছিলাম।সেদিন শেষ করেই দিতো আমাদের লোক।শুধু বৃষ্টি এসে সব চৌপট করে দিলো। তারপর মুরাদ সাহেব তাকে বাঁচিয়ে দিলো।এই তায়াং-এর সাথে কোন শত্রতা নেই আমাদের। কিন্তু ও যেচে এসে আমাদের কাজে বিঘাত ঘটালো।পুনরায় এনাজের মার্ডার কেস ওপেন করলো।আমার ভাইকে সন্দেহ করা শুরু করে দিলো।সবকিছুতে ওর নজরদারি ওকে বিপদে ফেলে দিলো।তাই দুজনকে শেষ করে দিবো।বুঝতে পারছি না। আমার ভাইটা যে এত দেরী কেন করছে? আমিঃ আপনার ভাই কে? সাইমনঃ আসলেই দেখতে পাবে। আমিঃ তায়াং ভাইয়া একবার শুধু আমার খবরটা জানুক।দেখবি তোদের কি করে? সাইমনঃ কি করে তা নাহয় পরেই দেখা যাবে।শুনলাম আপনার তায়াং ভাইয়া নাকি গোয়েন্দা সংস্থার লোক।সত্যি নাকি?? 🦋🦋🦋 চোখ দুটো মার্বেল বানিয়ে সাইমনের দিকে তাকালাম।এরা দেখছি সব নারি-নক্ষত্র জেনে গেছে। আমি তো কখনও কাউকে ভুলেও বলিনি যে তায়াং ভাইয়া গোয়েন্দা সংস্থার লোক।আমি,এনাজ,তায়াং ভাইয়ার বাবা-মা, বোন ছাড়া এই কথাটা কেউ জানে না। তাহলে এরা জানলো কি করে? আমিঃ কককে বললেছছে আপনাকে?(তুতলিয়ে) সাইমনঃ সব খবরা-খবর রাখতে হয় ভাবীজী।তায়াং, এনাজ দুজনেই একসাথে আইন বিভাগে পড়াশোনা করছে।একজন যদি সিবিআই অফিসার হয় আরেকজন তো এই আইন সংস্থায় থাকবে।এটা কি খুজতে হয় নাকি?এটা তো কমোন সেন্স। আমিঃ আমাকে ছেড়ে দেন এখান থেকে। নয়তো খুব খারাপ হয়ে যাবে। আমার কথা শুনে সাইমন উচ্চস্বরে হেসে উঠলো। তারপর আফসোসের সুরে বললো। সাইমনঃ জানো ভাবিজী,আমার না খুব ইচ্ছে ছিলো তোমার ছেলেটাকেও তোমার সাথে তুলে আনতে।কিন্তু ভাইয়ার নিজের কোন বাচ্চা নেই বলে সে বাচ্চাদের ওপর একটু বেশি দূর্বল।তাই তুলে আনতে দিলো না। মা-ছেলে কে একসাথে দেখতে মন্দ লাগতো না। আমিঃ খবরদার,আমার ছেলের দিকে তাকাবি না।তাহলে তোর চোখ তুলে ফেলবো।শত্রুতা থাকলে সেটা আমার সাথে ওর বাবার সাথে আছে। কিন্তু তার মধ্যে ওকে টেনে আনবি না বলে দিলাম। সাইমনঃ বড় ভাইয়াও তাই বলে।কিন্তু আমার তো আপনাদের পুরো ফ্যামেলীটাকেই ধ্বংস করে দিতে ইচ্ছে হয়।ঠিক যেভাবে আপনার স্বামীর কারণে আমার পুরো পরিবার ধ্বংস হয়ে গেছে। আমিঃ কিন্তু কিভাবে? আমার জানা মতে এনাজ কারো ক্ষতি কখনো করতেই পারে না। সাইমনের চোখ দুটো রক্তবর্ণ হয়ে গেছে। উল্টো দিকে ঘুরে নিজের রাগ কন্ট্রোল করার চেষ্টা করছিলো। আমার কথা শুনে দ্রুত এসে আমার মুখ চেপে ধরে, দাঁতে দাঁত চেপে বললো। সাইমনঃ ন্যাকা সাজা হচ্ছে। কিছুই জানো না। আমার মেজু ভাইয়াকে তোমার স্বামী ইনকাউন্টার করে মেরে ফেলেছে। না হয় তাদের থেকে পালিয়ে যেতে চাইছিলো।তাই বলে এভাবে মেরে ফেলবে।আমার বড় ভাই তোমার এনাজের পায়ে অব্দি ধরেছিলো।যাতে আমার ভাই তুষারকে জানে না মারে।বড় ভাইয়ার বিশ্বাস ছিলো এনাজ, তুষার ভাইয়াকে আর যাই করুক জানে মারবে না।তাই সে নিশ্চিন্ত ছিলো।কিন্তু সেই রাতেই তুষার ভাইয়া পালানোর চেষ্টা করায় বড় ভাইয়ার চোখের সামনে ওকে সোজা ইনকাউন্টার করে দিলো।