{
    "_links": {
        "html": "https://golpohub.com/episodes/projapotir-rong-s1-ep3",
        "json": "https://golpohub.com/episodes/projapotir-rong-s1-ep3?format=json",
        "markdown": "https://golpohub.com/episodes/projapotir-rong-s1-ep3?format=md",
        "rss": "https://golpohub.com/episodes/projapotir-rong-s1-ep3?format=rss",
        "atom": "https://golpohub.com/episodes/projapotir-rong-s1-ep3?format=atom"
    },
    "seo": {
        "canonical_url": "https://golpohub.com/episodes/projapotir-rong-s1-ep3",
        "title": "প্রজাপতির রং পর্ব ৩ - পুরনো ছায়া ও ঠিকানাবিহীন সংসার | Projapotir Rong Part 3",
        "description": "পড়ুন প্রজাপতির রং পর্ব ৩। এনাজের পুরনো সহকর্মী মোরশেদের সাথে সাক্ষাৎ এবং ঠিকানাবিহীন বাড়ির রহস্যময় পরিবেশ।",
        "keywords": "প্রজাপতির রং পর্ব ৩, প্রজাপতির রং ৩, projapotir rong porbo 3, projapotir rong part 3, নোভা, তায়াং, মোরশেদ ওয়াসিম, আরিয়ান",
        "image_url": "https://cdn.golpohub.com/covers/episodes/chapter-chapter-2789-ed28b6.webp",
        "schema": {
            "@context": "https://schema.org",
            "@graph": [
                {
                    "@type": "Chapter",
                    "name": "পুরনো ছায়া ও ঠিকানাবিহীন সংসার",
                    "position": 3,
                    "description": "রেস্টুরেন্টে হুট করেই এসে দাঁড়ায় প্রয়াত স্বামী এনাজের অতীতের এক সহকর্মী মোরশেদ, যার চোখে নাভানকে দেখে উপচে পড়ে অদ্ভুত মুগ্ধতা। অন্যদিকে ‘ঠিকানাবিহীন’ নামের অভিজাত বাড়ির বারান্দায় বসে থাকা মুরাদ সাহেবের পরিবারের ভেতর লুকিয়ে থাকা কোন অতীত আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে?",
                    "url": "https://golpohub.com/episodes/projapotir-rong-s1-ep3",
                    "inLanguage": "bn",
                    "timeRequired": "PT13M",
                    "datePublished": "2026-09-17T19:05:06+00:00",
                    "dateModified": "2026-09-17T19:10:57+00:00",
                    "wordCount": 1937,
                    "image": "https://cdn.golpohub.com/covers/episodes/chapter-chapter-2789-ed28b6.webp",
                    "accessibilityFeature": [
                        "readingOrder",
                        "structuralNavigation",
                        "displayTransformability",
                        "uncontracted"
                    ],
                    "accessibilityControl": [
                        "fullKeyboardControl",
                        "fullTouchControl"
                    ],
                    "accessibilityHazard": [
                        "none"
                    ],
                    "potentialAction": {
                        "@type": "ReadAction",
                        "target": "https://golpohub.com/episodes/projapotir-rong-s1-ep3"
                    },
                    "isPartOf": {
                        "@type": [
                            "BookSeries",
                            "CreativeWorkSeries"
                        ],
                        "name": "প্রজাপতির রং",
                        "url": "https://golpohub.com/series/projapotir-rong"
                    },
                    "author": {
                        "@type": "Person",
                        "name": "নোভা ইসলাম",
                        "url": "https://golpohub.com/authors/nova-islam"
                    }
                },
                {
                    "@type": "BreadcrumbList",
                    "itemListElement": [
                        {
                            "@type": "ListItem",
                            "position": 1,
                            "name": "Golpo Hub",
                            "item": "https://golpohub.com"
                        },
                        {
                            "@type": "ListItem",
                            "position": 2,
                            "name": "সিরিজসমূহ",
                            "item": "https://golpohub.com/series"
                        },
                        {
                            "@type": "ListItem",
                            "position": 3,
                            "name": "প্রজাপতির রং",
                            "item": "https://golpohub.com/series/projapotir-rong"
                        },
                        {
                            "@type": "ListItem",
                            "position": 4,
                            "name": "পুরনো ছায়া ও ঠিকানাবিহীন সংসার",
                            "item": "https://golpohub.com/episodes/projapotir-rong-s1-ep3"
                        }
                    ]
                }
            ]
        }
    },
    "filters": [],
    "data": {
        "id": 2789,
        "ep_number": 3,
        "title": "পুরনো ছায়া ও ঠিকানাবিহীন সংসার",
        "slug": "projapotir-rong-s1-ep3",
        "url": "https://golpohub.com/episodes/projapotir-rong-s1-ep3",
        "reading_time": 13,
        "thumbnail_url": "https://cdn.golpohub.com/covers/episodes/chapter-chapter-2789-ed28b6.webp",
        "yt_video_id": null,
        "yt_video_url": null,
        "timestamps": {
            "published_at": "2026-09-17T19:05:06+00:00",