আমাদের বিশ্বাসটাকে ভেঙে চুরমার করে দিলো।তাই মাস দুই পরেই লোক দিয়ে তোমার প্রাণপ্রিয় স্বামীকে তোমার চোখের সামনে শেষ করে দিয়েছি।যাতে সেই কষ্টটা তুমিও অনুভব করতে পারো।নিজের চোখের সামনে নিজের প্রিয় মানুষ হারানোর বেদনা কিরকম হয়।কিন্তু সেবার ভাগ্যক্রমে বেঁচে গেলেও এবার বাঁচবে না।তোমার চোখের সামনে তোমার প্রাণপ্রিশ ভাই ও স্বামী শেষ। তা এবার সহ্য করতে পারবে তো?? সাইমন আমাকে ছেড়ে কিছুটা দূরে গিয়ে দাঁড়ালো। ওর চোখ দিয়ে পানি পরছে। কিন্তু আমার মনে হয় না এনাজ কোন কারণ ছাড়া ওদের ভাইকে মেরেছে। ক্রিমিনাল না হলে তো মারবেই না। আমি আমার স্বামী কি খুব ভালো করেই চিনি। আমিঃ আপনার তুষার ভাইয়া নিশ্চয়ই কোন বড় ক্রিমিনাল ছিলো।তাই মেরেছে। সাইমনঃ কি এমন অপরাধ করেছিলো আমার ভাই? দুটো মেয়েকে রেপই তো করেছিলো।কোন মানুষকে তো খুন করেনি। এর থেকে বড় অপরাধ কেউ কি করে না?দুটো মেয়েকে রেপ করার কারণে মেরে ফেলতে হবে। অন্য সাজাও তো দেয়া যেতো।তাছাড়া আমরা ওর জামিনের সব ব্যবস্থা করে ফেলেছিলাম।কিন্তু এনাজ সব বরবাদ করে দিলো।ভাইয়ের মৃত্যুর খবর শুনে বাবা হার্ট অ্যাটাক করে মারা গেলো।মা ট্রমার মধ্যে চলে গেল।বছর না ঘুরতেই মা-ও আমাদের ছেড়ে পরপারে চলে গেল। আমরা তিন ভাই ছিলাম।মেজু ভাইয়ার মৃত্যুতে আমরা দুই ভাইও জিন্দা লাশ হয়ে গেলাম। আমাদের পুরো পরিবার তছনছ হয়ে গেলো।তাই আমরা দুই ভাই শপথ করেছি এনাজকে জানে বাঁচতে দিবো না। রেপ কেসের কথা শুনে আমার মাথায় রক্ত উঠে গেলো।তার ভাই দুটো মেয়ের ইজ্জত শেষ করে দিয়েছে তারপরেও তাদের কাছে ফেরেস্তা হয়ে আছে। আমি জোরে চেচিয়ে বললাম। আমিঃ তাহলে আমার স্বামী একদম ঠিক করেছে।ঐরকম নরকীটের বেঁচে থাকার কোন অধিকার নেই। একে বাচিয়ে রাখলে তো ঠিক টাকা দিয়ে বের করে নিতিস।না জানি আরো কত মেয়ের ইজ্জত শেষ করে দিতো ঐ মানুষরূপী জানোয়ারটা।ওকে মেরে অনেক ভালো করেছে।এতদিনে আমার মনে হচ্ছে আমার স্বামী কাজের কাজ করেছে। যে ধর্ষণ করবে সে বুক ফুলিয়ে স্বাধীনভাবল জীবন-যাপন করবে।আর যে ধর্ষিত হবে সে গলায় দড়ি দিবে।এটা তো হতে পারে না। তবে এখন সেটাই হচ্ছে। শুধুমাত্র টাকার জোরে পার পেয়ে যাচ্ছে হাজার হাজার ধর্ষক। আর আত্মহত্যা করতে হচ্ছে ধর্ষিতাদের।সব আইন শৃঙ্খলা বাহিনীদের এনাজের মতো হওয়া উচিত। ধর্ষণের শাস্তি একমাত্র মৃত্যু ছাড়া অন্য কিছু হতে পারে না। সাইমন এগিয়ে এসে আমার গালে জোরে দুটো থাপ্পড় দিলো ।২য় থাপ্পড়ের সময় চেয়ারের কোণার ওপর পরে গেলাম।যার কারণে ঠোঁটের কোণা কেটে গেলো।সাইমন এখন রেগে বোম হয়ে আছে।ওকে অন্য সময় দেখলে আমি নিশ্চয়ই ভয় পেতাম। কিন্তু এখন ভয়ের বিন্দুও খুঁজে পাচ্ছি না। আমার গলা চেপে ধরে বললো। সাইমনঃ খুব বেশি বড় গলা হয়ে গেছে। এখন ন্যায়-অন্যায়ের বিচার করছিস।তোকে আমি এখনি শেষ করে দিবো।আমার ভাইকে মেরে তোর স্বামী যখন ভালো কাজ করছে। তাহলে আমিও তোকে মেরে ভালো কাজ করে ফেলি। আমার খুব বলতে ইচ্ছে করছিলো।