            "updated_at": "2026-09-17T19:10:57+00:00"
        },
        "meta": {
            "word_count": 1937,
            "seo_title": "প্রজাপতির রং পর্ব ৩ - পুরনো ছায়া ও ঠিকানাবিহীন সংসার | Projapotir Rong Part 3",
            "seo_description": "পড়ুন প্রজাপতির রং পর্ব ৩। এনাজের পুরনো সহকর্মী মোরশেদের সাথে সাক্ষাৎ এবং ঠিকানাবিহীন বাড়ির রহস্যময় পরিবেশ।",
            "keywords": "প্রজাপতির রং পর্ব ৩, প্রজাপতির রং ৩, projapotir rong porbo 3, projapotir rong part 3, নোভা, তায়াং, মোরশেদ ওয়াসিম, আরিয়ান",
            "characters_involved": [
                "নোভা",
                "নাভান",
                "তায়াং",
                "মোরশেদ ওয়াসিম",
                "মুরাদ হোসেন",
                "জুলেখা বেগম",
                "আরিয়ান"
            ]
        },
        "content": "—–আরে মিসেস এনাজ আহমেদ যে!!কেমন আছেন?\n\nতায়াং ভাইয়ার সাথে একটা রেস্টুরেন্টে বসে ছিলাম।হঠাৎ এক লোকের কথায় কিছুটা চমকে সেদিকে তাকালাম।৩৫ বছরের এক লোক আমার সামনে দাঁড়িয়ে আছে। তাকে আমি চিনি বলে আমার মনে হচ্ছে না।আমি তায়াং ভাইয়ার দিকে তাকালাম।তার মুখেও একি রিয়েকশন।\n\nআমিঃ আমি আপনাকে ঠিক চিনতে পারলাম না।\n\n—- আমি মোরশেদ ওয়াসিম। এনাজ ভাইয়ের আন্ডারে কাজ করতাম।আমার কথা নিশ্চয়ই ভাইয়ের মুখে শুনেছেন।আসলে আপনার সাথে আমার কখনও দেখা হয়নি। তাই আপনি আমায় চিনবেন না।কিন্তু এনাজ ভাইয়ের কাছে আপনার অনেক ছবি ছিলো।তাই আপনাকে আমি চিনি।এনাজ ভাই যদিও আমার স্যার।কিন্তু আমি ভাই করেই বলতাম।কাজের ক্ষেত্রে স্যার,কাজের বাইরে ভাই।তা কেমন আছেন ভাবী?\n\nআমিঃ আলহামদুলিল্লাহ ভালো। আপনি?\n\nমোরশেদ ভাই আমার কথার উত্তর না দিয়ে নাভানকে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে আমাকে জিজ্ঞেস করলো।\n\nমোরশেদঃ এটা কি আমাদের এনাজ ভাইয়ের বাচ্চা?\n\nনাভান ওর মামার কোলে চুপচাপ বসে বসে চিপস খাচ্ছিলো। আমি তার কথায় ছোট করে উত্তর দিলাম।\n\nআমিঃ জ্বি।\n\nমোরশেদঃ মাশাআল্লাহ, পুরো এনাজ ভাইয়ের মতো দেখতে হয়েছে। মুখের আদল,ভ্রু,নাক সবকিছু অবিকল বাবার মতো।নাম কি রেখেছেন?\n\nআমিঃ জ্বি, এনান আহমেদ। ডাকনাম নাভান।\n\nমোরশেদঃ মাশাআল্লাহ, মাশাআল্লাহ।বাবার নামের সাথে মিল রেখে নামটা খুব সুন্দর হয়েছে। তা আমি কি বলবো? নাভান নাকি এনান?\n\nআমিঃ আপনার যা ইচ্ছা।\n\nমোরশেদ ভাই এগিয়ে গিয়ে তায়াং ভাইয়ার কোল থেকে নাভানকে কোলে নিলো।মুগ্ধ চোখে সে নাভানের দিকে তাকিয়ে আছে। তার মুখ খুশিতে উপচে পরছে।কিন্তু তার এত খুশির কারণটা আমি খুঁজে পেলাম না।\n\nমোরশেদঃ ভাবী, উনাকে তো চিনলাম না?\n\nআমিঃ আমার খালাতো ভাই তায়াং। উনাকে তো আপনার চেনার কথা।নাভানের আব্বুর জানে জিগার ফ্রেন্ড। হাইস্কুল, কলেজ,ভার্সিটি সব একসাথে কমপ্লিট করেছে।\n\nমোরশেদঃ আসলে হয়েছে কি ভাবী, আমি এনাজ ভাইয়ের আন্ডারে মাত্র দুই মাস কাজ করতে পেরেছি। তারপর তো ভাই আমাদেরকে কাঁদিয়ে চলে গেলেন।(দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে)থাক সেসব কথা। আমি কিন্তু আপনার ছেলেকে এনান বলেই ডাকবো।এনাজ ভাইয়ের ছেলে এনান।\n\nআমি বিনিময়ে মুচকি হাসলাম।নাভান আমাদের তিনজনের দিকে পালাক্রমে তাকাচ্ছে।চিপসের প্যাকেটটা আমার দিকে বাড়িয়ে দিলো।আমি সেটা নিয়ে টেবিলে রাখলাম। নাভান সবার সাথে খুব সহজে মিশে যেতে পারে। একদম বাবার মতো।চেহারা, গায়ের রং, স্বভাব সব ওর বাবার পেয়েছে। শুধু চোখ দুটো আমার মতো।মোরশেদ ভাইয়ের কোর্টের বোতাম নিয়ে মুখে দিচ্ছে।\n\nআমিঃ ছি, নাভান বাবা।চাচ্চুর বোতাম মুখে দেয় না।তুমি না গুড বয়। চাচ্চু তো তোমায় পঁচা ছেলে বলবে।মুখের থেকে বের করো।(ধমকের সুরে)\n\nমোরশেদঃ আহ্ ভাবী ধমকাচ্ছেন কেন? ও কি এসব বুঝে? থাক করুক।\n\nতায়াংঃ তোর তো সাহস কম না, আমার ভাগিনাকে ধমক দিস।(চোখ রাঙিয়ে)\n\nআমিঃ তোর জন্য কি আমি ছেলেকে শাসন করতে পারি।\n\nতায়াংঃ পারবিও না।আমার সামনে ওকে একটা ছোট করে ধমকও দিতে পারবি না।\n\nমোরশেদঃ ভাবী, একটা কথা বলি। যদি কিছু মনে না করেন। (মুখটা কুচোমুচো করে)\n\nআমিঃ জ্বি বলুন।\n\nমোরশেদঃ ওকে নিয়ে আমি একটু বাইরে যাই।বেশি দুরে নয় এই সামনেই থাকবো।\n\nআমিঃ আমি জানি আপনি কেন যেতে চাইছেন। ওকে নিয়ে এখন দোকানে যাবেন।তারপর এত্তগুলা চিপস, চকলেট কিনে দিবেন।তার কোন দরকার নেই ভাই। একটু আগে ওর মামা পুরো এক দোকান তুলে এনেছে। দেখুন, কতকিছু কিনে পুরো টেবিল ভরে ফেলেছে।\n\nমোরশেদঃ প্লিজ, ভাবী মানা করেন না।আবার কবে না কবে দেখা হয়।ততদিনে যদি মারা যায়।তাহলে আফসোস থাকবে।এত্তো কিউট একটা বাচ্চাকে যদি আমি কিছু কিনে না দেই তাহলে আমার খারাপ লাগবে।তাছাড়া ও আমাদের এনাজ ভাইয়ের শেষ স্মৃতি। ওকে কিছু দিতে না পারলে সত্যি আমার সারাদিন খুব বাজে যাবে।\n\nআমিঃ দিলেন তো মন ঘুরিয়ে।আপনাদের ভাতিজা, ভাগিনাকে আপনারা দিবেন।আমি আর কি বলবো?এখন কিছু বললেও যে আপনি মানবেন না তাও আমি জানি।আর যদি কিনে দিতে মানা করি তাহলে ভাববেন আপনাদের ভাই বেঁচে নেই বলে আমি নিতে দিচ্ছি না।সবদিক থেকে জ্বালা।\n\nমোরশেদঃ ধন্যবাদ ভাবী।আমি এই রাস্তার পাশে স্টলেই আছি।\n\nমোরশেদ ভাই খুশিমনে নাভানকে নিয়ে বের হয়ে গেলো।আমি একটা দীর্ঘ শ্বাস ছেড়ে তায়াং ভাইয়ার দিকে তাকালাম।তায়াং ভাইয়া আমার দিকে তাকিয়ে চোখ দুটো ছোট ছোট করে বললো।\n\nতায়াংঃ বিবাহিত ছেমরি পোলাডারে নিয়া দৌড়ায়ছিস কিভাবে?আমারে কইতি হিরোর মতো এন্ট্রি মাইরা তোরে নিয়ে আসতাম। পোলাডার কিছু হয় নাই তো?\n\nআমিঃ হো তুই হিরোর মতো গিয়া বিলাইয়ের মতো মাইর খাইয়া আসতি।\n\nতায়াংঃ কে আমাকে মারবে? কারো সাহস আছে।(ভাব নিয়ে)\n\nআমিঃ হইছে, তোর ডায়লগ তোর কাছেই রাখ।\n\nতায়াংঃ ধূর, এতো সাজ-গোজ করে কি লাভ হইলো?কি একটা হিরোর মতো লুক নিছালাম।কিন্তু ঐ খানেও কোন মেয়ে পেলাম না। এখানেও কোন মেয়ে দেখি না।শুধু শুধু সময় নষ্ট।\n\nআমিঃ আহারে 🤣।\n\nতায়াংঃ খুদায় ইঁদুরে পেটের ভেতরে ড্রাম পিটাইতাছে।কিন্তু এই রেস্টুরেন্টের ওয়াটারগুলি কি সব মরছে?কখন অর্ডার দিছি এখনো আসে না।\n\nআমিঃ ওয়েটার তো বললো একটু দেরী হবে।তখন তো খুব বললি অপেক্ষা করতে পারবি। কিন্তু এখন কান্না করিস কেন?\n\nতায়াংঃ তুই জীবনে আমার পক্ষে কথা বললি না।এখন চুপ থাক, আর কথা কইস না।\n\nআমি মুখ টিপে হাসতে লাগলাম।তায়াং ভাইয়া আর আমি প্রায় ৭ বছরের ছোট-বড়। কিন্তু তার আমার বন্ডিং দেখে যে কেউ ভাববে আমরা পিঠাপিঠি ভাই-বোন। সম্পর্কে তায়াং ভাইয়া আমার আপন খালাতো ভাই। কিন্তু ওর আচার-ব্যবহার, কাজে যে কারো মনে হবে আমার আপন ভাই। ও আমার সাথে সবসময় লেগে থাকবে।কিন্তু আমি কোন বিপদে পরলে পাগল হয়ে যাবে।তায়াং ভাইয়া আর এনাজ জানে জিগার দোস্ত। কেউ কাউকে ছাড়া কখনো কোন কাজ করতো না। সবকিছুতে দুজনের দুজনকে লাগলো।কিন্তু এনাজের মৃত্যুর পর তায়াং ভাইয়া অনেক বদলে গেছে। কিন্তু আমাকে বুঝতে দেয়নি।বরং নিজের মনকে শক্ত করে আমাকে সামলিয়েছে।\n\nতায়াংঃ আমার জন্য আজ তোর এই অবস্থা। আমি যদি তোকে এনাজের সাথে বিয়েতে তোকে জোর না করতাম।তাহলে আজ তোকে এই দিন দেখতে হতো না।\n\nআমিঃ কি উল্টো পাল্টা বকছিস? তুই জোর কবে করলি? আমাদের এরেঞ্জ ম্যারেজ।আমার ভাগ্যটা আল্লাহ এভাবে সাজিয়েছে। তুই নিজেকে অপরাধী ভাবিস না ভাইয়া।বরং অপরাধ আমার।আমি যদি সেদিন জেদ না করতাম।তাহলে সবকিছু হারাতাম না।\n\nতায়াং ভাইয়া কোন কথা বললো না। মাথা নিচু করে বসে রইলো।আমিও বাইরের দিকে দৃষ্টি দিলাম।সকালে আলাকান্দি গ্রাম থেকে রওনা দিয়ে তিন ঘন্টা জার্নি করে অবশেষে ঢাকা এসে পৌঁছিয়েছি।আধা ঘন্টা ধরে রেস্টুরেন্টে বসে আছি। মাঝে তায়াং স্টল থেকে নাভানের জন্য একগাদা খাবার কিনে এনেছে। গতরাতের অভিজ্ঞতা আমি জীবনেও ভুলবো না।মনে মনে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করলাম।আল্লাহ আমার জন্য চাচীর মন নরম করে দিয়েছিলো।তাইতো আমি সারা রাত নিশ্চিন্তে তাদের বাড়িতে কাটাতে পেরেছি।আসার সময় জড়িয়ে ধরে বলেছিলো সাবধানে থাকতে।তার ব্যবহারে আমার শ্রদ্ধাবোধ আর ভালোবাসা দ্বিগুণ বেড়ে গিয়েছে। আজ বাসায় যাবো না। তায়াং ভাইয়া বলছে কোথায় জানি নিয়ে যাবে।আজ বাসায় গেলে যারা আমায় আটকে রেখেছিলো তারা আবার আসতে পারে।এমনটা ধারণা তায়াং ভাইয়ার।ওর কথার ওপর আমি কোন কথা বলি না।কারণ এই একটা মানুষ আমাকে নিস্বার্থভাবে সব বিপদ থেকে রক্ষা করেছে। ওর ঋণ আমি সারাজীবন ওর গোলাম হয়ে থাকলেও শোধ হবে না। সারা পৃথিবীর সাথে যুদ্ধ করে আমাকে ও আমার ছেলেকে বাঁচিয়ে রেখেছে। ওর কথা অমান্য করলে যে আমি নিজেই বৈঈমান হয়ে যাই।\n\n🦋🦋🦋\n\nআকাশটা আজ শুভ্র মেঘে সেজেছে। যেদিকে চোখ যায় সেদিকেই থোকা থোকা সাদা মেঘের ভেলা।আজ যে আকাশের দিকে তাকাবে সেই প্রেমে পরে যাবে।মন মাতানো এক মনোমুগ্ধকর পরিবেশ।দুপুর গড়িয়ে বিকেল নেমেছে বহু আগে।চারিদিকে মিষ্টি রোদের আলো।চারিদিকের পরিবেশরা যদিও স্তব্ধ হয়ে আছে। তবুও খারাপ লাগছে না।\n\nনিরিবিলি প্রাকৃতিক পরিবেশের মাঝে দোতলা একটা ডুপ্লেক্স বাড়ি।সামনে ছোট একটা বাগান।গেইটের সাথে দেয়ালে নেমপ্লেটে লেখা আছে এক অদ্ভুত নাম “ঠিকানাবিহীন”।নামটা দেখে যে কেউ অবাক হয়ে যাবে।