উচিত কথা বললে তো তোদের রাগ উঠবেই। কিন্তু গলা চেপে ধরে রাখায় তা বলতে পারলাম না।এমনভাবে গলা চেপে ধরেছে যে আমার চোখ উল্টে আসছে।চোখ, মুখে অন্ধকার দেখছি।তখুনি একজনের গলার স্বর পেলাম।সাইমনকে শাসিয়ে বলছে। —-সাইমন করছিসটা কি?ছেড়ে দে ওকে।মরে যাবে তো। সাইমনঃ বড় ভাইয়া,ওকে আজ আমি মেরেই ফেলবো।কত বড় সাহস ওর।ও বলে আমার ভাইকে মেরে নাকি এনাজ ভালো কাজ করছে। —-ওকে ছাড় বলছি।ও মারা গেলে তায়াং, এনাজকে এখানে আনতে পারবো না। আগুন্তক আমার গলার থেকে সাইমনের হাত দুটোকে টেনে সরিয়ে দিলো।সাইমন ফোঁস ফোঁস করছে।আবারও আমার দিকে এগিয়ে আসতে নিলে আগুন্তক ওকে আটকে ফেললেন।আমার নিশ্বাস বন্ধ হয়ে যাচ্ছিলো।আমি জোরে জোরে শ্বাস নিচ্ছি। —-সাইমন, রিলেক্স।অনেক কষ্ট করে এত প্ল্যান করেছি।সামান্য ভুলে সব নষ্ট করে দিস না।এই নোভার ওপর নজর রাখতেই তো তোকে রেডিও স্টেশনে কাজ করতে পাঠিয়ে ছিলাম।তা কি তুই ভুলে গেছিস? সাইমনঃ একটুও ভুলিনি বড় ভাইয়া।কিন্তু ওকে আমার জ্যন্ত সমাহিত করতে ইচ্ছে হচ্ছে। —- মাথা ঠান্ডা কর।রোশানকে কল লাগা।এই এমপি সাহেবকে, আমি তোর থেকে নোভার খোঁজ খবর নিয়ে শুভাকাঙ্ক্ষী হয়ে সব খবর দিতাম।ভেবেছিলাম একে দিয়ে তায়াংকে শেষ করবো। দুইবার কল করে ভয় দেখিয়ে ছিলাম।কিন্তু সে আমার কথা শুনলোই না।তার ক্ষতি যে না করে তাকে মারে না। তাই তো বাধ্য হয়ে এতসব করতে হলো।এখন এই মেয়েকে মেরে ফেললে রোশানকেও হেনেস্তা করা যাবে না। তাই শান্ত হো। আগুন্তকের কণ্ঠটা চেনা চেনা লাগছে। কোথায় জানি শুনেছি। গলায় প্রচন্ড ব্যাথা পেয়েছি বলে এতক্ষণ সামনের দিকে তাকাইনি।চোখ বন্ধ করে জোরে জোরে শ্বাস নিচ্ছিলাম।যেহেতু সাইমন একে বড় ভাইয়া বলছে তার মানে আগন্তুকটা সবকিছুর মূলে। তাই তাকে তো আমার দেখতেই হবে।চোখ খুলে আমি যাকে দেখলাম, তাতে আমি জীবনেও ভাবতে পারি নি যে সবকিছুর পেছনে সে থাকতে পারে । স্পষ্ট সুরে আমার মুখ দিয়ে আপনাআপনি বের হয়ে গেলো। আমিঃ আআআআপপপপনি!!!! আমার মনে হয় আমি প্রায় সব রহস্য ক্লিয়ার করে দিয়েছি।আর কি কি রহস্য আছে সেগুলো দয়া করে একটু জানিয়ে দিয়েন।যাতে আমি পরবর্তী পর্বে তার সমাধান করে দিতে পারি। আমার একার পক্ষে সব মনে রাখা সম্ভব হয় না।তাই বাকি রহস্যগুলো আমাকে বলে একটু হেল্প করেন প্লিজ।আর পেঁচাতে চাইছি না গল্পটা।না চাইতেও বহু প্যাচ দিয়ে ফেলছি।তবে রহস্যময় গল্পে প্যাচ না দিলেও নয়।আপনাদের কাছে অনুরোধ, আপনাদের মনে যে প্রশ্নগুলো আছে মানে আপনাদের কাছে মনে হচ্ছে এই রহস্যের সমাধান এখনো পাইনি,কিংবা এই বিষয়টা কিভাবে হলো,ঐ বিষয়টা এমন কেন?এরকম কোন প্রশ্ন থাকে তাহলে অবশ্যই কমেন্ট করে জানিয়ে দিবেন।

---

[<< পূর্ববর্তী অধ্যায়](https://golpohub.com/episodes/projapotir-rong-s1-ep28) | [সিরিজ সূচি](https://golpohub.com/series/projapotir-rong) | [পরবর্তী অধ্যায় >>](https://golpohub.com/episodes/projapotir-rong-s1-ep30)