এরকম নাম কেন? বাড়ির মালিক মুরাদ হোসেন শখের বশে নামটা রেখেছেন।\n\nবারান্দায় বেতের চেয়ারে আরাম করে বসে পত্রিকা পড়ছেন মুরাদ সাহেব। আজ দুপুরের দিকে অফিস থেকে ফিরেছেন।বড় ছেলে ব্যবসা সামলানোর দরুন তার অবসর মিলেছে। তারপরও মাঝে মাঝে গুরুত্বপূর্ণ মিটিংগুলো তাকে সামলাতে হয়।নিয়ম করে প্রতিদিন অফিসে যান তিনি।দুই ছেলে, এক মেয়ে ও স্ত্রীকে নিয়ে তার সুখের সংসার।ছোট একটা বিজনেস চালান।হাতে ছোট ট্রে-তে দুই কাপ চা নিয়ে প্রবেশ করলেন জুলেখা বেগম। তার স্বামী পত্রিকা পড়তে পড়তে চা খেতে ভীষণ পছন্দ করেন।পত্রিকা হাতে নিলে তার চা লাগবেই। তাই জুলেখা বেগম আজ জলদী করে নিয়ে আসেছেন।নয়তো কখন চেচিয়ে বাসা এক করে ফেলে কে জানে?\n\nমুরাদঃ জুলেখা, আমার……\n\nচা বলে চিৎকার করার আগেই জুলেখা বেগম তার স্বামীর দিকে চায়ের কাপটা বাড়িয়ে দিলেন।\n\nমুরাদঃ আজ কোন দিক দিয়ে সূর্য উঠলো? চা বলে চেঁচানোর আগে চা এসে হাজির।অন্যদিন তো সারা বাড়ি এক করে ফেললেও তোমার খবর থাকে না।\n\nজুলেখাঃ ছেলে-মেয়ে তিনটার বিয়ের বয়স হয়ে গেছে। এখনো কি আমার নাম ধরে ডাকবে? ওদের বিয়ের পর যখন নাতিনাতকুর আসবে তখন তো ওরাও তোনার মতো নাম ধরেই ডাকবে।\n\nমুরাদঃ ডাকলে ডাকুক, সমস্যা কি? নাতিনের ঘরের ছেলে মেয়ে হয়ে গেলেও তোমাকে আমি নাম ধরেই ডাকবো।এই নাম ধরে ডাকার মধ্যে আমি যেই প্রশান্তি পাই তা তোমাকে বোঝাতে পারবো না জুলেখা। আমার ভীষণ ভালো লাগে তোমাকে নাম ধরে ডাকতে।মনে হয় সেই আঠারো বছরের কিশোরী মেয়েটা।যাকে আমি বউ করে ঘরে তুলেছিলাম।\n\nজুলেখাঃ হইছে আর বলতে হইবো না।খালি পাম মারেন। নেন কাপ ধরেন।চা ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে।\n\nজুলেখা বেগম লজ্জায় আঁচলে মুখ ঢাকলেন।মাঝে মাঝে তার স্বামীর যে কি হয় তা তিনিও বুঝে উঠতে পারেন না।তবে এতটুকু বুঝতে পারেন তার স্বামীর মন ভালো।যেদিন মন ভালো থাকে সেদিন স্বামীর সাথে বসে ঘন্টার পর ঘন্টা খোশগল্পে মেতে থাকেন।আঠারো বছর বয়সে এই মানুষটার বউ হয়ে এসেছিলেন।আর এখন ৫০ এর উর্ধ্বে বয়স।কিন্তু তাদের ভালোবাসা যেন ছিটেফোঁটাও কমেনি।হঠাৎ গাড়ির আওয়াজ পেয়ে মুরাদ সাহেব ও জুলেখা বেগম দুজনেই গ্রিল দিয়ে নিচের দিকে তাকালেন।\n\nজুলেখাঃ এখন আবার কে এলো?\n\nমুরাদঃ তোমার গুণধর ছোট ছেলে ছাড়া আর কে হবে? যেদিন থেকে ওর বড় ভাই অফিসে জয়েন করলো সেদিন থেকে ছোট জন যেনো আকাশের চাঁদ হাতে পেয়েছে। ওকেও তো বুঝতে হবে। ছেলেটা কি একা সব সামলাতে পারে। বছর তো এখনো হলো না,ছেলেটা কত বড় এক্সিডেন্ট থেকে বেঁচে ফিরলো।কোথায় সেই বড় ভাইকে হেল্প করবে।তা না করে সুযোগ পেলেই ফাঁকিবাজি।\n\nজুলেখাঃ আহ কি শুরু করলেন? থামেন তো।আমি নিচে গিয়ে দেখছি কে আসলো?\n\nমুরাদঃ মেয়ে কোথায়?\n\nজুলেখাঃ ঘরে ঘুমুচ্ছে।\n\nমুরাদঃ নামাজ পরতে ডাকোনি? আছরের আজান দিয়েছে সেই কোন বেলা? ঘুম থেকে উঠিয়ে নামাজ পরতে বলো।যদি ছোট ছেলে আসে তাহলে আমার কাছে পাঠিয়ে দিও।ওর সাথে আমার কথা আছে।\n\nজুলেখাঃ আচ্ছা।\n\nজুলেখা বেগম তার চায়ের কাপটা নিয়ে স্বামীকে পাশ কাটিয়ে বারান্দা থেকে বেরিয়ে গেলো। বাড়িতে ঢুকেই গাড়িটা গ্যারেজে রেখে সদর দরজা দিয়ে প্রবেশ করলো একটা ২৬ বছরের ছেলে।নাম আরিয়ান আজওয়্যার। মুরাদ সাহেবের ছোট ছেলে।আরিয়ান হাতে গাড়ির চাবি ঘুরাতে ঘুরাতে শিস বাজিয়ে সিঁড়ি বেয়ে উঠতে লাগলো।তখনি পেছন থেকে তার মায়ের ডাক শুনলো।\n\nজুলেখাঃ আরিয়ান!!!\n\nআরিয়ান থেমে গেল।হাসি মুখে মায়ের দিকে ঘুরলো।\n\nআরিয়ানঃ কিছু বলবে আম্মু?\n\nজুলেখাঃ আজ এতো তাড়াতাড়ি ফিরলি যে? আর তোর বড় ভাই কোথায়? ও কি আসেনি?\n\nআরিয়ান মাথা চুলকিয়ে আপরাধীর ভঙ্গিতে মুখটাকে অসহায় করে বললো।\n\nআরিয়ানঃ আসলে আম্মু হয়েছে কি? আসলে না, মানে বলছিলাম কি?\n\nজুলেখাঃ আসলে, না মানে, হয়েছে কি এসব না বলে বল তোর ভাই কোথায়? আর তুই এই সময় বাড়িতে কেন?\n\nআরিয়ানঃ ভাই তো অফিসে। আমার ভালো লাগছিলো না তাই আমি চলে এসেছি।\n\nচোখ বন্ধ করে একদমে কথাটা বলে হাফ ছারলো আরিয়ান।কিন্তু পিটপিট করে চোখ খুলে দেখলো তার মা এখনো তার দিকে চোখ ছোট ছোট করে তাকিয়ে আছে। যার মানে হলো, “তোকে দেখে দিব্যি সুস্থ মনে হচ্ছে। কিন্তু তুই কেন বললি তোর ভালো লাগছিলো না। ” আরিয়ান দাঁতগুলো সব বের করে বেআক্কল মার্কা এক হাসি দিয়ে তার মাকে ইমপ্রেস করার চেষ্টা করলো।একসময় সফলও হলো।জুলেখা বেগম ছেলের কান্ডে ফিক করে হেসে উঠলেন।এমনি তিনি তার তিন সন্তানের এক সন্তানের সাথেও বেশি সময় রাগ করে থাকতে পারেন না।মাঝে মাঝে কঠিন খোলস ধারণ করলেও তার ছেলে-মেয়ে তা নানাকিছু করে ভেঙে ফেলে। যেমন এখন আরিয়ান করলো।\n\nজুলেখাঃ উপরে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে নে।তোর বাবা ডেকেছে। ফ্রেশ হয়ে বাবার কাছে যাবি।আমি টেবিলে খাবার দিচ্ছি। বাবার কথা শুনে এসে খেয়ে নিবি।\n\nআরিয়ান সিঁড়ি থেকে নেমে জুলেখা বেগমকে জড়িয়ে ধরে কপালে চুমু খেলেন।\n\nআরিয়ানঃ আমার লক্ষ্মী আম্মু।এই জন্যই তো তোমাকে আমি এতো ভালোবাসি।\n\nজুলেখাঃ আমাকে পটিয়ে লাভ নেই। আমি তোর বাবার কাছে কিছু বলতে পারবো না। আমি তো ছেড়ে দিয়েছি।কিন্তু তোর বাবা আজ নির্ঘাত বকা দেবে।ছেলেটা কে কেন একা একা এভাবে ছেড়ে আসিস বল তো।ও তো একটা মানুষ। তাছাড়া কত বড় একটা এক্সিডেন্ট থেকে বেঁচে ফিরেছে তাতো তুই নিজের চোখেই সব দেখেছিস।তাহলে এরকম কেন করিস?\n\nআরিয়ানঃ আমি তো ভাইকে বলেই আসলাম।ভাই চলে আসার অনুমতি দিয়েছে বলেই তো আমি এসেছি। নইলে কি আসতাম নাকি।\n\nজুলেখাঃ ও তো বলবেই। তোরও তো বিষয়টা বুঝতে হবে।\n\nআরিয়ান তার কথা বলেগাল ফুলিয়ে রাখলো।জুলেখা বেগম গাল দুটো টেনে দিয়ে কপালে আলতো করে চুমু খেলেন।\n\nজুলেখাঃ এত বড় হয়েছিস তাও বাচ্চাদের মতো নাক কুঁচকানো, গাল ফুলানো কমাস নি।\n\nআরিয়ানঃ আমি কমাবোও না।আমি তো সারাজীবন তোমাদের কাছে ছোট থাকবো।তাই আমি এই বাচ্চামোগুলো করবো।\n\nজুলেখাঃ হুম আমার ২৬ বছরের বাচ্চা। যা ওপরে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে নে।\n\nআরিয়ান আবারো তার মায়ের দুই গালে টাইট করে চুমু খেয়ে উপরে উঠে গেলো।জুলেখা বেগম মুচকি হেসে মাথা নাড়াতে নাড়াতে বললেন।\n\nজুলেখাঃ পাগল ছেলে।\n\nজুলেখা বেগম কিচেনে চলে গেলেন। আরিয়ান ফ্রেশ হয়ে একটা টাউজার ও টি-শার্ট পরে নিলো।তারপর পা বাড়ালো বাবার রুমের দিকে। আজ যে সে তার বাবার কাছে আচ্ছা করে বকা খাবে তার কোনো সন্দেহ নেই।",
        "series": {
            "id": 76,
            "title": "প্রজাপতির রং",
            "slug": "projapotir-rong",
            "url": "https://golpohub.com/series/projapotir-rong",
            "thumbnail_url": "https://cdn.golpohub.com/covers/series-prjaptir-rng-76-4967c3.webp",
            "progress_status": "completed"
        },
        "author": {
            "id": 57,
            "name": "নোভা ইসলাম",
            "slug": "nova-islam",
            "url": "https://golpohub.com/authors/nova-islam",
            "avatar_url": "https://cdn.golpohub.com/avatars/author-nova-57-49c18b.webp",
            "bio": "নোভা বাংলা অনলাইন সাহিত্যের এক অনন্য ও সংবেদনশীল কথাসাহিত্যিক। মানবিক সম্পর্কের জটিল সমীকরণ, পারিবারিক টানাপোড়েন এবং রহস্য-রোমাঞ্চের আবহে ভালোবাসার চিরন্তন রূপ উন্মোচনে তিনি সিদ্ধহস্ত। তাঁর সাবলীল ও দৃশ্যমান লেখনী পাঠকদের শুরু থেকে শেষ অবধি তীব্র কৌতূহল ও আবেগের দোলাচলে আচ্ছন্ন করে রাখে।",
            "series_count": 0,
            "meta": {
                "bio": "নোভা বাংলা অনলাইন সাহিত্যের এক অনন্য ও সংবেদনশীল কথাসাহিত্যিক। মানবিক সম্পর্কের জটিল সমীকরণ, পারিবারিক টানাপোড়েন এবং রহস্য-রোমাঞ্চের আবহে ভালোবাসার চিরন্তন রূপ উন্মোচনে তিনি সিদ্ধহস্ত। তাঁর সাবলীল ও দৃশ্যমান লেখনী পাঠকদের শুরু থেকে শেষ অবধি তীব্র কৌতূহল ও আবেগের দোলাচলে আচ্ছন্ন করে রাখে।",
                "pen_name": "নোভা",
                "aliases": [
                    "Nova",
                    "লেখিকা নোভা",
                    "নোভা ইসলাম"
                ]
            },
            "timestamps": {
                "created_at": null,
                "updated_at": null
            }
        },
        "navigation": {
            "previous_episode": {
                "id": 2788,
                "ep_number": 2,
                "title": "আশ্রয়ের রাত ও অন্ধকারের শপথ",
                "slug": "projapotir-rong-s1-ep2",
                "url": "https://golpohub.com/episodes/projapotir-rong-s1-ep2",
                "thumbnail_url": "https://golpohub.com/assets/images/og.jpg"
            },
            "next_episode": {
                "id": 2790,
                "ep_number": 4,
                "title": "রক্তের টান ও ভোরের কুয়াশা",
                "slug": "projapotir-rong-s1-ep4",
                "url": "https://golpohub.com/episodes/projapotir-rong-s1-ep4",
                "thumbnail_url": "https://golpohub.com/assets/images/og.jpg"
            }
        }
    }
}